Brothers & Lawyers

Brothers & Lawyers Law business- Civil, Criminal & Family-All the legal issues, introduced in our Society 1. Civil and Land Law 2. Criminal Law 3. Islamic Law

15/08/2025

আমাদের দেশের ৯০% ডাক্তারেরা বিসিএস দেয় কেবল নিজের সাইনবোর্ডে একটি যোগ্যতা তুলে ধরার জন্য। বাস্তবিক অর্থে তারা সেবার ব্রত নিয়ে বিসিএস দিয়ে সরকারী জব করতে আসেন না। যদি আসতই তবে তারা মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করত। এই সাইনবোর্ড টি থাকলে তাদের প্রাইভেট ক্লিনিকের ব্যবসাটা জমে। প্রতিটা সরকারী হাসাপাতালে গেলে এর বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়।😢😢😢

শাসনব্যবস্থা  হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর – (পর্ব-৩) এ ধরণের নির্বাচনে সুবিধা কি?এ ধরণের নৈর্বাচনিক ব্যবস্থার সদূর প্রস...
23/07/2025

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর – (পর্ব-৩)

 এ ধরণের নির্বাচনে সুবিধা কি?

এ ধরণের নৈর্বাচনিক ব্যবস্থার সদূর প্রসারী সুবিধা ও ফলাফল রয়েছে। যেমন-
 দলীয় অরাজকতা কম থাকবে।
 বিশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
 যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্বাচিত হবে, এতে দেশের কল্যাণ হবে।
 উন্নততর গণতন্ত্রের চর্চা হবে। প্রার্থীর প্রাথমিক বাছাই পদ্ধতিতে যোগ্যতার মাপকাঠিতে বিচার করা হবে এবং যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে কোন অযোগ্য ছাগল-পাগল, চোর-বাটপার আর মানসিক বিকলাঙ্গদের দ্বারা সংসদ কলঙ্কিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
 নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রিত হবে সর্বোচ্চমানের নিরাপত্বা বলয়ে। দেশের আটটি বিভাগ কে চার ভাগে ভাগ করে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। যেমন- রংপুর এর সাথে সিলেট, ময়মনসিংহ এর সাথে খুলনা, বরিশাল এর সাথে রাজশাহী, আর ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম। এতে আইন শৃংখলা বাহিনী যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপত্বা টহল নিশ্চিত করা যাবে।
 দলীয় রাজনীতি ও নৈর্বাচনিক ব্যবস্থা না থাকায় বিভাগ ওয়ারী ভেঙ্গে ভেঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করলেও একটি নির্বাচনের প্রভাব আরেকটি নির্বাচনে পরবে না।
 কোন একটি দলের সম্পর্ককে কেন্দ্র রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের উপর বৈদেশিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থাকবে না।
 দেশ পরিচালিত হবে বিদ্যমান রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী আর বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ হবে পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী।
 নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এমনকি উপ-নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

 যেহেতু কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না, তাহলে এ ধরণের নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কিভাবে করব?

৩৫০ টি আসনের প্রার্থী নির্বাচন সম্পন্ন হলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্রের অভিভাবক অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি। আর তার যোগ্য পরামর্শক হিসেবে এ নির্বাচনের কাজে সহায়তা করবেন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচিত ৩৫০ জন জনপ্রতিনিধির মধ্য থেকে যারা প্রধানমন্ত্রী হতে চান, তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিস থেকে মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম সংগ্রহ করবেন। উক্ত মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম পুরন পূর্বক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাখিল করার সময় উপজেলা নির্বাচন কমিশনারের নিকট দাখিলকৃত ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জবানবন্দি ও মন্তব্যের একটি কপি জমা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বমোট স্কোর থাকবে ৩০০। তম্মধ্যে ১০০ হবে তার সংসদীয় আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত স্কোর। যেমন তিনি কত ভোট পেয়েছেন? কত ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন? তার ব্যবধান ভোট মোট ভোটের কত শতাংশ? তিনি নিজে মোট কত শতাংশ ভোট পেয়েছেন? ইত্যাদি আরো উপযুক্ত যেসব প্রশ্ন রাখা যেতে পারে। আর ১০০ হবে তার ব্যক্তিগত। যেমন সে কেমন প্রকৃতির মানুষ? প্রার্থীর আয়ের মাধ্যম কি? তার সম্পদের পরিমাণ কত? কোন মামলা আছে কি না? থাকলে কতটি ও কি ধরণের মামলা? প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ কেমন? প্রার্থীর সততা ও নৈতিকতা কেমন? ঋণ আছে কি না? থাকলে ঋণের পরিমাণ কত? ঋণ খেলাপির কোন রেকর্ড আছে কি না? থাকলে ঋণ খেলাপির পরিমাণ কত? সংসদ সদস্য কি প্রথমবার না কি দ্বিতীয়বার না কি তৃতীয়বার? তিনি কতবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছেন? ইত্যাদি আরো উপযুক্ত যেসব প্রশ্ন করা যেতে পারে। আর অবশিষ্ট ১০০ হবে তার মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম উপযুক্ত ঘোষণার পর প্রত্যক্ষ ভোটাভুটিতে। এক্ষেত্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কেবল নবনির্বাচিত ৩৫০ জন জনপ্রতিনিধিদের মধ্য হতে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী বাদে অবশিষ্ট সংসদ সদস্যগণ। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হতে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ জন। মনোনয়ন পত্র দাখিলকারী প্রার্থীগণের মধ্য থেকে প্রথম ২০০ স্কোরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরধারী প্রথম ১০ জন প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পাবে। বাকী ৩৪০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। উপযুক্ত ঘোষণাকৃত প্রার্থীদের কেউ মৃত্যূবরণ করেন বা প্রার্থীতা প্রত্যাহার (নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) করেন, তবে স্কোরের বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ১১তম বা ১২তম প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম উপযুক্ত ঘোষিত হবে। একজন প্রার্থী মোট ৩ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন, তবে সর্বোচ্চ ২ বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। যদি কোন প্রার্থী প্রথম দুবারই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়, তবে তিনি তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী যদি মৃত্যূবরণ করেন বা পদত্যাগ করেন বা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকেন, তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ২য় স্থান অধিকারী প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত ঘোষিত হবে এবং শপথ নিতে পারবেন। নতুন করে আর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। পরবর্তীতে অন্যান্যদের (যেমন- স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, হুইপ, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ইত্যাদি) নির্বাচন/নির্ধারণ করে নেয়া যাবে।

 তাহলে সরকারী দল ও বিরোধী দল নির্বাচন করব কিভাবে? বা সংসদে উত্থাপিত কোন বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি হবে কিভাবে?

এ ধরণের নৈর্বাচনিক ব্যবস্থার সরকারি দল ও বিরোধী দলের কোন প্রয়োজন আছে কি? আধুনিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্থাপিত কোন বিলের ব্যাপারে স্পীকার ব্যতীত উপস্থিত সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সকলেই হ্যাঁ কিংবা না ভোট দিতে পারবে। উত্থাপিত বিল রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর ও জনকল্যাণমূলক হলে সবাই চাইলে হ্যাঁ ভোট দিতে পারবে। আবার অকল্যাণকর ও অযৌক্তিক কোন বিলে সবাই চাইলে না ভোট দিতে পারবে। এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ, উপরোক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনে ইতোমধ্যে সুবিবেচনাবোধ সম্পন্ন, সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত কাউকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাই ভাল ও যৌক্তিক কিছুতে ভেটো দিবে আর অযৌক্তিক ও খারাপ কিছুতে ভোট দিবে এমন হওয়া্র আশঙ্কা খুবই কম। এক্ষেত্রে সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে যে, কাউকে কোন বিলে জোড়পূর্বক হ্যাঁ কিংবা না ভোট দিতে বাধ্য করা হবে না। কেবল দলের কারণে যে বাধ্যতামূলকভাবে অযৌক্তিক বিলেও হ্যাঁ ভোট কিংবা যৌক্তিক ও জনকল্যাণমূলক বিলেও না ভোট দেয়ার যে রীতি ও প্রবণতা ছিল, সেটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে সংসদ সদস্যদের দুটি দলে বিভক্ত করে নিতে পারে যদিও এটি নিস্প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি হচ্ছে দুটি কালার ব্যালট বাক্স রাখা হবে। যে ব্যালট বাক্সের বাইরে থেকে ভিতরে কিছু দেখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী আগে থেকেই একটি ব্যালট বাক্সের ভিতরে সবুজ রং এর একটি পেপার আর অন্য ব্যালট বাক্সে নীল রং এর একটি পেপার দিয়ে রাখবেন কেবল চিহ্নিত করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত সকল সংসদ সদস্য একটি A4 সাইজ সাদা পেপারে তাদের নিজ নিজ নাম, সংসদীয় আসন, আসন নং ও জেলার নাম লিখে উক্ত ব্যালট বাক্সে ফেলবে। ব্যালট বাক্সে নিজের চিরকুট ফেলার পর তিনি অন্যান্যদের (যারা এখনো ফেলেনি) সাথে উক্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেখা করতে পারবেন না। যারা সংখ্যায় বেশি হবে তারা সরকারি দল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের মধ্য থেকেই স্পীকার, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারে। আর যারা সংখ্যায় কম হবে তারা বিরোধী দল হিসেবে পরিগণিত হবে এবং তাদের মধ্য থেকেই ডেপুটি স্পীকার ও প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারে। উল্লেখ্য যে, এ পদ্ধতির নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের মাঝে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এখানেও মজার বিষয় হচ্ছে যে, ভোট প্রদানকারী সংসদ সদস্য ফলাফল পাওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত নিজেও জানবেন না যে, তিনি কোন দলের সদস্য হতে চলেছেন। সরকারি দলের নাকি বিরোধী দলের?

তরুণেরা একটি ফেতনা ফ্যাসাদহীন জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ ধরণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন এ নির্বাচন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কারণ, ইতিপূর্বে আমরা ফখরুদ্দীন আহমেদ এর শাসন দেখেছি। তিনিও যথেষ্ঠ কঠোর শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন এবং কিছূ সংস্কারও করেছিলেন। কিন্তু তারপরও আমরা বিগত বছরগুলিতে কি দেখেছি তা সচেতন মহল ভালো করেই জানে। আর জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর যে অবস্থা বিদ্যমান, তাতে মনে হচ্ছে পূর্বের মতোই আবারো সংসদে কিছু ছাগল-পাগল এর আমদানি আর মেলা হবে। তারা সংসদের মতো জায়গায় বসে উদ্ভট কথাবার্তা বলবে। যার নমুনা ইতিমধ্যে দেখা গেছে। মাঠ পর্যায়ে বড় বড় রাজনৈতিক দলের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সংস্কারের পরেও যে লাউ সেই কদু অবস্থার প্রতিফলন ঘটবে। কারণ, বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থায় কোন একটি রাজনৈতিক দলের লোকেরা বেশি আসন পাবে। তারপর তারা সংসদের বসে নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনে নতুন নতুন আইন বানাবে আর পুরাতন আইনগুলি থেকে তাদের স্বার্থ বিরোধী বিষয় বাদ দিবে। কারণ, সংসদে তো তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, যদিও এ নির্বাচন প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে হয়। কোন বিল পাশের জন্য অন্যান্যদের ভোটের কোন প্রয়োজনই হবে না। তাছাড়া পতিত সরকারের রাজনৈতিক নেতাকর্মীর কথা যদি ধরা হয়, তাহলে বলা যায় যে, তারা ইতিমধ্যেই বিএনপি ও অন্যান্যদের মাধ্যমে পূনর্বাসিত। মাত্র কয়েকদিন আগেই আমরা দেখলাম ঢাকা দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একটি এলাকায় বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয়া হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি পদে আওয়ামীলীগ এর লোকজন। এরকম প্রায় সকল নেতাকর্মীই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ করছেন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বাসুদ (বাংলাদেশ সুবিধাবাদী দল) এর অলিখিত সদস্য। এরা ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টায় ঠিক গিরগিটির মতো। এভাবে ৫টি বছর কেটে গেলে দেখা যাবে বিএনপি আর বিএনপি নাই। বরং তারা ভিন্ন কিছু হয়ে গেছে, যার চিত্র বর্তমানে দেশের জনগণ দেখতেছে। তরুণেরা এরকম পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না। তারা চায় নতুন নির্বাচন ব্যবস্থা, যার ফলাফল অনেক দূরদর্শী ও সদূর প্রসারী। আর এ নির্বাচন ব্যবস্থা হবে দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর।

 বর্তমান সংস্কার বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু বলার আছে কি?

বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার বিদ্যমান পদ্ধতি বাতিল না করে যতোই সংস্কার করুন না কেন, আগামী নির্বাচন শেষে যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারাও বিগত পলাতক সরকারের ন্যায় স্বৈরাচারী কায়েম করবে। কারণ, যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। তাই তাদের যা ইচ্ছা তাই কায়েম করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হবে। যার নমুনা ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাঝে দেখা গেছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিকল্প নেই।

সম্প্রতি প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত আর পলাতকদের পূনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ তৈরী করবে। একই সাথে প্রার্থীর সাথে জনগণের কোন সম্পর্ক থাকবে না্। কারণ, জনগণ ভোট দিবে রাজনৈতিক দল কে, কোন প্রার্থী কে নয়। আর সেই রাজনৈতিক দলগুলি কোন ছাগল-পাগলদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিবে তা…..অকল্পনীয়।

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর – (পর্ব-১)

https://www.facebook.com/photo?fbid=781881194195140&set=a.191756896540909

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর – (পর্ব-২)

https://www.facebook.com/photo/?fbid=781927134190546&set=a.191756896540909

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-২) তাহলে তরুণেরা কেমন শাসন ব্যবস্থা চায়?আমরা বর্তমানে যেমন বিভিন্ন রাজনৈ...
23/07/2025

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-২)

 তাহলে তরুণেরা কেমন শাসন ব্যবস্থা চায়?

আমরা বর্তমানে যেমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছি, এরকম কোন রাজনৈতিক দল থাকার কোন প্রয়োজন নেই। সকল রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে দেশের সকল প্রকার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও ব্যক্তি পর্যায়ে, ঠিক গ্রামের মেম্বার চেয়ারম্যান যেভাবে নির্বাচিত হতো।

 তরুণেরা কেন এমন শাসন ব্যবস্থা চায়?

ধরুণ, আপনি একটি প্রতিযোগিতামূলক খেলার লিফলেট বিতরণ করলেন। সেই লিফলেট এ খেলা সাথে প্রাসঙ্গিক সকল শর্তা দেয়া আছে। সেখানে বলা আছে, প্রত্যেক প্রতিযোগীকে একটি বিশ লিটারের পানির পাত্র দেয়া হবে আর সেই পাত্রটি পানি দিয়ে পূর্ণ করার জন্য আরেকটি হাফ লিটারের মগ দেয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ে খেলা আরম্ভ হবে এবং যে ব্যক্তি হাফ লিটারের মগের সাহায্যে বিশ লিটারের পাত্রটি দ্রুত পূর্ণ করে আগে নিয়ে আসতে পারবে, সে হতে পারে বিজয়ী। আর এ প্রতিযোগীতায় সঠিক বিজয়ী নির্বাচনের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ যে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উল্লেখ্য যে, লিফলেটের একটি কর্ণারে খুব ছোট অক্ষরে লেখা আছে ‘পানি পরিস্কার ও পানযোগ্য’ হতে হবে। এবার একবার চিন্তু করে দেখুন, আমরা বাঙ্গালীরা উক্ত খেলায় অংশগ্রহণের পর কি কি ঘঠতে পারে আর লিফলেটে বর্ণিত কোন কোন নিয়ম সঠিকভাবে পালিত হতে পারে? আর কোন কোন নিয়ম ভঙ্গ হতে পারে। আমরা বাঙ্গালীদের মানিসিকতার যে লেভেল, নৈতিকতার যে অবস্থা, সততার যে করুণ পরিণতি, তাতে সহজেই অনুমেয় যে কি হতে পারে। কেউ হয় তো লিফলেটের শর্তাবলী ভালভাবে পড়বেই না, কেউ আবার হাফ লিটারের পাত্রটির সঠিক ব্যবহারই করবে না, কেউ হয় তো বিশ লিটারের একেবারে চুবিয়ে ভর্তি করে ফেলবে, আবার কেউ হয় তো পঁচা আর নোংরা পানি দিয়ে ভর্তি করবে। এবার কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত শর্তাবলী সঠিকভাবে পালনকারীদের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচনের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। বললেন, যারা প্রতিযোগীতার শর্তাবলী সঠিকভাবে পালন করে তাদের নিজ নিজ পাত্র ভর্তি করেছেন, তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ পাত্র হতে এক লিটার পানি পান করবে এবং পানি পান করার সময় হতে কম্পক্ষে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত সুস্থ থাকতে হবে। তখন দেখা যাবে, অনেকেই তাদের পানি পান করছে না, আবার অনেকে বিজয়ী হওয়ার আশায় পানি পান করে হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে পেটের যন্ত্রণায়।

নির্বাচনের বিষয়টিও ঠিক এমন। অধিকাংশ ভোটাররা প্রার্থীকে যাচাই করে না। কেবল পছন্দ করে দল আর দলের মার্কা কে। তাই বিদ্যমান নির্বাচন পদ্ধতে ভোটের পরে আমরা সেই পঁচা আর নোংরা পানি পান করতে করতে পরবর্তী ৫ বছর অতিক্রম করি আর সাথে বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা যেমন ঘুষ, দূর্ণীতি, চাঁদাবাজি, অর্থ পাচার ও বে-আইনী কার্যকলাপের মুখোমুখী হই। যার কারণে তরুণেরা চায় প্রতিযোগীতার পদ্ধতিটাই বদলে দিতে। পঁচা আর নোংরা পানির শর্ত শিথিল করার পরিবর্তে সকল প্রতিযোগীকে ধরে নিয়ে বিশুদ্ধ আর পানযোগ্য পানির সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে। তরুণেরা চায় কোন শর্ত তারা নিজেরা পড়বে কি পড়বে না সেই আশঙ্কায় না থেকে শর্ত পাঠ করার নির্দেশনা দিতে। তরুণেরা চায় একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে পুরো বিশ্বের মাঝে নজির স্থাপন করতে। তরুণেরা চায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানো সুশীল সমাজ ও বিশ্ব মোড়লদের গণতন্ত্রের সঠিক শিক্ষা দিতে।

 রাজনৈতিক দল না থাকার ফলাফল কি?

বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিদ্যমান, তা বিলুপ্তির সদূরপ্রসারী ফলাফল রয়েছে। যেমন-

 দেশের মধ্যে মাস/বছরব্যাপী জ্বালাও-পোড়াও এর মতো সহিংস রাজনীতি থাকবে না।
 একটি রাজনৈতিক দল কর্তৃক আরেকটি রাজনৈতিক দলের উপর দমন-পীড়নের মতো ঘটনা ঘটবে না।
 ক্ষমতার পালাবদলে দলীয় মারামারি, খুন আর রাহাজানি থাকবে না। ব্যক্তি পর্যায়ে দ্বন্দ্ব এতোটা প্রকট থাকবে না। কারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় অপরাধীর মেরিট গণনা ও যাচাই এর পদ্ধতি চালু করা হবে। যার কারণে অপরাধী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার বিধান ও সম্ভাবনা থাকবে।
 দেশের কল্যাণে একটি রাজনৈতিক দলের অবদান আরেকটি দল কর্তৃক অস্বীকার করার অপ-সংস্কৃতি থাকবে না।
 এক দল কর্তৃক শুরু করা উন্নয়নমূলক কাজ অন্যদল কর্তৃক বছরের পর বছর বন্ধ রাখার অপচেষ্টা থাকবে না।
 কোন দল না থাকায় ভিনদেশিদের গোলামী ও তাবেদারী করার মতো ঘটনা ঘটবে না।
 দেশের অভ্যন্তরে সহিংসতার রাজনীতি কমে যাবে এমনকি তা সন্তোষজনক পর্যায়ে চলে আসবে।
 দেশের উন্নয়নের সকল অন্তরায় রহিত হবে। বিধায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে।
 দলীয় প্রভাব না থাকায় সংসদ সদস্যসহ সকলের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা যাবে।
 জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের শতভাগ সুযোগ সৃষ্টি হবে।
 রাজনীতি থেকে ইনকামের পথ বন্ধ হবে ও অর্থ পাচার রোধ করা সম্ভব হবে।
 অর্থের সুষম বণ্টন কায়েম করা যাবে।
 ঘুষ ও দূর্ণীতির প্রচলন কমে যাবে। বিধায় প্রজাতন্ত্রের সরকারী কর্মচারীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
 জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো সহজে পূরণ করা যাবে ও সংসদের জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে।
 প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা তাদের বৈধ ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবহার করতে পারবে।
 পুলিশ প্রশাসনের কোন নির্দিষ্ট দলের গোলামী করতে হবে না এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা/কর্মচারী হওয়ার বিপরীতে দলীয় ক্যাডার বাহিনী হওয়ার দূর্ণামও থাকবে না।
 পুলিশ বিভাগের সদস্যদের আর জনরোষের বলি হতে হবে না।
 পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে স্বতস্ফুর্তভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পাবে।
 পুলিশ বিভাগে সদস্যদের জবাবদিহীতাও নিশ্চিত করা যাবে।

 রাজনৈতিক দল যদি না থাকে তবে সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে?

রাজনৈতিক দল না থাকার কারণে সংসদীয় আসনের নির্বাচন হবে এক সময়ের এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচনের মতো। তবে সে নির্বাচনে আধুনিকতা থাকবে। প্রত্যেকটি সংসদীয় আসনের প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা হবে অগ্রগণ্য। প্রত্যেক ব্যক্তি, যে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চায়, সে নির্বাচন কমিশন অফিসে নিজের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সম্বলিত একটি প্রোফাইল ও নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধণ করবে। প্রতিটি নির্বাচনের কম্পক্ষে ১০০ দিন পূর্বে এই নিবন্ধন করতে হবে।। নিবন্ধণের সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক বিধিমালা সম্পর্কিত একটি নির্বাচনী গাইড বই সরবরাহ করা হবে। যখন যে আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখন সম্ভাব্য প্রার্থী সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম সংগ্রহ করবে। অতঃপর মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম এর সাথে ১০০ পয়েন্টস এর একটি স্কোরিং ফর্ম থাকবে। উক্ত ফর্ম এ প্রার্থীর প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য থাকবে। যেমন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব, ধৈর্য্যশীলতা, মানবিকতা, সমাজসেবক হিসেবে তার অবদান, মানবকল্যাণে তার অবদান, পারিবারিক অবস্থা, তার চরিত্র ও চারিত্রিক অবস্থা, তার বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কি না? থাকলে কি ধরণের মামলা? মামলা কি ভিত্তিহীন নাকি মামলা প্রেক্ষাপট বাস্তবিক? কয়টি মামলা চলমান আছে? কয়টি মামলা বিচারাধীন আর কয়টি মামলার রায় হয়েছে? কয়টি মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছে আর কয়টি মামলায় সাজা হয়েছে? সাজা হলে তা কি ধরণের সাজা? সরবরাহকৃত স্কোরিং ফর্মে প্রদানকৃত তথ্য সঠিক কি না? প্রার্থী কোন মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছে কি না? ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক বিষয়াদির উপর নেগেটিভ ও পজেটিভ পয়েন্টস দেয়া হবে। একই সময় মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম দাখিলের সময় প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের সাথে সংসদীয় আসনের কম্পক্ষে ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির জবানবন্দি ও মন্তব্যের একটি কপি জমা দিতে হবে। আরেকটি কপি প্রার্থী নিজে সংরক্ষণ করবে। দাখিলকৃত মন্তব্য ও জবানবন্দির যথার্থতা ও সত্যতা যাচাই করণের জন্য উপজেলা নির্বাচন কমিশনার নির্দিষ্ট তারিখে সাধারণ সভার আহ্বান করবে। সভার দিন ও তারিখ স্থানীয় প্রাশাসনকে জানানো হবে এবং সাধারণ সভার দিন নিরাপত্বার স্বার্থে প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্বা নিশ্চিত করবে। উক্ত সভায় প্রার্থী নিজে, প্রার্থীর একজন সহযোগী/সেক্রেটারী ও তার পক্ষে জবানবন্দি দেয়া ঐ ৫ জন সদস্য উপস্থিত থাকবে পারবে। এর বাইরে কোন অতিরিক্ত ব্যক্তি উক্ত সভার মেহমান হতে পারবে না। উক্ত সভায় উপজেলা নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন পত্র/নিবার্চন ফর্ম এ উল্লেখিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে সরাসরি শুনবেন এবং তাদের দেয়া মন্তব্যের যথার্থতা যাচাই-বাছাই করণের উদ্দেশ্যে গণশুনানি করবেন্ কারো থেকে জোড়পূর্বক মন্তব্য ও জবানবন্দি নেয়া হয়েছে কি না, এ মর্মে নির্বাচন কমিশনারের সম্মুখে প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। অতঃপর নির্বাচনের বিভিন্ন দিক ও যোগ্যতা (মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম ও তার জমা দেয়া স্কোরিং ফর্মে প্রার্থীর যোগ্যতার মাপকাঠি লিপিবদ্ধ থাকবে) বিচার বিশ্লেষণ সাপেক্ষে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের মনোনয়ন গণশুনানির ফলাফল আকারে বৈধ বলে ঘোষণা করবেন। এ রকমভাবে মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম দাখিলকারীদের মধ্য হতে সর্বোচ্চ ৫ বা ৭ জন এর মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম প্রাথমিক যাচাই এ নির্বাচন করার উপযুক্ত বলে ঘোষণা করবেন। সেই সাথে আরো ৩ টি মনোনয়ন পত্র বৈধ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখবেন। উপযুক্ত ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্য হতে কেউ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলে কিংবা মৃত্যূবরণ করলে স্কোরের বিবেচনায় যথাক্রমে ৬, ৭, ৮ তম কিংবা ৮, ৯, ১০ তম প্রার্থী নির্বাচনের অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে। যার মনোনয়ন পত্র/নির্বাচন ফর্ম নির্বাচন করার উপযুক্ত নয় বলে নির্বাচনের অনুমোদন দেয়া হয় নি, নির্বাচন কমিশনের ডায়েরীতে ও প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম তার অনুপযুক্ততার কারণ লিপিবদ্ধ করে মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম এর একটি কপি ফেরত প্রদান করবেন। মনোনয়ন পত্র/নির্বাচনী ফর্ম উপযুক্ত ঘোষণার নিমিত্বে কোন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারকে জোর-জবরদস্তি করলে বা প্রলোভন দেখালে তা প্রার্থীর অযোগ্যতার কারণ বলে বিবেচিত হবে। কোন প্রার্থী একবার এ ধরণের অপরাধে অভিযুক্ত হলে তার স্কোরিং ফর্ম হতে কম্পক্ষে ১০ পয়েন্টস মাইনাস হবে এমনকি নির্বাচন কমিশনে তার প্রার্থী হিসেবে যে নিবন্ধন করা আছে, তা বাতিল হয়ে যেতে পারে। এভাবে যদি কারো নিবন্ধণ একবার বাতিল হয়ে যায়, তবে সে ভবিষ্যতে আর কখনো নির্বাচন করার উপযুক্ত বা যোগ্য বিবেচিত হবেন না। একই সাথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে কোন প্রকার অসৎ উপায় অবলম্বন করেছেন বলে উপযু্ক্ত কর্তৃপক্ষের সমীপে প্রমাণিত হয়, তবে সে উপজেলা নির্বাচন কমিশনার তার চাকরি হইতে বরখাস্ত হইতে পারেন। একজন নিবন্ধিত প্রার্থী পর পর সর্বোচ্চ তিনবার ও তার পুরো জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ পাঁচবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং কোন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন। তবে কোন প্রার্থী পর পর তিনবার ধারাবাহিকভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে চতূর্থবারের মতো সে আর নির্বাচনের অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীগণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৩ তিন পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করবেন এবং নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করেছেন মর্মে নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে তিনি স্বয়ং হাজিরা দিবেন। সেই সাথে আর নির্বাচনী প্রচারণা করবেন না মর্মে একটি অঙ্গীকারনামাসহ প্রতিবেদন জমা দিবেন। উক্ত হাজিরার পর আর কোন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা চলবে না। নির্বাচন অফিসে হাজিরা দেয়ার পরদিন পুরো সংসদীয় আসনের এলাকায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে নির্বাচন বিষয়ক সতর্কতা জারির মাইকিং করা হবে। অতঃপর নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেরদিন প্রত্যেক প্রার্থী সংসদীয় আসনের সংশ্লিষ্ট থানায় হাজিরা দিবেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরের দিন সকাল দশটা পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থানা হাজতে বন্দি থাকবেন। এসময় প্রতিটা থানায় পুলিশের পাশাপাশি সেনা/বিজিবি সদস্যের মাধ্যমে বেষ্টনীর মতো পাহারা ও নিরাপত্বা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরদিন সকাল দশটার দিকে সেনা/বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিকট সমর্পণ করা হবে। তবে যদি কোন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকগণ নৈর্বাচনিক যে কোন আইনগত কাজে বাঁধা প্রদান করে, কিংবা নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে কিংবা বিশৃংখলা করার চেষ্টা করে বা ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিংবা ফলাফল পরবর্তী সহিংসতায় জড়িয়ে পরে, তবে সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে এবং থানা হাজত হতেই তার সমর্থকদের কৃতকর্মের দরুণ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। কর্মী-সমর্থকদের অপরাধ গুরু প্রমাণিত হলে তার নিবন্ধণ বাতিল হবে এবং অপরাধ লঘু প্রমাণিত হলে তার ১০০ পয়েন্টস এর যে স্কোরিং পদ্ধতি রাখা হয়েছে, তা হতে কম্পক্ষে ১০ পয়েন্টস মাইনাস করা যা তার জন্য ভবিষ্যৎ প্রার্থীতার ক্ষেত্রে যোগ্যতা প্রমাণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। সেই সাথে বাংলাদেশে বিদ্যমান ফৌজদারী কার্যবিধি ও অন্যান্য আইন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিচারযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য হবে। নির্বাচিত কোন সংসদ সদস্য যদি মৃত্যূবরণ করেন বা পদত্যাগ করেন বা একাধারে ৮০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকেন, তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ২য় স্থান অধিকারী প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষিত হবেন। এ ক্ষেত্রে নতুন করে আর সংসদ উপ-নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-১)

https://www.facebook.com/photo?fbid=781881194195140&set=a.191756896540909

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-৩)

https://www.facebook.com/photo/?fbid=781929550856971&set=a.191756896540909

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-১) কেন এই নিবন্ধটি আপনার জন্য প্রযোজ্য?একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য ...
23/07/2025

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-১)

 কেন এই নিবন্ধটি আপনার জন্য প্রযোজ্য?

একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য দেশ প্রেমিক শাসক গোষ্ঠীর প্রয়োজন। যারা তাদের নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে গিয়ে দেশকে ভালবাসবে, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিবে। দেশকি একটি শান্তিপ্রিয়, সুখী ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। আর এমন দেশপ্রেমিক শাসক গোষ্ঠীর অনুসন্ধানেই আজকের এই লেখা। প্রযোজ্য হতে পারে আপনার জন্যও, যদি –

 আপনি হতে পারেন খাঁটি দেশপ্রেমিক।
 সবার আগে দেশের স্বার্থের কথা মনে পড়ে।
 আপনি ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে গিয়ে দেশের স্বার্থ কে প্রাধান্য দিতে পারেন।
 আপনি অর্থের লোভ পরিহার করে নিজের পরিবার ও দেশকে সুখে রাখতে চান।
 সহনশীল, আদর্শ ও শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থায় আপনার আগ্রহ থাকে।
 আপনি মিছে আনুষ্ঠানিকতা ও লোক দেখানো মানবিক সমাজসেবক না হয়ে সত্যিকারের মানবিক ও সমাজসেবক হতে পারেন বা হতে চান।
 আপনি ক্ষমতার রাজনীতি ও ক্ষমতার লোভ পরিহার করতে পারেন।
 হিংসার রাজনীতি পরিহার করে সহনশীল ও সহমর্মিতার রাজনীতিতে আপনার আগ্রহ থাকে।
 দ্বায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরীতে আপনার আগ্রহ থাকে।
 একটি দ্বায়িত্বশীল সভ্য জাতি গঠনে আপনার মানসিকতা থাকে।

 ফিরে দেখা অতীত:

মনে পড়ে খুব নিকট অতীতের কথা। ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময় আসে। বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়মে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা। কিন্তু এই সাংবিধানিক নিয়ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ কে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তৎকালীন জোট সরকার পরবর্তী নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার জন্যই নিয়ম বহির্ভূত সেই অসাংবিধানিক কাজটি করেছিল। ফলস্বরুপ আওয়ামীলীগ ও তার সমমনা দলগুলির নেতা-কর্মীদের লগি বৈঠার সহিংস তাণ্ডব শুরু হয়েছিল। উক্ত তাণ্ডবে শতশত নিরীহ প্রাণ বিসর্জন যাওয়ার দরুণ ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদ। অতঃপর ফখরুদ্দিন আহমেদ সাংবিধানিক বিধান তোয়াক্কা না করে সংসদীয় আসন শুন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন না করে তিনি দেশের যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি আবর্জনা পরিষ্কার করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তার কঠোর শাসন আমলে দেশের আবর্জনা পরিষ্কার হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় গিয়ে পরে বিগত চার দলীয় জোট সরকারের কাঁধে। যার কারণে জনগণ বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে ২০০৮ সালে ২৯ শে ডিসেম্বর আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার সম্ভাবনা দলের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাদের জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। অতঃপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশের জন্য এক কলঙ্কময় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে দেশের সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বিলুপ্তি ঘোষণা করে। তখন থেকেই অন্যান্য বিরোধীদল ও রাজনৈতিক গলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য লাগাতার আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করতে থাকে। শুরু হয় জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির অধ্যায়। বিপন্ন হয়ে পরে জনজীবন। এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়। আমরা দেখেছি ২০০৮ সালের পর বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। কথিত নির্বাচন কমিশনার কেবল নামমাত্র নির্বাচনের আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় শত শত কোটি টাকা খুইয়েছেন কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোট হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। রাতের আঁধারে ব্যালট বাক্স ভর্তি হওয়ার অসংখ্য গল্প শোনা যায়। নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। যেমন কথায় আছে ‘বিচার যাই হোক, তাল গাছ আমার’ মন্ত্রটি সত্যিকারার্থে বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। নির্বাচিত হওয়ার জন্য আর ভোটের প্রয়োজন হয় না বলে জবাবদিহিতার প্রশ্নও যেন হারিয়ে যায়। আর জবাবদিহীতা না থাকায় শাসকদলের মধ্যে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বৈরাচারী মনোভাবের। গণতন্ত্রের মন্ত্র হিসেবে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন এর ব্যতয় ঘটে। জনগণের চাওয়া পাওয়াকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সকল যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার অপচেষ্টা করা হয়। জনগণের ন্যায্য চাওয়া পাওয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়। যে কোন যৌক্তিক আন্দোলন কেবল দলীয় পেটোয়া বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী দিয়ে বল প্রয়োগ করে দমন করার চেষ্টা করা হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হওয়ার কথা ভুলে গিয়ে পুলিশ পরিণত হয় আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা যৌক্তিক আন্দোলনকে দমন করা ব্যর্থ চেষ্টা করা হলে গড়ে ওঠে দুর্বার আন্দোলন। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। দলের লাখো নেতা কর্মীকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। আওয়ামীলীগ ও ব্যক্তিগত পেটোয় বাহিনীতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ইসরায়েল মার্কা গণহত্যা চালানো, মৃতদের লাশ জানাজাবিহীন গণকবর দেয়া ও পুড়িয়ে ফেলার কারণে সাধারণজনতার ক্ষোভ আর রোষানলে শিকার হয়ে অনেক পুলিশ প্রাণ হারান। এর প্রফেসর ড. ইউনুস কে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়ার পরও বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংঘ ও দুষ্কৃতিকারীরা তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে শুরু করে। অন্তবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা না করার। বলা হয়, বিশৃঙ্খলা করা হলে তাকে আইনের কাছে সমর্থ করে যথাযথ বিচার করা হবে। তারপরও একটি শ্রেণি ছাত্র জনতার বিজয়কে ম্লান করার উদ্দেশ্যে নৈরাজ্য চালিয়েই যাচ্ছে।

 বর্তমান সময়ে আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখী:

আপনি একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করুন, একটি রাজনৈতিক দলের অপমানজনক বিদায় হতে না হতেই, জুলাই আন্দোলনে শহীদের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আরেকটি দল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। নির্বাচন নির্বাচন করে গলা শুকিয়ে ফেলেছে। জুলাই আন্দোলনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়া বাদ দিয়ে পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে মারামারি আর খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট, দোকানপাট, শহর-বন্দরে তারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা পুরুষদের নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, করতে দ্বিধা করছে না। একটি মানুষের জীবনের চেয়ে তাঁদের কাছে চাঁদার মূ্ল্যই বেশি। তাই চাঁদা না পেলে তারা অনায়াসে খুন করে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে দেশের অবস্থা আগের মতই আছে, কেবল আকাম-কুকাম করার মুখগুলি পাল্টে গেছে। এরা যেন দেশে ভারপ্রাপ্ত আওয়ামীলীগ এর দায়িত্ব পালন করছে। কোন ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশিই করছে। প্রযুক্তির ভাষায় এরা আওয়ামীলীগ ভার্সন-২ প্রো-ম্যাক্স। রাজনৈতিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এদের লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই। উল্টা-পাল্টা সব অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলে এরা নিজেদের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও নতুন মোড়কে পুরোনো চরিত্রের জানান দিচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, বিশ্বের একমাত্র লজ্জাহীন জীব বোধহয় আমাদের দেশের কথিত রাজনীতিবিদেরা। আপনি যদি দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন, তবে আপনার মনে রাখা উচিৎ যে, যারা এতোদিন ক্ষমতায় ছিল না, তারা ১৫ বছর যাবৎ ক্ষুধার্ত। এর ক্ষমতা পেলে লাগামহীনভাবে লুটেপুটে খাওয়া শুরু করবে। যার নমুন ইতোমধ্যে দেখা গেছে।

ক্ষমতার পালাবদলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ নেতাই কেবল তাদের পকেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতিতে আসে। কষ্ট আর দূর্বিসহ জীবন যাপন করে কেবল সাধারন জনগণ। বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতা রাজনীতে কে কেবল তাদের অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার মনে করে। পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন শেষে তারা সেুগলিকে চুরি করে বিদেশে পাচার করে দেয়। একটা উদাহরণ দেই। ধরুন, আপনার পরিবারে আপনি মাসে ৫০ হাজার টাকা রোজগার করেন আর আপনার কুলাঙ্গার ছেলে মাসে ৩০ হাজার টাকার সখের জিনিসিপত্র পাশের বাড়ির সখিনা কে গিফট করে কোন উপযুক্ত বিনিময় ছাড়াই। আপনার পরিবারে খরচ বাবদ মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এবার বলুন, আপনি কি আপনার পরিবারকে অভাবের হাত থেকে কখনো টেনে তুলতে পারবেন? আপনি কি আপনার পরিবারকে ঋণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন? সঠিক উত্তর হচ্ছে পারবেন না। পারতেন, যদি আপনার কুলাঙ্গার ছেলে সখিনা কে গিফট করার সময় উপযুক্ত বিনিময় নিতো আর সেই বিনিময় অন্যত্র হস্তান্তর করে সেই ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা যেতো। আমাদের দেশের অবস্থাও ঠিক তেমনই। দেশকে একবার আপনার নিজের পরিবার ভাবুন। প্রতিমাসে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা আসে, যদি দেশের কুলাঙ্গার মার্কা দূর্ণীতিবাজ আর পাচারকারীরা চুরি করে পাচার না করতো, তাহলে আমাদের দেশে এমন অভাব থাকতো না। দেশের ৩০% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করতো না। রিজার্ভের কমতি হতো না। বৈদেশিক ঋণ থাকতো না। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। মনে রাখা উচিৎ যে, দূর্ণীতিবাজ, ঘুষখোর আর অর্থ পাচারকারীরা দেশকে কেবল তাদের অর্থ উপার্জনের পাত্র মনে করে। স্বার্থ সিদ্ধি কিংবা উদ্দেশ্য হাসিল হলে সেই পাত্রেই তার টয়লেট করে বিদেশে চলে যায়।

একটু লক্ষ করুন, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের বুলি আওরালেও মূলত বেশিরভাগ দলের মধ্যেই গণতন্ত্র নেই। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে পরিবারতন্ত্র ও অর্থতন্ত্রের প্রতিফলন দেখা যায়। যে যেমনই হোক না কেন, যে নেতার পা চাটতে পারবে, বড় ভাই এর চামচামি করতে পারবে, সে পরিবারের সদস্যভুক্ত হবে। যে নেতাকে কোটি টাকার হাদিয়া-তোহফা দিতে পারবে, তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এটা কি ধরণের গণতন্ত্র? এবার চিন্তুা করে দেখুন, যাদের নিজেদের মাঝে কিংবা দলের মাঝেই গণতন্ত্র নেই, তার কি করে দেশের গণতন্ত্রের মূল্য বুঝবে? কি করে তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে? সম্মানিত পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল।

আমরা জানি, গণতন্ত্রের যতগুলি উদ্দেশ্য আছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি উদ্দেশ্যে হচ্ছে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা। বর্তমানে বিদ্যমান গণতন্ত্রে কি সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে ‘না’। কোনভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন কেন হয় না? কিভাবে হয় না? জনগণই তো ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচন করে থাকে। তাহলে হয় না কিভাবে? আমি বলছি, কিভাবে হয় না। আমাদের দেশের জনগণের বড় একটি অংশ আওয়ামীলীগ সমর্থক, বড় একটি অংশ বিএনপি সমর্থক, একটি অংশ জাতীয় পার্টি সমর্থক, একটি অংশ জামায়াত সমর্থক, আর বাকিরা অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা আমজনতা। ধরুন, কোন জাতীয় নির্বাচনে বড় দলগুলির কোন একটি রাজনৈতিক দলের নৈর্বাচনিক অবস্থা ভালো। আশা করা যায় যে, নির্বাচন হলেই সেই দল নির্বাচনে জয়লাভ করবে। তখন সেই দল সংসদীয় আসনে যাকে মনোনয়ন দিবে, নির্বাচনে সেই জয়লাভ করবে। হোক সে ব্যক্তি চোর, বাটপার, খুনি, লম্পট, ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ কিংবা অর্থ পাচারকারী। কারণ, সে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মনোনয়নপ্রাপ্ত এবং দলের কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র কর্তৃক মনোনীন প্রার্থী কে ভোট দিবে আর তার সমর্থনে ভোট চাইবে। এ দেশের মানুষেরা এমন যে, বেশিরভাগ সময় এরা আবেগী হয়ে কাজ করে, হুজুগে কাজ করে। কাজেই দেখা যায় যে, ভোটের সময় তারা ভোট দেয় মার্কা দেখে। তারা বিচার করে না প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা, আচার-ব্যবহার ও চরিত্রের। তাই যখন দলে নৈর্বাচনিক অবস্থা ভালো তখন সেই দলের প্রতীক জয়লাভ করে। ফলে ব্যহত হয় যোগ্য ও সৎ নেতা নির্বাচনের মতো গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন। তাই এ দেশের তরুণ সমাজ এই নির্বাচন পদ্ধতির বিলুপ্তি চায়। এই পুরোনো আর সেকেলে মডেলের গণতন্ত্রের বিলুপ্তি চায়। তরুণেরা চায় আধুনিক নির্বাচন পদ্ধতি ও দূরদর্শী শাসন ব্যবস্থা, যার ফলাফল হবে দেশে ও দেশের জনগণের জন্য সদূরপ্রসারী।

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-২)
https://www.facebook.com/photo?fbid=781927134190546&set=a.191756896540909

শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-৩)

https://www.facebook.com/photo/?fbid=781929550856971&set=a.191756896540909

Address

Palashbari Road, DC Office, Sadar, Gaibangdha
Rangpur
5700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Brothers & Lawyers posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Brothers & Lawyers:

Share