23/07/2025
শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-১)
কেন এই নিবন্ধটি আপনার জন্য প্রযোজ্য?
একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য দেশ প্রেমিক শাসক গোষ্ঠীর প্রয়োজন। যারা তাদের নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে গিয়ে দেশকে ভালবাসবে, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিবে। দেশকি একটি শান্তিপ্রিয়, সুখী ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। আর এমন দেশপ্রেমিক শাসক গোষ্ঠীর অনুসন্ধানেই আজকের এই লেখা। প্রযোজ্য হতে পারে আপনার জন্যও, যদি –
আপনি হতে পারেন খাঁটি দেশপ্রেমিক।
সবার আগে দেশের স্বার্থের কথা মনে পড়ে।
আপনি ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে গিয়ে দেশের স্বার্থ কে প্রাধান্য দিতে পারেন।
আপনি অর্থের লোভ পরিহার করে নিজের পরিবার ও দেশকে সুখে রাখতে চান।
সহনশীল, আদর্শ ও শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থায় আপনার আগ্রহ থাকে।
আপনি মিছে আনুষ্ঠানিকতা ও লোক দেখানো মানবিক সমাজসেবক না হয়ে সত্যিকারের মানবিক ও সমাজসেবক হতে পারেন বা হতে চান।
আপনি ক্ষমতার রাজনীতি ও ক্ষমতার লোভ পরিহার করতে পারেন।
হিংসার রাজনীতি পরিহার করে সহনশীল ও সহমর্মিতার রাজনীতিতে আপনার আগ্রহ থাকে।
দ্বায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরীতে আপনার আগ্রহ থাকে।
একটি দ্বায়িত্বশীল সভ্য জাতি গঠনে আপনার মানসিকতা থাকে।
ফিরে দেখা অতীত:
মনে পড়ে খুব নিকট অতীতের কথা। ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময় আসে। বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়মে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা। কিন্তু এই সাংবিধানিক নিয়ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ কে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তৎকালীন জোট সরকার পরবর্তী নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার জন্যই নিয়ম বহির্ভূত সেই অসাংবিধানিক কাজটি করেছিল। ফলস্বরুপ আওয়ামীলীগ ও তার সমমনা দলগুলির নেতা-কর্মীদের লগি বৈঠার সহিংস তাণ্ডব শুরু হয়েছিল। উক্ত তাণ্ডবে শতশত নিরীহ প্রাণ বিসর্জন যাওয়ার দরুণ ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদ। অতঃপর ফখরুদ্দিন আহমেদ সাংবিধানিক বিধান তোয়াক্কা না করে সংসদীয় আসন শুন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন না করে তিনি দেশের যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি আবর্জনা পরিষ্কার করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তার কঠোর শাসন আমলে দেশের আবর্জনা পরিষ্কার হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় গিয়ে পরে বিগত চার দলীয় জোট সরকারের কাঁধে। যার কারণে জনগণ বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে ২০০৮ সালে ২৯ শে ডিসেম্বর আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার সম্ভাবনা দলের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাদের জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। অতঃপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশের জন্য এক কলঙ্কময় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে দেশের সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বিলুপ্তি ঘোষণা করে। তখন থেকেই অন্যান্য বিরোধীদল ও রাজনৈতিক গলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য লাগাতার আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করতে থাকে। শুরু হয় জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির অধ্যায়। বিপন্ন হয়ে পরে জনজীবন। এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়। আমরা দেখেছি ২০০৮ সালের পর বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। কথিত নির্বাচন কমিশনার কেবল নামমাত্র নির্বাচনের আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় শত শত কোটি টাকা খুইয়েছেন কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোট হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। রাতের আঁধারে ব্যালট বাক্স ভর্তি হওয়ার অসংখ্য গল্প শোনা যায়। নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। যেমন কথায় আছে ‘বিচার যাই হোক, তাল গাছ আমার’ মন্ত্রটি সত্যিকারার্থে বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। নির্বাচিত হওয়ার জন্য আর ভোটের প্রয়োজন হয় না বলে জবাবদিহিতার প্রশ্নও যেন হারিয়ে যায়। আর জবাবদিহীতা না থাকায় শাসকদলের মধ্যে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বৈরাচারী মনোভাবের। গণতন্ত্রের মন্ত্র হিসেবে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন এর ব্যতয় ঘটে। জনগণের চাওয়া পাওয়াকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সকল যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার অপচেষ্টা করা হয়। জনগণের ন্যায্য চাওয়া পাওয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়। যে কোন যৌক্তিক আন্দোলন কেবল দলীয় পেটোয়া বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী দিয়ে বল প্রয়োগ করে দমন করার চেষ্টা করা হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হওয়ার কথা ভুলে গিয়ে পুলিশ পরিণত হয় আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা যৌক্তিক আন্দোলনকে দমন করা ব্যর্থ চেষ্টা করা হলে গড়ে ওঠে দুর্বার আন্দোলন। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। দলের লাখো নেতা কর্মীকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। আওয়ামীলীগ ও ব্যক্তিগত পেটোয় বাহিনীতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ইসরায়েল মার্কা গণহত্যা চালানো, মৃতদের লাশ জানাজাবিহীন গণকবর দেয়া ও পুড়িয়ে ফেলার কারণে সাধারণজনতার ক্ষোভ আর রোষানলে শিকার হয়ে অনেক পুলিশ প্রাণ হারান। এর প্রফেসর ড. ইউনুস কে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়ার পরও বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংঘ ও দুষ্কৃতিকারীরা তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে শুরু করে। অন্তবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা না করার। বলা হয়, বিশৃঙ্খলা করা হলে তাকে আইনের কাছে সমর্থ করে যথাযথ বিচার করা হবে। তারপরও একটি শ্রেণি ছাত্র জনতার বিজয়কে ম্লান করার উদ্দেশ্যে নৈরাজ্য চালিয়েই যাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখী:
আপনি একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করুন, একটি রাজনৈতিক দলের অপমানজনক বিদায় হতে না হতেই, জুলাই আন্দোলনে শহীদের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আরেকটি দল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। নির্বাচন নির্বাচন করে গলা শুকিয়ে ফেলেছে। জুলাই আন্দোলনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়া বাদ দিয়ে পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে মারামারি আর খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট, দোকানপাট, শহর-বন্দরে তারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা পুরুষদের নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, করতে দ্বিধা করছে না। একটি মানুষের জীবনের চেয়ে তাঁদের কাছে চাঁদার মূ্ল্যই বেশি। তাই চাঁদা না পেলে তারা অনায়াসে খুন করে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে দেশের অবস্থা আগের মতই আছে, কেবল আকাম-কুকাম করার মুখগুলি পাল্টে গেছে। এরা যেন দেশে ভারপ্রাপ্ত আওয়ামীলীগ এর দায়িত্ব পালন করছে। কোন ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশিই করছে। প্রযুক্তির ভাষায় এরা আওয়ামীলীগ ভার্সন-২ প্রো-ম্যাক্স। রাজনৈতিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এদের লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই। উল্টা-পাল্টা সব অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলে এরা নিজেদের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও নতুন মোড়কে পুরোনো চরিত্রের জানান দিচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, বিশ্বের একমাত্র লজ্জাহীন জীব বোধহয় আমাদের দেশের কথিত রাজনীতিবিদেরা। আপনি যদি দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন, তবে আপনার মনে রাখা উচিৎ যে, যারা এতোদিন ক্ষমতায় ছিল না, তারা ১৫ বছর যাবৎ ক্ষুধার্ত। এর ক্ষমতা পেলে লাগামহীনভাবে লুটেপুটে খাওয়া শুরু করবে। যার নমুন ইতোমধ্যে দেখা গেছে।
ক্ষমতার পালাবদলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ নেতাই কেবল তাদের পকেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতিতে আসে। কষ্ট আর দূর্বিসহ জীবন যাপন করে কেবল সাধারন জনগণ। বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতা রাজনীতে কে কেবল তাদের অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার মনে করে। পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন শেষে তারা সেুগলিকে চুরি করে বিদেশে পাচার করে দেয়। একটা উদাহরণ দেই। ধরুন, আপনার পরিবারে আপনি মাসে ৫০ হাজার টাকা রোজগার করেন আর আপনার কুলাঙ্গার ছেলে মাসে ৩০ হাজার টাকার সখের জিনিসিপত্র পাশের বাড়ির সখিনা কে গিফট করে কোন উপযুক্ত বিনিময় ছাড়াই। আপনার পরিবারে খরচ বাবদ মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এবার বলুন, আপনি কি আপনার পরিবারকে অভাবের হাত থেকে কখনো টেনে তুলতে পারবেন? আপনি কি আপনার পরিবারকে ঋণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন? সঠিক উত্তর হচ্ছে পারবেন না। পারতেন, যদি আপনার কুলাঙ্গার ছেলে সখিনা কে গিফট করার সময় উপযুক্ত বিনিময় নিতো আর সেই বিনিময় অন্যত্র হস্তান্তর করে সেই ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা যেতো। আমাদের দেশের অবস্থাও ঠিক তেমনই। দেশকে একবার আপনার নিজের পরিবার ভাবুন। প্রতিমাসে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা আসে, যদি দেশের কুলাঙ্গার মার্কা দূর্ণীতিবাজ আর পাচারকারীরা চুরি করে পাচার না করতো, তাহলে আমাদের দেশে এমন অভাব থাকতো না। দেশের ৩০% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করতো না। রিজার্ভের কমতি হতো না। বৈদেশিক ঋণ থাকতো না। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। মনে রাখা উচিৎ যে, দূর্ণীতিবাজ, ঘুষখোর আর অর্থ পাচারকারীরা দেশকে কেবল তাদের অর্থ উপার্জনের পাত্র মনে করে। স্বার্থ সিদ্ধি কিংবা উদ্দেশ্য হাসিল হলে সেই পাত্রেই তার টয়লেট করে বিদেশে চলে যায়।
একটু লক্ষ করুন, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের বুলি আওরালেও মূলত বেশিরভাগ দলের মধ্যেই গণতন্ত্র নেই। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে পরিবারতন্ত্র ও অর্থতন্ত্রের প্রতিফলন দেখা যায়। যে যেমনই হোক না কেন, যে নেতার পা চাটতে পারবে, বড় ভাই এর চামচামি করতে পারবে, সে পরিবারের সদস্যভুক্ত হবে। যে নেতাকে কোটি টাকার হাদিয়া-তোহফা দিতে পারবে, তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এটা কি ধরণের গণতন্ত্র? এবার চিন্তুা করে দেখুন, যাদের নিজেদের মাঝে কিংবা দলের মাঝেই গণতন্ত্র নেই, তার কি করে দেশের গণতন্ত্রের মূল্য বুঝবে? কি করে তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে? সম্মানিত পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল।
আমরা জানি, গণতন্ত্রের যতগুলি উদ্দেশ্য আছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি উদ্দেশ্যে হচ্ছে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা। বর্তমানে বিদ্যমান গণতন্ত্রে কি সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে ‘না’। কোনভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন কেন হয় না? কিভাবে হয় না? জনগণই তো ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচন করে থাকে। তাহলে হয় না কিভাবে? আমি বলছি, কিভাবে হয় না। আমাদের দেশের জনগণের বড় একটি অংশ আওয়ামীলীগ সমর্থক, বড় একটি অংশ বিএনপি সমর্থক, একটি অংশ জাতীয় পার্টি সমর্থক, একটি অংশ জামায়াত সমর্থক, আর বাকিরা অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা আমজনতা। ধরুন, কোন জাতীয় নির্বাচনে বড় দলগুলির কোন একটি রাজনৈতিক দলের নৈর্বাচনিক অবস্থা ভালো। আশা করা যায় যে, নির্বাচন হলেই সেই দল নির্বাচনে জয়লাভ করবে। তখন সেই দল সংসদীয় আসনে যাকে মনোনয়ন দিবে, নির্বাচনে সেই জয়লাভ করবে। হোক সে ব্যক্তি চোর, বাটপার, খুনি, লম্পট, ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ কিংবা অর্থ পাচারকারী। কারণ, সে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মনোনয়নপ্রাপ্ত এবং দলের কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র কর্তৃক মনোনীন প্রার্থী কে ভোট দিবে আর তার সমর্থনে ভোট চাইবে। এ দেশের মানুষেরা এমন যে, বেশিরভাগ সময় এরা আবেগী হয়ে কাজ করে, হুজুগে কাজ করে। কাজেই দেখা যায় যে, ভোটের সময় তারা ভোট দেয় মার্কা দেখে। তারা বিচার করে না প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা, আচার-ব্যবহার ও চরিত্রের। তাই যখন দলে নৈর্বাচনিক অবস্থা ভালো তখন সেই দলের প্রতীক জয়লাভ করে। ফলে ব্যহত হয় যোগ্য ও সৎ নেতা নির্বাচনের মতো গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন। তাই এ দেশের তরুণ সমাজ এই নির্বাচন পদ্ধতির বিলুপ্তি চায়। এই পুরোনো আর সেকেলে মডেলের গণতন্ত্রের বিলুপ্তি চায়। তরুণেরা চায় আধুনিক নির্বাচন পদ্ধতি ও দূরদর্শী শাসন ব্যবস্থা, যার ফলাফল হবে দেশে ও দেশের জনগণের জন্য সদূরপ্রসারী।
শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-২)
https://www.facebook.com/photo?fbid=781927134190546&set=a.191756896540909
শাসনব্যবস্থা হোক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর (পর্ব-৩)
https://www.facebook.com/photo/?fbid=781929550856971&set=a.191756896540909