09/05/2025
নতুন সিভিল মামলায় কী কী পরিবর্তন আসলো?
Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 পাস করে দেওয়ানি কার্যবিধিতে যুগান্তকারী সংশোধন নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে দেওয়ানি/সিভিল মামলাসমূহ অত্যন্ত কম সময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
সিভিল মামলার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী যেসব পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে, তার সার-সংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
(১) বাদীর আরজির বর্ণনা এফিডেভিটের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে [ধারা ২৬(২)]।
(২) হয়রানিমূলক দরখাস্ত/পিটিশন দায়ের করে মামলা ইচ্ছা করে প্রলম্বিত করতে চাইলে, আদালত সর্বোচ্চ ৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণমূলক কস্টের আদেশ দিতে পারবে। যা পূর্বে ২০,০০০/-টাকা ছিল (ধারা-৩৫ক)।
(৩) আদেশ বাস্তবায়নে নির্দেশনা — কোন ডিক্রি বা আদেশ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, আদালত নির্বাহী কর্তৃপক্ষসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেমন পুলিশ ইত্যাদিকে নির্দেশ দিতে পারবে (ধারা-৯৪ক)।
(৪) এখন থেকে মামলার পর বিবাদীকে ফোনে কল দিয়ে, মেসেজ দিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও মামলার খবর জানানো যাবে এবং নথিতে এর প্রমাণ সংযুক্ত করতে হবে [আদেশ ৫, বিধি ৯(৩)]
(৫) বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয় এবং ঠিকানা (যথা ফোন বা মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি) এবং ই-মেইল ঠিকানা, যদি থাকে) ইত্যাদি আরজিতে সংযুক্ত করতে হবে (আদেশ ৭, বিধি-০১)
(৬) একই বিবাদীর আবেদনে কোনো ডিক্রি একাধিকবার বাতিল করা যাবে না (আদেশ ৯, বিধি-১৩)।
(৭) চূড়ান্ত শুনানীর পর্যায়ে ৪ বারের বেশি সময় মঞ্জুর করা যাবে না (আদেশ ১৭, বিধি-১)।
(৮) সাক্ষ্য আইনে যাই থাকুক না কেন, বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাবের বর্ণনা তোতা পাখির মতো সাক্ষীর মুখে শুনে শুনে নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই। তবে জেরা ও পুনরায় জেরা করা যাবে। এফিডেভিটের সাথে কাগজাদি দাখিল করতে হবে (আদেশ ১৮, বিধি-৪ক)।
(৯) অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বিধান
*ডিক্রিকৃত অর্থ আদায়ের জন্য জারি মামলার প্রয়োজন নেই। আদালত আবেদনের ভিত্তিতে ডিক্রি বাস্তবায়ন করতে পারবে। টাকা অনাদায়ে ৬ মাসের আটকাদেশ পর্যন্ত দিতে পারে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক, বিকারগ্রস্ত (মানসিকভাবে অসুস্থ) বা দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে না।
*দেওয়ানি কারাগারে আটককৃত দণ্ডিত পক্ষের ভরণ-পোষণের খরচ সরকার বহন করবে। যা এতোদিন বাদীকে বহন করতে হতো।
*দেওয়ানি আটকাদেশের ক্ষেত্রে জামিনঃ যদি দণ্ডিত পক্ষ কারাগারে থাকা অবস্থায় মোট ডিক্রিকৃত অর্থের ন্যূনতম ২৫% পরিশোধ করে এবং বাকি অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য একটি বন্ড প্রদান করে, তবে আদালত তাকে মুক্তি দেবে। শর্ত পালনে ব্যর্থতায় সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে।
*দণ্ডিত ব্যক্তি পূর্ণ মেয়াদ কারাগারে আটক থাকলে, একই ডিক্রিতে পূনরায় গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না।
*যদি দণ্ডিত পক্ষ দেওয়ানি কারাগারে সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদে আটক থাকে, তবুও সে ডিক্রির অপরিশোধিত অর্থ পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পাবে না”।
*ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করতে আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে, কিংবা law enforcement agencyকে আদেশ দিতে পারবে (আদেশ ২১ বিধি- ৩০ক; বিধি- ১০৪)
(১০) আপিল একাধিকবার বা পুনঃশুনানি করা যাবে না [আদেশ ৪১, বিধি ২১]।
@ copied