18/07/2026
ব্রিস্টলের সবচেয়ে উঁচু ভবনের সঙ্গে যেভাবে জড়াচ্ছে ইসরাইলি আগ্রাসনের নাম
মেনোরা মিভতাচিম ও কেইন-এর অর্থায়নে নির্মিত ‘সেন্ট জেমস হাউস’ ব্রিস্টলকে এমন এক পুঁজির প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইসরাইল হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত।
ব্রিস্টলের কেন্দ্রস্থলে ধীরে ধীরে আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে দুটি টাওয়ার বা ভবন। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের এই বৃহত্তম শহরে বর্তমানে ‘সেন্ট জেমস হাউস’ নামের একটি নতুন প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে ২৮ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য এবং ১৮ তলার অপর একটি ‘কো-লিভিং’ ব্লক তৈরি হচ্ছে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এই টাওয়ারটি শহরের কেন্দ্রে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থাপনা হতে যাচ্ছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ভবনগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হয়ে থাকে।
পাশাপাশি এটি ব্রিস্টল শহরকে—যার একদিকে রয়েছে বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের ইতিহাস, অন্যদিকে কট্টর অধিকার আদায়ের আন্দোলনের ইতিহাস—ইসরাইল, যুক্তরাজ্যে ইসরাইলপন্থি লবিং এবং গাজায় গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত করবে।
রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেইন ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ পেনশন ও ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ ‘মেনোরা মিভতাচিম’-এর যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্পটি গড়ে উঠছে। এটি এমন একটি শহরের সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক পুঁজি ক্রমবর্ধমানভাবে অফিস উন্নয়ন, ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসনের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
সেন্ট জেমস হাউস মূলত যুক্তরাজ্যে কেইন এবং মেনোরা মিভতাচিম দ্বারা নির্মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি টাওয়ারগুলোর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন। তাদের যৌথ পোর্টফোলিওতে লিভারপুল, নটিংহ্যাম, ম্যানচেস্টার, লিডস এবং ইয়র্কের বিভিন্ন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লিডসে প্রায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ৪৫ তলা ও ৬৬০ শয্যার ‘সিরাস পয়েন্ট’ কেবল শহরের সর্বোচ্চ ভবনই নয়, বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাত্রাবাস টাওয়ার।
ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষার প্রসারের ওপর ভিত্তি করেই মূলত শিক্ষার্থীদের এই আবাসন ব্যবসার রমরমা অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই শতাব্দীর শুরুতে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ, আজ তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সম্প্রসারণের একটি বড় অংশই এসেছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হাত ধরে, যারা বর্তমানে মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
২০১০ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি অর্থায়ন ব্যাপক হারে কমানো হয়েছে এবং ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক পর্যায়ের ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যারা অনেক বেশি ফি দিয়ে থাকেন। এদের মধ্যে অনেকেই (ব্রিস্টলে মূলত চীন ও ভারত থেকে আসা) অন্যান্য সাধারণ বাসস্থানের চেয়ে প্রিমিয়াম মানের ছাত্রাবাসে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
জায়গা কম লাগা, নিশ্চিত ভাড়াটে পাওয়া, বার্ষিক ভাড়ার হার বৃদ্ধি এবং অল্প জায়গায় বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী রাখার সুবিধার কারণে কেইন এবং মেনোরা মিভতাচিমের মতো বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
ব্রিস্টলে এই পরিস্থিতি আরও বেশি সুবিধাজনক। গত এক দশকে শহরটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের সরবরাহ বাড়েনি। ফলে এটি দেশের অন্যতম বড় আবাসন সংকটের শহরে পরিণত হয়েছে।
একই সময়ে শহরের সাধারণ আবাসন বাজারও ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সেন্ট জেমস হাউসের নির্মাণ সাইটের ঠিক উলটো দিকে একটি গোলচত্বরের মাঝখানে কংক্রিটের প্লাজায় প্রায়ই মানুষকে তাঁবু টানিয়ে ঘুমাতে দেখা যায়। ব্রিস্টলজুড়ে পার্ক এবং সবুজ জায়গাগুলোতে এমন তাঁবুর দেখা মেলে। এ ছাড়া রাস্তার পাশে গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, সিটি কাউন্সিল বাধ্য হয়ে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক খাতে বিনিয়োগ
কেইন ও মেনোরা মিভতাচিম—উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্যই শিক্ষার্থীদের আবাসন খাতে বিনিয়োগ তাদের সাধারণ ব্যবসার ধরন থেকে কিছুটা আলাদা।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেইন প্রাথমিকভাবে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে উচ্চমানের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করেছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ পরিচালনা করে। এর ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলটনের ১৭.৫ একরের মেগা প্রজেক্ট।
অন্যদিকে তেলআবিবভিত্তিক মেনোরা মিভতাচিম ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ ও পুরোনো বীমা এবং আর্থিক সেবা গোষ্ঠী। এটি প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের অবসরকালীন সঞ্চয়, বীমা তহবিল ও বিনিয়োগ পরিচালনা করে।
গবেষণা কেন্দ্র হু প্রফিটস-এর মতে, মেনোরা মিভতাচিম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে নেগেভ মরুভূমিতে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার স্থায়ী সামরিক কর্মীর জন্য নির্মিত বিশাল ‘সিটি অব ট্রেনিং বেস’ এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর জন্য তৈরি একটি বিশাল ক্যাম্পাস ‘কুরিয়াত হামোদিউইন’।
পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপন ও দখলদার,ত্বের অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত নির্মাণ কোম্পানি ‘শিকুন অ্যান্ড বিনুই’-তে মেনোরা মিভতাচিমের উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি নিরাপত্তা এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি কোম্পানি ‘জি১ সিকিউর সলিউশনস’-এরও অন্যতম প্রধান শেয়ারহোল্ডার তারা।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মেনোরা মিভতাচিম প্রথমবারের মতো কেইন-এর দ্রুত সম্প্রসারিত ব্রিটিশ স্টুডেন্ট টাওয়ার পরিকল্পনায় সরাসরি বিনিয়োগ করে। ‘ফিউশন গ্রুপ’ এবং ‘অলিম্পিয়ান হোমস’-এর মতো ডেভেলপারদের সঙ্গে ৫০ কোটি পাউন্ডের (৬৭০ মিলিয়ন ডলার) লেনদেনের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ করা হয়।
২০২৪ সালে ব্রিস্টলের সেন্ট জেমস হাউসসহ আরও কিছু অধিগ্রহণের মাধ্যমে কেইন তাদের পরিধি বাড়ায়। এরপর বছরের শেষের দিকে মেনোরা মিভতাচিম অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ করে, যা এই পোর্টফোলিওর মোট উন্নয়ন মূল্যকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি করতে সাহায্য করে।
করবিনের বিরুদ্ধে প্রচার
কেইন-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হলেন জোনাথন গোল্ডস্টেইন, যিনি ইসরাইলপন্থি ‘জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল’-এর প্রাক্তন সভাপতি। তিনি লেবার পার্টির প্রাক্তন নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা গোল্ডস্টেইন পরবর্তীতে রিয়েল এস্টেট ম্যাগনেট জেরাল্ড রনসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং তাকে একজন অতুলনীয় পরামর্শদাতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
রনসন দীর্ঘকাল ধরে ইসরাইলের সমর্থক এবং ব্রিটেনের ইসরাইলপন্থি প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কে একটি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গিনেস শেয়ার-ট্রেডিং জালিয়াতির দায়ে কারাবন্দী থাকার সময় তিনি ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়েটজহাক শামিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং প্যারোলে থাকাকালীন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
করবিনের যুগে গোল্ডস্টেইন লেবার নেতাকে অ-ব্রিটিশ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তিনি অনেক ব্রিটিশ ইহুদিকে অবাঞ্ছিত বোধ করিয়েছেন।
সম্প্রতি দ্য টাইমস-এর এক সাক্ষাৎকারে গোল্ডস্টেইনকে পদত্যাগী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের একজন সমর্থক এবং বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তিনি স্টারমারকে চেলসি ফুটবল ক্লাবের ডিরেক্টরস বক্সে ব্যক্তিগতভাবে আতিথেয়তা দিয়েছিলেন (যার তিনি অন্যতম সহ-মালিক)।
ল্যামিকে অর্থায়ন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ
লেবার পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতা কোনো সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। ২০১৫ সালে লন্ডনের মেয়রপ্রার্থী হওয়ার জন্য ডেভিড ল্যামির প্রচারাভিযানে গোল্ডস্টেইন অর্থ দান করেছিলেন। ল্যামির প্রচারণার পরিচালক ছিলেন ডেভিড মেনসার, যিনি জেরাল্ড রনসনের আরেকজন প্রাক্তন কর্মচারী এবং ‘লেবার ফ্রেন্ডস অফ ইসরাইল’-এর প্রাক্তন পরিচালক। গাজায় ইসরাইলি হামলার সময় মেনসার ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে ব্রিটিশ টিভির পর্দায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে ল্যামি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গাজায় গণহত্যার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করেন।
জেএলসি-এর সভাপতি হিসেবে গোল্ডস্টেইন নেতানিয়াহু এবং সাবেক মন্ত্রী গিলাদ এরদানের মতো ইসরাইলের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গোল্ডস্টেইন বলেছিলেন, ইসরাইল এই নৃশংসতার জবাবে যা উপযুক্ত মনে করবে, তাতে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়া উচিত।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ব্রিটেনে হওয়া বিশাল ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের সমালোচনা করেন এবং গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন।
ব্রিস্টলের দুই রূপ
ব্রিস্টল একসময় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। তামাক, চিনি এবং আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া দাস ব্যবসার মাধ্যমে এখানকার ব্যবসায়ীরা ধনী হয়ে উঠেছিলেন। একই সঙ্গে এটি ব্রিটিশ এস্টাবলিশমেন্টকে চ্যালেঞ্জকারী রাজনৈতিক ভিন্নমতের কেন্দ্র হিসেবেও বিকশিত হতে শুরু করে। এই দুটি ধারা—শোষণমূলক বাণিজ্যিক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক চরমপন্থা—আজও শহরটিকে সংজ্ঞায়িত করে।
গাজা ইস্যুতে এর চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ আর কোথাও দেখা যায় না। ইসরাইলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনের প্রচারণা এর একটি বড় প্রমাণ।
ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের জন্য ব্রিস্টল দেশের অন্যতম সক্রিয় কেন্দ্র, যেখানে নিয়মিত শহরের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রা, সমাবেশ, তহবিল সংগ্রহ এবং বয়কট প্রচারণার মতো কর্মসূচি দেখা যায়।
ব্রিস্টল সেন্ট্রাল নির্বাচনি এলাকা ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের গুটিকয়েক গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্যের একজনকে নির্বাচিত করেছে। কার্লা ডেনিয়ার নামের ওই প্রার্থী লেবার পার্টির থাঙ্গাম দেবোনেয়ারকে পরাজিত করেন, মূলত গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞে লেবার পার্টির নীরব সমর্থনের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই জয় আসে।
এটি এক চরম পরিহাসের বিষয় যে, ব্রিস্টলের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি সরাসরি শহরটিকে এমন একটি আর্থিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা ইসরাইলের গণহত্যাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে।
উপসাগরীয় পুঁজি, ইসরাইল এবং কুশনার পরিবার
এই নেটওয়ার্কগুলো ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিনিয়োগ, কূটনীতি এবং রাজনৈতিক সংযোগের এক বৃহত্তর জালের অংশ।
কেইন এবং মেনোরা মিভতাচিম এই জালেরই অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কুশনার পরিবারের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত হিসেবে জ্যারেড কুশনারের প্রথম আনুষ্ঠানিক ইসরাইল সফরের ঠিক আগে, কুশনার কোম্পানিজ মেনোরা মিভতাচিমের কাছ থেকে ৩ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছিল।
তার বাবা চার্লস কুশনারের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এতটাই ঘনিষ্ঠতা ছিল যে, উঠতি লিকুদ নেতা নেতানিয়াহু যখন যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন, তখন তিনি কুশনার পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। এমনকি তরুণ জ্যারেড নেতানিয়াহুর জন্য নিজের শোবার ঘরটিও ছেড়ে দিতেন বলে জানা যায়।
এ বছরের শুরুতে কেইন কুশনার কোম্পানিজের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। এই অংশীদারত্ব কেইনকে এমন একটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করে, যারা ইসরাইল, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে হওয়া আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পশ্চিমা বাজারগুলোর মধ্যে বিনিয়োগের পথ সুগম হয়েছে। ২০২২ সালে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট-ইকুইটি ফার্ম ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’-এ ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে।
কেইন মূলত উপসাগরীয় সার্বভৌম পুঁজির এই ইকোসিস্টেমেই কাজ করে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি আমান গ্রুপে সৌদি আরবের পিআইএফ-এর সঙ্গে যৌথভাবে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। সম্প্রতি কেইন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।
নিউইয়র্কের সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের মরুভূমির মহানগরী, আব্রাহাম চুক্তি এবং গাজা রিভেরা পরিকল্পনা হয়ে ব্রিস্টলের মতো ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় শহরগুলোতে পুঁজি ও দখলদারিত্বের এক নিষ্ঠুর সংযোগ প্রবাহিত হচ্ছে।
‘সেন্ট জেমস হাউস’ ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে চালুর কথা রয়েছে। এটি এমন এক আর্থিক ও রাজনৈতিক পুঁজির প্রবাহের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে, যা ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু পুরোনো আমলের বাণিজ্যিক বন্দরের রাস্তাগুলো দাস বহনকারী জাহাজের আর্তনাদ থেকে অনেক দূরে থাকলেও, আজকের বহুতল ভবনগুলোর চকচকে বাহ্যিক রূপ জাতিগত নিধন ও গণহত্যার নির্মম বাস্তবতাকে আর আড়াল করতে পারবে না।
সূত্র: মিডেল ইস্ট আই