আইনী সমস্যা ও পরামর্শ - LIAA BANGLADESH

আইনী সমস্যা ও পরামর্শ - LIAA BANGLADESH এই গ্রুপ থেকে প্রয়োজনীয় যে কোন আইনী পরামর্শ উপযুক্ত ফি প্রাপ্তি সাপেক্ষে দেয়া হয়।

join our official facebook group:
https://www.facebook.com/groups/liaabangladesh

অদ্য ২২ জুলাই ২০২৫, রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা প্রসঙ্গে।কপি
22/07/2025

অদ্য ২২ জুলাই ২০২৫, রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা প্রসঙ্গে।
কপি

২২/০৭/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সকল শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত।কপি
22/07/2025

২২/০৭/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সকল শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত।

কপি

22/07/2025

#আলোচ্য বিষয়
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (Power of Attorney) বা আম-মোক্তারনামা দলিল সম্পর্কে :-

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (Power of Attorney) বা আম-মোক্তারনামা দলিল হল একটি আইনি দলিল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (মূল ব্যক্তি বা প্রিন্সিপাল) অন্য আরেকজন ব্যক্তির (এজেন্ট বা অ্যাটর্নি) উপর তার পক্ষে কাজ করার জন্য আইনি ক্ষমতা অর্পণ করেন। এই ক্ষমতা আর্থিক, সম্পত্তি-সংক্রান্ত, বা স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোনো কিছুই হতে পারে।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি মূলত দুই প্রকার যথা:-
১. সাধারণ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি-
এই ধরনের পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য ক্ষমতা প্রদান করে, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধ থাকে।

২. অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি-
এই ধরনের পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি সাধারণত কোনো সম্পত্তি বা অন্য কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় এবং এটি সহজে বাতিল করা যায় না।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি করার জন্য কিছু নিয়মকানুন রয়েছে, যেমন:
১. দলিলটি অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে, যদি এটি কোনো সম্পত্তির সাথে সম্পর্কিত হয়।
২. পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দলিলটি অবশ্যই স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে।
৩. দলিলটি অবশ্যই যথাযথভাবে পূরণ করা এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।
৪. পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি করার জন্য সাধারণত কিছু ফি এবং স্ট্যাম্প শুল্ক দিতে হয়, যা দলিলের প্রকার এবং মূল্যের উপর নির্ভর করে।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল, যা অনেকের জন্য নানা প্রয়োজনে কাজে লাগে, যেমন বিদেশে থাকা অবস্থায় সম্পত্তি দেখাশোনা করা বা অসুস্থতার কারণে নিজের কাজ নিজে করতে না পারা ইত্যাদি।

#আর একটু সহজ ভাষায় বলতে গেলে-
বাংলাদেশের আইনে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি মূলত এমন একটি দলিল যেটার মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি অপর
কোন ব্যাক্তিকে তার পক্ষে আইনসঙ্গত কোন কার্যক্রম গ্রহণের অধিকার প্রদান করে থাকে।
সাধারণত এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণের অধিকার লিখিত দলিলের মাধ্যমে দেওয়া হয়।পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইনের ২ ধারার (১)উপধারা অনুসারে পাওয়ার অবএ্যাটর্নি বলতে এমন কোন দলিলকে বুঝায় যেটার মাধ্যমে কোন ব্যাক্তি তার পক্ষে উক্ত দলিলে বর্ণিত কায-সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য কোন ব্যাক্তি নিকট ক্ষমতা অর্পণ করেন বা করে থাকেন।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি প্রকারভেদ-
সাধারণ দিক থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে যথা-

১.সাধারন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি (General Power of Attorney)
২.বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি ( Special Power of Attorney)

#সাধারন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি (General Power of Attorney)
সাধারন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পর্কে সুনিদিষ্ট ভাবে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন ও বিধিমালায় আলোচনা করাহয়নি,তবে আমরা এই ভাবে বলতে পারি যে–পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইনে ২(৭) ধারার অনুযায়ী
অপ্রত্যাহারয়োগ্য পাওয়ার অব এ্যাটর্নি চারটি (৪টি) ক্ষেএ রয়েছে ,উক্ত ক্ষেএ ব্যাতীত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পওি ছাড়াও যেকোন বিষয়
সাধারন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন করা যায়।যেমন-স্থাবর সম্পওি ইজারা, দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ,অস্থাবর সম্পওি বিক্রয় ক্ষমতা অর্পণ ইত্যাদি।

#বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি ( Special Power of Attorney)
রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩২ ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একই আইনে ৩৩ ধারার
অধিনে প্রস্ততকৃত পাওয়ার অবএ্যাটর্নি কে বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি বলে গন্য হবে।
বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিলকে খাস-মোক্তারনামা নামেও সর্বাধিক পরিচিত।এখন কোন ব্যাক্তিকে যদি মোকাদ্দমা পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়, তখন সেটাবিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অনুযায়ী করতে হবে;

পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি শর্তগুলো কী
১) পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত হতে হবে অবশ্যাই;

২) যদি পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কোন জমি হলে অবশ্যাই দলিলটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে আইন অনুযায়ী;

৩) যে কারনে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখা করতে হবে;

৪) স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী তা স্ট্যাম্প করতে হবে এবং রিসিট গ্রহন করতে হবে;

৫) আবেদন অবশ্যাই রেজিস্টার্ড ব্যাক্তির কাছে করতে হবে।

কোন কোন বিষয়ে পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি দলিল তৈরি করা যাবে না
ধারা ৪ অনুযায়ী এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তা হলেঃ

উইল সম্পাদন বা দাতা উইল নিবন্ধনের উদ্দেশ্য দাখিলকরন;
দত্তক গ্রহনের ক্ষমতাপত্র সম্পাদন বা দাতা দত্তক ক্ষমতাপত্র নিবন্ধনের উদ্দেশ্য দাখিলকরন;
দান বা হেবা সম্পর্কিত ঘোষনা সম্পাদান;
ট্রাস্ট দলিল সম্পাদন
সরকারীর দলিল বিশেষ বা সাধারন আদেশের মাধ্যেমে সম্পাদন;

দাতার বিরুদ্ধে যখন গ্রহীতা প্রতারনা করে
দাতার এখানে আইনী প্রতিকার হলো দন্ডবিধি অনুযায়ী ধারা ৪০৬ এবং ৪২০ অনুযায়ী
মামলা দায়ের করতেপারবে জুডিশয়াল মেজিস্ট্রেট বা মেট্রেপলিটন ম্যজিস্ট্রট এর নিকট।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি প্রস্ততকরণে যা লাগবে তা নিম্নরুপঃ
১. মূল পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিলপত্র ।

২. ব্যাক্তিদের রঙ্গিন ছবি দিতে হবে অবশ্যাই।

৩. ক্ষমতা প্রদানকারী ব্যাক্তি (Power Giver) এর বৈধ বাংলাদেশী জাতীয় ।
পরিচয়পত্র/পাসর্পোট/ডিজিটাল(১৭ডিজিট) জন্মনিবন্ধন সনদ কপি। তাছাড়া বিদেশী নাগরিক এর ক্ষেত্রে তার নিজ দেশের পাসপোর্ট ।

৪. ক্ষমতা গ্রহনকারী ব্যাক্তি(Power Receiver) বৈধ বাংলাদেশী জাতীয়

পরিচয়পএ/পাসর্পোট/ডিজিটাল(১৭ডিজিট)জন্মনিবন্ধন সনদ কপি।

৫. ক্ষমতা প্রদানকারী ব্যাক্তি (Power Giver)এবং ক্ষমতা গ্রহনকারী ব্যাক্তি
(Power Receiver) এর সদ্যতোলা ২কপি ছবি।(সাদা ব্যাক-গ্রাউন্ডযুক্ত)।

৬. ফি প্রদানের প্রমাণপত্র।

৭. ডাকে পাঠানোর ক্ষেএ অর্থ পরিশোধিত ও ঠিকানা লিখা ফেরত খাম।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কিভাবে করবেন এবং
একাধিক পাওয়ার অব এ্যাটর্নি গ্রহীতা নিয়োগ করা যাবে কিনা:-
পাওয়ার অব এাটর্নি একাধীক হবে কিনা তা পাওয়ার অব এাটর্নি আইনে সুনিদিষ্ঠ ভাবে উল্লেখ না থাকলেও ৯ ধারায় একাধিক কথা উল্লেখ রয়েছে এই ধারা মতে পাওয়ার অব এাটর্নি দলিল ক্ষেত্র বিশেষে একাধিক পাওয়ারঅব এাটর্নি গ্রহীতা নিয়োগ করা যাবে,
কিন্তু একাধিক গ্রহীতা নিয়োগ এ প্রধান উদ্দেশ্য থাকবে
একজন কে মূখ্য এবং বাকিদের কে সহযোগী হিসাবে রাখা যাবে। প্রধান গ্রহীতার অনুপস্থিতে অন্যরা যাতে কাজ করতে পারেন।

পাওয়ার দাতা বিদেশে অবস্থান করলে :-
পাওয়ার অফ এটর্নি বিদেশ থাকা অবস্থায় ব্যক্তির দলিল বানানোর প্রক্রিয়া একটু জটিল।এই ক্ষেত্রে আইনটিসম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানেন এমন কাউকে
দিয়ে সঠিক ভাবে লিখে দূতাবাসের মাধ্যমে দলিলটি সম্পাদন ওপ্রত্যয়ন করে পাঠাতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি দেশের বাইরে থেকে জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করতে চায়
তাহলে অবশ্যাই তাকে রেজিস্ট্রেশন আইন এর ধারা ৩৩ অনুসরন করবেন। এখানে বলা হয়েছে পক্ষের নাম ও ঠিকানা, জাতীয় পরিচয় পত্র, রঙ্গিন ছবি দিতে হবে, গ্রহীতার ছবির উপর দাতা তা শনাক্ত করবেন , দূতাবাসে যাওয়া সিলনেওয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ে যাবে, ধারা ৮৯ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী, কালেক্টর এর নিকট পাঠাতেহবে। এবং স্ট্যাম্প করবেন এবং রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠিয়ে দিবে এবং নং ১ বই জমা দিতে হবে। এই পর্যায়ে ওইদলিলের একটি ক্রমিক নম্বর ও তারিখ নির্দিষ্ট হবে।
এই নম্বরটিই ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের নম্বর।তফশিল ক, ফর্ম ৩ অনুসরন করবে দলিল তৈরির সময়।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদনে ব্যক্তিগত উপস্থিতি:-
পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদনে ব্যক্তিগত উপস্থিতি
বাধ্যতামূলক এবং আগমনের পূর্বে কবেযোগদান করবে সেটি নিচ্ছিত করতে হবে,,,তবে বিদেশে অবস্থান করে
সেই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম রয়েছে,উপস্থিতি বিষয় সিথিল করা হয়েছে।

এখন কেউ যদি ভার্চুয়াল পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদন করতে চাই সেটা সম্ভব নয় তবে,
পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিলপএ হাইকমিশনার এর কন্সুলার অফিসারের সম্মুখে স্বাক্ষর করতে হবে।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কখন অবসান বা বাতিল হয়ে যাবে :-
কি কি কারনে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি বাতিল হবে/হয়ে থাকে তা নিম্নরু্পঃ

১. নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পাওয়ার অব এ্যাটর্নি করা হলে
মেয়াদ শেষে বা উদ্দেশ্য সফল তা বাতিল বলে গণ্য হবে।যেমনঃ ১ জানুয়ারী ২০২৪ থেকে ১ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত হলে, সময় শেষ হলে বাতিল হয়ে যাবে;

২. পাওয়ার অব এ্যাটর্নি বাতিল বা প্রত্যাহার করা যায়। বাতিল করতে চাইলে যে অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল, সেই জেলার রেজিস্ট্রার বরাবর মোক্তারনামা বাতিলের লিখিত আবেদন করতে হবে।

৩. পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি জারীকারী ব্যাক্তি দেওলিয়া, মারা গেলে, আইনী স্বত্বা বাতিল হলে সেই দলিল ও বাতিলহয়ে যাবে;

৪. যদি পাগল বা উন্মাদ হয়ে যায় তাহলে বাতিল হয়ে যাবে;

৫. যেখানে দলিলটি আইন অনুয়ায়ী নিবন্ধন করার প্রয়োজন ছিলো, সেক্ষত্রে করে নাই;

৬. যে ব্যাক্তির কাছে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সে ব্যাক্তি যদি পাওয়াকারীর নিকট আবেদনের মাধ্যেমে যখন বাতিলহয়ে যায়;

৭.যখন আইনী কোন পর্যায়ের মাধ্যেমে সমধানের মাধ্যেমে যখন বাতিল করা হয়,
যেমনঃ বিরোধ হলেমধ্যেস্থতাকারীর মাধ্যেমে যখন কোন বাতিল সিদ্ধান্ত আসে।

৮. সাধারণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অবসানের ক্ষেত্রে দাতা ক্ষমতা গ্রহীতাকে ডাক রেজিস্টার্ডর মাধ্যমে ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবেন। তা ছাড়া ক্ষমতা গ্রহীতাও একইভাবে মালিককে ৩০ দিনের নোটিশ সাপেক্ষে অ্যাটর্নির দায়িত্ব ত্যাগ করতে পারেন।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি সংক্রান্ত আইনি সমস্যা বা আইনী সহায়তার জন্য ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারেন।

কপি

প্রিয়েমশন মামলা সম্পর্কিত আইনি সমস্যা ও সমাধানসিরাজ প্রামাণিকআপনারা সবাই জানেন জমির মালিক তার জমি বিক্রি করতে চাইলে প্রথ...
19/07/2025

প্রিয়েমশন মামলা সম্পর্কিত আইনি সমস্যা ও সমাধান
সিরাজ প্রামাণিক

আপনারা সবাই জানেন জমির মালিক তার জমি বিক্রি করতে চাইলে প্রথমে অগ্রক্রয় অধিকারীদের বিক্রির খবর জানাতে হয়। যদি তারা ক্রয়ে আগ্রহী না হয় তখন বিক্রেতা বাইরের পার্টির কাছে জমি বিক্রি করতে পারবেন। বিক্রির খবর বা নোটিশ না দিয়ে বিক্রেতা জমিটি বাইরের লোকের কাছে বিক্রি করে দিলে প্রথমে ওই জমির ওয়ারিশ সূত্রে সহঅংশীদার, দ্বিতীয়ত ক্রয়সূত্রে যারা সহঅংশীদার এই দুই শ্রেণীর ব্যক্তিরা আদালতে অগ্রক্রয়ের মামলা দায়েরের মাধ্যমে পুনঃক্রয় করে নিতে পারবেন।

এই মামলা কে করতে পারবেন, আর কে করতে পারবেন না, কত টাকা কিভাবে জমা দিয়ে মামলাটি করতে হয়, টাকা জমা না দিয়েও মামলাটি করার উপায় কী, কোন শ্রেণীর জমির ক্ষেত্রে প্রিয়েমশন করা যাবে না, এ মামলাটি কত সময়ের মধ্যে করতে হয়, মামলাটি শেষ হতে কত সময় লাগে, জমির আগ্রহী ক্রেতাকে কত টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, মামলায় হেরে গেলে আপিলের বিধান কী যাবতীয় প্রশ্নোত্তর নিয়ে আজকের নিবন্ধ।

কোন বাইরের পার্টির প্রবেশ ঠেকানোর জন্য এ ধরনের অধিকার আইনে বলবৎ আছে। কৃষিজমি ও অকৃষি উভয় প্রকারের জমির অগ্রক্রয় দাবি করে আদালতে মামলা করা যায়। মহানগরী এলাকা, পৌরসভা এলাকা, হাটবাজার ইত্যাদিকে অকৃষি জমি হিসেবে গণ্য করা হয়। কৃষিজমির অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ৯৬ ধারা এবং অকৃষি জমির অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৪৯ এর ২৪ ধারা মতে মামলা দায়ের করতে হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০ এর ৮৯ ধারা অনুযায়ী জমি রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে ৩ বছরের পর আর অগ্রক্রয় দাবি করে আর মামলা করা যাবে না।

বিক্রীত জমির সাব কবলা দলিলে উল্লেখিত মূল্যমান অনুযায়ী আর্থিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলা করতে হবে। মামলা দায়ের করতে হলে আদালতে চার ধরনের টাকা জমা দিতে হয় অন্যথায় মামলাটি আদালত খারিজ করে দেবে।

১। সাব-কবলা দলিলে উল্লেখিত জমির মূল্য প্রদান করে।

২। উক্ত মূল্যের ওপর বার্ষিক ২৫% হারে ক্ষতিপূরণ বাবদ।

৩। উক্ত মূল্যের বার্ষিক সরল সুদে ৮% হারে।

(মনে রাখবেন ২ এবং ৩নং হিসাব করতে হবে দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে মামলা দায়েরের সময় পর্যন্ত)

৪। প্রথম ক্রেতা কর্তৃক উন্নয়ন বাবদ অন্যান্য টাকা, যা পরবর্তীতে আদালত সমীচীন মনে করলে জমা দিতে নির্দেশ দেবেন।

মনে রাখা দরকার কোন বসতভিটা বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষি কিংবা অকৃষি জমির অগ্রক্রয় মামলা চলবে না। আর মুসলিম আইনে তিন শ্রেণীর লোক অগ্রক্রয় দাবি করে মামলা করতে পারেন।

১। উত্তরাধিকার বা ক্রয় সূত্রে সহঅংশীদার।

২। যে জমির মধ্য দিয়ে বা সংলগ্ন পথ, পানির ড্রেন যাদের রয়েছে।

৩। সংলগ্ন জমির মালিক।

মনে রাখবেন মুসলিম আইনে মামলা করতে আগে টাকা জমা দেয়ার প্রয়োজন হয় না। মামলার রায় হওয়ার পর টাকা জমা দিতে হয়।

অগ্রক্রয়ের মামলা চলে না, যদি- ১। বিক্রীত জমি বসতবাড়ি হয়, ২। অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করার আগে বিক্রীত জমি বিক্রেতার কাছে হস্তান্তরিত হয়, ৩। উক্ত বিক্রয় যোগসাজশি বা জাল বিবেচিত হয়, ৪। বিনিময় বা ভাগবাটোয়ারা সংক্রান্ত সম্পত্তি হস্তান্তর হয়, ৫। স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীর বরাবরে উইল বা দানমূলে সম্পত্তি হস্তান্তর করে, ৬। হেবা-বিল-এওয়াজ মূলে হস্তান্তর করলে, ৭। রক্তের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তিন পুরুষের কোনো দান বা উইল মূলে হস্তান্তর করে, ৮। মুসলিম আইনে ওয়াকফ এবং ধর্মীয় কারণে বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত হস্তান্তরে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে এবং শুনানি শেষে আবেদনকারীকে জমি কেনার অধিকার দিতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেয়া টাকা থেকে ক্রেতাকে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করতে আদেশ দেবেন। যার আবেদন মঞ্জুর করা হলো তার বরাবর ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেবেন। তবে এ রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনো কর, ডিউটি বা ফিস দিতে হবে না। ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি করে দিতে ব্যর্থ হলে এর পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আদালত সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেবেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে আইনে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬(১২) ধারা অনুযায়ী আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে একবার আপিল করা যাবে; কিন্তু ওই আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আর দ্বিতীয় আপিল করা যাবে না। তবে প্রথম আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন দায়ের করা যায়।

[লেখক : আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

সংগৃহীত তথ্য

11/07/2025

হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদ বা তালাক: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও আইন

#ভূমিকা
হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়, যা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে আজীবন স্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক। এটি শুধুমাত্র সামাজিক নয়, বরং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। হিন্দু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বিবাহ একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক এবং এর ফলে হিন্দু পারিবারিক আইনে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো সরাসরি বিধান নেই। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

হিন্দু আইনে তালাকের অনুপস্থিতি
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।
হিন্দু সমাজে বিবাহকে “অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক” হিসেবে দেখা হয়। ঋষি মনুর মতে, স্ত্রীর কর্তব্য এমনকি মৃত্যুর পরও চলতে থাকে এবং তার দ্বিতীয় স্বামী থাকতে পারে না। এই ধারণার ভিত্তিতে বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য তালাকের কোনো বৈধতা নেই।

ভারতের মতো দেশে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act) প্রণয়নের মাধ্যমে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইন কার্যকর নয়। ফলে বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা এখনো এই অধিকার থেকে বঞ্চিত।

পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণ
যদিও তালাকের কোনো ব্যবস্থা নেই, ১৯৪৬ সালের The Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট কারণে পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

পৃথক বসবাসের কারণসমূহ:
১. স্বামী যদি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন (যেমন কুষ্ঠ বা সিফিলিস)।
২. স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেন।
৩. স্বামী যদি গৃহে উপপত্নী রাখেন।
৪. স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করেন।
৫. স্বামী যদি স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেন।
৬. স্বামী যদি পুনরায় বিয়ে করেন।
৭. অন্যান্য যৌক্তিক কারণ।

ভরণপোষণ পাওয়ার শর্ত:
স্ত্রী যদি অসচ্চরিত্রা না হন।
স্ত্রী যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ না করেন।
স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে অস্বীকৃতি না জানান।

আদালতের মাধ্যমে সেপারেশন মামলা
বাংলাদেশে অনেক হিন্দু নারী সেপারেশন মামলা (পৃথক বসবাস) দায়ের করে থাকেন। যদিও এটি সরাসরি ডিভোর্স নয়, তবে আদালতের রায় অনুযায়ী তারা পৃথকভাবে বাস করার অধিকার পান এবং ভরণপোষণের দাবিও করতে পারেন।
এক্ষেত্রে আদালত থেকে সেপারেশনের ডিক্রি পাওয়ার পর অনেক নারী ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেন, যদিও তা আইনগতভাবে সরাসরি সম্ভব নয়।

ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান
ভারতে ১৯৫৫ সালে প্রণীত হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্ভব: ১. ব্যভিচার (Adultery)। ২. নিষ্ঠুরতা (Cruelty)। ৩. ত্যাগ করা (Desertion)। ৪. মানসিক ব্যাধি বা দুরারোগ্য রোগ। ৫. ধর্ম পরিবর্তন করা। ৬. সাত বছর ধরে নিখোঁজ থাকা।

এই আইনের আওতায় ভারতীয় হিন্দুরা আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স নিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইন কার্যকর নয় বলে এখানকার হিন্দুরা এই সুবিধা পান না।

বর্তমান আন্দোলন ও সংস্কারের দাবি
বাংলাদেশে অনেক মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন ব্যক্তি হিন্দু পারিবারিক আইনে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।
বিশেষ করে নারীদের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। উদাহরণস্বরূপ:

শিখা দত্তের মামলা: একজন কলেজ শিক্ষিকা শিখা দত্ত ২০২০ সালে পারিবারিক আদালতে ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নজির হতে পারে।
হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ তালাক ডিভোর্স

হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া কী?
বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী, তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য সরাসরি তালাক নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথক বসবাসের অধিকার এবং ভরণপোষণের দাবি করা যেতে পারে।

ভারতের মতো দেশে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act) প্রণয়নের মাধ্যমে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আইন বাংলাদেশে কার্যকর নয়। বাংলাদেশের হিন্দুরা এখনো এই ধরনের আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তবে, যদি কোনো হিন্দু নারী বা পুরুষ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে আবেদন করতে চান, তাহলে তারা সাধারণত নিম্নলিখিত কারণগুলোর ভিত্তিতে পৃথক বসবাসের জন্য মামলা করতে পারেন:

স্বামী বা স্ত্রী নিষ্ঠুর আচরণ করলে।
স্বামী বা স্ত্রী পরিত্যাগ করলে।
স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে।
ধর্মান্তর গ্রহণ করলে।
হিন্দু আইন অনুযায়ী তালাকের জন্য কি কি শর্ত রয়েছে?
বাংলাদেশে হিন্দু পারিবারিক আইনে তালাকের কোনো সরাসরি বিধান নেই, তবে ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর আওতায় তালাকের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। যদিও এই আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়, তবুও এটি উল্লেখযোগ্য কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে হিন্দুদের জন্য কার্যকর:

ব্যভিচার (Adultery): স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য কারো সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেন।
নিষ্ঠুরতা (Cruelty): শারীরিক বা মানসিকভাবে অত্যাচার করা হলে।
ত্যাগ (Desertion): স্বামী বা স্ত্রী যদি দুই বছর ধরে পরিত্যাগ করেন।
মানসিক ব্যাধি: একজন সঙ্গী যদি গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।
ধর্ম পরিবর্তন: স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ করেন।
নিখোঁজ থাকা: সাত বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলে।
বাংলাদেশে এই ধরনের শর্তগুলো সরাসরি প্রযোজ্য না হলেও পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের দাবির ক্ষেত্রে এগুলো আদালতে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

বিচ্ছেদ বা তালাকের ক্ষেত্রে হিন্দু নারীর অধিকার কী?
বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের জন্য সরাসরি তালাক নেওয়ার অধিকার নেই। তবে, ১৯৪৬ সালের The Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট কারণে পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

পৃথক বসবাসের অধিকার পাওয়ার কারণসমূহ:
স্বামী সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে (যেমন কুষ্ঠরোগ)।
স্বামী স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে।
স্বামী গৃহে উপপত্নী রাখলে।
স্বামী ধর্মান্তর গ্রহণ করলে।
স্বামী পুনরায় বিয়ে করলে।
ভরণপোষণ পাওয়ার শর্ত:
স্ত্রী অসচ্চরিত্রা না হলে।
স্ত্রী অন্য ধর্ম গ্রহণ না করলে।
যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্ত্রীর পক্ষ থেকে আলাদা থাকার দাবি না থাকলে।
এছাড়াও, আদালতের মাধ্যমে সেপারেশন ডিক্রি পাওয়ার পর নারীরা ভরণপোষণের দাবিও করতে পারেন।

হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদের পর সম্পত্তির বণ্টন কিভাবে হয়?
বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত:

কন্যারা পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার পান, তবে ভাইদের তুলনায় তাদের অংশ কম হতে পারে।
স্ত্রীরা শুধুমাত্র মৃত স্বামীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উপর সীমিত অধিকার পান (যাকে “লাইফ ইন্টারেস্ট” বলা হয়)। অর্থাৎ, তারা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না।
বিচ্ছেদের পরে নারীরা সাধারণত কোনো অতিরিক্ত সম্পত্তি দাবি করতে পারেন না কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পত্তি বণ্টনের কোনো বিধান নেই।

তালাকের জন্য হিন্দু আইন অনুযায়ী আদালতে কিভাবে আবেদন করতে হয়?
বাংলাদেশে সরাসরি তালাক নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও, পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের দাবিতে আদালতে আবেদন করা যায়। এর জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:

আইনি পরামর্শ: প্রথমেই একজন দক্ষ পারিবারিক আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন যিনি আপনার মামলা পরিচালনা করবেন।
মামলা দাখিল: সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে একটি মামলা দাখিল করুন যেখানে আপনি আপনার অভিযোগগুলো উল্লেখ করবেন (যেমন: নিষ্ঠুরতা, ত্যাগ ইত্যাদি) এবং পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের দাবি করবেন।
প্রমাণ উপস্থাপন: আপনার অভিযোগ সমর্থন করার জন্য যথাযথ প্রমাণ যেমন নথিপত্র, সাক্ষী ইত্যাদি জমা দিন।
আদালতের রায়: বিচারকের রায় অনুযায়ী আপনি পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার পেতে পারেন।

সংগৃহীত,,,,,,
এ্যাড, ফারুক আহমেদ খাঁন।
জজ কোর্ট ময়মনসিংহ।
আইনী সমস্যা ও পরামর্শ - LIAA BANGLADESH

অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫কপি
09/07/2025

অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫

কপি

চুক্তি (Agreement) ড্রাফট বা খসড়া তৈরির সময় সাধারণত নিচের ভুলগুলো বেশি হয়ে থাকে:🔴 ১. অস্পষ্ট ভাষা ও শব্দচয়নঅনেক সময় চুক্...
09/07/2025

চুক্তি (Agreement) ড্রাফট বা খসড়া তৈরির সময় সাধারণত নিচের ভুলগুলো বেশি হয়ে থাকে:

🔴 ১. অস্পষ্ট ভাষা ও শব্দচয়ন

অনেক সময় চুক্তির ভাষা এতটাই সাধারণ বা অস্পষ্ট থাকে যে ভবিষ্যতে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: “সম্ভব হলে অর্থ প্রদান করা হবে” — এই ধরনের বাক্য আইনগতভাবে দুর্বল।

🔴 ২. পক্ষগুলোর সঠিক পরিচয় না দেওয়া

নাম, ঠিকানা, এনআইডি, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিকভাবে উল্লেখ না করা হলে ভবিষ্যতে সমস্যা হয়।

🔴 ৩. শর্তাবলি নির্দিষ্ট না থাকা

অর্থ পরিশোধের সময়সীমা, দায়িত্ব, দায়-দায়িত্ব ও জরিমানা (penalty) উল্লেখ না থাকলে চুক্তির কার্যকারিতা কমে যায়।

🔴 ৪. অকার্যকর বা বেআইনি শর্ত যুক্ত করা

অনেক সময় এমন শর্ত লেখা হয় যা আইনসম্মত নয় বা আদালতে টিকবে না।

🔴 ৫. সালিশ (Arbitration) বা বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি উল্লেখ না থাকা

কোনো বিরোধ হলে তা কোথায় এবং কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা স্পষ্ট না থাকলে ঝুঁকি থাকে।

🔴 ৬. সময়সীমা (Timeline) নির্ধারণ না করা

চুক্তি কতদিনের জন্য কার্যকর হবে, তা উল্লেখ না করা বড় ভুল।

🔴 ৭. সাক্ষর ও তারিখ না থাকা

পক্ষদ্বয়ের স্বাক্ষর, তারিখ ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর না থাকলে চুক্তি অকার্যকর হতে পারে।

🔴 ৮. সংশ্লিষ্ট আইনের উল্লেখ না থাকা

কোন আইনের অধীনে চুক্তিটি করা হচ্ছে, সেটি উল্লেখ না করলে আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

🔴 ৯. অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা ধারাবাহিকতা না থাকা

অনেক সময় কপি-পেস্ট করে চুক্তি তৈরি করলে প্রাসঙ্গিকতা নষ্ট হয়।

🔴 ১০. আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া চুক্তি তৈরি করা

অনেকেই গুগল বা পুরনো ফরমেট ব্যবহার করে নিজেরাই চুক্তি তৈরি করেন, যার ফলে আইনি ভুল থেকে যায়।

✅ পরামর্শ:
চুক্তির খসড়া করার সময় একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া, স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য ভাষায় শর্তাবলি নির্ধারণ করা, এবং যথাযথ আইন অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

শুভেচ্ছান্তে
সাদ্দাম হোসাইন আবির
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি কোনো ভাড়াটিয়া (ভাড়াটে) বাসা ছাড়তে না চান, তাহলে বাড়িওয়ালা হিসেবে কিছু আইনগত ও ব্যবহারিক পদক্ষ...
06/07/2025

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি কোনো ভাড়াটিয়া (ভাড়াটে) বাসা ছাড়তে না চান, তাহলে বাড়িওয়ালা হিসেবে কিছু আইনগত ও ব্যবহারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। নিচে সেগুলো ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো:

🧾 ১. চুক্তিপত্র (Agreement) যাচাই করুন

প্রথমে খেয়াল করুন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আপনার যে লিখিত চুক্তি আছে, সেখানে বাসা ছাড়ার শর্তাবলী কী আছে। সাধারণত চুক্তিতে বলা থাকে, নির্দিষ্ট সময় পর বাড়িওয়ালা নোটিশ দিলে ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে হবে।
• চুক্তিতে “১ মাসের নোটিশে বাসা ছাড়তে হবে” — এমন কিছু লেখা থাকলে, সেটি আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন.

📢 ২. নোটিশ দিন

চুক্তি থাকলে বা না থাকলেও, ভাড়াটিয়াকে নোটিশ প্রদান করুন। চিঠিতে নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ করুন:
• বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট তারিখ
• চুক্তির শর্ত (যদি থাকে)
• সময়মতো না ছাড়লে পরবর্তী পদক্ষেপ

⚖️ ৩. থানায় জিডি করুন (যদি প্রয়োজন হয়)

যদি নোটিশ দেওয়ার পরও ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়তে না চান বা হুমকি দেন:
• আপনার নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করুন।


🏛️ ৪. আদালতের সাহায্য নিন

চূড়ান্তভাবে যদি ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়তে একেবারেই না চান, তাহলে:
• একজন আইনজীবীর সহায়তায় মামলা করতে পারেন।


🚫 যা করবেন না
• ভাড়াটিয়াকে ভয় দেখানো, তালা ভেঙে জিনিসপত্র বের করে দেওয়া বা জোরপূর্বক বিদ্যুৎ/গ্যাস বন্ধ করা আইনবিরোধী।
• এতে আপনার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা হতে পারে।

✅ পরামর্শ

ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে:
• সব সময় লিখিত চুক্তি করুন।
• চুক্তিতে স্পষ্ট করে বাসা ছাড়ার নিয়ম লিখে রাখুন।
• প্রতি মাসে ভাড়ার রসিদ দিন.

Copy

এন.আই. আইন ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় চেকের মামলা করতে হলে যেসব ডকুমেন্টস সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন। সেকারনে চেক ডিজঅনার বা প্রত্যাখ্য...
05/07/2025

এন.আই. আইন ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় চেকের মামলা করতে হলে যেসব ডকুমেন্টস সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন। সেকারনে চেক ডিজঅনার বা প্রত্যাখ্যাত চেকের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য ডকুমেন্টস সংরক্ষণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। মামলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিচের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসগুলোর উপস্থিতি অপরিহার্য।

১. মূল চেক ও ডিজঅনার স্লিপ:
অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রদত্ত চেকটি হচ্ছে মামলার প্রাথমিক প্রমাণ। চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি “পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নেই” বলে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ব্যাংক থেকে একটি ডিজঅনার স্লিপ প্রদান করা হয়। এই দুটি নথি—মূল চেক ও ডিজঅনার স্লিপ—সংশ্লিষ্ট আইনের ১৩৮ ধারার মামলার ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

২. লিগ্যাল নোটিশের কপি:
চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অভিযুক্তকে ৩০ দিনের সময় উল্লেখ করে আইনি নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক। এটি সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং তার একটি কপি বাদীর কাছে সংরক্ষণে রাখতে হয়। জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমেও নোটিশ প্রকাশ করা যায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কাটিং সংযুক্ত রাখা/সংরক্ষণ করা। প্রয়োজন।

৩. ডাক বিভাগের রিসিপ্ট ও প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ:
নোটিশ পাঠানোর প্রমাণ হিসেবে ডাক বিভাগের রিসিপ্ট অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি নোটিশ গ্রহণ করে, তাহলে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ সংযুক্ত করা মামলার পক্ষকে আরও শক্তিশালী করে। আর যদি নোটিশ ফেরত আসে, তাহলেও রিসিপ্ট প্রমাণ করে যে বাদী আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

৪. লেনদেন-সংক্রান্ত চুক্তিপত্র:
চেকের পেছনে যে লেনদেন বা আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে, তা যদি কোনো চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্পে লিখিত হয়, তাহলে তা মামলার শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে। যেমন: ধারের চুক্তিপত্র, বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি বা অন্য আর্থিক নথি, যা লেনদেনের কারণ ব্যাখ্যা করে।

৫. গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসের তালিকা:
চেক ডিজঅনার মামলার জন্য সাধারণত যেসব ডকুমেন্টস অপরিহার্য—

ক) মূল চেক

খ) চেক ডিজঅনার স্লিপ

গ) লিগ্যাল নোটিশের কপি

ঘ) ডাক বিভাগের রিসিপ্ট

ঙ) প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ

চ) চুক্তিপত্র বা লেনদেন-সংক্রান্ত নথি (যদি থাকে)

চেক ডিজঅনার মামলা একটি স্পর্শকাতর আর্থিক ও আইনি প্রক্রিয়া। যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন ও ডকুমেন্টস সংরক্ষণই এই ধরনের মামলায় প্রমাণের অন্যতম চাবিকাঠি।

মো: আল হামিদ
শিক্ষানবিশ আইনজীবী
জেলা ও দায়রা জজ আদালত,
রাজশাহী।

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে ০৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা।Copy
25/03/2025

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে ০৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা।

Copy

No Order মানে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিল সুপ্রীম কোর্ট।Copy
25/03/2025

No Order মানে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিল সুপ্রীম কোর্ট।

Copy

01/02/2025

সাকসেশন সার্টিফিকেট কি?
আপনজনের মৃত্যুর পর ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গেলে, সাধারণত (Succession Certificate) প্রয়োজন হয়। এটি একটি আইনগত নথি, যা প্রমাণ করে যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বা অর্থের উত্তরাধিকারী কে বা কারা এবং তাদের মধ্যে কীভাবে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে।
succession certificate কী এবং কেন প্রয়োজন?
1. ব্যাংক ব্যালেন্স বা সম্পত্তি তোলার জন্য:
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হতে চায় যে তারা যে অর্থ হস্তান্তর করছে, সেটি যথাযথ উত্তরাধিকারীর কাছে যাচ্ছে।
2. আইনি স্বীকৃতি:
এই সনদটি আইনত প্রমাণ করে যে আপনি বা আপনার চাচাতো ভাইয়েরা মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারী।

Succession certificate কীভাবে পাওয়া যায়?
1. একজন বিজ্ঞ এডভোকেটের মাধ্যমে যুগ্ন জেলা জজ ডেলিগেট আদালতে আবেদন করতে হবে।
2. দরখাস্তে উল্লেখ করতে হবে—
• মৃত ব্যক্তির নাম ও মৃত্যুর তথ্য।
• সম্পত্তি বা অর্থের বিবরণ।
• উত্তরাধিকারীদের নাম।
3. কোর্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করে সনদ প্রদান করবে।

যা দরকার হবে:
• মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ।
• উত্তরাধিকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র।
• সম্পত্তি বা অর্থের বিবরণ।
• সংশ্লিষ্ট ফি জমা।
একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্যে এটি দ্রুত এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।(Collected)

এ্যাডভোকেট
মো: স্বজন মিয়া
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঝিনাইদহ।

Address

Judge Court
Rajshahi
6100

Opening Hours

Monday 17:00 - 20:00
Tuesday 17:00 - 20:00
Wednesday 17:00 - 20:00
Thursday 17:00 - 20:00
Saturday 17:00 - 20:00
Sunday 17:00 - 20:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আইনী সমস্যা ও পরামর্শ - LIAA BANGLADESH posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to আইনী সমস্যা ও পরামর্শ - LIAA BANGLADESH:

Share

Category