23/04/2026
বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে গেলে আমরা প্রায়ই খতিয়ান শব্দটি শুনি। জমির মালিকানা, পরিমাণ, দাগ নম্বর ইত্যাদি তথ্য সরকারিভাবে যে নথিতে লিপিবদ্ধ থাকে সেটাকেই খতিয়ান বলা হয়। অনেকেই জানেন না যে বাংলাদেশে খতিয়ান সাধারণত ৪ প্রকার।
আজ সহজ ভাষায় জানবো — CS, SA, RS এবং BS খতিয়ান কী এবং এদের পার্থক্য কোথায়।
১️। CS খতিয়ান (Cadastral Survey)
CS খতিয়ান হচ্ছে বাংলাদেশে জমির প্রথম জরিপের খতিয়ান।
এই জরিপ করা হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে
সময়কাল: ১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে
এটিকে অনেক সময় C.S. Record বা Cadastral Survey Record বলা হয়
এই জরিপে জমির মালিক, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
২️। SA খতিয়ান (State Acquisition Survey)
SA খতিয়ান তৈরি হয় পাকিস্তান আমলে।
সময়কাল: ১৯৫৬ – ১৯৬০ সালের মধ্যে
জমিদারি প্রথা বাতিল হওয়ার পর সরকার এই জরিপ পরিচালনা করে
এই খতিয়ানে মূলত জমির প্রকৃত ভোগদখলকারীকে মালিক হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
৩️। RS খতিয়ান (Revisional Survey)
RS খতিয়ান করা হয় আগের জরিপের ভুল সংশোধনের জন্য।
সময়কাল: বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলায় করা হয়েছে
SA জরিপের ভুল বা পরিবর্তন সংশোধন করে নতুনভাবে রেকর্ড তৈরি করা হয়
অনেক ক্ষেত্রে বর্তমানে জমির মালিকানা যাচাই করতে RS খতিয়ানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৪️। BS খতিয়ান (Bangladesh Survey)
BS খতিয়ান হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের জরিপ।
এটি সর্বশেষ জরিপ, বর্তমানে অনেক এলাকায় এই জরিপ চলছে
এই খতিয়ানে জমির বর্তমান মালিকানা ও দখল অবস্থার তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।
CS, SA, RS, BS খতিয়ানের মূল পার্থক্য
CS → ব্রিটিশ আমলের প্রথম জরিপ
SA → জমিদারি উচ্ছেদের পর পাকিস্তান আমলের জরিপ
RS → আগের জরিপ সংশোধন করে নতুন রেকর্ড
BS → স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বশেষ জরিপ
তাই জমি কেনা-বেচার আগে অবশ্যই সর্বশেষ খতিয়ান যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
জমি কেনার আগে সবসময় খতিয়ান, দাগ নম্বর, মালিকানা এবং নামজারি (মিউটেশন) ভালোভাবে যাচাই করে নিন। এতে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা এড়ানো যায়।