30/04/2026
সম্প্রতি এনবিআর প্রকাশিত অডিট লিস্টে নাম এসেছে?
আয়কর রিটার্ন অডিটে পড়লে ঘাবড়ে না গিয়ে আইনি ও পদ্ধতিগতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নোটিশ পাওয়ার পর একজন করদাতার করণীয়..
১. আয়কর আইনের কত ধারায় নোটিশটি দেওয়া হয়েছে এবং কেন দেওয়া হয়েছে তা বুঝে নিন। সাধারণত তথ্যের গরমিল, বড় অংকের লেনদেন বা দৈবচয়ন (Random Selection) পদ্ধতিতে অডিট হতে পারে।
২. নোটিশে উল্লেখ করা সময়ের মধ্যে অবশ্যই উপ-কর কমিশনারের (DCT) কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে বা প্রয়োজনীয় জবাব দাখিল করতে হবে। সময়মতো সাড়া না দিলে একতরফা কর নির্ধারণ বা জরিমানার ঝুঁকি থাকে।
৩. রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় সব মূল কপি ও ফটোকপি গুছিয়ে রাখুন। যেমন:
-ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সার্টিফিকেট।
-বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে স্যালারি সার্টিফিকেট।
-বিনিয়োগের প্রমাণপত্র (সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস ইত্যাদি)।
-সম্পদ কেনা বা বিক্রির দলিল (যদি থাকে)।
-ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে অডিট রিপোর্ট ও ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার ইত্যাদি।
৪. রিটার্নে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকলে তা আগেই চিহ্নিত করুন। যদি কোনো আয়ের উৎস বা খরচ দেখাতে ভুল হয়ে থাকে, তবে অডিট চলাকালীন তা স্বীকার করে সংশোধনের সুযোগ নেওয়া যেতে পারে।
৫. অডিট একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া। তাই নোটিশ পাওয়ার পর একজন অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবী বা ট্যাক্স কনসালটেন্টের সাথে যোগাযোগ করুন। তিনি আপনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে কর অফিসে সঠিক উপস্থাপনায় সহায়তা করবেন।
৬. কর কর্মকর্তার জিজ্ঞাসার বিপরীতে সঠিক ও যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিন। কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে না পারলে সেটি কেন সম্ভব নয়, তা আইনি ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করুন।
৭. কর অফিসের সাথে যোগাযোগের সময় মার্জিত আচরণ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। অসহযোগিতা করলে বা ভুল তথ্য দিলে অডিট প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে।
৮. কর অফিসে কোনো নথিপত্র জমা দিলে অবশ্যই তার রিসিভ কপি বা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র সংগ্রহ করুন। ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে এটি কাজে লাগবে।
মনে রাখবেন, অডিট মানেই শাস্তি নয়; বরং এটি আপনার আয়ের স্বচ্ছতা যাচাই করার একটি আইনি প্রক্রিয়া। সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এটি সহজেই সমাধান করা সম্ভব।
রাকিবুল হাসান রাসেল
আয়কর আইনজীবী
ঢাকা ট্যাক্সেসবার এসোসিয়েশন