15/05/2026
সাইবার অপরাধের শিকার হলে দ্রুত এবং সঠিক স্থানে অভিযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু স্থান এবং পদ্ধতি রয়েছে।
অভিযোগের স্থান ও পদ্ধতি নির্ভর করে অপরাধের প্রকৃতি ও আপনার অবস্থানের ওপর।
অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান
আইনজীবী ও লেখক।
সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানানোর স্থানসমূহ:-
সাইবার অপরাধের জন্য প্রধানত দুটি স্থানে অভিযোগ করা যায়: আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (Police & Cyber Cell) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BTRC & ICT)।
১. বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট (Cyber Crime Unit)
👁️🗨️👁️🗨️ গুরুতর সাইবার অপরাধের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ জানানোর স্থান।
ক. সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার (CID Cyber Police Centre) | হটলাইন/যোগাযোগ: ৯৯৯, ০১৭৬৯৬৯১২২৭ (শুধুমাত্র সাইবার) ।হ্যাকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট জালিয়াতি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক, রাষ্ট্রবিরোধী সাইবার অপরাধ।
খ. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (Cyber Crime Investigation Division) | ফেসবুক পেজ: DMP Cyber Crime স্থান: মিন্টো রোড, ঢাকা। | ফিশিং, ই-কমার্স জালিয়াতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি ও মানহানি।
গ. নিকটস্থ থানা/পুলিশ স্টেশন | যেকোনো থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা (FIR) দায়ের করা। | তাৎক্ষণিক হুমকি, ব্ল্যাকমেইলিং বা ছোটখাটো সাইবার হয়রানি।
২. বিটিআরসি ও বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি (নিয়ন্ত্রক ও কারিগরি সহায়তা)
ক. বিটিআরসি (BTRC) (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) | ইমেইল: [email protected] হটলাইন: ১০০ ।টেলিযোগাযোগ বা ইন্টারনেট সেবার অপব্যবহার, হয়রানিমূলক কল বা এসএমএস।
খ. বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি (BGD e-Gov CIRT) (কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) | হটলাইন: ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮ ইমেইল: [email protected] | কারিগরি সহায়তা, ওয়েবসাইট হ্যাকিং, ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আক্রমণ, ডিজিটাল পরিকাঠামোর সুরক্ষা। এছাড়াও আমাকে মেইল করতে পারেন [email protected]
👁️🗨️ 👁️🗨️ অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য
সঠিকভাবে অভিযোগ জানাতে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: তথ্য সংগ্রহ করুন
অভিযোগের স্থান বা পদ্ধতি যাই হোক না কেন, অভিযোগ জানানোর আগে নিচের তথ্যগুলো গুছিয়ে নিন:
অপরাধ সংঘটিত হওয়ার তারিখ ও সময়।
অপরাধীর নাম/ইউজার আইডি/ইমেইল/ফোন নম্বর (যদি জানা থাকে)।
অপরাধের প্রমাণ: স্ক্রিনশট, অডিও/ভিডিও রেকর্ডিং, মেসেজের টেক্সট বা লিংক।
ধাপ ২: জিডি বা মামলা দায়ের
যদি অপরাধটি গুরুতর হয় (যেমন: অর্থ আত্মসাৎ, ব্ল্যাকমেইলিং), তবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সাইবার পুলিশ ইউনিটে গিয়ে মামলা (FIR) দায়ের করুন।
যদি অপরাধটি ছোটখাটো হয় বা কেবল রেকর্ড করার প্রয়োজন হয়, তবে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন।
ধাপ ৩: সরাসরি সাইবার ইউনিটে যোগাযোগ
ডিএমপি বা সিআইডি সাইবার ইউনিটে সরাসরি গিয়ে অভিযোগ জানালে দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়া যেতে পারে, কারণ তাদের কাছে সাইবার ফরেনসিকের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ও দক্ষতা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
অভিযোগ করার ক্ষেত্রে আসল প্রমাণগুলো (Original Screenshot, Link) সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
অভিযোগ করার সময় কোনো প্রমাণ বা ডিভাইস মুছে ফেলবেন না, কারণ এটি ফরেনসিক তদন্তে সহায়ক হবে।
নারী ও শিশুদের সাইবার হয়রানির জন্য পুলিশের বিশেষ সেবা রয়েছে।
অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান
আইনজীবী ও লেখক।
ঢাকা কোর্ট চেম্বারঃ ২০/এ রাজার দেউরি, রুম নং ৩০২, কোতয়ালী ঢাকা।