10/04/2024
Guru bin kaise gun gave
Guru na mane to gun na aave🙏
ঠিক সেই সময়টায় যখন সবাই ভাবে আমি বড় হয়ে গেছি.. আমার তখন সেই বয়স।
এখনও চোখ বুজলে স্পষ্ট ভেসে ওঠে উচ্চমাধ্যমিকের ঠিক আগের দিনগুলো...
মাথায় প্রবল টেনশন, সাথে প্রিপারেশান..
যেহেতু ইংরেজি ভাষাটার ওপর একটা আলাদাই আগ্রহ ছিলো বরাবর ছেলেবেলা থেকেই, তাই ভাষাটায় আরো দক্ষতা অর্জনের জন্য আমার বাবা অর্থাৎ আমার 'অরুন মিত্র' হটাৎ করেই একদিন আমার হাত ধরে সটান হাজির হলেন এক ভদ্রলোকের বাড়িতে।
বলাই বাহুল্য, আমার মতন ডানপিটে ছেলের প্রথম দর্শনে একদমই ভালো লাগেনি ভদ্রলোককে...
মানে ওই বয়সে যা হয় আর কি...
কিন্তু প্রথম দর্শনে ভদ্রলোক কেমন যেনো আপন করে নিয়েছিলেন আমাকে.. এবং সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়...
তা যাই হোক, প্রথমদিন ক্লাস করতে গেলাম এবং গিয়ে দেখলাম আমি একাই পড়তে এসেছি... আর কেউ নেই যার সাথে মন খুলে মনের বিরক্তি ভাগ করে নিতে পারি।
এখনো মনে আছে যে ঢুকেছি ঘরে আর ভদ্রলোক সাথে সাথে বলে উঠলেন, "বাহ! তোমার সময়ের জ্ঞান আছে দেখছি! ঠিক সকাল ৭.৩০ মানে, ৭.৩০ তেই এসেছ ভায়া। তোমার হবে"।
#সেই প্রথম শিক্ষা যে বড় হতে গেলে বা, ভালো কিছু হতে গেলে, সময়ে পৌঁছাতে পারাটা সবার আগে প্রয়োজনীয়..
বলাই বাহুল্য, আজও তাই করি।
সেটা আমার নিজের ক্লাসরুম হোক বা, মামলা.. সবসময় সময়ের আগে!❤️
সময়ের চাকা এগোতে লাগলো, সাথে আমিও..
ঠিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে প্রবল একটা প্যানিক তৈরি হলো যে আখেরে কিছুই পড়িনি এবং কিছুই পারবো না... অগত্যা.. স্যারকে ফোন করলাম এবং ফোনের মধ্যে যা #গাঁতন স্যার দিলেন, আজও তা কানে বাজে এবং সেটা এতোটাই ভয়ংকর যে এখানে আমি লিখতে পারবো না😁
আমার মনে হয় যে, কোচ যদি খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাতে না আখেরে কোনো কাজের কাজ হয়না আর ঠিক সেটাই আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের সাথে করি যে লড়াই করে জয় অর্জন করতে হবে❤️
এবং কিভাবে তাদের আমি বলি তার অনেক উদাহরণগুলোর মধ্যে Adv Ilisha Senapati বোধহয় অন্যতম।
যাইহোক, সময়ের নিয়মে কালের যাত্রা এগিয়ে চলে..
যোগাযোগের সুতোটা আলগা হতে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে..
কিন্তু আজ, অর্থাৎ ১০ই এপ্রিল, ২০২৪ হটাৎ করেই একটা ঘটনায় যোগাযোগের সুতোটা শক্ত হয়ে গেলো...
আপনারা যারা আজকে আমার ফেসবুক প্রোফাইল দেখেছেন তারা নিশ্চিতভাবে জানেন যে আজকে সকালে AK Law Academy - র ছাত্রছাত্রীদের সাথে সবার প্রথম আলিপুর জেল, যেটি এখন মিউজিয়াম, সেটি আমি ভিসিট করেছি এবং তারপরে আলিপুর কোর্টে ব্যাক টু ব্যাক মামলা ছিলো যেখানে আমার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও ছিলেন...
এবার তারই মাঝে একটি অচেনা নম্বর থেকে, আমার মোবাইলে একটি ফোন আসে যেখানে একজন ভদ্রলোক বলেন যে তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিপদ হয়েছে এবং তিনি আমার সাথে আইনি ব্যাপারে কথা বলতে চান...
যেহেতু মামলার মধ্যে ছিলাম তাই তাকে বলি যে আপনি ১ ঘন্টা পড়ে আমাকে ফোন করুন এবং সর্বপরি, আমার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছিলো এই ফোনটার কথা...
অবাক করার বিষয় যে ঠিক এক ঘন্টা পরেই একটা ফোন আবারও আসে আমার ফোনে এবং এবার নিজের পরিচয় দিয়ে ভদ্রলোক বলেন যে, "অরিন্দম বাবু চিনতে পারছেন? আমি ... স্যার (স্যারের অনুরোধে নামটা লুকিয়ে রাখলাম), তোমাকে ক্লাস ১১ এবং ১২ তে ইংরাজি পড়াতাম। মনে পড়েছে?"
বিশ্বাস করুন, কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম আমি এবং অতিকষ্টে শক্তি সঞ্চয় করে বললাম যে স্যার.. ভালো আছেন?
উনি শুধু বললেন, "হ্যাঁ রে ভাই, ভালো আছি। একটা গুরুতর সমস্যায় পড়েছি, তোর চেম্বারে একবার যেতে পারি আজকে?"
আমি সম্পুর্ন স্পিচলেস অবস্থায় কোনোরকমে বললাম যে স্যার, আপনাকে আসতে হবে না কারণ আমি আপনার বাড়িতে যাচ্ছি... আমার যত কাজ থাক সব বাতিল করে আমি যাচ্ছি কিন্তু, আপনাকে কোথাও আসতে হবে না...
বিশ্বাস করুন, এই মানুষটার সাথে এতবছর পড়ে দেখা হবে ভেবেই আমি কিরম একটা হয়ে গেছিলাম আর তারপর খুব কষ্ট করেই, গাড়িটা চালিয়ে গেলাম স্যারের বাড়ি...
আর তারপরেই ছন্দপতন!
কেননা, একটা মানুষ যে তার ছাত্রকে দেখছে ১১ বছর পরে, তাও দূর থেকে দেখেই চিনতে পারলেন এবং আমি যখন পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করতে গেলাম এবং বললাম যে "স্যার.. ভালো আছেন?", কি উত্তর এলো জানেন?
" #কে স্যার? এখন তুমি আমার স্যার.. কারণ একটা বয়সের পরে বাবারা ছেলে হয়ে যায় আর, ছেলেরা বাবা.. এখন তুমিতো আমার স্যার"! 😄
বিশ্বাস করুন, পায়ের তলার মাটিটা টলে গেলো সাথে সাথে।
ঠিক ছোটবেলার মতন হাত ধরে বাড়িতে নিয়ে গেলেন, বসালেন এবং নিজের মামলাটি নিয়ে কথা বললেন...
সাথে চোখে মুখে দেখলান অমলিন গর্ব, তার ছাত্রকে নিয়ে যেটা মুখে প্রকাশ করলেন না, কিন্তু ভাবে প্রকাশ করলেন...
আসলে সত্যিকারের শিক্ষকতো, তাই জানেন কিভাবে প্রকাশ করতে হয়।
আমাদের মতন নাকি যে সর্বক্ষণ নিজেকে #সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমান করার জন্য বসে থাকবেন?
ওনার মতন মানুষদের দেখানোর প্রয়োজনটাই পরে না!!
আমাদের মতন মানুষদের যারা কিচ্ছুটি না জেনেও নিজেদের নিয়ে শুধু বড়াই করতে থাকি যে আমিই #বেস্ট, যা প্রমান করার দায়ভার বা ইচ্ছে.. আসল শিক্ষকদের হয়না!!
সর্বশেষে, মামলাটি করার জন্য যে পারিশ্রমিক আমার শিক্ষক আমাকে অফার করলেন সেটা আমি ফিরিয়ে দিলাম কিন্তু তারপরেও, জোর করে সেটা আমাকে স্যার দিলেন।
মা, বাবা, শিক্ষাগুরুর ঋন কখনো শোধ করা যায়না।
না চেয়েও বাধ্য হয়ে নিতে আমাকে হলোই আমার পারিশ্রমিক এবং স্যারের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে একটা অনুরোধ করলাম যে, একটা ছবি তুলবো আপনার সাথে।
লাজুক মানুষটি প্রথমে রাজি না হয়েও পরে রাজি হলেন কিন্তু শর্ত রাখলেন যে তার পরিচয় গোপন থাকবে, আর ঠিক সেই কারনেই তার ছবিটিতে একটি স্টিকার দিয়ে আমাকে আপডেট করতে হয়েছে...
আর শুনুন, আজ ইংরেজি ভাষায় যতটা বাতেলা মারি, এই মানুষটা না থাকলে.. সেটা কোনোদিনই পারতাম না...
আপনি চিরজীবন এভাবেই থাকুন স্যার।
যে গুরুদায়িত্ব আপনার ছাত্রকে আপনি দিয়েছেন, আশির্বাদ করুন যেনো সেই যুদ্ধে এবং সব যুদ্ধেই.. আমি জয় লাভ করতে পারি।
প্রনাম নেবেন🙏
আপনার অবাধ্য, বেপরোয়া, এরোগেন্ট ছাত্র..
অরিন্দম কাঞ্জিলাল
Founder, Director and CEO
Arindam Kanjilal Law Academy