09/08/2026
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফিউচার অব জবস রিপোর্ট–২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১৭ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। আবার প্রায় সাড়ে ৯ কোটি চাকরি বিলুপ্ত হবে। ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফিউচার অব জবস রিপোর্ট–২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১৭ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। আবার প্রায় সাড়ে ৯ কোটি চাকরি বিলুপ্ত হবে। ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
একই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শতকরা হারে সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে যেসব পেশা, তার শীর্ষে রয়েছে বিগ ডেটা স্পেশালিস্ট (১১০ শতাংশ), এরপর ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার (৯০ শতাংশ) এবং এআই ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট (৮২ শতাংশ)। এরপরের সারিতে আছে সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার (৫৭ শতাংশ), সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট (৫৩ শতাংশ) এবং ডেটা অ্যানালিস্ট ও সায়েন্টিস্ট (৪১ শতাংশ)। এই তালিকা থেকেই বোঝা যায়, শুধু একটি নির্দিষ্ট পেশা নয়; বরং প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা ও ডেটাভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা আগামী দিনে সমানভাবে বাড়বে। এই পরিবর্তনের গতি এতটাই দ্রুত যে ভবিষ্যতের চাকরির বাজার সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন।
মানুষের ইতিহাসে এই প্রথম এমন একটি সময় এসেছে, যখন কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না ২০ বা ৩০ বছর পর চাকরির বাজার কেমন হবে।
এ কারণেই কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর গুরুত্ব আগামী দিনে আরও বাড়বে। পাশাপাশি মেশিন লার্নিং, রোবোটিকস, সাইবার নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মতো ক্ষেত্রেও দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
এআই কেবল কম্পিউটার সায়েন্সের বিষয় নয়। ব্যবসায় শিক্ষা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, আইন কিংবা সাংবাদিকতা, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। আইনে এআই–চালিত নথি বিশ্লেষণ, কৃষিতে ডেটাভিত্তিক ফলন পূর্বাভাস কিংবা চিকিৎসায় রোগনির্ণয়ে এআইয়ের ব্যবহার তারই প্রমাণ। তাই যে বিষয়েই কেউ পড়াশোনা করুক না কেন, প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং তা কাজে লাগানোর দক্ষতা অর্জন করা এখন প্রায় অপরিহার্য। ভবিষ্যতে প্রতিটি পেশায় প্রযুক্তি একটি সহায়ক দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে কীভাবে। প্রথমত, এআই–সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে এর সঙ্গে পরিচিত হতে হবে, কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে শিখতে হবে। দ্বিতীয়ত, এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে অনুকরণ করতে পারে না। যেমন নেতৃত্ব, কার্যকর যোগাযোগ, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা। তৃতীয়ত, শিক্ষাজীবন শেষ হলেই শেখা থেমে যাবে, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।