25/03/2022
🔴পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার কতটা আইনসিদ্ধ?
ফৌজদারী মামলার আসামীর স্বীকারোক্তি কখন অপ্রাসঙ্গিক?
Confession বা স্বীকারোক্তি শব্দের অর্থ- দোষ স্বীকার করা, মালিকানা দেওয়া বা স্বীকার করা। অন্য কথায়, আমরা বলতে পারি যে, স্বীকারোক্তির অর্থ এমন কিছু ব্যক্তিগত সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া যা কোন ব্যক্তি অবশ্যই গোপন রাখতে পছন্দ করে।
ফৌজদারী মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে কোন স্বীকারোক্তি ব্যবহার করতে হলে স্বীকারোক্তি অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হতে হবে। যদিও কোন ক্ষেত্রে একটি স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক হবে তা বাংলাদেশ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এ উল্লেখ করা হয় নি, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি অপ্রাসঙ্গিক তা সাক্ষ্য আইনের ২৪, ২৫, ২৬ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
যে সব ক্ষেত্রে ফৌজদারী মামলায় আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য (Confession) অপ্রাসঙ্গিক তা নিম্নরুপঃ
১. প্রলোভন, ভীতি প্রদর্শন বা প্রতিশ্রুতির কারণে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি
সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তি অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে যদি আদালত মনে করে যে, এটি প্রলোভন, ভীতি প্রদর্শন বা প্রতিশ্রুতি ইত্যাদির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।কিন্তু প্রলোভন, ভীতি ও প্রতিশ্রুতি অপসারণ করার পর স্বীকারোক্তি প্রদত্ত হলে তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কোন স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য কিনা তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে আদালত দুইটি বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
স্বীকারোক্তিটি স্বেচ্ছামূলক (Voluntary) কিনা; এবং
এটা সত্য কিনা?
Reg Vs. Smith মামলায় ব্যারাক রুমে যুদ্ধ করার সময় একজন সৈনিক খুনের জন্য অভিযুক্ত হয়। যুদ্ধের কিছু পর, সার্জেন্ট-মেজর তার সহযোদ্ধাদের প্যারেডে দাড় করায় এবং বলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জানতে পারছে কে খুন করেছে ততক্ষন পর্যন্ত সে তাদের সবাইকে প্যারেডে দাড় করে রাখবে।
এখানে প্রলোভনের বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, যদি খুনী দোষ স্বীকার করে তাহলে কমান্ডার তাদেরকে প্যারেড থেকে মুক্তি দিবে। কাজেই মামলায় সিদ্ধান্ত হয় যে, স্বীকারোক্তিটি অপ্রাসঙ্গিক।
উদাহরণঃ
‘করিম’ একটি দস্যুতার অভিযোগে অভিযুক্ত। দোষ স্বীকার করলে এবং ঘটনার বিবরণ দিলে তাকে এক লক্ষ টাকা দেয়া হবে। ‘করিম’ এই প্রলোভনে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তার দোষ স্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে করিমের স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক হবে না।
কিন্তু যদি কোনরূপ প্রলোভন ছাড়াই সে নিজের দোষ স্বীকার করে, তবে তা প্রাসঙ্গিক বা গ্রহণযোগ্য হবে।ধারা-২৮.
2. পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি স্বাক্ষ্য আইনের ২৫ধারায় বলা হয়েছে ; কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করলে উক্ত অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবেনা।অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি 1898 এর 164 ধারায় বর্ণিত পন্থা ব্যাতিত পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নহে।
Empresses of india vs. Pancham [(1882)ILR 4 ALL 198].এই মামলার ঘটনা হলো - পঞ্চম একটি মেয়েকে খুন করার জন্য অভিযুক্ত। সে পুলিশকে একটি ছুরি দিয়ে বলেছিলো...যে, এটা হলো সেই ছুরি যেটা দিয়ে সে খুন করেছে।সে আরও বল