Fahim's Legal Solution & Consultancy

Fahim's Legal Solution & Consultancy Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Fahim's Legal Solution & Consultancy, Narail, Khulna, Narail.

03/04/2026

নাবালক সন্তানের সম্পত্তি বা জমি বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন (বিশেষ করে ‘গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০’) অনুযায়ী কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পিতার নিজের কেনা সম্পত্তি এবং সন্তানের নামে থাকা সম্পত্তির আইনি অধিকার এক নয়।
​আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য আইনি জটিলতাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
​১. আদালতের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা
​আইন অনুযায়ী, পিতা নাবালক সন্তানের প্রাকৃতিক অভিভাবক হলেও সন্তানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি (জমি) বিক্রয়, দান বা হস্তান্তরের জন্য জেলা জজ আদালতের (District Judge Court) অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আদালত যদি মনে করে যে এই বিক্রয় নাবালকের জীবনধারণ বা শিক্ষার প্রয়োজনে একান্ত জরুরি, তবেই অনুমতি প্রদান করে।
​২. বিক্রয়টি ‘বাতিলযোগ্য’ (Voidable) হতে পারে
​আদালতের অনুমতি ছাড়া যদি পিতা সন্তানের জমি বিক্রি করে দেন, তবে সেই বিক্রয় সরাসরি বাতিল না হলেও তা ‘বাতিলযোগ্য’ (Voidable)। অর্থাৎ:
​সন্তান সাবালক হওয়ার পর (১৮ বছর বয়স হলে) ৩ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা করে ওই বিক্রয় বা দলিল বাতিল করতে পারেন।
​যদি প্রমাণিত হয় যে জমিটি বিক্রির সময় নাবালকের কোনো কল্যাণ হয়নি, তবে আদালত ওই বিক্রয় বাতিল করে দিতে পারে।
​৩. ক্রেতার জন্য ঝুঁকি
​যিনি এই জমিটি কিনছেন, তিনি বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ:
​পরবর্তীতে মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ক্রেতার টাকা এবং জমি—উভয়ই হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
​জমিটি নামজারি (Mutation) করতে গেলে বা পরবর্তীতে বিক্রি করতে গেলে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারেন।
​৪. মুসলিম আইনের প্রয়োগ
​মুসলিম আইন অনুযায়ী, পিতা বা পিতামহ স্বাভাবিক অভিভাবক হলেও আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা সীমিত। সাধারণত নাবালকের ভরণপোষণ বা জরুরি ঋণের দায় মেটানোর মতো বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া এই বিক্রয় আইনি ভিত্তি পায় না।
​করণীয় বা সমাধান:
​যদি বিক্রি না হয়ে থাকে: অবশ্যই আগে জেলা জজ আদালত থেকে ‘গার্ডিয়ানশিপ সার্টিফিকেট’ এবং সম্পত্তি বিক্রির অনুমতি নিতে হবে।
​যদি বিক্রি হয়ে গিয়ে থাকে: ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে সন্তানের সাবালক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় এবং সাবালক হওয়ার পর তার কাছ থেকে একটি ‘নির্দায়পত্র’ বা ‘ভুল সংশোধন দলিল’ (যদি প্রয়োজন হয়) করিয়ে নেওয়া নিরাপদ। তবে সবচেয়ে ভালো হয় কোনো অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে বর্তমান দলিলের বৈধতা যাচাই করে নেওয়া।

জাস্টিস অফ পিস হিসেবে ঢাকার মাননীয় চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব Md Mustafizur Rahman মহোদয়ের এই স্বপ্রণোদিত আদেশ অ...
25/03/2026

জাস্টিস অফ পিস হিসেবে ঢাকার মাননীয় চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব Md Mustafizur Rahman মহোদয়ের এই স্বপ্রণোদিত আদেশ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

 #মুসলিম_উত্তরাধিকার_আইন এর বিধানমতে সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম:-  #ফারায়েজ মুসলিম আইনে উত্তারাধিকার সম্পত্তি বন্টনের জন্য সু...
22/02/2026

#মুসলিম_উত্তরাধিকার_আইন এর বিধানমতে সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম:- #ফারায়েজ

মুসলিম আইনে উত্তারাধিকার সম্পত্তি বন্টনের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের উপর প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম আইনে মোতাবেক সম্পত্তি বিলি বা বন্টনের নিয়মে ফারায়েজ বলে। মুসলিম স্কুল অব ল এর বিভিন্ন শাখায় সম্পত্তি বন্টনের আলাদা নিয়ম প্রচলিত আছে। যেহেতু আমাদের দেশে সুন্নি মুসলমানদের অনুসারী বেশী কাজেই, নিম্নে হানাফী আইন মোতাবেক উত্তরাধিকার উল্লেখ করা হল-

হানাফি আইনমতে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন এর খরচ পরিচালনা, ঋণ পরিশোধ, উইল বা অছিয়ত করে থাকলে সে ব্যক্তিকে সম্পত্তি প্রদানের পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে, তা জীবিত উত্তরাধিকারদের মধ্যে নিম্নের পদ্ধতি অনুযায়ী বণ্টিত হবে।

হানাফি আইনে প্রাথমিক উত্তরাধিকারী মোট- ৬ জন, যারা কখনো সম্পত্তির ওয়ারিশ প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয় না।

যথা-
(১) পিতা

(২) মাতা

(৩) স্বামী

(৪) স্ত্রী

(৫) পুত্র

(৬) কন্যা।

বর্নিত এই ৬ জন উত্তরাধিকারীর অংশ এবং অন্যন্যদের অংশ নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে বন্টিত হবে-

পিতা: -
(মৃত ব্যক্তির সম্পদের উপর তাঁর পিতা ৩ (তিন) প্রকারে সম্পদঃ

১। মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র কিংবা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যত নিচেই হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত ব্যক্তির পিতা পাবেন সম্পদের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)।

২। মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র, পুত্রের পুত্র কিংবা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যত নিচেই হোক যদি না থাকে, কেবল কন্যা থাকে; তবে মৃত ব্যক্তির পিতা মোট সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন এবং কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন।

৩। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে, তবে মৃত ব্যক্তির বাকী অংশীদারদের দেয়ার পর অবশিষ্ট সকল সম্পত্তি পিতা পাবেন।

মাতা: -
(মৃত ব্যক্তির মাতা ৩ (তিন) ভাবে সম্পদ পাবেন):

১। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে; তবে মাতা মোট সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন।

২। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে; তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পাবেন।

পাঁচ লক্ষ-(৫,০০ ০০০/-) টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্র...
17/02/2026

পাঁচ লক্ষ-(৫,০০ ০০০/-) টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026


 #জিআর (G.R.) মামলা এবং  #সিআর (C.R.) মামলার মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়া হলো: #জিআর_মামলা: পুলি...
11/02/2026

#জিআর (G.R.) মামলা এবং #সিআর (C.R.) মামলার মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়া হলো:

#জিআর_মামলা: পুলিশ স্টেশনে আমলযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে রুজু হয়। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই তদন্ত ও আসামী গ্রেফতার করতে পারে। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষ মামলা পরিচালনা করে। থানার জেনারেল রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয়।

#সিআর_মামলা: সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ হিসেবে রুজু হয় এবং এটি আমলযোগ্য ও আমল অযোগ্য উভয় ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে হতে পারে। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তদন্ত বা আসামী গ্রেফতার করতে পারে না। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০/২০০ ধারা অনুযায়ী হয় এবং অভিযোগকারী নিজস্ব আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করেন। আদালতের কমপ্লেইন্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয়।


#আইন



22/01/2026

⚖️ চেকের মামলার বিস্তারিত

(Cheque Dishonour Case: শুরু থেকে শেষ)

🔹 ১. মামলা শুরুর ধাপ
💳 চেকের মামলা শুরু হয় চেক ডিজঅনার হওয়ার মাধ্যমে।

🔹 ২. লিগ্যাল নোটিশ
📩 চেক ডিজঅনার হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতার বরাবর আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠাতে হবে।

🔹 ৩. টাকা পরিশোধের সময়সীমা
⏳ নোটিশ প্রাপ্তির পরও যদি ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতা টাকা পরিশোধ না করেন, তাহলে মামলা করার অধিকার জন্ম নেয়।

🔹 ৪. মামলা দায়ের
📝 নোটিশের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

🏛️ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম

🔹 ৫. অভিযোগ আমলে গ্রহণ
⚖️ ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করবেন।

🔹 ৬. জামিন
👨‍⚖️ সমন পেয়ে আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে পারবেন।
✅ চেকের মামলা জামিনযোগ্য।

🔹 ৭. মামলা বদলি
📂 জামিন গ্রহণের পর ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে বদলি করবেন।

⚖️ দায়রা আদালতের বিচার কার্যক্রম

🔹 ৮. বিচারক
👨‍⚖️ মামলাটি বিচার করবেন যুগ্ম দায়রা জজ।

🔹 ৯. চার্জ শুনানি
📌 নির্ধারিত তারিখে আদালত সন্তুষ্ট হলে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করবেন।

🔹 ১০. সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য
🗓️ চার্জ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হবে।

🧾 বাদী ও আসামির সাক্ষ্য

🔹 ১১. বাদীর সাক্ষ্য
🧑‍💼 বাদী সাক্ষ্য প্রদান করবেন।
📄 সাক্ষ্যের সময় আদালতে জমা দিতে হবে
✔️ মূল চেক
✔️ চেক ডিজঅনার স্লিপ
✔️ লিগ্যাল নোটিশ
✔️ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র

🔹 ১২. জেরা
❓ আসামি পক্ষের আইনজীবী বাদীকে জেরা করতে পারবেন।

🔹 ১৩. ৩৪২ ধারার জিজ্ঞাসাবাদ
⚖️ বাদীপক্ষের সাক্ষ্য শেষে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

🔹 ১৪. সাফাই সাক্ষ্য
🗣️ আসামি চাইলে সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবেন।
🔍 এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আসামিপক্ষের সাক্ষীকে জেরা করবেন।

🧑‍⚖️ রায় ও শাস্তি

🔹 ১৫. যুক্তিতর্ক
📢 সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

🔹 ১৬. রায় ঘোষণা
⚖️ যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করবেন।

🔹 ১৭. সম্ভাব্য শাস্তি
📌 আদালত দিতে পারেন
⛓️ অনধিক ১ বছর কারাদণ্ড, অথবা
💰 চেকের অর্থের সর্বোচ্চ ৩ গুণ জরিমানা, অথবা
⚖️ উভয় দণ্ড

12/01/2026

‘জবর দখল’ বনাম ‘বিরুদ্ধ দখল’: ভূমি আইনের নতুন সমীকরণে মালিকানা কার?
বাংলাদেশে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। সাধারণ মানুষের কাছে অন্যের জমি দখলে রাখা মানেই জবর দখল। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে সব দখলই ‘জবর দখল’ নয়। এখানে ‘জবর দখল’ (Forceful Possession) এবং ‘বিরুদ্ধ দখল’ (Adverse Possession)-এর মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ পাস হওয়ার পর এই দুই ধরণের দখলের আইনি বৈধতা এবং মালিকানা দাবি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের আলোচনায় আমরা এই দুই ধরণের দখলের আইনি ব্যাখ্যা, তামাদি আইনের ২৮ ধারার প্রভাব এবং বর্তমান আইনের বাস্তবতা তুলে ধরব।
১. জবর দখল (Forceful Possession) কী?
জবর দখল হলো গায়ের জোরে, ভীতি প্রদর্শন করে বা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলে নেওয়া। এটি সম্পূর্ণরূপে বেআইনি এবং একটি ফৌজদারি অপরাধ। এখানে দখলদারের কোনো আইনি ভিত্তি থাকে না, কেবল পেশিশক্তিই প্রধান।
উদাহরণ:
রহিম সাহেবের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি করিম সাহেব একদিন তার দলবল নিয়ে এসে জোরপূর্বক ওই জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে ফেলেন এবং রহিম সাহেবকে জমিতে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এটি হলো পরিষ্কার ‘জবর দখল’।
২. বিরুদ্ধ দখল (Adverse Possession) কী?
বিরুদ্ধ দখল বা অ্যাডভার্স পজেশন হলো এমন একটি আইনি নীতি, যেখানে একজন ব্যক্তি প্রকৃত মালিকের বিনা অনুমতিতে, সবার অগোচরে নয় বরং প্রকাশ্যে, প্রকৃত মালিকের স্বত্বের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে দীর্ঘকাল (সাধারণত ১২ বছর) জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এই দখলে কোনো জোর-জবরদস্তি বা ভীতি প্রদর্শন থাকে না, থাকে দীর্ঘস্থায়ী দখল।
উদাহরণ:
সাত্তার সাহেব চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন, গ্রামে তার কিছু কৃষি জমি আছে। গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া গত ১৫ বছর ধরে সাত্তার সাহেবের বিনা অনুমতিতেই ওই জমি চাষাবাদ করে আসছেন। সাত্তার সাহেব সব জানেন এবং দেখেন, কিন্তু গত ১৫ বছরে তিনি জব্বার মিয়াকে বাধা দেননি বা উচ্ছেদের জন্য আদালতে কোনো মামলাও করেননি। জব্বার মিয়ার এই দখলটি হলো ‘বিরুদ্ধ দখল’।
কোন দখলটি আইনগতভাবে সিদ্ধ?
আইনের দৃষ্টিতে ‘জবর দখল’ কখনোই বৈধ নয়, এটি শুরু থেকেই অবৈধ (Void ab initio)।
অন্যদিকে, ‘বিরুদ্ধ দখল’ একটি স্বীকৃত আইনি নীতি (ডকট্রিন)। দেওয়ানি আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিরুদ্ধ দখলকারীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর উচ্ছেদ করা যায় না এবং তিনি মালিকানা দাবি করতে পারেন। অর্থাৎ, বিরুদ্ধ দখল আইনগতভাবে সিদ্ধ একটি প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
১২ বছরে মালিকানা লাভের আইনি ভিত্তি (তামাদি আইনের ২৮ ধারা)
তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908)-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ১২ বছর বা তার বেশি সময় ধরে জমি ভোগদখল করেন এবং এই সময়ের মধ্যে প্রকৃত মালিক তার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা না করেন, তবে ওই জমির ওপর প্রকৃত মালিকের স্বত্ব বা মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায় (Extinguishment of right)। একেই সহজ ভাষায় ‘বিরুদ্ধ দখলে মালিকানা’ বলা হয়।
অর্থাৎ, ১২ বছর চুপ থাকার কারণে মূল মালিক তার অধিকার হারান এবং দখলদার (বিরুদ্ধ দখলকারী) ভূমির স্বত্ব দাবি করার অধিকার অর্জন করেন।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর প্রভাব : সম্প্রতি প্রণীত ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এ ভূমি দস্যুতা এবং জবর দখলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১. জবর দখলের শাস্তি: এই আইনের আওতায় অন্যের জমি জোর করে দখল করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এর জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, জবর দখল এখন জামিন অযোগ্য অপরাধ হতে পারে এবং এর প্রতিকার দ্রুত পাওয়া সম্ভব।
২. বিরুদ্ধ দখলের অবস্থান: আপনার উত্থাপিত পয়েন্টটি অত্যন্ত যৌক্তিক। নতুন আইনে ‘অবৈধ দখল’ বা জবরদস্তিকে অপরাধ বলা হলেও, ‘বিরুদ্ধ দখল’ (Adverse Possession) যেহেতু তামাদি আইন দ্বারা স্বীকৃত একটি দেওয়ানি অধিকার, তাই এটি সরাসরি ‘ভূমি অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না—তা নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে।
বিরুদ্ধ দখল যেহেতু গায়ের জোরে নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীরবতার সুযোগে সৃষ্ট অধিকার, তাই অনেক আইনজ্ঞ মনে করেন—যতদিন তামাদি আইনের ২৮ ধারা বলবৎ আছে, ততদিন সঠিক শর্ত মেনে বিরুদ্ধ দখলে থাকা ব্যক্তিকে ‘ভূমি অপরাধী’ বা ‘জবর দখলকারী’ বলা যাবে না। তবে নতুন আইনের মূল স্পিরিট হলো—যথাযথ দলিল দস্তাবেজ ছাড়া কেবল দখলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করার পথ সংকুচিত করা।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, জবর দখল হলো দণ্ডনীয় অপরাধ, যার স্থান কারাগারে। কিন্তু বিরুদ্ধ দখল হলো মালিকের অবহেলার ফল, যা দখলদারকে সুরক্ষা দেয়। তবে বর্তমানে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন এবং উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, কেবল মৌখিক বা দখলসূত্রে মালিকানা দাবির চেয়ে দালিলিক প্রমাণের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
তাই জমির মালিকদের উচিত ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দখল উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া। অন্যথায়, তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিরুদ্ধ দখলের আইনি বৈধতা তাদের মালিকানা হারানোর কারণ হতে পারে।
#জবরদখল #বিরুদ্ধদখল #ভূমি_আইন #বাংলাদেশ_আইন #তামাদি_আইন_২৮ধারা #ভূমির_মালিকানা #আইনি_পরামর্শ।
সংগৃহীত

Send a message to learn more

12/01/2026

দেওয়ানী মামলার বিভিন্ন ধাপ সমূহ --

মামলা দায়ের
দেওয়ানী মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয় এখতিয়ার ভুক্ত আদালতের সেরেস্তাদারের নিকটে আরজি দাখিলের মাধ্যমে । আরজীর সাথে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এর সাথে ডাক টিকেটযুক্ত সমন-নোটিশ ও প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দাখিল করতে হবে। যথাযথ ভাবে মামলা ফাইলিং হলে সেরেস্তাদার মামলার ফাইলিং রেজিষ্ট্রারে মামলার পক্ষগণের নাম, মামলার ধরন , মামলার নম্বর ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করবে।

সমন ইস্যু
মামলা যথাযথ ভাবে দায়ের করা হলে আদালত সকল বিবাদীর উপর সমন জারী করবে। আদালত থেকে সকল বিবাদীর উপর সমন জারী করার উদেশ্য হলো তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা, নিদিষ্ট তারিখে আদালতে হাজির হওয়া এবং তার স্বপক্ষে জবাব দাখিল করার জন্য নিদ্দেশ প্রদান করে থাকে । আদালত থেকে সমন জারীকারক নিজে সমনের একটি কপি বিবাদীকে প্রদান করবেন এবং একটি সমনের বিপরীত পৃষ্টায় যাহার উপর সমনজারী হয়েছে তাহার স্বাক্ষর সম্ভলিত একটি কপি আদালতে দাখিল করবেন । এছাড়াও আদালত বিভিন্ন ভাবে বিবাদীর উপর সমন জারী করতে পারে।

লিখিত জবাব দাখিল
বিবাদীর উপর সমন যথাযথ ভাবে জারী করা হলে সমনে উল্লেখিত দিনে হাজির হয়ে বিবাদী তার স্বপক্ষে জবাব দাখিল দাখিল করবেন। ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির, আদেশ -৮, বিধি-১ অনুযায়ী বিবাদীর প্রতি যথারীতি সমন জারী অথবা মামলার ১ম শুনানীর তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে বিবাদীকে লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে । তা না হলে মামলাটি একতরফা শুনানীর জন্য নির্ধারিত হবে। বিবাদী যদি যথা সময়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে না পারেন তাহলে বিবাদী তার লিখিত জবাব দাখিল করার জন্য আদালতে সময়ের আবেদন করতে পারবে। বিবাদী যদি লিখিত জবাবে তার দাবীর সমর্থনে কোন দলিলাদির উপর নির্ভর করে, তবে তা ফিরিস্তি সহকারে ঐ দলিলাদি লিখিত জবাবের সাথে আদালতে দাখিল করবেন।

একতরফা শুনানী
কোন বিবাদী যদি নির্ধারিত সময়ের ভিতরে লিখিত জবাব দিতে না পারেন বা আদালতে উপস্থিত না হন তাহলে আদালত মামলা একতরফা শুনানী করবেন। পরবর্তীতে আদালত একতরফা সাক্ষ্য গ্রহন করে বিরোধীয় বিষয়ে বিবাদীগনের দাবী নেই মর্মে ধরে নিয়ে মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি করবেন । ।যদি বিবাদী জবাব দাখিল করেন তবে আদালত মামলাটিকে নিম্নে বর্নিত ধাপে অগ্রসর হবেন।

বিকল্পভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR):
বিবাদী তার লিখিত জবাব দাখিল এর পর যদি উভয় পক্ষ আদালতে উপস্থিত থাকে তাহলে আদালত মামালার শুনানী মুলতবী করে ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক বা ৮৯খ ধারা অনুযায়ী উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের বাহিরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবেন।

ইস্যু বা বিচার্য বিষয় নির্ধারন
উভয়পক্ষ যদি আদালতের বাহিরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে ব্যার্থ হন তাহলে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন। ইস্যু গঠন বা বির্চার্য বিষয় হলো কোন বিষয়ের উপর মোকদ্দমাটি বিচার হবে তা নিধারর্ণ করা। ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-১৪, বিধি-১ অনুযায়ী মামলার প্রথম শুনানীর তারিখ হতে বা জবাব দাখিলের মধ্যে যেটি পরে সেদিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ইস্যু গঠন করতে হবে।

৩০ ধারায় পদক্ষেপ
আদালত যে কোন সময় স্বতঃ প্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোন এক পক্ষের আবেদনক্রমে- প্রশ্নাবলী সরবরাহ ও জবাব দান , দলিল ও তথ্য গ্রহন এবং সাক্ষ্য হিসেবে দাখিলযোগ্য দলিল বা অন্য কোন বস্তু আবিষ্কার, পরিদর্শন,দাখিল বা ফেরৎ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন । এছাড়া যার স্বাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বা উপরোক্ত দলিলাদি উপস্থাপনের জন্য যার উপস্থিতি প্রয়োজন তার প্রতি আদালত সমন ইস্যু করতে পারেন এবং কোন ঘটনা হলফনামাযোগে প্রমাণের আদেশ দিতে পারেন।

চুড়ান্ত শুনানীর জন্য তারিখ নির্ধারণ ( এস ডি)
৩০ ধারার পদক্ষেপ এর পর আদালত মামলার চুড়ান্ত শুনানীর জন্য তারিখ নির্ধারণ করবেন। দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর আদেশ -১৪ বিধি ৮ অনুযায়ী ইস্যু গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য করতে হয়। পক্ষদ্বয়কে তাদের নিজ নিজ পক্ষে মামলা প্রমানের জন্য সাক্ষীর তালিকা না দিয়ে থাকলে তাহলে আদালত সাক্ষীদের তালিকা দিতে বলবেন।

চুড়ান্ত শুনানী (PH)
এই পর্যায়ে আদালত উভয় পক্ষের সাক্ষীগনদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করবেন। একপক্ষের সাক্ষীকে অপর পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী জেরা করবেন এবং আদালত তাহা লিপিবদ্ধ করবেন । কোন প্রকারের দালিলিক সাক্ষ্য থাকলে পক্ষগন তাহা আদালতে উপস্থাপন করবেন । প্রথম যেদিন চুড়ান্ত শুনানী শুরু হবে সেটি হচ্ছে Peremptory Hearing বা PH

অধিকতর শুনানী বা (FPH)
দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর আদেশ -১৮ বিধি ১৯ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানীর তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার শুনানী শেষ করতে হয়। আদালত যদি প্রথম দিনে মামলার সকল সাক্ষীর জবানবন্দী -জেরা ও দালিলিক সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করতে না পারলে পরবর্তীতে আদালত অধিকতর শুনানীর জন্য তারিখদিবেন এটাকে FPH বলে হয়ে থাকে।

যুক্তিতর্ক
মামলার শুনানী,উভয় পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহন, জেরা করার পর বাদী-বিবাদীর নিযুক্ত আইনজীবী তাদের পক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। মোকদ্দমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয় সংক্ষিপ্ত আকারে আদালতের সামনে উপস্থাপন করবেন । যুক্তিতর্ক অবশ্যাই স্পষ্ট,আইনসম্মত হতে হবে । যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য তারিখ নির্ধারণ করবেন।

রায় ঘোষণ
সাধারণত যুক্তিতর্ক শুনানির পর আদালত একটি নিদিষ্ট তারিখে মামলার রায় ঘোষণা করবেন। দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর আদেশ -২০ বিধি ১ অনুযায়ী মামলা শুনানী সমাপ্ত হওয়ার পরে অনধিক ৭ দিনের মধ্যে আদালত রায় ঘোষণার কথা বলা হয়েছে । রায়ের মধ্যে পক্ষগনের বক্তব্যের সংকিপ্ত বিষয়বস্তু, বাদী -বিবাদীর সাক্ষীর জেরা- জবানবন্দীর বিশ্লেষণ ,বিচার্য বিষয়, সিন্ধান্ত সম্পর্কে যুক্তি সঙ্গত আলোচনা,সর্বশেষ আদেশ ইত্যাদি ধারাবাহিক ভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।

ডিক্রি প্রদান:
দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর আদেশ -২০ বিধি- ৫(a) অনুযায়ী আদালত রায় ঘোষণার পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে ডিক্রি প্রস্তুত করবেন।

ডিক্রি জারী
দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর আদেশ -২১ অনুযায়ী ডিক্রি জারী জন্য আদালতে দরখাস্ত করতে পারেন । মোকদ্দমায় আদালত ডিক্রি প্রদান করলে নিধার্রিত সময়ের মধ্যে ডিক্রি কার্যকর করার জন্য নিদের্শনা থাকলে তদানুসারে বিবাদী ডিক্রি কার্যকর না করে থাকলে বাদী ডিক্রি জারীর জন্য আদালতে দরখাস্ত করতে পারেন ।

রিভিউ
দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর ধারা ১১৪ অনুযায়ী মোকদ্দমার বিচারকালে গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সম্বন্ধে পক্ষগন আদালতকে অবগত করতে ব্যর্থ হলে বা উক্ত দলিল সমূহ মামলার নথীতে থাকা স্বত্তেও ভুলবশত বিচারে প্রমাণ না হলে বা অন্যকোন সঙ্গত কারণে ন্যায় বিচার ব্যাহত হলে সংক্ষুদ্ধ পক্ষ রায়টি রিভিউ করার জন্য রায় প্রচারকারী আদালতে আবেদন করতে পারেন।

রিভিশন
নিম্ন আদালতের রায়ে মামলার যেপক্ষ সংক্ষুদ্ধ হবে বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই পক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী রিভিশন করতে পারেন। রিভিশন আদালত শুনানী অন্তে নিম্ন আদালতের রায় বহাল বা বাতিল করতে পারেন।

আপীল
নিম্ন আদালতের রায়ে মামলার যেপক্ষ সংক্ষুদ্ধ হবে বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই পক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধেউচ্চ আদালতে আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়ানী কার্যবিধি- ১৯০৮ এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী আপীল করতে পারেন। আপীল আদালত শুনানী অন্তে নিম্ন আদালতের রায় বহাল বা বাতিল করতে পারেন । এগুলো হলো দেওয়ানী মামলার ধাপ স্তর সমূহ । এছাড়াও দেওয়ানী আদালতে মামলা চলাকালীন সময়ে পক্ষগনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রকারের দরখাস্তর আবেদন করতে পারেন।

Send a message to learn more

24/12/2025

জমির দলিলে ব্যবহৃত গুরুতবপূর্ণ শব্দ জেনে নিন । এখানে এমন কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ রয়েছে যার পূর্ন রূপ/অর্থ জানাটা খুব জরুরি!
১। মৌজা = গ্রাম।
২। জে.এল নং = মৌজা নং/গ্রাম নম্বর।
৩। ফর্দ = দলিলের পাতা।
৪। খং = খতিয়ান।
৫। সাবেক = আগের/পূর্বের বুজায়
৬। হাল = বর্তমান।
৭। বং = বাহক, অর্থাৎ যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লিখে।
৮। নিং = নিরক্ষর।
৯। গং = আরো অংশীদার আছে।
১০। সাং = সাকিন/গ্রাম।
১১। তঞ্চকতা = প্রতারণা।
১২। সনাক্তকারী = যিনি বিক্রেতাকে চিনে।
১৩। এজমালী = যৌথ।
১৪। মুসাবিদা = দলিল লেখক।
১৫। পর্চা = বুঝারতের সময় প্রাথমিক খতিয়ানের যে নকল দেওয়া হয় তাকে পর্চা বলে।
১৬। বাস্তু = বসত ভিটা।
১৭। বাটোয়ারা = বন্টন।
১৮। বায়া = বিক্রেতা।
১৯। মং = মবলগ/মোট
২০। মবলক = মোট।
২১। এওয়াজ = সমপরিমাণ কোন কিছু বদলে সমপরিমাণ কোন কিছু বদল করাকে এওয়াজ বলে।
২২। হিস্যা = অংশ।
২৩। একুনে = যোগফল।
২৪। জরিপ = পরিমাণ।
২৫। এজমালী = কোনো ভূমি বা জোতের একাধিক শরীক থাকিলে তাহাকে এজমালী সম্পত্তি বা এজমালী জোত বলে।
২৬। চৌহদ্দি = সীমানা।
২৭। সিট = নকশার অংশ বা মৌজার অংশের নকশাকে সিট বলে।
২৮। দাখিলা = খাজনার রশিদ।
২৯। নক্সা = ম্যাপ।
৩০। নল = জমি পরিমাপের নিমিত্তে তৈরী অংশ দণ্ড।
৩১। নাল = চাষাবাদের উপযোগী ভূমি।
৩২। পিং = পিতা।
৩৩। জং = স্বামী।
৩৪। দাগ নং = জমির নম্বর।
৩৫। এতদ্বার্থে = এতকিছুর পর।
৩৬। পত্র মিদং = পত্রের মাধ্যমে।
৩৭। স্বজ্ঞানে = নিজের বুঝ মতে।
৩৮। সমূদয় = সব কিছু।
৩৯। ইয়াদিকৃত = পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করিলাম।
৪০। পত্র মিদং = পত্রের মাধ্যমে।
৪১। বিং = বিস্তারিত।
৪২। দং = দখলকার।
৪৩। পত্তন = সাময়িক বন্দোবস্ত।
৪৪। বদল সূত্র = এক জমি দিয়া অন্য জমি গ্রহণ করা।
৪৫। মৌকুফ = মাপ। রোক = নগদ।
৪৬। দিশারী রেখা = দিকনির্দেশনা।
৪৭। ভায়া = বিক্রেতার পূর্বের ক্রয়কৃত দলিল।
৪৮। দান সূত্র = কোনো ভূমি দলিল মূলে দান করিলে দান গ্রহণকারী দান সূত্রে ভূমির মালিক বলিয়া গন্য হয়।
৪৯। দাখিল খারিজ = কোনো জোতের ভূমি ও জমা হইতে কতেকাংশ ভূমির খরিদ্দার ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ব্যাক্তিকে পৃথকভাবে নাম জারি করিয়া দিলে তাহাকে দাখিল খারিজ বলে।
৫০। তফসিল = তালিকা, কোনো দলিলের নিম্নভাগে লিখিত সম্পত্তির তালিকাকে তফসিল বলে।

"খ" তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি নামজারি করার পদ্ধতি সাধারণ জমির নামজারির চেয়ে ভিন্ন এবং এতে কিছু বিশেষ ধাপ ও শর্ত অনুসরণ...
22/12/2025

"খ" তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি নামজারি করার পদ্ধতি সাধারণ জমির নামজারির চেয়ে ভিন্ন এবং এতে কিছু বিশেষ ধাপ ও শর্ত অনুসরণ করতে হয়। মূলত, এই সম্পত্তির মালিকানা আদালত কর্তৃক আবেদনকারীর পক্ষে নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণিত হতে হয় বা বৈধ প্রমাণাদি ও দলিলাদি থাকতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
"খ" তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি নামজারির জন্য আবেদনকারীর যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন:
আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং স্বাক্ষর।
জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি (NID)।
জমির মালিকানার মূল দলিল এবং ভায়া দলিল (যদি থাকে)।
সম্পত্তির সর্বশেষ খতিয়ানের (পরচা) অনুলিপি।
সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ (দাখিলা)।
ওয়ারিশান সনদপত্র (যদি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন এবং তা তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে)।
বণ্টননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
আদালতের রায়/ডিক্রি: যদি আদালতের মাধ্যমে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে তার সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া অপরিহার্য।
নামজারি পদ্ধতি
১. আবেদন দাখিল: আবেদনকারীকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-নামজারির জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত ফরমে জমির বিস্তারিত পরিচয়, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, পরিমাণ, মৌজা ও জেলার নাম উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
২. প্রাথমিক যাচাই-বাছাই: আবেদন জমা দেওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কাগজপত্র এবং জমিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করবেন। এক্ষেত্রে দেখা হবে যে, আবেদনকৃত জমিটি আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত কিনা।
৩. বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ: "খ" তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে, ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত বিশেষ পরিপত্র এবং নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়। যদি বাতিলকৃত "খ" তফসিলভুক্ত সম্পত্তির মালিকানা আবেদনকারীর পক্ষে আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হয়, তবে সেই সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন করে নামজারি করা হবে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ করা হবে।
৪. তদন্ত ও শুনানি: ভূমি কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার ভূমি - AC Land) প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের (আবেদনকারী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিনিধি) শুনানির জন্য ডাকতে পারেন।
৫. অনুমোদন ও রেকর্ড সংশোধন: যাচাই-বাছাই এবং শুনানির পর, যদি মালিকানা সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারির জন্য অনুমোদন দেবেন এবং রেকর্ড স

17/12/2025

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করার ড্রাফটিং।
-----------------------
বরাবর
অফিসার ইনচার্জ
------- থানা, জেলা---।
বিষয়: মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ায় সাধারণ ডায়েরি করন প্রসঙ্গে।

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে--------ইং তারিখে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। উক্ত মোবাইল ফোনে আমার গুরুত্বপূর্ণ অনেক ডকুমেন্ট রক্ষিত রহিয়াছে। উক্ত মোবাইল ফোনটি না পাওয়ার দরুন আমি সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আবেদন করছি।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
-----------------------------------------------------------------
১. নাম-------।
২. ব্রান্ড--------।
৩. কালার--------।
৪.IMEI নম্বর------।
৫. ব্যবহৃত সিম নম্বর।
৬. হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটির আনুমানিক মূল্য।
৭. সর্বশেষ স্থান।

উপরোক্ত বর্ণনার মোবাইল ফোনটি কোন ব্যক্তি কুড়িয়ে পেতে পারে অথবা চুরি করতে পারে।
বিধায় প্রার্থনা মোবাইল ফোনটি উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে আমার দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরি টি আপনার থানায় নথিভুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিবেদক
নাম-------------------
মোবাইল নম্বর------

সারাদেশে পারিবারিক আপীল আদালত প্রতিষ্ঠা করে গেজেট প্রকাশ। এখন থেকে পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষ...
22/10/2025

সারাদেশে পারিবারিক আপীল আদালত প্রতিষ্ঠা করে গেজেট প্রকাশ। এখন থেকে পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্দ ব্যাক্তি জেলা জজ কোর্টের পরিবর্তে পারিবারিক আপীল আদালতে আপীল করতে পারবেন। পারিবারিক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Address

Narail, Khulna
Narail

Telephone

+8801753505062

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fahim's Legal Solution & Consultancy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share