20/05/2023
#নেতৃত্ব_ও_নেতার_দায়বদ্ধতা।
১. হাযরে আসওয়াদ” স্থাপনকে কেন্দ্র করে যখন মক্কার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল অর্থাৎ পরিবেশ এতোই উত্তেজিত ছিল যে, গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশংকা ছিল।
তখন এক বয়োঃবৃদ্ধ লোকের কথায় সবাই একমত হলো যে, কাল সকালে সর্বপ্রথম যে কাবা ঘরে প্রবেশ করবে; আমরা তার সিদ্ধান্ত মেনে নিব।
উৎসুক জনতা কাবার দিকে চেয়ে আছে, কে আজ সর্বপ্রথম কাবায় প্রবেশ করে। কার কথা আজ মক্কার শীর্ষস্থানীয় গোত্র নেতাদের মেনে নিতে হয়।
হ্যাঁ,দেখা যাচ্ছে কেউ একজন কাবা ঘরে প্রবেশ করছে। আরে এতো আমাদের কুরাইশ নেতা আব্দুল মুত্তালিবের নাতি, আমাদের সবার প্রিয় “আল আমিন”। তখন সকলে একসঙ্গে বলে উঠলো আমরা সবাই তাঁর কথা বিনাবাক্যে মেনে নিব।
অবশেষে বিনা রক্তপাতে, সকল গোত্র নেতাদের মন খুশী রেখে সেই ‘আল আমিন’ বা ‘বিশ্বাসী’, স্থাপন করলেন “হাযরে আসওয়াদ।
তিনি নিপিড়ীত মানুষদের জন্য তৈরী করেছিলেন “হিলফুল ফুযুল” বা “শান্তি সংঘ”। যার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল দুস্থ-অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা, বিদেশি বণিকদের জানমাল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।
এতো গেল তাঁর নবুয়তের আগের কথা।
হেরা গুহায় যখন আল্লাহ তাকে বিশ্ব নবী ও বিশ্ব নেতা হিসেবে অশান্ত পৃথিবীতে– শান্তির নতুন আভা ফোটানোর জন্য মনোনীত করলেন; তখন তিনি সেখান থেকে একাকী বেরিয়ে আসলেন। তার নেতৃত্বের প্রজ্ঞা দ্বারা তিনি মহাবিশ্বের রবের দিকে সবাইকে আহ্বান করতে লাগলেন। আর তার পরের ঘটনা সবারই জানা। একাকী একজন মানুষ তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে আস্তে আস্তে মানুষের মন জয় করতে লাগলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তীতে তিনি এক লক্ষ সাহাবিকে নিয়ে মক্কা বিজয় করলেন। তাও আবার বিনা রক্তপাতে।
এতক্ষণ পর্যন্ত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনের কিয়দাংশ আলোচনা করার মূল কারণ ছিল, একজন নেতাকে কেমন হওয়া উচিত বা তার অধীনস্থ লোকদের কিভাবে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত তা বুঝানোর জন্য।
২. একজন নেতা ও তার নেতৃত্ব যেমন হওয়া উচিত:
“নেতা কি বা কেমন হওয়া উচিত! নেতার জন্ম হয় নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে, আর নেতৃত্বের জন্ম হয় ঘটনার প্রেক্ষিতে। আর ঘটনার জন্ম হয় পরিবর্তনে। পরিবর্তন তা হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের সবার জন্য। পরিবর্তন কি তা হলে সময়ের সঙ্গে আবির্ভাব হয়? নাকি চাহিদা তা নির্ধারণ করে?
পরিবর্তন হতে পারে অনেক প্রকার। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে বাধাবিঘ্নের সম্মুখীন হতে হয়, ঠিক তখন নেতৃত্বের আবির্ভাব থেকে নেতার হয় জন্ম। আমি মনে করি একজন ভালো নেতা হতে হলে প্রথমে তাকে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। তার মধ্যে দায়িত্বশীলতা, দায়বদ্ধতা ও সততা থাকতে হবে।
তার প্রতিশ্রুতি, ইতিবাচক মনোভাব, অনুপ্রেরণা, সহানুভূতি ও সৃজনশীলতার গুণাগুণের সঙ্গে থাকতে হবে প্রতিনিধিত্ব এবং আস্থা। এসব গুণাবলি খুবই দরকার একজন ভালো নেতার জন্য।”[১]
একজন নেতার পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি।
নিজেকে পরিণত করতে হলে অবশ্যই নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। তা না হলে, কখনো একজন আর্দশবান নেতা হওয়া যাবেনা। নেতার দায়বদ্ধতা ও নমনীয়তার মাধ্যমেই তিনি তার কর্মীদের শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারবে। নেতাকে অবশ্যই নিজের কাজটি ভালোবেসে করতে হবে।
নিজের কর্মীদের কাছে যদি একজন নেতাকে বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়, তাহলে অবশ্যই কিছু অভ্যাস পরিহার করতে হবে। যেমন:
১.গর্ব ও অহংকার
২.আত্মপূজা
৩.আত্মপ্রীতি
৪.একগুয়েমী
৫.সংকীর্ণমনতা
৬.মেজাজের ভারসাম্যহীনতা
৭.নেতিবাচক মনোভাব পরিহার
অবশ্যই একজন নেতাকে সারাক্ষণ বর্তমান নিয়ে চিন্তা করলেও হবেনা। তাকে ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী বর্তমানের সিদ্ধান্তও নিতে হবে। “দায়িত্ব নেওয়াই শেষ কথা নয়। বরং দায়িত্ব পালন করার আগে মনে রাখতে হবে যাতে পরবর্তী ধাপগুলিও ঠিকঠাক থাকে।”[২]
এতে করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে।
মহাত্মা গান্ধীর ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ কথা মনে আছে? মনে আছে নেলসন ম্যান্ডেলার ‘বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের’ কথা? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ভাষণের কথা মনে আছে?
তারা কেমন নেতা ছিলেন তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাদের অনন্য নেতৃত্বের কারণেই তারা তাদের জাতির কাছে মহানায়ক হয়ে আছেন, থাকবেন।
একজন আদর্শবান নেতার অনেকগুলো
গুণাবলী থাকা আবশ্যক। তার অন্যতম প্রধান কিছু গুণাবলী হলো:
১.সততা
২.কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া
৩.কর্মীদের ওপর বিশ্বাস রাখা
৪.পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করা
৫.আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা
৬.কর্মীদের প্রতি যত্নশীল হওয়া
৭.সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে ঘটনা সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত হওয়া
৮.মাঝে মাঝে কর্মীদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করা
৯.অত্যাধিক ধৈর্য্যের পরিচয় দেওয়া
১০.যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন
১১.সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একজন নেতাকে তার কর্মীদের মধ্য থেকে সঠিক নেতৃত্বগুণ জাগিয়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে নেতার সঠিক নেতৃত্ব ব্যপক ভাবে কাজে দিবে তাদের। সবসময় নিজেই উপস্থাপক হওয়া যাবেনা। মাঝে মাঝে নিজেও দর্শকের ভূমিকা পালন করতে হবে। হয়তো এমন পরামর্শ আপনি (নেতা) তাদের থেকে শুনবেন, যা আপনি কখনো কল্পনাও করেন নি। এক্ষেত্রে চলুন ফিরে যা-ই আবার নববী যুগে।
৩. আমাদের বিজ্ঞ নাকিব ও বিশস্ত হাওয়ারীর প্রয়োজন:
নাকীব মানে কী?
ইবনে মানযুর লিসানুল আরবে লিখেছেন,
“নাকীব হলো গোত্রপতি। কাওমের লোকদের জামিনদার। নাকীব মানে জাতির বিশেষ দায়িত্ববান ব্যক্তি।”
অর্থাৎ বিভিন্ন যুগে নবীরা যেভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে, ঠিক সেরকম দায়িত্ববান ব্যক্তির আজ খুব প্রয়োজন।
হাওয়ারী কাকে বলে?
মু’জামুল মাআনিল যামীয়ু এর আলোকে হাওয়ারী হলো, “একনিষ্ঠভাবে যে জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে নবীর মিশনের পূর্ণতায় কাজ করে তাকে হাওয়ারী বলে।”
অর্থাৎ বিভিন্ন যুগের নবীদের অনুসারীরা যেভাবে তাদের অনুসরণ, সাহায্য ও ত্যাগ স্বীকার করেছে, ঠিক তেমন অনুসারীদের আজ আবার দরকার।
৪. মদিনায় তখন মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছেনা। অধিক গোত্র থাকায় তারা হরহামেশাই নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়তো। তারা এমন একজন নেতার অপেক্ষায় ছিল, যে কিনা নিরপেক্ষভাবে তাদের এই দ্বন্দ্বের বিচার-ফয়সালা করে, তাদের মধ্যে বিরাজমান বিবাদগুলো নিরসন করে দিবে।
রাসূল (সা) এর সুখ্যাতির কথা তারা অনেক আগ থেকেই জানত। ইতিমধ্যে তারা ধরেও নিয়েছিল যে, ইনিই তাদের সে প্রত্যাশিত নেতা। তারা মক্কায় এসে রাসূল (সা) এর ব্যাপারে আরও খোঁজ খবর নিতে শুরু করলো।
নবুয়তের দশম বছর। হজের মৌসুম চলছে তখন। মদিনার খাযরাজ বংশীয় ছয়জন লোক মক্কার অদূরে ‘আকাবা’ নামক স্থানে একত্রিত হয়ে– নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। তারা শুনতে পেয়েছে মুহাম্মদ নামে এক কুরাইশ বংশোদ্ভূত নবুয়তপ্রাপ্ত হয়েছে।
রাসূল (সা) তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি ইসলামের শিক্ষা ও সত্যতার কথা তাদের বললেন। এবং সবশেষে কোরআনের কিছু আয়াত দ্বারা তাদেরকে তিনি এক আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন। রাসূল (সা) এর হাতে বায়াত গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের নেতা হিসেবে রাসূল (সা) কে স্বীকৃতি দিল। এটাই ইতিহাসে আকাবার প্রথম শপথ।
এর পরবর্তী বছরে একই সময়ে একই স্থানে, মদিনার আউস ও খাযরাজ গোত্রের বারোজন লোক রাসূল (সা) এর হাতে বায়াত গ্রহণ করলো। ইতিহাসে এটা আকাবার দ্বিতীয় শপথ।
নবুয়তের দ্বাদশ বছর। এবারও ঠিক একই স্থানে ৭৩জন নারী-পুরুষ রাসূল (সা) এর হাতে বায়াত গ্রহণ করে বললো, “আমরা আপনার এবং ইসলামের হেফাজতের জন্য এভাবে জীবন উৎসর্গ করবো, যেভাবে নিজ পরিবার-পরিজন এবং সম্মানের জন্য করে থাকি।” রাসূল (সা) ইসলামের প্রচারের জন্য, তাদের মধ্যে বারোজন নাকী নিযুক্ত করলেন। এরা রাসূল (সা) এর অনুপস্থিতিতে রাসূল (সা) এর কথাই নিজেদের গোত্রের মধ্যে প্রচার করতো। আর এটাই হলো প্রকৃত নাকীব ও হাওয়ারীর উদাহরণ।
এখন কথা হচ্ছে, এই আকাবার শপথের কথা কেন বললাম। একজন বিজ্ঞবান নেতার জন্য এখানে রয়েছে শিক্ষা।
পরিচয়হীন ছয়জন মানুষ রাসূল (সা) কে নেতা মানলেন। আবার তারা রাসূল (সা) এর আদর্শ তাদের গোত্রের মধ্যে প্রচার করলো। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরে তাদের সংখ্যা হলো দ্বিগুণ তথা বারোজন।
আবার এই বারোজনের প্রচারে পরবর্তী বছর তাদের সংখ্যা দাড়ালো ৭৩ জনে।
তারপর কি হলো?
রাসূল (সা) মদিনায় হিজরত করার আগেই, তিনি মদিনাবাসীর অন্তরে যায়গা করে নিলেন।
ইচ্ছে করলেই কিন্তু তারা রাসূল (সা) এর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পারতো। কিন্তু তারা তা করে নি।
এটা কিভাবে সম্ভব হলো?
অবশ্যই এটা রাসূল (সা) সততা, কথার মাধুর্যতা ও আচরণের নমনীয়তার কারণে সম্ভব হয়েছে।
ঠিক তেমনিভাবে একজন নেতাকে তার কর্মীদের সাথে এমন আচরণ করে তাদের মন জয় করে নিতে হবে।
রাসূল (সা) নিজ যোগ্যতা বলে যেমন আবু বকর, ওমর, ওসমান এবং আলী (রা) কে তার পরবর্তী যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ঠিক তেমনি ভাবে একজন নেতার উচিত নিজ কর্মীদের মধ্য থেকে সঠিক নেতৃত্বগুণ জাগিয়ে তোলা।
৫. একজন নেতার দায়বদ্ধতা:
সৃষ্টিগত ভাবে আমরা সবাই আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা আছে বলেই আমরা রবের আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে চেষ্টা করি।
প্রত্যেকেই নিজের কর্মের জন্য আল্লাহ কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ব্যক্তির অপকর্ম বা পাপের জন্য ব্যক্তি নিজেই দায়ী হবে। মানুষকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করতে হবে
একজন নেতার দায়বদ্ধতা অনেক।
প্রত্যেক নেতাকেই নিজ নিজ অধীনে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।
চাই তা ইহজগৎ হোক কিংবা মৃত্যুর পরের জগৎ হোক।
নেতা হয়েছেন ভালো কথা।
কিন্তু আপনার অধীনে থাকা লোকদের বিপদগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারে যখন; রাব্বে কারীম আপনাকে প্রশ্ন করবে তখন এর কি উত্তর দিবেন তা চিন্তা করে দেখেছেন কখনো?
যদি অধীনস্থ লোকদের সঠিক পথের দিকে আহ্বান করে থাকেন; তাহলে তো বেঁচে গেলেন। আর যদি নিজেই তাদের সাথে তাল মিলিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হোন তাহলে তো আর কিছুই বলার থাকেনা।
নিজের অপকর্মের জন্য তো শাস্তি পাবেনই। তার সাথে বোনাস হিসেবে নিজের অধীনস্থ লোকদের শাস্তির ভাগটিও পাবেন।
কেননা যখন আপনার অধীনস্থ লোকদের; নিজেদের বিপদগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারে রাব্বি কারীম তাদের প্রশ্ন করবে।
তখন তারা বলবে, হে প্রভু আমরা এই লোকটির অধীনে ছিলাম কিন্তু তিনি আমাদের সত্যের দিকে আহ্বান না করে নিজেই আমাদেরকে এই অসৎ কাজ করতে উৎসাহিত করেছে। তাই আমাদের শাস্তির ভাগ থেকে তাকেও শাস্তি দিন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে (জবাবদিহি) ভয় করে এবং প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।”[৩]
নেতা শুধু কোন দলের বা দেশের না। আমিও নেতা, আপনিও নেতা। একজন পুরুষ তার পরিবারের নেতা। একজন ইমাম তার মুসল্লীদের নেতা ইত্যাদি। এখন যদি আপনি, আপনার অবস্থানে থেকে আপনার অধীনস্থ লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন তাহলে আপনার জন্য সুসংবাদ। আর যদি সঠিক পথে পরিচালিত করতে না পারেন তাহলে এর জন্য অবশ্যই আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। তা আল্লাহর কাছে হোক বা মানুষের কাছে হোক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমাদের প্রত্যেকেই স্বীয় অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং শাসনকর্তা যিনি জনগণের রক্ষক, তিনি স্বীয় অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন আর প্রত্যেক পুরুষ স্বীয় পরিবারের লোকদের রক্ষক এবং তিনি নিজের অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। আর প্রত্যেক নারী স্বীয় স্বামীর পরিবারের লোক ও তাঁর সন্তানদের দায়িত্বশীল এবং তিনি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। কোনো লোকের চাকর স্বীয় মনিবের সম্পদের রক্ষক এবং সে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”[৪]
আপনার অধীনে যদি একজন কর্মীও থাকে,তাহলেও তার ভালোমন্দ কাজের জন্য আপনি দায়বদ্ধ হবেন।
তাই একজন নেতার একান্ত কর্তব্য, নিজে ন্যায়ের পথে চলা এবং অধীনস্থ লোকদের ন্যায়ের পথে চলতে সহযোগিতা করা।
সবশেষে নিজেকে এবং অধীনস্থ লোকদেরকে; অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত করে তুলতে করা।
তথ্যসূত্র:
[১]রহমান মৃধা, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, যুগান্তর
[২]অর্থনীতিবিদ ল্যারি রবিনসন
[৩]সূরা নাজিআত, আয়াত: ৪০
[৪]বুখারি ও মুসলিম