31/03/2026
🚨ডাকাতি মামলায় সাজার⚖️ হার কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান প্রতিবেদন:
👮♀️পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা।
=====================================
বিভিন্ন আদালত থেকে ২০১৬ সালে ১২৬টি এবং ২০১৭ সালে ১২১টি অর্থাৎ দুই বছরে সর্বমোট ২৮৭টি ডাকাতি মামলায় রায় প্রদানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যার মধ্যে সর্বমোট ১৯১টি মামলায় খালাস এবং ৫৭টি মামলায় সাজা প্রদান করা হয়। ডাকাতি মামলার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ ও ২০১৭ উভয় বছরে মামলাসমূহের সাজার হার প্রায় কাছাকাছি, যা প্রায় ২০%। অধিকাংশ মামলার খালাসের কারণ বৈরী সাক্ষী তথা সাক্ষী কর্তৃক আসামিদের চিনতে না পারা বা সঠিকভাবে সাক্ষ্য প্রদান না করা অথবা সাক্ষীর অনুপস্থিতি। এ ছাড়া বিজ্ঞ আদালতের পর্যবেক্ষণে মামলার তদন্তেও বেশ কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ কর্তৃক উপস্থাপিত তদন্ত প্রতিবেদনেও বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়, যার প্রভাব পড়ে বিচারিক আদালত কর্তৃক মামলার রায়ে।
🛑 মামলার রায়ে সাক্ষী, তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রসিকিউশনের ত্রুটিসমূহের বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের পর্যবেক্ষণঃ
=======================================
➡️২০১৬ সালে ডাকাতি মামলার প্রদত্ত রায়ে উল্লেখিত বিজ্ঞ আদালতের পর্যবেক্ষণঃ
………………………
১. গ্রেপ্তারকৃত আসামি নাসিরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারার বিধান মতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। পাঁচলাইশ থানার মামলা নং ২(২)১৯৯৯}
২. আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি। {রাউজান থানার মামলা নং ৮(৫)১৯৯৪}
৩. আইও আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অন্য মামলায় রিমান্ড নিয়ে এই মামলায় (ডাকাতি মামলা) কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সঠিক প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় এই জবানবন্দি দিয়ে সাজা প্রদান সম্ভব হয়নি। {বিয়ানীবাজার থানার মামলা নং ১৩ (১১)২০০৫}
৪. আইও একজন আসামিকে অন্য একটি মামলায় (চুরি মামলা) রিমান্ডে নিয়ে ডাকাতি মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন করেন এবং সেই মতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি রেকর্ড করেন। উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে উক্ত আসামিকে এই মামলায় (ডাকাতি মামলায়) কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন করা হলেও উক্ত আসামি অস্বীকৃতি জানানোর ফলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়ায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা উচিত ছিল। তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অজ্ঞতাবশত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। যাতে পরবর্তী সময়ে মামলার অর্জন বিফলে যায়।
৫. আসামি বাহাদুর এবং দিদার কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেছে, কিন্তু প্রসিকিউশন পক্ষ জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসাইনকে আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। {সীতাকুণ্ড থানার মামলা নং ১৫(১০)৯৯}
৬. বিজ্ঞ আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, তদন্তকারী অফিসার তদন্তকালীন সময়ে কিছু মালামাল জব্দ করলেও জব্দ তালিকা এবং জব্দকৃত মালামাল আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। হাটহাজারী থানার মামলা নং ৩(১২)৯১}
৭. একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আসামিকে সনাক্তকরণ মহড়ায় সনাক্ত করলেও তিনি বিদেশে থাকায় আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করতে উপস্থিত হননি। পটিয়া থানার মামলা নং ১৭(৩)২০০৭}
৮. আসামি টিআইপিতে সনাক্ত হলেও জেরার মুখে সাক্ষী বলেছেন যে, তাকে (উক্ত আসামিকে) সাক্ষী থানায় দেখেছেন। এতে টিআইপির গুরুত্ব থাকল না। সাক্ষীদের ভালোভাবে সাক্ষ্য প্রদান করার জন্য ব্রিফ করার প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে আইও এবং প্রসিকিউশন উভয়ের ব্যর্থতা রয়েছে। {সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নং ৯(৬)২০০২)
৯. আইও আসামিকে অন্য একটি চুরি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে এই ডাকাতি মামলায় কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। এটি যথাযথ প্রক্রিয়া বলে বিবেচিত হয়নি। বিয়ানীবাজার থানার মামলা নং ১৩(১১)২০০৫)
১০. আইও ১৬৪ ধারার জবানবন্দির সহিত অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সমর্থনমূলক সাক্ষ্য সংগ্রহ করতে পারেননি। {বিয়ানীবাজার থানার মামলা নং ১৩(১১) ২০০৫}
১১. আইও লুণ্ঠিত বন্দুক, দুটি কম্পিউটার এবং আসামির দেখানো মতে খোলা জায়গা, যেমন-খড়ের গাদা/আসামিদের বাড়ির পার্শ্বে পুকুরপাড় হতে উদ্ধার করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের নিকট এটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেটি সম্ভবত বিজ্ঞ আদালতের নিকট হেফাজতের বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। {সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নং ৫(৭)২০০৩)
১২. আসামি ১৬৪ ধারায় নিজেকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিলেও অন্য আরো পাঁচ-ছয়জন আসামির নাম উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদেরকেও এই মামলার আসামি করে সিএস দিয়েছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আর অন্য কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে উপস্থাপন করতে পারেননি। যেমন-ঘটনার দিন তাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিতির জন্য সিডিআরে সেল আইডি এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাকে তাদের অবস্থান। আসামিদের সাথে ওই রাতে তাদের মোবাইলে যোগাযোগ, তাদের নিজ আবাসস্থলে উপস্থিতি ইত্যাদি সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি।
১৩. আসামি জনৈক ইদ্রিসের প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সাথে অত্র মামলার ঘটনাস্থলের মিল পাওয়া যায়নি। {চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার মামলা নং ৪০(৯)১৯৯৯}
১৪. জব্দ তালিকার সাক্ষীগণ তদন্তকারী অফিসারের নিকট সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছেন মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। {দেবীদ্বার থানার মামলা নং ১৪(৮)২০০১}
১৫. লুণ্ঠিত কম্বল উদ্ধার করা হয়। বাদী কম্বলগুলো সৌদি আরব থেকে এনেছেন মর্মে এজাহারে উল্লেখ করলেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উদ্ধারকৃত কম্বলগুলো তার ভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো কি না তাও বলতে পারেননি। {দেবীদ্বার থানার মামলা নং ১৪(৮)২০০১}
১৬. স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্ত কুমার সাহাকে প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। {সীতাকুণ্ড থানার মামলা নং ৪(১০)১৯৯২}
১৭. সাক্ষীগণ ঘটনার তারিখ বিজ্ঞ আদালতে বলতে পারেননি। দেবীদ্বার থানার মামলা নং ১১(৭)২০০৫}
১৮. সাক্ষীগণ গাড়ির লাইটের আলোতে আসামিদের চিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের সনাক্ত করতে পারেননি। চান্দিনা থানার মামলা নং ১০(১)২০০৮}
৯. তদন্তকারী অফিসার একটি মামলায় ধৃত আসামি ফারুকের টিআই প্যারেডের আবেদন করেননি। {চান্দিনা থানার মামলা নং ১০(১)২০০৮}
২০. আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি। {রাউজান থানার মামলা নং ৩(৩)১৯৯৮}
২১. একটি মামলায় ডাকাত লাল বাহাদুর, আলী আকবর, সালাহউদ্দিন, বাবুল, আবুল কালাম কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অথচ স্বীকারোক্তি মোতাবেক কোনো আসামির নিকট হতে কোনো মালামাল উদ্ধার করা হয়নি। {সীতাকুণ্ড থানার মামলা নং ৪(১০)১৯৯২}
২২. বিচার চলাকালীন একটি মামলায় মামলার কেস ডায়েরি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞ পিপি কেস ডায়েরি কোথায় তা জানেন না মর্মে আদালতকে অবহিত করেন। {সীতাকুণ্ড থানার মামলা নং ৪(১০)১৯৯৪}
২৩. একটি মামলার রায়ে বিজ্ঞ আদালত উল্লেখ করেন মামলাটি কথিত ঘটনার পর প্রায় ২২-২৩ দিন বিলম্বে রুজু করা হয়, যা সন্দেহজনক। আসামিগণ বাদীর রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়। সাক্ষীগণ সাক্ষ্য প্রদানের সময় Decline করেন। তা ছাড়া সকল সাক্ষী বাদীর বাড়ির পার্শ্বে না হয়ে কিছুটা দূরের হওয়ায় মামলার সত্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়। {আনোয়ারা থানার মামলা নং ৯(২)২০০৫}
২৪. মামলার তদন্তকারী অফিসার এবং দুজন আসামির স্বীকারোক্তি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে হাজির করতে, এমনকি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপি আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বিধায় সকল আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়। হাটহাজারী থানার মামলা নং-৩(১২)৯১}
২৫. ১২ জন সাক্ষীই আসামি আবুল কাশেম যে পুলিশের নিকট ধৃত হয়েছে সে ব্যাপারে জানেন না, এমনকি তাকে দেখেননি মর্মে উল্লেখ করেন। চন্দনাইশ থানার মামলা নং-১৬ (৮)২০০৬}
২৬. ধৃত আসামির নিকট হতে কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হলেও কোনো সাক্ষী, এমনকি জব্দনামার সাক্ষীও আদালতে জানেন না মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন। পুলিশ আসামি আবুল কাশেমকে উক্ত ডাকাতির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে আটক করেছে মর্মে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেননি। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন আসামিকে কোনো সাক্ষী দেখেননি মর্মে আদালতে বক্তব্য দেন বিধায় তাদের খালাস দেওয়া হয়। চন্দনাইশ থানার মামলা নং-১৬(৮)২০০৬}
২৭. বাদী সনাক্তকরণ মহড়ায় দুজন আসামিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। উক্ত আসামিগণ তার প্রতিবেশী বিধায় শনাক্তকরণ মহড়া আইনানুগ নয়। চন্দনাইশ থানার দায়রা মামলা নং ০৭/২০০৭}
২৮. সকল আসামি সাক্ষীদের পর্বপরিচিত এবং আদালতে তাদের চিনতে পেরেছেন মর্মে বক্তব্য দেন। বিচারকালে আসামিদের সাথে বাদীর পূর্বশত্রুতা রয়েছে মর্মে জানা যায়। তা ছাড়া মামলা দায়েরের সময় বাদী কোনো আসামি চেনেন না এবং তদন্তকালে সকল আসামিকে চেনায় মামলার সত্যতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। উল্লিখিত কারণে সকল আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। চন্দনাইশ থানার দায়রা মামলা নং ০৭/২০০৭}
২৯. লুণ্ঠিত মোবাইল সেটের সাথে উদ্ধারকৃত জব্দ করা মোবাইল সেটের মিল নেই। {দাকোপ থানার মামলা নং ১৫(০২)২০০৯)
৩০. আসামিদের নিকট থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বা তাদেরকে চিনতে পেরেছে-এই মর্মে কোনো বক্তব্য সাক্ষীদের কেউই দেননি। {দাকোপ থানার মামলা নং ১৫(০২)২০০৯}
৩১. সাক্ষ্যগ্রহণের দিন লুণ্ঠিত মোবাইল ও স্বর্ণালংকার আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। {দাকোপ থানার মামলা নং ১৫(০২)২০০৯}
৩২. পাঁচজন আসামিকে সনাক্তকরণ মহড়ায় সাক্ষীগণ সনাক্ত করেন। কিন্তু আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে উক্ত সাক্ষীগণ ডকে উপস্থিত উল্লিখিত আসামিদেরকে সনাক্ত করতে পারেননি। {মাধবপুর থানার মামলা নং ১৮(৭)৯৯}
৩৩. ঘটনার পরপর পলায়নকালে ধৃত আসামিদের নিকট থেকে একটি রড উদ্ধার হয় মর্মে এজাহারকারী সাক্ষ্য প্রদান করেন। কিন্তু এজাহারে এর উল্লেখ নেই। গুলশান থানার মামলা নং ৩৩(৬)২০০১}
৩৪. এজাহারকারীর সাক্ষ্যের সাথে তার স্ত্রীর সাক্ষ্যের গরমিল পরিলক্ষিত হয়। বাড্ডা থানার মামলা নং ৩০(৯)২০০৮}
৩৫. পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করলেও যথাযথভাবে টিআই প্যারেড করায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃত দুজন আসামিকে বাদীর বাসায় নিয়ে দেখালে বাদীর স্ত্রী তাদের সনাক্ত করেন। {বাড্ডা থানার মামলা নং ৩০ (৯)২০০৮}
৩৬. এজাহারকারীর শাশুড়ি রিজিয়া বেগম টিআই প্যারেডে দুজন আসামিকে সনাক্ত করেন। কিন্তু তিনি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। হাজারীবাগ থানার মামলা নং ১০(৩)৯৯}
➡️২০১৭ সালে ডাকাতি মামলার প্রদত্ত রায়ে উল্লেখিত বিজ্ঞ আদালতের পর্যবেক্ষণঃ
=================================
১. রাষ্ট্রপক্ষে পরীক্ষিত কোনো সাক্ষী আসামিদেরকে তাহাদের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগ সম্পর্কে জড়িত করিয়া কোনো মন্তব্য করেন নাই বরং তাহাদের বক্তব্য হতে পাওয়া যায় যে, এজাহারকারী ও আসামিদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে মামলাটি দায়ের হইয়াছে। যাহা হউক, আসামিদেরকে কথিত ঘটনার সহিত সম্পৃক্ত করিবার মতো সাক্ষ্য না থাকায় আসামিরা খালাস পাওয়ার যোগ্য। রাউজান থানার মামলা নং-১৬(০২)০২, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
২. সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মামলাটি দীর্ঘ ২০ বছরের ঊর্ধ্বকাল যাবৎ চলমান রহিয়াছে। উক্ত দীর্ঘ সময়কালে সাক্ষীগণের প্রতি বিধি মোতাবেক সকল প্রসেসাদি ইস্যু করা সত্ত্বেও আদালতে কোনো সাক্ষী উপস্থিত হন নাই। কোনো মামলার কার্যক্রম সীমাহীন সময়কাল পর্যন্ত চলিতে পারে না। {সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-১৫, তারিখ-২২/১১/১৭, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড}
৩. এজাহারকারী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এই মামলায় এজাহারকারীসহ যাহাদের ঘরে ডাকাতি হয় তাহারা কেহই সাক্ষ্য প্রদান করেন নাই। ফলে ডাকাতির ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিগণ খালাস পাওয়ার অধিকারী। {আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৫(০৩)৯৮, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
৪. প্রত্যেক সাক্ষীই এজাহার বর্ণিত ঘটনাস্থলে অভিযোগকৃত ডাকাতি সংঘটনের কথা উল্লেখ করলেও উক্ত ডাকাতি কে সংঘটন করিয়াছে সে বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রদান করেন নাই। এজাহারকারী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অত্র মোকদ্দমাটি আনয়ন করিয়াছিলেন। সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে বর্ণিত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রসিকিউশন পক্ষ হতে উপস্থাপিত হয় নাই। পলাশবাড়ী থানার মামলা নং-১৭(০৫)০৫, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
৫. আসামি আবুল হাশেমকে ডাকাত সন্দেহে ধৃত করা হয় মর্মে সাক্ষীগণ জবানবন্দিতে মন্তব্য করিলেও কোনো সাক্ষীই দাবি করেন নাই যে, তাহারা নিজে আবুল হাশেমকে ধৃত করিয়াছেন। আবুল হাশেমকে ডাকাতি সংঘটনকালে ধৃত করা হয় মর্মে কোনো সাক্ষী সরাসরি মন্তব্য করেন নাই। কোন সাক্ষীর উপস্থিতিতে আবুল হাশেমের হেফাজত হতে লুণ্ঠিত মালামাল বা অর্থ উদ্ধার হয় মর্মে কোনো সাক্ষী সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন নাই। রাঙ্গুনিয়া থানার মামলা নং-৭(৪)৯৯, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড}
৬. উক্ত সাক্ষীগণ কেহই এই আসামিদেরকে সনাক্ত করেন নাই বা তাহাদেরকে চেনেন নাই মর্মে উল্লেখ করেন। এজাহারকারী স্বয়ং তাহার জবানবন্দির শেষাংশে উল্লেখ করেন যে, ছিনতাইকারীদের তিনি চেনেন না। মামলাটি ২০০৩ সালে দায়ের করা হইলেও অদ্যাবধি যে সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করা হইয়াছে তাহা দ্বারা অভিযোগ প্রমাণিত হয় না । {সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-২২(০)০৩, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
৭. এজাহারকারীর ছেলে আবুল হাসেম পিডাব্লিউ-৩ হিসেবে জবানবন্দিতে বলেন কে বা কারা ডাকাতি করে চিনতে পারি নাই। ডকে দাঁড়ানো আসামিকে তিনি চেনেন না। অত্র সাক্ষীর ঘরেও ডাকাতরা প্রবেশ করিয়াছিল। ডাকাতরা মুখোশ পরা ছিল না। কাজেই অত্র সাক্ষী ডাকাতদের স্বাভাবিকভাবেই চেনার কথা। কিন্তু তিনি তাহার জবানবন্দিতে ডাকাতদের তিনি চেনেন না মর্মে উল্লেখ করেন। এজাহারকারীর স্ত্রী পিডাব্লিউ-৫ হিসেবে অনুরূপ সাক্ষ্য প্রদান করেন। {রূপগঞ্জ থানার মামলা নং-২১(০৬)৯৯, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
৮. পিডাব্লিউ-১ তিনি মামলায় ভিকটিম। জেরাতে তিনি বলেন যে, আসামিরা খালাস পেলে তার আপত্তি নেই। অত্র মামলার এজাহারকারী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। ফলে তার দায়ের করা এজাহার ও স্বাক্ষর এবং প্রস্তুতকৃত জব্দ তালিকা আদালতে সনাক্ত হয়নি। জব্দ তালিকার সাক্ষীগণ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। ফলে জব্দ তালিকায় তাদের স্বাক্ষর সনাক্ত হয়নি। ঘটনাস্থলের অপরাপর সাক্ষীগণ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। ফলে ঘটনাস্থলের প্রস্তুতকৃত খসড়া মানচিত্র ও সূচিপত্র প্রদর্শনী চিহ্নিত হয়নি। কাফরুল থানার মামলা নং-২৮ (০৮) ২০০৭, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড}
৯. পিডাব্লিউ-১ তিনি এজাহার ও জিম্মানামা সনাক্ত করেন। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত আলামত (ছোরা) সনাক্ত করতে পারেননি। কেননা ঘটনার সময় উদ্ধারকৃত ছোরার সহিত উপস্থাপিত ছোরার কোনো মিল নেই মর্মে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। পিডাব্লিউ-৩ তিনি অত্র মামলার রেকর্ডিং অফিসার। তিনি জেরাতে বলেন, তার কাছে কোনো আলামত জমা হয়নি। তিনি এজাহার ও উহাতে স্বাক্ষর সনাক্ত করেন। তিনি জিম্মানামা ও উহাতে তার স্বাক্ষর সনাক্ত করেন। আসামিপক্ষের জেরাতে তিনি বলেন, তিনি টিআই প্যারেডে দুজন আসামিকে সনাক্ত করেন। তবে তাদের নাম মনে নেই। তা ছাড়া আদালতে উপস্থিত আসামিদেরকেও তিনি সনাক্ত করতে পারেননি। {উত্তরা থানার মামলা নং-৩০(০২)২০০২, ধারা : ৩৯৫/৪১২ পেনাল কোড}
১০. অত্র মামলায় প্রদত্ত ২ চিহ্নিত মতে দাখিলী জব্দ তালিকার সাক্ষী মোঃ সানাউল্লাহ পিডাব্লিউ-২ হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন। উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে তিনি পুলিশের হাতে মোবাইল/টাকা/কার্ড দেখিতে পান। জব্দ তালিকায় তিনি স্বাক্ষর করিলেও যে কাগজে দস্তখত দিয়াছেন তাহাতে কী লেখা ছিল তাহা জানেন না। তিনি কিছু উদ্ধার করিতে দেখেন নাই। ফলে জব্দ তালিকার সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারা জব্দ তালিকা মূলে মালামাল জব্দ করার বিষয়টি সমর্থিত নয়। এজাহারকারী তাহার সাক্ষ্যে ঘটনার দিন ডাকাতরা তাহার হোটেলের একজন খরিদ্দারের নিকট থেকে ৬০০ টাকা ছিনাইয়া নেওয়ার কথা উল্লেখ করিলেও কথিত খরিদ্দার কিংবা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অন্য কোনো খরিদ্দারকে অত্র মামলার সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করা হয় নাই। চট্টগ্রাম বন্দর থানার মামলা নং-০৫ (০১)০৩, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১১. রাষ্ট্রপক্ষে আনীত সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার সময় কোনো আসামি বা ডাকাতদের কেহ চিনিতে পারেন নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের সনাক্তকরণের বা জব্দকৃত আলামত সনাক্তকরণের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার তারিখ ০৯/০৩/০৭ ইং রাত ০৮.৩০ ঘটিকায়। অত্র মামলার জব্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায় ১২/০৩/০৭ ইং তারিখ সকাল ০৭.৩০ ঘটিকায় আসামি মোতাব্বিরের নিকট থেকে আলামত জব্দ করা হয়। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে কোনো আলামত উদ্ধার হয় নাই। জব্দকৃত আলামত ডাকাতির মালামাল হিসেবে আসামির নিকট থেকে উদ্ধার করা হয়, তাহাতে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কোনো আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয় নাই। {শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নং-১০(০৩)২০০৭, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১২. অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাহারা কেহই আসামিদেরকে চিনিতে পারেন নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদেরকে সনাক্তকরণের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। রাষ্ট্রপক্ষে আনীত সাক্ষীদের সাক্ষ্য পরস্পর সমর্থিত নয়। অত্র মামলায় ডাকাতরা ডাকাতি করে কোনো জিনিসপত্র নিয়া গিয়াছে তাহাও উল্লেখ নাই। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষে আনীত সাক্ষীদের সাক্ষ্য দ্বারা এজাহার বর্ণিত ঘটনা প্রমাণিত হয় নাই মর্মে সিদ্ধান্ত লওয়া যাইতেছে। শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নং-২৩(০২)২০০৭, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১৩. অত্র মামলার এজাহারে যেহেতু কোনো আসামিরই নাম নেই তাই আসামি সনাক্তকরণ মহড়া বা TIP এই মামলায় বাধ্যতামূলক ছিল, যা করা হয়নি মর্মে সিএস এই স্বীকৃত। মামলার আসামিদের previous criminal record পর্যালোচনায় তা nil পাওয়া গেছে অর্থাৎ আসামিদের পেশাদার অপরাধী হিসেবে গণ্য করার মতো নথিতে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধৃত আসামিদের থেকে ডাকাতির কোনো মালামাল উদ্ধার হয়েছে মর্মে নথিতে পাওয়া যায়নি। পিডাব্লিউ-১-এর জবানবন্দিতে কোনো আসামির নাম পাওয়া যায়নি। পিডাব্লিউ-২-এর জবানবন্দিতে কুতুব কবির নামীয় আসামির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনার বিষয়ে জানা যায় কিন্তু এই কুতুব কবিরের বিষয়ে কোনো TIP মহড়া না হওয়া ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। পিডাব্লিউ-৩ এবং পিডাব্লিউ-৪-কে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে শোনা সাক্ষী হিসেবে পাওয়া যায়। পটিয়া থানার মামলা নং-২৮(১২)০১, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১৪. দেখা যায় দারোগা আসামিকে ধৃত করিবার পর সাক্ষীদের দেখান এবং পরে টিআই প্যারেডের মাধ্যমে পুলিশ অফিসার উপস্থিত থাকিয়া আসামি সনাক্ত করান। কাজেই উক্ত টিআই প্যারেডের মাধ্যমে সনাক্ত করা আসামিগণ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল, তাহা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নহে। এ ছাড়া এজাহারকারী বা অন্যান্য সাক্ষী তাহাদের জবানবন্দিতে আসামি চিনতে পারিয়াছেন মর্মে উল্লেখ করিলেও উক্ত আসামিদের দিয়ে টিআই প্যারেড করানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না এবং এজাহারকারী আসামিদের নাম চেনার পরও তাহাদের নাম বলার পরও এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ না থাকায় ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ এবং এজাহারকারী অসত্য ঘটনার সৃষ্টি করিয়া এই আসামিদের নামে সিএস দাখিল করিয়াছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো আলামত উদ্ধার করিতে পারেন নাই। ঘটনার পরপরই একজন আসামি ধৃত হইয়াছে দাবি করিলেও ডাকাতি হওয়া কোনো মালামাল উদ্ধার করিতে পারেন নাই। কুলাউড়া থানার মামলা নং-৩৪ (০৪)১১, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১৫. আসামিদের কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নাই। কোনো আসামির নিকট হতে ডাকাতির আলামত উদ্ধার হয়নি। কোনো আসামি টিআইপিতে সনাক্ত হয়নি। {বোয়ালখালী থানার মামলা নং-১৩(০৩)০৪, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড}
১৬. অপর দুজন সাক্ষী রাজিয়া বেগম ও হালিমা বেগম আসামি সনাক্তকরণ মহড়াতে দুজন আসামিকে হাত দিয়া দেখাইয়াছেন উল্লেখ করিলেও আসামি সাহাব উদ্দিন ধৃত হয় ২৭/০৩/০৬ ইং তারিখ। তাহাকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। টিআই প্যারেডের পূর্বে তাহাকে আদালতে হাজির করা হয়। অবশেষে ধৃত হওয়ার দীর্ঘদিন পর ৩০/০৭/০৬ ইং তারিখে আসামির সনাক্তকরণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। কাজেই টিআই প্যারেড অস্পষ্ট সনাক্তকরণ এবং আসামি ধৃত হইবার দীর্ঘদিন পর আসামি সনাক্তকরণ মহড়ার মাধ্যমে আসামিগণ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল, তাহা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় না। {বড়লেখা থানার মামলা নং-১১(০৩)০৬, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১৭. আসামি আব্দুল আজিজ, আলী হোসেন, শাহাদাত, হোসেন ও জৈন উদ্দিনকে সংবাদদাতা আগে থেকেই চিনতেন, তাদেরকে ঘটনার সময় ছিল বলে তিনি চিনতে পারেননি, এই আসামিদের আটক করার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সংবাদদাতাকে ডেকে নিয়ে তাদের দেখিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্দেশনানুসারে সনাক্তকরণ মহড়া পরিচালনাকালে তিনি এই আসামিদের সনাক্ত করেছিলেন বলে সংবাদদাতা (পিডাব্লিউ-১) তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন। তার এরূপ সাক্ষ্য মামলায় সনাক্তকরণ মহড়া অনুষ্ঠানের অসারতা এবং সাক্ষ্য হিসেবে অগ্রহণযোগ্যতার নির্দেশ করে। গোয়াইনঘাট থানার মামলা নং-০৪(১২)০৪, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১৮. ধারণা করা হয় যে, এই আসামিগণ সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হওয়ার পর থানা হাজতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে এজাহারকারীসহ অন্য সাক্ষীগণ আসামিদের দেখতে পেয়েছিলেন এবং উক্ত দেখার ভিত্তিতে ঘটনার চার মাস ও সাত মাস পর টিআই প্যারেডের মাধ্যমে এজাহারকারী ও সাক্ষীগণ কর্তৃক আসামিদের সনাক্ত করার নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। তা ছাড়া এজাহারে আসামিদের বয়স হিসেবে ১৮ হতে ৩৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। দাখিলীয় অভিযোগপত্রে আসামি রফিকের বয়স ৬৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। কী কারণে এজাহারের বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ৬৫ বছর বয়স্ক রফিককে অত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং টিআই প্যারেড পরিচালনাকালে তাকেও অত্র মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার কোনো ব্যাখ্যাও টিআই প্যারেডের ফরমে এবং অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় নাই। টিআই প্যারেডে উপরোল্লিখিত আসামিদের সনাক্তকরণ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে মামলার আসামিগণ অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে প্রমাণের চেষ্টা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে করা হয়নি। তদন্তকালে এই আসামিগণকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আসামিগণ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মর্মে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন নাই। {খুলশী থানার মামলা নং-১২ (০৯)০৬, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
১৯. নথি পর্যলোচনায় দেখা যায় যে, এ মামলায় Test Identification Parade সম্পন্নকারী বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হননি এবং Test Identification Parade অনুষ্ঠিত হয় ঘটনা সংঘটনের প্রায় সাত মাস পর। এ ছাড়া নথি পর্যলোচনায় দেখা যায় যে, এ মামলায় দুজন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু দণ্ডবিধির উক্ত দুটি ধারায় চার্জ গঠন করতে হলে কমপক্ষে পাঁচজন থাকা প্রয়োজন ছিল। {চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২০(১২)৯৫, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
২০. এজাহারে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। ডাকাতির কোনো মালামালও উদ্ধার করা হয়নি। সনাক্তকরণ মহড়ায় নেওয়া হলেও এজাহারকারী কোনো ডাকাতকেই সনাক্ত করতে পারেননি মর্মে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন। তিনজন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করলেও উক্ত জবানবন্দিসমূহ প্রসিকিউশন পক্ষ সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুযায়ী প্রমাণে আনেননি। আসামি কামরুল হাসান সে নিজেকে সম্পৃক্ত করে কোনো অপরাধ স্বীকার করেনি। নিজেকে সম্পৃক্ত করে কোনো জবানবন্দি প্রদান করেনি। কোনো আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিই একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারাও সমর্থিত নয়। উক্তরূপ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দ্বারা কোনো আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোট ৩১ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন। কোনো মহল্লায় ৩১ জন মানুষের একত্রে ডাকাতি করতে যাওয়ার দাবি অনেকটাই অবিশ্বাস্য। এজাহারের ভাষ্য মতে, ডাকাতের সংখ্যা ছিল ৩১ জন নয় বরং ১৫-১৬ জন। সকল সাক্ষী পরীক্ষার নিমিত্তে আদালতের সামনে উপস্থাপিত না হওয়ায় প্রসিকিউশন পক্ষের মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রকাশ পায়। সংঘটনের সময় এজাহারকারীর ভাই হাবিবুর রহমান মারা গেলেও কোনো সাক্ষীই আসামিদের বিরুদ্ধে বা আসামিদের সম্পৃক্ত করে কোনোরূপ জবানবন্দি দেননি। {ঘিওর থানার মামলা নং-০১(০৭)০৬, ধারা : ৩৯৬/৪১২ পেনাল কোড}
২১. বর্তমান মামলায় দেখা যায়, আসামি রঞ্জন কুমার ও দীনবন্ধু বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করলেও তারা সরাসরি অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ করেননি মর্মে দাবি করেন। কাজেই তাদের এ জবানবন্দি সাক্ষ্য আইনের ভাষ্য মতে exculpatory জবানবন্দি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দ্বারা স্বীকারোক্তি প্রদানকারী আসামি রঞ্জন ও দীনবন্ধু আনীত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।
{বীরগঞ্জ থানার মামলা নং-০২(০৪)০৬, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড}
২২. মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদ্বয় যথাক্রমে পিডাব্লিউ-৯ এবং পিডাব্লিউ-১০ হিসেবে সাক্ষ্য দিলেও আসামি মোঃ আল আমিন ও মোঃ শাহ পরানকে কেন সিএসভুক্ত করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে তাদের সাক্ষ্যে উল্লেখ করেননি। আসামি মোঃ আল আমিন ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তবে উক্ত জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। আসামিদ্বয়কে গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার এজাহারকারী বা ভিকটিম বা অপর কোনো সাক্ষী দ্বারা সনাক্তকরণের ব্যবস্থা নেননি। হাটহাজারী থানার মামলা নং-১১ (০৮)২০০৪, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
২৩. The Code of Criminal Procedure-এর ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি প্রসিকিউশন পক্ষের অন্যান্য সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত হয় নাই। উক্ত জবানবন্দিতে কোনো আসামিকে ডাকাতির ঘটনা সংঘটন করিতে সাক্ষী দেখিয়াছেন মর্মে উল্লেখ নাই। চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৫৫(৮)০৩, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
২৪. এজাহারকারীর ছেলে তথা ভিকটিম (পিডাব্লিউ-৮), জবানবন্দিতে বলেন ডাকাতদের মধ্যে জয়জিৎ ও সুজিতকে তিনি ও তার বাবা-মা চিনতে পারেন। তবে আদালতের প্রশ্নের জবাব পিডাব্লিউ-৮ উল্লেখ করেন আসামি জয়জিতের বাড়ি তার বাড়ির সাথে লাগানো এবং সুজিতও একই পাড়ার। সুজিতের মুখোশ পরা ছিল না তবে জয়জিতের ছিল। কিন্তু নিকটবর্তী প্রতিবেশী হয়ে আসামি সুজিত মুখোশবিহীন ডাকাতি করতে আসার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় । তা ছাড়া আদালতে প্রশ্নের জবাবে পিডাব্লিউ-৭ উল্লেখ করেন আসামি জয়জিৎ ও সুজিত তার প্রতিবেশী। তাদের সাথে আসামিদের পারিবারিক বিরোধ ছিল। আসামি সুজিত ইঞ্জিনিয়ার ছিল। পটিয়া থানার মামলা নং-৬(৬)৯৬, ধারা : ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
২৫. মামলার ডাকাত সনাক্তকরণ বিষয়ে কোনো টিআই প্যারেড না হওয়া, বাদী/এজাহারকারীর ডকে উপস্থিত কোনো আসামিকে ডাকাত হিসেবে শনাক্ত করতে না পারা, আইও সাক্ষীর আদালতে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান না করা, ধৃত ডাকাতদের সাথে সাথে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ না করে স্থানীয় ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কোনো চাক্ষুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য না থাকা, পক্ষদের মধ্যে সাক্ষ্যে স্বীকৃত রাজনৈতিক পূর্ববিরোধের অস্তিত্ব থাকা ইত্যাদি বিষয়গুলো এজাহারে বর্ণিত ডাকাতির ঘটনা সংঘটন বিষয়ে আসামিদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ সৃষ্টি করে। {সাতকানিয়া থানার মামলা নং-২০(০২)০৫, ধারা: ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড}
২৬. এজাহারে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয় নাই । সাক্ষীগণ কেহই আসামিদের নাম বলেননি। জব্দকৃত মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিশ আসামি শেফালীকে ধৃত করে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উক্ত জবানবন্দিতে শেফালী বলেছে, জব্দকৃত মোবাইলটি তার স্বামী রওশন আলী তাকে দিয়েছে এবং সে অনুমানের ভিত্তিতে বলেছে যে তার স্বামী উক্ত মোবাইল ডাকাতি করে থাকতে পারে। তার এই অনুমান ব্যতীত তার স্বামী নালিশি ডাকাতিতে সম্পৃক্ত ছিল মর্মে অন্য কোনো সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। শুধু উপরোক্ত অনুমানের ভিত্তিতে আসামি রওশন আলীকে দোষী সাব্যস্ত করা নিরাপদ নহে। দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-০৪(১২)২০১০, ধারা : ৩৯৫/৪১২ পেনাল কোড}
৬. খালাসপ্রাপ্ত মামলাসমূহের বাদীগণের বক্তব্য-
২০১৬ ও ২০১৭ সালের প্রদত্ত ডাকাতি মামলার রায়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া ১০ বছরের অধিক সময়কাল ধরে হয়েছে এমন ১১টি খালাসপ্রাপ্ত মামলার বাদীর সাথে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়। এর মধ্যে-
ঢাকা মেট্রো এলাকার তিনটি মামলার বাদীদের তাদের মামলায় দেওয়া ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানা যায় যে, তারা অনেক আগেই তাদের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন।
ধানমণ্ডি থানার মামলা নং-৯০(১২)১৯৯৭, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড। বাদী-ইয়াকুব আব্দুল্লাহ হারুন।
উত্তরা মডেল থানার মামলা নং-৪৭(০৯)২০০৪, ধারা-৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড। বাদী-জনাব মোঃ শরীফ।
হাজারীবাগ থানার মামলা নং-১০(০৩)১৯৯৯, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড। বাদী-জনাব এম মান্নান মজুমদার।
চারটি মামলার ক্ষেত্রে বাদী জানান যে, মামলার বিচারকার্য দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় মামলা সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য মনে করতে পারেননি বিধায় তারা ও অন্য সাক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে সঠিকভাবে সাক্ষ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হন।
দুটি মামলার বাদী জানান যে, ডাকাতির সময় তারা আসামিদের দেখতে পেয়েছিলেন কিন্তু তাদের তদন্তকালীন সময়ে কখনো সনাক্তকরণ মহড়ায় ডাকা হয়নি।
একটি মামলার বাদী বলেন যে, তিনি সনাক্তকরণ মহড়ায় অংশগ্রহণের পূর্বে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে দেখেছেন।
একটি মামলার বাদী বলেন যে, তিনি বিজ্ঞ আদালতে সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ আসামিসহ সঠিকভাবে সনাক্ত করেছেন এবং সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
উপরোক্ত বিষয় পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাদী ও