28/01/2024
অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারক এবং ট্রাইবুনালের প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা:
ক) যদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭(২) ধারা অনুযায়ী কেস ডায়েরিতে উল্লেখিত তথ্যাদির অনুলিপি উপস্থাপন ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে যেকোন হেফাজতে আটকের জন্য প্রার্থনা করে, তাহলে মামলা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত বা ট্রাইবুনাল তার কাছ থেকে জিম্মানামা গ্রহণ করে ১৬৯ ধারা অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিবে।
খ) আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা যদি ইতোমধ্যে হেফাজতে আছে এমন কোন গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে অন্য কোন মামলায় গ্রেফতার দেখাতে চায় সে ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারক বা ট্রাইবুনাল আবেদন না মঞ্জুর করবেন যদি এই মামলার কেস ডায়েরি অনুলিপি সহ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তার সামনে হাজির না করা হয় এবং এই আবেদন সুপ্রতিষ্ঠিত না হয় ও ভিত্তিহীন হয়।
গ) উপরোক্ত শর্ত সাপেক্ষে, মামলার তদন্ত যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আটক করার পরে ১৬৭(২) ধারার বিধান মতে ১৫ দিনের মধ্যে শেষ না হয় এবং মামলাটি কেবল দায়রা আদালত বা ট্রাইবুনালে বিচারযোগ্য হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট এই অভিযুক্ত ব্যক্তি কে ৩৪৪ ধারা অধীনে এক মেয়াদে ১৫ দিনের বেশি নয় এমন সময়ের জন্য রিমান্ডে প্রেরণ করতে পারবেন।
ঘ) ম্যাজিস্ট্রেট যদি ফরওয়ার্ডিং পত্র এবং কেস ডাইরিতে বর্ণিত কারণ গুলো বিবেচনা করে সন্তুষ্ট হন যে অভিযোগ বা তথ্য সুপ্রতিষ্ঠিত এবং হেফাজতে আটক করার মতো কেস ডাইরিতে তথ্যাদি রয়েছে, তাহলে উপযুক্ত এবং যথাযথ বলে বিবেচনা করলে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট তাকে যেকোনো হেফাজতে অধিকতর আটকের জন্য আদেশ দিতে পারেন।
ঙ) যদি পুলিশ ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ পায় যে প্রতিরোধমূলক আটক এ রাখার উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোন ব্যক্তিকে বিচারিক হেফাজতে আটকের আদেশ প্রদান করবেন না।
চ) ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার অধীনে এই ধরনের অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত আদেশ দেওয়ার আগে যেই ম্যাজিস্ট্রেট/ট্রাইব্যুনালের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করা হয়েছে সেই ম্যাজিস্ট্রেট/ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হবে উক্ত শর্তাদি পূরণ হয়েছে কিনা তা যাচাই করা।
ছ) ম্যাজিস্ট্রেটের যদি বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে কাউকে আটক করার আইনগত কর্তৃত্বপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা আইন বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট পেনাল কোড এর ২২০ ধারার অধীনে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
জ) যখনই আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রিমান্ডে নেন, রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা তার দায়িত্ব এবং যদি পুলিশ প্রতিবেদন বা অন্য কোন ভাবে দেখা যায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেছেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট একটি মেডিকেল বোর্ড দ্বারা ভুক্তভোগীকে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ প্রদান করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির দাফন হয়ে থাকলে তিনি মৃতদেহ কবর থেকে তুলে মেডিকেল বোর্ড দ্বারা নতুন মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দিবেন। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টে যদি প্রকাশ পায় যে মৃত্যুর ঘটনাটি নরহত্যা প্রকৃতির, সেক্ষেত্রে তিনি ঐ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ বা ঐ কর্মকর্তার সেই কমান্ডিং কর্মকর্তা যার হেফাজতে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণ করবেন।
ঝ) ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি এমন কোন তথ্য থাকে যে কোন ব্যক্তি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ২ ধারার সংজ্ঞাভুক্ত নির্যাতনের শিকার হয়েছে বা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে নির্যাতনের ঘটনায় আঘাতের বিষয়টি নির্ধারণের জন্য ভুক্তভোগীকে নিকটতম ডাক্তারের কাছে পাঠাবেন এবং মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর কারণ সনাক্ত করার জন্য মেডিকেল বোর্ডের কাছে পাঠাবেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় যদি দেখা যায়, আটককৃত ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হয়েছে বা নির্যাতনের কারণে তিনি মারা গেছেন, সেক্ষেত্রে ঐ আইনের ৪ ও ৫ ধারায় মামলা করার জন্য অপেক্ষা না করে ম্যাজিস্ট্রেট স্বপনোদিত হয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯০(১)(সি) ধারার অধীন অপরাধ বিচার অর্থে আমলে গ্রহণ করবেন এবং আইন অনুযায়ী অগ্রসর হবেন।
বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট, 8 SCOB (AD) (2016) 01.