Advocate Anisur Rahaman

Advocate Anisur Rahaman Criminal Lawyer

ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য উপস্থিতির বিরোধিতা, মেয়র মামদানিকে আহ্বান হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটসেরনি...
23/08/2026

ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য উপস্থিতির বিরোধিতা, মেয়র মামদানিকে আহ্বান হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটসের

নিউইয়র্ক: ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য উপস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রগতিশীল হিন্দু অধিকারকর্মীরা। তারা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রতি প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া এবং অনুষ্ঠানটি বাতিলের জন্য ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানোর দাবি জানিয়েছেন।

মেয়রকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, RSS ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলে বার্তায় দাবি করা হয়, এর ফলে মুসলিম, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিজেদের দেশে প্রান্তিক বা বহিরাগত হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

বার্তায় আরও বলা হয়, “RSS হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করে না। মোহন ভাগবতও আমাদের সম্প্রদায়ের হয়ে কথা বলেন না।”

প্রগতিশীল হিন্দুদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ধর্মীয় বহুত্ববাদ, সমতা ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। তাদের অভিযোগ, নিউইয়র্কের অন্যতম বিখ্যাত সাংস্কৃতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক আধিপত্যকে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়।

মেয়র মামদানির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা জরুরি।




🌿 #ইতিহাসে_না_থাকা  কাফনে লেখা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের হৃদয় বিদারক ইতিহাস । 🌹🥀🌹🥀🌹🥀🌹🥀 ⭐আল্লামা ফজলে হক খয়রাবাদী ছিলেন ...
23/08/2026

🌿 #ইতিহাসে_না_থাকা কাফনে লেখা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের হৃদয় বিদারক ইতিহাস ।
🌹🥀🌹🥀🌹🥀🌹🥀
⭐আল্লামা ফজলে হক খয়রাবাদী ছিলেন একজন বিখ্যাত দার্শনিক, কবি ও প্রখ্যাত ধর্মীয় পণ্ডিতও।
১৯৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের তিনি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
⭐একথা সবার জানা যে, আল্লামা ফজলে হক খয়রাবাদী (রহ)-কে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে আন্দামান দ্বীপে 'কালাপানি দন্ড' (নির্বাসন) দেওয়া হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছর।
⭐আন্দামান জেলে বসেই তিনি রচনা করেছিলেন ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের তথা ভারতের আজাদী আন্দোলনের অগ্নিঝরা ইতিহাস।

⭐ সে সময় জেলে বন্দিদের জন্য কাগজ, কলম নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে জেলখানায় মৃত্যুপথযাত্রী আল্লামা খয়রাবাদী আন্দামান জেলের অধ্যক্ষের নিকট থেকে এক খন্ড কাফনের কাপড় চেয়ে নেন। বেশি নিয়েছিলেন বেশ কয়েক গজ। এ কাফনের কাপড়েই তিনি দাঁত মাজার কয়লা দিয়ে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের তথা ভারতবর্ষের প্রথম আজাদী সংগ্রামের প্রথম ইতিহাস লিখেছিলেন।

🌹আন্দামান জেলের ইংরেজ অধ্যক্ষ ফারসি ভাষা বুঝতেন বলে তিনি লিখেছিলেন আরবিতে। গভীর রাতে সব বন্দিরা যখন ঘুমিয়ে পড়ত তখন তিনি রাত জেগে ইতিহাস লিখতেন।
⭐জেলের অধ্যক্ষ তাঁর এ অভ্যাসের কথা জানতেন, তবে জানতেন না কাফনের কাপড়ে ইতিহাস লেখার কথা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ফজলে হক খয়রাবাদী এমন দুঃসাহসিক কর্ম সম্পাদন করেছিলেন।

⭐খয়রাবাদী জানতেন আন্দামান জেল থেকে তিনি কোনও দিনই জীবিত ফিরে যেতে পারবেন না। তবে তাঁর পুত্র বা কোনও আত্মীয় স্বজন তাঁর লাশ গ্রহণের জন্য আন্দামানে ঠিকই আসবেন।
⭐ তাই তিনি ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করেন ইংরেজ কারাধ্যক্ষ ও অনুসন্ধানী গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।

⭐ কাফনের পান্ডুলিপি কেমন করে ইংরেজ গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে পাচার করে ভারতে পৌঁছবে, মৃত্যুর আগেই সে ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি জেলে তাঁর এক ভক্তকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

⭐খয়রাবাদী খুব সতর্কতার সাথে কাফনের কাপড়ে ইতিহাস রচনা করেছিলেন। তিনি লিখতেন কাপড়ের ভেতরে। ওপরের পিঠ সব সময় সাদা রাখতেন, যাতে মনে হত এটা একটা কাফনের কাপড়।

🌹এক সময় সৈয়দ আহমদ উচ্চ পর্যায়ে অনেক দেনদরবার করে মাওলানা ফজলে হক খয়রাবাদীর কালাপানি দন্ড মওকুফ করাতে সক্ষম হন, যাতে এই বৃদ্ধ জ্ঞান তাপস জীবনের শেষ দিনগুলো আপন পরিবার পরিজনের সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন। তাঁর আবেদনে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ সাড়া দিয়ে ফজলে হক খয়রাবাদীর দন্ড মওকুফ করে মুক্তির নির্দেশনামা জারি করেন।

🌹খয়রাবাদীর ছেলে মাদ্রাজ হতে আন্দামানগামী জাহাজে মুক্তির নির্দেশনামা নিয়ে আন্দামান পৌঁছন। কিন্তু জাহাজ পৌঁছনর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পূর্বেই জেলখানায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফজলে হক খয়রাবাদী।
🌹 ছেলে যে জাহাজ নিয়ে খয়রাবাদীকে আনতে গিয়েছিলেন সে জাহাজে এল তাঁর লাশ। খয়রাবাদীর লাশবাহী কফিনের সাথে জেলখানায় খয়রাবাদীর সেই ভক্ত কাফনের পান্ডুলিপিখানা অতি সতর্কতার সাথে তাঁর ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

🌹দেওবন্দে খয়রাবাদীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর এ পান্ডুলিপি ইংরেজদের সতর্ক চোখকে ফাঁকি দিয়ে অতি সঙ্গোপনে পাঠানো হয় মিসরের রাজধানী কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে।

🌹১৮৫৭ সালের বিপ্লবের তথা প্রথম আজাদী সংগ্রামের প্রথম লিখিত এ ইতিহাস 'আসওয়াতুল হিন্দিয়া' বা বিদ্রোহী ভারত নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থ প্রকাশের সাথে সাথে আরব বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

🌹আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসওয়াতুল হিন্দিয়া গ্রন্থটি বহু বছর পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতে আসওয়াতুল হিন্দিয়া গ্রন্থটি ইংরেজ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

🌹অবশেষে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হলে আসওয়াতুল হিন্দিয়া গ্রন্থটি ভারতেও চলে আসে।

🌹ফজলে হক খয়রাবাদীর মতো এমন কাজ সারা দুনিয়াতে আর কেউ করেছেন কি না, আমরা জানি না।
🌹তেমনই, তিনি এই মহৎ ও দুঃসাহসিক কর্মের জন্যে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকলেও, তাঁর কথা সরকারি পাঠ্য ইতিহাসের পাতায় কেন ঠাঁই পায় না, তাও আমাদের অজানা !!!

🙏আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি রহম করুন তাঁর গুনাহ খতা মাফ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন ।.
#আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন ।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
✍️সংকলন ও সম্পাদনায় - এম এ খান

বন্দে মাতরম্ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি ও তর্কের শেষ নেই। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় একটি চিঠি এবং কিছু বক্...
22/08/2026

বন্দে মাতরম্ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি ও তর্কের শেষ নেই। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় একটি চিঠি এবং কিছু বক্তব্য তুলে ধরলাম। এখানে কোন রাজনীতি বা ধর্মের গন্ধ নেই।

গুগুনিবাস
বেলঘরিয়।
সুহৃদ্বর,

বন্দে মাতরম্ গানের কেন্দ্রস্থলে আছে দুর্গার স্তব এ কথা এতই সুস্পষ্ট যে এ নিয়ে তর্ক চলে না। অবশ্য বঙ্কিম এই গানে বাংলা দেশের সঙ্গে দূর্গাকে একাত্ম করে দেখিয়েছেন, কিন্তু স্বদেশের এই দশভুজামুর্তিরূপের যে পুজা সে কোনো মুসলমান স্বীকার করে নিতে পারে না। এবারে পূজা সংখ্যার বহু সাময়িক পত্রেই দুর্গাপূজার প্রসঙ্গে বন্দে মাতরম্ গানের শ্লোকাংশ উদ্ধৃত করে দিয়েছে-সহজেই দুর্গার স্তব রূপে একে গ্রহণ করেছে। আনন্দমঠ উপন্যাসটি সাহিত্যের বই, তার মধ্যে এই গানের সুসংগতি আছে। কিন্তু যে রাষ্ট্রসভা ভারতবর্ষের সকল ধর্মসম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র সেখানে এ গান সর্বজনীনভাবে সংগত হোতেই পারে না। বাংলা দেশের একদল মুসলমানের মধ্যে যখন অযথা গোঁড়ামির জেদ দেখতে পাই তখন সেটা আমাদের পক্ষে অসহ্য হয়। তাদের অনুকরণ করে আমরাও যখন অন্যায় আব্দার নিয়ে জেদ ধরি তখন সেটা আমাদের পক্ষে লজ্জার বিষয় হয়ে ওঠে। বস্তুতঃ এতে আমাদের পরাভব।

বন্দে মাতরম্ প্রবন্ধটি কৃষ্ণ কৃপালানাব লেখা। বিশ্বভারতীর কাগজে তিনি এটা প্রকাশ করবেন আমি জানতুম না। বিশ্বভারতীর সঙ্গে এই আলোচনার কোনো যোগ নেই। এই নিয়ে জওহরলালকে তিনি পত্র লিখবেন এই কথা ছিল।

এখনো ডাক্তারদের চিকিৎসাধীনে আছি। -নিষ্কৃতি পাই নি, শরীরও যথোচিত কর্মক্ষম হয় নি।

ইতি ১৯।১০।৩৭
তোমাদের
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

18/08/2026

সোশাল মিডিয়া থেকে বিজেপি সম্পর্কে যা যা জানলাম তা দিয়ে বিজেপির একটি প্রোফাইল বানালাম। আর কিছু যোগ করার হলে, আপনারা করে দিন।

বিজেপির মতাদর্শের উৎস ও সম্মানীয় গুরুদেব :
ফ্যাসিস্ট হিটলার ও মুসোলিনি

বিজেপির আদর্শ গুরু :💥
মুচলেকা সাভারকার,
মৌলবাদী আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ার
সাম্প্রদায়িক তত্ত্বগুরু গোলওয়ালকার,

বিজেপির বর্তমান অভিভাবক :🦍
নিও ফ্যাসিস্ট ট্রাম্প,
শিশু-নারীঘাতি নেতানিয়াহু,
মেলোডি মেলোনি এবং
এনজিও প্রধান ভাগবত,
পতঞ্জলি বাবা

বিজেপির ঐতিহাসিক হিরো :💌
গান্ধী খুনি গডসে, মুচলেকা সাভারকার
বাহুবলি গোপাল, সাহেব ঘনিষ্ঠ শ্যামাপ্রসাদ

বিজেপির বর্তমান কান্ডারী :🤡
দিমাগী ৫৬ ইঞ্চি, পেলেট গান শাহ,
পেপার লিক ধর্মেন্দ্র, এনকাউন্টার যোগী

বাংলায় বিজেপির প্রিয় নেতা :😺
ভালো তৃণ শুভেন্দু, কাছে এসো শমিক
গিরগিটি ঋত, গুড় বাতাসা অনুব্রত

বিজেপির প্রিয় শব্দ :😁
সেকু, মাকু, আব্দুল, রহিম, চাচা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, জিহাদী, রোহিঙ্গা, ঘুসপেটিয়া, অনুপ্রবেশকারী, পাপ্পু

বিজেপির প্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব :😍
বাছাই মৌলবাদ বিরোধী কবি তসলিমা নাসরিন, গিরগিটি রুদ্রনীল, ভালো টলি অভিনেতা-অভিনেত্রী

বিজেপির চোখে ভিলেন :👹
নেতাজী, লেনিন
গান্ধীজি, নেহেরু, ভগৎ সিং
আম্বেদকার,
জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

গেরুয়া চেতনার শত্রু :👽
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত,
রামমোহন, বিদ্যাসাগর,
রাহুল সংকৃত্যায়ন

বিজেপির চোখে রাজনৈতিক-সামাজিক শত্রু :👺
কমিউনিস্ট, বামপন্থী ও কংগ্রেস,
দিমাগী নকসাল, টুকরে টুকরে গ্যাঙ,
আরবান নকসাল, ককরোচ,
মুসলমান, খৃষ্টান, দলিত

বিজেপির অপ্রিয় শব্দ :😠
আজাদী, গণতন্ত্র, সেকুলার, সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা, কমিউনিস্ট, সোশালিজম, বামপন্থী, মার্কসবাদী, ককরোচ

বিজেপির আতঙ্ক : 💀
কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক সংগ্রাম,
জেন-জি মুভমেন্ট, দলিত-আদিবাসী সংগ্রাম,
মুক্তমনা-উদার ও প্রগতিশীল ভাবনার মানুষ

Das

*বঙ্গ সমাজের স্বার্থেই বাংলা কুরআনের প্রচার আজ প্রয়োজন*✍️ *অঞ্জন বসু*কুরআনের বাংলা অনুবাদের দু'শ বছর পেরিয়ে গেছে। অর্থাৎ...
18/08/2026

*বঙ্গ সমাজের স্বার্থেই বাংলা কুরআনের প্রচার আজ প্রয়োজন*

✍️ *অঞ্জন বসু*

কুরআনের বাংলা অনুবাদের দু'শ বছর পেরিয়ে গেছে। অর্থাৎ বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মের অনেক আগেই বাঙালি এই মহা ধর্মগ্রন্থ অনুবাদের কাজে হাত দিয়েছে।
যার সঙ্গে হিন্দু-মুসলমান দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একাধিক শিক্ষিত ভাষাবিদদের নাম জড়িয়ে রয়েছে।

সন-তারিখের হিসাব ধরলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলেরও আগে এই বাংলায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে। সেই হিসাবে অবশ্যই এই অনূদিত কুরআনকে একটি প্রাচীন বাংলা ধর্মগ্রন্থ বলে গণ্য করা উচিত, যাকে কোনো ধর্মীয় গণ্ডির বাইরে সর্বজনীন বলে মান্য করা যায়।

কিন্তু এটা আমাদের সকলের কাছেই খুব দুঃখের ও দুর্ভাগ্যের বিষয় যে অনুবাদের দুই শতাব্দী পরেও কুরআন সেই সর্বজনীনতা লাভ করতে পারেনি,
শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থ হিসাবেই পরিচিত হয়েছে।

ফলে কুরআন সম্পর্কে সর্বজনীন সচেতনতা আজও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘকালের যে ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস, তার একটা বড় কারণ কিন্তু এই ধর্মগ্রন্থটি সম্পর্কে সমাজের বৃহত্তর অংশের মধ্যে চরম অজ্ঞানতা।

কুরআনের বাংলা অনুবাদের দু'শ বছরে কিন্তু দুই সম্প্রদায়ের সচেতন মানুষেরই এই অজ্ঞানতা দূর করার কাজে বিশেষভাবে এগিয়ে আসা উচিত।

দেশ ও জাতির স্বার্থ, দেশের মানুষের স্বার্থও যে এই কাজের সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গ হিসাবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে কাজটাও বোধহয় অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে যায়।

গিরিশচন্দ্র সেনের মতো একজন হিন্দু বাঙালির হাত দিয়ে কুরআনের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদের সূচনা হলেও গত দু'শ বছরে এই সম্প্রদায়ের কত শতাংশ মানুষ এই মহান গ্রন্থটি পাঠ করেছে সেই বিষয়ে কিন্তু সন্দেহ যথেষ্ট।

বরং হিন্দু বাঙালির মধ্যে বাইবেল পাঠের উৎসাহ বরাবরই তুলনায় অনেক বেশি দেখা গিয়েছে। হয়তো খ্রিস্টিয় সম্প্রদায়ভুক্ত ইংরেজরা স্বাধীনতার আগের দু'শ বছর দেশ শাসন করেছে বলেই প্রভুভক্ত বাঙালি হিন্দু সমাজে বাইবেল সমাদর পেয়েছে; আর ক্ষমতাচ্যুত মুসলমান সম্প্রদায়ের কুরআন এই সমাজের কাছে ব্রাত্যই থেকে গিয়েছে।

দু'শ বছর আগের ইংরেজ আমল থেকে আজ এই স্বাধীনতার ৬০ বছর পরে নতুন শতাব্দীতেও তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই পরিবর্তন ঘটানোটা আজ কিন্তু খুব জরুরি, আমাদের সকলের স্বার্থেই।

আসলে একটা মিশ্র ধর্মীয় সমাজে সকল ধর্মের মানুষেরই অপর ধর্ম সম্পর্কে একটা ন্যূনতম ধারণা থাকা উচিত।

তাহলে পারস্পরিক বিশ্বাস যেমন তৈরি হয়, তেমনই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানেও অনেক সুবিধা হয়, অনেক সহজ হয়। সকলেই ধর্মগ্রন্থ পড়বে তা অবশ্য বাস্তবে সম্ভব নয়। কিংবা নিজের ধর্মগ্রন্থই বা পড়বে কত শতাংশ মানুষ? কতজন হিন্দু বাঙালি মনোযোগ দিয়ে গীতা বা অন্যান্য হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েছেন, কতজন বাঙালি মুসলমান কুরআন পাঠ করেছেন বা কতজন বাঙালি খ্রিস্টান সত্যিই বাইবেল পাঠ করে তার মর্ম উপলব্ধি করেছেন, সেই বিষয়ে কিন্তু সন্দেহ যথেষ্ট। শুধু বাঙালি কেন, সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই বোধহয় এই কথা প্রযোজ্য। অন্তত নিজের ধর্মগ্রন্থটাও ভালভাবে পাঠ করা থাকলে সমাজে মানুষ কারণে অকারণে এত অশান্ত হয়ে ওঠে না, এত অপরাধ করে না, এত হিংসা ও অন্যায়ে মত্ত হয়ে ওঠে না।

ধর্মের মর্মকথা সম্পর্কে উপলব্ধি থাকে না বলেই সমাজে এত অধর্ম।

অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতাও আসে নিজের ধর্মকে ভালভাবে না জানার জন্যই, অপর ধর্ম তো বটেই। কোনও ধর্মেই অপর ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতার কথা বলা হয়নি। শ্রীরামকৃষ্ণ এই বিষয়টিই খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, 'যত মত তত পথ'। কিন্তু এই উদারতার বড় অভাব আজ আমাদের এই ধর্মীয় বিভাজনের যুগে।

সব ধর্মেই মানবিকতার কথা বলা হয়েছে, শান্তির কথা বলা হয়েছে, ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, সহনশীলতার কথা বলা হয়েছে।

সংস্কৃত 'ধৃ' ধাতু থেকে উদ্ভুত ধর্ম শব্দটির মূল অর্থ তো ধারণ করা।

সেখানে কোনও জোর-জবরদস্তি, হিংসার কোনও স্থানই নেই। কুরআনে যেমন শান্তির কথা বলা হয়েছে, সাম্যের কথা বলা হয়েছে, সমাজের কল্যাণের কথা, মানবিকতার কথা ছত্রে ছত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। ইসলাম মূলত শান্তির ধর্ম। অথচ কুরআনে যা যা বলা হয়েছে ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিম মানুষদের অধিকাংশের ধারণা ঠিক তার বিপরীত। Islam is now the most misunderstood religion।

যা নয়, তাই আজ চারদিকে প্রচার হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে। এমনকি গোটা সম্প্রদায়কে দুনিয়াজুড়ে সন্ত্রাসবাদের মতো জঘন্য বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। হয়তো এই সম্প্রদায়ের কিছু বিভ্রান্ত মানুষের হঠকারি কার্যকলাপ কিছু ইন্ধন যুগিয়েছে, কিন্তু তার জন্য গোটা সম্প্রদায়কে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

করলে তা ঘোরতর অন্যায় হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এই ঘটনাই আজ গোটা দুনিয়াজুড়ে ঘটে চলেছে, আমাদের দেশ, আমাদের এই রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। অথচ অন্য কোনও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এইরকম পরিস্থিতি ঘটছে না। ভিয়েতনাম বা ইরাকে মার্কিন হানাকে কখনওই খ্রিস্টিয় হানা বলে ধর্মীয় রঙ দেওয়া হয় না। ভারতে মাওবাদী হোক বা আলফা হোক, অথবা অন্য কোনও অমুসলিম সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসকেও সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হয় না।

সংগঠনের নামেই শুধু তা পরিচিত হয়।

ইসলাম, তার ধর্মগ্রন্থ কুরআন ও এই সম্প্রদায়ের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বৃহত্তর সমাজের অজ্ঞানতাই যে এইরকম পরিস্থিতির জন্য দায়ী তা আজ নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায়। এইরকম এক দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার জন্য দায়ী কিন্তু এই সম্প্রদায়ের মানুষেরাও।

নিজের ধর্মের গণ্ডির বাইরে, বৃহত্তর সমাজের কাছে তাঁরা তাঁদের ধর্মের বাণী পৌঁছে দিতে পারেননি।

ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সাম্যের ধর্ম, মানবিকতার ধর্ম, এই কথাগুলি অপর ধর্মের মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে আনা যায়নি, মানুষকে বোঝানো যায়নি, নিজেরা একটা গণ্ডির মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ করার জন্যই। কুরআনের বাণী নিজেরা যথাযথ উপলব্ধি করলে কিন্তু আজ এমন অবস্থা হত না।

এই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষই হয়তো কুরআন পড়েননি, আর পড়লেও তার মর্ম উপলব্ধি করেননি, শুধুমাত্র পড়ে গিয়েছেন। হয়তো মুখস্থ করেছেন, কিন্তু তার যে প্রকৃত অর্থ তা বুঝতে পারেননি।

পারলে সমাজের আজ এই অবস্থা হয় না। যে ধর্মগ্রন্থে শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তার একটা বড় অংশ আজও অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।

বা যে ধর্মে সাম্যের কথা বলা হয়েছে সেখানে এত দারিদ্র, এত অসাম্য কেন?

যেখানে প্রগতির কথা বলা হয়েছে সেখানে সবদিক থেকে এত পশ্চাদপদতা কেন?

তাই এই সম্প্রদায়ের মানুষদেরও আজ আরও নিবিড়ভাবে কুরআন অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নিজ ধর্মকে জানা মানে যে মৌলবাদী হয়ে পড়া নয় এই কথাটাও অনুধাবন করার প্রয়োজন রয়েছে। ধর্মকে জানা মানুষ, ধর্মপ্রাণ মানুষ আর মৌলবাদের মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে। যাঁরা ভাবে কুরআন পাঠের ব্যাপকতা বাড়লে মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে তারা নিশ্চিভাবে ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বসে রয়েছেন। ধর্মের বাণী নিবিড়ভাবে জানলে, বুঝলে, তাকে অনুসরণ করলে কারও মৌলবাদী হওয়ার কথা নয়। বরং মৌলবাদ মোকাবিলার একটা পথ পাওয়া যেতে পারে।

এই জায়গাতেই বাংলায় অনুদিত কুরআনের একটা বড় ভূমিকা আমাদের রাজ্যে রয়েছে। আরবি ভাষা ভাল করে অনুশীলন না করে আরবি-কুরআন পড়ার প্রবণতার বদলে যদি বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বাংলা কুরআনের ব্যাপক প্রচার করা যায় তবে উপকার হয় অনেক বেশি।

কুরআন তো শুধু একটি নিছক ধর্মগ্রন্থ নয়, ব্যক্তিজীবন থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র সকলের জন্যই এক স্থায়ী নির্দেশিকা।

অন্ধভাবে পাঠ নয়, সুস্থ সমাজ গঠনে কুরআনের ভূমিকা বিরাট হতে পারবে, যদি তাকে যথাযথ অনুশীলন করা যায়। কুরআনের বাংলা অনুবাদের দু'শ বছরে এটিই হোক প্রধান ব্রত, সমাজকল্যাণে যা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

17/08/2026

স্বাধীনতার সন্ধানে
সঙ্গীতা কর

সবুজ মাঠের দিকে চোখ রেখে বললাম
তুমি স্বাধীনতা চেনো?
একটা উড়ন্ত প্রজাপতি কানের কাছে এসে বলল সে কয়েকদিন ধরে আটকে আছে এক ফুলের সৌন্দর্য্যে
কিছুতেই তাকে ছেড়ে যেতে পারে না,
ক্ষেতের সূর্যমুখী বলল ইচ্ছে করে দিনের আলো নিভে গেলেও আরো কিছুক্ষণ থাকতে
কিন্তু সূর্য বাবুর চোখ রাঙানিতে ঘুমিয়ে যেতে হয় এক বুক অনিচ্ছা নিয়ে।

নদীর দিকে তাকিয়ে বললাম
তুমি স্বাধীনতা চেনো?
ছোট ছোট মাছেরা এলো কাছে
ফিসফিস করে বলল বড়মাছেদের ভয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত,
বড় মাছেরা এল
কল কল করে বলল আয়ু ফুরানোর আগেই জেলেদের জালে বন্দি হয় তাদের বেঁচে থাকার স্বাধীনতা।

পাহাড়কে বললাম তুমি স্বাধীনতা চেনো?
নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে বলল ক্রমাগত খুঁজে চলেছি
শরীর ক্ষতবিক্ষত করে এগিয়ে চলেছি উঁচুতে
বাতাস এসে বাধা দিচ্ছে
ঝড় এসে বসছে প্রশস্ত বুকে
কারো কোনো ক্ষতি হলে আমার মহানত্ব ভেঙে চুরমার করে দেয় মুখের বুলিতে।

মানুষকে বললাম তুমি স্বাধীনতা চেনো?
বাউল বললে ঘর ছাড়ার গানে ঈশ্বর কন্ঠে দেন সাধনার শৃঙ্খল
সাধক খুঁজে ফেরে মুক্তির স্বাধীনতা,
গৃহী মানুষ বললে নির্দিষ্ট কিছুই চেনে না
যে যখন যেভাবে চেনায় সেভাবেই চিনতে হয়
কখনো লাল, কখনো সবুজ, কখনোবা গেরুয়া।

ভন্ডামি আর কারে কয়!!
14/08/2026

ভন্ডামি আর কারে কয়!!

জাতীয় পতাকার বিরোধিতা কে করেছিল ?                                                                    জহর সরকার         ...
13/08/2026

জাতীয় পতাকার বিরোধিতা কে করেছিল ? জহর সরকার

স্বাধীনতা দিবসে শহিদদের স্মরণ এবং `হর ঘর তিরঙ্গা’র মাঝে আমরা যেন ভুলে না যাই, জাতীয় পতাকার বিরোধিতা প্রকৃতপক্ষে কারা করেছিল ।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ আর ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ শুনলে সাধারণ মানুষের ধারণা হয়, বর্তমান মোদি সরকারই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি ভীষণ শ্রদ্ধাশীল এবং সর্বাধিক আবেগময়। জাতীয় পতাকার প্রতি যে কোনও অশ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি বা সংগঠনকে শাস্তি দিতে এরা মুখিয়ে থাকে।
এদিকে এই উগ্র জাতীয়তাবাদ দেখানোর মধ্যে দিয়েই কিন্তু ধর্মান্ধ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং হিন্দু মহাসভা তাদের আসল ইতিহাস লুকনোর চেষ্টা করে । ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকার প্রতি তাদের চরম অশ্রদ্ধার অধ্যায়টি আড়ালে রাখতে চায় ।
আসল সত্য এটা যে, এই দুই হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থী সংগঠনই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সম্পূর্ণ ভাবে বর্জন করেছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তাদের সদস্যদের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে দূরে থাকার লিখিত নির্দেশ দিয়েছিল । আর সাভারকর ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দু মহাসভা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের অনুরোধ করেছিলেন, তারা যেন গান্ধীজির ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনকে কড়া হাতে দমন করে । শ্যামাপ্রসাদ ২৬ জুলাই, বাংলার গভর্নর জন হারবার্টকে একটি বিতর্কিত চিঠিতে স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রবল সমালোচনা করেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আর্জি জানান, ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যদি কেউ জনগণের আবেগে নাড়া দিয়ে অভ্যন্তরীণ গোলোযোগ বাধায় কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে সরকারের তাকে অবশ্যই প্রতিহত করা উচিত।’
স্বাধীনতার প্রাক্কালে, ১৯৪৭-এর ১৭ ও ২২ জুলাই প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ আরএসএস, কংগ্রেসের মত ও পথের প্রকাশ্য বিরোধিতার কথা ঘোষণা করেছিল। এই পত্রিকায় বলা হয়েছিল, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কোনও দিন তেরঙা জাতীয় পতাকাকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহণ করবে না । কারণ, ‘তিন’ সংখ্যাটাই অশুভ ব্যঞ্জনাবাহী । আর তাই যে পতাকার তিনটে রং আছে, সেটা জনমানসে নিঃসন্দেহে খারাপ প্রভাব ফেলবে এবং দেশের পক্ষেও ক্ষতিকারক ।
এই যুক্তিতে হিন্দু ধর্মের ত্রিমূর্তি, ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর, অগ্রহণীয় এবং ভগবতগীতায় বর্ণিত ত্রিগুণ বর্জনীয়। ত্রিশূলেও তিনের প্রকাশ, তাই এটাও অশুভ! ‘বাঞ্চ অব থট্‌স’ শীর্ষক গ্রন্থে আরএসএস-এর দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এমএস গোলওয়ালকর লিখেছেন, ‘‘আমাদের নেতৃবর্গ দেশের নতুন পতাকা নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু তাঁরা এমনটা করলেন কেন?... আমাদের দেশ সুপ্রাচীন এবং মহান, সেটির একটি মহান অতীত রয়েছে। তাহলে কি আমাদের নিজস্ব কোনও পতাকা ছিল না? হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের কি জাতীয় প্রতীক বলে কিছু ছিল না? নিঃসন্দেহে ছিল। তাহলে আমাদের মননে এমন শূন্যতা কেন?’’
গোলওয়ালকর চেয়েছিলেন পুরোপুরি হিন্দু পতাকা ‘ভাগওয়া ধ্বজ’ বা গেরুয়া রঙের চেরা পতাকাই ভারতের জাতীয় প্রতীক হোক। জাতীয় ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা যে ভারতীয় সভ্যতার বহুত্ববাদের প্রতিনিধিত্ব করছে, তা একেবারেই মানতে চাননি তিনি।
গান্ধী-হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৪৮-এর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৮ মাসের জন্য যখন ভারতের তদানীন্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আরএসএস-এর নেতৃবর্গকে জেলে পুরলেন, তখন সংঘ জাতীয় পতাকার বিরোধিতার পথ পরিহার করে। ১৯৪৯-এর জুলাই মাসে কারামুক্তির শর্ত হিসেবে তাদের মুচলেকা দিতে হয়েছিল যে, তারা ভারতের জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
আর মোদীর শাসনে আমাদের দেখতে হল, জাতীয় পতাকার প্রতি যথাবিহিত মর্যাদা প্রদর্শনের ন্যূনতম অভাব দেখতে পেলে নিরীহ নাগরিকদের পেটানোর দায়িত্ব নিচ্ছে সংঘ পরিবারের বাহুবলীরা।
এটাই হল আসল ইতিহাস, যা শুভেন্দু অধিকারী নিজে অনেক বার বলেছিলেন — অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও মন্ত্রী হিসাবে।
আমরা মনেপ্রাণে তিরঙ্গাকে শ্রদ্ধা করি — একবার বিরোধিতা আরেক বার অতি ভক্তি দেখাই না । কিন্তু সবচেয়ে ভাল কথাটি হল, যাঁরা এক সময় আমাদের জাতীয় পতাকাকে সম্মান করেনি, তাঁরা এখন ভুল শুধরে জনসমক্ষে বেশি করে শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন।

Sircar, ভূতপূর্ব সাংসদ এর ওয়াল থেকে।

12/08/2026
প্রথম ভুলটা তোমরা এখানেই করো, ইসলামে নারী সবসময় অর্ধেক পায় এই কথাটাই মিথ্যা।ইসলামে মোট ৪ ধরনের ভাগ আছে।১. কখনো নারী পু...
11/08/2026

প্রথম ভুলটা তোমরা এখানেই করো, ইসলামে নারী সবসময় অর্ধেক পায় এই কথাটাই মিথ্যা।

ইসলামে মোট ৪ ধরনের ভাগ আছে।

১. কখনো নারী পুরুষ সমান পায়। যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার মা পাবে ৬ ভাগের ১ ভাগ, বাবাও পাবে ৬ ভাগের ১ ভাগ। এখানে মা বাবা সমান। সুরা নিসা ১১।

২. কখনো নারী পুরুষের চেয়ে বেশি পায়। যেমন কেউ মারা গেল, রেখে গেল এক মেয়ে, মা, বাবা। এখানে মেয়ে পাবে অর্ধেক, মা পাবে ৬ ভাগের ১ ভাগ, বাবা পাবে ৬ ভাগের ১ ভাগ। মেয়ে এখানে বাবার চেয়েও বেশি পেল।

৩. কখনো নারী পায়, পুরুষ কিছুই পায় না। যেমন কেউ মারা গেল, রেখে গেল স্বামী, মেয়ে, ভাই। এখানে মেয়ে আর স্বামী পাবে, ভাই কিছুই পাবে না।

৪. আর একটা ক্ষেত্রে নারী অর্ধেক পায়, যেমন ছেলে ও মেয়ে একসাথে থাকলে। ছেলে পাবে ২ ভাগ, মেয়ে পাবে ১ ভাগ। সুরা নিসা ১১। তোমরা শুধু এই একটা উদাহরণ নিয়ে চিল্লাও, বাকি ৩ টা গোপন করো।

এখন প্রশ্ন কেন ছেলে মেয়ে একসাথে থাকলে ছেলে ডবল পায়?

এর উত্তর আল্লাহ নিজেই পরের লাইনে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, পুরুষরা নারীদের অভিভাবক, কারণ আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং পুরুষরা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুরা নিসা ৩৪।

মানে ভাগ বেশি মানে দায়িত্ব বেশি। ইসলামে একজন পুরুষের ঘাড়ে বাধ্যতামূলক খরচ ৪ টা।

১. তার নিজের খরচ
২. তার স্ত্রীর খরচ
৩. তার সন্তানদের খরচ
৪. তার বাবা মা যদি গরীব হয় তাদের খরচ

আর একজন নারীর ঘাড়ে ইসলাম বাধ্যতামূলক খরচ একটাও দেয় নাই। তার নিজের খরচও তার স্বামী দেবে। বিয়ের আগে বাবা দেবে, বিয়ের পরে স্বামী দেবে, স্বামী না থাকলে ভাই দেবে।

ইমাম কুরতুবী রহঃ, ইবনে কাসীর রহঃ, মুফতী তাকী উসমানী সহ সব আলেম এই ব্যাখ্যাই করেছেন। ইসলামে ভরণপোষণের দায়িত্ব পুরুষের, নারীর না।

একটা অংক দিয়ে বুঝো, তাহলে সারাজীবন মনে থাকবে।

ধরো এক বাবা মারা গেল, রেখে গেল ৯০ হাজার টাকা। এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে পেল ৬০ হাজার, মেয়ে পেল ৩০ হাজার। দেখে মনে হলো মেয়ে ঠকালো।

কিন্তু এবার খরচের হিসাব করো।

ছেলে বিয়ে করবে, মোহর দিতে হবে ২০ হাজার। বাকি থাকলো ৪০ হাজার। এবার সংসার চালাবে, বউয়ের, বাচ্চার, মায়ের খরচ চালাবে এই টাকা থেকে।

আর মেয়ে কি করবে? সে যে ৩০ হাজার পেয়েছে, এটা তার একাউন্টে জমা। সে বিয়ে করবে, স্বামীর কাছ থেকে মোহর পাবে ২০ হাজার। হলো ৫০ হাজার। এই ৫০ হাজার টাকায় হাত দেওয়ার অধিকার ইসলামে তার স্বামীরও নেই। সে চাইলে ব্যবসা করবে, চাইলে জমিয়ে রাখবে। তার বাধ্যতামূলক এক টাকাও খরচ করতে হবে না।

এবার বলো শেষ পর্যন্ত লাভবান কে হলো? মেয়ে।

তাই আলেমরা বলেন, ইসলামে নারীকে অর্ধেক দিয়ে কম দেওয়া হয় নাই, বরং তাকে খরচ থেকে বাঁচিয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে। পুরুষকে ডবল দিয়ে তার ঘাড়ে পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরেকটা বিষয়, একজন নারী জীবনে ৪ জায়গা থেকে সম্পত্তি পায়, একজন পুরুষ পায় ১ বা ২ জায়গা থেকে।

নারী পায় বাবার থেকে মেয়ে হিসেবে, স্বামীর থেকে স্ত্রী হিসেবে, ছেলের থেকে মা হিসেবে, ভাইয়ের থেকে বোন হিসেবে। আর সবগুলো টাকাই তার নিজের, কাউকে দিতে হবে না।

পুরুষ পায় শুধু বাবার থেকে ছেলে হিসেবে।

তাহলে মর্যাদা কোথায়? মর্যাদা এখানেই যে ইসলাম নারীকে রানী বানিয়ে ঘরে রাখতে চেয়েছে, তার হাতে টাকা দিয়ে বলেছে তোমার টাকা তোমারই। আর পুরুষকে বলেছে তুমি সারাদিন রোদে পুড়ে আয় করো, এনে রানীকে দাও।

ইসলামের আগে নারীরা সম্পত্তি পেতোই না। আরবের লোকেরা বলতো, যে ঘোড়ায় চড়তে পারে না, যুদ্ধ করতে পারে না, সে সম্পত্তি পাবে না। ইসলাম এসে প্রথম বলেছে, না, নারীও সম্পত্তি পাবে।

আর তোমরা যে সমতার কথা বলো, সমতা মানে ন্যায় না। ন্যায় মানে যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া। একজন ১০ কেজি ওজন নিতে পারে আর একজন ৫ কেজি, দুইজনকে ১০ কেজি দিলে সেটা সমতা, কিন্তু ন্যায় না। ন্যায় হলো একজনকে ১০ কেজি আর একজনকে ৫ কেজি দেওয়া।

ইসলাম ন্যায় করেছে, তোমাদের চোখে দেখা গাণিতিক সমতা করে নাই।

@সংগৃহীত

Address

Sonarpur, Kalikapur
Kolkata

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm

Telephone

+919830155430

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Anisur Rahaman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share