10/10/2025
#আলোচ্য বিষয় -
দলিল নম্বর ও তারিখ থাকা সত্ত্বেও দলিল তল্লাশি দিলে অফিস থেকে বলে বালাম বই এর পাতা ছেড়া, দলিল নেই, এমতাবস্থায় আপনার সর্বশেষ করনীয় কি জেনে নিন।
🔵করনীয় কি
১। রেকর্ড রুমে আবেদন এবং রিসিভ কপি সংরক্ষণ করতে হবে।
২। দলিল না পেলে লিখিত নিতে হবে।
৩। মহামান্য হাইকোর্টে রিট করতে হবে।
৪। আদালত আপনার স্বপক্ষে রায় বা ডিগ্রি দিবে।
৫। ডিগ্রি মূলে আপনি জমির মালিকানা অর্জন করবেন।
৬। এই ডিগ্রি আপনার আসল দলিল হিসেবে কাজ করবে।
🔵এবার বিস্তারিত
🔴প্রথম ধাপ – নিজের প্রমাণ সংগ্রহ:
সবার আগে আপনার জমির সকল তথ্য সংগ্রহে রাখতে হবে, যেমন
✅দাগ নম্বর
✅নামজারি
✅খতিয়ান
✅দাখিলা
🔴দ্বিতীয় ধাপ- আবেদন
✅জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে দলিলের নম্বর ও তারিখ দিয়ে আবেদন করতে হবে।
✅আবেদন জমা দিয়ে অবশ্যই প্রাপ্তি রশিদ সংগ্রহ করবেন।
🔴তৃতীয় ধাপ-দলিল না পেলে
✅যদি রেজিস্ট্রার অফিস বলে দলিল পাওয়া যাচ্ছে না বা বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া, তবে লিখিতভাবে সনদ (Non-availability Certificate) চাইবেন।
✅মৌখিক কথায় থামবেন না। লিখিত নোটিশ/সার্টিফিকেট চাইবেন, লেখে দেন যে পাতা ছেড়া যা আপনার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🔴 লিখিত না দিলে করণীয় কি?
✅১) প্রাপ্তি রশিদ সংগ্রহ করুন
👉আপনার আবেদন অবশ্যই জমা দেবেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্তি রশিদ (Received Copy) নিবেন।
👉যদি তারা রশিদ না দেয়, তাহলে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় আপনার কপি/ডুপ্লিকেটে সিল ও সই করাতে হবে।
💠 এটা আপনার প্রমাণ হবে যে আপনি অফিসে আবেদন জমা দিয়েছেন।
🔴অফিস যদি লিখিত জবাব না দেয়, আপনি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর আওতায় লিখিতভাবে তথ্য চাইতে পারেন। তারা বাধ্য থাকবে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে। যদি তারা জবাব না দেয়, আপনি তথ্য কমিশন-এ অভিযোগ করতে পারবেন, যেখানে জরিমানার বিধান আছে।Form-লিল পাওয়া এটা আপনারা আইনগত অধিকার
🔵🔵দলিল তল্লাশি ও কপি পাওয়ার আইনগত অধিকার কি জেনে নিন। 🔵🔵
🔴১) Registration Act, 1908 (নিবন্ধন আইন, ১৯০৮)
💠ধারা ৫৭(১)
> রেজিস্ট্রি অফিসের বই (Register Books) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগ্রহী ব্যক্তি দলিলের অনুসন্ধান (Search) করতে পারবে।
👉 অর্থাৎ, দলিল নম্বর, তারিখ, নাম দিয়ে আপনি সার্চ করার অধিকার রাখেন।
💠ধারা ৫৭(২)
আগ্রহী ব্যক্তি দলিলের নকল (Certified Copy) চাইলে রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার তা দিতে বাধ্য।
👉 আপনি দলিলের কপি চাইলে অফিস আপনাকে দিতে বাধ্য, তারা ইচ্ছে করে আটকাতে পারবে না।
💠ধারা ৫৭(৩)
> কপি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করতে হবে।
👉 শুধু ফি দিলে আপনার কপি পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত।
💠ধারা ৫৭(৫)
> যদি দলিল পাওয়া না যায় বা নথি হারানো থাকে তবে অফিসকে লিখিতভাবে কারণ দেখিয়ে উত্তর দিতে হবে।
👉 তারা যদি বলে "পাতা ছেঁড়া, দলিল নাই" – তবে তা লিখিতভাবে জানাতে বাধ্য। মৌখিকভাবে বললে আইন লঙ্ঘন করছে।
🔴২) Registration Rules (বাংলাদেশ নিবন্ধন বিধি)
নিবন্ধন বিধিমালায় বলা আছে –
Form-37 দিয়ে Certified Copy এর আবেদন করতে হবে।
অফিস আবেদন নিলে প্রাপ্তি রশিদ (Receipt) দিতে বাধ্য।
🔴৩) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (Right to Information Act, 2009)
✅ধারা ৪(১)
> প্রত্যেক নাগরিক যেকোনো সরকারি অফিস থেকে তথ্য চাইতে পারবেন।
✅ধারা ৬(১)
> আবেদন করলে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য দিতে হবে, না হলে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।
✅ধারা ৬(৫)
> তথ্য গোপন করলে বা না দিলে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করা যাবে।
👉 অর্থাৎ, আপনি RTI আবেদন করলে অফিস ২০ দিনের মধ্যে লিখিত উত্তর দিতে বাধ্য।
🔴৪) সংবিধান (বাংলাদেশ সংবিধান, ১৯৭২)
✅অনুচ্ছেদ ৩১
> আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার – প্রত্যেক নাগরিক আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাবে।
✅অনুচ্ছেদ ৪৪
> মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য হাইকোর্টে রিট করার অধিকার রয়েছে।
🔵🔵 যদি অফিস আপনাকে লিখিত না দেয়, আপনার সংবিধানগত অধিকার হলো হাইকোর্টে রিট করা🔵🔵
🔴🔴রিট করবেন কিভাবে (ধাপে ধাপে)🔴🔴
💠১. আইনজীবী নিয়োগ করুন
👉হাইকোর্টে রিট করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী (High Court Division-এ প্র্যাকটিস করেন এমন) নিয়োগ করতে হবে।
👉কারণ, রিট আবেদন সাধারণ মানুষ সরাসরি করতে পারেন না, অবশ্যই আইনজীবীর মাধ্যমে করতে হয়।
💠২. রিটের ধরন নির্ধারণ
✅এক্ষেত্রে আপনি রিট অব ম্যান্ডামাস (Mandamus) করতে পারবেন।
✅Mandamus মানে হলো – সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা।
✅এখানে দায়িত্ব হলো: সাব-রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রার অফিস আপনার দলিলের সঠিক তথ্য যাচাই করে কপি প্রদান করবে।
💠৩. রিট পিটিশন প্রস্তুতকরণ
রিটে সাধারণত যা থাকে –
✅1. পিটিশনার (আপনি) এর নাম, ঠিকানা।
✅2. রেসপন্ডেন্ট (যাদের বিরুদ্ধে রিট) –
👉সাব-রেজিস্ট্রার,
👉জেলা রেজিস্ট্রার,
👉Inspector General of Registration (IGR),
👉ভূমি মন্ত্রণালয় (প্রয়োজনে)।
✅3. বিষয়বস্তু:
👉আপনার দলিল নম্বর, তারিখ, দলিলের ধরণ।
👉অফিস বলেছে বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া।
👉দলিল না দেওয়ায় আপনার ক্ষতি হচ্ছে।
👉লিখিত প্রত্যাখ্যানও দেয়নি।
✅4. আপনার প্রার্থনা (Prayer):
👉হাইকোর্ট যেন নির্দেশ দেন দলিল সঠিকভাবে যাচাই করে কপি প্রদান করতে।
👉প্রয়োজনে বালাম বই পুনর্গঠন বা অন্য নথি থেকে তথ্য উদ্ধার করতে।
💠৪. রিট ফাইল করা
✅আপনার আইনজীবী হাইকোর্টের রিট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করবেন।
✅কোর্ট ফি ও স্ট্যাম্প (প্রায় ২০০-৩০০ টাকা) দিতে হবে।
💠৫. শুনানি ও আদেশ
✅কোর্ট রেসপন্ডেন্টদের নোটিশ দিবে।
✅সাধারণত কোর্ট প্রথমে রুল (Rule Nisi) জারি করে জিজ্ঞেস করবে – কেন দলিল না দেওয়াটা বেআইনি হবে না?
✅পরে শুনানি শেষে কোর্ট নির্দেশ দিবে (Order)।
💠৬. সম্ভাব্য কোর্টের আদেশ
✅অফিসকে আপনার দলিল অনুসন্ধান করে কপি দিতে হবে।
✅যদি বালাম বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে অন্যান্য নথি (Volume Book, Microfilm, Digital Copy, মিউটেশন রেকর্ড ইত্যাদি) থেকে তথ্য উদ্ধার করে দিতে হবে।
✅লিখিত কারণপত্র দিতে হবে।
✅অবহেলার প্রমাণ হলে অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হতে পারে।
🔴 কোন কোন আইনের ভিত্তিতে আপনি রিট করতে পারবেন?
✅1. বাংলাদেশ সংবিধান – 102 অনুচ্ছেদ
👉Fundamental Rights ভঙ্গ হলে, বা সরকারি অফিস কর্তব্যে অবহেলা করলে, হাইকোর্টে রিট করা যায়।
✅2. Registration Act, 1908
👉Section 51, 57 – দলিল রেজিস্ট্রার অফিসে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
👉Section 60 – দলিল রেজিস্ট্রার ভেরিফাই করে কপি প্রদানের দায়িত্বে।
✅3. Evidence Act, 1872 – Section 74, 76
👉পাবলিক ডকুমেন্ট (যেমন দলিল) নাগরিক কপি পাওয়ার অধিকার রাখে।
✅4. Right to Information Act, 2009 – Section 4, 7, 9
👉নাগরিক তথ্য চাইলে সরকারি অফিস লিখিতভাবে দিতে বাধ্য।
🔴🔴রিটের পরও দলিল না পাওয়া গেলে করণীয়🔴🔴
✅১. হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ
👉হাইকোর্ট যদি দেখে দলিল উদ্ধার করা যাচ্ছে না, তবে সাধারণত বলে দেবে:
👉সাব-রেজিস্ট্রার বা জেলা রেজিস্ট্রার লিখিতভাবে সার্টিফিকেট দিবে যে “এই দলিলটি অফিসে পাওয়া যায়নি / পাতা ছেঁড়া / নষ্ট হয়েছে”।
👉এই লিখিত নথি ভবিষ্যতে আপনার প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে।
✅২. ডিক্লারেটরি স্যুট (Declaratory Suit) করবেন – সিভিল কোর্টে
👉দলিল না থাকলেও আপনি সিভিল কোর্টে মামলা করতে পারবেন।
👉মামলা হবে Specific Relief Act, 1877 – Section 42 অনুযায়ী।
👉এখানে আপনি প্রার্থনা করবেন → কোর্ট যেন ঘোষণা দেয় যে আপনি বৈধ মালিক এবং দলিল হারিয়ে গেছে।
👉কোর্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ (মিউটেশন, খাজনা রসিদ, মৌজা রেকর্ড, বিক্রেতা/সাক্ষীর সাক্ষ্য) দেখে মালিকানা ঘোষণা দেবে।
🔵একবার কোর্ট ঘোষণা দিলে সেটা আসল দলিলের সমান কার্যকর হবে। আর এই ডিগ্রি বা ঘোষণা দিয়ে আসল মালিকানা প্রমাণ ও পরবর্তীতে জমি ক্রয় বিক্রি করতে পারবেন।
বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্য কে জানতে সাহায্য করুন।
#ওয়ারিশানসম্পত্তি #জমিদার #জমির #জমি #ওয়ারিশান #দলিল