31/07/2026
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭
উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ ও যাচাইকরণ
১. ধারা ১৪৭-এর মূল উদ্দেশ্য
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭-এর মূল উদ্দেশ্য হলো উৎসে কর কর্তন (TDS) বা উৎসে কর সংগ্রহ (TCS) যথাযথভাবে হয়েছে কি না তা যাচাই করা এবং আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
অর্থাৎ, এটি মূলত কোনো করদাতার সাধারণ আয়কর রিটার্ন পুনর্মূল্যায়নের ধারা নয়; বরং উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ সংক্রান্ত compliance যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
২. কারা ধারা ১৪৭-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
কর কমিশনার অথবা মহাপরিচালক (পরিদর্শন) কিংবা মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এই ধারার অধীনে যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
৩. ধারা ১৪৭(১)-এর অধীনে ক্ষমতা
উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে—
ক. প্রবেশ ও পরিদর্শন
- প্রাঙ্গণ ও স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন;
- হিসাব বহি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড পরীক্ষা করতে পারবেন;
- পণ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখতে পারবেন।
খ. কম্পিউটার ও ডিজিটাল তথ্য যাচাই
- কম্পিউটারে সংরক্ষিত encrypted data পাঠযোগ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, code বা technology-তে প্রবেশ করতে পারবেন;
- electronic record বা system থেকে data, image বা input extract করতে পারবেন;
- প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে system-এ প্রবেশের জন্য password break করার ক্ষমতাও আইনে রাখা হয়েছে।
গ. নথি ও তথ্যের কপি/বিশ্লেষণ
- হিসাব বহি, দলিল, তথ্য, image ইত্যাদির copy বা analysis করতে পারবেন;
- প্রয়োজনীয় নথিতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা stamp দিতে পারবেন;
- নথির copy বা extract নিতে পারবেন।
ঘ. জব্দ করার ক্ষমতা
প্রয়োজনে হিসাব বহি, দলিলাদি, electronic records এবং system জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবেন।
ঙ. নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা
কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্যক্রম করতে অথবা কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিতে পারবেন।
চ. বিশেষজ্ঞ/মূল্যায়নকারী/বাহিনী সঙ্গে নেওয়া
প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ, মূল্য নির্ধারক বা বাহিনী সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে।
---
৪. কর্তৃপক্ষকে বাধা দিলে কী হবে?
ধারা ১৪৭(২) অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির প্রাঙ্গণ বা স্থানে প্রবেশ করলে অথবা প্রবেশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে এবং তাকে বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতা করা হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে।
অতএব, TDS/TCS যাচাইয়ের সময় কর্তৃপক্ষকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
---
৫. তথ্য বা নথি দিতে ব্যর্থ হলে কী হতে পারে?
ধারা ১৪৭(৩) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এই ধারা অথবা আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট অংশের বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হলে—
1. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করা হতে পারে;
2. ব্যাখ্যা না দিলে একতরফাভাবে (ex-parte) কর নির্ধারণ করা হতে পারে;
3. নির্ধারিত কর এবং আরোপিত জরিমানা আদায় করা হতে পারে।
অর্থাৎ, নোটিশ বা যাচাই কার্যক্রমকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
---
৬. বাস্তব জীবনে ধারা ১৪৭ কোথায় গুরুত্বপূর্ণ?
ধারা ১৪৭ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
- কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের TDS compliance যাচাইয়ে;
- ঠিকাদার/সরবরাহকারীকে payment-এর ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন যাচাইয়ে;
- professional/service payment-এর TDS যাচাইয়ে;
- salary থেকে TDS কর্তনের ক্ষেত্রে;
- non-resident payment-এর ক্ষেত্রে withholding tax যাচাইয়ে;
- ব্যাংক/হিসাবপত্র ও payment records-এর সঙ্গে TDS-এর মিল যাচাইয়ে;
- e-TDS ও accounting records-এর তথ্যের সামঞ্জস্য যাচাইয়ে।
---
৭. ধারা ১৪৩ ও ১৪৭-এর সম্পর্ক
ধারা ১৪৩-এ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহে ব্যর্থতা, কম হারে/কম পরিমাণে কর্তন বা সংগ্রহ এবং কর্তিত/সংগৃহীত অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা না দেওয়ার ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ধারা ১৪৭ মূলত উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের compliance নিশ্চিত ও যাচাই করার ক্ষমতা প্রদান করে।
সহজভাবে বলা যায়—
ধারা ১৪৩ = TDS/TCS compliance না করলে ফলাফল
ধারা ১৪৭ = TDS/TCS compliance যাচাই করার ক্ষমতা
---
৮. ধারা ১৪৭ ও ধারা ১৪৮
ধারা ১৪৭-এর মাধ্যমে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের যাচাই করা হলেও, ধারা ১৪৮ অনুযায়ী এই অংশের অধীনে কর আরোপের ক্ষমতা অন্যান্য পদ্ধতিতে কর আদায়ের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন করে না।
অর্থাৎ, ধারা ১৪৭-এর কার্যক্রমকে অন্য কোনো আইনগত কর আদায়ের পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে না।
---
৯. করদাতার জন্য করণীয়
ধারা ১৪৭-এর অধীনে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উচিত—
১. TDS/TCS-এর সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা।
২. Payment voucher, bill, invoice ও agreement সংরক্ষণ করা।
৩. ব্যাংক payment-এর প্রমাণ রাখা।
৪. TDS certificate যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা।
৫. e-TDS/চালান এবং সরকারি কোষাগারে জমার তথ্য মিলিয়ে রাখা।
৬. Accounting records-এর সঙ্গে TDS records-এর reconciliation করা।
৭. কোনো নোটিশ পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দেওয়া।
৮. যাচাই কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।
৯. কোনো তথ্য বা নথি না থাকলে অনুমানভিত্তিক তথ্য না দিয়ে প্রকৃত অবস্থা ব্যাখ্যা করা।
---
১০. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ধারা ১৪৭-এর অধীনে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা যথেষ্ট বিস্তৃত। বিশেষ করে হিসাব বহি, electronic records, computer system, data এবং অন্যান্য দলিল যাচাই ও প্রয়োজনে জব্দ করার ক্ষমতা রয়েছে।
তাই কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিতভাবে—
Payment → TDS Calculation → Deduction → Deposit → Certificate → Accounting Entry → e-TDS Record
এই পুরো chain-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।
---
উদাহরণ,
প্রশ্ন: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ কী?
উত্তর:
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ হলো “উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ ও যাচাইকরণ” সংক্রান্ত বিধান। এ ধারার অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ TDS/TCS compliance যাচাইয়ের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, হিসাব বহি, দলিলাদি, electronic records ও computer system পরীক্ষা, copy/extract, analysis এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জব্দ করতে পারেন। কর্তৃপক্ষকে বাধা বা অসহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে এবং আইন পরিপালনে ব্যর্থ হলে একতরফাভাবে কর নির্ধারণ ও জরিমানা আদায় করা যেতে পারে।
মনে রাখার সহজ সূত্র:
“১৪৭ = TDS/TCS Verification + Inspection + Digital Data Access + Seizure + Penalty”