Advocate Sananda Nandi

Advocate Sananda Nandi আইন নিয়ে দু-চার কথা /
Awareness of law

এই ধরণের মেসেজ থেকে বিরত থাকুন । এই লিঙ্ক গুলোতেই লুকিয়ে থাকে আপনার পরিশ্রমে জমানো অর্থ ব্যাংক থেকে গায়েবের ঠিকানা। বর্ত...
11/06/2023

এই ধরণের মেসেজ থেকে বিরত থাকুন । এই লিঙ্ক গুলোতেই লুকিয়ে থাকে আপনার পরিশ্রমে জমানো অর্থ ব্যাংক থেকে গায়েবের ঠিকানা।
বর্তমানে এখন আর otp চাওয়া হয় না just লিংকটা click কিরলেই কেল্লা ফতে তাই নিজেকে নিজেই সাবধানে রাখুন । মনে রাখবেন চট জলদি পয়সা রোজগার করা কোনো কালেই সম্ভব হয়নি এখনো হবে না ।

সানন্দা নন্দী
এডভোকেট ,
আলিপুর জাজেস কোর্ট
☎️9051651993

গত ১৪/০৯/২০২০ তারিখে দুটি নতুন মামলা ( ডিভোর্স) রজু ( file )ও একটি এফিডেভিট এর জন্য শিয়ালদা কোর্টে গিয়েছিলাম । কোর্ট চলছ...
19/09/2020

গত ১৪/০৯/২০২০ তারিখে দুটি নতুন মামলা ( ডিভোর্স) রজু ( file )ও একটি এফিডেভিট এর জন্য শিয়ালদা কোর্টে গিয়েছিলাম । কোর্ট চলছে তবে সাবধানতা অবলম্বন করেই । প্রত্যেকটি কোর্টেই মাস্ক, স্যানিটাইজার must ।

আইনি পরামর্শ ও আইনি সহায়তার ও পদক্ষেপ নেবার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন 👉 9051651993

অজ্ঞতা অন্ধকারের সামিল। আইনের অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ বেশি বিপদগ্রস্ত, প্রতারিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। আর প্রতিদিন যেভাবে...
04/09/2020

অজ্ঞতা অন্ধকারের সামিল। আইনের অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ বেশি বিপদগ্রস্ত, প্রতারিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। আর প্রতিদিন যেভাবে জন-সম্মুখে খুন, ধর্ষণ, সাইবার ক্রাইম, নারী নির্যাতন, পারিবারিক হিংসা ইত্যাদি আর তার থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন নতুন নতুন ঘৃণ্যকর নানা অপরাধ বাড়ছে তাতে অন্যান্য বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না রাখলেও আপনাকে দৈনন্দিন সাধারণ আইন এবং সাধারণ কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন / আবশ্যক।
এমনই একটি বিষয় হচ্ছে FIR বা First Information Report ।

বন্ধুরা "আইন নিয়ে দু'চার কথা / Awareness of Law" তে আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে FIR ( First Information Report )। আসুন জেনে নিই FIR সম্পর্কে ।

# FIR কি ?

সহজ কথায় অপরাধ বা অপরাধ মূলক কোনো কিছু ঘটনা ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে সংবাদ দেওয়া বা জানানো হয় তাকে FIR বলে। প্রকৃতপক্ষে FIR এর মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়। কারণ রাষ্ট্র পক্ষের যে কোন মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় FIR এর মাধ্যমে। অর্থাৎ যে কোনো ফৌজদারি মামলার প্রথম ধাপ হলো FIR। মূলত FIR দায়েরের উদ্দেশ্য হলো ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে চালু করে দেওয়া।

# FIR কে করতে পারে ?

*ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে;
*তার পরিবারের সদস্য;
*অন্য কোনো ব্যক্তি যিনি ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন ;
*ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার, যিনি ঘটনা সম্পর্কে জেনেছেন,
* কোর্টের আদেশ ক্রমে ।

# FIR কোথায় দায়ের করতে হয় ?

FIR দাখিল করতে পারেন ঘটনা স্থলের নিকটবর্তী থানায় বা আপনার নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্ম কর্তা বা ওসির কাছে।

# কিভাবে করবেন/ করা উচিৎ ?

FIR লিখিত ও মৌখিক দু’ভাবেই করা যায়। তবে লিখিত দেওয়াটাই ভালো। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, ঘটনার স্থান, সময়,কিভাবে ঘটনাটি ঘটলো, কেন ঘটলো, দায়ী ব্যক্তি ( অপরাধী) তথা আসামীর নাম-ঠিকানা জানা থাকলে তার পূর্ণ বিবরণ স্পষ্ট ভাবে লিখতে হবে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে FIR টি যদি লিখিত আকারে হয় তাহলে যেন অবশ্যই FIR-কারী/ কারিননীর পূর্ণ ঠিকানা ও সই যেন থাকে নইলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি সমস্যার সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা থাকে।
কিন্তু যদি মৌখিক আকারে FIR করা হয় তাহলে FIR কারী/ কারীনির বক্তব্য থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যেন সঠিক ভাবে লেখেন এবং তা অবশ্যই যেন পড়ে শোনানো হয়। তারপর যেন অভিযোগকারী/কারীনির সই/স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং যে কর্মকর্তা FIR লিখবেন তিনি যেন সিল ও সই দেন। একটা বিষয় মনে রাখবেন যে FIR করতে যেন খুব বেশি দেরী না হয়, তাহলে অনেক সময় মামলার গ্রহণ যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে কারণ এতে মামলার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং ফল স্বরূপ অভিযোগকারী মামলায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু FIR যদি কোনো কারণ বশতঃ দেরী করে করা হয় তাহলে তা যেনো সুস্পষ্ট ভাবে সেই দেরীর কারণ উল্লেখিত থাকে ।
FIR লেখার সময় একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন যে FIR যখন লিখবেন তখন যেন বেশী কাটাকুটি না করা হয় আর কোনোরূপ ভুল তথ্য যেন FIR -এ দেওয়া হয় তাহলে পরবর্তীকালে মামলার পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি করে। GD-র মতোই FIR দাখিল করতে কোনরূপ টাকা-পয়সা লাগে না।

# এক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব কি ?

FIR করার পর যদি উল্লিখিত অপরাধ আমলযোগ্য অর্থাৎ এমন কোনো ঘটনা সংক্রান্ত হয় যা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে আসামীদের ধরা যাবে বা শনাক্ত করা যাবে সেক্ষেত্রে পুলিশ ধরা ১৫৬-এর ভারতীয় অপরাধ মূলক পদ্ধতি,১৯৭৩ (The Criminal Procedure Code,1973 under section 156) অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে বা ঘটনার তদন্ত করবে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই। আর যদি FIR এ বর্ণিত অপরাধ বা বিষয়টি আমলযোগ্য না হয় তবে পুলিশ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিচারের আশায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করবে এবং সত্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য বা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে অনুমতি নেবে।
ধারা – ১৫৫ এবং ১৫৬ উভয় ক্ষেত্রেই মামলার তদন্ত অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি নীচে বর্ণিত ধাপ গুলো পালন করে থাকে –
১/ ঘটনাস্থলে যাওয়া।
২/মামলার ঘটনা এবং অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া ।
৩/ সন্দেহভাজন অপরাধী/অপরাধীদের খুঁজে বের করা এবং গ্রেপ্তার করা।
৪/অভিযুক্ত অপরাধ সম্পর্কে সাক্ষ্য – প্রমাণাদি সংগ্রহ করা , যেমন –
i)সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ অন্য ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি/জবানী নেওয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ করা,
ii) Case dairy(CD) তৈরী করা,
iii) ধারা ১৭৩ অনুযায়ী চার্জশিট তৈরির ব্যবস্থা করা।

# পুলিশ FIR নিতে না চাইলে কী করণীয় ?

*ভারতীয় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৫৪(১) উপধারা অনুযায়ী FIR দায়ের হলে তা গ্রহণ করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাধ্য এবং যদি তা করতে অস্বীকার করে তাহলে পুলিশ সুপেরিন্টেনডেন্ট (superintendent of police) এর কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন অথবা অন্য উচ্চ অফিসার যেমন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (Deputy Inspector General) ।

*আপনি পুলিশ সুপেরিন্টেনডেন্ট এর কাছে লিখিত কিংবা পোস্ট এর মাধ্যমেও আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন। বিষয়টি অবগত হলে তিনি নিজেই ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন বা কাউকে আদেশ দিতে পারেন ।
*আপনি ব্যক্তিগত ভাবে নিজের এক্তিয়ার ভুক্ত আদালতে গিয়ে মামলা রজু ( file) করতে পারেন।
* রাজ্য বা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনারের কাছে আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন।
*সংশ্লিষ্ট পুলিশ অধিকর্তা FIR নিতে নারাজ হলে ভারতীয় ফৌজদারি (Indian Penal Code ) এর ধারা ১৬৬ক(গ) কর্মে গাফিলতির জন্য ছয় মাস বা ২ বছরের সাজা পেতে পারেন। অবশ্যই অপরাধ গুলো হতে হবে cognizable offence(আদালত গ্রাহ্য অপরাধ)এর আওতায় ।

পরিশেষে বলে রাখি FIR যদি ঠিক মতো গুছিয়ে লিখতে না পারেন তাহলে কোনো অভিজ্ঞ কিংবা আইনবিশেষজ্ঞের সাহায্যেই তা লিখলে ভালো নতুবা ভবিষ্যতে মামলা পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

Sananda Nandi
Advocate,
Alipore Judges' Court &
Howrah Criminal Court,
☎️ 9051651993.

সকলকে ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানাই । বন্ধুরা "আইন নিয়ে দু'চার কথা / Awareness of Law" তে আজকের আলোচ্...
14/08/2020

সকলকে ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানাই । বন্ধুরা "আইন নিয়ে দু'চার কথা / Awareness of Law" তে আজকের আলোচ্য বিষয় হলো " জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং তার শাস্তি"। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে হঠাৎ এই রকম বিষয় নিয়ে কেন আলোচনা করছি সেটা অনেকের মধ্যেই নাড়াচাড়া করতে পারে। আসলে সেই শিশু কাল থেকে এখনো অবধি দেখে আসছি যে আমরা সবাই খুব ঘটা করেই স্বাধীনতা দিবস পালন করছি কিন্তু আমাদের জাতীয় পতাকাকে ঠিক কতটা সম্মান দিয়ে পারছি সেটা কিন্তু একটা বিরাট বড়ো প্রশ্নের সম্মুখীন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বিষয়।

আসলে কখনো কখনো মানুষ দেশপ্রেমে এমন উদ্বেল হয়ে ওঠে যে নিজের অবচেতনে বা চেতনে নিজের দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করে ফেলে। সাধারণত এ ধরণের আচরণের পিছনে সব সময় কু-উদ্দেশ্য কাজ না করলেও তার অজ্ঞতাবশত অবমাননাকর পরিস্হিতির উদ্ভব হয়। বস্তুত প্রতিটি দেশের জাতীয় পতাকার ব্যবহার বিধি, পতাকা ব্যবহারের আচরণ বিধিগুলিকে সংজ্ঞায়িত করে তা অগ্রাহ্য করার শাস্তি নির্ধারণ করে দেয়।
সুতরাং আজ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে একবার জেনে নিই জাতীয় পতাকার অবমাননা কি কি কারণে হয়ে থাকে। জাতীয় পতাকাকে সম্মান করা এ আমাদের গুরু দ্বায়িত্বের মধ্যে পরে যাতে সবাই এঁর অপমান যেন কোনো ভাবেই না নিজের দ্বারা না অন্যের দ্বারা হয়।

#জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং তার শাস্তি :
----------------------------------------------------------------

“The Prevention of Insults of National Honour Act, 1971” অনুযায়ী ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা বলতে যা বোঝায় তা হলো :

১/ যে কোনো ব্যক্তির দ্বারা যেকোনো প্রকাশ্য জায়গা যাকে public place বলে গণ্য করা হয় এমন কোনো জায়গায় জাতীয় পতাকাকে লাগানো, ছিঁড়ে ফেলা, বিকৃত করা, পা দিয়ে মারানো, মৌখিক বা লিখিত আকারে জাতীয় পতাকায় অশ্লিল বা অবমাননা সূচক মন্তব্য লেখা।

২/ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে জাতীয় পতাকাকে সেই ব্যক্তির পায়ে ভু-পতিত করা / পায়ের নিচে ফেলা।

৩/ সরকারী নির্দেশ ছাড়া জাতীয় পতাকাকে অর্ধনমিত করা।

৪/ রাষ্ট্রীয় স্তরে ও সামরিক ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ছাড়া জাতীয় পতাকাকে আচ্ছাদনের সামগ্রী হিসাবে ব্যবহার করা।

৫/ কোমড়ের নীচে পড়া পোশাকের ক্ষেত্রে কাপড় বা প্রিন্ট হিসাবে জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করা।

৬/ এমব্রয়ডারি বা প্রিন্ট হিসাবে বালিশ, তোষক, রুমাল, ন্যাপকিন, অন্তর্বাস সহ যেকোনো পোশাকের উপাদান জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করা।

৭/ জাতীয় পতাকার ওপর অশ্লিল/শ্লিল যে কোনো ধরনের মন্তব্য করা।

৮/ ফুলের পাঁপড়ি ছাড়া অন্য যেকোনো জিনিস মুড়ে রাখার সামগ্রী হিসাবে জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করা।

৯/ কোনো মূর্তি, মনুমেন্ট, বক্তৃতা দেওয়ার ডেস্ক/প্লাটফর্মে জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করা।

১০/ ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় পতাকাকে মাটিতে ফেলা বা জলে ভাসানো।

১১/ জাতীয় পতাকাকে বা জাতীয় পতাকার প্রিন্ট হিসাবে ত্রিপল, পর্দা, চাদর হিসাবে যেকোনো স্থান ও যেকোনো গাড়ীসহ নৌকা, ট্রেন / প্লেনে ব্যবহার করা।

১২/ যেকোনো ভবন/বাড়ীর আচ্ছাদন হিসাবে জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করা।

১৩/ ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় পতাকার গেরুয়া রঙটি নীচে ব্যবহার করা হয় বা জাতীয় পতাকা যদি উল্টানো থাকে।

১৪/ জাতীয় পতাকা তৈরির উপাদান হিসাবে প্লাস্টিক ব্যবহার।

১৫/ কাগজের তৈরি জাতীয় পতাকা অনুষ্ঠান শেষে যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া ।

#জাতীয় পতাকা অবমাননা স্বরূপ শাস্তি :

“ The Prevention of Insults of National Honour Act, 1971” অনুযায়ী ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার শাস্তি স্বরূপ সর্বাধিক তিন বছর অবধি জেল অথবা জরিমানা অথবা দুটোই হতে পারে।

Sananda Nandi
Advocate,
Alipore Judges' Court
Kolkata
Contact No. - 9051651993.

বর্তমানে আমরা প্রত্যেকেই একটা কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং জীবন কাটাচ্ছি যেটা অত্যন্ত কষ্টকর কিন্তু আমাদের আশাহত হলে বা ভেঙে পড়লে ...
06/08/2020

বর্তমানে আমরা প্রত্যেকেই একটা কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং জীবন কাটাচ্ছি যেটা অত্যন্ত কষ্টকর কিন্তু আমাদের আশাহত হলে বা ভেঙে পড়লে চলবে না কারণ কোনো দুঃসময়ই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই ভরসা বা ভেঙে পড়বেন না সুস্থ ও মনের জোর কে ভেঙে যেতে দেবেন না । ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন 🙏

বন্ধুরা "আইন নিয়ে দু'চার কথা /Awareness of Law" তে আজ যে বিষয়ের ওপর একটি ধারণা দেবো টা হলো " জেনারেন ডায়েরী/ জিডি (General dairy / GD entry) ।
থানায় জিডি করা বা পুলিশি সহায়তা/সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে নানান রকম ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে বিষয়টি অত্যন্ত ঝামেলার এবং খরচ সাপেক্ষ। কিন্তু জিডি করা খুবই সহজ একটি বিষয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বটে। জিডি একদম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায় এবং জিডির কপি ও তার এন্ট্রি নং ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই থানা থেকে প্রদান করা হয়।

আসুন চট-জলদি জিডি সম্পর্কে জেনে নিই ।

#জিডি/ জেনারেল ডায়েরী কি ?

জিডি বা জেনারেল ডায়েরী বা সাধারণ ডায়েরী হলো কোনো বিষয়ে সাধারণ বিবরণ যা কিনা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক-এর কাছে সমস্ত বিবরণ সহ অভিযোগকারী / অভিযোগকারিণী অভিযোগ করেন আর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বিবরণ সমূহ একটি বিশেষ বইয়ে / রেজিস্টার্ড খাতায় সংরক্ষণ করে থাকেন এবং প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন ।
জিডি / জেনারেল ডায়েরী সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ আছে পুলিশ আইন ১৮৬১,ধারা-৪৪ (the Police Act,1861 under section-44), ভারতীয় ফৌজদারী আইন ১৮৭৩-এর ধারা-১৭২ (The Criminal Procedure Code,1973 under section-172) তে।

#জিডি কে এবং কখন করবেন ?

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি থানা থেকে তাৎক্ষণিক জরুরী/প্রয়োজন নেই কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ভবিষ্যত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন এমন সব বিষয়ে সাধারণ ডায়েরী/ জেনারেল ডায়েরী/জিডি করতে পারেন/পারবেন ।

#কি কি বিষয়ে জিডি করবেন ?

*পাসপোর্ট, পরিচয় পত্র, ব্যাংকের চেকবই এবং পাস-বই, সার্টিফিকেট বা অন্য যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র/documents, মোবাইল ফোন বা কোনো মূল্যবান দ্রব্য ইত্যাদি হারিয়ে ফেললে;

*জন-সাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা ব্যাঘাত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন কোনো অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কে আগাম তথ্য সম্পর্কে জানতে পারলে;

*পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক, নাবালক, মানসিক ভারসাম্যহীন হারিয়ে গেলে বা নিখোঁজ হলে;

*বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হলে;

*কেউ ভয় বা হুকমি দিলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে তখন;

*অপরিচিত কোনো ব্যক্তি ফোনে এটিম কার্ড এর পিন নম্বর (ATM card pin no) সংক্রান্ত বা ব্যাংকের একাউন্ট নম্বর সংক্রান্ত গোপন তথ্য জানতে চাইলে ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হলে করতে পারেন।

#জিডি কোথায় করবেন এবং কিভাবে করবেন ?

জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা আছে সেই এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিৎ নতুবা পরবর্তী কালে আইনি পদক্ষেপ নিতে অসুবিধা হবার সম্ভাবনা হতে পারে।জিডি সব সময়ই লিখিত আকারেই করতে হয়। লিখিত দরখাস্তটি করতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার( যেখানে ঘটনা ঘটেছে/ঘটার আশঙ্কা রয়েছে) ভারপ্রাপ্ত কর্ম কর্তার (ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক) কাছে। জিডির বয়ান এমন ভাবে লিখবেন যাতে মূল বিষয়বস্তু সুস্পষ্ট থাকে এবং পরবর্তী কালে প্রয়োজনে প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে কোনো অসুবিধা না হয় এবং সংশ্লিষ্ট দরখাস্তটি কমপক্ষে দুটি কপি করবেন, একটি হাতে লিখবেন ও অপরটি সেই হাতে লেখার একটি জেরক্স করবেন। একটি কপি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অধিকারী কে জমা দেবেন এবং অনুলিপি টি (জেরক্স কপি) সই করিয়ে একটি নম্বর সহ রিসিভ করিয়ে নিজের কাছে রাখবেন। মনে রাখবেন জিডির নম্বর সংগ্রহ না করলে সেই জিডি মূল্যহীন। জিডি তাৎক্ষণিক ঘটনার বিবরণ সমূহ থানায় জানানো উচিৎ কিন্তু যদি কোনো কারণ বসত দিনের দিন না করতে পারেন তাহলে দেরি হবার যথপোযুক্ত কারণ লিখিত দরখাস্তে উল্লেখ করতে হবে।

পরিশেষে জানিয়ে রাখি যেকোনো অপরাধ মূলক কাজের অভিযোগ যেমন – চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মারামারি, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির জন্য জিডি করা হয় না, করা হয় এফ.আই.আর (FIR)।

Sananda Nandi
Advocate,
Alipore Judges' Court
Kolkata.
M- 9051651993.

আইনি পরামর্শ এবং আইনি সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যোগাযোগ করুন 👉 9051651993 নং এ ।

বন্ধুরা আইন নিয়ে দু'চার কথা / Awareness of Law তে আজকের বিষয় হলো "লিগ্যাল নোটিশ বা উকিলের নোটিশ । আলোচনার শুরুতেই একটা ক...
26/07/2020

বন্ধুরা আইন নিয়ে দু'চার কথা / Awareness of Law তে আজকের বিষয় হলো "লিগ্যাল নোটিশ বা উকিলের নোটিশ । আলোচনার শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি দৈনন্দিন জীবনে মোটামুটি আমাদের সকলকেই এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হয় যেটার মাধ্যম আইনী, কারণ প্রত্যেকটি রাস্তাতে হাঁটবার একটি নির্দিষ্ট পন্থা আছে আমাদের সেই পন্থাই অনুসরণ করতে হয় এবং হবে এতে আমাদের চলার পথ মসৃণ ও মজবুত হয়। আসুন একটু জেনে নিই "লিগ্যাল নোটিশ / উকিলের নোটিশ" কি বা এর প্রয়োজনীয়তা কি ।

# লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল/উকিলের নোটিশ কি ?

লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ হলো কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিকে এমন কোনো বিষয়ে আইনগত ভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো যা পালন না করলে নোটিশদাতা নোটিশ গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেই মর্মে ঘোষণা দেন।
মূলত লিগ্যাল নোটিশ হলো কারো বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবার চূড়ান্ত সংকেত এবং এর উদ্দেশ্য হলো নোটিশ গ্রহীতাকে নোটিশের উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য সুযোগ দেওয়া।

# লিগ্যাল নোটিশ কেন দেবেন বা কখন লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয় ?

কারো বিরুদ্ধে যে কোনো ধরণের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে একটি সুযোগ দেওয়া হয়। যদি সেই ব্যক্তি বা সংস্থা লিগ্যাল নোটিশ পেয়ে নোটিশদাতার দাবী পূরণে রাজী হয়ে যান তাহলে আর পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো আইনী সুবিধা পাওয়ার একটি বড় আত্মরক্ষা মূলক ব্যবস্থা, তাই যদি লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমেই আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাহলে আর মামলা পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছায় না।

#কখন দেবেন লিগ্যাল নোটিশ ?

মূলত পারিবারিক বিষয়, জমি-জমা থেকে শুরু করে আর্থিক, প্রশাসনিক বিষয়ে যেকোনো আইনী বিরোধ থাকলেই উকিল নোটিশ / লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যায়। নোটিশে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয় এবং সেই সময়সীমার মধ্যে বিরোধের সমাধান করতে বলা হয় , অন্যথায় বিবাদী বা আসামির বিরুদ্ধে কোন ধারায় বা কি ধরণের মামলা করবে তা সতর্ক করে দেওয়া হয়।

# কিভাবে লিগ্যাল নোটিশ দেবেন ?

লিগ্যাল নোটিশ সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠাতে হয়। এছাড়াও প্ৰশাসনিক অনেক কর্মকর্তার মাধ্যমেও লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়ে থাকে ।

*****************************
Advocate Sananda Nandi
Alipore Judges' Court
Kolkata -27
Mob. -9051651993.

আইন নিয়ে দু- কথাতে আজ আলোচ্য বিষয় হলো “শশুর বাড়ীতে মেয়েদের অধিকার”। আলোচনার শুরুতেই বলে রাখি এই যে লেখাটি মেয়েদের সচেতন ...
21/07/2020

আইন নিয়ে দু- কথাতে আজ আলোচ্য বিষয় হলো “শশুর বাড়ীতে মেয়েদের অধিকার”। আলোচনার শুরুতেই বলে রাখি এই যে লেখাটি মেয়েদের সচেতন মূলক হলেও পুরুষদের বিরুদ্ধে ভাবলে ভুল হবে। মনে রাখবেন এখানে একটি মেয়ে মানে আমাদের বাড়ীর বা পরিবারের অংশ , যেমনটি একজন পুরুষ আমাদের পরিবারের অংশ ঠিক তেমনই। যদিও বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় না। বিয়ের পর স্ত্রীকে বোঝা ভাবছেন বা ভাবেন সমাজে এমন পুরুষের সংখ্যাও কম নন আর সেই বিবাহিত জীবনে বহু মেয়েই অত্যাচারিত হয়েও মুখ বুজে পরে পরে মার খান শুধুমাত্র নিজেদের অধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ওয়াকিবহাল নন বলে।

সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার চাপ এবং উৎকণ্ঠা দুটোই থাকে, তাই বিয়ের আগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন এদেশের আইন বিবাহিত মেয়েদের কোন কোন অধিকারের কথা বলছে ।

# শশুরবাড়িতে কী কী আইনি অধিকার থাকে মেয়েদের, এক নজরে :

এখনও এদেশে প্রায় প্রত্যেক দিনই বধূ নির্যাতনের খবর আসে। শুধু তাই নয় শ্শুর বাড়ীতে বধূকে কটূক্তি বা গঞ্জনার মতো কথাও শোনা যায় আর এই ধরনের ঘটনা ততদিন ঘটতে থাকবে, যতদিন না মেয়েরা বিয়ের পরে তাদের আইনি অধিকারগুলি সম্পর্কে সচেতন হবেন। শশুরবাড়িতে যে মেয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের যোগ্য অধিকার এবং সম্মান পান না, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হল ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়, যেখানে বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণন ও দীপক মিশ্রের বেঞ্চ জানায় যে, বাড়ির বউয়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতো ব্যবহার করতে হবে, অপরিচিতের মতো নয়। সে পরিবারের অংশ, বাড়ির কাজের লোক নয়। এবং কোনও পরিস্থিতিতেই তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া যাবে না।

সবধর্মনির্বিশেষে:

১. সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার। পূত্রবধূর উপর কোনও রকম শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট,২০০৫(D.V.Act, 2005) এর লঙ্ঘন। তাই শুধু যে গায়ে হাত তুললেই নয়, দুর্ব্যবহার ও ইচ্ছাকৃত মানসিক অত্যাচারও ভায়োলেন্সের মধ্যে পড়ে।

২. স্বামী ও পরিবার যে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, বধূকে ঠিক সমমানের জীবনযাত্রা দিতে হবে। এমনকী, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে গেলেও স্ত্রী ও তার সন্তানের খাওয়া-দাওয়া, থাকার জায়গা, পরিধান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত খরচ- খরচা বহন করা স্বামীর ‘আইনি’ কর্তব্য।

হিন্দু বধূদের অধিকার:

৩. "স্ত্রীধন "হল সেই সমস্ত উপহার যা বিয়ের আগে বা পরে অর্থাৎ বিয়ে উপলক্ষে এবং সন্তানের জন্মের সময় একজন ভারতীয় বধূ পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে পড়ে যে কোনও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, গয়না, উপহার, টাকা সব কিছুই। হিন্দু সাকসেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, এই স্ত্রীধনের উপর একজন বধূর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এমনকী, যদি তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের থাকে, তবেও তিনি যে কোনও সময় স্ত্রীধন তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করতে পারেন। একজন বিবাহিত নারীর স্ত্রীধনের অধিকারকে নস্যাৎ করা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫-এর অন্তর্গত একটি অপরাধ। আবার স্ত্রীধন নষ্ট বা তার অপব্যবহারও সেকশন ৪০৫ অনুযায়ী একটি অপরাধ।

৪. যতক্ষণ না বিবাহবিচ্ছেদের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকারই শেষ কথা। স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রাখতে পারেন না কোনও স্বামী।

৫. স্বামী যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়িতে থাকার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে বিবাহিত স্ত্রীর, সেটা হতে পারে স্বামীর পারিবারিক সম্পত্তি, ভাড়া করা বাড়ি অথবা কর্মসূত্রে পাওয়া থাকার জায়গা। স্ত্রীর সেই বাড়ির মালিক হোন বা না হোন, তিনি যতদিন বাঁচবেন, ততদিন সেই বাড়িতে থাকার আইনি অধিকার রয়েছে তাঁর।

মুসলিম বধূদের অধিকার:

৬. হিন্দুদের স্ত্রীধনের মতোই অনেকটা মুসলিমদের মেহের। বিয়ের সময় এটি স্ত্রীকে স্বামীর উপহার এবং একই সঙ্গে একটা প্রতিশ্রুতিও বটে। এর মধ্যে গয়না, নগদ অর্থ, বাড়ি অথবা যে অর্থমূল্য রয়েছে এমন যে কোনও সম্পত্তি হতে পারে। মেহের-এর সম্পূর্ণ অধিকার কিন্তু সেই নারীর এবং সহবাস শুরু করার আগে মেহের স্ত্রীকে দান করতে হয়। তা না হলে স্ত্রী সহবাস আটকে দিতে পারেন। অনাদায়ী মেহেরের জন্য স্ত্রী আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন। সেকশন ১২৫-এর মধ্যেও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে ধরা হয় মেহেরের অর্থ।

৭. শরিয়তী আইন অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পরে একজন মুসলিম নারী তাঁর স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের একভাগের ভাগীদার হবেন যদি তাঁদের সন্তানাদি থাকে। সন্তান না থাকলে স্বামীর সম্পত্তির চারভাগের একভাগ স্ত্রীর প্রাপ্য।

৮. বিবাহবিচ্ছেদের পরে, ইদ্দত পর্যায় পর্যন্ত খরচা বহন করা স্বামীর দায়িত্ব। ইদ্দত শেষ হলে যদি সেই নারীর পুনর্বিবাহ না হয় এবং সে নিজের খরচা বহন করতে অক্ষম হয় তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ খরচের জন্য আবেদন করা যায় মুসলিম নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনের আওতায়।

*********************************
Sananda Nandi
Advocate
Alipore Judges' Court
Mob.- 9051651993

21/07/2020

আইন নিয়ে দু- কথাতে আজ আলোচ্য বিষয় হলো “শশুর বাড়ীতে মেয়েদের অধিকার”। আলোচনার শুরুতেই বলে রাখি এই যে লেখাটি মেয়েদের সচেতন মূলক হলেও পুরুষদের বিরুদ্ধে ভাবলে ভুল হবে। মনে রাখবেন এখানে একটি মেয়ে মানে আমাদের বাড়ীর বা পরিবারের অংশ , যেমনটি একজন পুরুষ আমাদের পরিবারের অংশ ঠিক তেমনই। যদিও বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় না। বিয়ের পর স্ত্রীকে বোঝা ভাবছেন বা ভাবেন সমাজে এমন পুরুষের সংখ্যাও কম নন আর সেই বিবাহিত জীবনে বহু মেয়েই অত্যাচারিত হয়েও মুখ বুজে পরে পরে মার খান শুধুমাত্র নিজেদের অধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ওয়াকিবহাল নন বলে।

সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার চাপ এবং উৎকণ্ঠা দুটোই থাকে, তাই বিয়ের আগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন এদেশের আইন বিবাহিত মেয়েদের কোন কোন অধিকারের কথা বলছে ।

# শশুরবাড়িতে কী কী আইনি অধিকার থাকে মেয়েদের, এক নজরে :

এখনও এদেশে প্রায় প্রত্যেক দিনই বধূ নির্যাতনের খবর আসে। শুধু তাই নয় শশুর বাড়ীতে বধূকে কটূক্তি বা গঞ্জনার মতো কথাও শোনা যায় আর এই ধরনের ঘটনা ততদিন ঘটতে থাকবে, যতদিন না মেয়েরা বিয়ের পরে তাদের আইনি অধিকারগুলি সম্পর্কে সচেতন হবেন। শশুরবাড়িতে যে মেয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের যোগ্য অধিকার এবং সম্মান পান না, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হল ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়, যেখানে বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণন ও দীপক মিশ্রের বেঞ্চ জানায় যে, বাড়ির বউয়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতো ব্যবহার করতে হবে, অপরিচিতের মতো নয়। সে পরিবারের অংশ, বাড়ির কাজের লোক নয়। এবং কোনও পরিস্থিতিতেই তাকে শশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া যাবে না।

সব ধর্ম নির্বিশেষে:

১. সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার। পূত্রবধূর উপর কোনও রকম শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট,২০০৫(D.V.Act, 2005) এর লঙ্ঘন। তাই শুধু যে গায়ে হাত তুললেই নয়, দুর্ব্যবহার ও ইচ্ছাকৃত মানসিক অত্যাচারও ভায়োলেন্সের মধ্যে পড়ে।

২. স্বামী ও পরিবার যে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, বধূকে ঠিক সমমানের জীবনযাত্রা দিতে হবে। এমনকী, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে গেলেও স্ত্রী ও তার সন্তানের খাওয়া-দাওয়া, থাকার জায়গা, পরিধান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত খরচ- খরচা বহন করা স্বামীর ‘আইনি’ কর্তব্য।

হিন্দু বধূদের অধিকার:

৩. "স্ত্রীধন "হল সেই সমস্ত উপহার যা বিয়ের আগে বা পরে অর্থাৎ বিয়ে উপলক্ষে এবং সন্তানের জন্মের সময় একজন ভারতীয় বধূ পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে পড়ে যে কোনও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, গয়না, উপহার, টাকা সব কিছুই। হিন্দু সাকসেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, এই স্ত্রীধনের উপর একজন বধূর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এমনকী, যদি তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের থাকে, তবেও তিনি যে কোনও সময় স্ত্রীধন তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করতে পারেন। একজন বিবাহিত নারীর স্ত্রীধনের অধিকারকে নস্যাৎ করা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫-এর অন্তর্গত একটি অপরাধ। আবার স্ত্রীধন নষ্ট বা তার অপব্যবহারও সেকশন ৪০৫ অনুযায়ী একটি অপরাধ।

৪. যতক্ষণ না বিবাহবিচ্ছেদের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকারই শেষ কথা। স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রাখতে পারেন না কোনও স্বামী।

৫. স্বামী যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়িতে থাকার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে বিবাহিত স্ত্রীর, সেটা হতে পারে স্বামীর পারিবারিক সম্পত্তি, ভাড়া করা বাড়ি অথবা কর্মসূত্রে পাওয়া থাকার জায়গা। স্ত্রীর সেই বাড়ির মালিক হোন বা না হোন, তিনি যতদিন বাঁচবেন, ততদিন সেই বাড়িতে থাকার আইনি অধিকার রয়েছে তাঁর।

মুসলিম বধূদের অধিকার:

৬. হিন্দুদের স্ত্রীধনের মতোই অনেকটা মুসলিমদের মেহের। বিয়ের সময় এটি স্ত্রীকে স্বামীর উপহার এবং একই সঙ্গে একটা প্রতিশ্রুতিও বটে। এর মধ্যে গয়না, নগদ অর্থ, বাড়ি অথবা যে অর্থমূল্য রয়েছে এমন যে কোনও সম্পত্তি হতে পারে। মেহের-এর সম্পূর্ণ অধিকার কিন্তু সেই নারীর এবং সহবাস শুরু করার আগে মেহের স্ত্রীকে দান করতে হয়। তা না হলে স্ত্রী সহবাস আটকে দিতে পারেন। অনাদায়ী মেহেরের জন্য স্ত্রী আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন। সেকশন ১২৫-এর মধ্যেও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে ধরা হয় মেহেরের অর্থ।

৭. শরিয়তী আইন অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পরে একজন মুসলিম নারী তাঁর স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের একভাগের ভাগীদার হবেন যদি তাঁদের সন্তানাদি থাকে। সন্তান না থাকলে স্বামীর সম্পত্তির চারভাগের একভাগ স্ত্রীর প্রাপ্য।

৮. বিবাহবিচ্ছেদের পরে, ইদ্দত পর্যায় পর্যন্ত খরচা বহন করা স্বামীর দায়িত্ব। ইদ্দত শেষ হলে যদি সেই নারীর পুনর্বিবাহ না হয় এবং সে নিজের খরচা বহন করতে অক্ষম হয় তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ খরচের জন্য আবেদন করা যায় মুসলিম নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনের আওতায়।

*********************************
Sananda Nandi
Advocate
Alipore Judges' Court
Mob.- 9051651993

Address

Kolkata

Opening Hours

Monday 10am - 7pm
Tuesday 10am - 7pm
Wednesday 10am - 7pm
Thursday 10am - 7pm
Friday 10am - 7pm
Saturday 10am - 7pm

Telephone

+919051651993

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Sananda Nandi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Advocate Sananda Nandi:

Share

Category