13/04/2026
জাতীয় সংসদে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সংশোধিত আইনের প্রধান দিকগুলো নিম্নরূপ:
১. গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সুরক্ষা (ধারা ৪৬এ–৪৬ই)
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় নতুন কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
•পরিবারকে অবহিতকরণ: গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবার, নিকট আত্মীয় বা আইনজীবীকে বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক।
•পরিচয়পত্র প্রদর্শন: গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তাকে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহন করতে হবে এবং গ্রেপ্তারের সময় তা প্রদর্শন করতে হবে।
•আইনি সহায়তার সুযোগ: গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে তার আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও পরামর্শের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
২. নথিবদ্ধকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াকে অধিক স্বচ্ছ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
•জেনারেল ডায়েরিতে অন্তর্ভুক্তি: গ্রেপ্তারের কারণ, সময় এবং কাকে অবহিত করা হয়েছে—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানার জিডিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
•গ্রেপ্তার মেমোরেন্ডাম: গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তা যদি সংশ্লিষ্ট থানার না হন, তবে তাকে গ্রেপ্তারের বিস্তারিত মেমোরেন্ডাম সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে প্রেরণ করতে হবে।
•সাক্ষীর উপস্থিতি: গ্রেপ্তারের সময় অন্তত একজন সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে—যিনি পরিবার সদস্য বা স্থানীয় কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি হতে পারেন। সাক্ষী উপস্থিত না থাকলে তার কারণ নথিভুক্ত করতে হবে।
৩. বিচারিক ও প্রশাসনিক সংস্কার
আইনটি বিচারিক ক্ষমতা ও তদন্ত প্রক্রিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
•জরিমানার ক্ষমতা বৃদ্ধি (ধারা ৩২): প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
•স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ধারা ১৬৭): পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আগে এবং পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
•তদন্ত তদারকি (ধারা ১৭৩এ): চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন (ইন্টারিম) রিপোর্ট আহ্বান করতে পারবেন।
⸻⸻⸻⸻
ইমতিয়াজ মীর
এলএল.বি (অনার্স), এলএল.এম
শিক্ষানবিশ আইনজীবী
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, গাজীপুর