05/31/2026
তৎকালীন পরিস্থিতি ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের ভূমিকা
১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল। পাকিস্তান সরকার বাঙালিদের উপর দমন-পীড়ন শুরু করলে, বিভিন্ন স্থানে বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহের পথ বেছে নেন। এই সময়ে তৎকালীন ক্যাপ্টেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটেলিয়নের টু আই সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যশোর ক্যান্টনমেন্টের ঘটনা
হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও তার কোম্পানী শীতকালীন মহড়ার অংশ হিসেবে যশোর ক্যান্টনমেন্টের বাইরে জগদীশপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২৫ মার্চের নৃশংস ঘটনা সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। ২৯ মার্চ তারা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসে এবং অস্ত্র জমা দেয়ার পর বিশ্রাম নেন।
পরদিন ৩০ মার্চ সকালে তারা জানতে পারেন যে ক্যান্টনমেন্টের পাকিস্তানী বাহিনী তাদের হত্যার পরিকল্পনা করছে। অধ:স্তন বাঙালি সৈনিকদের চাপে হাফিজ উদ্দিন বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে সম্মত হন।
বিদ্রোহ ও যুদ্ধ
বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নিয়ে হাফিজ উদ্দিন ও ল্যাফটেনেন্ট আনোয়ারসহ বাঙালি সৈনিকরা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যুদ্ধ শুরু করে। বিকেল বেলা তারা ছোট ছোট গ্রুপে বেরিয়ে আসেন এবং দেখতে পান গ্রামের মানুষ “জয় বাংলা” ধ্বনি তুলে তাদের স্বাগত জানাচ্ছে। এই সময় তারা জানতে পারেন যে ল্যাফটেনেন্ট আনোয়ার শহীদ হয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের খবর
৩১ মার্চ মাছলিয়া বিওপিতে তারা জানতে পারেন ২৫ মার্চের গণহত্যা সম্পর্কে এবং অন্যান্য জায়গায় বাঙালি সৈনিকদের বিদ্রোহের খবর। চট্টগ্রামে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিদ্রোহের ঘটনাও তারা জানতে পারেন, যিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন।
এই ঘটনাগুলো হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার “রক্তে ভেজা একাত্তর” গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক ও তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।