22/05/2026
আইন শিক্ষা সকল স্তরে বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবী।
কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নাই।বাংলাদেশ আইন আছে প্রয়োগ নাই,পদ্ধতিগত দীর্ঘসূত্রীতা,শ্রেণী বৈষম্য, ঘুস বানিজ্য,কর্মসংস্থানের অভাব ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের মহড়া, অরাজকতা,শিক্ষকদের, সাংবাদিকদের, ডাক্তারদের আইনজীবীদের,ইদানীং ১০০ তেচল্লিশ আসনে এ গেরেড মার্কা হুজুরদের নির্লজজ রাজনৈতিক দালালী,৭১বেচনেওয়ালা সংবিধানের সাফাইওয়ালা,২৪ এর কারবারি ওয়ালা,বেশধরা নামকাওয়াস্তে ইসলাম ওয়ালা,
আমওয়ালা চামুচওয়ালা,গালাগালিতে জিপিএ ফাইভওয়ালা -এসব দেখে দেখে মনে হয় এ দেশে জন্মই আজন্ম পাপ।
পত্রিকা /অনলাইন খুললেই দেখি এমন সব কান্ড যা স্বয়ং দজ্জাল কিংবা সয়তানও লজ্জা পাবে, কিন্তু বাংলাদেশীরা মুড়ি মোওয়ার মত অহরহ করছে। #রামিছা, আছিয়া দের মত কত শত শিশু পাশবিকতার শিকার।৩৭৫,৩৭৭,৩৫৪,৫০০,৫০৯,ধর্ষণ বলৎকার,শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ, মানহানি, ইভটিজিং মতো অপরাধগুলো আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগকেও হার মানিয়ছে।স্বামী কর্তৃক, ভাই এর দ্বারা,বোনের দ্বারা, নরপিশাচ নামক বাবার দ্বারা,ধর্মীয় ইমাম, পুরোহিতের দ্বারা,যাজক দ্বারা,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দ্বারা,ভন্ড নেতার দ্বারা, হলুদ সাংবাদিকের দ্বারা আইন ভাঙ্গা কিংবা অপরাধ করা এখন একটা মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা, সহিংসতা, প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি এবং জনসচেতনতার ঘাটতি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—মানুষের আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব। একজন নাগরিক যখন নিজের অধিকার, দায়িত্ব ও রাষ্ট্রের আইন সম্পর্কে অবগত থাকে না, তখন সে সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে কিংবা অন্যায়ের শিকার হয়েও ন্যায়বিচার পায় না।
#আইন না জানা অজুহাত হতে পারে না, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বাংলাদেশে আইন প্রণেতাদের অধিকাংশই আইন জানে না, ফলশ্রুতিতে গতানুগতিক আমলাদের নোট কিংবা প্রেসক্রিপশনে কথা বলে জনগণের চোখে হয়ে যায় ফ্যাসিস্ট।সংবিধানের কথা বলা নিশ্চয়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিবর্গেরই কাজ, কিন্তু প্রতারণা করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সংবিধানের দোহাই দেওয়া এটাও এক প্রকার অপরাধের সামিল।
এই বাস্তবতায় স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মৌলিক আইন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।
আইন শিক্ষা কেন প্রয়োজন?
আইন কেবল আদালত, বিচারক বা আইনজীবীদের বিষয় নয়,আইন প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। রাস্তায় চলাফেরা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, চুক্তি করা, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ, উত্তরাধিকার, নাগরিক অধিকার,facebook পোস্ট করা, সমালোচনা করা, পার্কিং করা, ফুটপাত ব্যবহার করা সবকিছুই আইনের সাথে সম্পর্কিত। **অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেও সংবিধান, মৌলিক অধিকার, ফৌজদারি আইন কিংবা ডিজিটাল নিরাপত্তা,নৈতিকতা সম্পর্কিত আইন,শিষ্টাচার সংক্রান্ত ন্যূনতম জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। পক্ষান্তরে স্কুলের গণ্ডি পেরুতে না পেরেতেই ক তে কাউয়া, স তে সাওয়া গুপ্ত সুপ্ত রাজাকার, চান্দাব্বাস স্লোগান দিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার মত কিংবা বোর্ড স্ট্যান্ড করার মতজ্ঞান অর্জন করে। ৫৫ বছর পরও আমাদের শিক্ষা কারিকুলামে
মোগল আমল, সেন বংশ, পাল বংশ, বাল বংশ, তৈমুর লং ইত্যাদি মুখস্ত করানো হয়। #লজ্জা
ফলে দেখা যায়—বাস্তবমুখী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, শালীনতার শিক্ষা, #আইন শিক্ষার অভাবে -
অনেক তরুণ আবেগ বা অজ্ঞতার কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, গুজব বা সাইবার অপরাধ করে আইনি জটিলতায় পড়ে,
সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হলেও কোথায় অভিযোগ করতে হবে জানে না,
আইনকে ভয়ের বিষয় মনে করা হয়, সম্মানের বিষয় নয়।
#শিক্ষার্থী -যদি ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের আইনের মৌলিক ধারণা শেখানো হয়, তাহলে তারা নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে এবং অপরাধ থেকে দূরে থাকার মানসিকতা তৈরি হবে।
আইন না জানার ফলে সমাজে কী প্রভাব পড়ছে
বাংলাদেশে বহু অপরাধ সংঘটিত হয় হঠকারিতা, অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে। অনেকেই জানে না কোন কাজটি অপরাধ, কিংবা অপরাধের শাস্তি কতটা গুরুতর।
উদাহরণস্বরূপ—
সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি;
কিশোরদের মধ্যে মারামারি, ছিনতাই ও গ্যাং সংস্কৃতি;
ট্রাফিক আইন অমান্য করে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি;
নারীর প্রতি সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানি;
চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা।
ট্যাক্স ভ্যাট ফাকি দেওয়া
হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো
এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ আইনের ভয় বা গুরুত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়। আইন সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে অনেক অপরাধ সংঘটনের আগেই মানুষ সতর্ক হতো।
আইন শিক্ষা নাগরিক সচেতনতা বাড়ায়
একটি সভ্য রাষ্ট্র গঠনের জন্য শুধু শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আইন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক।
স্কুল-কলেজে আইন শিক্ষা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা শিখবে-
বাংলাদেশের সংবিধান ও মৌলিক অধিকার
নাগরিক দায়িত্ব;
সাইবার আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা;
নারী ও শিশু সুরক্ষা আইন;
ট্রাফিক আইন;
দুর্নীতি ও প্রতারণা প্রতিরোধ;
আইনের শাসন ও মানবাধিকার।
(কথায় কথায় মুভ অন করা যে যাতনার)
রং মাখিয়ে মিথ্যা বলা যে সামাজিক অপরাধ জীবনের শুরুতেই নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারবে।
এর ফলে তারা শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়, বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাশিক্ষা কারিকুলামে আইনশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে সেটি বেকারত্বের অবসানে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।
আইনের শিক্ষক, আইনজীবী, আইন শিক্ষার্থী আইনের গবেষকরা সামাজিক মর্যাদাসহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাস্তবিক মুক্তি পাবে।
অন্যান্য দেশে আইন শিক্ষা
বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে স্কুল পর্যায় থেকেই আইন ও নাগরিক শিক্ষা গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়।
ট্রা*ম্পের আমে*রিকার মত দেশে
অনেক স্কুলে “Civics” ও “Law Studies” নামে বিষয় পড়ানো হয়। শিক্ষার্থীদের সংবিধান, নাগরিক অধিকার, আদালত ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। অনেক স্কুলে মক ট্রায়াল বা কাল্পনিক আদালত কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
স্টারমারের দেশ
যুক্তরাজ্যে “Citizenship Education” বাধ্যতামূলক বিষয়গুলোর একটি। এখানে শিক্ষার্থীদের আইন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে শেখানো হয়।
আসুন না,চীন, জাপান, সিংগাপুরের আইনপ্রনেতাদের মত হই,রাজনীতিবিদদের মত হই, বিচারকদের মতো ডাক্তারদের মত হই, আইনজীবীদের মত হই, ছাত্রদের মতই।
এডভোকেট মু.শরীফুল ইসলাম
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা।
পরিচালক,আইন শিক্ষা একাডেমী।