Lexzone Law Chambers

Lexzone Law Chambers Lexzone Law Chambers is a premier and innovative law firm that tackles all your legal challenges. Lexzone advises on all aspects of employment and labour laws.

Lexzone Law Chambers provides comprehensive legal services encompassing all aspects of employment and labour laws in Bangladesh. We have assisted clients various clients and businesses in the following areas:
• Employment claims.
• Termination of employment contracts and severance.
• Dismissed from service.
• Disputes between employee and employer.
• cancellation of time scale and other service be

nefits.
• Drafting of employment contracts and compliance with obligatory employment law.
• Review of terms of employment.
• Confidentiality Agreements.
• Non-disclosure agreements.
• Industrial and labour issues related to gratuity, Provident fund etc.
• Collective redundancies

If you are looking for any legal help related to the Labour and Employment Laws of Bangladesh then just Don’t hesitate to contact us, we will give any type of legal support relating to employment and labour laws.

জমি বিক্রি করার পর দীর্ঘদিন পর জাল দলিল বলে দলিল বাতিলের মামলা (Cancellation of Deed) দায়ের করার প্রবণতা বেশ অহরহ দেখা ...
07/08/2026

জমি বিক্রি করার পর দীর্ঘদিন পর জাল দলিল বলে দলিল বাতিলের মামলা (Cancellation of Deed) দায়ের করার প্রবণতা বেশ অহরহ দেখা যায়। বিশেষ করে জমির দাম যখন বহুগুণ বেড়ে যায়, অথবা পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা মনোমালিন্য তৈরি হয়, তখন অনেক বিক্রেতা বা তাদের উত্তরাধিকারীরা অতীত চুক্তিকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন।

দলিল জাল" দাবি করলেই হয় না, বাদীকে তা যুক্তিসঙ্গত প্রমাণের মাধ্যমে নস্যাৎ করতে হয়। শচীন্দ্র নাথ মজুমদার এবং অন্যান্য বনাম আশুতোষ মজুমদার @ কুন্ডু মামলার এই সংক্রান্ত রায় আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈রায়ের তারিখ : 12.03.2026

♈শচীন্দ্র নাথ মজুমদার এবং অন্যান্য বনাম আশুতোষ মজুমদার @ কুন্ডু

♈মাননীয় বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান।
মামলাটির বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা ও সারসংক্ষেপ:

✅মামলার পটভূমি ও ঘটনা (Fact of the Case): ​বাদী (আশুতোষ) এবং মূল বিবাদী (সুকুমার) ছিলেন সহোদর ভাই। তারা পৈতৃক সূত্রে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানাধীন আহুতি বাটরা মৌজার এস.এ খতিয়ান নং ৩৮ এর অন্তর্ভুক্ত সম্পত্তিতে বসবাস করে আসছিলেন।

🔴১৯৯৮ সালে একটি সি.আর মামলায় (নং ৫৯/১৯৯৮) বিবাদীর জ্যেষ্ঠ পুত্র শচীন্দ্র নাথ মজুমদার দাবি করেন যে, বাদী ১৬/০২/১৯৮৮ তারিখের ৪৪০ নম্বর নিবন্ধিত বিক্রয় কবুলিয়ত দলিলের মাধ্যমে 'খ' তফসিলভুক্ত ২.৭২½ একর জমি বিবাদীর কাছে বিক্রি করেছেন। বাদী উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৩.১১.১৯৯৯ তারিখে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে জানতে পারেন যে, বিবাদী তার নামে একটি বিক্রয় দলিল সম্পাদন করিয়ে নিয়েছেন।

✅​মামলার কারণ (Cause of Action): ​বাদীর দাবি ছিল, তিনি কখনো উক্ত জমি বিবাদীর নিকট বিক্রয় করেননি, কোনো পণমূল্য (বিবেচনা অর্থ) গ্রহণ করেননি এবং রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে দলিল সম্পাদন করে দেননি। ছদ্মবেশ ধারণ (false personation) ও জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬/০২/১৯৮৮ তারিখের ৪৪০ নম্বর কবুলিয়ত দলিলটি তৈরি করা হয়েছে। ২৩/১১/১৯৯৯ তারিখে দলিলের নকল প্রাপ্ত হয়ে বাদী এই বেআইনি দলিল বাতিলের আইনগত প্রয়োজনীয়তা ও নালিশি কারণ অনুভব করেন।

✅​মূল মামলা দায়ের ও প্রার্থনা (Original Suit): ​বাদী আশুতোষ মজুমদার ১৯৯৯ সালে বরিশাল আগৈলঝাড়া সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী সত্ত্ব ৯৩/১৯৯৯ নং মামলা দায়ের করেন।

🔴​প্রার্থনা/দাবি: ১৬/০২/১৯৮৮ তারিখের ৪৪০ নম্বর 'ক' তফসিলভুক্ত বিক্রয় দলিলটি জাল, প্রতারণামূলক, বাতিল, অকার্যকর এবং বাদীর স্বার্থের বিরুদ্ধে বাধ্যবাধকতাহীন ঘোষণার প্রতিকার।

✅​বিবাদীপক্ষের লিখিত জবাব (Written Statement)
​বিবাদী মামলাটির বিরোধিতা করে লিখিত জবাবে দাবি করেন: ​মামলাটি তামাদিতে বারিত এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা ও অন্যান্য বিধান মতে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য নয়।

✅​বাদী ১৬/০২/১৯৮৮ তারিখে ২০,০০০/- টাকা পণমূল্যে ২.৭২½ একর জমি বিবাদীর নিকট বিক্রি করে স্বত্ব ও দখল হস্তান্তর করেন। বিবাদী নামজারি (মিউটেশন) সম্পাদনপূর্বক নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। ​বাদী ভারতীয় নাগরিক এবং তিনি ভারতে বসবাস করায় এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

✅সাক্ষীদের বক্তব্য ও প্রমাণ (Evidence of Parties)
​মামলায় বাদীপক্ষে ৫ জন (PW 1-5) এবং বিবাদীপক্ষে ৪ জন (DW 1-4) সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

🔴​বাদীপক্ষের সাক্ষী (PWs): ​PW-1 (বাদী নিজে): দলিলটি জাল ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেন।

🔴​PW-2 (নলিনী রঞ্জন) ও PW-4 (সুধীর): বিবাদীর সাথে পূর্বে বাটোয়ারা ও অন্যান্য দেওয়ানী মামলায় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈরী সম্পর্ক ছিল বলে জেরায় স্বীকার করেন।

🔴​PW-3 ও PW-5: জমির স্বত্ব বা কেনাবেচা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান বা নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন।

✅​বিবাদীপক্ষের সাক্ষী (DWs): ​DW-1 (শচীন্দ্র নাথ মজুমদার - বিবাদীর ছেলে ও সত্যায়নকারী সাক্ষী): তিনি বিস্তারিত বিবরণ দেন যে, তাদের মামা কুমুদ রঞ্জন বাড়ৈর বাড়িতে দরদাম চূড়ান্ত হয়, ১৬.০২.১৯৮৮ তারিখে ২০,০০০/- টাকা লেনদেন হয় এবং রেজিস্ট্রি অফিসে বাদীর উপস্থিতিতে দলিল সম্পাদিত হয়।

🔴​DW-3 (নির্মল চন্দ্র হালদার - অধ্যক্ষ): তিনি মৃত সনাক্তকারী দেবেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের স্বাক্ষর প্রমান করেন এবং বিবাদীর দখল নিশ্চিত করেন।

🔴​DW-4: তিনি মামার বাড়িতে জমি সংক্রান্ত দরদামের বিষয়ে উপস্থিত থাকার কথা জবানবন্দিতে সমর্থন করেন।

✅​বিচারিক আদালতের রায় (Trial Court Judgment)​আগৈলঝাড়া সহকারী জজের ১ম আদালত ১৭.০৪.২০০৫ তারিখে মামলাটি বাদীর পক্ষে ডিক্রি করেন।

🔴Observation in short: ​বিবাদী নিজে কাঠগড়ায় দাঁড়াননি; দলিলের সনাক্তকারী ও সাক্ষী বিবাদীর আত্মীয়; এবং আদালতে খালি চোখে ও ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে টিপছাপের ধরণ ভিন্ন মনে হওয়ায়।

✅আপিল দায়ের ও আপিল রায় (First Appeal & Judgment): ​বিচারিক আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদী বরিশাল ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী আপিল নং ১৩২/২০০৫ দায়ের করেন।

✅​আপিল রায় (২০/০৭/২০০৮): আপিল আদালত বিচারিক আদালতের যুক্তি বহাল রেখে আপিলটি খারিজ করে দেন।

🔴​হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের ও প্রাথমিক আদেশ (Civil Revision & Rule): ​নিম্ন আদালতদ্বয়ের একমত সিদ্ধান্তের (concurrent findings) বিরুদ্ধে বিবাদীর স্থলাভিষিক্ত পিটিশনারগণ হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী রিভিশন নং ২০৮/২০০৯ দায়ের করেন।

✅​প্রাথমিক আদেশ (Rule Nisi): দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি কেন রদ ও বাতিল করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে রুল জারি করেন।

✅​বিবাদী/পিটিশনার পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য (Petitioners' Submissions): ​পিটিশনার পক্ষে বিদগ্ধ আইনজীবী জনাব স্বপন কুমার দত্ত হাইকোর্টে যুক্তি উত্থাপন করেন:

🔴জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পক্ষগণের নিকটাত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিদের সনাক্তকারী ও সাক্ষী হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়।

🔴সাক্ষ্য আইনের ১২০ ধারা ও আপীল বিভাগের Lal Miah (Hajee) Vs. Nurul Amin and others (57 DLR (AD) 64) নজির অনুসারে দেওয়ানী মামলায় বিবাদী নিজে কাঠগড়ায় না দাঁড়িয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার সন্তান (DW-1) সাক্ষ্য দিলে মামলা অসংগঠিত হয় না।
৩. সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা অনুযায়ী লেনদেনের প্রত্যক্ষদর্শী DW-1 হলেন সর্বাধিক উপযুক্ত সাক্ষী (competent witness)।

🔴টিপছাপ বিশেষজ্ঞের মতামত কেবল পরামর্শমূলক। উপরন্তু, অখ্যাত স্ট্যাম্প প্যাডের কালির অস্পষ্ট ও লেপ্টে যাওয়া নমুনায় টিপছাপের অমিল দেখিয়ে মূল দলিলকে জাল বলা আইনত ভুল।

Md. Habibur Rahman Bhuiyan Vs. Mosammat Golam Begum (33 BLD (AD) 93) এবং Ishaque (Md) Vs. Ekramul Haque Chowdhury (54 DLR (AD) 26) নীতি অনুসরণ করতে নিম্ন আদালত ব্যর্থ হয়েছে।

✅​হাইকোর্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণ (Court's Observations)
​মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ নথিপত্র ও আইনি নীতিসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে নিম্নরূপ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:
​স্বার্থ ও আত্মীয়তার ভিত্তিতে সাক্ষ্য বাতিল নয়:

🔴আত্মীয়তা বা ঘনিষ্ঠতার কারণে সাক্ষ্য অবিশ্বস্ত হয় না, যদি জেরা পরীক্ষার মাধ্যমে তা ভুল প্রমাণিত না হয়। বাদী DW-1 ও DW-3 এর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

🔴​পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও সাক্ষ্য প্রদান: সাক্ষ্য আইনের ১২০ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী মামলায় পক্ষকে নিজে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, বিশেষ করে যখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কোনো উপযুক্ত সাক্ষী (DW-1) সাক্ষ্য প্রদান করেন।

🔴​টিপছাপ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের মূল্য (LTI Assessment):
​টিপছাপ বিশেষজ্ঞের মতামত বাধ্যতামূলক নয়, কেবল সহায়ক।

🔴​বি. এল. সাক্সেনার বিখ্যাত গ্রন্থ "Law and Technique Relating to Identification of Handwriting, Disputed Documents, Finger Prints, Foot Prints and Detection of Forgeries" উদ্ধৃত করে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে— নিম্ন আদালতে বাদীর কাছ থেকে যে নমুনা টিপছাপ নেওয়া হয়েছিল তা স্ট্যাম্প প্যাড দিয়ে নেওয়ায় অস্পষ্ট, লেপ্টে যাওয়া (smudged) এবং মানহীন ছিল।
​ত্রুটিপূর্ণ নমুনা টিপছাপের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত প্রতিবেদন বা বিচারকের ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে খালি চোখে সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

🔴​দলিল বাতিলের দাবিদার হলেও বাদী তার নালিশি দাবি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। পক্ষান্তরে, বিবাদী দলিলে উল্লিখিত পণমূল্য পরিশোধ, রেজিস্ট্রির ধারাবাহিকতা ও দখল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

✅হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত রায় (Final Judgment & Order): ​হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতদ্বয়ের রায়কে আইন ও প্রমাণের চরম ভুল ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
​আদেশ:
🔴ইস্যুকৃত রুলটি Absolute (চূড়ান্ত) ঘোষণা করা হলো।

🔴সহকারী জজ আদালত ও ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় ও ডিক্রি সম্পূর্ণ রদ ও বাতিল করা হলো।

🔴বাদীর দেওয়ানী সত্ত্ব ৯৩/১৯৯৯ নম্বর মামলাটি চূড়ান্তভাবে খারিজ করা হলো।

Citations Referenced:
​1. 57 DLR (AD) 64 — Lal Miah (Hajee) Vs. Nurul Amin and others
2. 33 BLD (AD) 93 — Md. Habibur Rahman Bhuiyan and others Vs. Mosammat Golam Begum and others
3. 54 DLR (AD) 26 — Ishaque (Md) Vs. Ekramul Haque Chowdhury
4. 7 BLT 164 — (বিবেচিত ও সুপ্রীম কোর্টের নীতি দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত)
5. AIR 1937 PC 230 — Sardar Gurbakhsh Singh Vs. Gurdial Singh and another

6. 36 Indian Appeals 9 — Kishori Lal Vs. Chunni Lal

তথ্য: দেওয়ানী রিভিশন নং ২০৮/২০০৯

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।

মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

ালত, ,


04/08/2026

আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন? আগে জেনে নিন।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়।

যাদের সাধারণত আয়কর-সংক্রান্ত পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে:
✔️ ব্যক্তি করদাতা
✔️ চাকরিজীবী
✔️ ব্যবসায়ী ও একক মালিকানা প্রতিষ্ঠান (Proprietorship)
✔️ অংশীদারী প্রতিষ্ঠান (Partnership Firm)
✔️ প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
✔️ ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন, এনজিও ও অন্যান্য নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান
রিটার্ন প্রস্তুতের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে:
📄 জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
📄 TIN সনদ
📄 ব্যাংক স্টেটমেন্ট
📄 আয়-ব্যয়ের হিসাব
📄 ট্রেড লাইসেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
📄 কোম্পানির নিবন্ধনপত্র ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
📄 পূর্ববর্তী বছরের আয়কর রিটার্ন (যদি থাকে)
📄 সম্পদ, বিনিয়োগ ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

Lexzone Law Chambers আয়কর-সংক্রান্ত রিটার্ন প্রস্তুতিতে সহায়তা, কর কর্তৃপক্ষের নোটিশের জবাব, আপিল এবং কর-সংক্রান্ত অন্যান্য আইনগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পেশাগত সহায়তা প্রদান করে।

প্রয়োজন হলে আপনার প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

01841-700461

04/08/2026

আয়কর (Income Tax) নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নয়!

ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন ও এনজিওর জন্য পেশাদার Income Tax Advisory & Return Filing পূরনে সহযোগিতা করা হয়।

✅ আমাদের সেবাসমূহ: • TIN নিবন্ধন ও সংশোধন
• আয়কর রিটার্ন (e-Return) প্রস্তুত ও দাখিল
• সম্পদ ও দায় বিবরণী (Wealth Statement) প্রস্তুত
• Tax Planning ও কর পরামর্শ
• NBR-এর নোটিশের জবাব প্রস্তুত
• Tax Assessment ও শুনানিতে প্রতিনিধিত্ব
• Tax Appeal, Revision ও High Court Writ সংক্রান্ত আইনি সহায়তা
• কোম্পানি, পার্টনারশিপ, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন ও এনজিওর Tax Compliance
📌 আমরা যাদের সেবা প্রদান করি:
👤 ব্যক্তি করদাতা
🏪 একক মালিকানা (Proprietorship)
🤝 অংশীদারী প্রতিষ্ঠান (Partnership Firm)
🏢 প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
🏛️ ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন ও এনজিও
📚 শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লাব ও বিভিন্ন সংস্থা
📑 রিটার্ন দাখিলের আগে আপনার প্রয়োজন হতে পারে: ✔️ TIN
✔️ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
✔️ ব্যাংক স্টেটমেন্ট
✔️ আয়-ব্যয়ের হিসাব
✔️ ব্যবসার কাগজপত্র/ট্রেড লাইসেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
✔️ কোম্পানির নিবন্ধন ও আর্থিক বিবরণী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

রিটার্ন দাখিলে সহযোগিতা:
01841-700461
01724700461

এমপিওভুক্তগন শিক্ষকগণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আইনগতভাবে অযোগ্য নন। এমপিওভ...
26/07/2026

এমপিওভুক্তগন শিক্ষকগণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আইনগতভাবে অযোগ্য নন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদোর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে আইনগত বাঁধা নেই।

মফিজুল হক বনাম মফিজুর রহমান এবং অন্যান্য মামলায় রায়ের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির বিশেষ করে, "স্থানীয় কর্তৃপক্ষ" (Local Authority) এবং "লাভজনক পদ" (Office of Profit)-এর আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই নজিরটি খৃবই গুরুত্বপূর্ন। এই সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায় আজ আলোচনা করবো। আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈মফিজুল হক বনাম মফিজুর রহমান এবং অন্যান্য।
♈রায়ের তারিখ: ০৭/০৩/১৯৯৬
♈মাননীয় বিচারপতি এ.টি.এম. আফজাল, সি.জে., মোস্তফা কামাল, লতিফুর রহমান এবং মোহাম্মদ আবদুর রউফ(আপিল বিভাগ)

✅ঘটনার পটভূমি (Fact of the Case)
​বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানাধীন হোগলাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (অনুষ্ঠিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২)।
​ফলাফল: আপীলকারী মফিজুল হক উক্ত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন এবং ৫ মার্চ ১৯৯২ তারিখে সরকারি গ্যাজেটের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশিত হয়।

🔴মফিজুল হক একই সাথে 'সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়'-এর পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক (Headmaster) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উক্ত বিদ্যালয়টি যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন একটি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

🔴​মফিজুর রহমান, যিনি ঐ ইউনিয়নের একজন ভোটার) দাবি করেন যে, ​১৯৬১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধ্যাদেশের সাথে ১৯৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশের ধারা ৭(২)(ই) পাঠ করলে স্পষ্ট হয় যে, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকতা করা মানে একটি "স্থানীয় কর্তৃপক্ষ"-এর অধীনে পূর্ণকালীন লাভজনক পদে (Full-time Office of Profit) অধিষ্ঠিত থাকা।

🔴​অতএব, মফিজুল হক চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আইনিভাবে অযোগ্য (Disqualified) ছিলেন এবং তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছিলেন।

🔴মফিজুল হক কোন কর্তৃত্ববলে (Under what authority) চেয়ারম্যান পদ দখল করে আছেন, তা দর্শানোর জন্য Quo Warranto এবং Mandamus প্রকৃতির রুল জারির আর্জি জানানো হয় এবং তাকে পদ থেকে অপসারণের আবেদন করা হয়।

✅রিট পিটিশনারের বক্তব্য (বিবাদী পক্ষ/রেসপন্ডেন্ট):
​বেসরকারি হলেও বিদ্যালয়টি ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ ও সরকারি বিধিমালা দ্বারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। ​সরকার শিক্ষকদের বেতনের বড় অংশ (৮০%) ও ভাতা প্রদান করে।

✅​১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৩০(১)(বি) অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো স্থানীয় বা আইনসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। ​ফলে বিদ্যালয়টি একটি 'সংবিধিবদ্ধ সংস্থা' বা 'স্থানীয় কর্তৃপক্ষ' এবং প্রধান শিক্ষক পদে থেকে নির্বাচন করা আইনত অবৈধ।

✅হাইকোর্ট বিভাগে চেয়ারম্যানের পক্ষে বক্তব্য হচ্চে, ​বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বেসরকারি এবং জনগণের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত; বোর্ড থেকে কেবল শিক্ষা সংক্রান্ত "স্বীকৃতি" (Recognition) দেওয়া হয়েছে। ​জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট (General Clauses Act, 1897)-এর ধারা ৩(২৮) অনুযায়ী "স্থানীয় কর্তৃপক্ষ" হতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকার কর্তৃক কোনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়।

✅​বিদ্যালয় কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা নয়, তাই তিনি ৭(২)(ই) ধারার অধীনে অযোগ্য নন। ​রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে পরাস্ত প্রার্থীর সমর্থক কর্তৃক পূর্বের রিট ও ট্রাইব্যুনালের তথ্য গোপন করে এই মামলা করা হয়েছে।

✅​হাইকোর্ট বিভাগের রায় (High Court Division Judgment): হাইকোর্ট বিভাগ রিট আবেদনকারীর পক্ষে রায় দেন এবং Abdul Mazid Vs. Abu Zaffar Mohammad Khalil [14 BLD 488] মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন যে, বেসরকারি স্কুল শিক্ষকও "স্থানীয় কর্তৃপক্ষের" অধীনস্থ পদে থাকেন।

🔴রুল 'Absolute' ঘোষণা করে আপীলকারী মফিজুল হককে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ (Unseated) করা হয়।

✅আপিলে বিভাগে চেযারম্যান হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগ থেকে 'Leave to Appeal' নিয়ে সিভিল আপীল নং ৬০/১৯৯৫ দায়ের করেন

✅​আপীলকারীর পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য: হাইকোর্ট বিভাগ আইনের গুরুতর ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড নিজে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হতে পারে, কিন্তু বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো বেসরকারি বিদ্যালয় নিজে 'স্থানীয় কর্তৃপক্ষ' হয়ে যায় না। General Clauses Act-এর ৩(২৮) ধারা হাইকোর্ট সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

✅​রেসপন্ডেন্ট/পিটিশনারের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী বক্তব্য : সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদের আলোকে সর্বজনীন শিক্ষা বাস্তবায়নে সরকার এসব বিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ ও সিংহভাগ অর্থায়ন করে। তাই আইনি কাঠামোর দিক থেকে এটি সরকারেরই একটি বর্ধিত অংশ এবং কার্যতঃ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

✅​আপিল বিভাগের Observation: ​প্রধান বিচারপতি এ.টি.এম. আফজালের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অত্যন্ত সুস্পষ্ট আইনি বিশ্লেষণ প্রদান করেন:

🔴সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Body) বনাম সংবিধিবদ্ধ নিয়ম দ্বারা চালিত সংস্থা। ​আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের Vaish Degree College (AIR 1976 SC 888) মামলার নীতি উদ্ধৃত করে বলেন—"আইনের মাধ্যমে জন্ম লাভ করা" আর "জন্মের পর আইনের নিয়ম দিয়ে পরিচালিত হওয়া"—এ দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

🔴​বেসরকারি স্কুল আইনের মাধ্যমে জন্ম নেয় না, কেবল পরিচালনার জন্য সরকারি নিয়ম মেনে চলে। তাই এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা local authority নয়।

🔴জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ৩(২৮) ধারার সঠিক ব্যাখায় "Local Authority' হতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে "সরকার কর্তৃক গঠিত বা প্রতিষ্ঠিত" হতে হবে। কেবল 'Non-Government' শব্দটিই প্রমাণ করে এটি সরকার দ্বারা গঠিত নয়।

🔴১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৩০(১)(বি) কেবল শিক্ষকদের একটি চাকুরীর আচরণবিধি বা শর্ত (Condition of service)। এটি ভঙ্গ করলে বিভাগীয় শাস্তি হতে পারে, কিন্তু এটি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সরাসরি প্রার্থীর অযোগ্যতা (Disqualification) সৃষ্টি করে না।

🔴​​হাইকোর্ট সরাসরি "অপসারণ" (Unseated) করার আদেশ দিয়ে ভুল করেছিলেন; Quo Warranto রিটে আদালত কেবল পদটি আইনি কি না তার "ঘোষণা" (Declaration) দেন, সরাসরি সরাতে পারেন না।

✅আপিল বিভাগের রায়: আপীল বিভাগ কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে আপীল মঞ্জুর (Appeal Allowed) করা হলো। হাইকোর্ট বিভাগের রায় ও আদেশের কার্যকারিতা বাতিল ও রহিত করা হলো।

Abdul Mazid Vs. Abu Zaffar Mohammad Khalil (14 BLD 488) মামলার ভুল সিদ্ধান্তকে বাতিল/রদ (Overruled) ঘোষণা করা হলো।

✅স্পষ্টভাবে বলা যায়, বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আইনগতভাবে অযোগ্য নন।

তথ্য: সিভিল আপিল নং ৬০/১৯৯৫।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।

মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

ালত, ,


আমরা আছি আপনার পাশে!
22/07/2026

আমরা আছি আপনার পাশে!

অধিগ্রহণ ব্যতিত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নেওয়া অবৈধ (illegal)  ঘোষণা করেছেন। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং আইননুসারে ক...
21/07/2026

অধিগ্রহণ ব্যতিত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নেওয়া অবৈধ (illegal) ঘোষণা করেছেন। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং আইননুসারে ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ না করে কোন ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি নেওয়া যায় না। এই সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় আজ আলোচনা করবো। আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈মীর ইমাম হোসেন এবং অন্যান্য (petitioners) বনাম প্রতিপক্ষ (Respondents): বাংলাদেশ সরকার, পক্ষে: সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য।

♈রায়ের তারিখ: ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
♈মাননীয় বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং মাননীয় বিচারপতি এ.কে.এম. রবিউল হাসান

✅​মামলার মূল ঘটনা (Facts of the Case: ​পিটিশনারদের পূর্বসূরি (আব্দুল আউয়াল) মূল রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে নালিশি জমি (হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার অধীনস্থ ২.৮০ একর জমি) ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), লাখাই কর্তৃক নামজারি মামলা নং ৩/৮২-৮৩ এর মাধ্যমে উক্ত জমি পিটিশনারদের পূর্বসূরির নামে নামজারি (Mutation) মঞ্জুর হয়।

🔴​দীর্ঘদিন পর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), হবিগঞ্জ ০৫.০৮.১৯৯৫ তারিখের এক প্রশাসনিক চিঠির মাধ্যমে উক্ত মঞ্জুরকৃত নামজারিটি বাতিল করে দেন। প্রশাসনিক আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে পিটিশনারগণ সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণা ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য 'টাইটেল স্যুট নং ১২৬/১৯৯৫' দায়ের করেন। ১৯৯৮ সালে বিচারিক আদালত পিটিশনারদের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন।

🔴​সরকারপক্ষ উক্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে টাইটেল আপিল (নং ৬/২০০০) করলে আপিল আদালত ডিক্রিটি বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে পিটিশনারগণ হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (নং ৪৭০০/২০০৩) দায়ের করেন। ২০১৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ আপিল আদালতের রায় রদ করে বিচারিক আদালতের ডিক্রি বহাল রাখেন। সরকারপক্ষ হাইকোর্টের উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে কোনো আপিল দায়ের করেনি।

🔴​আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রি বহাল থাকা সত্ত্বেও ভূমি প্রশাসন (রেসপন্ডেন্ট নং ৩) উক্ত নালিশি জমিকে "১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত" হিসেবে দেখিয়ে ২০১৬-২০১৭ সালে ২৯টি খাস জমি সেটেলমেন্ট মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মোট ২.৮০ একর জমি বন্দোবস্ত (Settlement) প্রদান করে। ​পিটিশনারগণ উক্ত বন্দোবস্ত বাতিল বা ক্ষতিপূরণের জন্য একাধিক আবেদন (২০২১ ও ২০২৩ সালে) এবং জাস্টিস ডিমান্ড নোটিশ পাঠালেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

✅​মামলার কারণ/ আইনি বিরোধ (Cause of Action & Issues): স্বত্ব সাব্যস্তকরণের চূড়ান্ত দেওয়ানি ডিক্রি বহাল থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার আইনি জমি অধিগ্রহণ (Acquisition) না করে বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে পিটিশনারদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে খাস দেখিয়ে অন্যদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া।

🔴অর্পিত বা স্বত্বভিত্তিক চূড়ান্ত ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও কোনো জমিকে প্রশাসনিক আদেশে 'খাস' গণ্য করে বন্দোবস্ত দেওয়া আইনগতভাবে বৈধ কি না? সংবিধান প্রদত্ত সম্পত্তির মৌলিক অধিকার ও 'স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৫০'-এর ৭৬ ধারা লঙ্ঘন করে অধিগ্রহণ ব্যতিরেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হস্তান্তর করা আইনানুগ কি না?

✅​প্রাথমিক আদেশ (Initial Order / Rule Nisi)
​পিটিশনারদের আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রেসপন্ডেন্টদের প্রতি একটি রুল নিসি (Rule Nisi) জারি করেন: ​কেন জমি অধিগ্রহণ ও আইনানুগ স্বত্ব ব্যতিরেকে সম্পন্নকৃত ২৯টি বন্দোবস্ত দলিল (সংযোজনী F, F-1 থেকে F-28) বেআইনি ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না; এবং কেন পিটিশনারদের উক্ত জমাবাবদ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না—তার কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

✅​পিটিশনারদের পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য (Submissions of the Petitioners' Advocate): ​পিটিশনারদের বিজ্ঞ আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন করেন যে: ​পিটিশনারদের পূর্বসূরি বৈধ ক্রয়সূত্রে জমির মালিক হন এবং আইনানুযায়ী নামজারি পান। ​স্বত্ব মামলার চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনারদের স্বত্ব বহাল রেখেছেন এবং উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল না করায় তা চূড়ান্ত (Final and binding)। ​দেওয়ানি আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সেই জমি সরকার অন্য কারো নামে বন্দোবস্ত দিতে পারে না।

🔴​সরকার যদি কোনো জনস্বার্থে ওই জমি নিতে চায়, তবে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে 'অধিগ্রহণ' করতে হবে। অধিগ্রহণ না করে জমি হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
​তিনি আবেদন জানান—হয় বেআইনি বন্দোবস্তসমূহ বাতিল করা হোক, অথবা বর্তমান বাজারমূল্যে পিটিশনারদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হোক।

✅​সরকারপক্ষের বক্তব্য (Submissions of the State / Respondents): ​সরকারপক্ষে বিজ্ঞ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মেহেদী হাসান যুক্তি দেন যে:
​পিটিশনারদের পূর্বসূরি ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে নামজারি করিয়েছিলেন, যা এডিসি (রাজস্ব) সঠিকভাবে বাতিল করেন। ​আপিল আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন এবং সরকার আইনগত বিধি-বিধান মেনেই বিভিন্ন ভূমিহীন বা ব্যক্তির অনুকূলে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। ​রেসপন্ডেন্ট নং ৩ (সহকারী কমিশনার-ভূমি) কোনো বেআইনি কাজ করেননি, তাই রুলটি খারিজযোগ্য।

✅​আদালতের পর্যবেক্ষণ (Court's Observation & Ratio Decidendi) ​মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ নথি ও আইনি দিকগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণসমূহ প্রদান করেন:

🔴​ডিক্রির চূড়ান্ততা (Res Judicata & Finality of Decree): সিভিল রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায় ও ডিক্রি সরকার আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেনি। ফলে বিচারিক আদালতের রায় চূড়ান্ত আইনি সত্য হিসেবে বহাল আছে। চূড়ান্ত ডিক্রি দ্বারা নির্ধারিত স্বত্বকে কোনো প্রশাসনিক আদেশে নাকচ করা যায় না।

🔴সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের সম্পত্তির অধিকার রক্ষিত। আইনানুগ প্রক্রিয়া (Due Process of Law) ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ছিনিয়ে নেওয়া বা অন্যকে দেওয়া যায় না।

🔴​ডিক্রিপ্রাপ্ত জমির স্বত্ব পিটিশনারদের। সরকার যদি উক্ত জমি অন্য কাউকে বন্দোবস্ত দিতে চায়, তবে প্রথমত আইন অনুযায়ী জমিটি অধিগ্রহণ (Acquisition) করতে হবে। অধিগ্রহণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খাস দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়া স্পষ্টত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত (Without Lawful Authority) ও বেআইনি।

✅চূড়ান্ত রায় ও আদেশ (Judgment & Order)
​মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনারদের পক্ষে রুলটি অ্যাবসোলিউট (Absolute / মঞ্জুর) ঘোষণা করেন এবং নিম্নরূপ নির্দেশ প্রদান করেন:

🔴রেসপন্ডেন্টদের দ্বারা সম্পন্নকৃত ২৯টি বন্দোবস্ত দলিল (Annexure F, F-1 to F-28) সম্পূর্ণ বেআইনি, আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং বাতিলযোগ্য।

🔴তবে সরকার (রেসপন্ডেন্ট নং ৩) যদি ইতোমধ্যে দেওয়া উক্ত ২৯টি বন্দোবস্ত বহাল রাখতে চায়, তবে 'স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭' (Act of 2017) অনুযায়ী নির্ধারিত বর্তমান বাজারমূল্যে পিটিশনারদের সম্পূর্ণ জমির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ (Compensation) প্রদান করতে বাধ্য থাকিবে।

✅​এই রায়টি ভূমি আইনের একটি চমৎকার নজির (Precedent)। প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে 'খাস' দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার যে প্রবণতা রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা যায়, এই রায় তা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। রায় অনুযায়ী, সরকার বন্দোবস্ত বাতিল করবে অথবা ২০১৭ সালের আইন অনুযায়ী পিটিশনারদের বর্তমান বাজারমূল্যে ৩ গুণ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।

তথ্য: রিট পিটিশন রিট পিটিশন নং ১৬৩৮২ /২০২৩। judgment is unreported and আইনজীবী হিসেবে আমি ছিলাম।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।

মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

#আইনি_পরামর্শ,
ালত, ,

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন
21/07/2026

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেমন প্রার্থী চান? মতামত দিন কমেন্টে।
19/07/2026

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেমন প্রার্থী চান? মতামত দিন কমেন্টে।

গভীর শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
12/07/2026

গভীর শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

সমপদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য করা যাবে না এবং সম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বেতন স্কেল গ্রেড-১১ থেকে গ্র...
10/07/2026

সমপদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য করা যাবে না এবং সম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বেতন স্কেল গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০-এ উন্নীতকরণের প্রস্তাব ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করার হাইকোর্টের রায় আজ আলোচনা করবো। আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈জনাব এনামুল হক এবং অন্যান্য VS ​গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পক্ষে সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য
♈রায়ের তারিখ: ১৯/০৪/২০২৬
♈মাননীয় মাননীয় বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার
এবং মাননীয় বিচারপতি ঊর্মি রহমান

✅মামলার ঘটনা (Facts of the Case)
​মামলার রিট পিটিশনার হলেন সংখ্যায় ৪ জন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, যারা ঢাকা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তারা 'বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ' (সংক্ষেপে BMDA)-এর একটি প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগদান করেন।

🔴তারা মূলত 'নকশাকার' (Craftsman) পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, যা আইনগতভাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (Sub-Assistant Engineer) পদের সমতুল্য। পরবর্তীতে, ১৭/১০/২০১৬ তারিখের একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয় এবং তা তাদের চাকুরীতে যোগদানের আদি (First date of joining) তারিখ থেকেই কার্যকর করা হয়। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, স্থায়ী হওয়ার পরও তাদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১১-তম গ্রেডে বেতন প্রদান করা হচ্ছিল।

✅​মামলার কারণ (Cause of Action)
​ বিগত ১৯/১১/১৯৯৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন (Notification) জারি করে। উক্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং সমমানের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয় এবং তাদের বেতন স্কেল ১১-তম গ্রেড থেকে ১০-তম গ্রেডে উন্নীত করার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের অন্যান্য সমস্ত দপ্তর এই আদেশ মেনে চললেও, বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায়। আবেদনকারীরা বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে বহু আবেদন করলেও তা কোনো কাজে আসেনি।
বিএমডিএ (BMDA) কর্তৃপক্ষের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে মামলার মূল কারণ।

🔴অবশেষে, ০৩/১০/২০২৮ তারিখে (মূল রায়ে টাইপিং ভুলের কারণে ২০২৮ লেখা হয়েছে, যা মূলত ২০১৮ হবে) রিট পিটিশনারকারীগন তাদের আইনজীবী Notice Demanding Justice পাঠান। এই আইনি নোটিশের পরও বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব না দেওয়ায় আবেদনকারীদের এই রিট মামলা করার অকাট্য কারণ (Cause of Action) সৃষ্টি হয়।

✅​মামলা দায়ের ও প্রাথমিক রুল (Filing of Writ & Issuance of Rule Nisi)
​বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে এবং আইনগতভাবে অন্য কোনো বিকল্প ও সমমানের কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে, রিট পিটিশনারকারীগন উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদের সাথে পঠিত ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে ১৪০৩৯/২০১৮ নং রিট পিটিশন দায়ের করেন। আবেদনের প্রাথমিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ একটি 'রুল নিসি' (Rule Nisi বা প্রাথমিক রুল) জারি করেন। এই রুলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষদের (Respondents) কাছে জানতে চাওয়া হয়—কেন আবেদনকারীদের বেতন স্কেল ১০-তম গ্রেডে উন্নীত না করার এই নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তাদের এই গ্রেড উন্নীতকরণের নির্দেশ দেওয়া হবে না। ( certiorari and mandamus)

✅​Supplementary Affidavit:
​রুল শুনানির সময়, আইনজীবী ০১/০৩/২০২৬ তারিখে একটি সম্পূরক হলফনামা (Supplementary Affidavit) আদালতে দাখিল করেন। এই হলফনামার মাধ্যমে বিএমডিএ-এর একটি চরম বৈষম্যের চিত্র আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। দেখানো হয় যে, বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে একই সমপদস্থ ('নকশাকার') একজন কর্মচারী, জনাব মো: আব্দুল লতিফ সরকারকে ১৯৯৭ সালের ২১শে অক্টোবরের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ১০-তম গ্রেডে উন্নীত করেছিল এবং তিনি সেই অনুযায়ী বেতন পাচ্ছিলেন।

✅রিট পিটিশনারগনের আইনজীবীর বক্তব্য (Submissions of the Petitioners' Advocate)
​আবেদনকারীদের পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী আইনি যুক্তিসমূহ উপস্থাপন করেন:
🔴​প্রথমত, নকশাকার' পদটি সম্পূর্ণভাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সমতুল্য, যারা সরকারের সর্বত্র ১০-তম গ্রেডের বেতন স্কেল ভোগ করছেন। একই পদে থাকা সত্ত্বেও অন্যদের উন্নীত করে আবেদনকারীদের ১১-তম গ্রেডে রেখে দেওয়া সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। এটি স্পষ্টতই Hostile Discrimination।

🔴দ্বিতীয়ত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিএমডিএ-এর এই দীর্ঘমেয়াদী নিষ্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ বেআইনি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (mala fide) এবং স্বেচ্ছাচারী, যা বাতিলযোগ্য।

✅বিবাদীর আইনজীবীর বক্তব্য (Submissions of the Respondents' Advocate)
​আইনি লড়াইয়ের ময়দানে প্রতিপক্ষের (বিবাদী) আত্মপক্ষ সমর্থন বা ডিফেন্স বলতে কিছুই ছিল না। যদিও বিবাদী পক্ষে একঝাঁক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী—যার মধ্যে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (D.A.G) জনাব মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি এবং জনাব মো: রাশেদুল হাসানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন—কিন্তু চূড়ান্ত শুনানির সময় বিবাদী পক্ষের কোনো আইনজীবীই রুলের বিরোধিতা করতে বা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে আদালতে দাঁড়াননি।

✅আদালতের পর্যবেক্ষণ (Judicial Observation)
​মাননীয় বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি ঊর্মি রহমান-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মামলার সমস্ত সংযুক্তিসমূহ (Annexures-B, C, and II) গভীরভাবে পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:

🔴​আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, যেহেতু অন্যান্য সরকারি দপ্তর সমমানের পদে ১০-তম গ্রেড দিয়েছে, তাই বিএমডিএ-তে কর্মরত এই আবেদনকারীদেরও সমমর্যাদা পাওয়ার একটি 'Legitimate Expectation' তৈরি হয়েছে।

🔴​এই প্রত্যাশা কেবল কোনো সাধারণ চাওয়া নয়, এটি সংবিধানে বর্ণিত সমতার অধিকারের অংশ।

🔴আদালত এই ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের একটি বিখ্যাত নজির বা প্রিসিডেন্ট ব্যবহার করেন—Government of Bangladesh Vs. M. Shamsul Huq, 59 DLR (AD) 54। উক্ত মামলায় আপিল বিভাগ স্পষ্ট রায় দিয়েছিলেন যে, সমপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য করা যাবে না এবং সমাবস্থায় থাকা কর্মচারীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমান হতে হবে।

🔴​আদালত অত্যন্ত শক্ত ভাষায় পর্যবেক্ষণ করেন যে, বিএমডিএ যেহেতু ইতিপূর্বে একই পদের একজন কর্মচারীকে (মো: আব্দুল লতিফ সরকার) ১০-তম গ্রেড দিয়েছে, তাই তারা আইনিভাবে বাধ্য অন্য সবার ক্ষেত্রেও তা প্রয়োগ করতে। কর্তৃপক্ষ নিজের ইচ্ছেমতো "পছন্দ ও বর্জন" (Pick and Choose) নীতি খাটিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করতে পারে না।

✅​রায় ও চূড়ান্ত আদেশ (Judgment & Final Order)
​আবেদনকারীদের রিট আবেদনের সম্পূর্ণ যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়ে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ পূর্বের জারি করা রুলটিকে চূড়ান্ত (Absolute) ঘোষণা করেন।
​আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা:

🔴রিট পিটিশনারদের বেতন স্কেল গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০-এ উন্নীত না করার বিষয়ে বিএমডিএ (BMDA) কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে/inaction declared illegal without lawful authority :

🔴রিট পিটিশনারদেন বেতন স্কেল গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০-এ উন্নীতকরণের প্রস্তাব ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করার নির্দেশনা (Direction) প্রদান করা হয়।

তথ্য: রিট পিটিশন ১৪০৩৯/২০১৮ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত। আপিল সংক্রান্ত তথ্য নেই।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।

মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

#আইনি_পরামর্শ,
ালত, ,

Address

Topkhana Road
Dhaka
1100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lexzone Law Chambers posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share