25/09/2026
সম্মানিত সুধী আসসালামু আলাইকুম আজকে আমরা জানব বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল জামিল মোহাম্মদ আলী, যিনি এজে মোহাম্মদ আলী ( AJ MOHAMMAD ALI) নামে বিশেষভাবে পরিচিত, এর জীবনী কর্ম এবং বিখ্যাত রায় নিয়ে।
আবদুল জামিল মোহাম্মদ আলী ১৯৫১ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বৃহত্তর রাজশাহী জেলার মহকুমা শহর (বর্তমানে জেলা) নওগাঁয় তাঁর মাতামহের বাসস্থান তারাফদারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন, যা বিখ্যাত তারাফদার পরিবারের নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তাঁর বাবা ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি ঢাকার উইল্স লিট্ল ফ্লাওয়ার স্কুলে লেখাপড়া করেন। সপ্তম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেন। কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে ১৯৬৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস করেন। এরপর ১৯৭০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ২০ তম স্থান অধিকার করে স্টার মার্কসহ দুটি লেটার পান। এই ফলাফলের জন্য পরবর্তীতে তিনি মেধা বৃত্তি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক (সম্মান - বিএসএস) এবং ১৯৭৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএসএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর কোর্সের পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ধানমন্ডি ল কলেজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি এমএইচ খন্দকারের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁর আইন পেশা শুরু করেন এবং ১৯৭৮ সালে প্র্যাকটিসের জন্য সনদ লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি দু'বছর প্র্যাকটিস করেন ঢাকা জেলা আদালত, ২-২-১৯৮০ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং তারপর থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে নিয়মিত প্র্যাকটিস করে আসছিলেন; ১০-৩-১৯৮৫ তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সেখানে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
এজে মোহাম্মদ আলী (AJ MOHAMMAD ALI) সাংবিধানিক বিষয়, নির্বাচনী বিষয়, দেওয়ানি, ফৌজদারি, ভ্যাট,কাস্টমস এবং প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত বিষয় এ অসংখ্য মামলা পরিচালনা করেছেন যা পরবর্তীতে অনুসরণের জন্য নজির হিসেবে কাজ করে। তাঁর পরিচালিত রায়গুলোর মাধ্যমেই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আজকে আমরা এজে মোহাম্মদ আলীর বিখ্যাত একটি রায় নিয়ে আলোচনা করব যেই রায়টি রেফারেন্স ভুক্ত হয়েছে :- BLC 30(AD)202
Appellate Division
Civil
Mr. Justice Hasan Foez Siddique, Chief Justice
Mr. Justice Md. Nuruzzaman
Mr. Justice M. Enayetur Rahim
Mr. Justice Md. Ashfaqul Islam
Mr. Justice Md. Abu Zafor Siddique
Mr. Justice Jahangir Hossain
Civil Petition for Leave to Appeal No. 2014 of 2019. CP No. 2013 of 2019.
Jamila Nahar ------- Petitioner (In CP No. 2014/19)
Fawzia Shahed and others ----- Petitioners (In CP No. 2015/19)
-Vs-
Md Atiqur Rahman and others --------- Respondents (In both the cases)
Judgement Date : February 09, 2023
Khair Ezaz Maswood, Senior Advocate (with AM Mahbubuddin, Senior Advocate) instructed by Taufique Hossain, Advocate-on-Record—For Petitioners (In both the cases) AJ Mohammad Ali Senior Advocate with Norul Amin Senior Advocate, Probir Neogi, Senior Advocate and Mehedi Hassan Chowdhury, Senior Advocate instructed by Zainul Abedin, Advocate-on-Record and Nahid Sultana, Advocate-on-Record—For Respondent Nos.1-5 (In both the cases) None represented —For respondent Nos. 6-11(In CP 2014/19) None represented —For respondent Nos. 6-13 (In CP 2015 of 2019)
JUDGMENT
Mr Hasan Foez Siddique CJ: Civil Petition for Leave to Appeal Nos. 2014 of 2019 and 2015 of 2019 have been heard analogously and they are being disposed of by this common judgment.
2. On 11-8-1986, Neamat Ali Sheikh, predecessor-in-interest of the petitioners of Civil Petition for Leave to Appeal No. 2015 of 2019, instituted Title Suit NO. 210 of 1986 (which was renumbered as Title Suit No.95 of 2015) for specific performance of contract, stating, inter alia, that Habibur Rahman, predecessor-in-interest of the respondents, admitted owner of the suit land, received a sum of Taka 3,30,000 (three lac thirty thousand) from Shah Newaz, second son of Neamat Ali for the purpose of his treatment in London. Thereafter, Neamat Ali paid a sum of Taka 2,00,000 to him. On 12-10-1978, defendant Habibur Rahman executed a "bainanama" in favour of the plaintiff fixing consideration of a sum of Taka 7,00,000 of the suit land measuring an area of one bigha of holding No. I, Road No. 135 (old), House No. SE (B)-1 of Gulshan Model Town. That is, defendant No. 1 Habibur Rahman had received a sum of Taka 5,30,000 (five lac thirty thousand) as consideration of the suit land out of the fixed Consideration. The plaintiff, on 12-3-1985, issued a legal notice to the defendants No. 1-6 for getting the sale deed executed and registered but they did not respond. Hence, was the suit.
মূল ঘটনা
১৯৮৬ সালের ১১ আগস্ট নিয়ামত আলী শেখ (মামলাকারীদের পূর্বসূরি) গুলশান মডেল টাউনে অবস্থিত এক বিঘা জমির জন্য "চুক্তি বলবৎকরণ" (specific performance of contract) মামলা দায়ের করেন জমির মালিক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
দাবি ছিল:- হাবিবুর রহমান লন্ডনে চিকিৎসার জন্য নিয়ামত আলীর দ্বিতীয় ছেলে শাহ নেওয়াজের কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন পরে ঢাকায় ফিরে আরও ২ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।
মোট ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে নিয়ে ১২ অক্টোবর ১৯৭৮ তারিখে ৭ লক্ষ টাকা মূল্যে জমি বিক্রির "বায়নানামা" সম্পাদন করে।
১৯৮৫ সালে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়নি।
অন্যদিকে হাবিবুর রহমান (পরে তার উত্তরাধিকারীরা) পাল্টা মামলা করেন নিয়ামত আলীকে ভাড়াটিয়া হিসেবে উচ্ছেদের জন্য।
আদালতের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত
বিচারিক আদালত উভয় মামলা একসাথে শুনে: চুক্তি বলবৎকরণের মামলা খারিজ করে এবং উচ্ছেদের মামলার পক্ষে ডিক্রি দেয়।
হাইকোর্ট বিভাগেও আপিল খারিজ হয়ে যায়, যার ফলে আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন দাখিল করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কারণ:-
আপিল বিভাগ নিম্নলিখিত কারণে পিটিশন খারিজ করে:
১. পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: এজাহারে বলা হয়েছিল টাকা লন্ডনে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু জেরায় সাক্ষী (নিয়ামত আলী নিজে) স্বীকার করেন যে টাকা লন্ডনের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল, প্রকৃত অর্থে হাবিবুর রহমান লন্ডনে গিয়েছিলেন কিনা তাও তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। ডলার বা পাউন্ড স্টার্লিং পেমেন্ট সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও ছিল না।
২. মূল সাক্ষীর অনুপস্থিতি: যিনি প্রকৃতপক্ষে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়, সেই শাহ নেওয়াজকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি।
৩. কার্যকারণের অসঙ্গতি: মামলার কারণ (cause of action) একাধিক তারিখে (১২-১০-১৯৭৮, ১২-১০-১৯৮২, ৫-৮-১৯৮৩, ৪-২-১৯৮৪ এবং ২১-১১-১৯৮৪) উল্লেখ থাকায় আদালত এটিকে "সুইং প্রকৃতির" বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন বাদীর একটি নির্দিষ্ট কার্যকারণে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত ছিল।
৪. প্রস্তুতি ও ইচ্ছার প্রমাণের অভাব: আদালত উল্লেখ করেন, চুক্তি বলবৎকরণের জন্য বাদীকে নির্দিষ্ট তারিখে বাকি মূল্য পরিশোধে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক থাকার এবং বিবাদীর অস্বীকৃতির নির্দিষ্ট তারিখ প্রমাণ করতে হয়— যা এই মামলায় করা হয়নি।
৫. আংশিক সম্পাদনের নীতি: আদালত স্মরণ করিয়ে দেন যে সম্পূর্ণ চুক্তি ছাড়া আংশিক সম্পাদন (part performance) হতে পারে না; যা করা হয়েছে তা অবশ্যই চুক্তির শর্তানুযায়ী ও চুক্তির বলে হতে হবে।
৬. স্পেসিফিক পারফরম্যান্সের বিবেচনামূলক প্রকৃতি: আদালত মূলনীতি হিসেবে বলেন, স্পেসিফিক পারফরম্যান্সের প্রতিকার বিচারকের বিবেচনাধীন এবং এটি কেবল আইনসম্মত বলেই দেওয়া হয় না; ন্যায্যতার ভিত্তিতে আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হয়।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগের অনুসন্ধান — যে "বায়নানামা" প্রতারণামূলক এবং টাকা প্রদানের দাবি অবিশ্বাস্য — তার সাথে আপিল বিভাগ একমত পোষণ করে এবং উভয় পিটিশন খারিজ করে দেয়।
Md.Mizanur Rahman (Kayes)
Advocate Bangladesh Supreme Court
01836-796699