09/05/2025
Code of Civil Procedure, 1908 এর সংশোধনীসমূহ (অধ্যাদেশ নং-১৮, ২০২৫) তাং- ৮/০৫/২০২৫ ইং বিস্তারিত আলোচনা।
নিম্নে কোড অফ সিভিল প্রসিডিওর, ১৯০৮ এর অধ্যাদেশ নং-১৮, ২০২৫ অনুযায়ী আনীত প্রধান প্রধান সংশোধনীগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:
১. মামলার আরজি হলফনামা দ্বারা প্রমাণ ( ধারা ২৬ এর সংশোধন): এখন থেকে প্রতিটি মামলার আরজিতে উল্লেখিত তথ্য হলফনামা (affidavit) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি (ধারা ৩৫ক এর সংশোধন): মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বা দাবির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বিশ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে।
২. আদেশ বা ডিক্রি জারিতে নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ (ধারা ৯৪ক এর সংযোজন): আদালত কোনো ডিক্রি বা আদেশ জারির উদ্দেশ্যে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সহায়তা করার এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।
৩. সমন জারির পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার (আদেশ ৫, বিধি ৯ এর সংশোধন): সমন জারির শর্ট মেসেজ সার্ভিস (SMS), ভয়েস কল এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সার্ভিসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তবে এর প্রমাণ অবশ্যই নথিতে রাখতে হবে।
৪. বাদী ও বিবাদীর বিবরণে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন (আদেশ ৭, বিধি ১ এর সংশোধন): মামলার আরজিতে বাদী এবং বিবাদীর নামের বিবরণ ও বাসস্থানের ঠিকানার পাশাপাশি তাদের ফোন বা মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID) এবং ইমেইল ঠিকানা (যদি থাকে) উল্লেখ করতে হবে।
৫. একতরফা ডিক্রি রদের সীমাবদ্ধতা (আদেশ ৯, বিধি ১৩ এর সংশোধন): একই বিবাদীর আবেদনে কোনো ডিক্রি এই নিয়মের অধীনে একাধিকবার রদ করা যাবে না।
৬. মামলা মূলতবির সংখ্যা হ্রাস (আদেশ ১৭, বিধি ১ এর সংশোধন): একটি মামলা সর্বোচ্চ ছয়বারের পরিবর্তে এখন চারবার মূলতবি করা যাবে।
৭. হলফনামার মাধ্যমে জবানবন্দি গ্রহণ (আদেশ ১৮, বিধি ৪ক এর সংযোজন): আরজি বা লিখিত জবাবে থাকা তথ্য বাদী বা বিবাদীকে মৌখিকভাবে পুনরায় বলতে বা অস্বীকার করতে হবে না। সকল ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদীর জবানবন্দি হলফনামার মাধ্যমে হবে এবং এরপর তাদের জেরা ও প্রয়োজনবোধে পুনরায় জেরা করা যাবে। এই হলফনামার একটি অনুলিপি আদালতে জমা দেওয়ার আগে অন্য পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে। হলফনামার সাথে দাখিলকৃত দলিলের প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্যতা আদালতের আদেশ সাপেক্ষে হবে।
৮. বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বৃদ্ধি (আদেশ ১৮, বিধি ২০ এর সংশোধন): সাক্ষীর খরচ এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রদেয় টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন, "পাঁচ" এর পরিবর্তে "দশ", "দুই" এর পরিবর্তে "চার", "একশত" এর পরিবর্তে "দুইশত" এবং "সত্তর" এর পরিবর্তে "একশত চল্লিশ" শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
৯. টাকা পরিশোধের ডিক্রি জারিতে বিশেষ বিধান (আদেশ ২১, বিধি ৩০ক এর সংযোজন):
আদালত ডিক্রি হোল্ডারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিক্রির টাকা অপরিশোধিত থাকা সাপেক্ষে দেনাদারকে অনধিক ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারবে অথবা টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আটকাদেশ বহাল থাকবে, যেটি আগে ঘটবে।
দেওয়ানি কারাগারে আটক দেনাদারের ভরণপোষণের খরচ সরকার বহন করবে।
নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া ঘোষিত অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে মূল দেনাদারের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে না।
দেনাদার কারাগারে থাকা অবস্থায় ডিক্রির টাকার কমপক্ষে ২৫% জমা দিয়ে বাকি টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের বন্ড দিলে আদালত তাকে মুক্তি দেবে। বন্ডের শর্ত অনুযায়ী বাকি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে অনধিক ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে।
কোনো দেনাদারকে সম্পূর্ণ মেয়াদে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে, একই ডিক্রি জারি মামলায় বা একই ডিক্রি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো জারি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না।
১০. দেনাদারকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলেও তিনি ডিক্রির অপরিশোধিত টাকা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না।
১১. আর্থিক ডিক্রি জারিতে ভরণপোষণের বিধান বিলুপ্তি (আদেশ ২১, বিধি ৩৯ এর বিলুপ্তি): এই নিয়মটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
১২.সরাসরি ডিক্রি জারি (আদেশ ২১, বিধি ১০৪ এর সংযোজন):
তামাদি আইন সাপেক্ষে, যে মামলায় ডিক্রি দেওয়া হয়েছে সেই মামলার নথিতেই ডিক্রি জারির জন্য আবেদন গ্রহণ করতে পারবে এবং আদালত অবিলম্বে ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারবে। আপিল বা রিভিশন আদালত কর্তৃক নথি তলব করা হলে, এই উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত একটি পার্ট-ফাইলে আবেদন গ্রহণ করা যাবে।
ডিক্রি হোল্ডার বা ডিক্রি জারিতে বিক্রিত সম্পত্তির ক্রেতা যদি সম্পত্তি দখলে বাধাগ্রস্ত হন এবং আদালত এ বিষয়ে সন্তুষ্ট হন, তাহলে ডিক্রি হোল্ডার বা ক্রেতার আবেদনে আদালত কোনো ব্যক্তিকে বা প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।
১৩. আপিল পুনঃশুনানির সীমাবদ্ধতা (আদেশ ৪১, বিধি ২১ এর সংশোধন): এই নিয়মের অধীনে কোনো আপিল একাধিকবার পুনঃশুনানি করা যাবে না।
আপিলের নিষ্পত্তিতে "shall" শব্দের প্রতিস্থাপন (আদেশ ৪১, বিধি ২৪ এর সংশোধন): এই নিয়মে এবং এর উপান্তে উল্লিখিত "may" শব্দটির পরিবর্তে "shall" শব্দটি প্রতিস্থাপিত হবে, যা আদালতের বাধ্যবাধকতা নির্দেশ করে।
১৪. পক্ষগণের অনুপস্থিতিতে আপিলের রায় (আদেশ ৪১, বিধি ৩০ এর সংশোধন): আপিল শুনানির জন্য ডাকা হলে যদি কোনো পক্ষ বা তাদের আইনজীবী কেউই উপস্থিত না থাকেন, এবং আপিল আদালত যদি মনে করেন যে নথিতে থাকা তথ্যাদি আপিলের গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট, তাহলে লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক অবিলম্বে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে খোলা আদালতে রায় ঘোষণা করতে পারবে।