02/07/2025
রাজশাহী বিভাগ
১৮২৯ সালে উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ গঠিত হয়েছিল এবং এর সদর দপ্তর ছিল ভারতের মুর্শিদাবাদ। জেলাগুলো হলো- মুর্শিদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুড়ি, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর। কয়েক বছর পর বিভাগীয় সদর দপ্তর বর্তমান রাজশাহী শহরের রামপুর-বোয়ালিয়া মৌজায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৮৭৬ সালে রাজশাহী শহরটি পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৮ সালে বিভাগীয় সদর দপ্তর ভারতের জলপাইগুড়িতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৭ সালের পাক-ভারত বিভাজনের পর রাজশাহী তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিভাগে পরিণত করা হয়। তখন রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা ছিল; যথা- খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর। ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিভাগের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া এবং ঢাকা বিভাগের বরিশাল জেলা কর্তন করে খুলনা বিভাগ গঠন করা হয়। ফলে রাজশাহী বিভাগের জেলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫টি; যথা- পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, রাজশাহী বিভাগ ৫টি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে রাজশাহীর নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; পাবনার সিরাজগঞ্জ; বগুড়ার জয়পুরহাট; দিনাজপুরের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও; রংপুরের গাইবান্ধা; কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাট মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হলে রাজশাহী বিভাগে মোট জেলা সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬টি। ১৯৯১ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। ২৫ জানুয়ারী, ২০১০ সালে রাজশাহী বিভাগ বিভক্ত হয়ে রংপুর অঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠিত হয় এবং রাজশাহী অঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে বর্তমান রাজশাহী বিভাগ পুনঃগঠিত হয়।
বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract) বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক; যা রাজশাহী বিভাগের 'উত্তর-পশ্চিমাংশ' (উত্তরবঙ্গ) নিয়ে গঠিত।
বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। বরেন্দ্রভূমির অবস্থান গ্রীষ্মপ্রধান মৌসুমিমন্ডলে। কর্কটক্রান্তি এই ভূমির দক্ষিণে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র।
চলন বিল (নাটোর+পাবনা+সিরাজগঞ্জ): দেশের সর্ববৃহৎ এ বিল; যা বিভিন্ন খাল বা নদী দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত অনেকগুলি ছোট ছোট বিলের সমষ্টি। বর্ষাকালে এগুলি একসঙ্গে একাকার হয়ে প্রায় ৩৬৮ বর্গ কি.মি. এলাকার ১টি জলরাশিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের ৩টি জেলা অর্থাৎ নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের অংশবিশেষ জুড়ে 'চলন বিল' অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র নদ ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের কারণে যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলন বিলের সৃষ্টি। আত্রাই নদী চলন বিলের প্রধান যোগানদানকারী প্রণালী। গঠিত হওয়ার সময় চলন বিলের আয়তন ছিল প্রায় ১,০৮৮ বর্গ কিমি।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ (পাবনা+কুষ্টিয়া): পাকশী (ঈশ্বরদী, পাবনা) ও ভেড়ামারার (কুষ্টিয়া) মাঝে পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত একটি রেলসেতু। এই সেতুর নির্মাণকাল ১৯০৯-১৯১৫। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয়। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য ১,৭৯৮.৩২ মিটার বা ৫৮৯৪ফুট বা ১.৮ কিমি।
বঙ্গবন্ধু সেতু/ যমুনা বহুমূখী সেতু (সিরাজগঞ্জ+টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত যমুনা নদীর উপর নির্মিত এই সেতু এশীয় মহাসড়ক ও আন্ত:এশীয় রেলপথের উপর অবস্থিত। এ দুটি সংযোগপথের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক সড়ক ও রেলসংযোগ স্থাপিত হবে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.৫ মিটার।
রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
২. বাঘা মসজিদ
৩. বিদ্যার্ঘ (ভাস্কর্য)
৪. বিহারৈল ঢিবি
৫. ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক
৬. কিসমত মারিয়া মসজিদ
৭. কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দির, পুঠিয়া
৮. কৃষ্ণপুর শিব মন্দির, পুঠিয়া
৯. কেষ্ট ক্ষ্যাপার মঠ
১০. গোপাল মন্দির, পুঠিয়া
১১. গোয়ালকান্দি জমিদার বাড়ি
১২. চলন বিল
১৩. ছোট আহ্নিক মন্দির, পুঠিয়া
১৪. ছোট গোবিন্দ মন্দির, পুঠিয়া
১৫. ছোট শিব মন্দির, পুঠিয়া
১৬. জগদ্ধাত্রী মন্দির
১৭. ঢোপকল
১৮. তামলি রাজার বাড়ি
১৯. দোল মন্দির, পুঠিয়া
২০. ধানোরা ঢিবি
২১. পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির
২২. পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
২১. পুঠিয়া রাজপরিবার
২২. পুঠিয়া রাজবাড়ী
২৩. বড় আহ্নিক মন্দির, পুঠিয়া
২৪. বড় শিব মন্দির, পুঠিয়া
২৫. ভুবন মোহন পার্ক শহীদ মিনার
২৬. ভুবনমোহন পার্ক
২৭. মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
২৮. রথ মন্দির, পুঠিয়া
২৯. লালন শাহ পার্ক
৩০. শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
৩১. শহীদ জিয়া শিশু পার্ক
৩২. সাফিনা পার্ক
৩৩. হাওয়া খানা, পুঠিয়া
৩৪. হাজারদুয়ারি জমিদার বাড়ি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. কানসাটের জমিদার বাড়ি
২. কোতয়ালী দরওয়াজা
৩. খনিয়াদিঘি মসজিদ
৪. ছোট সোনা মসজিদ
৫. দারাসবাড়ি মসজিদ
৬. দারাসবাড়ি মাদ্রাসা
৭. ধনিয়াচক মসজিদ
৮. নওদা বুরুজ
৯. মহানন্দা রাবার ড্যাম
১০. মহানন্দা সেতু
১১. মুঘল তাহখানা
১২. রহনপুর অষ্টভুজী সমাধিসৌধ
১৩. রহনপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর
১৪. শাহ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালী মসজিদ
১৫. শাহ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালীর সমাধি
জয়পুরহাট জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. আছরাঙ্গা দীঘি
২. উঁচাই গ্রামের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ
৩. কাদিয়া বাড়ি ঢিবি
৪. তুলসীগঙ্গা নদীর তীরে ছোট্ট ঢিবি
৫. নওপুকুরিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ
৬. পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি
৭. পাথরঘাটা (প্রত্নস্থল)
নওগাঁ জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. অগ্রপুরী বিহার
২. আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান
৩. কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন
৪. কাশিমপুর রাজবাড়ি
৫. কুসুম্বা মসজিদ
৬. জগদ্দল বিহার
৭. জবই বিল
৮. ঠাকুর মান্দা মন্দির
৯. দিবর দীঘি
১০. দিবর স্তম্ভ
১১. দুবলহাটি রাজবাড়ী
১২. নওগাঁর মাটির প্রাসাদ
১৩. পতিসর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ও তৎসংলগ্ন কীর্তিসমূহ
১৪. পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
১৫. প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার
১৬. বলিহার রাজবাড়ী
১৭. ভবানীপুর জমিদার বাড়ি
১৮. ভিমের পান্টি
১৯. মহাদেবপুর জমিদার বাড়ি
২০. মাহীসন্তোষ মসজিদ
২১. রক্তদহ নদী
২২. সত্যপীরের ভিটা
২৩. হলুদ বিহার
নাটোর জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. উত্তরা গণভবন
২. গোসাই আখড়া
৩. চলনবিল জাদুঘর
৪. দয়ারামপুর জমিদার বাড়ি
৫. ধরাইল জমিদার বাড়ি
৬. নাটোর রাজবাড়ী
৭. মসজিদ ও মাজার, লালপুর, নাটোর
৮. মীর্জা মহল, নাটোর
৯. মোললা জমিদার বাড়ি
১০. হালতির বিল
পাবনা জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ি
২. কাচারী পাড়া জামে মসজিদ, পাবনা
৩. ক্ষেতুপাড়া জমিদার বাড়ি
৪. গাজনার বিল
৫. গোপীনাথ মন্দির, পাবনা
৬. চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি
৭. চাটমোহর শাহী মসজিদ
৮. জগন্নাথ মন্দির, হান্ডিয়াল
৯. তাঁতীবন্দ জমিদার বাড়ি
১০. তাড়াশ ভবন
১১. বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিনোদন পার্ক
১২. ভাড়ারা শাহী মসজিদ
১৩. লালন শাহ সেতু
১৪. শিতলাই জমিদার বাড়ি
১৫. শীতলাই রাজবাড়ি
১৬. সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা
১৭. হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
বগুড়া জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. মঙ্গলকোট (প্রাচীন ভাস্কর্য)
২. মহাস্থানগড়
৩. মাদারির দরগাহ
৪. মানকালীর ঢিবি
৫. মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম
৬. ওঝা ধন্বন্তরির ভিটা
৭. কাঁচের আঙ্গিনা
৮. কাঞ্জির হাঁড়ি ঢিবি
৯. কানাই ধাপ
১০. কালি মন্দির, বগুড়া
১১. খুল্লনার ধাপ
১২. খেরুয়া মসজিদ
১৩. খোজার ঢিবি
১৪. খোদার পাথর ভিটা
১৪. গোকুল মেধ
১৬. গোবিন্দ ভিটা
১৭. জিয়ৎ কুণ্ড
১৮. দুলু মাঝির ভিটা
১৯. দোলমঞ্চ ঢিবি
২০. ধনভাণ্ডার ঢিবি
২১. ধনিকের ধাপ
২২. নিতাই ধোপানীর ঘাট
২৩. পদ্মার বাড়ি
২৪. পরশুরামের প্রাসাদ
২৫. বলাই ধাপ
২৬. বিহার ধাপ
২৭. বৈরাগীর ভিটা
২৮. ভাসু বিহার
২৯. যোগীর ভবন
৩০. রক্তদহ নদী
৩১. রাজা গোপিনাথের ধাপ
৩২. লহনার ধাপ
৩৩. শালিবাহন রাজার বাড়ি
৩৪. শীলাদেবীর ঘাট
৩৫. সওদাগরের ভিটা
৩৬. সন্ন্যাসীর ধাপ
৩৭. সুরা দীঘির ধাপ
৩৮. স্কন্দের ধাপ
সিরাজগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান:
১. আটঘড়িয়া জমিদার বাড়ি
২. ইলিয়ট সেতু
৩. ধুবিল কাটার মহল জমিদার বাড়ি
৪. নবগ্রাম মসজিদ
৫. নবরত্ন মন্দির
৬. পোতাজিয়া মন্দির
৭. মখদুম শাহ’র মাযার
৮. রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি
৯. রাউতারা জমিদার বাড়ি
১০. শামসুদ্দিন তাবরিজির মাজার
১১. শাহজাদপুর দরগাহ মসজিদ
১২. হযরত মখদুম শাহদৌলার মাজার
জিওপলিটিক্স ফরেন পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি
মিসিসিপি আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ
মিসিসিপি বাংলাদেশ প্রসঙ্গ #মিসিসিপি_ইংলিশ_লিটারেচার #দিনাজপুরের_গতি_প্রবাহ #মিসিসিপি_গবেষণামূলক_ও_তথ্যবহুল_পৃথিবীর_মানচিত্র #মিসিসিপি_সংবিধানের_সহজপাঠ #মিসিসিপি_গবেষণামূলক_ও_তথ্যবহুল_বাংলাদেশের_মানচিত্র #প্রেজেন্ট_টাইমস #মানচিত্রের_সহজপাঠ #বিসিএস_গাইডলাইন #মানচিত্রে_বাংলাদেশ_প্রসঙ্গ