Rukaiya & Associates Limited

Rukaiya & Associates Limited Legal and Business Consultancy

টেলিভিশন টকশোতে আলোচনার আমন্ত্রণআজ ৪ আগস্ট, ২০২৬, এশিয়ান টেলিভিশনের নিয়মিত টকশো "টেবিল টক"-এ লাইভ আলোচনায় অংশ নিচ্ছি।...
04/08/2026

টেলিভিশন টকশোতে আলোচনার আমন্ত্রণ

আজ ৪ আগস্ট, ২০২৬, এশিয়ান টেলিভিশনের নিয়মিত টকশো "টেবিল টক"-এ লাইভ আলোচনায় অংশ নিচ্ছি।

বিষয়: জুলাই দলমত-নির্বিশেষে আপামর মানুষের

আলোচকবৃন্দ:
একেএম রেজাউল করিম — চেয়ারম্যান, ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার
নেওয়াজ হালিমা আরলী এমপি — সহ ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক, বিএনপি
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ — সাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টি

সম্প্রচারের সময়:
লাইভ সম্প্রচার: আজ সন্ধ্যা ৮:০০ মিনিটে
পুনঃপ্রচার: রাত ১:৩০ মিনিটে
চ্যানেল: এশিয়ান টেলিভিশন (Asian TV)

দেশ ও রাজনীতির সমসাময়িক নানা দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনাদের মূল্যবান মতামত প্রত্যাশা করছি।

ব্রিস্টলের সবচেয়ে উঁচু ভবনের সঙ্গে যেভাবে জড়াচ্ছে ইসরাইলি আগ্রাসনের নামমেনোরা মিভতাচিম ও কেইন-এর অর্থায়নে নির্মিত ‘সেন্ট...
18/07/2026

ব্রিস্টলের সবচেয়ে উঁচু ভবনের সঙ্গে যেভাবে জড়াচ্ছে ইসরাইলি আগ্রাসনের নাম

মেনোরা মিভতাচিম ও কেইন-এর অর্থায়নে নির্মিত ‘সেন্ট জেমস হাউস’ ব্রিস্টলকে এমন এক পুঁজির প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইসরাইল হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত।

ব্রিস্টলের কেন্দ্রস্থলে ধীরে ধীরে আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে দুটি টাওয়ার বা ভবন। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের এই বৃহত্তম শহরে বর্তমানে ‘সেন্ট জেমস হাউস’ নামের একটি নতুন প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে ২৮ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য এবং ১৮ তলার অপর একটি ‘কো-লিভিং’ ব্লক তৈরি হচ্ছে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এই টাওয়ারটি শহরের কেন্দ্রে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থাপনা হতে যাচ্ছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ভবনগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হয়ে থাকে।

পাশাপাশি এটি ব্রিস্টল শহরকে—যার একদিকে রয়েছে বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের ইতিহাস, অন্যদিকে কট্টর অধিকার আদায়ের আন্দোলনের ইতিহাস—ইসরাইল, যুক্তরাজ্যে ইসরাইলপন্থি লবিং এবং গাজায় গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত করবে।

রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেইন ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ পেনশন ও ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ ‘মেনোরা মিভতাচিম’-এর যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্পটি গড়ে উঠছে। এটি এমন একটি শহরের সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক পুঁজি ক্রমবর্ধমানভাবে অফিস উন্নয়ন, ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসনের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

সেন্ট জেমস হাউস মূলত যুক্তরাজ্যে কেইন এবং মেনোরা মিভতাচিম দ্বারা নির্মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি টাওয়ারগুলোর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন। তাদের যৌথ পোর্টফোলিওতে লিভারপুল, নটিংহ্যাম, ম্যানচেস্টার, লিডস এবং ইয়র্কের বিভিন্ন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লিডসে প্রায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ৪৫ তলা ও ৬৬০ শয্যার ‘সিরাস পয়েন্ট’ কেবল শহরের সর্বোচ্চ ভবনই নয়, বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাত্রাবাস টাওয়ার।

ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষার প্রসারের ওপর ভিত্তি করেই মূলত শিক্ষার্থীদের এই আবাসন ব্যবসার রমরমা অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই শতাব্দীর শুরুতে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ, আজ তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সম্প্রসারণের একটি বড় অংশই এসেছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হাত ধরে, যারা বর্তমানে মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

২০১০ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি অর্থায়ন ব্যাপক হারে কমানো হয়েছে এবং ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক পর্যায়ের ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যারা অনেক বেশি ফি দিয়ে থাকেন। এদের মধ্যে অনেকেই (ব্রিস্টলে মূলত চীন ও ভারত থেকে আসা) অন্যান্য সাধারণ বাসস্থানের চেয়ে প্রিমিয়াম মানের ছাত্রাবাসে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

জায়গা কম লাগা, নিশ্চিত ভাড়াটে পাওয়া, বার্ষিক ভাড়ার হার বৃদ্ধি এবং অল্প জায়গায় বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী রাখার সুবিধার কারণে কেইন এবং মেনোরা মিভতাচিমের মতো বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

ব্রিস্টলে এই পরিস্থিতি আরও বেশি সুবিধাজনক। গত এক দশকে শহরটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের সরবরাহ বাড়েনি। ফলে এটি দেশের অন্যতম বড় আবাসন সংকটের শহরে পরিণত হয়েছে।

একই সময়ে শহরের সাধারণ আবাসন বাজারও ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সেন্ট জেমস হাউসের নির্মাণ সাইটের ঠিক উলটো দিকে একটি গোলচত্বরের মাঝখানে কংক্রিটের প্লাজায় প্রায়ই মানুষকে তাঁবু টানিয়ে ঘুমাতে দেখা যায়। ব্রিস্টলজুড়ে পার্ক এবং সবুজ জায়গাগুলোতে এমন তাঁবুর দেখা মেলে। এ ছাড়া রাস্তার পাশে গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, সিটি কাউন্সিল বাধ্য হয়ে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

ইসরাইলের সামরিক খাতে বিনিয়োগ

কেইন ও মেনোরা মিভতাচিম—উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্যই শিক্ষার্থীদের আবাসন খাতে বিনিয়োগ তাদের সাধারণ ব্যবসার ধরন থেকে কিছুটা আলাদা।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেইন প্রাথমিকভাবে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে উচ্চমানের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করেছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ পরিচালনা করে। এর ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলটনের ১৭.৫ একরের মেগা প্রজেক্ট।

অন্যদিকে তেলআবিবভিত্তিক মেনোরা মিভতাচিম ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ ও পুরোনো বীমা এবং আর্থিক সেবা গোষ্ঠী। এটি প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের অবসরকালীন সঞ্চয়, বীমা তহবিল ও বিনিয়োগ পরিচালনা করে।

গবেষণা কেন্দ্র হু প্রফিটস-এর মতে, মেনোরা মিভতাচিম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে নেগেভ মরুভূমিতে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার স্থায়ী সামরিক কর্মীর জন্য নির্মিত বিশাল ‘সিটি অব ট্রেনিং বেস’ এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর জন্য তৈরি একটি বিশাল ক্যাম্পাস ‘কুরিয়াত হামোদিউইন’।

পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপন ও দখলদার,ত্বের অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত নির্মাণ কোম্পানি ‘শিকুন অ্যান্ড বিনুই’-তে মেনোরা মিভতাচিমের উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি নিরাপত্তা এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি কোম্পানি ‘জি১ সিকিউর সলিউশনস’-এরও অন্যতম প্রধান শেয়ারহোল্ডার তারা।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মেনোরা মিভতাচিম প্রথমবারের মতো কেইন-এর দ্রুত সম্প্রসারিত ব্রিটিশ স্টুডেন্ট টাওয়ার পরিকল্পনায় সরাসরি বিনিয়োগ করে। ‘ফিউশন গ্রুপ’ এবং ‘অলিম্পিয়ান হোমস’-এর মতো ডেভেলপারদের সঙ্গে ৫০ কোটি পাউন্ডের (৬৭০ মিলিয়ন ডলার) লেনদেনের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ করা হয়।

২০২৪ সালে ব্রিস্টলের সেন্ট জেমস হাউসসহ আরও কিছু অধিগ্রহণের মাধ্যমে কেইন তাদের পরিধি বাড়ায়। এরপর বছরের শেষের দিকে মেনোরা মিভতাচিম অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ করে, যা এই পোর্টফোলিওর মোট উন্নয়ন মূল্যকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি করতে সাহায্য করে।

করবিনের বিরুদ্ধে প্রচার

কেইন-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হলেন জোনাথন গোল্ডস্টেইন, যিনি ইসরাইলপন্থি ‘জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল’-এর প্রাক্তন সভাপতি। তিনি লেবার পার্টির প্রাক্তন নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা গোল্ডস্টেইন পরবর্তীতে রিয়েল এস্টেট ম্যাগনেট জেরাল্ড রনসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং তাকে একজন অতুলনীয় পরামর্শদাতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

রনসন দীর্ঘকাল ধরে ইসরাইলের সমর্থক এবং ব্রিটেনের ইসরাইলপন্থি প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কে একটি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গিনেস শেয়ার-ট্রেডিং জালিয়াতির দায়ে কারাবন্দী থাকার সময় তিনি ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়েটজহাক শামিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং প্যারোলে থাকাকালীন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

করবিনের যুগে গোল্ডস্টেইন লেবার নেতাকে অ-ব্রিটিশ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তিনি অনেক ব্রিটিশ ইহুদিকে অবাঞ্ছিত বোধ করিয়েছেন।

সম্প্রতি দ্য টাইমস-এর এক সাক্ষাৎকারে গোল্ডস্টেইনকে পদত্যাগী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের একজন সমর্থক এবং বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তিনি স্টারমারকে চেলসি ফুটবল ক্লাবের ডিরেক্টরস বক্সে ব্যক্তিগতভাবে আতিথেয়তা দিয়েছিলেন (যার তিনি অন্যতম সহ-মালিক)।

ল্যামিকে অর্থায়ন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ

লেবার পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতা কোনো সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। ২০১৫ সালে লন্ডনের মেয়রপ্রার্থী হওয়ার জন্য ডেভিড ল্যামির প্রচারাভিযানে গোল্ডস্টেইন অর্থ দান করেছিলেন। ল্যামির প্রচারণার পরিচালক ছিলেন ডেভিড মেনসার, যিনি জেরাল্ড রনসনের আরেকজন প্রাক্তন কর্মচারী এবং ‘লেবার ফ্রেন্ডস অফ ইসরাইল’-এর প্রাক্তন পরিচালক। গাজায় ইসরাইলি হামলার সময় মেনসার ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে ব্রিটিশ টিভির পর্দায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে ল্যামি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গাজায় গণহত্যার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করেন।

জেএলসি-এর সভাপতি হিসেবে গোল্ডস্টেইন নেতানিয়াহু এবং সাবেক মন্ত্রী গিলাদ এরদানের মতো ইসরাইলের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গোল্ডস্টেইন বলেছিলেন, ইসরাইল এই নৃশংসতার জবাবে যা উপযুক্ত মনে করবে, তাতে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়া উচিত।

২০২৩ সালের নভেম্বরে পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ব্রিটেনে হওয়া বিশাল ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের সমালোচনা করেন এবং গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন।

ব্রিস্টলের দুই রূপ

ব্রিস্টল একসময় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। তামাক, চিনি এবং আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া দাস ব্যবসার মাধ্যমে এখানকার ব্যবসায়ীরা ধনী হয়ে উঠেছিলেন। একই সঙ্গে এটি ব্রিটিশ এস্টাবলিশমেন্টকে চ্যালেঞ্জকারী রাজনৈতিক ভিন্নমতের কেন্দ্র হিসেবেও বিকশিত হতে শুরু করে। এই দুটি ধারা—শোষণমূলক বাণিজ্যিক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক চরমপন্থা—আজও শহরটিকে সংজ্ঞায়িত করে।

গাজা ইস্যুতে এর চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ আর কোথাও দেখা যায় না। ইসরাইলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনের প্রচারণা এর একটি বড় প্রমাণ।

ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের জন্য ব্রিস্টল দেশের অন্যতম সক্রিয় কেন্দ্র, যেখানে নিয়মিত শহরের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রা, সমাবেশ, তহবিল সংগ্রহ এবং বয়কট প্রচারণার মতো কর্মসূচি দেখা যায়।

ব্রিস্টল সেন্ট্রাল নির্বাচনি এলাকা ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের গুটিকয়েক গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্যের একজনকে নির্বাচিত করেছে। কার্লা ডেনিয়ার নামের ওই প্রার্থী লেবার পার্টির থাঙ্গাম দেবোনেয়ারকে পরাজিত করেন, মূলত গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞে লেবার পার্টির নীরব সমর্থনের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই জয় আসে।

এটি এক চরম পরিহাসের বিষয় যে, ব্রিস্টলের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি সরাসরি শহরটিকে এমন একটি আর্থিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা ইসরাইলের গণহত্যাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে।

উপসাগরীয় পুঁজি, ইসরাইল এবং কুশনার পরিবার

এই নেটওয়ার্কগুলো ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিনিয়োগ, কূটনীতি এবং রাজনৈতিক সংযোগের এক বৃহত্তর জালের অংশ।

কেইন এবং মেনোরা মিভতাচিম এই জালেরই অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কুশনার পরিবারের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত হিসেবে জ্যারেড কুশনারের প্রথম আনুষ্ঠানিক ইসরাইল সফরের ঠিক আগে, কুশনার কোম্পানিজ মেনোরা মিভতাচিমের কাছ থেকে ৩ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছিল।

তার বাবা চার্লস কুশনারের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এতটাই ঘনিষ্ঠতা ছিল যে, উঠতি লিকুদ নেতা নেতানিয়াহু যখন যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন, তখন তিনি কুশনার পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। এমনকি তরুণ জ্যারেড নেতানিয়াহুর জন্য নিজের শোবার ঘরটিও ছেড়ে দিতেন বলে জানা যায়।

এ বছরের শুরুতে কেইন কুশনার কোম্পানিজের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। এই অংশীদারত্ব কেইনকে এমন একটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করে, যারা ইসরাইল, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে হওয়া আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পশ্চিমা বাজারগুলোর মধ্যে বিনিয়োগের পথ সুগম হয়েছে। ২০২২ সালে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট-ইকুইটি ফার্ম ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’-এ ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে।

কেইন মূলত উপসাগরীয় সার্বভৌম পুঁজির এই ইকোসিস্টেমেই কাজ করে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি আমান গ্রুপে সৌদি আরবের পিআইএফ-এর সঙ্গে যৌথভাবে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। সম্প্রতি কেইন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।

নিউইয়র্কের সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের মরুভূমির মহানগরী, আব্রাহাম চুক্তি এবং গাজা রিভেরা পরিকল্পনা হয়ে ব্রিস্টলের মতো ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় শহরগুলোতে পুঁজি ও দখলদারিত্বের এক নিষ্ঠুর সংযোগ প্রবাহিত হচ্ছে।

‘সেন্ট জেমস হাউস’ ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে চালুর কথা রয়েছে। এটি এমন এক আর্থিক ও রাজনৈতিক পুঁজির প্রবাহের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে, যা ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু পুরোনো আমলের বাণিজ্যিক বন্দরের রাস্তাগুলো দাস বহনকারী জাহাজের আর্তনাদ থেকে অনেক দূরে থাকলেও, আজকের বহুতল ভবনগুলোর চকচকে বাহ্যিক রূপ জাতিগত নিধন ও গণহত্যার নির্মম বাস্তবতাকে আর আড়াল করতে পারবে না।

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

পঁয়তাল্লিশ বছর পর মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার: ইতিহাসের এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের পুনরুত্থানইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিমইত...
17/07/2026

পঁয়তাল্লিশ বছর পর মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার: ইতিহাসের এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের পুনরুত্থান

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম

ইতিহাসের গতিপথ কখনো কখনো থমকে দাঁড়ায়, কিন্তু তা কখনো মুছে যায় না। অপরাধী যতই চতুর হোক, নিখুঁত ছদ্মবেশ আর দশকের পর দশক ধরে পালিয়ে বেড়ানোর অহংকার—সবকিছুই একদিন আইনের খাঁচায় বন্দি হতে বাধ্য। এটাই নির্মম নিয়তি। গত বুধবার গভীর রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক নিখুঁত ও পেশাদার অভিযানে যখন বনানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে বয়োবৃদ্ধ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলো, তখন অবসান ঘটলো দীর্ঘ ৪৫ বছরের এক ফেরারি জীবনের। এই ব্যক্তি আর কেউ নন; ১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম) হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন।

কেবলমাত্র দুটি ক্লু—নাকের নিচে একটি বড় কালো তিল বা আঁচিল এবং মেয়ে ‘এয়ারটেল’ অফিসে চাকরি করেন; এই সামান্য সূত্র ধরে ডিবির চৌকস টিম যে নাটকীয় কৌশলে ‘অফিস কর্মী’ সেজে এই দুর্ধর্ষ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। চেহারা বদলালেও প্রকৃতির দেওয়া জন্মচিহ্ন বদলানোর সাধ্য মোজাফফরের ছিল না। মুখ ফসকে যখন তিনি বললেন, *"আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা"*, তখনই অবরুদ্ধ হয়ে পড়লো দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী এক খলনায়কের হাতজোড়া।

তবে এই গ্রেপ্তার শুধু একজন পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। ৪৪-৪৫ বছর পর এই মোজাফফরের ধরা পড়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার এবং আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের অমীমাংসিত রহস্যগুলোকে আবারও জাতির সামনে এক বড় প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ইতিহাসের বাঁক বদল ও শহীদ জিয়ার অবদান

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা ও প্রভাবশালী মহানায়ক। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ, মহান মুক্তিযুদ্ধে একটি গৌরবময় সেক্টরের নেতৃত্ব এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে টেনে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা চিরভাস্বর। দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে তিনি ছিলেন এক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে নিস্তেজ হয়ে পড়া অর্থনীতিকে উৎপাদনমুখী করেছিলেন, গ্রামীণ উন্নয়নকে গতিশীল করেছিলেন, বহুদলীয় রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটিয়েছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ করেছিলেন।

কিন্তু ১৯৮১ সালের মে মাসে এক রাজনৈতিক সফরে চট্টগ্রামে গিয়ে ৩০ মে ভোররাতে সার্কিট হাউসে একদল পথভ্রষ্ট ও বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার কাপুরুষোচিত হামলায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দেশ। পরবর্তীতে সামরিক আদালতে তড়িঘড়ি করে বিচার সম্পন্ন করে ১২ জন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত কুশীলব, গভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং তৎকালীন সামরিক-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের আসল চিত্র কখনোই পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।

দীর্ঘ আত্মগোপন ও ‘র’-এর আশ্রয়: কিছু গুরুতর প্রশ্ন

মেজর মোজাফফরের এই দীর্ঘ আত্মগোপনের ইতিবৃত্ত অত্যন্ত রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর। নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি প্রথম জিআরবি (জাতীয় রক্ষী বাহিনী) থেকে সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছিলেন এবং ১৯৮১ সালে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর পরই তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যান এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর সেখানে অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ সময় তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে ও নজরদারিতে ছিলেন, যেখানে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’র মতো ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে দেশের ভেতরেই বহাল তবিয়তে লুকিয়ে ছিলেন। ১৯৮১ সালের সেই রক্তাক্ত মে মাসের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে এই মোজাফফরই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকায় তাঁর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি বা তথ্য নেওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের হয়নি। তাই এই মুহূর্তে তাঁর গ্রেপ্তার সেই অন্ধকার ইতিহাসের অনেকগুলো বন্ধ দরজার তালা খুলে দেওয়ার মোক্ষম চাবিকাঠি হতে পারে।

একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি

ইতিহাসের এই দায় থেকে রাষ্ট্র পিছটান দিতে পারে না। শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্র এবং মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের রহস্যময় মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে এখনই সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এই কমিটিতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডিজিএফআই (DGFI), এনএসআই (NSI), প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের চৌকস প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা সমীচীন হবে। একই সাথে মোজাফফর হোসেনকে ডিজিএফআই-এর ‘জয়েন্ট ইন্টাররোগেশন সেন্টার’ (JIC) অথবা সেনাবাহিনীর ‘আর্মি ইন্টাররোগেশন সেল’ (AIC)-এ কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা দরকার, যাতে চার দশক আগের সেই অমীমাংসিত সত্য জাতির সামনে উন্মোচিত হয়।

একটি দায়িত্বশীল ও স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্যই হলো সত্য অনুসন্ধান করা। ইতিহাসের এই নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য নয়; বরং দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্ভুল ও বিকৃতিহীন ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে হওয়া উচিত। সত্য যতই কঠিন বা অপ্রিয় হোক না কেন, তা উন্মোচিত হলে জাতি হিসেবে আমরা বিভাজনের নয়, বরং শিক্ষা ও ঐক্যের একটি মজবুত ভিত্তি খুঁজে পাব।

শেষ কথা: সুবিচারের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে যদি ৪৫ বছর লেগে যেতে পারে, তবে তা প্রমাণ করে যে—সময় লাগলেও ইতিহাসের অধ্যায়গুলো কখনো অপূর্ণ থাকে না। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই বাংলাদেশের মাটিতে আর কত বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা বয়ে বেড়াব?

আজ এই গ্রেপ্তারের পর দেশের আমজনতার মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হচ্ছে। আমরা হয়তোবা কোনো একদিন এভাবেই বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার দেখতে পাব। হয়তোবা কোনো এক সুন্দর শুক্রবার বিকেলে শহীদ ওসমান হাদীর প্রকৃত হত্যাকারীদেরও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখব। এই দেশের আপামর জনগণ, এই মাটির প্রতিটি মানুষ, বাংলাদেশপন্থী জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দের জন্য রাষ্ট্র এবং প্রকৃতির কাছ থেকে এতটুকু ন্যায়বিচার ও সুবিচার তো আশা করতেই পারে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, আর মোজাফফরের এই হাতকড়া পরা ছবি আজ সেই সত্যেরই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

লেখক:

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম
চেয়ারম্যান - বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র
চেয়ারম্যান - সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট
চেয়ারম্যান - ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)
নির্বাহী পরিচালক - জিয়া ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী (জিয়া)

ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা: টেকসই সমাজ বিনির্মাণের মূল শর্তইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিমএকটি সভ্য, গণতান্ত্রিক...
24/06/2026

ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা: টেকসই সমাজ বিনির্মাণের মূল শর্ত

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম

একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সমাজ কাঠামোর মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর—একটি হলো প্রশ্নাতীত ন্যায়বিচার, আর অন্যটি হলো শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা। এই দুটি উপাদানের যেকোনো একটির দুর্বলতা পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বর্তমান সময়ে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে রূপান্তর ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন চলছে, সেখানে এই দুটি বিষয়ের গুরুত্ব পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

অনুমাননির্ভর বিচার ও একপেশে সিদ্ধান্তের পরিণতি

আইনশাস্ত্র এবং সামাজিক নৈতিকতার একটি চিরন্তন ও সর্বজনীন নীতি হলো—অপর পক্ষের বক্তব্য না শুনে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে না।" রোমান আইন থেকে শুরু করে আধুনিক বিচারিক পরিভাষা, কিংবা ইসলামী শরিয়াহ—সবখানেই এই নীতিকে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের (Natural Justice) প্রথম শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে সমাজজুড়ে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যেকোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে, কেবল একপক্ষের কথা শুনে বা স্রেফ সন্দেহের বশে মানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করা কেবল ন্যায়বিচারের পরিপন্থীই নয়, এটি একটি স্পষ্ট 'জুলুম'।

পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো খবর নিশ্চিত না হয়ে যেন কোনো সম্প্রদায়ের ওপর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, যাতে পরে অনুতপ্ত হতে হয়। যখন কোনো সমাজে অনুমান, গুজব এবং একপেশে ধারণার ওপর ভিত্তি করে সামাজিক বা আইনি বিচার প্রক্রিয়া চালিত হয়, তখন সেখানে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। নিরপরাধ মানুষ যখন জুলুমের শিকার হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যায়।

ব্যক্তির ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠান: সুশাসনের মেরুদণ্ড

সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—“ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়।"একটি প্রবাদ রয়েছে, "ব্যক্তি নশ্বর, কিন্তু প্রতিষ্ঠান অবিনশ্বর।" ব্যক্তি আজ ক্ষমতায় বা দায়িত্বে আছেন, কাল থাকবেন না। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যদি সুদৃঢ় ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, তবে নেতৃত্ব বা ব্যক্তির পরিবর্তনে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি কখনো স্থবির হয় না।

যখনই কোনো সংস্থায়, রাজনৈতিক দলে বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ব্যক্তির ইচ্ছা, অনুরাগ বা বিরাগ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, তখনই সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় শুরু হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেসব জাতি আজ পৃথিবীতে উন্নত ও প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তারা ব্যক্তির পূজা করেনি; বরং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভাঙার অর্থ হলো সামগ্রিক পদ্ধতি বা ‘সিস্টেম’কে ধ্বংস করে দেওয়া। ব্যক্তিস্বার্থ বা সাময়িক আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম রক্ষা করাই হচ্ছে প্রকৃত দেশপ্রেম ও সততার লক্ষণ।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আমাদের করণীয়

বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বাহ্যিক ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন লড়াই। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে।

সংকটকালীন সময়ে আমাদের আবেগপ্রবণ না হয়ে প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। সমাজের ভেতর শত্রু-মিত্র বা রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান চিহ্নিত করার প্রয়োজন নিশ্চয়ই রয়েছে, তবে তা হতে হবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই যেন স্রেফ ব্যক্তিগত শত্রুতা বা সন্দেহের বশে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি জুলুম বা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে রাষ্ট্র ও সমাজকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের বেঁচে থাকার অক্সিজেন। আমরা যদি এমন একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই যা বাহ্যিক যেকোনো আগ্রাসন বা অশুভ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সক্ষম, তবে আমাদের ব্যক্তিপূজা ও একপেশে বিচারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে সমুন্নত রেখে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল আমরা একটি নিরাপদ, উন্নত এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম
কলামিস্ট, সমাজসেবক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী।
চেয়ারম্যান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র
নির্বাহী পরিচালক: জিয়া ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী (জিয়া)
চেয়ারম্যান: সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট
চেয়ারম্যান: ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)।
সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: জিয়া পরিষদ

২৪ জুন, ২০২৬।

22/06/2026

অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান, জননেতা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস সালাম মহোদয়কে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা।

একটি ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় মানবিক প্রতিষ্ঠানে আপনার এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব প্রাপ্তি অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। দেশনায়ক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আপনার যোগ্যতা, সততা এবং দক্ষতার প্রতি আস্থা রেখে যে গুরুদায়িত্ব আপনাকে অর্পণ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য (Executive Committee Member, UK BNP) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে আপনার সাথে দীর্ঘ সময় অত্যন্ত কাছ থেকে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ ও সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আপনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দূরদর্শিতা এবং রাজপথের ত্যাগ ও অবদানকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনার এই বলিষ্ঠ ও মানবিক নেতৃত্ব বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

আমি আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং এই মহৎ দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর দরবারে পূর্ণ সাফল্য কামনা করছি।

শুভেচ্ছান্তে,

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম

কলামিস্ট, সমাজসেবক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতিবিদ

চেয়ারম্যান — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র
সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল
সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক — জিয়া পরিষদ
সাবেক সদস্য — যুক্তরাজ্য বিএনপি
সাবেক সদস্য — ঝালকাঠি জেলা বিএনপি
সাবেক সহ-সভাপতি — কাউখালী উপজেলা বিএনপি
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক — সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, যুক্তরাজ্য শাখা
প্রতিষ্ঠাতা — সাতুরিয়া ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজাপুর, ঝালকাঠি
প্রতিষ্ঠাতা — আলহাজ্জ্ব কে.এম. আবদুল করিম জামিয়া ইসলামীয়া ইয়াতিমখানা, পূর্ব আমড়াজুরি, কাউখালি, পিরোজপুর
প্রতিষ্ঠাতা — আলহাজ্জ্ব কে.এম. আবদুল করিম জামিয়া ইসলামীয়া বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা, পূর্ব আমড়াজুরি, কাউখালি, পিরোজপুর
প্রতিষ্ঠাতা — মোস্তফা হায়দার একাডেমী, পূর্ব আমড়াজুরি, কাউখালি, পিরোজপুর
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান — শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক রিসার্চ ইনস্টিটিউট
চেয়ারম্যান — সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট
চেয়ারম্যান — ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান — মোসলেম আলী খান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
চেয়ারম্যান — আলহাজ্ব কে,এম,আব্দুল কারীম রাহিমাহুল্লাহ ট্রাস্ট
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান — জীবনানন্দ দাশ গবেষণা কেন্দ্র
নির্বাহী পরিচালক: জিয়া ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী (জিয়া)

ইরান যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের কৌশলগত পিছুটান: একটি চূড়ান্ত বিজয়ের অভিমুখে তেহরানইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিমইরান যুদ্ধের গত ...
13/06/2026

ইরান যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের কৌশলগত পিছুটান: একটি চূড়ান্ত বিজয়ের অভিমুখে তেহরান

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম

ইরান যুদ্ধের গত দেড় মাসের ইতিহাসে চলমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে আজকের মতো এত বিভ্রান্তকর, নাটকীয় এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল দিন খুব কমই এসেছে। একদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের ব্রেকিং নিউজ, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও তেহরানের বিপরীতমুখী বয়ান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। তবে এই সমস্ত নাটকীয়তার আড়ালে যে সত্যটি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা হলো: মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের সামরিক দম্ভের মুখে ইরান এক অভিনব কৌশলগত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার পথে রয়েছে।

জেনেভার গুঞ্জন ও দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বার্তা

ঘটনার সূত্রপাত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের একটি ব্রেকিং নিউজ দিয়ে। তারা জানায়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী রবিবারই (পরশু দিন) আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হতে পারে। কিন্তু এই খবরটি চাউর হওয়ার পরপরই দুই পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী বার্তা আসতে শুরু করে, যা বিশ্ববাসীকে রীতিমতো বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়।

আমেরিকান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই চুক্তির মূল শর্ত হবে:

হরমুজ প্রণালি: এটি সম্পূর্ণ পূর্বের অবস্থায় ফেরত যাবে এবং আগের মতোই আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

পারমাণবিক প্রকল্প: ইরান তাদের সমস্ত পারমাণবিক প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করবে।

কিন্তু ওয়াশিংটনের এই আকাশকুসুম দাবির বিপরীতে ইরান সরকারের অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম 'ইরনা' (IRNA) যখন চুক্তির প্রকৃত খসড়াটি ফাঁস করে দেয়, তখন মার্কিন প্রশাসনের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।

সমঝোতা স্মারক (MoU): চুক্তি নাকি আলোচনার টেবিল?

ইরানের ফাঁস করা খসড়া অনুযায়ী, রোববার আসলে কোনো চূড়ান্ত ‘চুক্তি’ হচ্ছে না; বরং এটি একটি সমঝোতা স্মারক বা MoU (Memorandum of Understanding)। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে:

“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার ৬০ দিন পর দুই দেশ পুনরায় পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে।"

অর্থাৎ, এটি কোনো পারমাণবিক প্রকল্প ধ্বংসের দলিল নয়, বরং আলোচনার টেবিলে বসার একটি প্রাথমিক সম্মতিপত্র মাত্র। এর পাশাপাশি ইরান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে:

১. ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কোনো চুক্তিতে যাচ্ছে না—তেমন প্রশ্নই আসে না (যদিও এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই)।
২. আমেরিকার কাছে জব্দ থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার তেহরানকে ফেরত দিতে হবে, যা এই সমঝোতার অংশ।

ট্রাম্পের হাঁসফাঁস ও আরাগচির কূটনৈতিক চাতুর্য

ইরান থেকে এই খসড়া ফাঁস হওয়ার পর মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। খোদ মার্কিন সংবাদমাধ্যমে যখন এটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম অস্বস্তিতে পড়েন। নিজের মুখ রক্ষা করতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বসেন: "তারা (ইরান) যা বলেছে, এমনকি চুক্তি নিয়ে তাদের দুর্বল ও করুণ বক্তব্যও সত্যের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না।" সেই সাথে যোগ করেন—"ভীষণ অসম্মানজনক লোকদের সাথে কাজ করতে হচ্ছে।"

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন (CNN) গভীর গবেষণায় নেমে পড়ে। খোদ মার্কিনিরাই এখন প্রশ্ন তুলছেন—তাহলে কি ইরান যা ফাঁস করেছে সেটাই সত্য? ফাঁসের কারণেই কি ট্রাম্প এখন এভাবে ক্ষোভ ঝাড়ছেন? কোনো কোনো বিশ্লেষক তো এমনও বলছেন যে, ট্রাম্প হয়তো ইরানের সব শর্ত গোপনে মেনেই নিয়েছিলেন, কিন্তু ইরানকে অনুরোধ করেছিলেন এগুলো প্রকাশ না করতে! কিন্তু তেহরান তা শোনেনি।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ট্রাম্প আবার স্বভাবসুলভ হুমকি দিয়ে বলেছেন, "তাদের দ্রুত নিজেদের ঠিক করে নেওয়া উচিত, এবং খুব দ্রুত!" কিন্তু এই ফাঁকা হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যে কূটনৈতিক পরিপক্বতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন: "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) কখনই এর চাইতে কাছাকাছি ছিল না।"

আমেরিকান অধ্যাপক মেইর শেইমারের সাম্প্রতিক ইন্টারভিউয়ের সূত্র ধরে যদি আরাগচির এই ভাষার ব্যবচ্ছেদ করি, তবে দেখা যাবে—তেহরান অত্যন্ত চমৎকার ভাষায় ট্রাম্পকে পরোক্ষভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়েছে: *'বেশি কথা বলো না, বললে কিন্তু আমরা আলোচনা থেকেই উঠে যাব।'* লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, আরাগচি পুরো বক্তব্যে 'চুক্তি' (Deal) শব্দটি ব্যবহারই করেননি, তিনি বলেছেন 'সমঝোতা স্মারক' (MoU)।

নেতানিয়াহুর অজ্ঞতা ও ওয়াশিংটন-তেল আবিব ফাটল

এই পুরো ভূ-রাজনৈতিক নাটকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং হাস্যকর দিক হলো—এত বড় সব আলোচনার কোথাও ইসরাইল এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কোনো উপস্থিতি নেই! ফরাসি সংবাদমাধ্যম 'ফ্রান্স-২৪' আজ একটি চমকপ্রদ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। গতকাল যখন ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল এবং বড় ধরনের হামলার হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, তখন নেতানিয়াহু তার সামরিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করছিলেন—ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালানো যায় তা নির্ধারণ করতে।

তার ঠিক পাঁচ ঘণ্টা পরই ট্রাম্প ঘোষণা করে দিলেন—খুব দ্রুতই চুক্তি (সমঝোতা) হতে যাচ্ছে, অর্থাৎ হামলা বাতিল! ফ্রান্স-২৪ যখন নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করল, *"তুমি কি এই বিষয়ে কিছু জানো?"* নেতানিয়াহু তখন চরম অসহায়ত্ব নিয়ে উত্তর দিলেন, *"আমি কিছুই জানি না। আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।"* এই দৃশ্যটিই প্রমাণ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতও দ্রুত বদলাচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় ৭৫ শতাংশ সাধারণ আমেরিকান ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থন তুলে নিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসরাইল-আমেরিকা সম্পর্ক কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, তা সহজেই অনুমেয়।

নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ থেকে সমঝোতার টেবিলে: মার্কিন সাম্রাজ্যের পরাজয়

রবিবার যদি কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হয়, তবে তার রূপরেখা যা-ই হোক না কেন—চুক্তি হওয়াটাই আমেরিকার জন্য একটি বিরাট কৌশলগত পরাজয়। ভূ-রাজনীতির শিক্ষক এবং বিশ্লেষক হিসেবে আমরা ভুলে যাইনি, এই যুদ্ধ শুরু করার প্রথম দিন ট্রাম্প কী হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন:

"There will be no deal with Iran except UNCONDITIONAL SURRENDER!" (ইরানের ক্ষেত্রে কোনো চুক্তি হবে না, শুধু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া!)

আজকের বাস্তবতায় কোথাও কি লেখা আছে যে ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করছে? উল্টো এই সমঝোতার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে রীতিমতো হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে। সুতরাং, যেকোনো ধরনের আলোচনা বা চুক্তি এখন প্রকারান্তরে ইরানেরই বিজয়।

আর ট্রাম্প যদি এই সমঝোতা থেকে পিছিয়ে গিয়ে ইরানে আবার সামরিক হামলা চালাতে যান, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কফিন তৈরি হতে বেশি সময় লাগবে না। গতকাল ট্রাম্প যখন হামলার ঘোষণা দেন, তখন ইরান নয়, বরং সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্ররাই ট্রাম্পকে ফোন করে এই হামলা বন্ধ করার জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ তারা জানে, ইরানের পাল্টা আঘাতের ক্ষমতা কতটা ভয়াবহ।

চূড়ান্ত বিজয়ের অভিমুখে ইরান

যুদ্ধ জয় কখনোই শুধু 'সামরিক শক্তি' (Military Power) দিয়ে হয় না। যদি তা-ই হতো, তবে ভিয়েতনামে আমেরিকার মতো পরাশক্তির পরাজয় হতো না। যুদ্ধ জিততে হয় কৌশলগত (Strategic) শক্তি দিয়ে, আর এই কৌশলে ইরান মার্কিন-ইসরাইল জোটের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে।

ইরানের হাতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের চাবিকাঠি। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৫০ ভাগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তেহরান। পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো প্রান্তে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের জন্য এই কৌশলগত সুবিধাই যথেষ্ট।

পরিশেষে বলা যায়, কোনো ফাঁকা হুমকি বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে আর দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইরান এখন আর রক্ষণাত্মক অবস্থানে নেই। তারা নিজেদের শক্তি ও সুদূরপ্রসারী কৌশলের ওপর ভর করে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত এবং পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

লেখক পরিচিতি:
কলামিষ্ট, সমাজ সেবক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতিবিদ।
চেয়ারম্যান - বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র;
চেয়ারম্যান - সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট;
চেয়ারম্যান - ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি);
নির্বাহী পরিচালক - জিয়া ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী (জিয়া)।

Address

Saturia

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rukaiya & Associates Limited posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Rukaiya & Associates Limited:

Shortcuts

Share