09/10/2025
বর্তমান স্ত্রী (মুসলিম আইনে ) বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সালিশি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিবাহ করলে তার শাস্তি কি ? চলুন এ বিষয়ে কিছু তথ্য জেনে নেই...
#প্রশ্ন: বর্তমান স্ত্রী বিদ্যমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করলে আইনগতভাবে কি এটি অপরাধ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (The Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, কোনো পুরুষ সালিসী পরিষদের (Arbitration Council) লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া একটি বিদ্যমান বিবাহের টিকে থাকার সময় অন্য কোনো বিবাহ করতে পারবেন না। এই অনুমতি ছাড়া করা কোনো বিবাহ নিবন্ধিত হবে না।
#প্রশ্ন: সালিসী পরিষদের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করলে স্বামীর কী কী আইনগত শাস্তি হতে পারে?
উত্তর: সালিসী পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে স্বামীর দুই ধরনের শাস্তি হতে পারে:
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী শাস্তি:
দোষী সাব্যস্ত হলে স্বামী অনতিবিলম্বে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের যাবতীয় দেনমোহরের (তা তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত যাই হোক না কেন) সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করবেন। এই টাকা পরিশোধ না করলে বকেয়া ভূমি রাজস্বের মতো আদায় করা হবে।
এছাড়াও, অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হলে স্বামী এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন (ধারা ৬(৫))।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) অনুযায়ী শাস্তি:
যদি স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করেন বা দ্বিতীয় বিয়েটি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে করেন, তবে তিনি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তি পেতে পারেন। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
#প্রশ্ন: বর্তমান স্ত্রী প্রতিকার পেতে হলে কী করতে পারেন?
উত্তর: বর্তমান স্ত্রী প্রতিকার পেতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
দেনমোহর এবং কারাদণ্ডের জন্য মামলা: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী তিনি তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালতে মামলা করতে পারেন।
তালাক: স্ত্রী ইচ্ছে করলে দ্বিতীয় বিবাহের কারণে স্বামীকে তালাক দিতে পারেন এবং তালাক কার্যকর হলে তিনি তাঁর প্রাপ্য সকল দেনমোহর ও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন।
ভরণপোষণ: দ্বিতীয় বিবাহের কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিলেও তিনি আইন অনুযায়ী স্বামীর কাছ থেকে নিজের এবং নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
#যৌতুক