Lexzone Law Chambers

Lexzone Law Chambers Lexzone Law Chambers is a premier and innovative law firm that tackles all your legal challenges. Lexzone advises on all aspects of employment and labour laws.

Lexzone Law Chambers provides comprehensive legal services encompassing all aspects of employment and labour laws in Bangladesh. We have assisted clients various clients and businesses in the following areas:
• Employment claims.
• Termination of employment contracts and severance.
• Dismissed from service.
• Disputes between employee and employer.
• cancellation of time scale and other service be

nefits.
• Drafting of employment contracts and compliance with obligatory employment law.
• Review of terms of employment.
• Confidentiality Agreements.
• Non-disclosure agreements.
• Industrial and labour issues related to gratuity, Provident fund etc.
• Collective redundancies

If you are looking for any legal help related to the Labour and Employment Laws of Bangladesh then just Don’t hesitate to contact us, we will give any type of legal support relating to employment and labour laws.

07/06/2026

পাশের জমি দখল প্রতিদিনের ঘটনা। দখল ও বেদখলের ঘটনা নিয়ে যত মামলা। একই দাগের বা জোতের জমি হলে বাটোয়ারা (বণ্টন) মামলা ছাড়া বুঝি সুনির্দিষ্ট দখল উদ্ধার করা সম্ভব নয়! এই আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় সহ-শরিকরা প্রবাসীদের বা দুর্বল পক্ষের চিহ্নিত জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সম্প্রতি একটি রায় প্রদান করেছেন।

বুলবুল আহমেদ বনাম মোঃ আলী হোসেন এবং অন্যান্য মামলার রায় আজ আলোচনা করবো। আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈রায়ের তারিখ: ২৬/০২/২০২৬
♈মাননীয় বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান

✅মামলার ঘটনা (Fact of the Case): মামলার মূল সম্পত্তিসহ মোট ৯১ শতাংশ জমির আদি স্বত্বাধিকারী ছিলেন ৩ নং বিবাদী শামসী আরা বেগম, যা তিনি ২৯/০৬/১৯৯৭ তারিখে একটি বিনিময় দলিলের (দলিল নং ৫৫৬৭) মাধ্যমে প্রাপ্ত হন।

🔴৩ নং বিবাদী, শামসী আরা বেগম পরবর্তীতে ১৮/০২/২০০২ তারিখে একটি রেজিস্ট্রি বিনিময় দলিলের (দলিল নং ১৬৩২) মাধ্যমে বাদী, মোঃ আলী হোসেনের কাছে ১টি দ্বিতল ভবনসহ ১০ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। বাদী, মোঃ আলী হোসেন (যিনি একজন প্রবাসী) উক্ত জমিতে আধাপাকা ঘর নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর দিয়ে শান্তিপূৰ্ণভাবে ভোগদখল করতে থাকেন।

🔴৩ নং বিবাদী, শামসী আরা বেগম ২৯/০৬/২০০২ তারিখে ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিনকে ৬ শতাংশ জমি হেবা-বিল-এওয়াজ মূলে দান করেন। উক্ত ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিন আবার ১৮/০৭/২০০৬ তারিখে দক্ষিণ দিক থেকে ৪ শতাংশ জমি ১ নং বিবাদী, বাবুল আহমেদের কাছে বিক্রি করেন। বাদী, মোঃ আলী হোসেনের জমি এবং ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদের ক্রয়কৃত জমির মাঝে ২ শতাংশ জমি অবশিষ্ট ছিল।

✅মামলার কারণ (Cause of Action): বাদী, মোঃ আলী হোসেন প্রবাসে থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে জানতে পারেন যে ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিন তাঁর দক্ষিণ সীমানা ঘেঁষে প্রাচীর নির্মাণ করে জমি দখল করেছেন। বাদী, মোঃ আলী হোসেন দেশে ফিরে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে নিজস্ব উদ্যোগে উক্ত অবৈধ প্রাচীরটি সরিয়ে ফেলেন।

🔴এর জের ধরে ০৫/০২/২০০৭ তারিখে ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদ, ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিনের সহায়তায় বাদী, মোঃ আলী হোসেনের সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দির ১০ শতাংশ জমির মধ্যে দক্ষিণ দিক থেকে ২ শতাংশ জমি জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণ করে বেদখল করেন। এই ২ শতাংশ জমিই মামলার নালিশী সম্পত্তি।

✅মামলা দায়ের (Institution of the Suit): বাদী, মোঃ আলী হোসেন ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের ভালুকার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদ এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে "অন্যান্য শ্রেণী মামলা নং ১৩/২০০৭" দায়ের করেন। মামলাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮ ধারার অধীনে "স্বত্ব ঘোষণা ও খাস দখল উদ্ধারের" প্রতিকার চেয়ে মূল্যনুপাতিক (ad valorem) কোর্ট ফি প্রদানপূর্বক দায়ের করা হয়।

✅বাদী পক্ষের মূল বক্তব্য/আরজি (Plaintiff’s Case): বাদী, মোঃ আলী হোসেন নালিশী জমির সুনির্দিষ্ট চতুর্দিকস্থ চৌহদ্দি (উত্তরে, পূর্বে, দক্ষিণে ও পশ্চিমে কে কে আছেন) আরজিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন.

🔴বাদী, মোঃ আলী হোসেনের দাবি, তিনি বৈধ দলিলের মাধ্যমে এবং বিবাদীদের দলিলের অনেক পূর্বে জমি ক্রয় করে সুনির্দিষ্ট দখলে ছিলেন এবং বিবাদীগণ তাঁকে বেআইনিভাবে ০৫/০২/২০০৭ তারিখে বেদখল করেছেন।

🔴বিবাদীর মূল জবাব/বক্তব্য (Defendant’s Case): ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদ লিখিত জবাবের মাধ্যমে দাবি করেন যে, তিনি ১৮/০৭/২০০৬ তারিখে ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিনের কাছ থেকে ৪ শতাংশ জমি কিনে ২৫.০৭.২০০৬ তারিখেই দখল নিয়েছেন। তিনি কোনো বেদখলের ঘটনা ঘটাননি।

🔴১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদের দাবি—বাদী, মোঃ আলী হোসেন এবং তিনি একই মূল বিক্রেতার কাছ থেকে জমি কেনায় তাঁরা সহ-শরিক, তাই বাটোয়ারা (বণ্টন) মামলা ছাড়া এই খাস দখল উদ্ধারের মামলা রক্ষণীয় নয়।

✅নিম্ন আদালতের (বিচারিক আদালত) রায়:
ভালুকার সিনিয়র সহকারী জজ আদালত উভয় পক্ষের নথিপত্র এবং বাদী, মোঃ আলী হোসেনের পক্ষে ৩ জন সাক্ষী (PW) ও বিবাদী পক্ষের ৫ জন সাক্ষী (DW) পরীক্ষা করেন;

🔴আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে বাদী, মোঃ আলী হোসেনের পক্ষে স্বত্ব ও বেদখলের বিষয়টি প্রমাণিত পাওয়ায় ২৭/০৪/২০১১ তারিখে বাদীর অনুকূলে মামলাটি ডিক্রি ঘোষণা করেন।

🔴আপিল দায়ের ও আপিলের রায়৷ বিচারিক আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদ ময়মনসিংহের জেলা জজ আদালতে "অন্যান্য আপিল নং ১৭৫/২০১১" দায়ের করেন. পরবর্তীতে মামলাটি ২য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে শুনানির জন্য স্থানান্তরিত হয়।

✅আপিল আদালতের রায়:
২য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত উভয় পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্বিবেচনা করে বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আইনগত ভুল না পাওয়ায় ১১/০৩/২০১৫ তারিখে আপিলটি খারিজ (Dismiss) করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

✅হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের: নিম্ন আপিল আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে বিবাদী-পিটিশনার, বুলবুল আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী রিভিশন নং ১৩৮২/২০১৫ দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানিতে অধস্তন আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ ও পক্ষদ্বয়কে স্থিতাবস্থা (Status-quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে রুল ইস্যু করেন।

✅রিভিশন শুনানিতে বিবাদী (পিটিশনার) পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য: বিজ্ঞ আইনজীবী মিঃ খায়ের এজাজ মাসুদ যুক্তি দেখান যে, অধস্তন আদালতসমূহ মৌখিক সাক্ষ্য এবং আরজির বিষয়বস্তু সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়ে আইনের ভুল করেছেন।

🔴স্বীকাৰ্যভাবেই যেহেতু উভয় পক্ষ একই জোতের সহ-শরিক, তাই বাটোয়ারা (Partition) মামলা ছাড়া শুধু দখল উদ্ধারের মামলা আইনের দৃষ্টিতে রক্ষণীয় নয়. (সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি অপ্রকাশিত সিদ্ধান্ত—‘নোয়াব আলী বেপারী বনাম হাচানেরজামান’ মামলার নজির উল্লেখ করেন)।

🔴তিনি দাবি করেন, ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদ ২০০৬ সাল থেকেই দখলে আছেন এবং পৌরসভা কর ও ইউটিলিটি বিল দিচ্ছেন, তাই ২০০৭ সালের বেদখলের কাহিনী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক।

✅রিভিশন শুনানিতে বাদী (প্রতিপক্ষ) পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য: বিজ্ঞ আইনজীবী মিঃ মোঃ হামিদুর রহমান যুক্তি দেন যে, এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারার অধীনে স্বত্বসহ দখল উদ্ধারের মামলা। বাদী, মোঃ আলী হোসেন সফলভাবে তাঁর পূর্ববর্তী স্বত্ব এবং সুনির্দিষ্ট সীমানা থেকে বেদখল হওয়ার তারিখ প্রমাণ করেছেন।

🔴সহ-শরিক হলেও, যদি কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট বাউন্ডারি দ্বারা চিহ্নিত সুনির্দিষ্ট দখলীয় অংশ থেকে বেদখল হন, তবে বাটোয়ারা মামলা ছাড়াই দখল উদ্ধারের মামলা রক্ষণীয়।
তিনি ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদের জেরা উল্লেখ করে দেখান যে, বিবাদী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর বিক্রেতা ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিনের নালিশী জোতে বর্তমানে কোনো দখল নেই এবং বাদী, মোঃ আলী হোসেনের দখল সেখানে সুনির্দিষ্ট ছিল।

✅উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ (Court’s Observation):
মাননীয় বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান মামলাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত আইনি সিদ্ধান্তে উপনীত হন:

🔴আরজির ভাষা, সাক্ষ্য এবং কোর্ট ফি অনুযায়ী মামলাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার নয়, বরং ৮ ধারার অধীনে দায়েরকৃত একটি পূর্ণাঙ্গ স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধারের মামলা।

🔴সাধারণ নিয়মে সহ-শরিকদের মধ্যে বিরোধে বাটোয়ারা মামলা করতে হয়. কিন্তু প্রতিষ্ঠিত আইনি ব্যতিক্রম হলো—যদি কোনো সহ-শরিক একটি সুনির্দিষ্ট সীমানাবদ্ধ জমিতে শান্তিপূৰ্ণ দখলে থাকার পর অন্য কারও দ্বারা বেদখল হন, তবে তিনি বাটোয়ারা ছাড়াই সরাসরি ৮ ধারায় স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধারের মামলা করতে পারেন।

🔴বিবাদীর উল্লেখ করা নজিরটি এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় কারণ সেখানে বাদীদের একচ্ছত্র দখল ছিল না (যৌথ গঠনমূলক দখল ছিল), যা বর্তমান মামলায় বাদী, মোঃ আলী হোসেনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও একচ্ছত্র প্রমাণিত।

🔴বাদী, মোঃ আলী হোসেনের দলিলটি বিবাদীদের দলিলের চেয়ে অগ্রবর্তী এবং ১ নং বিবাদী, বুলবুল আহমেদ বাদী, মোঃ আলী হোসেনের ১০ শতাংশ জমির স্বত্ব অস্বীকার করেননি. বিবাদী নিজেই জেরায় স্বীকার করেছেন যে ২ নং বিবাদী, সালাহ উদ্দিনের উক্ত জোতে কোনো দখল নেই। বিবাদীর অবস্থান পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর।

🔴বিচারিক আদালত এবং নিম্ন আপিল আদালত (যা তথ্যের চূড়ান্ত আদালত বা Final Court of Facts) উভয়ই সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিন্ন সিদ্ধান্ত (Concurrent Findings) দিয়েছেন. নথিতে সাক্ষ্যের কোনো মারাত্মক অপব্যাখ্যা বা আইনগত ভুল না থাকলে রিভিশনাল আদালতে এই সমসাময়িক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। বাদী, মোঃ আলী হোসেনের জবানবন্দিতে সামান্য অসঙ্গতি থাকলেও তা মামলার মূল গুণাগুণকে প্রভাবিত করে না।

✅আদালতের চূড়ান্ত রায় (Final Judgment): মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ সামগ্রিক তথ্যাদি ও আইনি নীতি পর্যালোচনান্তে সিদ্ধান্ত নেন যে, অধস্তন আদালতসমূহের রায়ে কোনো আইনগত ত্রুটি নেই এবং এতে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো উপাদান বিদ্যমান নেই।

🔴বিবাদী-পিটিশনার, বুলবুল আহমেদের দায়েরকৃত দেওয়ানী রিভিশন মামলাটি খারিজ করা হলো / Rule is discharged.

🔴অধস্তন আদালতসমূহ কর্তৃক প্রদত্ত রায় ও ডিক্রি (বাদী, মোঃ আলী হোসেনের পক্ষে খাস দখল ও স্বত্ব) বহাল রইল।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।

মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

#আইনি_পরামর্শ,
ালত, ,

04/06/2026

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর যৌতুক মামলা! স্বামী খালাস! আদালতে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে মিথ্যা যৌতুক মামলা। নারী ও নির্যাতন দমন আইনকে স্বামীকে "দমনের" হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু সম্মানিত স্ত্রীরা যা হিতে বিপরীত হচ্ছে। এই সংক্রান্ত একটি সাজার বিরুদ্ধে আপিলের রায় আলোচনা করবো, আইনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী সহ সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতনতার জন্য আলোচনা করবো।

✅Facts of the case:
নালিশি এজাহার অনুযায়ী, মামলার মূল ভুক্তভোগী মাহমুদা ফারজানা (পি.ডব্লিউ. ২)-এর সাথে অভিযুক্ত মো. জাকিরুল কায়েস @ শোয়েবের বিয়ে হয় ০২.১১.২০০৭ তারিখে। ঘটনার দিন (অভিযোগ অনুযায়ী ১১.১২.২০০৭ অথবা ৩০.১২.২০০৭ তারিখে) রাত আনুমানিক ১০:০০ টায় অভিযুক্ত স্বামী জাকিরুল ভুক্তভোগীর কাছে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক দাবি করেন। ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকার করায় অন্য অভিযুক্ত মুন্নি বেগম তাঁর চুল ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং স্বামী জাকিরুল তাঁকে হাত-পা দিয়ে মারধর করেন এবং পা দিয়ে গলা চেপে ধরে শারীরিক জখম করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

✅ filling of the Case:
ভুক্তভোগীর মাতা নূরজাহান বেগম (পি.ডব্লিউ. ১) বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ২-এ একটি সিআর (CR) নালিশি মামলা দায়ের করেন।

🔴বিজ্ঞ বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার অধীনে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি এফআইআর (FIR) হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে, ০৬.০১.২০০৮ তারিখে পাকুন্দিয়া থানার মামলা নং ১ (জি.আর. নং ১৩(২)/২০০৮) রুজু হয়।

✅ Investigation: মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মজিবুর রহমান (পি.ডব্লিউ. ১১) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সূচকসহ খসড়া মানচিত্র (স্কেচ ম্যাপ) প্রস্তুত করেন এবং ভুক্তভোগীর আঘাতের সনদ (Injury Certificate) সংগ্রহ করেন।

🔴তদন্ত শেষে তিনি আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(গ) ধারায় (সাধারণ জখমের জন্য যৌতুক দাবি) আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

🔴তবে বাদীপক্ষ এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে একটি 'নারাজি পিটিশন' দাখিল করে গুরুতর জখমের ধারা অর্থাৎ ১১(ক) ধারায় মামলাটি আমলে নেওয়ার আবেদন জানায়। বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল বাদীর নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং ১১(ক) ধারায় অপরাধ আমলে নেন।

✅চার্জ ফ্রেম ও বিচার শুরু (Framing of Charge & Commencement of Trial):

🔴বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, কিশোরগঞ্জ, আপিলকারী-আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক) ধারারঅধীনে কঠোর আইনি বিধি মেনে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

🔴আসামিকে চার্জ পড়ে শোনানো এবং বুঝিয়ে দেওয়া হলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং বিচার প্রার্থনা করেন। এর মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

✅সাক্ষী (Witnesses)
রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য সর্বমোট ১২ (বারো) জন সাক্ষী** আদালতে উপস্থাপন করে।

🔴পি.ডব্লিউ. ১ (বাদী/মাতা): ঘটনার পরোক্ষ বিবরণ দেন।
পি.ডব্লিউ. ২ (ভুক্তভোগী): ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ এবং যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন।
পি.ডব্লিউ. ৩ থেকে পি.ডব্লিউ. ১০: এরা প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন, যাঁরা মূলত লোকমুখে বা বাদীর কাছে শুনেছেন এমন সাক্ষ্য (Hearsay Evidence) দেন।

🔴পি.ডব্লিউ. ১১: তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)।
পি.ডব্লিউ. ১২: ভুক্তভোগীর পরীক্ষাকারী চিকিৎসক (ডা. মো. শফিউল আলম)।

🔴আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাফাই সাক্ষী (Defense Witness) দেওয়া হয়নি।

✅সাজা (Conviction and Sentence)
বিচার শেষে, কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ২, গত ০৪/০৭/২০২২ তারিখের রায় ও আদেশের মাধ্যমে আসামিকে মূল অভিযোগের ধারা অর্থাৎ ১১(ক) থেকে খালাস দিলেও, ১১(গ) ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেন। ট্রাইব্যুনাল আসামিকে ১ (এক) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

✅আপিল দায়ের (Filing of Appeal)
ট্রাইব্যুনালের উক্ত সাজা ও দণ্ডাদেশের রায়ে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে আসামি পক্ষ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন, যা ফৌজদারি আপিল নং ৭১৬৭/২০২২ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

✅আইনজীবীর বক্তব্য (Submission of the Defense Advocate) আপিলকারীর বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী যুক্তি দেখান যে:

🔴ট্রাইব্যুনালের রায়টি আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ কারণ বিজ্ঞ বিচারক আসামিপক্ষের যুক্তি ও আত্মপক্ষ সমর্থন বিবেচনা করেননি।
🔴ভুক্তভোগী (পি.ডব্লিউ. ২) ছাড়া বাকি সব সাক্ষীই হলেন 'পরোক্ষ বা শোনা কথার সাক্ষী' (Hearsay Witnesses) এবং তাদের বক্তব্যে তীব্র বৈপরীত্য রয়েছে।

🔴সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডা. শফিউল আলম (পি.ডব্লিউ. ১২) কর্তৃক প্রদত্ত ইনজুরি সার্টিফিকেটটি একটি সাধারণ সাদা কাগজে লেখা, যাতে রোগীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বেড নম্বর বা সনাক্তকারী ব্যক্তির নাম নেই।

🔴এমনকি নারী ভুক্তভোগীকে 'পুরুষ ওয়ার্ডে' ভর্তি দেখানো হয়েছে। সুতরাং, এই চিকিৎসার কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং আসামি খালাস পাওয়ার যোগ্য।

✅সরকার পক্ষের বক্তব্য (Submission of the State/Prosecution) রাষ্ট্রপক্ষে বিজ্ঞ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আপিলের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে,

🔴ভুক্তভোগীর (পি.ডব্লিউ. ২) নিজস্ব জবানবন্দি অত্যন্ত জোরালো এবং তা চিকিৎসকের (পি.ডব্লিউ. ১২) মৌখিক সাক্ষ্য ও আঘাতের বিবরণ দ্বারা সমর্থিত। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে আসামির বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে, তাই ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বহাল রাখা উচিত।

✅আদালতের Observation:
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ মামলার নথিপত্র এবং চিকিৎসকের জেরা পর্যালোচনা করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইনি পর্যবেক্ষণ (Legal Observations) প্রদান করেছেন:

🔴পি.ডব্লিউ. ১২ (চিকিৎসক) জেরার মুখে স্বীকার করেছেন যে, ইনজুরি রিপোর্টটি কোনো অফিশিয়াল ফরমেটে নয়, বরং সাধারণ সাদা কাগজে দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো রোগীর আইডি বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই এবং ভুক্তভোগীকে অবাস্তবভাবে "Male Ward" বা পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি দেখানো হয়েছে।

🔴আদালত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই ত্রুটিপূর্ণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টের কারণে চিকিৎসকের সনদের কোনো আইনগত বা সাক্ষ্যগত মূল্য (Evidential Value) নেই। একজন সরকারি চিকিৎসক হিসেবে তিনি 'মেডিকেল এথিক্স' ও দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে পেশাগত অসদাচরণ করেছেন।

🔴ভুক্তভোগী ছাড়া ১ থেকে ১০ নম্বর সাক্ষীদের প্রায় সবাই পরোক্ষ সাক্ষী, যাঁরা ঘটনা স্বচক্ষে দেখেননি এবং তাদের ঘটনার তারিখ ও বিবরণে গরমিল (Contradiction) রয়েছে।

🔴রাষ্ট্রপক্ষ এটি প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে যে ভুক্তভোগী আসলেই সরকার অনুমোদিত কোনো হাসপাতালে সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফলে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩২ ধারার শর্তানুযায়ী, ১১(গ) ধারার অধীনে এই সাজা বহাল রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত বাধা রয়েছে।

🔴নিম্ন আদালতের বিচারক নিরপেক্ষভাবে সাক্ষ্য বিশ্লেষণ না করে শুরুতেই আসামিকে অপরাধী ধরে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে নিজের সেই ধারণাকে সত্য প্রমাণ করার জন্য আইনি যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করেছেন, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী (Miscarriage of Justice)।

✅রায় (Judgment): মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের ত্রুটিপূর্ণ রায়টিকে আইনগতভাবে টিকিয়ে রাখার অযোগ্য বলে গণ্য করেন!

🔴ফৌজদারি আপিলটি মঞ্জুর (Allowed) করা হলো।

🔴কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ২ কর্তৃক প্রদত্ত ০৪/০৭/২০২২ তারিখের সাজা ও দণ্ডাদেশের রায়টি সম্পূর্ণ বাতিল (Set aside) করা হলো।

🔴অভিযুক্ত-আপিলকারীকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস (Acquitted) দেওয়া হলো এবং জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

"অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সাজা না দেওয়ার" একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। রাষ্ট্রপক্ষ যখন কোনো মামলার ভিত্তি কেবল একজন সাক্ষীর ওপর নির্ভর করে সাজাতে যায় এবং তদন্তে ও মেডিকেল সার্টিফিকেটে এরকম মারাত্মক পদ্ধতিগত ভুল (Procedural Flaws) থাকে, তখন আসামির "Benefit of Doubt" বা "সন্দেহের সুবিধা" পাওয়ার আইনি অধিকার তৈরি হয়। হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের আবেগের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া রায়টিকে আইনের কঠোর কষ্টিপাথরে যাচাই করে সঠিক ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করবে।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।
মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

#যৌতুক_মামলা, #হাইকোর্টের_রায়, #স্বামী_খালাস, #আইনি_পরামর্শ, ালত, ,

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর যৌতুক মামলা!  স্বামী খালাস! আদালতে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে মিথ্যা যৌতুক মামলা।  নারী ও নির্যাতন দমন আ...
03/06/2026

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর যৌতুক মামলা! স্বামী খালাস! আদালতে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে মিথ্যা যৌতুক মামলা। নারী ও নির্যাতন দমন আইনকে স্বামীকে "দমনের" হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু সম্মানিত স্ত্রীরা যা হিতে বিপরীত হচ্ছে। এই সংক্রান্ত একটি সাজার বিরুদ্ধে আপিলের রায় আলোচনা করবো, আইনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী সহ সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতনতার জন্য আলোচনা করবো।

♈​মো. জাকিরুল কায়েস @ শোয়েব-বনাম- রাষ্ট্র
♈​রায় ঘোষণার তারিখ: ১২.০৩.২০২৬

✅Facts of the case:
নালিশি এজাহার অনুযায়ী, মামলার মূল ভুক্তভোগী মাহমুদা ফারজানা (পি.ডব্লিউ. ২)-এর সাথে অভিযুক্ত মো. জাকিরুল কায়েস @ শোয়েবের বিয়ে হয় ০২.১১.২০০৭ তারিখে। ঘটনার দিন (অভিযোগ অনুযায়ী ১১.১২.২০০৭ অথবা ৩০.১২.২০০৭ তারিখে) রাত আনুমানিক ১০:০০ টায় অভিযুক্ত স্বামী জাকিরুল ভুক্তভোগীর কাছে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক দাবি করেন। ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকার করায় অন্য অভিযুক্ত মুন্নি বেগম তাঁর চুল ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং স্বামী জাকিরুল তাঁকে হাত-পা দিয়ে মারধর করেন এবং পা দিয়ে গলা চেপে ধরে শারীরিক জখম করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

✅ filling of the Case:
ভুক্তভোগীর মাতা নূরজাহান বেগম (পি.ডব্লিউ. ১) বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ২-এ একটি সিআর (CR) নালিশি মামলা দায়ের করেন।

🔴বিজ্ঞ বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার অধীনে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি এফআইআর (FIR) হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে, ০৬.০১.২০০৮ তারিখে পাকুন্দিয়া থানার মামলা নং ১ (জি.আর. নং ১৩(২)/২০০৮) রুজু হয়।

✅ Investigation: মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মজিবুর রহমান (পি.ডব্লিউ. ১১) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সূচকসহ খসড়া মানচিত্র (স্কেচ ম্যাপ) প্রস্তুত করেন এবং ভুক্তভোগীর আঘাতের সনদ (Injury Certificate) সংগ্রহ করেন।

🔴তদন্ত শেষে তিনি আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(গ) ধারায় (সাধারণ জখমের জন্য যৌতুক দাবি) আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

🔴তবে বাদীপক্ষ এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে একটি 'নারাজি পিটিশন' দাখিল করে গুরুতর জখমের ধারা অর্থাৎ ১১(ক) ধারায় মামলাটি আমলে নেওয়ার আবেদন জানায়। বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল বাদীর নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং ১১(ক) ধারায় অপরাধ আমলে নেন।

✅চার্জ ফ্রেম ও বিচার শুরু (Framing of Charge & Commencement of Trial):

🔴বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, কিশোরগঞ্জ, আপিলকারী-আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক) ধারারঅধীনে কঠোর আইনি বিধি মেনে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

🔴আসামিকে চার্জ পড়ে শোনানো এবং বুঝিয়ে দেওয়া হলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং বিচার প্রার্থনা করেন। এর মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

✅সাক্ষী (Witnesses)
রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য সর্বমোট ১২ (বারো) জন সাক্ষী** আদালতে উপস্থাপন করে।

🔴পি.ডব্লিউ. ১ (বাদী/মাতা): ঘটনার পরোক্ষ বিবরণ দেন।
পি.ডব্লিউ. ২ (ভুক্তভোগী): ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ এবং যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন।
পি.ডব্লিউ. ৩ থেকে পি.ডব্লিউ. ১০: এরা প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন, যাঁরা মূলত লোকমুখে বা বাদীর কাছে শুনেছেন এমন সাক্ষ্য (Hearsay Evidence) দেন।

🔴পি.ডব্লিউ. ১১: তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)।
পি.ডব্লিউ. ১২: ভুক্তভোগীর পরীক্ষাকারী চিকিৎসক (ডা. মো. শফিউল আলম)।

🔴আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাফাই সাক্ষী (Defense Witness) দেওয়া হয়নি।

✅সাজা (Conviction and Sentence)
বিচার শেষে, কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ২, গত ০৪/০৭/২০২২ তারিখের রায় ও আদেশের মাধ্যমে আসামিকে মূল অভিযোগের ধারা অর্থাৎ ১১(ক) থেকে খালাস দিলেও, ১১(গ) ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেন। ট্রাইব্যুনাল আসামিকে ১ (এক) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

✅আপিল দায়ের (Filing of Appeal)
ট্রাইব্যুনালের উক্ত সাজা ও দণ্ডাদেশের রায়ে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে আসামি পক্ষ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন, যা ফৌজদারি আপিল নং ৭১৬৭/২০২২ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

✅আইনজীবীর বক্তব্য (Submission of the Defense Advocate) আপিলকারীর বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী যুক্তি দেখান যে:

🔴ট্রাইব্যুনালের রায়টি আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ কারণ বিজ্ঞ বিচারক আসামিপক্ষের যুক্তি ও আত্মপক্ষ সমর্থন বিবেচনা করেননি।
🔴ভুক্তভোগী (পি.ডব্লিউ. ২) ছাড়া বাকি সব সাক্ষীই হলেন 'পরোক্ষ বা শোনা কথার সাক্ষী' (Hearsay Witnesses) এবং তাদের বক্তব্যে তীব্র বৈপরীত্য রয়েছে।

🔴সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডা. শফিউল আলম (পি.ডব্লিউ. ১২) কর্তৃক প্রদত্ত ইনজুরি সার্টিফিকেটটি একটি সাধারণ সাদা কাগজে লেখা, যাতে রোগীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বেড নম্বর বা সনাক্তকারী ব্যক্তির নাম নেই।

🔴এমনকি নারী ভুক্তভোগীকে 'পুরুষ ওয়ার্ডে' ভর্তি দেখানো হয়েছে। সুতরাং, এই চিকিৎসার কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং আসামি খালাস পাওয়ার যোগ্য।

✅সরকার পক্ষের বক্তব্য (Submission of the State/Prosecution) রাষ্ট্রপক্ষে বিজ্ঞ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আপিলের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে,

🔴ভুক্তভোগীর (পি.ডব্লিউ. ২) নিজস্ব জবানবন্দি অত্যন্ত জোরালো এবং তা চিকিৎসকের (পি.ডব্লিউ. ১২) মৌখিক সাক্ষ্য ও আঘাতের বিবরণ দ্বারা সমর্থিত। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে আসামির বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে, তাই ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বহাল রাখা উচিত।

✅আদালতের Observation:
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ মামলার নথিপত্র এবং চিকিৎসকের জেরা পর্যালোচনা করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইনি পর্যবেক্ষণ (Legal Observations) প্রদান করেছেন:

🔴পি.ডব্লিউ. ১২ (চিকিৎসক) জেরার মুখে স্বীকার করেছেন যে, ইনজুরি রিপোর্টটি কোনো অফিশিয়াল ফরমেটে নয়, বরং সাধারণ সাদা কাগজে দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো রোগীর আইডি বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই এবং ভুক্তভোগীকে অবাস্তবভাবে "Male Ward" বা পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি দেখানো হয়েছে।

🔴আদালত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই ত্রুটিপূর্ণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টের কারণে চিকিৎসকের সনদের কোনো আইনগত বা সাক্ষ্যগত মূল্য (Evidential Value) নেই। একজন সরকারি চিকিৎসক হিসেবে তিনি 'মেডিকেল এথিক্স' ও দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে পেশাগত অসদাচরণ করেছেন।

🔴ভুক্তভোগী ছাড়া ১ থেকে ১০ নম্বর সাক্ষীদের প্রায় সবাই পরোক্ষ সাক্ষী, যাঁরা ঘটনা স্বচক্ষে দেখেননি এবং তাদের ঘটনার তারিখ ও বিবরণে গরমিল (Contradiction) রয়েছে।

🔴রাষ্ট্রপক্ষ এটি প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে যে ভুক্তভোগী আসলেই সরকার অনুমোদিত কোনো হাসপাতালে সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফলে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩২ ধারার শর্তানুযায়ী, ১১(গ) ধারার অধীনে এই সাজা বহাল রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত বাধা রয়েছে।

🔴নিম্ন আদালতের বিচারক নিরপেক্ষভাবে সাক্ষ্য বিশ্লেষণ না করে শুরুতেই আসামিকে অপরাধী ধরে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে নিজের সেই ধারণাকে সত্য প্রমাণ করার জন্য আইনি যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করেছেন, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী (Miscarriage of Justice)।

✅রায় (Judgment): মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের ত্রুটিপূর্ণ রায়টিকে আইনগতভাবে টিকিয়ে রাখার অযোগ্য বলে গণ্য করেন!

🔴ফৌজদারি আপিলটি মঞ্জুর (Allowed) করা হলো।

🔴কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ২ কর্তৃক প্রদত্ত ০৪/০৭/২০২২ তারিখের সাজা ও দণ্ডাদেশের রায়টি সম্পূর্ণ বাতিল (Set aside) করা হলো।

🔴অভিযুক্ত-আপিলকারীকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস (Acquitted) দেওয়া হলো এবং জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

"অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সাজা না দেওয়ার" একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। রাষ্ট্রপক্ষ যখন কোনো মামলার ভিত্তি কেবল একজন সাক্ষীর ওপর নির্ভর করে সাজাতে যায় এবং তদন্তে ও মেডিকেল সার্টিফিকেটে এরকম মারাত্মক পদ্ধতিগত ভুল (Procedural Flaws) থাকে, তখন আসামির "Benefit of Doubt" বা "সন্দেহের সুবিধা" পাওয়ার আইনি অধিকার তৈরি হয়। হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের আবেগের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া রায়টিকে আইনের কঠোর কষ্টিপাথরে যাচাই করে সঠিক ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করবে।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।

মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

#যৌতুক_মামলা, #হাইকোর্টের_রায়, #স্বামী_খালাস, #আইনি_পরামর্শ, ালত, ,

সড়ক দূর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতিপূরন প্রদানে হাইকোর্টের রায় হয় সাধারন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার স্বপ্নেও চিন্তা করেনা। সড়ক দূর্...
01/06/2026

সড়ক দূর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতিপূরন প্রদানে হাইকোর্টের রায় হয় সাধারন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার স্বপ্নেও চিন্তা করেনা। সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া সুয়োমুটো রুল নং ৪/২০১৮-এর রায় সড়ক দূর্ঘটনায় মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত।

✅চলন্ত বাসের রেষারেষিতে তরুণ মেধাবী ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া সুয়োমুটো রুল নং ৪/২০১৮-এর চূড়ান্ত রায়ে নিয়ে আজকে আলোচনা করবো। যা আইনের ছাত্র, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

🔴সড়ক মানুষের গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম, কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তা যেন এক একটি জীবন্ত জল্লাদখানা হয়ে উঠেছে। ধনকুবের বাস মালিকদের অতিলাভের লোভ আর লাইসেন্সবিহীন অপরিণত চালকদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার বলি হচ্ছে হাজারো তরুণের স্বপ্ন।

🔴তেমনি এক বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে তিতুমীর কলেজে পড়তে এসেছিল পটুয়াখালীর এক অনাথ এতিম তরুণ—রাজীব হোসেন। মা-বাবা মরে যাওয়ার পর দুই ছোট ভাইয়ের পিতা-মাতা দুই-ই ছিল সে। কিন্তু গত ৩রা এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে ঢাকার ব্যস্ত সড়কে দুটি দানবীয় বাসের রেষারেষি মুহূর্তের মধ্যে রাজীবের ডান হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। রক্তাক্ত রাজীব ১৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চিরতরে চোখ বুজে। রাজীবের এই করুণ বিদায় কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং দুটি নাবালক ভাইয়ের বেঁচে থাকার একমাত্র আশার প্রদীপ নিভে যাওয়া। এই ঘটনা পুরো বিবেকবান সমাজকে নাড়া দিয়েছিল এবং মহামান্য আদালতকে বাধ্য করেছিল তার আইনি চাবুক হাতে তুলে নিতে।

♈Judgment on: 20.06. 2019

✅Facts of the Case: ৩রা এপ্রিল, ২০১৮; দুপুর আনুমানিক ১:৩০ থেকে ১:৪৫ মিনিটের মধ্যে, ঢাকা শহরের প্যান্থকুঞ্জ পার্ক এবং সার্ক ফোয়ারার পাশে হোটেল সোনারগাঁও ক্রসিং। সরকারি তিতুমীর কলেজের বি.এ (সম্মান) ২য় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন বিআরটিসি বাসের পিছনের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করছিলেন। ঠিক সেই সময় বিআরটিসি (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৫৭২৮) এবং স্বজন পরিবহন (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯১১৯) এর দুটি বাস যাত্রী তোলার জন্য কারওয়ার বাজার থেকে তীব্র ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতায় (ill competition) লিপ্ত হয়। সোনারগাঁও সিগন্যালে স্বজন পরিবহনের বাসটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে বিআরটিসি বাসের আগে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং বিআরটিসি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে রাজীবের ডান হাতটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়।

🔴তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (DMCH) ভর্তি করা হয়, যেখানে ১৭ই এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনার পর দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকসমূহে (প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ প্রতিদিন) ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের আবশ্যকতা দেখা দেয়।

✅ Suo-Moto Rule: মহামান্য আদালত Suo-Moto Rule ইস্যু করেন:
Rule Nisi the respondents were called upon to show cause as to why a direction should not be given upon the respondents to ensure safety and security of the passengers at large using public transport by controlling the reckless drivers through strict compliance of Traffic Rules and/or to introduce new laws/ rules to prevent recurrence of such horrific incident as has been reported almost in all the national daily newspapers on 04.04.2018 including the Daily Prothom Alo under the photo feature "দুই বাসের রেষারেষি হাত হারালেন কলেজ ছাত্র রাজীব", the Daily Star under the heading "Student loses arms in road mishap" and the Daily Bangladesh Protidin under the heading "ভয়ানক প্রতিযোগিতার খেসারত" and also why a direction should not be issued upon the respondents No. 7 and 8 to pay compensation of Tk. 1,00,00,000/- (one crore) to the unfortunate college student, Rajib Hossain, a student of 2nd year of B.A (Honours) of the Government Titumir College, Mohakhali, Dhaka who lost one of his hand crippling him for good due to reckless driving of two buses owned by the respondents No. 7 and 8 and/or such other or further order or orders passed as to this Court may seem fit and proper.

🔴তদন্ত কমিটির রিপোর্ট: মহামান্য আদালতের নির্দেশে গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি তদন্ত করে জানায় যে, উভয় বাসের চালকের কারোরই ভারী যানবাহন চালানোর বৈধ লাইসেন্স (heavy vehicle driving license) ছিল না, উভয়েরই ছিল হালকা যানের লাইসেন্স এবং চালকদের আয় নির্ধারিত হতো ট্রিপের সংখ্যার ওপর।

✅ Submission of the Advocate: বিজ্ঞ আইনজীবী আদালতে বলেন, রাজীবের মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলার কারণে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড। দুই বাসের মালিকপক্ষ এই দায়ের থেকে কোনোভাবেই মুক্ত হতে পারেন না। তিনি রাজীবের দুই অনাথ নাবালক ভাইয়ের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে এবং সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের কারণে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন জুডিশিয়াল নজির (যেমন: D.K. Basu Case, Rowshan Akter Case) উপস্থাপন করেন

🔴রেসপনডেন্ট নং ৭ (BRTC) এর পক্ষে তাদের আইনজীবী দাবি করেন যে বিআরটিসি একটি অলাভজনক সরকারি সংস্থা। বাসটি ইজারা দেওয়া ছিল না, তবে চালক সংকটের কারণে হালকা লাইসেন্সধারীকে গাড়িটি দিতে হয়েছিল। তাছাড়া স্বজন পরিবহনের বাসটি পিছন থেকে ধাক্কা দেওয়ায় বিআরটিসির কোনো অবহেলা (Contributory negligence) ছিল name এবং বিআরটিসি চিকিৎসার খরচ ও মানবিক সহায়তাও প্রদান করেছে।

🔴রেসপনডেন্ট নং ৮ (স্বজন পরিবহন) এর পক্ষে তাদের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, কোম্পানিটি মূল বাসের মালিক নয়, তারা চুক্তির মাধ্যমে অন্য একজনকে বাসটি চালাতে দিয়েছিল। চালকের সাথে কোম্পানির সরাসরি কোনো 'Master and Servant' (মনিব ও ভৃত্য) সম্পর্ক ছিল না, তাই কোম্পানির কোনো 'Vicarious Liability' (প্রতিনিধিত্বমূলক দায়) নেই।

✅ observations of the Court: মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিবাদীপক্ষের সমস্ত খোঁড়া যুক্তি খণ্ডন করে কিছু অত্যন্ত কঠোর ও সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণ দেন:

🔴স্বজন পরিবহন রুট পারমিট নিজেদের নামে নিয়ে নিজেদের ব্যানারে বাস চালাচ্ছে। তারা চুক্তি দেখিয়ে দায় এড়াতে পারে না। সাধারণ মানুষের কাছে বাসের গায়ে লেখা নামটিই আসল এবং চালক সেই কোম্পানির নিয়ন্ত্রণেই কাজ করে। অতএব, উভয় বাস কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে দায়ী (jointly and severally liable)।

🔴অব্যবস্থাপনা বিআরটিসি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও ভারী লাইসেন্সবিহীন চালককে ডাবল ডেকার বাস চালাতে দেওয়া একটি চরম অপরাধ ও অব্যবস্থাপনা (mismanagement)।

🔴আদালত বলেন, কোনো মানুষের জীবন বা অঙ্গহানির ক্ষতি অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। কিন্তু যখন একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে যায়, তখন তার শোকার্ত পরিবারের "ক্ষতে মলম লাগানোর" (apply balm to the wounds) একমাত্র কার্যকর উপায় হলো আর্থিক ক্ষতিপূরণ (monetary compensation)।

✅ Judgment and Directions):

🔴Rule was made Absolute
রেসপনডেন্ট নং ৭ (বিআরটিসি) এবং রেসপনডেন্ট নং ৮ (স্বজন পরিবহন) যৌথ ও সমানভাবে মোট ৫০,০০,০০০.০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে মৃত রাজীবের দুই নাবালক ভাইকে প্রদান করবে।

🔴রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ২ মাসের মধ্যে প্রত্যেক কোম্পানি ২৫ লক্ষ টাকা করে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। স্বজন পরিবহনের পরিচালকেরা যৌথভাবে ও পৃথকভাবে এই দায়ের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন।

🔴 Immediate Directions: চলন্ত অবস্থায় সমস্ত পাবলিক বাসের দরজা আবশ্যিকভাবে বন্ধ রাখতে হবে এবং কেবল নির্ধারিত স্টপেই তা খোলা যাবে।
চালকদের জন্য সড়কে আকস্মিক ডোপ টেস্টের (random dope test) ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে শব্দ দূষণ রোধ করতে হবে।

🔴বাসের রেষারেষি বন্ধ করতে সমস্ত রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি সিস্টেমের (franchise system) অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং বাসের জন্য ইউনিক কালার কোড নির্ধারণ করতে হবে।
🔴চালকদের ট্রিপ ভিত্তিক বা দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে; তাদের মাসিক নির্দিষ্ট বেতনের (monthly salary) আওতায় আনতে হবে।

🔴সড়ক তদারকির জন্য প্রধান সড়ক ও কৌশলগত স্থানগুলোতে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে

✅ Legal Analysis: আদালত এই মামলায় সাংবিধানিক অধিকার এবং প্রচলিত আইনের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন:

🔴নাগরিকদের জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তার অধিকার (Right to life) একটি মৌলিক অধিকার। গণপরিবহনে চরম অবহেলার কারণে রাজীবের জীবন কেড়ে নেওয়া অনুচ্ছেদ ৩২ ও ২১-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

🔴এই অনুচ্ছেদের অধীনে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে যে, রাষ্ট্র বা কোনো সংস্থা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণ (monetary compensation) দিতে পারেন।

🔴আদালত ভারতের বিখ্যাত D.K. Basu Vs. State এবং বাংলাদেশের Bangladesh Beverage Industries Ltd. Vs. Rowshan Akter মামলার নজির টেনে বলেন যে, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের কোনো গাণিতিক 'straight jacket formula' বা নির্দিষ্ট পরিমাপের নিয়ম নেই, এটি ভুক্তভোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী এককালীন (lump sum) হতে হবে।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিয়া
লেক্সজোন ল' চেম্বারস
(অ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার ও লিগ্যাল কনসালটেন্টস)
ঠিকানা: রুম নং ৪০৮ এ, ৪র্থ তলা, বাংলাদেশ শিশু কল্যান পরিষদ ভবন, তোপখানা, ঢাকা (মেট্রোরেল সচিবালয় স্টেশন এর উত্তর পাশে)।
মোবাইল: 01841700461, 01724700461
Email: [email protected]
www.Lexzonelawchambers.com

#আইনি_পরামর্শ
©2026Adv Adv Monirul Islam Miah

Address

Topkhana Road
Dhaka
1100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lexzone Law Chambers posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share