Adv Rokonuzzaman

Adv Rokonuzzaman Advocate
Supreme Court of Bangladesh
LLB & LLM-University of Dhaka. Chamber:
Suite: 6/K, 33, Meherba Plaza,
Topkhana Road, Dhaka. From: Monirampur, Jashore.
(306)

Website: www.rokonlawhouse.com
Email: [email protected]
Personal Mobile: 01767-074343 মোঃ রোকনুজজামান,
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

চেম্বারের ঠিকানাঃ
স্যুট-৬/কে, ৩৩, মেহেরবা প্লাজা,
তোপখানা রোড, পুরানো পল্টন মোড়, ঢাকা ।

স্থায়ী ঠিকানাঃ
গ্রাম- চালুয়াহাটি,
পোস্ট- নেংগুড়াহাট
থানা- মনিরামপুর,
জেলা- যশোর।

LLB(Hon's) & LLM- University of Dhaka,

Email: [email protected],

Website: www.rokonlawhouse.com

Personal Mobile No: 01767-074343

তালাকের পর বাচ্চাকে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না?আপনার করণীয় কী?দাম্পত্য সম্পর্ক যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে বিবাহবিচ্ছেদ ছ...
30/09/2026

তালাকের পর বাচ্চাকে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না?

আপনার করণীয় কী?

দাম্পত্য সম্পর্ক যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না, তখন তালাকের মাধ্যমে একটি সম্পর্কের অবসান ঘটে।

কিন্তু বাবা-মায়ের সম্পর্ক শেষ হলেও সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না।

আর এখানেই অনেক সময় শুরু হয় নতুন এক বিরোধ—

👉 সন্তান কার কাছে থাকবে?
👉 অন্য পক্ষ সন্তানকে কখন দেখতে পারবে?
👉 সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাওয়া যাবে?
👉 এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এক পক্ষ জানতে পর্যন্ত পারেন না—সন্তানটি কোথায় আছে!

⚖️ সন্তানকে দেখা থেকে বঞ্চিত করা হলে কী করবেন?

তালাকের পর কোনো এক পক্ষ যদি অন্য পক্ষকে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে সম্পূর্ণভাবে বাধা দেয়, অথবা সন্তানকে এমনভাবে আড়াল করে রাখে যাতে তার অবস্থান জানা সম্ভব না হয়, তাহলে বিষয়টি আইনগত প্রতিকারের আওতায় আসতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে—সন্তানের হেফাজত বা সাক্ষাতের বিষয়টি কোনো পক্ষের একতরফা অধিকার হিসেবে নির্ধারিত হয় না। আদালত পরিস্থিতি, পারিবারিক অবস্থা এবং সর্বোপরি সন্তানের কল্যাণ ও সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়।

বাংলাদেশের Family Courts Act, 2023 অনুযায়ী সন্তানের guardianship ও custody সংক্রান্ত বিষয়ে Family Court-এর এখতিয়ার রয়েছে।

একই সঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিটের বিষয়ও আসতে পারে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে শিশুর custody/visitation নিয়ে রিটের প্রশ্নে সন্তানের welfare-কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে।

📌 তাই করণীয় কী?

যদি তালাকের পর—

🔹 আপনাকে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হয়;
🔹 সন্তানকে ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়;
🔹 সন্তানের অবস্থান সম্পর্কে আপনাকে জানানো না হয়;

তাহলে ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনগত প্রতিকারের জন্য রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে। রিট পিটিশন দায়ের করলে খুব দ্রুততম সময়ে বাচ্চার সাথে দেখা করার সুযোগ মিলবে। পারিবারিক আদালতের দরজাও খোলা আছে তবে সেখানে কিছু লিমিটেশন আছে।

❤️ মনে রাখবেন—

বিবাহবিচ্ছেদ বাবা-মায়ের সম্পর্কের অবসান ঘটাতে পারে, কিন্তু সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব ও সন্তানের কল্যাণের প্রশ্নটি থেকে যায়।

সন্তানকে কেন্দ্র করে বিরোধ হলে প্রথম বিবেচনা হওয়া উচিত—সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ।

মোঃ রোকনুজজামান
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
লেখাটি শেয়ার করুন। কপি পেস্ট করবেন না।

আপনার বিদ্যুৎ সংযোগ কি আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে?আইনের আলোকে পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ এবং করনীয়:আপনার বিদ্...
29/09/2026

আপনার বিদ্যুৎ সংযোগ কি আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে?

আইনের আলোকে পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ এবং করনীয়:

আপনার বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করা সত্ত্বেও যদি হঠাৎ আপনার মিটার জব্দ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়—তাহলে কি তা আইনসম্মত?

বিদ্যুৎ একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা। কোনো ব্যক্তির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বা মিটার জব্দ করা শুধু একটি সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এর সঙ্গে মানুষের বসবাস, ব্যবসা, সম্পত্তির ব্যবহার এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকতে পারে।

তাই প্রশ্ন হলো—কোনো কর্তৃপক্ষ কি ইচ্ছামতো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মিটার জব্দ করতে পারে?

আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি এত সরল নয়।

🔹 ক্ষমতা থাকলেই কি যেকোনোভাবে তা প্রয়োগ করা যায়?

কোনো কর্তৃপক্ষকে আইন কোনো ক্ষমতা দিলেই সেই ক্ষমতা সীমাহীন হয়ে যায় না। ক্ষমতাটি কোন পরিস্থিতিতে, কোন উদ্দেশ্যে এবং কোন পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে হবে—সেটিও সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত থাকতে পারে।

অর্থাৎ শুধু “সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা আছে কি না”—এটাই প্রশ্ন নয়।

বরং জানতে হবে—

কোন আইনের অধীনে ক্ষমতাটি দেওয়া হয়েছে?
কোন পরিস্থিতিতে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে?
কে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন?
এবং কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে?

🔹 বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে আইন কী বলে?

Electricity Act, 2018-এ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। বিশেষ করে বিল পরিশোধে ব্যর্থতা বা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মতো পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রকৃতি, প্রযোজ্য বিধান এবং কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ বিল বকেয়া থাকা, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার, বিদ্যুৎ চুরি, ভবন নির্মাণে অনিয়ম—প্রতিটি বিষয় একই আইনগত প্রশ্ন নয়।

একটি কারণে যে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, অন্য একটি কারণে একই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।

🔹 মোবাইল কোর্টের ক্ষমতার প্রশ্ন

মোবাইল কোর্ট আইন প্রয়োগের একটি বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থাকলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন—এমন ধারণাও সঠিক নয়।

এখানে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট অপরাধটি কোন আইনের অধীনে সংঘটিত হয়েছে এবং সেই আইনে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কোনো বিদ্যুৎ মিটার জব্দ করা বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট আইনগত এখতিয়ার রয়েছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

🔹 নোটিশ ও শুনানির সুযোগ কি প্রয়োজন?

প্রশাসনিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো Natural Justice বা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার।

এর অন্যতম মূলনীতি—

Audi Alteram Partem
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি মোবাইল কোর্টের প্রতিটি কার্যক্রমের আগে অবশ্যই দীর্ঘ নোটিশ ও পূর্ণাঙ্গ শুনানি করতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতি, অপরাধের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

তাই প্রকৃত প্রশ্ন হলো—

যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ বা বক্তব্য দেওয়ার আইনগত সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না?

যদি প্রয়োজন থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

🔹 আইনানুগ পদ্ধতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আইনের শাসনের একটি মৌলিক ধারণা হলো—কর্তৃপক্ষও আইনের অধীন।

কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক সংস্থা আইন প্রয়োগ করছেন বলেই তার প্রতিটি পদক্ষেপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না।

বরং ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখতে হয়—

আইনগত ক্ষমতা আছে কি না → ক্ষমতার সীমা কী → প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না → নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না।

এই চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⚖️ শেষ কথা

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মিটার জব্দের মতো পদক্ষেপের বৈধতা বিচার করতে হলে শুধু ফলাফল দেখলে হবে না; কর্তৃপক্ষ কোন আইন, কোন ক্ষমতা এবং কোন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সেটিও দেখতে হবে।

কারণ—

আইন কাউকে ক্ষমতা দিতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা ও পদ্ধতিও আইনই নির্ধারণ করে।

সুতরাং কোনো ব্যক্তির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে শুধু “কেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো”—এই প্রশ্ন নয়; বরং “কার ক্ষমতাবলে, কোন আইনের অধীনে এবং কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো?”—এই প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের বেআইনীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মিটার জব্দের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট পিটিশন দায়ের করে আইনগত প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।

তবে রিটের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা, প্রযোজ্য আইন ও বিকল্প প্রতিকারের সুযোগসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

⚖️ আইন জানুন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

মোঃ রোকনুজজামান
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

"ফাঁকা চেকে পাওনা টাকার চেয়ে বেশি টাকা বসিয়ে ডিজঅনার করা প্রতারণা"অনেক সময় কোনো ব্যক্তি বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ফাঁকা চে...
28/09/2026

"ফাঁকা চেকে পাওনা টাকার চেয়ে বেশি টাকা বসিয়ে ডিজঅনার করা প্রতারণা"

অনেক সময় কোনো ব্যক্তি বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ফাঁকা চেক অন্যের কাছে দিয়ে থাকেন। পরে সেই চেকে প্রকৃত পাওনার চেয়ে অনেক বেশি টাকা লিখে ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে এবং চেকটি ডিজঅনার হলে—এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে ফাঁকা চেকে প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি টাকা প্রতারণামূলকভাবে বসানোর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

24 BLC (AD) 139 মামলায় আদালত উল্লেখ করেছেন, ফাঁকা চেকে প্রকৃত দায় বা পাওনার চেয়ে বেশি অর্থের পরিমাণ বসানো এবং তা প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করা হলে সেটি fraud-এর উপাদান হতে পারে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ ফাঁকা চেকে বসানো একটি fraud-এর উপাদান, যা অনুমোদনযোগ্য নয়; কারণ fraud লেনদেনের মূল ভিত্তিকেই প্রভাবিত করে।

ফাঁকা চেক দিলেই কি ইচ্ছামতো টাকা বসানো যাবে?

না।

কেউ ফাঁকা চেক প্রদান করেছেন—এ কারণে চেকের অর্থের ঘরে ইচ্ছামতো যেকোনো অঙ্ক বসানোর অধিকার সৃষ্টি হয় না। বিশেষ করে চেকদাতার প্রকৃত দায় বা পাওনার চেয়ে বেশি অর্থ বসানো হলে সেই অর্থের বৈধতা ও কীভাবে তা চেকে বসানো হয়েছে—এসব বিষয় আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চেকে পরবর্তীতে তথ্য পূরণ করা কি সবসময় অবৈধ?

বিষয়টি এত সরল নয়।

রায়ের আলোচনায় বলা হয়েছে, চেকে amount এবং date পূরণ করা material matter। আবার চেকদাতার সম্মতি ছাড়া alteration করা হলে তার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

তবে কোনো ফাঁকা চেকে পরে কত টাকা লেখা হয়েছে, কেন লেখা হয়েছে, চেকদাতা কী অনুমতি দিয়েছিলেন এবং প্রকৃত দায় কত ছিল—এসব বিষয় প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থাৎ, শুধু “ফাঁকা চেক ছিল” বললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতারণা প্রমাণিত হবে না; একইভাবে ফাঁকা চেক হাতে পাওয়ার কারণে প্রকৃত পাওনার চেয়ে বেশি টাকা বসানোও বৈধ হয়ে যায় না।

কখন বিষয়টি প্রতারণার পর্যায়ে যেতে পারে?

যদি প্রমাণিত হয় যে—

* চেকটি ফাঁকা অবস্থায় দেওয়া হয়েছিল;
* প্রকৃত পাওনা বা দায় ছিল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ;
* চেকধারী ইচ্ছাকৃতভাবে তার চেয়ে বেশি টাকা চেকে বসিয়েছেন;
* চেকদাতার এমন অর্থ বসানোর সম্মতি ছিল না; এবং
* অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে চেকটি ব্যবহার করা হয়েছে,

তাহলে বিষয়টি fraud বা প্রতারণার প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

আপিল বিভাগের আলোচনায় আরও বলা হয়েছে, যেখানে কাউকে প্রতারিত করার ইচ্ছা (intention) এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার উপায় (means) থাকে, সেখানে fraud-এর উপাদান থাকতে পারে।

আইনি শিক্ষা

এই রায়ের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—ফাঁকা চেক কখনোই ইচ্ছামতো অর্থ বসানোর লাইসেন্স নয়।

কেউ যদি ফাঁকা চেক দিয়ে থাকেন, তাহলে চেকটি কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, প্রকৃত দায় কত ছিল এবং পরে চেকে কীভাবে অর্থের পরিমাণ লেখা হয়েছে—এসব বিষয় ভবিষ্যৎ বিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, কেউ যদি ফাঁকা চেক গ্রহণ করেন, তাহলে প্রকৃত লেনদেন ও পাওনার পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চেক ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, ফাঁকা চেকে প্রকৃত পাওনার চেয়ে বেশি অর্থ বসিয়ে তা ব্যবহার করার ঘটনা কেবল চেক ডিজঅনারের বিষয় নয়; পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে এটি প্রতারণার প্রশ্নও সৃষ্টি করতে পারে।

📌 রেফারেন্স: 24 BLC (AD) 139
📌 বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ

আপনার কাছে কি ফাঁকা চেক নিয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে? মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন।

মোঃ রোকনুজজামান
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।
কপি পেস্ট করবেন না।

স্ত্রী নিজে তালাক দিলে কি দেনমোহর পাবেন?স্ত্রী নিজে তালাক দিলেই কি তার দেনমোহর শেষ হয়ে যায়?অনেকের ধারণা—স্ত্রী যদি নিজে ...
27/09/2026

স্ত্রী নিজে তালাক দিলে কি দেনমোহর পাবেন?

স্ত্রী নিজে তালাক দিলেই কি তার দেনমোহর শেষ হয়ে যায়?

অনেকের ধারণা—স্ত্রী যদি নিজে তালাকের উদ্যোগ নেন, তাহলে তিনি আর দেনমোহর দাবি করতে পারবেন না।

আসলেই কি তাই?

বিষয়টি এতটা সরল নয়।

দেনমোহর হলো বিবাহের সময় স্বামীর ওপর নির্ধারিত একটি আর্থিক দায়। কাবিননামায় দেনমোহর নির্ধারিত থাকলে এবং তা পরিশোধ করা না হয়ে থাকলে, শুধু স্ত্রী নিজে বিচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছেন—এই কারণে দেনমোহরের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের Civil Revision No. 50 of 2020, Mohammad Malik alias M. A. Malik বনাম Rabeya Sultana মামলায় এমন একটি বিষয় সামনে আসে।

এই মামলায় কাবিননামায় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। স্ত্রী পরবর্তীতে স্বামীকে divorce notice দেন এবং বকেয়া দেনমোহরসহ ভরণপোষণ দাবি করেন।

স্বামী দাবি করেন, প্রকৃত দেনমোহর ছিল ৫ লাখ টাকা এবং সেটি তিনি পরিশোধ করেছেন। এমনকি কাবিননামায় ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করার বিষয়েও আপত্তি করেন।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—স্বামী কাবিননামায় নিজের স্বাক্ষর অস্বীকার করেননি এবং দেনমোহর পরিশোধের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও দিতে পারেননি।

ফলে আদালত নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং বকেয়া দেনমোহরের দাবি বহাল থাকে।

তাহলে সহজ উত্তর কী?

শুধু স্ত্রী নিজে তালাকের উদ্যোগ নিয়েছেন—এ কারণে তার বকেয়া দেনমোহর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না।

তবে প্রতিটি মামলায় বিষয়টি নির্ভর করবে—

▪️ কাবিননামায় কী লেখা আছে
▪️ দেনমোহর পরিশোধ করা হয়েছে কি না
▪️ পরিশোধের প্রমাণ আছে কি না
▪️ স্ত্রী দেনমোহর মওকুফ বা ত্যাগ করেছেন কি না
▪️ বিচ্ছেদটি কীভাবে হয়েছে
▪️ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণ কী আছে

আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—

ইসলামে তালাককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক এতোটাই অবনতি ঘটে যখন সম্পর্কের ইতি টানাই সমীচীন মনে হয়। ভাঙ্গনের ঢেউ আছড়ে পড়ে দুই মনের তীরে। আর এজন্যই ইসলাম তালাকের বিধানকে বৈধতা দিয়েছে।

আমাদের মাঝে অনেকের ধারণা স্ত্রী যদি তালাক প্রদান করেন তাহলে স্বামীকে স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ করার প্রয়োজন নেই।

গ্রামের অনেক সালিশে স্ত্রী কতৃক তালাক দেওয়ার কারণে স্ত্রী কোন দেনমোহর পান না। কিন্তু একজন স্ত্রী বিবাহের সঙ্গে সঙ্গেই এই দেনমোহরের পাওনাদার হন কোনভাবেই স্বামী দেনমোহর থেকে রেহাই পাবেন না। স্ত্রী তালাক প্রদান করে দেনমোহরের জন্য আবেদন করতে পারবে যদি স্বামী দিতে অস্বীকার করে তবে স্ত্রী আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে। স্বামী কোন ভাবেই দেনমোহর এর দাবি এড়াতে পারেন না।

তবে একথা সত্য যে শরীয়া আইনে স্ত্রী কর্তৃক তালাক প্রদানের ক্ষমতা খুবই সীমিত। কিন্তু বাংলাদেশে শরিয়া আইন সবক্ষেত্রে প্রয়োগ হয় না।

দেনমোহরের সাথে তালাকের কোন সম্পর্ক নেই। দেনমোহর সম্পূর্ণভাবে বিবাহের সাথে সম্পর্কিত।

আপনার মত কী?

স্ত্রী নিজে তালাক দিলে তার দেনমোহর পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত কি না?

আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

পুলিশ কখন ও কীভাবে warrant ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে?এটি মূলত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারায় গ্রেফতার ও রিমান্...
26/09/2026

পুলিশ কখন ও কীভাবে warrant ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে?

এটি মূলত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারায় গ্রেফতার ও রিমান্ডের ক্ষমতা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপিল বিভাগের রায়। রায়ের তারিখ ২৪ মে ২০১৬।

নিচে রায়টির ঘটনা, আইনি প্রশ্ন, আদালতের যুক্তি, নির্দেশনা এবং ব্যবহারিক গুরুত্ব ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. মামলার পটভূমি

মামলাটির সূত্রপাত Writ Petition No. 3806 of 1998 থেকে। BLAST, Ain-o-Salish Kendra, Shomilito Shamajik Andolon এবং কয়েকজন ব্যক্তি জনস্বার্থে রিটটি করেন।

তাদের মূল অভিযোগ ছিল—পুলিশ Code of Criminal Procedure-এর section 54 ব্যবহার করে অনেক সময় যথাযথ আইনগত ভিত্তি ছাড়াই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করছে এবং পরে section 167 ব্যবহার করে পুলিশ বা জুডিশিয়াল রিমান্ড নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংবিধানের Articles 27, 31, 32, 33 ও 35-এ প্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। 63, Police arrest guidelines.pdf

অর্থাৎ মামলার কেন্দ্রে ছিল দুটি প্রশ্ন:

পুলিশ কখন ও কীভাবে warrant ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে?

এবং

গ্রেফতারের পর পুলিশ custody/remand দেওয়ার ক্ষেত্রে Magistrate কী কী বিষয় যাচাই করবেন?

২. Section 54 কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

রায়ে আদালত section 54-এর বিভিন্ন ক্ষেত্র উল্লেখ করেছে। এই ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশ Magistrate-এর order বা warrant ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে।

যেমন—কোনো ব্যক্তি cognizable offence-এ জড়িত বলে reasonable complaint, credible information বা reasonable suspicion থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে গ্রেফতার করা যায়। 63, Police arrest guidelines.pdf

কিন্তু আপিল বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করেছে:

Section 54 পুলিশের সীমাহীন ক্ষমতা নয়।

রায়ে বলা হয়েছে, এটি ব্যক্তির liberty-তে হস্তক্ষেপকারী ক্ষমতা। তাই section 54-এর অধীনে গ্রেফতার বৈধ হতে হলে ধারাটিতে উল্লেখিত পরিস্থিতি বাস্তবে বিদ্যমান থাকতে হবে। শুধু পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ধারণা বা ইচ্ছা যথেষ্ট নয়।

এটি রায়টির অন্যতম মৌলিক নীতি।

৩. “Reasonable suspicion” মানে পুলিশ যা খুশি করতে পারবে না

রায়ের আলোচনায় High Court Division-এর findings-ও বিস্তারিতভাবে এসেছে।

বিশেষ করে বলা হয়েছিল—

* কোনো ব্যক্তিকে reasonable suspicion-এর ভিত্তিতে গ্রেফতার করলে সেই suspicion-এর কারণ record করতে হবে;
* police source কোনো তথ্য দিলে শুধু source-এর কথার ভিত্তিতে গ্রেফতার না করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে হবে;
* গ্রেফতারের কারণ case diary/record-এ থাকতে হবে;
* Magistrate-এর কাছে arrested person-কে উপস্থাপনের সময় পুলিশকে বলতে হবে কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে investigation শেষ করা সম্ভব হয়নি;
* কেন accusation বা information-টি well-founded বলে মনে হচ্ছে, সেটিও ব্যাখ্যা করতে হবে।

ব্যবহারিক অর্থ

ধরা যাক, পুলিশ বলল:

“আমাদের কাছে সন্দেহ হয়েছে যে তিনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত।”

এটুকু বলাই যথেষ্ট নয়।

প্রশ্ন হবে:

কী কারণে সন্দেহ হলো?

কী তথ্য পাওয়া গেছে?

কোন ঘটনার ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হলো?

সেই কারণ কি আইনগতভাবে section 54-এর মধ্যে পড়ে?

রায়টির দর্শন হলো—arrest-এর power থাকলেও সেই power-এর exercise reason-based হতে হবে।

৪. Arrest memorandum অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

রায়ে পূর্ববর্তী Saifuzzaman v State, 56 DLR 324 মামলার নির্দেশনাও আলোচনা করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছিল, arrest করার পর পুলিশ কর্মকর্তাকে memorandum of arrest প্রস্তুত করতে হবে এবং তাতে arrested person’s signature, arrest-এর date ও time উল্লেখ করতে হবে। 63, Police arrest guidelines.pdf

এর উদ্দেশ্য হলো:

“কখন, কোথায় এবং কী কারণে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে”—এ বিষয়ে পরবর্তীতে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।

এটি custodial abuse প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ procedural safeguard।

৫. পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে জানানোর অধিকার

রায়ে Saifuzzaman মামলার নির্দেশনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে—গ্রেফতারের পর যত দ্রুত সম্ভব, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, arrested person’s nearest relative-কে গ্রেফতারের তথ্য জানাতে হবে।

Relative না থাকলে arrested person’s suggested friend-কে জানাতে হবে।

এছাড়া arrest-এর কারণ, arrest-এর স্থান, custody-এর স্থান এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য record করার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ একজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণভাবে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার সুযোগ থাকলে custodial abuse বা unlawful detention গোপন করা সহজ হয়।

৬. Police station-এর record ও case diary

রায়ে বারবার diary/case diary-এর গুরুত্ব এসেছে।

গ্রেফতারের কারণ, information/complaint-এর উৎস এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য record করতে হবে।

এমনকি arrested person-কে Magistrate-এর সামনে হাজির করার সময় relevant diary entries-এর copy দেওয়ার বিষয়ও নির্দেশনায় এসেছে। 63, Police arrest guidelines.pdf

অর্থাৎ:

Police arrest → record → Magistrate → judicial scrutiny

এই chain-টি রায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

৭. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Magistrate-এর সামনে হাজির করা

সংবিধানের Article 33 এবং CrPC-এর relevant provisions-এর সঙ্গে section 167-এর সম্পর্ক রায়ে বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর investigation ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে না পারলে তাকে Magistrate-এর সামনে হাজির করে detention/remand চাইতে হবে।

কিন্তু Magistrate-এর কাজ শুধু পুলিশের আবেদন গ্রহণ করা নয়।

Magistrate-কে judicial mind প্রয়োগ করতে হবে।

পুলিশকে ব্যাখ্যা করতে হবে:

1. কেন ২৪ ঘণ্টায় investigation শেষ হয়নি;
2. accusation/information-এর ভিত্তি কী;
3. case diary-তে কী material আছে;
4. custody কেন প্রয়োজন।

রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে section 167-এর requirements পূরণ না হলে Magistrate-এর police remand দেওয়া উচিত নয়।

৮. “Mechanical remand” রায়টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

আদালত এমন remand order-এর সমালোচনা করেছে যেখানে Magistrate পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ বিচারিক বিশ্লেষণ ছাড়াই custody অনুমোদন করেন।

রায়ে High Court-এর finding হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে guideline না থাকলে Magistrate অনেক ক্ষেত্রে mechanical বা “parrot-like” order দিতে পারেন, যার ফলে custodial death-এর ঝুঁকি তৈরি হয়। 63, Police arrest guidelines.pdf

তাই Magistrate-এর ভূমিকা

Magistrate কেবল forwarding authority নন।

তিনি একটি constitutional safeguard হিসেবে কাজ করবেন।

⸻

৯. Police remand মানেই torture-এর অনুমতি নয়

এটি রায়টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আদালত স্পষ্ট করেছে—কোনো ব্যক্তিকে police custody-তে নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা থাকলেও তাকে নির্যাতন করার কোনো ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়নি।

রায়ের আলোচনায় বলা হয়েছে, information বা clue বের করার জন্য torture করা সংবিধানের Articles 27, 30, 31, 32, 33 ও 35-এর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

অর্থাৎ:

Remand ≠ Torture

Police custody-এর অর্থ হলো আইনসম্মত investigation-এর জন্য custody; নির্যাতনের লাইসেন্স নয়।

১০. Arrested person-এর lawyer-এর সঙ্গে যোগাযোগ

রায়ের guideline-এ বলা হয়েছে, arrested person চাইলে তাকে তার পছন্দের lawyer-এর সঙ্গে consultation-এর সুযোগ দিতে হবে অথবা nearest relation-এর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ procedural protection।

১১. Arresting officer-এর পরিচয় প্রকাশ

রায়ে guideline হিসেবে বলা হয়েছে, law-enforcement officer-কে তার পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং arrested person বা উপস্থিত কেউ চাইলে identity card দেখাতে হবে। 63, Police arrest guidelines.pdf

এর ফলে:

* কে গ্রেফতার করল;
* কোন agency-এর কর্মকর্তা;
* কার custody-তে ব্যক্তি আছে

এসব বিষয়ে accountability তৈরি হয়।

১২. Arrest-এর সময় injury থাকলে কী করতে হবে?

যদি arrested person’s শরীরে injury-এর চিহ্ন দেখা যায়, তাহলে তার কারণ record করতে হবে এবং তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে চিকিৎসকের certificate নিতে হবে—এমন guideline রায়ে এসেছে।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ custody-তে injury হয়েছে নাকি arrest-এর আগেই ছিল—তা পরবর্তীতে নির্ধারণে medical record গুরুত্বপূর্ণ evidence হতে পারে।

১৩. “এক মামলায় জামিন, আরেক মামলায় গ্রেফতার”—এই প্রবণতা

রায়ে Saifuzzaman v State, 56 DLR 324 মামলার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

সেখানে ব্যক্তিদের একটি মামলায় bail পাওয়ার পর অন্য মামলায় দেখানো গ্রেফতার করা হচ্ছিল এবং এভাবে তারা দীর্ঘ সময় custody থেকে বের হতে পারছিলেন না। High Court এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিভিন্ন procedural safeguards দিয়েছিল।

এখান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি আসে:

Bail পাওয়ার পর ব্যক্তিকে শুধু custody দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে অন্য মামলায় mechanicalভাবে দেখানো যাবে না।

নতুন মামলায় সত্যিকার আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে এবং Magistrate-কে তার judicial mind প্রয়োগ করতে হবে।

১৪. Preventive detention-এর উদ্দেশ্যে section 54 ব্যবহার

রায়ের guideline-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আছে:

Section 54 ব্যবহার করে কাউকে গ্রেফতার করে পরে Special Powers Act, 1974-এর section 3-এর অধীনে preventive detention দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে custody-তে রাখা যাবে না। 63, Police arrest guidelines.pdf

অর্থাৎ এক আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য আইনের preventive detention-এর পথ তৈরি করা যাবে না।

১৫. Magistrate-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

রায়ের শেষ পর্যায়ে Magistrate/Judge/Tribunal-এর জন্য আলাদা guideline দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:

ক. Diary entries ছাড়া detention

Police যদি section 167 অনুযায়ী custody চায় কিন্তু প্রয়োজনীয় diary entries-এর copy না দেয়, তাহলে Magistrate-এর সেই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং guideline অনুযায়ী release-এর প্রশ্ন আসে। 63, Police arrest guidelines.pdf

খ. Already in custody ব্যক্তিকে “shown arrested”

কেউ আগে থেকেই custody-তে থাকলে তাকে অন্য মামলায় “shown arrested” করার আবেদন এলে সংশ্লিষ্ট case diary এবং material ছাড়া Magistrate/Judge/Tribunal সেই আবেদন মঞ্জুর করবেন না।

গ. ১৫ দিনের পর detention

Section 167(2)-এর পর্যায়ে ১৫ দিনের detention-এর পরও investigation শেষ না হলে নির্দিষ্ট শর্তে section 344-এর অধীনে further remand-এর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে আদালতের jurisdiction ও statutory requirements মানতে হবে।

১৬. Custodial death হলে Magistrate-এর ভূমিকা

রায়ের শেষ অংশে custody-তে মৃত্যু বা নির্যাতনের ক্ষেত্রে Magistrate-এর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে।

যদি Magistrate-এর কাছে তথ্য আসে যে কোনো ব্যক্তি custody-তে নির্যাতিত হয়েছেন বা মারা গেছেন, তাহলে medical examination/medical board-এর মাধ্যমে injury বা cause of death নির্ণয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

Medical evidence-এ torture বা custodial death-এর প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী suo motu cognizance নেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

১৭. ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—High Court Division section 176 ও 202 ইত্যাদি সংশোধনের সুপারিশ করলেও Appellate Division ২০১৩ সালের Nirjatan and Hefajate Mrityu (Nibaran) Ain-এর অস্তিত্ব বিবেচনা করেছে।

তাই judgment-এ বলা হয়েছে, ওই আইন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রকে cover করায় section 176 ও 202 সংশোধনের পুরনো recommendation অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।

১৮. আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো paragraph 224।

আপিল বিভাগ:

Appeal dismissed করেছে এবং recommendation ও guidelines বহাল রেখেছে।

একই সঙ্গে—

* Inspector General of Police-কে guidelines সব police station-এ circulate করতে;
* Director General, RAB-কে তাদের units/officers-এর মধ্যে circulate করতে;
* Registrar General-কে Magistrates-এর compliance-এর জন্য circulate করতে;
* সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে judgment-এর recommendations, observations ও guidelines অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে

নির্দেশ দিয়েছে।

১৯. এই রায়ের মূল Legal Principles

পুরো রায়টি সংক্ষেপ করলে কয়েকটি principle সামনে আসে:

Principle 1

Police cannot arrest a person under section 54 merely at their discretion.

Principle 2

Reasonable suspicion must have a factual/legal basis and the reasons should be recorded.

Principle 3

Arrest must be properly documented.

Principle 4

Arrested person’s relative/friend should be informed according to the prescribed safeguards.

Principle 5

The arrested person must be informed of the reason for arrest.

Principle 6

Police remand is not a licence to torture.

Principle 7

Magistrate must independently apply judicial mind before granting remand.

Principle 8

Case diary/material supporting detention is important for judicial scrutiny.

Principle 9

A person already in custody cannot mechanically be shown arrested in another case.

Principle 10

Custodial torture and custodial death require effective judicial and medical scrutiny.

২০. সাধারণ মানুষের জন্য রায়টির বাস্তব গুরুত্ব

একজন নাগরিককে পুলিশ গ্রেফতার করলে এই রায়ের আলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হতে পারে:

১. আমাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে?

২. কোন আইনের কোন ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে?

৩. গ্রেফতারের সময় ও স্থান record করা হয়েছে কি?

৪. Arrest memorandum হয়েছে কি?

৫. আমার পরিবার/বন্ধুকে জানানো হয়েছে কি?

৬. আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Magistrate-এর সামনে হাজির করা হয়েছে কি?

৭. Police remand চাইলে তার ভিত্তি কী?

৮. Case diary-এর relevant material Magistrate-এর সামনে আছে কি?

৯. Magistrate কি স্বাধীনভাবে বিষয়টি যাচাই করেছেন?

১০. custody-তে কোনো injury হলে medical examination হয়েছে কি?

এই প্রশ্নগুলোই মূলত রায়টির constitutional safeguards-এর practical application বোঝায়।

অর্থাৎ পুলিশের গ্রেফতারের ক্ষমতা আছে, কিন্তু সেই ক্ষমতা “absolute power” নয়; এটি আইন, সংবিধান এবং judicial scrutiny-এর অধীন।

আর এই রায়ের বিশেষ গুরুত্ব হলো, আপিল বিভাগ শুধু section 54 নিয়ে আলোচনা করেনি; arrest থেকে শুরু করে police custody, remand, Magistrate-এর ভূমিকা এবং custodial death/torture পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ procedural safeguard framework তৈরি করেছে। রায়ের শেষে সেই guidelines পুলিশ, RAB ও Magistrates-এর compliance-এর জন্য circulate করার সরাসরি নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মোঃ রোকনুজজামান
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

লেখাটি শেয়ার করতে পারবেন তবে ডাইরেক্ট পোস্ট করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না।

চলতি মাসে প্রকাশিত DLR এর অষ্টম সংখ্যাতে অর্থাৎ ৭৮ DLR (2026)-এ হাইকোর্ট বিভাগের এই রায়টি রিপোর্টেড হয়েছে। এটি High Cour...
25/09/2026

চলতি মাসে প্রকাশিত DLR এর অষ্টম সংখ্যাতে অর্থাৎ ৭৮ DLR (2026)-এ হাইকোর্ট বিভাগের এই রায়টি রিপোর্টেড হয়েছে। এটি High Court Division-এর Civil Appellate Jurisdiction-এর একটি মামলা যার নং First Appeal No. 71 of 2021। নিচের আমি রায়ের বক্তব্য এবং এর আইনগত তাৎপর্য আলাদা করে আলোচনা করেছি।
# DC, Dhaka vs Md. Abul Hasan and others

১. মামলার মূল বিষয় কী?

মামলাটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন ছিল—

শুধু RS খতিয়ানে কোনো জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে গেলেই কি সরকার সেই জমির মালিক হয়ে যায়?

হাইকোর্টের উত্তর ছিল—না, শুধু Government-এর নামে Record-of-Rights/RS Khatian থাকার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের title প্রতিষ্ঠিত হয় না।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে: আদালত বলেননি যে খতিয়ান কোনো মূল্যহীন দলিল। বরং Record-of-Rights-এর evidentiary value আছে; কিন্তু title-এর উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে অন্যান্য title documents ও evidence দেখতে হবে। বাংলাদেশের আইনে record-of-rights-এর entry সাধারণভাবে সঠিক বলে একটি rebuttable presumption বহন করে—State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর section 144A-তেও এই বিধান রয়েছে।

২. মামলার জমির ইতিহাস

রায়ের facts অনুযায়ী জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.১৩ acres।

প্রথম ধাপ

জমিটি মূলত CS Khatian No. 443, CS Dag No. 653-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং মূল মালিক ছিলেন Holdhor Mondal।

তার মৃত্যুর পর তাঁর ভাই Sree Bolhori Mondal সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পান।

দ্বিতীয় ধাপ

পরবর্তীতে Sree Bolhori Mondal জমিটি অন্য জমির সঙ্গে registered deed No. 4986 dated 23-4-1956-এর মাধ্যমে Mokbul Hossain-এর কাছে হস্তান্তর করেন।

তৃতীয় ধাপ

Mokbul Hossain:

* নিজের নামে mutation করেন;
* খাজনা/ভূমি রাজস্ব প্রদান করেন;
* জমিটি তাঁর নামে SA Khatian No. 472-এ রেকর্ড হয়।

এরপর মোট জমির মধ্যে 0.30 acre সরকার অধিগ্রহণ করে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাকি 0.83 acre নিয়ে সরকারের মালিকানার প্রশ্ন দেখা দেয়।

৩. সরকারের প্রধান দাবি কী ছিল?

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সংশ্লিষ্ট জমি Government acquisition-এর মাধ্যমে সরকারের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে এবং পরবর্তীতে RS Khatian No. 01-এ Deputy Commissioner, Dhaka-এর নামে রেকর্ড করা হয়েছে।

অর্থাৎ সরকারের মূল অবস্থান ছিল—

Acquisition + Government Khatian = Government ownership

কিন্তু এখানেই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ evidentiary প্রশ্ন তৈরি হয়।

৪. কেন Government-এর দাবি আদালত গ্রহণ করেননি?

রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো paragraph 14।

সরকারের পক্ষ থেকে একজন Kanungo—DW-1—সাক্ষ্য দেন।

তিনি স্বীকার করেন যে 0.30 acre জমি LA Case No. 37/59-60-এর মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

কিন্তু তিনি বলতে পারেননি যে—

অবশিষ্ট 0.83 acre-ও Government land ছিল কি না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার—

* Award list,
* compensation record,
* original acquisition papers

ইত্যাদি এমন কোনো নির্দিষ্ট documentary evidence উপস্থাপন করতে পারেনি, যা দেখায় যে বাদীর দাবিকৃত নির্দিষ্ট 0.0495 acre জমিটিই acquisition-এর আওতায় পড়েছিল।

এটাই মামলার turning point।

৫. “কিছু জমি অধিগ্রহণ হয়েছে” আর “এই জমিটিও অধিগ্রহণ হয়েছে”—এক জিনিস নয়

এই রায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখানে।

সরকার প্রমাণ করতে পেরেছিল যে—

কিছু জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল।

কিন্তু সরকারকে আরও একটি বিষয় প্রমাণ করতে হতো—

বাদীর নির্দিষ্ট 0.0495 acre জমিটিও সেই acquisition-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই দ্বিতীয় বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।

তাই আদালত essentially বলেছেন:

Acquisition-এর সাধারণ অস্তিত্ব প্রমাণ করলেই নির্দিষ্ট disputed parcel Government-এর হয়ে গেছে—এটা ধরে নেওয়া যাবে না।

৬. বাদীর title chain কেন আদালত গ্রহণ করলেন?

বাদীর পক্ষে evidence ছিল তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিক।

রায়ের paragraph 13 এবং 16 অনুযায়ী বাদী দেখাতে সক্ষম হন—

Title documents

Registered deeds-এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী মালিক থেকে successive transfer-এর chain।

Mutation

তাঁর predecessor এবং পরবর্তীতে তাঁর নিজের নামে mutation।

Rent payment

নিয়মিত খাজনা/রেন্ট প্রদান।

RAJUK approval

RAJUK-এর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।

Construction

জমিতে permanent six-storied building নির্মাণ করা হয়।

Utility connections

পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ নেওয়া হয়েছিল।

DP Khatian

City Survey-এর সময় DP Khatian No. 787, Dag No. 7164-এ বাদীর নামও রেকর্ড হয়েছিল।

অর্থাৎ বাদীর case শুধু একটি খতিয়ানের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল না।

এটি ছিল—

Deed + Mutation + Rent + Possession + RAJUK approval + Construction + Utility records + DP Khatian

—এই সমন্বিত evidence-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

৭. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Ratio Decidendi

রায়ের paragraph 15-এ আদালত অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছেন:

“record-of-rights (RS Khatian) by itself does not confer or extinguish title”

অর্থাৎ—

RS Khatian নিজে title সৃষ্টি করে না।

আবার—

RS Khatian-এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী title নিজে থেকে extinguish-ও হয় না।

এটি বাংলাদেশের ভূমি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, এবং Supreme Court-এর অন্যান্য রায়েও record-of-rights-কে title-এর চূড়ান্ত উৎস হিসেবে না দেখে evidentiary material হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

৮. Government Khatian-এর ক্ষেত্রে রায়ের আরও শক্তিশালী বক্তব্য

Paragraph 15-এর দ্বিতীয় অংশ আরও গুরুত্বপূর্ণ:

“in absence of acquisition records, mere recording in Government khatian is insufficient to establish Government ownership.”

অধিগ্রহণের প্রকৃত দলিল-প্রমাণ না থাকলে শুধু Government Khatian-এ সরকারের নাম থাকার কারণে Government ownership প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এখানে “absence of acquisition records” কথাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ আদালতের বক্তব্যকে এভাবে বোঝা ঠিক হবে না যে—

“Government Khatian-এর কোনো মূল্য নেই।”

বরং সঠিক বক্তব্য হলো:

Government যদি acquisition-এর মাধ্যমে title দাবি করে, তাহলে নির্দিষ্ট জমির acquisition-এর legal source এবং supporting records দেখাতে হবে; শুধু Government Khatian যথেষ্ট নয়।

৯. Section 144A-এর সঙ্গে এই নীতির সম্পর্ক

State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর section 144A অনুযায়ী record-of-rights-এর entry সংশ্লিষ্ট বিষয়ের evidence এবং তা সঠিক বলে presumptive value বহন করে, যতক্ষণ না evidence দিয়ে সেটি ভুল প্রমাণিত হয়।

তাই দুইটি বিষয় একসঙ্গে বুঝতে হবে:

প্রথমত:
খতিয়ানকে আদালত উপেক্ষা করবে না।

দ্বিতীয়ত:
খতিয়ানই শেষ কথা নয়।

বিশেষ করে title-এর প্রকৃত উৎস নিয়ে যখন registered deed, acquisition papers, inheritance documents, possession evidence ইত্যাদি থাকে, তখন আদালত পুরো evidence মূল্যায়ন করবে।

এই মামলায় Government Khatian-এর বিপরীতে বাদীর documentary এবং oral evidence ছিল এবং Government নির্দিষ্ট acquisition-এর documentary foundation দেখাতে পারেনি।

১০. Possession কেন গুরুত্বপূর্ণ হলো?

Paragraph 16-এ আদালত বিশেষভাবে বাদী ও তাঁর predecessors-এর possession-এর কথা বলেছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তারা:

* প্রকাশ্যে জমি ভোগদখল করেছেন,
* নাম mutation করেছেন,
* rent দিয়েছেন,
* RAJUK approval নিয়েছেন,
* স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

এগুলো title-এর substitute নয়; কিন্তু title-এর documentary chain-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এগুলো বাদীর claim-কে corroborate করেছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ legal distinction আছে:

Possession ≠ Title

কিন্তু—

Title documents + long possession + revenue records + governmental approvals + physical structures

একত্রে থাকলে আদালতের factual assessment-এ তা গুরুত্বপূর্ণ corroborative evidence হতে পারে।

১১. Trial Court কী করেছিল?

Trial Court বাদীর পক্ষে decree দিয়েছিল।

অর্থাৎ Title Suit No. 359 of 2009-এ বাদীর দাবি গ্রহণ করা হয়েছিল।

Government/defendants appeal করে High Court Division-এ আসে।

Government-এর পক্ষের মূল বক্তব্য ছিল:

1. জমি Government property;
2. Government acquisition হয়েছিল;
3. plaintiff private documents-এর ওপর নির্ভর করেছেন;
4. limitation-এর বিষয় বিবেচনা করা হয়নি;
5. possession-এর পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই;
6. trial court relief beyond the prayer দিয়েছে।

১২. High Court কেন Trial Court-এর সিদ্ধান্ত বহাল রাখল?

High Court মূলত evidence-এর comparative assessment করেছে।

Plaintiff-এর evidence

বাদী নিজে PW-1 হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আরও দুইজন independent witness ছিলেন—PW-2 ও PW-3।

তাঁরা registered deeds, mutation records, rent receipts, RAJUK-approved plan, utility documents এবং DP Khatian-এর মতো documentary evidence উপস্থাপন করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তাঁদের সাক্ষ্য cross-examination-এ ভেঙে পড়েনি এবং documentary evidence দ্বারা corroborated হয়েছে।

১৩. Government-এর evidence-এর দুর্বলতা কোথায়?

Government মাত্র একজন প্রধান witness—DW-1 Kanungo—উপস্থাপন করে।

কিন্তু cross-examination-এ গুরুত্বপূর্ণ admission আসে।

তিনি বলতে পারেননি—

অবশিষ্ট 0.83 acre Government land কি না।

আরও বড় বিষয়:

নির্দিষ্ট disputed land acquisition-এর প্রমাণ হিসেবে—

* Award list,
* compensation record,
* original acquisition papers

উপস্থাপন করা হয়নি।

ফলে আদালতের কাছে Government-এর assertion এবং specific documentary proof-এর মধ্যে gap থেকে যায়।

১৪. Paragraph 17-এর গুরুত্ব

Paragraph 17-এ High Court Trial Court-এর একটি observation নিয়ে আলোচনা করে।

Trial Court লক্ষ্য করেছিল যে জমির একটি অংশ acquired হয়েছিল।

কিন্তু High Court বলেন—

defendants প্রমাণ করতে পারেনি যে plaintiff-এর disputed 0.0495 acre অংশটি ওই acquisition-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ফলে RS Khatian No. 01-এ Government-এর নামে entry—

যতদূর disputed land-এর সঙ্গে সম্পর্কিত—ভুল এবং plaintiff-এর ওপর binding নয়।

এখানে “specific parcel identification” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৫. Limitation-এর প্রশ্ন

Defendants limitation-এর objection তুলেছিল।

কিন্তু প্রদত্ত রায়ের অংশে High Court-এর substantive reasoning মূলত title, possession এবং acquisition evidence-এর ওপর কেন্দ্রীভূত।

তাই এই রায় থেকে এমন কোনো broad proposition বের করা ঠিক হবে না যে—

“Government-এর বিরুদ্ধে title suit-এর limitation নেই।”

বরং বলা নিরাপদ:

এই মামলায় defendants limitation objection তুললেও High Court শেষ পর্যন্ত appeal dismiss করেছে এবং trial court-এর decree বহাল রেখেছে।

১৬. Paragraph 18—Relief beyond the prayer

Government-এর আরেকটি argument ছিল trial court নাকি plaintiff-এর prayer-এর বাইরে relief দিয়েছে।

High Court সেটিও গ্রহণ করেনি।

আদালত বলেন—

যে declaration দেওয়া হয়েছে, তা plaintiff-এর মূল prayer-এর consequential এবং prayer-এর scope-এর মধ্যেই রয়েছে।

অর্থাৎ Trial Court-এর decree-কে “beyond the prayer” বলা যাবে না।

১৭. শেষ ফলাফল

Paragraph 19-এ High Court বলে—

Trial Court-এর judgment এবং decree:

* proper appreciation of evidence-এর ওপর ভিত্তি করে হয়েছে;
* কোনো illegality নেই;
* কোনো material infirmity নেই।

এরপর paragraph 20-এ:

Appeal dismissed.

এবং—

No order as to costs.

অর্থাৎ Trial Court-এর judgment/decree বহাল থাকে।

১৮. এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি Legal Principle

আমি রায়ের মূল বক্তব্যকে ৫টি point-এ এভাবে সাজাব:

১. খতিয়ান title-এর source নয়

RS Khatian-এ নাম থাকা মাত্রেই title সৃষ্টি হয় না।

২. Government Khatian-ও title-এর চূড়ান্ত প্রমাণ নয়

সরকারের নামে RS Khatian থাকলেও নির্দিষ্ট জমির Government ownership-এর legal foundation প্রমাণ করতে হবে।

৩. Acquisition দাবি করলে acquisition প্রমাণ করতে হবে

বিশেষ করে disputed parcel-এর সঙ্গে acquisition-এর যোগসূত্র দেখাতে হবে।

৪. Title chain অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

Registered deeds-এর ধারাবাহিকতা, inheritance/transfer history এবং অন্যান্য documentary evidence আদালত বিবেচনা করবে।

৫. Possession ও supporting documents title claim-কে corroborate করতে পারে

Mutation, rent receipts, RAJUK approval, building construction, utility connection, DP Khatian ইত্যাদি একত্রে factual possession ও claim-এর corroboration দিতে পারে।

১৯. তবে এই রায় থেকে কী বলা যাবে না?

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এই রায়ের ভিত্তিতে কেউ যদি বলেন—

“সরকারের নামে খতিয়ান থাকলে সেটা কোনো ব্যাপারই না।”

—তাহলে সেটা ভুল ব্যাখ্যা হবে।

কারণ section 144A অনুযায়ী record-of-rights-এর entry-এর evidentiary value এবং rebuttable presumption রয়েছে।

আবার কেউ যদি বলেন—

“খতিয়ান যার নামে, জমি তার।”

এটিও এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সঠিক legal position হলো:

খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ evidence; কিন্তু disputed title-এর final determination-এর জন্য underlying title এবং অন্যান্য evidence দেখতে হবে।

২০. জমির মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে রায়ের Practical Importance

এই রায়ের আলোকে কোনো জমি নিয়ে Government ownership dispute হলে শুধু এই প্রশ্ন করা যথেষ্ট নয়—

“RS/SA/BS খতিয়ান কার নামে?”

বরং আরও প্রশ্ন করতে হবে:

1. CS Khatian কার নামে?
2. SA Khatian কার নামে?
3. RS Khatian কীভাবে পরিবর্তিত হলো?
4. Government-এর নামে entry হওয়ার legal basis কী?
5. কোনো LA Case আছে কি?
6. Award list আছে কি?
7. Compensation দেওয়া হয়েছিল কি?
8. Acquisition map আছে কি?
9. কোন Dag-এর কত অংশ acquired?
10. disputed portion acquisition-এর মধ্যে পড়ে কি না?
11. Registered deed chain কী?
12. Mutation history কী?
13. খাজনা/ভূমি উন্নয়ন কর কে দিয়েছে?
14. দীর্ঘদিন possession কার?
15. Survey records কী বলছে?
16. DP/City Survey-এ কার নাম?
17. Government-এর title-এর independent source কী?

এই রায় বিশেষ করে ৮ ও ৯ নম্বর প্রশ্নের গুরুত্ব দেখিয়েছে—অর্থাৎ acquisition-এর দাবি শুধু সাধারণভাবে নয়, disputed parcel-এর সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে establish করতে হবে।

সারসংক্ষেপে রায়ের মূল বিষয় হলো:

“খতিয়ানে নাম” এবং “আইনগত title”—দুটি এক জিনিস নয়।

এই মামলায় Government-এর নামে RS Khatian ছিল। কিন্তু Court দেখেছে, Government যে acquisition-এর ভিত্তিতে ownership দাবি করছে, সেই acquisition-এর সঙ্গে বাদীর নির্দিষ্ট disputed 0.0495 acre জমির সরাসরি documentary linkage Government প্রমাণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে বাদী তাঁর title chain-এর সঙ্গে registered deed, mutation, rent payment, possession, RAJUK approval, construction, utility connection এবং DP Khatian-এর সমন্বিত evidence দেখাতে পেরেছেন।

ফলে High Court Trial Court-এর decree বহাল রেখে Government-এর appeal dismiss করেছেন।

রায়ের ratio:
শুধু Government-এর নামে RS Khatian থাকলেই নির্দিষ্ট জমির Government title প্রতিষ্ঠিত হয় না; Government ownership যদি acquisition-এর ভিত্তিতে দাবি করা হয়, তবে সেই acquisition-এর আইনগত ও documentary foundation এবং disputed জমির সঙ্গে তার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।

মোঃ রোকনুজজামান
এলএলবি ও এলএলএম-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

Address

Suite: 6/K, 33, Meherba Plaza, Topkhana Road, Dhaka
Fulbaria

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv Rokonuzzaman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Adv Rokonuzzaman:

Shortcuts

Share