22/08/2024
★ট্রাফিক পুলিশের কাজ হলো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, ট্রাফিক নিরাপত্তা সচেতনতা এবং সড়ক দুর্ঘটনার শিকারদের দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। বিনা কারণে জনগণকে নির্যাতন করা পুলিশের এক্তিয়ারের মধ্যে নেই।
★ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করায় পুলিশের এক্তিয়ার নেই জোর করে আপনার গাড়ি বা বাইকের চাবি কেড়ে নেওয়া। আপনাকে স্পষ্ট ফাইন করার জন্য ট্রাফিক পুলিশের একটি ই-চালান মেশিন বা একটি চালান বই থাকে। পুলিশের এটি ছাড়া জরিমানা আরোপের অনুমতি দেওয়া নেই।
★ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে হেড কনস্টেবল শুধু ১০০ পর্যন্ত জরিমানর চালান কাটতে পারেন। সাধারণ কনস্টেবল এই চালানে সই করতে পারেন না। এসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর , সাব-ইন্সপেক্টর এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর এর থেকে বেশি অঙ্কেরনজরিমানা আপনার কাছ থেকে আদায় করতে পারেন। (ভারতীয় মোটর - যানবাহন আইন, ধারা 132)।
★ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অপরাধে আপনাকে গ্রেপ্তার করার অধিকার ট্রাফিক পুলিশের নেই। আপনার গাড়ি বা বাইকের দূষণ নিয়ন্ত্রণের কাগজপত্র (PSU) দেখার অধিকার শুধুমাত্র আরটিও RTO কর্মকর্তাদের আছে ।
★ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) এর সেকশান 185 মোতাবেক পুলিশ দ্বারা পরিচালিত অনুসন্ধানের সময় এবং সেকশান 105 মোতাবেক কোনও সম্পত্তির দখল নেওয়ার প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি বাধ্যতামূলক। পুলিশ যদি আপনার বাইক বা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে তার পুরো পক্রিকা ভিডিও ডকুমেন্টেশন করা জরুরী।
★ভারতীয় স্বাক্ষ অধিনিয়ম ( BSA) এর সেকশান 61 মোতাবেক ইলেকট্রনিক এভিডেন্স কোর্ট একসেপ্ট করে। আপনার গাড়ি বা বাইক যখন পুলিশ আঁটকাবে তখন অবশ্যই পুরো ঘটনা এভিডেন্স হিসেবে ভিডিও রেকর্ডিং রাখা আপনার অধিকার। আপনার সাথে অন ডিউটি পুলিশের কথপোকথন আপনি রেকর্ড করতে পারেন। এটা বেআইনি নয়।
★আপনি যখন পুলিশি হ্যারাসমেন্টের ছবি রেকর্ড করবেন তখন পুলিশ আপনাকে মোবাইল ক্যামেরা বন্ধ করার হুমকি দিতে পারে। মারধোর করতে পারে। ওদের জানিয়ে দেবেন ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল 21 একজন নাগরিককে তার জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। যার মধ্যে রয়েছে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি থেকে মুক্ত থাকার অধিকার। সুতরাং ফিজিক্যাল টর্চার সংবিধান বিরোধী।
★যদি খুবই সামান্য কারণে আপনার গাড়ি বা বাইক থামিয়ে আপনার গাড়ি বা বাইকের চাবি ছিনতাই করা হয়। চালান ছাড়া টাকা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করলে আপনাকে মারধোর করা হয় অথবা মিথ্যা কেসে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির উপর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এর সেকশান 309 এর সাব সেকশান 2 অনুযায়ী ডাকাতি বা চুরির মাধ্যমে সম্পদ কেড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, তাৎক্ষণিক মারধোরের ভয় দেখানো, আঘাত করা ইত্যাদি আরোপিত হতে পারে। আপনার সঙ্গে এমনটা হলে আপনি পুরো ঘটনা ভিডিও রেকর্ডিং করুন। ঐ অঞ্চলের পুলিশ ইন্সপেক্টরকে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগ না নিতে চাইলে আপনি ইমেল করে বা পোস্ট করে ইন্সপেক্টর ও পুলিশ কমিশনার / সুপারকে জানান। পোস্ট করলে তার ডকুমেন্টস রাখবেন। অভিযোগ পাবার পরেও সংশ্লিষ্ট থানা ব্যবস্থা না নিলে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। পুলিশ নিস্ক্রিয়তার মামলা করুন। কোর্ট এই ধরনের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়।