16/05/2026
বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) মূলত ট্যাক্স ফাঁকি রোধ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আইনগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ভ্যাট রিটার্ন অডিটের (VAT Audit) সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে এনবিআর তাদের ডিজিটাল e-VAT সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড পদ্ধতিতে রিস্ক প্রোফাইলিং করে অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করছে।
একটি ভ্যাট রিটার্ন অডিটে পড়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) রিটার্নে অসঙ্গতি (Data Mismatch)
ক্রয়-বিক্রয়ের অমিল: আপনার সাবমিট করা মুসক ৯.১ রিটার্নের তথ্যের সাথে যদি আপনার সরবরাহকারী (Supplier) বা ক্রেতার সাবমিট করা তথ্যের মিল না থাকে।
খ) টার্নওভারের অমিল: বার্ষিক আয়কর রিটার্নে (Income Tax Return) প্রদর্শিত বিক্রয় বা টার্নওভারের পরিমাণের সাথে মাসিক ভ্যাট রিটার্নের বিক্রয়ের পরিমাণের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে।
২. ই-ভ্যাট সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয় রিস্ক সিলেকশন
বর্তমানে এনবিআর-এর e-VAT সিস্টেম নির্দিষ্ট কিছু গাণিতিক প্যারামিটার বা ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করে। যেমন ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেই এই অটোমেটেড সিস্টেমে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
৩. ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (Input Tax Credit) ও রিফান্ড দাবি , অস্বাভাবিক রেয়াত (Rebate): বিক্রয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট রেয়াত দাবি করলে।
ভ্যাট রিফান্ড: সম্প্রতি চালু হওয়া অনলাইন ই-ভ্যাট রিফান্ড সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের টাকা ফেরত বা রিফান্ড দাবি করলে, সেটি সঠিক কি না তা নিশ্চিত করতে অডিট হতে পারে।
৪. নথিপত্রের অভাব ও চালান (Mushak) না কাটা
বিক্রয়ের সময় সঠিক নিয়মে মুসক ৬.৩ (Sales Invoice) ইস্যু না করা কিংবা পণ্য পরিবহনের সময় মুসক ৬.৫ ব্যবহার না করা।
ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হিসাব বহি বা খাতা (যেমন: ক্রয় হিসাব পুস্তক মুসক ৬.১, বিক্রয় হিসাব পুস্তক মুসক movie ৬.২) সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে
৫. ক্রমাগত শূন্য বা লোকসান রিটার্ন (Continuous Zero Return) ব্যবসা সচল থাকা সত্ত্বেও মাসের পর মাস 'শূন্য রিটার্ন' (Zero VAT Return) জমা দিলে এনবিআর-এর কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা অডিটের উদ্যোগ নেন।
৬. নির্দিষ্ট খাতের ওপর বিশেষ নজর
কিছু নির্দিষ্ট উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ খাত (যেমন: ম্যানুফ্যাকচারিং, বড় রিটেইল চেইন বা কমার্শিয়াল ইম্পোর্টার), যেখানে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা বেশি থাকে, সেগুলোকে নিয়মিত বা দৈবচয়ন (Random) ভিত্তিতে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অডিটের আওতায় আনে।
ভ্যাট অডিট এড়াতে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে সঠিক তথ্য দিয়ে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া এবং ব্যবসায়িক সমস্ত চালানের কপি ও হিসাবপত্র ন্যূনতম ৫ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত।