31/08/2026
চেকের মামলায় সাফাই সাক্ষ্য প্রদানের বিশেষ দিকগুলো কি???
চেক ডিজঅনারের মামলায় (১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারা) আসামি পক্ষের নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো সাফাই সাক্ষী (Defense Witness)। যেহেতু এই ধরনের মামলায় ১৮৮১ সালের আইনের ১৩৯ ধারা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হয় যে আসামি তার কোনো বৈধ ঋণ বা দায় পরিশোধের জন্যই চেকটি দিয়েছেন (Presumption), তাই আসামির ওপর প্রধান দায়িত্ব থাকে সেই আইনি ধারণাকে খণ্ডন করা (Rebutting the presumption)।
সাফাই সাক্ষ্য প্রদানের সময় প্রধানত নিচের বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে হয়:
১. বৈধ দেনা বা ঋণের অনুপস্থিতি (Absence of Legally Enforceable Debt)
কোনো লেনদেন হয়নি: চেক প্রদানকারীর সাথে নালিশকারী বা চেক গ্রহীতার বাস্তবে কোনো ব্যবসা, লেনদেন বা আর্থিক চুক্তি ছিল না—তা স্পষ্ট করা।
দাবির অযৌক্তিকতা: চেক গ্রহীতার উক্ত পরিমাণ টাকা ধার বা বিনিয়োগ করার মতো আর্থিক সক্ষমতা (Financial Capacity) ছিল কি না, সাফাই সাক্ষীর মাধ্যমে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা ও প্রমাণ স্থাপন করা।
২. চেকের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রমাণ (Purpose of Giving the Check)
জামানত হিসেবে প্রদান (Security Check): চেকটি মূল লেনদেনের অংশ হিসেবে নয়, বরং কোনো চুক্তি, সমিতি বা অন্য কোনো সাধারণ নিরাপত্তার (Security) খাতিরে সই করে রাখা হয়েছিল—তা ডকুমেন্টস বা সাক্ষীর মাধ্যমে তুলে ধরা।
টাকা পরিশোধের পর চেক না ফেরত দেওয়া: মূল ঋণের টাকা সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ করা হলেও নালিশকারী চেকটি ফেরত না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করেছেন—এ সংক্রান্ত ক্যাশ মেমো, ব্যাংক ট্রান্সফার রেকর্ড বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র জমা দেওয়া।
৩. চেক চুরি, হারানো বা প্রতারণার প্রমাণ (Stolen, Lost, or Fraudulent Check)
চেক হারানো/চুরি: চেকটি আসামি নিজে দেননি, বরং তা চুরি বা হারিয়ে গিয়েছিল। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে করা জিডি (GD), থানায় অভিযোগের কপি বা ব্যাংকে স্টপ পেমেন্ট (Stop Payment) ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছিল কি না—তার দাপ্তরিক প্রমাণ সাফাই সাক্ষীতে উপস্থাপন করা।
প্রতারণা: বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চেক হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা সাক্ষীদের বয়ানে নিশ্চিত করা।
৪. লিগ্যাল নোটিশ ও আইনি প্রক্রিয়ার ত্রুটি (Legal Notice and Procedural Defects)
নোটিশ না পাওয়া: ১৩৮ ধারার নোটিশ সঠিকভাবে জারি বা সমন জারি করা হয়নি বা নোটিশ গ্রহণে আসামির কোনো স্বাক্ষর নেই—তা দাবি করলে দাপ্তরিক কাগজপত্র দাখিল করা।
সময়সীমা (Limitation): ব্যাংক কর্তৃক চেক প্রত্যাখ্যান (Dishonour Slips), লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর তারিখ এবং মামলা দায়েরের তারিখের মধ্যে আইনের নির্ধারিত সময়সীমা ভঙ্গ হয়েছে কি না—তা তুলে ধরা।
৫. লেখার ভিন্নতা ও আংশিক পূরণের বিষয় (Material Alteration)
চেক পূরণ: চেকে আসামির কেবল স্বাক্ষর রয়েছে কিন্তু অংক, তারিখ বা নাম অন্য কারো হাতের লেখায় লেখা—এই মর্মে সাফাই সাক্ষীর বয়ান দেওয়া এবং প্রয়োজনে হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট (Handwriting Expert) দিয়ে তা পরীক্ষার আবেদন নিশ্চিত করা।
অংকের তারতম্য: কথায় ও অঙ্কে টাকার পরিমাণে মিল না থাকা বা ঘষামাজা (Overwriting) থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনে বিচারিক টিপস
কাগজপত্রের উপস্থাপন: কেবল মুখে সত্য কথা বললেই চলবে না; সাফাই সাক্ষীর বক্তব্যে যেসব নথির উল্লেখ থাকবে (যেমন: জিডি কপি, ব্যাংক বিবরণী, হিসাবের খাতাপত্র, পূর্বের রসিদ), তা আদালতের নথিতে যথাযথভাবে প্রদর্শনী (Exhibit) হিসেবে চিহ্নিত করাতে হবে।
মূল আসামির জবানবন্দি: আসামি নিজে জবানবন্দি (আদালতে লিখিত বা মৌখিক সাক্ষ্য) দেওয়ার সময় ঘটনাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রমানুসারে এবং সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন।
নোট: এটি সাধারণ আইনি ধারণা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরাসরি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
“আইন সহজে জানুন, সচেতন থাকুন।”
#চেকের মামলায় #সাফাই #সাক্ষ্য প্রদানের ৳বিশেষ #দিকগুলো কি???