LAW FOR PEACE ASSOCIATION, BD

LAW FOR PEACE ASSOCIATION, BD আইনি সহায়তা এবং মানুষের পাশে দাড়ানো

Important issue
13/04/2020

Important issue

রাজীব কুমার দেব: বিজ্ঞ বিচারকদের একটি সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ একটি আইনের জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন প্রদান না করা বিষ...

31/03/2020

দিদি ডাকায় সহকারী কমিশনারের লাথি বনাম প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

একটা সংবাদ পড়ে গত কয়েকদিন ধরে মনটা খুব বিক্ষিপ্ত। ফেঞ্চুগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকারকে দিদি বলে ডাকায় তিনি লাথি মেরে এক মাছ বিক্রেতার মাছের ঝুড়ি রাস্তার পাশের নালায় ফেলে দেন! সংবাদের বিস্তারিত বর্ণনায় বলা হয়েছে তার অফিসের সামনে মাছ বিক্রি করতে বসলে তিনি মাছ বিক্রেতাদের সরে যেতে বলেন। তাদের মধ্যে লায়েক আহমেদ নামীয় একজন মাছ বিক্রেতা "দিদি সরিয়ে নিচ্ছি" বলার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে "আমি কিসের দিদি" বলেই মাছের ঝুড়িতে লাথি মেরে তা পার্শ্বস্থ ডোবায় ফেলে দেন।

ঘটনাটা বারোই মে'র। পত্রিকায় আসে তেরোই মে। গত চারদিন নিজের মনকে অনেকভাবে শান্ত রাখার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অবশেষে কিছুটা লিখছি। আমি যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন আই এম এফ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো। তাতে বলা হয়েছিলো বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর পেছনে রাষ্ট্রকে ভর্তুকি দিতে হয় বছরে এক লক্ষাধিক টাকা! তার মানে আমার পেছনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রাষ্ট্র ভর্তুকি দিয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা!

আমাদের শুরুর দিকে মাসিক বেতন ছিলো ১২ টাকা। শেষদিকে ২০ টাকা করায় ছাত্র আন্দোলনও দেখেছিলাম। চাকসুর ক্যাফেটেরিয়ায় মাত্র ৮ টাকা দিয়ে পোলাও মুরগি খেয়েছি,মাত্র ১ টাকায় পরোটা কিংবা দুই টাকায় চা খেয়েছি। হলফ করে বলতে পারি এ দাম শুনে স্বয়ং শায়েস্তা খান বেঁচে থাকলে তারও চোখ কপালে উঠতো!

আমরা এসব সুবিধা পেয়েছি কারণ রাষ্ট্র আমাদের পেছনে ভর্তুকি দিয়েছিলো। এখনও যা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র প্রায় একই রকম।

প্রশ্ন উঠতে পারে রাষ্ট্র তো জীব নয়। রাষ্ট্র হাঁটে না,হাসে না,নিদেনপক্ষে কথাও বলেনা! তবুও কীভাবে রাষ্ট্র এ ভর্তুকি দেয়? রাষ্ট্র দেয় তার নাগরিকদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষ কর নিয়ে। মজার ব্যাপার কী জানেন? আমরা যারা নিজেদের উঁচুতলার মানুষ বলে দাবি করি,স্যার ডাক না শুনলে যাদের পায়ের পাতা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত গরম হয়ে যায়, আমাদের লাথি গিয়ে পড়ে যেসব মাছ বিক্রেতার ঝুড়িতে তারা কিন্তু আয়কর আইনজীবীর কাছে যাননা!

আপনি বলতে পারেন করযোগ্য সীমায় তিনি উপার্জন করেন না কেনো যাবেন? আপনার আমার মত অধিকাংশ উঁচুতলার মানুষ আয়কর আইনজীবীদের কাছে কেনো যায় জানেন? রাষ্ট্রকে কর দিতে নয় কীভাবে কত কম দেয়া যায় সে পরামর্শ নিতে!

আর যে দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ আপনাকে, আমাকে স্যার ডাকেনা বলে আমরা কুন্ঠিত হই,যারা আমাদের সামনে আগেকার যুগে রাজার সামনে দাঁড়ানো প্রজার মত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়ায় কিংবা যাদের সামনে আমরা এক এক জন জমিদার সেজে বসে থাকি তারা কিন্তু কর ফাঁকি দিতে জানেনা। তারা পরোক্ষ করের আওতায় পড়ে ঠিকই তার প্রদেয় দান করে। এভাবে ক্ষুদ্র বালুকার কণা, বিন্দু বিন্দু জলের ঘামে আমাদের বছরে চার লাখ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয়।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা যিনিই যে অফিসে চাকুরি করি তারা প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে স্যার ডাকবো। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ, যিনি চাকুরিতে আমার অধ:স্তন নন তার কাছে কোন বিবেচনায় ও কোন আইনে আমি স্যার ডাক শোনার প্রত্যাশা করবো?

আমরা কী বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বড়! জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিংবদন্তি সাংবাদিক এ বি এম মুসা "মুজিব ভাই" নামে একটা বই লিখেছিলেন। চিন্তা করা যায় বাংলাদেশের জাতির জনককে নিয়ে লেখা বইয়ে তাকে ডাকা হয়েছে ভাই! আমি ভাবছি এখনকার অনেক স্যার ডাক শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকাদের মধ্যে কাউকে নিয়ে আজ থেকে বহু বছর পর কেউ এরকম বই লিখলে শুধু বইয়ের নামকরণে দিদি বা ভাই লেখার কারণে না জানি কতদিন লেখককে চৌদ্দশিকের ভেতর থাকতে হয়!

আজ থেকে বেশ কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামীলীগের তৎকালীন এক তৃণমূল নেতার পাঠানো চিঠির খাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বদৌলতে দেখার সুযোগ হয়েছিলো। সেখানে খামের উপরে ঠিকানার জায়গায় লেখা -
প্রাপক,
মুজিব ভাই,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

যিনি না জন্মালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হতোনা তিনি যদি ভাই হতে পারেন আমি আপনি কী!

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে জয়দেবপুরে শ্রমিকদের সমাবেশে সরকারি চাকুরিজীবীদের উদ্দেশে বলেন "আপনি চাকুরি করেন আপনার মাইনে দেয় ঐ গরীব কৃষক, আপনার মাইনে দেয় ঐ গরীব শ্রমিক,আপনার সংসার চলে ঐ টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন।"

সরকারি চাকুরিজীবীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু আরো বলেন "মনে রাখবা এটা ব্রিটিশ কলোনী নয়, এটা পাকিস্তান কলোনী নয়, যে লোককে দেখবা তার চেহারা তোমার বাবার মত,তোমার ভাইয়ের মত। ওরাই সবচেয়ে সম্মান বেশি পাবে। কারণ ওরা নিজে কামাই করে খায়।"

শিক্ষিত ভাইদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু জিজ্ঞাসা করেন-
"আমাদের লেখাপড়া করায় কে?
আমাদের ডাক্তারি পাশ করায় কে?
আমাদের ইঞ্জিনিয়ার করে কে?
আমাদের সায়েন্স পাশ করায় কে?
আমাদের বৈজ্ঞানিক করে কে?
আমাদের অফিসার করে কে?
কার টাকায়?
উত্তরে বঙ্গবন্ধুই বলে দেন - বাংলার জনগণের টাকায়।

যে জনগণের প্রতি লাথি দিলেন তার আঘাত কোথায় গিয়ে পড়েছে বুঝতে পারছেন?

আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো আমার শরীরে কৃষকের রক্ত। বাংলাদেশের এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবেনা যার গায়ে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের রক্ত নেই। হয় আমাদের বাবা কৃষক ছিলেন, নচেৎ আমাদের দাদা কৃষক ছিলেন অথবা আমাদের পরদাদা কৃষক ছিলেন। যে দরিদ্র বাংলাদেশে বাস করে, জনগণের টাকায় পড়ে জনগণের টাকায় প্রদত্ত বেতন পেয়ে আপনি,আমি বিচারক,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছি, তাদের মুখে দিদি ডাক শুনে লাথি মেরে তাদের রুটি রুজির পাত্র নালায় ফেলে দিচ্ছি তারা কী আদতেই আমাদের এমন ব্যবহারের যোগ্য?

বঙ্গবন্ধু মাটির কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন বলেই তিনি বঙ্গবন্ধু। আসুন আমরাও সবাই সে প্রচেষ্টা করি। মনে রাখবেন-
"যত বড় হোক ইন্দ্রধনু সে সুদূর আকাশে আঁকা
আমি ভালোবাসি মোর ধরণীর প্রজাপতিটির পাখা।"

মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে ইন্দ্রধনু হওয়ার চেষ্টা করলে আখেরে অহমিকা ছাড়া কিছুই অর্জন হবেনা। প্রজাপতির পাখা হতে পারলে মানুষের ভালোবাসা পেয়ে সত্যিকারের মানুষ হওয়া যাবে।

এই আমরা সরকারি কর্মচারীরা যে কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর চেতনা বাস্তবায়নের কথা বলি সেটা কেবল বক্তৃতার শোভা বাড়ানোর জন্য যেনো না বলি। আমরা যেনো তা মন থেকে ধারণ করি। তাহলে দিদি বললে আর লাথি দিতে ইচ্ছা করবেনা, দিদির জবাবে ভাই বলে হাসিতে ভরে উঠবে আপনার আমার মুখ। ঠিক সেসময়েই হেসে উঠবে বাংলাদেশের মানচিত্র ও বঙ্গবন্ধু।

কাজী শরীফ
সহকারী জজ, নোয়াখালী।

( লেখাটা দশমাস আগের। গতকাল এক সহকারী কমিশনার সবজি বিক্রেতাকে কানে ধরিয়ে নিজ হাতে ছবি তুলে তা দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে দেয়ায় পুরনো লেখাটার কথা মনে পড়লো। এ লেখার কারণে অনেকে আমাকে নসিহত করেছিলেন। আপনারা দেখুন এখনো কিছুই বদলায়নি! )

31/03/2020

"আয়নাবাজি"

আবদুল্লাহ আল মামুন
অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
বান্দরবান।
( ৩১/০৩/২০২০)
(করোনা ভাইরাসের কারনে সামাজিক দূরত্ব অব্যাহত রয়েছে)

(আমার সর্বশেষ লেখাটি অনেকে ধৈর্য্য ধরে পড়েছেন। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমি অবাক হয়েছি আদালত পাড়ার গল্পের প্রতি আপনাদের আগ্রহ দেখে। বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের ১৮০০ বিচারকের এমন একটি কেন,শত শত ঘটনা রয়েছে। বিচার বিভাগ এবং বিচারকগণ সব সময়ই আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করবে এবং করছে। আদালত অংগনে আইনপেশা বা যারা কাজ করেন তারা প্রতিদিন শত শত ঘটনা অবলোকন করেন। আদালত পাড়ার দুঃখ,কষ্টগুলো প্রায় সময়ে আদালত পাড়াতেই চাপা থাকে দীর্ঘশ্বাস হয়ে। ইট, কাঠ পাথরের তৈরি আমাদের আদালতগুলো সে ভার বহন করে সিন্দাবাদের বোঝার মতো। এখানে, ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে অশ্রু ঝরে। অপ্রাপ্তিতে আরো কিছু হা-হুতাশ বাতাসে যোগ হয়। কিন্তু, ন্যায় দন্ডের পাল্লা সমান,দৃঢ়,সুমহান এবং অবিচল থাকে।)

আয়নাবাজির গল্প বলছি শুনুন।

কোন একদিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,১৯৯০ এর ২২(গ) ধারার মামলায় নিবিষ্ট মনে সাক্ষী নিচ্ছি।অভিযুক্ত ৪০/৫০ বছরের শুকনো,লিকলিকে একজন মানুষ। কোন তারিখে গরহাজির থাকেনি। অনেক সময় কাশির দমকে মুখ চেপে বসে পড়ে।

৭ নং সাক্ষী জব্দ তালিকার সাক্ষী। এই সাক্ষীর দোকানের সামনে ঘটনা হয়। সাক্ষী ঘটনার তারিখ,সময়, স্থান বলার পরে বললো- সেদিন সকালে একটা সি এন জি ট্যাক্সিকে.... দাঁড় করায়। ট্যাক্সিতে ডকে দাঁড়ানো লোক আর মহিলাসহ একটা বাচ্চা ছিলো। বাচ্চার শরীরে চোলাই মদের প্যাকেট প্যাঁচানো।কিছু মদ তার পায়ের কাছের ব্যাগে। মহিলা ঐ মদ নিয়ে যাচ্ছিলেন।... তাদেরকে ধরে। মহিলা বলে সে টাকা দেবে। তাকে ছেড়ে দিতে।.... ঐ লোককে মদসহ ধরে নিয়ে যায়।কিন্তু ঐ লোক বলছিলো সে মদের কারবার করে না। এই মদ তার নয়। মহিলাকে ২জন... তার দোকানে বসিয়ে রাখে ২ ঘন্টা। এরপর আরেকজন মহিলা টাকা নিয়ে এলে .... মহিলা আর বাচ্চাকে ছেড়ে দেয়।এই লোক আসামী না।এই লোক নির্দোষ। মদ মহিলার। এই লোকের নয়।

আমি ট্যারা চোখে তাকিয়ে আছি। মাদকের জেনুইন ঘটনায়ও অনেক সময় জব্দ তালিকার সাক্ষী দেখে নাই,শুনে নাই বলে সাক্ষী দেয় বা দেওয়ানো হয়। আমি নিশ্চিত এই সাক্ষী আসামী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সত্য বলার শপথ নিয়ে কাল্পনিক গল্প ফাঁদছেন ।কিন্তু, একটু পরেই নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হলাম সাক্ষীর বাকী কথা শুনে।

তার আরো বক্তব্য হলো- আজ সে আদালতের বাইরে ঐ মহিলাকে দেখেছেন। মহিলা তাকে দেখে কাকে কাকে যেন ফোন করে কথা বলছিলো ( সাক্ষী উত্তেজিত)। মহিলা তাকে চেনার চেষ্টা করছিলো।এখনো ঐ মহিলা কোর্টের বাইরে গাছ তলায় বসে আছে। আমি নড়ে চড়ে বসলাম। মনে হচ্ছিলো ডকে দাঁড়ানো আসামী, কথিত মহিলা এরা সবাই একটা চক্র। আমার কপাল খারাপ। আমার সামনেই কেন এসব উদ্ভট বিষয় হবে? সাক্ষী আসবে। সত্য,মিথ্যা যা বলার বলে চলে যাবে। শেষে দেখা যাবে কি হয়েছে।নিজের ভাগ্যকে কি দোষ দেয়া যায়!!!

আদালতে থাকা পুলিশকে বললাম ডকের এই সাক্ষীসহ বাইরে যেতে।আর এই সাক্ষীর দেখানো কোন মহিলা যদি দৌড় দেয়,তবে পুরা কোর্ট বিল্ডিং দৌঁড়ায়ে হলেও যেন ঐ মহিলা ধরে আনে।

পুলিশসহ সাক্ষী বের হয়ে যাওয়ার পরে আমার নিজের বিশ্বাস হচ্ছিলো না আমি এই কথা বলেছি!!!

আদালতে বসেই সাক্ষী,পুলিশ ফেরার অপেক্ষা করছি। এরপর, ২ মিনিটের মধ্যে শ্যামলা একজন মহিলাসহ সাক্ষী,পুলিশ আদালতে হাজির। মহিলার বয়স ৩০/৩৫. আটপৌরে শাড়ি পরা৷ তখনো পান চিবুচ্ছেন। মাথায় সিঁদুর৷ নাটকীয় ঘটনা নিঃসন্দেহে!! কাকতালীয় কি? কি জানি??

সুতরাং, আমি নতুন কাহিনী শোনার জন্য প্রস্তুত হলাম।

মহিলার বক্তব্য হলো সেদিন তিনি মদ পরিবহন করছিলেন।তিনি ১০,০০০ টাকা দিয়ে.... থেকে রেহাই পান।কিন্তু,.... এই নিরপরাধ লোকটাকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি.... কে বার বার বলেছেন এই লোকটাকে ছেড়ে দিতে।.... ওর কাছেও টাকা চায়।লোকটার কাছে ১০০০/১৫০০ টাকা ছিলো। এত কম টাকা... নেয়নি। এই লোকটার জন্য তার খারাপ লাগে। এই লোকের জামিনের জন্য তিনি সুদের উপরে ৮০০০ টাকা ধার নিয়ে লোকটার বোনকে দিয়েছেন।এখনো ঐ টাকার কিস্তি পরিশোধ করছেন।তিনি এই লোকটাকে ধর্মের ভাই ডেকেছেন( কান্না)।

আমি খুব ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করছি কি করবো?? কিন্তু বুঝতে পারছিলাম এই লোক নির্দোষ। মহিলা সত্য বলছেন। সাক্ষীটা সত্য বলেছে। আদালতের চারপাশে লোক জমে আছে। সবাই অপেক্ষা করছে এই গল্পের শেষে কি হয়??বাড়ি গিয়ে গল্প করতে হবে। এমন কি আমার কোর্টের স্টাফরাও আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। কোর্ট পুলিশের অফিস থেকে বেশ কয়েকজন এসে বসে আছে। কি হয়? কি হয়??

আমার মাথায় ঘুরছে এই মহিলা অপরাধ করেছে।........ টাকা নিয়ে মহিলাকে ছেড়ে দিয়ে ডকের এই লোকটাকে মহিলার জায়গায় চালান দিয়েছে। এই মহিলাকে শাস্তি পেতে হবে। কারণ, এই আয়নাবাজির মূল কারিগর সে৷

এই মামলার আগের ৬ জন সাক্ষীর ৫ জন... । তারা মুখস্থ সাক্ষী দিয়ে গিয়েছে। জব্দ তালিকার আরো একজন সাক্ষী জব্দ তালিকাকে সমর্থন করেনি। আর এই ৭ নং সাক্ষী যার দোকানের সামনে ঘটনা ঘটেছে এবং যিনি পুরো ঘটনা দেখেছেন, তিনি এসেতো কোর্টেই তুলকালাম কান্ড ঘটিয়েছেন। এই সাক্ষীর বক্তব্যের পরে আর সাক্ষী নেয়া অর্থহীন।

আমি তক্ষুনি সাক্ষ্য পর্যায় শেষ করলাম। ৩৪২ শেষ করে ফর্মালিটি শেষ করে আসামীর দিকে তাকিয়ে তাকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করলাম।সে দু'হাত জোড় করে তার প্রাপ্তি জানালো। তাকে আদালতের পেছনের বেঞ্চিতে বসতে বললাম।

মহিলাকে আসামীর ডকে তোলা হলো। এবার তাকে সব বুঝিয়ে বললাম। তার বক্তব্য লিখতে শুরু করলাম।

সে আজ এই অভিযুক্তের মামলার তারিখেই কেন আদালতে?? তার উত্তর হলো সে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। আজ এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটু ছায়ার জন্য আদালতে ডুকে গাছের নীচে বসে।এই সময় অভিযুক্ত,সাক্ষী ওকে দেখে। এরপর পুলিশ ধরে নিয়ে আসে?? কাকতাল???

সে আরো বলে যখন এই কাজ করে তখন তার পেটে বাচ্চা। স্বামী ছিলো নাপিত। স্বামী মারা গেলে সে দুই বাচ্চা,পেটেরটাসহ সাগরে পড়ে। তার পরিচিত এক লোক এই রাস্তা দেখিয়ে দেয়। বলে-এই কাজ (চোলাই মদ বহন) করতে পারলে আর খাওয়ার চিন্তা করতে হবে না৷ সে একবারই এই কাজ করতে এসেছিলো আর ধরা পড়েছিলো। সে টাকা দিয়ে ছাড়া পেলেও এই লোকটা ( অভিযুক্ত) আটকে যায়। লোকটা টাকা দিতে পারেনি। জেলে যায়। ২ মাসের উপরে জেলে থাকে। লোকটার জন্য তার খারাপ লাগে(কান্না)।

আমি তাকে তার অপরাধ বুঝিয়ে দিয়ে বললাম আমি আজ আপনাকে শাস্তি দেবো। আপনার কারনে এই নিরপরাধ লোকটা জেল খেটেছে। মামলার ঘানি টেনেছে। এই লোককে কে ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে?? কে পারবে এই লোকের সময়,এই মামলার পেছনে খরচ হওয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে?? কেউ কি পারবে তার ২ মাসের উপরে জেলে থাকা সময় ফিরিয়ে দিতে??? আপনি পারবেন?? আপনিই বলুন কি হলে হবে ন্যায়বিচার?? মহিলা তখন কাঠগড়া ধরে থর থর করে কাঁপছেন কান্নার দমকে।

আমি কি করবো???কি হলে হবে ন্যায়বিচার?

এবার,পেছন থেকে অভিযুক্ত হাতজোড় করে দাঁড়ালেন৷ বললেন -জামিন পেয়ে তিনি এই মহিলার বাড়ি গিয়েছিলেন।দেখেন যে, মহিলার জামাই নাই। খাওয়া পরার ঠিক নাই। পেটে বাচ্চা। ২ বাচ্চা ঘরে। মহিলা কি করবে?? ওর ঘরের চারপাশে প্লাষ্টিক দেওয়া। সরকারী জায়গায় থাকে।তিনি কার বিচার চাইবেন?? ভাগ্যকে দোষ দেওয়া ছাড়া আর কি বলবেন তিনি?? এই মহিলা হিন্দু। তিনি মুসলমান। তবুও এই মহিলা তাকে ধর্মের ভাই ডেকেছে। একবেলা খাইয়েছে। তার কাছে পায়ে ধরে মাফ চেয়েছে। তিনি মাফ করেছেন। তিনি আল্লার কাছে বলতেন,একদিন তিনি এই মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পাবেন। ন্যায়বিচার পাবেন কোর্ট থেকে। এই বিশ্বাস তার ছিলো। আজ তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আদালত যদি এই মহিলাকে শাস্তি দেন তবে ওর বাচ্চারা পথে নামবে। না খেয়ে মরবে। তিনি এই মহিলার হয়ে আদালতের কাছে মাফ চাইছেন।

আমার কোর্টে কেন এসব হয়???মনে হচ্ছে,বাংলা সিনেমা চলছে। ক্ষনে ক্ষনে রং আর ঘটনা পাল্টাচ্ছে। আমার ক্ষীণ সন্দেহ- সব সাজানো নয়তো?

একটু কি চোখ কচ কচ করে উঠলো?? নাহ! ন্যায়বিচার করতে হবে।

মহিলাটা কাঠগড়ায় মাথা নীচু করে ছিলেন। তিনি শান্ত অথচ দৃঢ় কন্ঠে বললেন -তিনি অপরাধী। অপরাধ তিনি করেছেন। আজ তিনি কোন কিছু ভয় করেন না। যা হয় হবে। আজ আদালত যে শাস্তি দেবেন তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। তিনি শুধু একবার ঐ কাজ করেছিলেন। এখন বাবুর্চির সহকারী হিসেবে,বুয়ার কাজ করেন।
সব ঈশ্বরের বিচার। না হলে আজ তিনি কেন এই সময়ে আদালতে এই অবস্থায় পড়বেন? আর ঐদিন কেন এই লোক তার ট্যাক্সিতে থাকবেন?? আজ তিনি কোন কিছুর পরোয়া করেন না। তার পাপের শাস্তি তিনি ভোগ করবেন। মহিলার কন্ঠে কিছু একটা ছিলো। আমি কিছু একটা শুনেছি। এমন কিছু যা হয়তো আদালতের এই বিল্ডিং, নথি অনেকদিন শুনেনি,অনুভব করেনি।সম্ভবতঃ সেই জিনিসটা হলো- সত্য।

পিনপতন নীরবতা। আমি কলম হাত থেকে রেখে চিন্তা করছি। কার বিচার? কিসের বিচার? আমি কাকে শাস্তি দেবো? ৩টা পেটকে চালানো এই মহিলাকে জেলে পাঠিয়ে আমি কি ন্যায়বিচার করবো? নাকি মহিলাকে শাস্তি দিয়ে প্রবেশনে পাঠাবো?? আর এত সব কাকতালীয় ঘটনা আজ একসাথে একদিনে কেন?? কে করছে এসব?? কেন করছে?? আমাকে কি দেখানোর চেষ্টা চলছে বা কলম দিয়ে কি লেখানো হচ্ছে?কে দেখাচ্ছে? সব কি মিথ্যা???এই সবই কি সাজানো? যা আমার সামনে এসেছে তা কি মিথ্যা?? কেন আমার সামনে এই সব আসবে??

ঠিক আছে। আমি তাই করবো যা আমি দেখছি।

লোকটাকে বললাম -যান, আপনার বোনকে নিয়ে বাড়ি যান। এই হিন্দু,মুসলিম দুই ভাই বোন আদালতের গন্ডি ছেড়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হলেন। যে বন্ধনে অদৃশ্য কেউ একজন তাদেরকে বেঁধে দিয়েছে কার সাধ্য সেটা ভাংগে!!! আমরাতো নগন্য মানুষ মাত্র।

মহিলার বক্তব্যের উপরে আমি ছোট্ট করে লিখলাম- সাক্ষীর বক্তব্য ৫৪০ ধারায় গৃহীত। নীল কাগজের পেছনে লিখলাম - মামলার এজাহারকারী মিথ্যা,হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মূল অভিযুক্তকে ছেড়ে দিয়ে তার জায়গায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলার অভিযুক্ত করেছেন।চালান দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখে, তিনি স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কেন তাকে ২৫০ ধারায় শাস্তি দেওয়া হবে না এবং তার কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর নির্দেশ দেওয়া হবে না সে মর্মে কারণ দর্শাবেন।

মৌখিক ভাবে পরের তারিখে আসামী, এই মহিলা আর আজকের সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিলাম। ছবির শেষে যেমন সবার মুখে হাসি থাকে, তেমনি সবার মুখে স্মিত হাসি থাকলো কি??

আমার অনেক সহকর্মী,অগ্রজ,অনুজ বিচারক এজলাসে উঠার আগে ওজু করে নামাজ পড়েন। এজলাস থেকে নামার পরে আবার নামাজ পড়েন। এটা সম্ভবত কোন বিশেষ এবাদত। স্রষ্টার সাহায্য চান বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষমা চান হয়তো। বিচারক জীবনের শুরুর দিকে এজলাসে কখনো কখনো একটা অতিপ্রাকৃত, অস্বাভাবিক বিষয় ঘটতো । এটা ঠিক ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝার নয়। এমন কিছু যা ব্যাখ্যাতীত। আমি যখন খেয়াল করলাম তখন কি মনে করে একটা চিহ্ন পাতায় দিতাম। রায় দেওয়ার সময় দেখতাম চিহ্নের সত্যতা। এই ব্যাখ্যাতীত বিষয় দিনের পর দিন ঘটে চলতো। কিন্তু, সব মামলায় নয়। আমি এমনকি এক পর্যায়ে আমার সাথে কি হচ্ছে এটা নিয়ে ভয় পেতে শুরু করলাম। এই বিষয়টা শুধু এজলাসে ঘটতো। অন্য কোথাও নয়। এটা এমন কিছু যা একটা ইংগিতের মতো।শুধু আমার শরীর বুঝতে পারতো। আমি ঐ ইংগিত চিহ্ন দিয়ে লিখতাম।

প্রথম মাকে বললে তিনি বললেন -নামায পড়। সহধর্মিণীকে বললে বলে -নামাজ কলমারতো ধারে দিয়ে যাও না। নামাজ পড়।

কোন এক ট্রেনিংয়ে শ্রদ্ধেয় একজন অগ্রজ বিচারকের সাথে দেখা। ভাই অসম্ভব ধার্মিক এবং আমার প্রিয় একজন মানুষ। আমি তাকে বললাম। তিনি সাথে সাথে গম্ভীর হয়ে গেলেন। বললেন- নামায পড়।তার স্ত্রী আমাদের প্রিয় আপাও কিছু বললেন না। ভাই সাথে আরো অনেক ধর্মীয় কথা বললেন। কাউকে বলতেও মানা করলেন। আমি বুঝতে পারছিলাম না উনি কি বোঝাচ্ছেন। আমি যখন ডেপুটেশনে ( বিচার কাজের বাইরে) ছিলাম এটা কখনোই হতো না। এটা শুধুমাত্র এজলাসে হতো। আমার ঐ অতিপ্রাকৃত বিষয় এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি আগে ভয় পেতাম। কিন্তু, আমি এখন চাই আমার বা আমাদের বোধ বুদ্ধি বিবেচনা যেখানে শুধু মানুষ হওয়ার কারনে সীমাবদ্ধ সেখানে বিচারের সময় আমার বা আমাদের সাথে এমন কিছু ঘটুক। সময়ের সাথে সাথে হয়তো আমার আমিতে আস্তরণ পড়েছে। কলুষিত হয়ে গিয়েছি। কিন্তু,কলুষ মুক্ত কোন অগ্রজ বিচারক বা আমার ব্যাচমেট বা অনুজ,নবীন কোন বিচারকের সাথে হয়তো এমন কিছু হচ্ছে!!!এই মিথ্যার জগতে আমি আবার সত্য অনুভব করতে চাই। আমি বুঝতে চাই ন্যায় বিচার কি??

কি করলে হয় ন্যায়বিচার?? সামান্য ১০,০০০ টাকার এই শাস্তি কার প্রাপ্য?? পেটের দায়ে এই পথে আসা সন্তান সম্ভবা স্বামী হারা এই মহিলার? নাকি নিয়তির ফেরে ঐ ট্যাক্সিতে থমকে গিয়ে আটকে পড়া এই অভিযুক্তের? নাকি টাকার বিনিময়ে আয়নাবাজি করে একজনের জায়গায় আরেকজনকে চালান দেওয়া এজাহারকারীর!!! আমরা কেন এত সহজে অন্যের জীবনকে ঠুনকো ভেবে প্রবৃত্তির পথে হাঁটি? কেন অন্যের জীবনকে ধবংস করে দেই? এই অধিকার কি স্বয়ং স্রষ্টা মানুষকে দিয়েছেন? না দিয়ে থাকলে মানুষের কিসের এতো অহংকার?

ন্যায় বিচার কাকে বলে? ন্যায়বিচার কোথায়!!!!

( লেখাটা আবার বড় হয়ে গিয়েছে। ক্ষমাপ্রার্থী। ভালো থাকুন।সুস্থ থাকুন। নিরাপদে থাকুন)

https://silkcitynews.com/401196
07/02/2020

https://silkcitynews.com/401196

নিজস্ব প্রতিবেদক সরকারী সাক্ষীকে বার বার সমন ও আদালতে হাজির হওয়ার বিভিন্ন আদেশ দেওয়া সত্বেও হাজির না হওয়ায় বেতন .....

30/08/2019

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ আইনজীবিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

যুগ যুগ ধরে সবাই আইনজীবিদের ব্যবহার করে আসছে।বিপদে পড়লে আইনজীবি ছাড়া গতি নেই।আর এমনিতে আইনজীবিদের প্রোটেকশন দেবার মত কোন আইন নেই।বিচার বিভাগ স্বাধীন।বিজ্ঞ আইনজীবিগন বিচার বিভাগেরই একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।কিন্তু আইনজীবিদের প্রটৌকলের ক্ষেত্রে সবার এত দ্বিধা কেন?বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আর আইনজীবি সমিতি আছে আইনজীবিদের পেশাগত অসদাচরন নিয়ে বিচার করার জন্য।

কিন্তু আইনজীবিদের কোন রক্ষাকবচ নেই।সরকারী কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের রক্ষাকবচ হিসাবে রয়েছে ফৌঃ কাঃ বিঃ এর ১৯৭ ধারা।জুডিসিয়াল অফিসারদের জন্য রয়েছে জুডিসিয়াল অফিসারস প্রোটেকশন এ্যাক্ট।ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ আইনজীবিদের কোন অবস্থান নেই।আইনজীবিদের ষ্ট্যাটাস আর দাপ্তরিক অবস্থান নিয়ে সুষ্পষ্ট কোন ব্যখ্যা কোথাও নেই।আভিধানিক অর্থে এবং মহামান্য আপীল বিভাগের জবানী মতে আইনজীবিরা দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক আর কোর্ট অফিসার।কোর্ট অফিসারের অবস্থান সম্পর্কে কোন আইনে কিছু বলা নেই।

তবে একজন কোর্ট অফিসার এর অবস্থান সম্পর্কে ৪৪ ডি,এল,আর ২১৯ (এ,ডি) তে একটু স্পর্শ করা হয়েছে।সেটাও বিজ্ঞ আইনজীবি কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট নিয়ে।বলা হয়েছে,বিজ্ঞ আইনজীবি কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট কে অবহেলা করলে কনটেম্ট অব কোর্ট হবে।কিন্তু এছাড়া আর কোন দিক নির্দেশনা নেই।কিন্তু ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ দশ বছরের অধিক প্র্যাক্টিস করেছেন এমন আইনজীবির কথাও বলা নেই।মূলতঃ আইনজীবিদের কোন রক্ষাকবচ নেই।একজন সরকারী পেয়াদা র বিরুদ্ধে মামলা করতে পূর্বানুমতি লাগে।কিন্তু একজন আইনজীবির বেলায় এমন আইন বা নিয়ম অনুপস্থিত কেন?

কিন্তু একজন আইনজীবি যখন বর্তমান সমাজের সন্ত্রাসী মোয়াক্কেল বা বিরোধী পক্ষের সন্ত্রাসীদের আক্রমনের শিকার হন,তখন তাদের বিচার চাওয়ার মত আলাদা কোন প্রতিষ্ঠান নেই।বাংলাদেশ বার কাউন্ডিল বা আইনজীবি সমিতিতে অভিযোগ দেবারও সুযোগ নেই।তাহলে বলা যায়,মানবাধিকার রক্ষাকারীদের মানবাধিকার নেই!উন্নত বিশ্বে অবশ্য চিত্রটা ভিন্নরকম।যাই হোক,ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ আইনজীবিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কোর্ট অফিসার এর যথার্থ সুস্পষ্ট ব্যখ্যা সম্বলিত তাদের প্রোটেকশন এর ব্যবস্থা করতে হবে।তা না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্টায় এ এক বড় ধরনের ব্যত্যয়।তাই বিশেষজ্ঞদের মতে,সরকার ও বিচারবিভাগ এর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করে আইনজীবিদের প্রোটেকশন ও প্রটৌকল এর ব্যবস্থা করা অপরিহার্য।

08/07/2019

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের (পরকীয়ার) সাজা সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা কেন অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা...

29/06/2019

ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে টাকা লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক চেক। অর্থ আদায়ে চেকের আদান প্র.....

Address

Gazipur

Opening Hours

Monday 17:00 - 12:00
Tuesday 17:00 - 12:00
Wednesday 17:00 - 12:00
Thursday 17:00 - 12:00
Friday 17:00 - 12:00
Saturday 17:00 - 12:00
Sunday 17:00 - 12:00

Telephone

+8801911454362

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LAW FOR PEACE ASSOCIATION, BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to LAW FOR PEACE ASSOCIATION, BD:

Share