Mufti Abdur Rasid Official

Mufti Abdur Rasid Official Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mufti Abdur Rasid Official, Legal, Barasat.

12/04/2026

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরীর কুরআন তাহরিফের আলোচনায় যুক্ত হবেঃ

নব্য সালাফীরা নিজেরাই অভিযুক্তঃ

কেননা তার সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন:-

ان نحن نزلنا الذكر وانا له لحافظون .

অর্থঃ আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী (সূরা হিজর ১৫/৯)। (পোষ্ট মর্টেম ২৪০ নং পৃষ্ঠা)

মন্তব্যঃ আয়াতের শুরুতে ان "ইন্না" আলিফ সহ হবে। অর্থাৎ ইন্না- انا হবে। তাহলে এখানে মানে হবে — নিশ্চয়ই আমি। আর নব্য সালাফীরা আলিফ ছাড়া ইন্না ان লিখেছেন। তাহলে এখানে অর্থ হবে— নিশ্চয়ই।
প্রিয় পাঠক! আপনারা ১৪ পারায় সূরাতুল হিজরের ৯ নম্বর আয়াতটি বারংবার দেখুন। সেখানে আছে—
انا ....
মোটকথা, ان ইন্নার সাথে আলিফ ব্যবহার না করাটা কুরআন মাজীদের শব্দগত পরিবর্তনের নামান্তর।

এতদসত্ত্বেও বলছি! এটা আপনাদের ইচ্ছাকৃত ভুল নয়; এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। অথবা টাইপ মিস্টেক। যা একেবারে সুস্পষ্ট। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র আপনাদের হিংসাত্মক মানসিকতা পরিবর্তনের জন্যই এতটুকু আলোচনা করলাম। আপনারা যদি উদার মনে বুঝতে পারতেন যে, আল্লামা আনঅর শাহ কাশ্মীরী রহ. এঁর বক্তব্যে فيها স্থলে টাইপ মিস্টেকে فيه হয়ে গেছে। তাহলে আর কোন সমস্যা থাকত না। যেহেতু আপনাদের মানসিকতা হিংসাত্মক। সেই জন্যই আপনারা উদার মনের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর উলামায়ে দেওবন্দের ঘাড়ে কুরআন মাজীদের শব্দগত পরিবর্তনের প্রবক্তার মত গুরুতর অপরাধ চাপিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করেছেন। এতে আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

11/04/2026

পোষ্ট মর্টেমের জবাবে যুক্ত হবে। রফউল ইয়াদাইন অধ্যায়। (পোষ্ট মর্টেমের জবাবে ৫ অধ্যায়ে যুক্ত করে দিয়েছি শুধু পঞ্চমতঃ জবাবটির শেষ অংশ বাকি রয়েছে)

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

আব্দুর রহমান বিন কুরাইশ এর পরিচয় হল: আব্দুর রহমান বিন কুরাইশ বিন ফুহাইর বিন খুযাইমাহ আবু নুআইম আল হারাবী। দেওবন্দী সাহেব তাঁর ব্যাপারে হাদীস জাল করার দোষে দুষ্ট কথাটি নকল করেছেন, মিযান ও লিসান থেকে। সুতরাং ইমাম যাহাবী ও ইবনু হাজার বলেন, সুলাইমানী তাঁকে হাদীস জাল করার দোষে অভিযুক্ত করেছেন (মীযান ৪৯৪১, লিসান ৩/৪২৫)।

অবশ্য ইমাম ইবনু হাজার পরক্ষণেই উল্লেখ করেছেন: খাত্বীব বাগদাদী বলেন, তাঁর হাদীসে আফরাদ ও গারাইব রয়েছে। আর আমি তাঁর ব্যাপারে কল্যাণ ব্যতীত কিছুই শুনিনি (লিসান ৩/৪২৬) এবং যাহাবী নিজেই উল্লেখ করেছেন: আব্দুর রহমান বিন কুরাইশ, আবু নুআইম আলহারাবী (মৃত্যু ৩০১-৩১০ হিঃ) মুহাম্মাদ বিন সাহল জাওযাজানী ও মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল সাইগ্ এবং এক জামাআত থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে জাফর খুলদী ও মাখলাদ বিন জাফর ও এক জামাআত হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁকে কেউ যঈফ বলেন নি (তারীখুল ইসলাম ৫৭৮)। ইমাম খাত্বীব বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হিঃ) বলেন, আব্দুর রহমান বিন কুরাইশের ব্যাপারে আমি কল্যাণ ব্যতীত কিছুই শুনিনি (তারীখে বাগদাদ ৫৪০০, তারীখে দামিল্ক ৭১১২)।

বলা বাহুল্য ইমাম যাহাবীর কথা পরস্পর বিরোধী হওয়া সত্বেও ইমাম যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হিঃ) এবং ইবনু হাজার (মৃত্যু ৮৫২) উভয়েই সুলাইমানী (৩১১-৪০৪ হিজরী, সিয়ার ৩৭৪০) থেকে সনদ বিহীন ভাবে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়তঃ সুলাইমানীর জন্মই হয়েছে আব্দুর রহমান বিন কুরাইশের ইন্তেকালের পরে। অতএব ইমাম যাহাবীর সেই কথাই সঠিক যে, কেউ তাঁকে যঈফ বলেন নি এবং খাত্বীব বাগদাদী (৪৬৩ হিঃ) এর যুগ পর্যন্ত তাঁর ব্যাপারে সকলেই ভালো কথা বলতেন। ... কেননা দ্বিতীয় সনদে হাদীসটি হাসান। (পোষ্ট মর্টেম ১২১-১২২ নং পৃষ্ঠা)

জবাবঃ

প্রথমতঃ নব্য সালাফীরা লিখেছেনঃ অবশ্য ইমাম ইবনু হাজার পরক্ষণেই উল্লেখ করেছেন: খাত্বীব বাগদাদী বলেন, তাঁর হাদীসে আফরাদ ও গারাইব রয়েছে। আর আমি তাঁর ব্যাপারে কল্যাণ ব্যতীত কিছুই শুনিনি (লিসান ৩/৪২৬)
প্রিয় সুধী! যাঁর হাদীসে আফরাদ তথা অন্য রাবী বা মুহাদ্দিসের সমর্থন থাকে না। আর গরাইব তথা আশ্চর্য আশ্চর্য বিষয় থাকে। তাঁর বর্ণিত হাদীস কতটা ওজন রাখে তা সহজে অনুমেয়। আর খত্বীব বাগদাদী রহ. তাঁর ব্যাপারে কল্যাণ ব্যতীত আর কিছু শোনেননি মানে এই নয়, যে তাঁর ব্যাপারে আর কোন আপত্তি নেই বা থাকতে পারে না। উলূমুল হাদীসের ছাত্রদের কাছে বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। যদিও নব্য সালাফীদের বলিষ্ঠ শায়খেরা বিষয়টি অনুধাবন করার একেবারেই যোগ্যতা রাখেন না।

দ্বিতীয়তঃ বহু যয়ীফ ও কাজ্জাব রাবীরা অন্যদের থেকে রেওয়াত করেন। আবার অন্যরা বহু কাজ্জাব ও যয়ীফ রাবীদের থেকেও রেওয়াত করেন। এর দৃষ্টান্ত হাদীসের কিতাবে বহু রয়েছে। তাহলে নব্য সালাফীরা এক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে পাঠকমন্ডলীকে কী বোঝাতে চাচ্ছেন? মনে রাখবেন, আপনারা ধোঁকা দিতে ব্যর্থ হবেন। কেননা, সত্যের আগমনে মিথ্যার পরাজয় ঘটে।

তৃতীয়তঃ নব্য সালাফীরা শেষাংশে গুদামজাত মিথ্যা কথা এভাবে লিখেছেন— তাঁকে কেউ যঈফ বলেন নি (তারীখুল ইসলাম ৫৭৮)। প্রিয় সুধী! "তাঁকে কেউ যঈফ বলেন নি" এই কথাটি ইমাম যাহাবী রহ. স্বীয় তারীখু ইসলাম গ্রন্থে মোটেই লেখেননি। বরং ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন— তাঁর হাদীসে গরাইব তথা আশ্চর্য আশ্চর্য বিষয় রয়েছে। আর নব্য সালাফীরা ভুয়ো কথা নিজেদের অবৈধ ফ্যাক্টরিতে তৈরি করে জাল প্রোডাক্ট বানিয়ে চালিয়ে দিয়েছেন ইমাম যাহাবী রহ. এঁর নামে। আশ্চর্য ! এবার "তারীখুল ইসলাম" গ্রন্থ থেকে ইমাম যাহাবী রহ. এঁর মূল কথা সত্যান্বেষী পাঠক লক্ষ্য করুন।—

عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ قُرَيْشٍ أَبُو نُعَيْمٍ الْهَرَوِيُّ الْجَلَّابُ. عَنْ: أَحْمَدَ بْنِ الْأَزْهَرِ، وَيَحْيَى بْنِ مُحَمَّدٍ الذُّهْلِيِّ. وَعَنْهُ: جَعْفَرٌ الْخُلْدِيُّ، وَمَخْلَدٌ الْبَاقَرْحِيُّ. حَدَّثَ بِبَغْدَادَ وَدِمَشْقَ. وَلَهُ غَرَائِبُ.
অনুবাদঃ আব্দুর রহমান বিন ক্বুরাইশ আবূ নুয়াইম আল হারাবী আল জাল্লাব। যাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন ... ।
যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ... । তিনি বাগদাদ এবং দামেস্কে হাদীস পাঠদান বা বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের মধ্যে 'গরাইব' তথা বিরল বা আশ্চর্য আশ্চর্য বর্ণনা রয়েছে। (তারীখুল ইসলাম ২৩/১২৩ নং পৃষ্ঠা, ১৪৫ নং ক্রমিক) প্রিয় পাঠক! "কেউ তাঁকে যয়ীফ বলেননি" একথা ইমাম যাহাবী রহ. কোথায় লিখেছেন? নব্য সালাফীদের ধরে তা জিজ্ঞাসা করুন।
মনে রাখবেন, হযরত ইসরাইল আলাইহিস সালাম সিংগাই ফুৎকার দেওয়া পর্যন্ত নব্য সালাফীরা ইমাম যাহাবী রহ. এঁর "তারীখুল ইসলাম" গ্রন্থ থেকে দেখাতে পারবেন না। যেহেতু তাঁরা মিথ্যুক।

চতুর্থতঃ এক্ষেত্রে ইমাম যাহাবী রহ. পরস্পর বিরোধী কথা কিছুই বলেননি। মর্গের ডোমেরা ধান শুনতে গিয়ে কান শুনেছেন। উপরন্ত নব্য সালাফীরা ইমাম যাহাবী রহ. এঁর নামে মিথ্যাচার করে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। যা পাঠকদের সামনে একেবারে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।

পঞ্চমতঃ নব্য সালাফীরা সনদ হীনের অভিযোগ তুলে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। নব্য সালাফীদের জিজ্ঞাসা করুন! লক্ষ লক্ষ রাবীদের লক্ষ লক্ষ দোষ-গুণ বিচারের মধ্যে পরবর্তী রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে কয়টি দোষ-গুণ বিচারের সনদ রয়েছে? আপনারা সিয়ার, তারীখুল ইসলাম, তাহযীবুল কামাল, তাহযীব, তাক্বরীব প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে যে সমস্ত দোষ-গুণ নির্ণয় করেছেন, সবগুলোর সনদ রয়েছে? না অন্ধভাবে মেনে নিয়েছেন? যদি অন্ধভাবে মেনে নিয়ে থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে প্রশ্ন ও আপত্তি কেন? এই যে আপনারা মুহাদ্দিস সুলাইমানী রহ. এঁর জন্ম- মৃত্যু হিজরী সন (৩১১-৪০৪ হিজরী, সিয়ার ৩৭৪০) সিয়ার থেকে উল্লেখ করেছেন। সিয়ারে কি এর কোন সনদ রয়েছে? না, নেই। তাহলে বিশ্বাস করলেন কীভাবে? আসলে এসব নব্য সালাফীদের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ব্যর্থ প্রয়াস।
মনে রাখবেন, পরবর্তী রিজালবিদদের নিকট পূর্ববর্তী রিজালবিদদের কোন না কোন কিতাব অথবা কোন না কোন সাহারা নিশ্চয়ই অকাট্যভাবে মওজুদ ছিল। যার উপর ভিত্তি করে তাঁরা রাবীদের দোষ- গুণ তাঁদের রেফারেন্সে লিখতে ১০০% সক্ষম হয়েছেন। তবে কালের পরিবর্তে সে সমস্ত কিতাব ও পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে বা বিনষ্ট হয়ে গেছে। যেমন মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনু মানি' হাদীস গ্রন্থটি কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। অথচ উক্ত হাদীসের কিতাবের রেফারেন্সে বহু কিতাবে বহু হাদীস লিপিবদ্ধ রয়েছে।

ষষ্ঠত্বঃ আর শেষে আপনারা দাবি করেছেন, দ্বিতীয় সনদে হাদিসটি হাসান। বলি, আপনাদের কি পাগলা কুকুরে কামড়েছে? আর না হলে আলোচ্য আব্দুর রহমান বিন ক্বুরাইশ নামে হাদীস জালকারি অভিযুক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীসকে হাসান বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কোন মাতলামিতে? কোন লজ্জায়? রিজাল শাস্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আপনারা কত বড় ভুল পথে চলছেন ও জনগণকে চালাতে চাচ্ছেন আপনারা কি তা জানেন?

সপ্তমতঃ আপনাদের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ মহারথী, মুহাদ্দিস ও বিংশ শতাব্দীর একমাত্র শ্রেষ্ঠ রিজালবিদ নাসিরুদ্দীন আলবানী সাহেব বলেছেনঃ
قُلْتُ هَذَا إِسْنَادٌ مَوْضُوعٌ، الْمُتَّهَمُ بِهِ ابْنُ قُرَيْشٍ هَذَا
অনুবাদঃ আমি আলবানী বলছি! এটি জাল সনদ। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ইবনু ক্বুরাইশ। ইমাম যাহাবী বলেছেনঃ সুলাইমানী তাকে হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। (সিলসিলাতুল আহাদীসিয যয়ীফাহ্ ২/২২৮ নং পৃষ্ঠায় ৮২৮ নং হাদীসের আলোচনা)

অষ্টমতঃ আপনারা যেন ইমাম যাহাবী রহ. -এঁর উদ্ধৃতিতে আব্দুর রহমান বিন কুরাইশ, আবু নুআইম আলহারাবী -এঁর মৃত্যু (মৃত্যু ৩০১-৩১০ হিঃ) উল্লেখ করেছেন। এটা আপনাদের এক চরম পর্যায়ের ধোঁকাবাজি। কেননা, ইমাম যাহাবী রহ. তারীখুল ইসলাম গ্রন্থে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু সম্পর্কে কিছুই বলেননি। অথচ আপনারা তারীখুল ইসলাম গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে আনুমানিক মৃত্যু ৩০১-৩১০ হিজরী সন পেশ করেছেন। অবশ্য অন্যান্য ইতিহাসবিদরা কেউ কেউ ৩০৩ ও কেউ কেউ ৩১১ হিজরী সনের কথা বলেছেন। সুতরাং তাঁর মৃত্যু হিজরী সন নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

এ সকল বিদ্বানগণ দেওবন্দী সাহেব উল্লেখিত হাদীস, "রসূলুল্লাহ (সঃ) আমৃত্যু রাফউল ইয়াদায়েন করে স্বলাত পড়েছেন" দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং কেউ হাদীসটিকে জাল তো দূরের কথা যঈফও বলেন নি। সুতরাং দেওবন্দী সাহেবের নীমিবী মুকাল্লিদের তাকলীদ করতে গিয়ে জাল বলাটা মিথ্যা। (পোষ্ট মর্টেম ১২৩ নং পৃষ্ঠা)

জবাবঃ
প্রথমতঃ হাদীস সহীহ যয়ীফ ও জাল হওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হচ্ছে হাদীসের সনদের রাবী। যদি কোন সূত্রে কোন রাবী মিথ্যুক অভিযোগে অভিযুক্ত হন; তাহলে ওই সূত্রের হাদীসটি মাওযূ তথা জাল বলে সাব্যস্ত হয়। এটি সর্বজনবিদিত উসূল। এক্ষেত্রে কাউকে বলে দিতে হয় না যে, এই হাদীসটি এই সূত্রে জাল। অতএব, কেউ হাদীসটিকে জাল না বললেও জাল, আবার জাল বললেও জাল। এতে কিছু আসে না যায় না। এতটুকু বোধ বুদ্ধি আপনাদের নেই। অথচ উলূমুল হাদীসের প্রাথমিক ছাত্রদের এ বিষয়ে রয়েছে বিশাল পরিমাণে উপলব্ধি ও জ্ঞান। অতএব, আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। আপনারা আমাদের ছাত্রদের কাছে এসে উলূমুল হাদীসের শিক্ষা ও দীক্ষা গ্রহণ করুন। নচেৎ আপনাদের এই সামান্য বিদ্যায় হাদীসের জগতে আপনাদের ভরাডুবি নিশ্চিত।

দ্বিতীয়তঃ দেওবন্দী সাহেবের মুকাল্লিদের তাকলীদ করে জাল বলাটা মিথ্যা নয়! বরং সুস্পষ্ট বাস্তব ও সত্য। যা আপনারা বুঝতে একেবারে অক্ষম। আমি উপরেই বলেছি, হাদীস জাল করার দোষে দুষ্ট কোন রাবী সনদে থাকলে ওই সনদের হাদীসটিকে কেউ জাল বললেও জাল, না বললেও জাল। মনে রাখবেন, ইমাম নীমাবী রহ. জাল বলেছেন বলে হাদীসটি জাল এমনটা নয়। বরং ওই সনদে হাদীস জাল করার দোষে দুষ্টু রাবী থাকার কারণে হাদীসটি জাল।

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

যদি ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর হাদীস সহীহ হত তাহলেও আমলযোগ্য হত না। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি জবাব ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এখানে আর একটি শুনুন, যদি সহীহ হত তাহলে হাদীসটি মানসূখ হত। কেননা ইবনু মাসউদ তাত্ববীক্ব করতেন এবং তাত্ববীক্ব করার কথা বলতেন অর্থাৎ (দু' হাত দু' হাঁটুতে রাখার পরিবর্তে) দু' হাতের গজ হাতকে দু' উরুর উপর বিছিয়ে দিয়ে এবং দু' হাতের তালুকে একত্রিত করে দু' হাঁটুর মধ্যখানে চেপে রাখতে বলতেন এবং বলতেন রসূলুল্লাহ (সঃ) এটা করতেন (মুসলিম ৫৩৪, আহমাদ ৪২৭২)। তাত্ববীক সকলের ঐক্যমতেই মানসূখ। সুতরাং জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত ১০জন সাহাবীর মধ্যে ১জন, উমার ফারুক (রাঃ) দ্বারা নির্বাচিত মজলিসে শূরা.৬ সদস্যের ১জন, ৭ নম্বরে ইসলাম গ্রহণকারী, বদর সহ বিভিন্ন জিহাদে অংশ গ্রহণকারী, মুহাজির, সা'দ বিন আবু আক্কাস (রাঃ) (ইসতীআব ৯৬৩, হুসনুল মুহাযারাহ ১১৫)। বলেন, আমরা তাত্ববীক্ব করতাম, অতঃপর আমাদেরকে এটা করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাতের তালু হাঁটুর ওপরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (মুসলিম ৫৩৫, বুখারী ৭৯০, আবু দাউদ ৮৬৭, তিরমিযী ২৫৯, নাসাঈ ১০৩২, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৮৮৩, দারেমী ১৩৪১, বাইহাক্বী ২৫৪৩-২৫৪৪)। এতদ্বারা প্রতীয়মান হল যে, তাত্ববীক মানসূখ হয়ে গিয়েছে। (পোষ্ট মর্টেম ১৪২ নং পৃষ্ঠা)

জবাবঃ

প্রথমতঃ এইসব পাগলের প্রলাপ বৈ আর কিছুই নয়। নব্য সালাফীরা এত পাগলামি প্রকাশ করছেন যে তাঁদের পাগলা গারদে থাকাই শ্রেয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কেননা আপনারাই লিখেছেনঃ "তাত্ববীক্ব মানসূখ হয়ে গেছে এ বিষয়ে দ্বিমত নেই"। কিন্তু রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লহু আলাইহি অসাল্লাম রফউল ইয়াদাইন শুধুমাত্র একবার করেছেন এ বিষয়ে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রদ্বি. ছাড়াও অন্যান্য সাহাবাদের আমল রয়েছে। যেমন, আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমার রদ্বি.। (শারহু মাআনিল আ-সা-র ১/১২৭ নং পৃষ্ঠা, ১৩৬৪ নং হাদীস, আল্ মুস্বন্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ্ ২৪৫৪ নং হাদীস; হাদীসটি সহীহ্) আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলী রদ্বি.। (শারহু মাআনিল আ-সা-র ১/২২৫ নং পৃষ্ঠা, ১৩৫৩ নং হাদীস; হাদীসটি সহীহ্) সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রদ্বি (শারহু মাআনিল আ-সা-র ১৩৫৭ নং হাদীস, আল্ মুস্বন্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ্ ২৪৬৭ নং হাদীস; হাদীসটি সহীহ) প্রমুখ। অতএব একবার রফুল ইয়াদাইন করাটা মানসুখ এমন দাবি নিতান্তই মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

দ্বিতীয়তঃ ইমাম তিরমিযী রহ. বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেছেনঃ নবী স্বল্লাল্লহু আলাইহি অসাল্লাম -এঁর একাধিক সাহাবা ও তাবিয়ীন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রদ্বি. -এঁর হাদীসের অনুকূলে মত্ প্রদান করেছেন। আর সুফইয়ান সাওরী ও কূফাবাসীগণ এই মত্ গ্রহণ করেছেন। (জামে' তিরমিযী ১/৫৯ নং পৃষ্ঠা, ২৫৭ নং হাদীসের আলোচনা) উল্লেখ্য, আর আর কূফা নগরীতে (বসবাস করতেন) অবতরণ করেছেন ১০৫০ জন সাহাবী। যার মধ্যে ২৪ জন সাহাবী ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। সুতরাং, পঁচা ডিমের ন্যায় অশিক্ষিত নব্য সালাফীরা বলুন! রফউল ইয়াদাইন না করার হাদীসটি মানসূখ হলে একাধিক সাহাবা ও তাবিয়ীনেরি আমল ও গ্রহণ করলেন কেন? তাঁরা কি জানতেন না? হাদীসটি মনসূখ! জেনেছেন আপনারা? একেই বলে— আদার বেপারী হয়ে জাহাজের খবর নেওয়া!

তৃতীয়তঃ তাত্ববীক্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে আপনারাই তা রেফারেন্স সহ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রফউল ইয়াদাইন না করতে নিষেধ করা হয়নি। সুতরাং, আছেন কোন মর্গের ডোম? যিনি রফউল ইয়াদাইন না করা সম্পর্কে পরিষ্কার শব্দে সহীহ্- সরীহ একটিমাত্র নিষেধাজ্ঞা দেখাবেন! বরং আমরা বিশুদ্ধ সনদে একাধিক সাহাবা ও তাবিয়ীন থেকে দেখেয়েছি যে, তাঁরা রফউল ইয়াদাইন করতেন না।

চতুর্থতঃ তাত্ববীক্ব ও রফউল ইয়াদাইন না করা হাদীস দুটি ভিন্ন। সনদও ভিন্ন। প্রেক্ষাপটও ভিন্ন। উলামাদের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন। তাত্ববীক্ব পরবর্তীতে মানসূখ হয়ে গেছে যা আপনারাই উল্লেখ করেছেন। তাহলে সাহাবী ইবনু মাসঊদ রদ্বি. -এঁর তাত্ববীক্বের হাদীস ও রফউল ইয়াদাইন না করার হাদীসকে গুলিয়ে ফেলে একাকার করার অর্থ কী? সরলমনা পাঠকদের সংশয়ে ফেলার কারণ কী? এটি আপনাদের শয়তানি? না বদমাইশি? হঠকারিতা? না মূর্খতা?

28/03/2026

বিবিধঃ

হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টারঃ

"হানাফী মাযহাবের প্রকৃত ব্যারিস্টার" বলতে মূলত হানাফী মাযহাবের ইমাম ও ফক্বীহদের (আইন বিশেষজ্ঞদের) বোঝানো হয়। যাঁরা ইসলামী আইন বা ফিক্বহ্ শাস্ত্রকে একটি সুশৃঙ্খল- সুবিন্যস্ত আইনি কাঠামো প্রদান করেছেন ও তার স্বপক্ষে কুরআন- সুন্নাহ্ থেকে বিশুদ্ধ ও বলিষ্ঠ প্রমাণে নির্ভেজাল রেফারেন্স ও সমাদৃত ব্যাখ্যা পেশ করেছেন। যুগে যুগে কালজয়ী প্রামাণ্য গ্রন্থও সংকলন করেছেন।

মনে রাখবেন, প্রকৃতপক্ষে পরবর্তীতে হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার আল্লামা ইবনুল হুমাম রহ. ও আল্লামা আনঅর শাহ্ কাশ্মীরী রহ. প্রমুখ ছিলেন বলেই ইতিহাস সাক্ষী ও নিগুঢ় তথ্য ও তত্ত্ববিদগণের নিকট সমাদৃত, বিশ্বনন্দিত।

অতএব, বিশেষ করে বর্তমান সমাজে একটু ভালো বক্তব্য দিতে পারলে বা দুটো- দশটা আলোচনা মুখি কিতাব লিখতে পারলে হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার বলে তাঁকে উপাধি দেওয়াটাও চরম ধৃষ্টতা ও মূর্খতা। ... হানাফী মাযহাবের মহা পন্ডিত আলিমদের স্তর জানাটা এক্ষেত্রে ভীষণ জরুরী।

আরেকটি কথা মনে রাখবেন, আবেগে পড়ে যাঁকে তাঁকে হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার বললে হানাফী মাযহাবের সুবিশাল ও সুবিন্যস্ত ভাবমূর্তিতে আঘাত আসে প্রকটভাবে।
সুতরাং সাধারণ আবেগ দিয়ে এই বিশালতাকে মাপা একেবারেই অনুচিত। অতএব, তা অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত ও বর্জনীয়।

সুতরাং, যাঁকে "হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার" খেতাবে ভূষিত করা হবে, তাঁর নীরবতা বা প্রশ্রয় মূলত সেই অতিরঞ্জনকে বৈধতা দেওয়ার নামান্তরে গণ্য হবে।

অতএব, তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য হলঃ আবেগপ্রবণ ভক্তদের নিকট থেকে হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার খেতাবে ভূষিত হয়ে আপ্লুত না হয়ে স্পর্শকাতর বিষয়টিকে অশিক্ষিত আবেগপ্রবণ ভক্তবৃন্দের উদার হৃদয়ে বুঝিয়ে শক্ত হাতে তা দমন করা।

আবেগপ্রবণ ভক্তদেরও মনে- প্রাণে বোঝা উচিত যে, হানাফী ফিক্বহ্ একটি অত্যন্ত সুবিন্যস্ত, পরিপক্ক, সংশোধিত ও পরিশুদ্ধ— ফিক্বহ্ দুর্গ। তাই হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য যে প্রজ্ঞা ও গভীরতা প্রয়োজন, তা কেবল নির্দিষ্ট কিছু যুগশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বেরই হয়ে থাকে। যেমন বর্তমান সময়ে হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার— বিখ্যাত হাদীস বিশারদ, বিশ্বনন্দিত ফক্বীহ্, ইসলামী অর্থনীতিতে অনন্য, বহু কালজয়ী গ্রন্থ প্রণেতা, শাইখুল ইসলাম, আল্লামা, মুফতী, জাস্টিস মুহাম্মাদ তাক্বী উসমানী হাফি.।

এও মনে রাখবেন, আবেগ যখন ইলমের সীমানা ছাড়িয়ে অতিরঞ্জনে রূপ নেয়, তখন তা সুন্নাহর সুশৃঙ্খল কাঠামোকে ম্লান করে দেয়। হানাফী মাযহাবের বিশালতাকে রক্ষা করতে হলে যেমন যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীদের চিনতে হবে, তেমনি সাধারণ বক্তা বা লেখকের ওপর বিশাল উপাধির বোঝা চাপিয়ে দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতী মুহাম্মাদ তাক্বী উসমানী হাফি. এঁর মতো বিশ্বনন্দিত ব্যক্তিত্বরা যখন তাঁদের ক্ষুরধার লেখনী ও ফয়সালায় ফিক্বহের আভিজাত্য বজায় রাখেন, তখনই ইসলামী আইনের সৌন্দর্য পৃথিবীতে সমুজ্জ্বল থাকে। তাই আবেগ নয়, বরং বিবেকের কষ্টিপাথরে সত্যকে চেনা এবং মিথ্যা স্তুতি বর্জন করাই হলো প্রকৃত ঈমানী আভিজাত্য। (লেখক)

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

ইবনু আবূ হাতিম উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মাদ বিন জাবির বলেন: ইমাম আবু হানীফা আমার কাছ থেকে হাম্মাদের কিতাব চুরি করেছিলেন। (পোষ্ট মর্টেম ৫১ নং পৃষ্ঠা)

ইমাম আ'যম রহ. এঁর উপর কিতাব চুরির অপবাদের জবাব নব্য সালাফীদের কলম থেকেই বার হয়েছেঃ

নব্য সালাফীরা ইমাম আবূ হানীফা রহ. এঁর হাম্মাদের কিতাব চুরি করা প্রসঙ্গে সনদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেনঃ ইমাম যাহাবী বলেন, ইবনু মাঈন ও ইমাম নাসাঈ মুহাম্মাদ বিন জাবিরকে যঈফ বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেছেন: শক্তিশালী নয় এবং আবু হাতিম বলেছেন: শেষ দিকে তার স্মরণ শক্তি খারাপ হয়ে গিয়েছিল (মীযান: ৭৩০১)।

ইমাম বুখারী বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন জাবির মুহাদ্দিসীনদের নিকট যঈফ (যুআফা সাগীরঃ ৩২৮)। ইজলী বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন জাবির যঈফ (সিকাত : ১৪৪০)। ইমাম ইবনু মাঈন বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন জাবির এবং তার ভাই আইয়ূব এর হাদীস কোনো কাজেরই নয় (তারীখ ইবনু মাঈনঃ ২৬৪৭)।

আইনী হানাফী বলেন: মুহাম্মাদ বিন জাবির যঈফ (শারহে আবু দাউদঃ ১/৪২৫) ইমাম বাইহাকী বলেন: মুহাম্মাদ বিন জাবির হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বিদ্বানদের নিকট যঈফ (মা'রিফাহ: ১১২১)। ইমাম নবাবী বলেন: মুহাম্মাদ বিন জাবির অত্যন্ত যঈফ (খোলাসাহ : ১৪৮৫)। ইমাম ইবনু মাঈন একথাও বলেছেন যে, মুহাম্মাদ বিন জাবির নির্ভরযোগ্য নয়, তার হাদীস লেখা যাবে না (মিন কালামে আবী যাকারিয়া: ৩৭৫)।
যাইলাঈ হানাফী বলেন: ইবনু মাঈন মুহাম্মাদ বিন জাবিরকে যঈফ বলেছেন (নাসবুর রায়াঃ ১/৩৯৭)।

হ্যাঁ দেওবন্দী সাহেব আপনি লিখেছেন, ইমাম ইবনু মাঈন কট্টর হানাফীকে আল্লাহ তাআলা মিথ্যুকদের মিথ্যা ফাঁস করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আল্হামদুলিল্লাহ! তিনি দেওবন্দী মিথ্যুকদের মিথ্যা ফাঁস করে দিয়েছেন- মুহাম্মাদ বিন জাবির যঈফ। (পোষ্ট মর্টেম ৫১- ৫২ নং পৃষ্ঠা) সুধী পাঠক মন্ডলী! ইমাম আবূ হানীফা রহ. এঁর বিদ্বেষীদের কলম থেকেই মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইমাম আবূ হানীফা রহ. এঁর সম্মান রক্ষা করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্!

মনে রাখবেন, আকাশের প্রদীপ্ত সূর্যকে যেমন হাতের তালু দিয়ে ঢেকে রাখা অসম্ভব, তেমনি ফিক্বহ্ শাস্ত্রের এই মহান ইমামের আমানতদারিতা ও বিশ্বস্ততাকে দুর্বল বর্ণনার জালে বন্দি করাও দুঃসাধ্য। যাঁদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এই অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল, স্বয়ং হাদীস বিশারদগণই তাঁদের অযোগ্য ও অনির্ভরযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই দালীলিক বিজয় কেবল ইমাম আবু হানীফা রহ. -এঁর সম্মান রক্ষা নয়, বরং এটি হলো ইলমী আমানত ও সত্যের জয়গান। মিথ্যা কুয়াশার মতো উবে যায়, কিন্তু পাহাড়সম সত্য স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থাকে যুগের পর যুগ। (লেখক)

24/03/2026

পোষ্ট মর্টেমের জবাবে সূরা ফাতিহা অধ্যায়ে যুক্ত হবেঃ

(এটার পিডিএফ করা আছে ওটা বইয়ে যুক্ত হবে। কেননা এটা অনেক শক্ত ভাষা হয়ে গেছে)

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

যে কোনো মূল্যেই হোক দেওবন্দী মাযহাব বাঁচাতেই হবে- চাই ইসলামকে বিসর্জন দিয়েই হোক না কেন! তাই তাদের যত রাগ ছিল, বর্ষাল আবূ হুরায়রাহ (রাযি আল্লাহু আনহু) এর উপরে।
والقسم الثاني من الرواة هم المعروفون بالحفظ و العدالة دون الاجتهاد والفتوى كابي هريرة و انس بن مالك فاذا صحت رواية مثلهما عندك فان وافق الخبر القياس فلاخفاء في لزوم العمل به وان خالفه كان العمل بالقياس اولى.

(উসূলুশ্ শাশী ৮৮ পৃঃ, শব্দাবলী তারই, নূরুল আওয়ার)।

এত দ্বারা প্রতীয়মান হল যে, দেওবন্দীদের নিকটে আবূ হুরায়রাহ (রাযি আল্লাহু আনহু) ও আনাস বিন মালিক (রাযি আল্লাহু আনহু) এর মত বিখ্যাত সাহাবীগণ মুজতাহিদ, ফকীহ ও মুফতী ছিলেন না। ফলে তাদের বর্ণিত হাদীস যদি 'কিয়াস'-এর অনুকূলে হয়, তাহলে গ্রহণযোগ্য হবে। অন্যথায় গ্রহণযোগ্য হবে না; বরং হাদীসের উপরে আমল করার থেকে (দেওবন্দী) কিয়াসের উপর আমল করাই শ্রেয়। (পোষ্ট মর্টেম ২৭৫ নং পৃষ্ঠা)

জবাবঃ

সত্যের উন্মোচনঃ অর্ধসত্য মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর। তাঁদের এই তাত্ত্বিক কারসাজি ও ধোঁয়াশা চূর্ণ করতে এবং সচেতন পাঠককুলকে প্রকৃত সুন্নাহর আলোকচ্ছটায় সিক্ত করতে আমি নিচে সংশ্লিষ্ট বর্ণনার পূর্ণাঙ্গ ও হুবহু ইবারতটি উপস্থাপন করছি। এতে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তারা কীভাবে শব্দচয়ন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিকৃত করেছেন।
উস্বূলুশ শাশী কিতাবে লেখা রয়েছে—
وَالْقِسْمُ الثَّانِي مِنَ الرُّوَاةِ: هُمُ الْمَعْرُوفُونَ بِالْحِفْظِ وَالْعَدَالَةِ دُونَ الِاجْتِهَادِ وَالْفَتْوَى: كَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا. فَإِذَا صَحَّتْ رِوَايَةُ مِثْلِهِمَا عِنْدَكَ، فَإِنْ وَافَقَ الْخَبَرُ الْقِيَاسَ فَلَا خَفَاءَ فِي لُزُومِ الْعَمَلِ بِهِ. وَإِنْ خَالَفَهُ كَانَ الْعَمَلُ بِالْقِيَاسِ أَوْلَى.
مِثَالُهُ: مَا رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ الْوُضُوءُ مِمَّا مَسَّتْهُ النَّارُ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَرَأَيْتَ لَوْ تَوَضَّأْتَ بِمَاءٍ سَخِينٍ أَكُنْتَ تَتَوَضَّأُ مِنْهُ؟ فَسَكَتَ. وَإِنَّمَا رَدَّهُ بِالْقِيَاسِ إِذْ لَوْ كَانَ عِنْدَهُ خَبَرٌ لَرَوَاهُ. وَعَلَى هَذَا تَرَكَ أَصْحَابُنَا رَحِمَهُمُ اللهُ رِوَايَةَ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي مَسْأَلَةِ الْمُصَرَّاةِ بِالْقِيَاسِ وَبِاعْتِبَارِ اخْتِلَافِ أَحْوَالِ الرُّوَاةِ. (اصول الشاشي، البحث الثاني سنة رسول الله ﷺ ص، ٨٢-٨٣)

অনুবাদঃ বর্ণনাকারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীঃ তাঁরা হলেন যাঁরা মুখস্থ শক্তি এবং ন্যায়পরায়ণতার জন্য পরিচিত। তবে ইজতিহাদ (গবেষণা) এবং ফাতাওয়া প্রদানের জন্য নয়। যেমন সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি ও সাহাবী আনাস ইবনু মালিক রদ্বি.। যদি তোমার কাছে তাঁদের মতো কারো বর্ণনা সহীহ (প্রমাণিত) হয়, যদি খবরটি ক্বিয়াসের (তুলনামূলক যুক্তি) সাথে মিলে যায়, তবে সে অনুযায়ী আমল (অনুসরণ) করার বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট। আর যদি এটি ক্বিয়াসের বিপরীত হয়, তবে ক্বিয়াস অনুযায়ী আমল করা অধিক উত্তম। এর উদাহরণ হলোঃ সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসঃ "আগুন স্পর্শ করা জিনিস খেলে উযূ করতে হয়"। সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদ্বি সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি. -কে বললেনঃ "আপনার কী মনে হয়, যদি আপনি গরম পানি দিয়ে উযূ করতেন, তবে কি আপনি তা দিয়ে উযূ করতেন?" সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি. চুপ থাকলেন। সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদ্বি. সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি. -কে ক্বিয়াস দ্বারা খণ্ডন করলেন। কারণ যদি তাঁর কাছে (সাহাবী আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি. এঁর কাছে) কোনো (সুনির্দিষ্ট) খবর (হাদীস) থাকত, তবে তিনি তা বর্ণনা করতেন।
আর এই নীতির ভিত্তিতেই আমাদের সাথীরা (হানাফী ফক্বীহগণ) সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রদ্বি. বর্ণিত 'মুসাররাত' (দুগ্ধ আটকানো পশুর) মাসআলার হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। (উস্বূলুশ শাশী, দ্বিতীয় আলোচনা রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লহু আলাইহি অসাল্লাম এঁর সুন্নাত সম্পর্কে ৮২- ৮৩ নং পৃষ্ঠা)

আসল প্রমাণটি নষ্ট করা এবং তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টাঃ

নব্য সালাফীরা এই ঐতিহাসিক প্রমাণটি খুব চালাকি করে এড়িয়ে গেছেন। তাঁরা জানেন, এই আসল তথ্যটি জানাজানি হলে তাঁদের সব যুক্তি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। সত্যি কথা বলতে, আসল সত্য লুকিয়ে রাখার এই চেষ্টা প্রমাণ করে যে, তাঁদের কাছে কোনো শক্ত দলীল বা পড়াশোনা নেই।

হানাফী উসূলের গোপনীয়তা ও জনসাধারণের প্রতি ধোঁকাবাজিঃ

হানাফী মাযহাবের যে অকাট্য উসূল বা মূলনীতি নব্য সালাফীদের সকল অযৌক্তিক দাবিকে সমূলে উৎপাটন করে, তারা সেই মূলনীতিকে সচেতনভাবেই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে রেখেছে। সরলমনা মুমিনদের বিভ্রান্ত করতে তাঁরা শাস্ত্রীয় আমানতদারির মস্তকে কুঠারাঘাত করে এক প্রকার 'ইলমী ধোঁকাবাজির' জাল বুনেছেন। কিন্তু সত্যের কষ্টিপাথরে আজ এটি প্রমাণিত—হানাফী মাযহাবের প্রতিটি আমল কেবল হাদীসের ওপরই নয়, বরং এক অজেয় যৌক্তিক উসূলের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত।

দ্বিতীয়তঃ শব্দতাত্ত্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে যাঁরা ধূর্ততার জাল বুনেছেন, তাঁদের সেই তাত্ত্বিক কেল্লা গুঁড়িয়ে দিতে হানাফী দেওবন্দী ঘরানার ক্ষুরধার গবেষক, আল্লামা মুহাম্মাদ ফাইযুল হাসান লাখনৌবী দেওবন্দী রহ. এক অমোঘ আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর লেখনী কেবল একটি জবাব নয়, বরং এটি নব্য সালাফীদের তাত্ত্বিক দেউলিয়াপনার মুখে এক বলিষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক চপেটাঘাত। প্রিয় সুধী তাঁর মূল বক্তব্য ও অনুবাদ লক্ষ্য করুন—.. ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ رِوَايَةَ غَيْرِ الْفَقِيهِ إِنَّمَا لَا تُقْبَلُ عِنْدَ مُخَالَفَةِ الْقِيَاسِ إِذَا لَمْ تَلَقَّهُ الْأُمَّةُ بِالْقَبُولِ، أَمَّا إِذَا تَلَقَّتْهُ يُقْبَلُ. ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ هَذَا مَذْهَبُ عِيسَى بْنِ أَبَانَ، وَاخْتَارَهُ الْقَاضِي الْإِمَامُ أَبُو زَيْدٍ رحمه الله رَحِمَهُ اللَّهُ، وَتَابَعَهُ أَكْثَرُ الْمُتَأَخِّرِينَ. وَأَمَّا عِنْدَ الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ الْكَرْخِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَمَنْ تَابَعَهُ، فَلَيْسَ فِقْهُ الرَّاوِي شَرْطاً لِتَقْدِيمِ الْخَبَرِ عَلَى الْقِيَاسِ، بَلْ يُقْبَلُ خَبَرُ كُلِّ عَدْلٍ مُطْلَقاً، بِشَرْطِ أَنْ لَمْ يَكُنْ مُخَالِفاً لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ الْمَشْهُورَةِ؛ لِأَنَّ التَّغْيِيرَ مِنَ الرَّاوِي بَعْدَ ثُبُوتِ عَدَالَتِهِ وَضَبْطِهِ مَوْهُومٌ، وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ يَرْوِي كَمَا سَمِعَ.
وَلَوْ غَيَّرَهُ لَغَيَّرَهُ عَلَى وَجْهٍ لَا يَتَغَيَّرُ الْمَعْنَى، هَذَا هُوَ الظَّاهِرُ مِنْ أَحْوَالِ الْحُفَّاظِ الرُّوَاةِ الْعُدُولِ، خُصُوصاً مِنَ الصَّحَابَةِ لِمُشَاهَدَتِهِمْ أَحْوَالَ النُّصُوصِ وَهُمْ مِنْ أَهْلِ اللِّسَانِ، وَهُوَ الصَّحِيحُ بِحَسَبِ الظَّاهِرِ. وَلَيْتَ شِعْرِي لِمَ اخْتَارَ الْمُصَنِّفُ هَذَا الْقَوْلَ، بَلْ اخْتَارَهُ مَذْهَبُ عِيسَى بْنِ أَبَانَ.


অনুবাদঃ (উস্বূলুশ শাশী কিতাবের ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুহাম্মাদ ফাইযুল হাসান লাখনৌবী দেওবন্দী হানাফী রহ. দীর্ঘ আলোচনার পর লিখেছেন) অতঃপর জেনে রাখুন, ফক্বীহ নন এমন রাবীর বর্ণনা ক্বিয়াসের পরিপন্থী হলে কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য নয়, যখন উম্মত তা গ্রহণ না করেন। কিন্তু যদি উম্মত তা তালাক্কি বিল ক্ববূল তথা পরম্পরা গ্রহণ করে নেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, এটি ঈসা ইবনু আবানের মাযহাব (মতাদর্শ)। ইমাম আবূ যাইদ রহ. এটি গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলিম তাঁর অনুসরণ করেছেন।
পক্ষান্তরে, শাইখ আবুল হাসান আল্ কারখী এবং তাঁর অনুসারীদের মতে, কোনো খবর (হাদীস)-কে ক্বিয়াস (যৌক্তিক অনুমান)-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার জন্য রাবীর (বর্ণনাকারীর) 'ফক্বীহ' বা ফিক্বহ শাস্ত্রবিদ হওয়া শর্ত নয়। বরং প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ (আদিল) বর্ণনাকারীর খবরই শর্তহীনভাবে গ্রহণ করা হবে। যদি না তা কুরআন বা সুন্নাহে মাশহূরার পরিপন্থী হয়। কারণ বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা এবং স্মৃতিশক্তি প্রমাণিত হওয়ার পর তার দ্বারা বর্ণনায় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কেবল একটি ধারণা মাত্র। বরং প্রকাশ্য সত্য হলো তিনি যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেন। আর যদি তিনি বর্ণনায় কোনো পরিবর্তন করেও থাকেন, তবে তা এমনভাবে করেছেন যাতে অর্থের কোনো পরিবর্তন না হয়। ন্যায়পরায়ণ ও হাফিয রাবীদের অবস্থা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়। বিশেষ করে সাহাবায়ে কেরামের ক্ষেত্রে। কারণ তাঁরা সরাসরি অহী নাযিলের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁরা ছিলেন আরাবী ভাষার বিশেষজ্ঞ। আর এটিই বাহ্যিক বিচারে সঠিক মত্। কিন্তু আমার আফসোস! কেন গ্রন্থকার এই মতটি গ্রহণ করলেন। বরং তিনি ঈসা ইবনু আবানের মাযহাব বা মতটিকেই বেছে নিলেন!! (উমদাতুল হাঅশী উস্বূলুশ শাশী সহ ছাপ, আল্লামা মুহাম্মাদ ফাইযুল হাসান লাখনৌবী, ১৮৬-১৮৭ নং পৃষ্ঠা, ৩ নং টিকার অংশ; প্রকাশনায়ঃ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, লেবানন, বৈরুত)

বিভ্রান্তির ব্যবচ্ছেদ ও কুৎসিত অপপ্রচারঃ

নব্য সালাফী ঘরানার তথাকথিত গবেষকরা তাঁদের হীনম্মন্যতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে লিখেছেন— "যেকোনো মূল্যেই হোক দেওবন্দী মাযহাব বাঁচাতেই হবে—চাই ইসলামকে বিসর্জন দিয়েই হোক না কেন!" (পোষ্ট মর্টেম ২৭৫ নং পৃষ্ঠা)। এই বিষাক্ত ও চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তিটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা ইসলামের শাশ্বত আমানতদারির চেয়ে সংকীর্ণ দলাদলি ও বিদ্বেষ ছড়াতেই অধিক আগ্রহী।

মূর্খতার চরম শিখর ও ঐতিহাসিক বিকৃতিঃ

বিস্ময়কর ও হাস্যকর বিষয় হলো—এই ক্ষ্যাপাটে গোষ্ঠী 'দেওবন্দ'-কে একটি পৃথক 'মাযহাব' হিসেবে (পোষ্ট মর্টেম ২৭৫ নং পৃষ্ঠা) আখ্যায়িত করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন! এটি কেবল তাঁদের শাস্ত্রীয় মূর্খতাই নয়, বরং এক গভীর হীনম্মন্যতা ও সংকীর্ণমনা মানসিকতার প্রতিফলন। উলামায়ে দেওবন্দ তো সেই মহান সিপাহসালার, যাঁরা বাতিলের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ তুফানে ইসলামের বিশুদ্ধ রূপ ও সুন্নাহর আভিজাত্য রক্ষায় নিজেদের জীবন ও সাধনাকে উৎসর্গ করেছেন। দেওবন্দ কোনো নতুন মাযহাব নয়, বরং এটি সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণে হানাফী মাযহাবের এক অভেদ্য দুর্গ।

উপসংহার ও প্রতিপক্ষের প্রতি বজ্রকণ্ঠঃ

যাঁরা ইতিহাসের মহান বীরদের নামে কুৎসা রটান এবং ইসলামের অখণ্ডতাকে খণ্ডিত করার ব্যর্থ কসরত করেন, তাঁদের এই জালিয়াতি আজ সত্যের কষ্টিপাথরে ধূলিসাৎ। দেওবন্দী উলামায়ে কিরামের ইখলাস ও ইলমী আভিজাত্য চিরকাল ইসলামের আকাশে ধ্রুবতারার ন্যায় জ্বলে থাকবে, আর নব্য সালাফীদের এই মিথ্যাচার নিক্ষিপ্ত হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।

উসূলে শাশীর দর্পণে সত্যের উদ্ভাসঃ আল্লামা লাখনৌবী রহ. এঁর তাত্ত্বিক কুঠারাঘাতঃ

ফিক্বহ্ শাস্ত্রের অনন্য সোপান এবং হানাফী উসূলের প্রামাণ্য গ্রন্থ 'উসূলে শাশী'-র নিগূঢ় রহস্য উম্মোচনে আল্লামা মুহাম্মাদ ফায়যুল হাসান লাখনৌবী (রহ.) যে তাত্ত্বিক বজ্রপাত ঘটিয়েছেন, তা নব্য-সালাফী মহলের শাস্ত্রীয় জালিয়াতির ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি অত্যন্ত শক্ত ও শাণিত ভাষায় তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছেন।

আল্লামা লাখনৌবী রহ. এঁর সেই অজেয় তাত্ত্বিক অবস্থানঃ

উসূলের বিকৃতি ও চপেটাঘাতঃ আল্লামা লাখনৌবী রহ. অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রমাণ করেছেন যে, নব্য সালাফী প্রচারকরা হানাফী উসূলের মূল প্রাণভোমরাকে জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রেখে ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা উসূলে শাশীর মতো নির্ভরযোগ্য কিতাবের বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের অসার দাবিকে 'সহীহ' সাজানোর যে হীন কসরত করেছেন। আল্লামা লাখনৌবী তাঁর লেখনীতে সেটিকে 'মৌলিক প্রবঞ্চনা' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—
وَهٰذَا لَيْسَ ازْدِرَاءً بِأَبِي هُرَيْرَةَ وَاسْتِخْفَافًا بِهِ، حَاشَا وَكَلَّا، بَلْ بَيَانًا لِنُكْتَةٍ فِي هٰذَا الْمَقَامِ.

অনুবাদঃ আর এটি সাহাবী হযরত আবু হুরাইরাহ্ রদ্বি. এঁর প্রতি কোনো অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান করা নয়; কক্ষনোই নয়! বরং এটি কেবল এই স্থানের একটি সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয়ের বর্ণনা। (উমদাতুল হাঅশী উস্বূলুশ শাশী সহ ছাপ ১৮৬ নং পৃষ্ঠা, ১ নং টিকার অংশ)

সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী ও দেওবন্দী আভিজাত্য: অপপ্রচারের অসারতা ও সত্যের জয়গানঃ

উলামায়ে দেওবন্দ তথা হানাফী ঘরানার পণ্ডিতগণ হাদীসের গূঢ় রহস্য উন্মোচনে জলীলুল কদর সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এঁর প্রতি রাগ বা বিদ্বেষ বর্ষণ করেছেন (পোষ্ট মর্টেম ২৭৫ নং পৃষ্ঠা) এমন দাবি কেবল একটি 'শয়তানী প্রলাপ' এবং ইতিহাসের নিকৃষ্টতম অপলাপ বৈ কিছু নয়। দেওবন্দী উলামায়ে কিরাম তো সেই মহান বীর, যাঁরা যুগে যুগে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং আসহাবে রসূল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও পবিত্র সম্মান রক্ষায় নিজেদের জীবন ও সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন।

নব্য-সালাফী বিভ্রান্তির ব্যবচ্ছেদঃ

যাঁরা হানাফী মাযহাবের সূক্ষ্ম দালিলিক ও উসূলী বিশ্লেষণকে 'সাহাবী-বিদ্বেষ' বলে রঙ চড়াতে চান, তাঁরা মূলত নিজেদের 'ইলমী দৈন্যদশা' এবং শোচনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়কেই বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করছেন। জ্ঞানপাপী ও চরম হিংসুক এই সংকীর্ণমনা গোষ্ঠী ছাড়া আজ বিশ্বজুড়ে এটি সর্বজনবিদিত যে, আকাবিরে দেওবন্দের নিকট সাহাবায়ে কেরাম হলেন ঈমানের মানদণ্ড এবং হিদায়াতের ধ্রুবতারা। সত্যের এই নূরানী মিছিলে তাঁদের ত্যাগ ও খিদমত আজ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ।

উপসংহারঃ

যাঁরা তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেন এবং বুযুর্গদের নামে কুৎসা রটিয়ে ফিতনা ছড়ান, তাঁদের এই হীনম্মন্যতা ও করুণ দশা দেখে কেবল বিদ্রূপই করা যায়। তাঁদের এই জালিয়াতি ও প্রোপাগান্ডা আজ সত্যের আলোকচ্ছটায় ভস্মীভূত। দেওবন্দী উলামায়ে কিরামের এই 'আদব ও ইলমের অপূর্ব সমন্বয়' চিরকাল ইসলামের আকাশে ধ্রুবতারার ন্যায় জ্বলে থাকবে।

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

দেওবন্দী সাহেব নিমাভীকে ইমাম বলে উল্লেখ করেছেন। এতসত্বেও যে তিনি ইমাম নন। কেননা তিনি একজন আহলুর রায় কট্টর মুকাল্লিদ। ... সুতরাং মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তার ৩টি অভিযোগের এমন দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন যে, পৃথিবীর সকল মুকাল্লিদ ও দেওবন্দী নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছেন। আর নিশ্চুপ হওয়ারই ছিল। ... মোট কথা মুকাল্লিদ নিমাভীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। (পোষ্ট মর্টেম ২৮৮ নং পৃষ্ঠা)

পরিভাষার বিভ্রম ও নব্য সালাফী অজ্ঞতাঃ

শাস্ত্রীয় পরিভাষার সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচে যাঁরা অন্ধকারের পথে ধাবমান, সেই নব্য-সালাফী মহলের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যদশা আজ জাজ্বল্যমান। আল্লামা নীমাবী রহ.-কে ‘ইমাম’ সম্বোধন করায় যাঁরা মাযহাবের ফিক্বহী ইমামতীর অর্থ খুঁজে পান, তাঁদের শাস্ত্রীয় অর্বাচীনতা ও কাণ্ডজ্ঞানহীনতা আজ বিশ্বজুড়ে এক হাস্যাস্পদ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পর্যবেক্ষকের মুখোশ পরে জনসাধারণের আমল নিয়ে তামাশা করার ধৃষ্টতা মূলত তাঁদের তাত্ত্বিক পঙ্গুত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

ইমাম শব্দের শাস্ত্রীয় আভিজাত্যঃ

(১) সালাফে স্বলিহীনের সোনালী ঐতিহ্যে ‘ইমাম’ শব্দটি কেবল মাযহাবী ইমামতির জন্য সংরক্ষিত নয়; বরং এটি ইলমে হাদীস ও আনুষঙ্গিক শাস্ত্রসমূহের গগনচুম্বী পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের এক মহিমান্বিত স্বীকৃতি। ইমাম নীমাবী রহ. হাদীস শাস্ত্রের এক অনন্য দিগপাল হওয়ার সুবাদেই এই সম্মানে ভূষিত।

(২) খোদ নব্য সালাফী মহল তাঁদের নামের আগে ‘ইমাম’ শব্দ যোগ করেন। তবে কি তাঁরা কোনো পৃথক মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন? কক্ষনোই নয়! বরং তাঁরা উভয়েই ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী (মুক্বাল্লিদ)। সুতরাং, ‘ইমাম’ খেতাব তাঁদের মাযহাবী পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তাঁদের শাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্বেরই এক অকাট্য দলীল।

উপসংহারঃ

যাঁরা এই সরল সত্যটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়ে ইমাম নীমাবী রহ. -এঁর ওপর আক্রোশ বর্ষণ করেন, তাঁদের এই হীনম্মন্যতা ও শাস্ত্রীয় জালিয়াতি আজ দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে যাঁরা পরিভাষার অপব্যাখ্যায় লিপ্ত হন, তাঁদের এই 'তালগোল পাকানো' আস্ফালন আজ সত্যের আলোকচ্ছটায় ভস্মীভূত। দেওবন্দী উলামায়ে কিরামের এই শাস্ত্রীয় আভিজাত্য চিরকাল হানাফী মাযহাবের দুর্গকে সুরক্ষিত রাখবে। ইনশা- আল্লাহ!

অজেয় আহনাফ ও তাত্ত্বিক বজ্রপাতঃ

হানাফী মাযহাবের প্রামাণিকতা রক্ষায় দেওবন্দী ঘরানার সিপাহসালারদের ত্যাগ ও ইলমী আভিজাত্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। বিশেষ করে শাইখুল হাদীস, অকীলে আহনাফ, আল্লামা সরফরাজ খান স্বফদর রহ. -এঁর তাত্ত্বিক লড়াই ইতিহাসের পাতায় এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। নব্য সালাফী মহলের তথাকথিত গবেষণার অসারতা প্রমাণে তাঁর লেখনী এক কালজয়ী কুঠারাঘাত।

তাত্ত্বিক চপেটাঘাত ও 'আহসানুল কালাম'-এর বিজয়ঃ

নব্য সালাফী ঘরানার অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহমান মুবারকপুরী সাহেব তাঁর "আবকার" কিতাবের মাধ্যমে হানাফী মাযহাবের বিরুদ্ধে যে বিষোদ্গার করেছিলেন, আল্লামা সরফরাজ খান স্বফদর রহ. তাঁর কালজয়ী শাহকার 'আহসানুল কালাম'-এর মাধ্যমে তার এমন 'কোমরভাঙা' জবাব দিয়েছেন যে, সত্যের কষ্টিপাথরে আজ তাঁদের সকল দাবি ধূলিসাৎ। এই অকাট্য দালীলিক লড়াইয়ে তাঁদের পরাজয় এতটাই শোচনীয় যে, কিয়ামত পর্যন্ত তাত্ত্বিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর নূন্যতম শক্তিও তাঁদের অবশিষ্ট নেই।

সত্য গোপন ও বুদ্ধিবৃত্তিক হীনম্মন্যতাঃ

এই পরাজয়ের গ্লানি নব্য সালাফী মহলের নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে এই সত্যকে জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে চান। এই 'একাডেমিক ধোঁকাবাজি' এবং সত্য গোপনের সংস্কৃতি মূলত তাঁদের পরাজিতের হাহাকার বৈ কিছু নয়। আল্লামা সরফরাজ খান রহ. -এঁর ক্ষুরধার লেখনী তাঁদের সাজানো তাত্ত্বিক কেল্লাকে তাসের ঘরের ন্যায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

উপসংহারঃ
যাঁরা দলীলের আমানত রক্ষা করতে পারেন না এবং সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পান, তাঁদের আস্ফালন কেবল শব্দাড়ম্বর। আল্লামা সরফরাজ খান স্বফদর রহ.-এঁর এই তাত্ত্বিক বিজয় চিরকাল হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রদীপ্ত রাখবে। সত্যের সূর্যোদয়ে আজ এটি প্রমাণিত—'আহসানুল কালাম' হলো নব্য সালাফী ফিতনা দমনে এক অমোঘ আয়্যূবী তলোয়ার।

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

তাই বিদআতীদের বিখ্যাত ইমাম তাবেয়ী হাসান বাসরী বলেন اقرأ خلف الامام في كل ركعة بفاتحة الكتاب في نفسك
ইমামের পিছনে প্রত্যেক রাকআতে মনে মনে সূরা ফাতিহা পাঠ কর। (পোষ্ট মর্টেম ৩০৮ নং পৃষ্ঠা)

"সালাফদের অবমাননা ও নব্য সালাফী উন্মাদনাঃ

ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ধৃষ্টতা এবং ইলমী জগতের এক চরম কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে যখন ‘মর্গের ডোম’ তুল্য নব্য সালাফী মহল যুগশ্রেষ্ঠ তাবিয়ী, উম্মতের শ্রদ্ধাভাজন মনীষী, ইমাম হাসান বিসরী রহ. -কে ‘বিদআতীদের ইমাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। এটি কেবল তাঁদের জ্ঞানান্ধতা ও বেহায়াপনা নয়, বরং এক প্রকার আদর্শিক দেউলিয়া্পনা ও উন্মাদনা বৈ কিছু নয়।

তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক কুঠারাঘাতঃ

ইমাম হাসান বিসরী রহ. -এঁর মতো আকাশচুম্বী ব্যক্তিত্বকে যাঁরা বিদআতী সাজানোর হীন কসরত করে, তারা মূলত তাবিয়ী যুগ থেকে আজ অবধি বিদ্যমান সমগ্র মুসলিম উম্মাহকেই পরোক্ষভাবে ‘বিদআতী’ সাব্যস্ত করার এক আত্মঘাতী খেলায় মেতেছেন। এটি কেবল এক ভয়ংকর ফিতনাই নয়, বরং ইসলামের শাশ্বত আমানতদারির মস্তকে এক বিষাক্ত কুঠারাঘাত।

নব্য সালাফীয়াতের মুখোশ উন্মোচনঃ

যাঁরা সালাফে সালেহীনের অবমাননাকে নিজেদের পেশা বানিয়ে নিয়েছেন, তাঁরা আর যাই হোক ‘সালাফী’ হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতাও রাখেন না। এঁরা মূলত সালাফীয়াতের পবিত্র নামধারী এক বিভ্রান্ত গোষ্ঠী, যাঁরা সালাফে স্বলিহীনের সুউচ্চ মিনারগুলোকে ধূলায় মিশিয়ে দেওয়ার এক ঘৃণ্য মিশনে লিপ্ত। এঁরা সালাফে সালেহীনের অনুসারী নন, বরং তাঁদের চিরন্তন আদর্শের চরম দুশমন।

উপসংহারঃ

যাঁরা ইতিহাসের মহানায়কদের নামে কুৎসা রটিয়ে নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করতে চান, তাঁদের এই ‘একাডেমিক জালিয়াতি’ আজ সত্যের আলোকচ্ছটায় ভস্মীভূত। সালাফে স্বলিহীনের প্রতি এই বিদ্বেষই প্রমাণ করে যে—এঁরা ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুত এক পঙ্গু গোষ্ঠী। ইমাম হাসান বিসরী রহ. -এর মর্যাদা ও আভিজাত্য চিরকাল মুমিনদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে, আর এই নব্য সালাফী প্রলাপ নিক্ষিপ্ত হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।

স্ববিরোধিতার চোরাবালি ও নব্য সালাফী বিভ্রান্তিঃ

স্ববিরোধী উসূল ও তাত্ত্বিক আত্মহননঃ নব্য সালাফীরা পোষ্ট মর্টেম ৩৩৪ নং পৃষ্ঠায় দম্ভভরে লিখেছেন— "সকলের ঐক্যমতেই তাবিঈর কথা দলিলযোগ্য নয়"। অথচ ইতিহাসের পরিহাস লক্ষ্য করুন—যাঁরা তাবিয়ীর ক্বওল বা উক্তিকে ধূলিসাৎ করার ফাতাওয়া দেন, তাঁরাই আবার নিজেদের হীন স্বার্থে প্রখ্যাত তাবিয়ী হযরত হাসান বিসরী রহ. -এঁর উক্তি নকল করে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের ব্যর্থ কসরত করেন। এটি কেবল এক বিভ্রান্তিকর স্ববিরোধিতা নয়, বরং তাঁদের 'একাডেমিক জালিয়াতির' এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

বোধশক্তিহীন পোষ্ট মর্টেম ও মরণফাঁদঃ

এই অর্বাচীন গোষ্ঠী আসলে কী লিখছেন, তার নূন্যতম কাণ্ডজ্ঞানও তাঁদের অবশিষ্ট নেই। 'পোস্টমর্টেম' করার নেশায় তাঁরা এতটাই উম্মাদ যে, নিজেদের পাতা জালে নিজেরাই প্রতিনিয়ত আটকা পড়ছেন। তাবিয়ীর ক্বওলকে দলীল হিসেবে অস্বীকার করার পর আবার তাবিয়ীর দোহাই দেওয়া তাঁদের এই 'মৌলিক অমিল' ও ভারসাম্যহীনতা আজ সর্বজনবিদিত। তাঁরা যে শাস্ত্রীয় জ্ঞানের মহাসমুদ্র থেকে বিচ্যুত এক পঙ্গু গোষ্ঠী, এরূপ স্ববিরোধিতাই তার অকাট্য প্রমাণ।

উপসংহারঃ

যাঁরা নিজেদের উসূলের ওপর নিজেরা অটল থাকতে পারেন না, তাঁদের আস্ফালন কেবল শব্দাড়ম্বর বৈ কিছু নয়। নব্য সালাফীদের এই দেউলিয়া বুদ্ধিবৃত্তি আজ সত্যের আলোকচ্ছটায় ভস্মীভূত। হানাফী মাযহাবের প্রতিটি আমল যেখানে অকাট্য উসূলের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত, সেখানে এই ভারসাম্যহীনদের ধোঁকাবাজি মু'মিনদের ঈমানী চেতনাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারবে না।

নব্য সালাফী মন্তব্যঃ

দেওবন্দী ধারণায় ইমাম ইবনু মাঈন কট্টর হানাফী। (পোষ্ট মর্টেম ৩০৮, ৪৯ নং পৃষ্ঠা)

নব্য সালাফীরা আরও লিখেছেনঃ বাদুড় সূর্যালোক না দেখে তাহলে কি সূর্যের অপরাধ? বাস্তব কথা হল: মুকাল্লিদ (প্রকৃত) আলিম হতে পারে না। ইমাম তাহাবী বলেন, নির্বোধ অথবা জিদ্দী ছাড়া কেউ মুকাল্লিদ হতে পারে না। (পোষ্ট মর্টেম ৩০ নং পৃষ্ঠা)

নব্য সালাফীরা এও লিখেছেনঃ জিদ্দী ব্যক্তি ছাড়া কেউ তাকলীদ করে না। তখন ইমাম তাহাবী বললেন, নতুবা নির্বোধ। ... কেননা কুরআন ও হাদীস বুঝার যোগ্যতা মুকাল্লিদের আদৌ নেই। ... এ কারণেই ইমাম গাযালী বলেছেন: মুকাল্লিদের জন্য শর্ত হল সে নীরব থাকবে। কেননা তার দলীল অনুধাবন করার কোনো যোগ্যতা নেই। (পোষ্ট মর্টেম ৩০- ৩১ নং পৃষ্ঠা)

ইলমে রিজালের সম্রাটের হানাফী আভিজাত্যঃ

হাদীস শাস্ত্রের কষ্টিপাথর এবং জহুরী মুহাদ্দিসগণের শিরোমণি ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর মাযহাবী পরিচয় নিয়ে যারা ধোঁয়াশা তৈরি করতে চান, তাঁদের তাত্ত্বিক দেউলিয়াপনা চূর্ণ করতে বিশ্বনন্দিত রিজালবিদ ইমাম যাহাবী (রহ.)-এর অকাট্য গবেষণাই যথেষ্ট। এটি কোনো আবেগীয় দাবি নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় খোদাই করা এক ধ্রুব সত্য।
যাহাবী রহ. রহ. এঁর কলমে ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর হানাফী পরিচয়ঃ

(১) ফুরূয়াতে হানাফী অবস্থানঃ ইমাম যাহাবী (রহ.) অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ১১/৮৮ নং পৃষ্ঠা; প্রকাশনায়ঃ আল্ মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ) -তে ঘোষণা করেছেন—
قُلْتُ: قَدْ كَانَ أَبُو زَكَرِيَّا رَحِمَهُ اللّٰهُ حَنَفِيًّا فِي الْفُرُوعِ
অর্থাৎ, "ফুরূ বা ফিকহী মাসআলার ক্ষেত্রে ইমাম আবূ যাকারিয়া (ইবনু মায়ীন) ছিলেন একনিষ্ঠ হানাফী"। এটি প্রমাণ করে যে, হাদীস শাস্ত্রের এই পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব হানাফী ফিকহকেই তাঁর আমলের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

২. মাযহাবী দৃঢ়তা ও আভিজাত্যঃ

ইমাম যাহাবী তাঁর অন্য এক গ্রন্থে আর রুঅতুস সিক্বাত, তাহক্বীক্বঃ মুহাম্মাদ ইব্রাহীম আল্ মূস্বীলী; প্রকাশনায়ঃ দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়্যাহ, লেবানন, বৈরুত ৩০ নং পৃষ্ঠায় আরও এক ধাপ এগিয়ে তাত্ত্বিক চপেটাঘাত করে বলেছেন—
ابْنُ مَعِيْنٍ كَانَ مِنَ الْحَنَفِيَّةِ الْغُلَاةِ فِي مَذْهَبِهِ
অর্থাৎ,"ইয়াহ্ইয়া ইবনু মায়ীন কেবল হানাফীই ছিলেন না, বরং তিনি তাঁর মাযহাবের ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ় ও অটল ছিলেন"। যাঁরা আজ মাযহাব অনুসরণকে সুন্নাহর পরিপন্থী সাজাতে চান, ইমাম ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর এই ‘কট্টর’ হানাফী অবস্থান তাঁদের মুখে এক বলিষ্ঠ তাত্ত্বিক চপেটাঘাত।

ইমাম ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর নিজস্ব বয়ান ও পছন্দঃ

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইব্রাহীম ইবনু জুনাইদ রহ. -এঁর প্রশ্নের জবাবে স্বয়ং ইমাম ইবনু মায়ীন রহ. তাঁর হৃদয়ের অর্ঘ্য ঢেলে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে—
فَقُلْتُ لِيَحْيَىٰ: تَرَىٰ أَنْ يَنْظُرَ الرَّجُلُ فِي رَأْيِ الشَّافِعِيِّ وَأَبِي حَنِيفَةَ؟ قَالَ: مَا أَرَىٰ لِأَحَدٍ أَنْ يَنْظُرَ فِي رَأْيِ الشَّافِعِيِّ، يَنْظُرُ فِي رَأْيِ أَبِي حَنِيفَةَ أَحَبُّ إِلَيَّ"

অর্থাৎ, "ইমাম শাফিয়ীর মতের চেয়ে ইমাম আবূ হানীফা রহ. -এঁর মতামত ও ইজতিহাদই আমার নিকট অধিকতর প্রিয় এবং অনুসরণযোগ্য"। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/৮৮ নং পৃষ্ঠা)

উপসংহারঃ

যাঁরা আজ হানাফী মাযহাবকে হাদীস বিমুখ প্রমাণের ব্যর্থ কসরত করেন, তাঁদের জন্য ইমাম ইবনে মায়ীন রহ. এক জ্যান্ত চপেটাঘাত। ইলমে রিজালের এই সম্রাট যদি হানাফী হতে পারেন, তবে আধুনিক কালের এই অর্বাচীন নব্য সালাফীদের আস্ফালন কেবল অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। সত্যের কষ্টিপাথরে আজ এটি প্রমাণিত—হানাফী মাযহাবই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের ফিক্বহী নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

উস্তাদুল মুহাদ্দিসীন ও হানাফী আভিজাত্যঃ

হাদীস শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব যাঁদের করায়ত্ত, তাঁদের জন্য মুহাদ্দিস সম্রাট ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মায়ীন রহ. এক অপরাজেয় আলোকবর্তিকা। ইতিহাসের কষ্টিপাথরে এটি সুপ্রমাণিত যে, আসমাউর রিজাল শাস্ত্রের এই প্রাণপুরুষ ফিক্বহী মাসআলা ও আমলের ক্ষেত্রে ছিলেন একনিষ্ঠ ও 'কট্টর হানাফী'।
এখন নব্য-সালাফী মহলের সেই অদ্ভুত ও কুরুচিপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধির ব্যবচ্ছেদ করা প্রয়োজন—যাঁরা মুকাল্লিদ বা মাযহাবপন্থীদের 'অজ্ঞ', 'জিদ্দী' এবং 'হাদীস অনুধাবনে অক্ষম' বলে গালি দিয়ে তৃপ্তিবোধ করে।

যৌক্তিক কুঠারাঘাত ও তাত্ত্বিক চপেটাঘাতঃ

যদি নব্য সালাফীদের বিদ্বেষপ্রসূত দাবি অনুযায়ী মুকাল্লিদ বা হানাফীরা 'জাহিল' ও 'মূর্খ' হয়, তবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও হাদীস সংকলনের মূল স্থপতিগণ কেন একজন 'কট্টর হানাফী' ইমামের পদতলে বসে ইলমে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করলেন? হাদীস শাস্ত্রের এই আকাশচুম্বী ব্যক্তিত্বরা কি তবে (নাউযুবিল্লাহ) একজন 'অজ্ঞ' ও 'হাদীস না বোঝা' উস্তাদের ছাত্র ছিলেন? এই 'মৌলিক অমিল' ও স্ববিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, নব্য-সালাফীদের অভিযোগ কেবল জ্ঞানপাপী মানসিকতা ও তাত্ত্বিক দেউলিয়াপনার নামান্তর।

হানাফী মাযহাব— বহু তাবড় মুহাদ্দিসের তীর্থভূমিঃ

ইমাম ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর ছাত্ররা কেবল ছাত্র ছিলেন না, বরং তাঁরা ছিলেন হাদীস জগতের এক একটি প্রদীপ্ত সূর্য। তাঁদের উস্তাদ হানাফী হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে—হানাফী ফিক্বহ ও হাদীস শাস্ত্র পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং তা একই নূরানী বৃক্ষের দুটি শাখা। যারা এই ধ্রুব সত্যকে অস্বীকার করে ফিতনা ছড়ায়, ইমাম ইবনে মায়ীন (রহ.)-এর এই সুদীর্ঘ ছাত্র-তালিকাটি তাঁদের মুখে এক শক্তিশালী তাত্ত্বিক চপেটাঘাত।

رَوٰى عَنْهُ: أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، وَأَبُو خَيْثَمَةَ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَعِدَّةٌ مِنْ أَقْرَانِهِ، وَالْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ، وَأَبُو دَاوُدَ، وَعَبَّاسٌ الدُّورِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ الصَّاغَانِيُّ، وَعَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، وَأَبُو زُرْعَةَ، وَأَبُو حَاتِمٍ، وَإِسْحَاقُ الْكَوْسَجُ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْجُنَيْدِ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ الْأَشْعَرِيُّ، وَحَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، وَصَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ جَزَرَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَرْوَزِيُّ، وَأَبُو مَعِينٍ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الرَّازِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُطَيَّنٌ، وَمُضَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَسَدِيُّ، وَالْمُفَضَّلُ بْنُ غَسَّانَ الْغَلابِيُّ، وَأَبُو زُرْعَةَ النَّصْرِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ التَّمَّارُ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ كَيْلَجَةُ، وَعَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ مَاغَمَةُ، وَعُبَيْدٌ الْعِجْلُ حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ، وَجَعْفَرٌ الْفِرْيَابِيُّ، وَمُوسَى بْنُ هَارُونَ، وَأَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ، وَخَلَائِقُ.

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম মুহাম্মদ বিন সা'দ, ইমাম আবূ খইসামাহ্, ইমাম হান্নাদ বিন আসসারী, ... ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবূ দাঊদ, ইমাম আব্বাস আদদুরী, ইমাম আবূ বাকর আসসাগানী, ইমাম আব্দুল খলিক্ব বিন মানস্বূর, ইমাম উসমান বিন সায়ীদ আদ দারিমী, ইমাম আবূ যুরআহ্, ইমাম আবূ হাতিম, ইমাম ইসহাক্ব আল্ কাউসাজ, ইমাম ইব্রাহীম বিন আব্দিল্লাহ বিন আল-জুনাইদ, ইমাম মুআবিয়া বিন স্বলিহ আল-আশআরী, ইমাম হাম্বাল বিন ইসহাক্ব, ইমাম স্বলিহ বিন মুহাম্মাদ হুযরাহ্, ইমাম আহমাদ বিন আবী খইসামাহ্, ইমাম আবূ বাকর আহমাদ বিন আলী আল মারঅযী, ইমাম আবূ মুয়ীন আল হুসাইন বিন আল হাসান আর্ রাযী, ইমাম মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন আবী শাইবাহ্ .... প্রমুখ। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/৭২-৭৩ নং পৃষ্ঠা; তাহযীবুল কামাল ৩১/ ৫৪৬- ৫৪৭ নং পৃষ্ঠা, ৬৯২৬ নং ক্রমিক)

উপসংহারঃ
সত্যের সূর্যোদয়ে আজ এটি প্রমাণিত—হানাফী মাযহাবই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ইমাম ইবনে মায়ীন (রহ.)-এর হানাফী আভিজাত্যই প্রমাণ করে—সালাতে ‘সির্রী আমীন’ এবং 'ইমামের কিরাআতই যথেষ্ট'—এই ফয়সালাগুলোই বিশ্ববরেণ্য মুহাদ্দিসগণের উস্তাদের অনুসৃত ও সংরক্ষিত পথ।

ইমাম খত্বীব বাগদাদী রহ. -এঁর প্রদীপ্ত সাক্ষ্য ও তাত্ত্বিক কুঠারাঘাতঃ

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস ইমাম খতীব বাগদাদী রহ. ইমাম ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর পর্বতসম ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক অনন্য আলোকবর্তিকা জ্বালিয়েছেন। তিনি বলছেনঃ "ইয়াহইয়া ইবনু মায়ীন রহ. ছিলেন একজন রব্বানী ইমাম (আল্লাহভীরু আধ্যাত্মিক নেতা), প্রাজ্ঞ আলিম, হাফিয (হাদীস বিশারদ), পরম নির্ভরযোগ্য এবং অত্যন্ত সুনিপুণ।"
(তাহযীবুল কামাল ৩১/ ৫৪৪ নং পৃষ্ঠা, ৬৯২৬ নং ক্রমিক)

উল্লেখ্য, যদিও এই মুহাদ্দিস সম্রাটের প্রশংসাগাথা এতই বিস্তৃত যে তা সংকলন করতে গেলে গ্রন্থের কলেবর সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পাবে, তথাপি তাঁর এই সংক্ষীপ্ত পরিচয়ই নব্য সালাফীদের তাত্ত্বিক দেউলিয়াপনা চূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট। যারা হানাফী মাযহাবের অনুসারীদের ‘অজ্ঞ’ সাজানোর অপচেষ্টা করে, তাঁদের জন্য ইমাম ইবনু মায়ীন রহ. -এঁর এই সুউচ্চ মর্যাদা এক 'বলিষ্ঠ তাত্ত্বিক চপেটাঘাত'। (লেখক)

মুক্বাল্লিদ ইমামগণের ঢাল ও নব্য সালাফী অজ্ঞতাঃ

(১) তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক কুঠারাঘাতঃ শাফিয়ী আভিজাত্য ও ইমাম গাযালী ও ইমাম সুয়ূত্বী রহ.। ইলমী জগতের ধ্রুব সত্য এই যে, হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযালী রহ. ছিলেন শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, প্রকাশনায়ঃ আল্ মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ ১৯/৩২৩ নং পৃষ্ঠা)
একইভাবে, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহ. -এঁর শাফিয়ী পরিচয় আজ বিশ্বজুড়ে সর্বজনবিদিত। অথচ এই 'পঁচা অশিক্ষিত' গোষ্ঠী তাঁদের তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট ও মূল বক্তব্য অনুধাবনে এতটাই অক্ষম যে, খোদ মুক্বাল্লিদ ইমামদের উদ্ধৃতি দিয়েই তাঁরা তাক্বলীদ বিমুখতার মিথ্যা জাল বুনতে চান। এটি কেবল তাঁদের 'একাডেমিক

Address

Barasat

Telephone

+916290698500

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mufti Abdur Rasid Official posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Mufti Abdur Rasid Official:

Share

Category