17/08/2026
নারীদের উত্ত্যক্ত করা, কুরুচিপূর্ণ কমেন্ট করা বা মেসেজ পাঠিয়ে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ কীভাবে নিবেন জানতে লেখাটি পড়ুন।
নারীদের উত্ত্যক্ত করা, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা বা ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি করা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধ। এর বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একজন আইনজীবী বা তার মক্কেল বা ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য নিচের আইনি পথগুলো অবলম্বন করতে পারেন:
১. ডিজিটাল বা সাইবার হয়রানির ক্ষেত্রে (মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া)
বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীনে এ ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়।
প্রমাণ সংরক্ষণ: হয়রানির শিকার হওয়া মেসেজ, ভয়েস রেকর্ড, প্রোফাইল লিংক এবং স্ক্রিনশট কোনোভাবেই ডিলিট করবেন না। ডিজিটাল প্রমাণের ক্ষেত্রে এগুলোই মামলার প্রধান ভিত্তি।
কোথায় অভিযোগ করবেন:
নিকটস্থ থানায় সরাসরি অভিযোগ করুন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে যোগাযোগ করুন।
অনলাইনে cyber-police.gov.bd পোর্টালে বা ৯৯৯-এ কল করে তাৎক্ষণিক সহায়তা নিন।
২. সাধারণ উত্ত্যক্ত বা হয়রানির ক্ষেত্রে (দণ্ডবিধি ও অন্যান্য আইন)
যদি হয়রানিটি ব্যক্তিগতভাবে বা সামনাসামনি হয়, তবে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়:
দণ্ডবিধি ৫০৯ ধারা (নারী সম্ভ্রমহানি): কোনো নারীর সম্ভ্রমহানির উদ্দেশ্যে কোনো শব্দ উচ্চারণ, অঙ্গভঙ্গি বা কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
দণ্ডবিধি ৫০৬ ধারা (হুমকি): উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি প্রাণনাশের বা ক্ষতির হুমকি দিলে এটি ৫০৬ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: যদি হয়রানিটি যৌন নিপীড়নের (ধারা ১০) পর্যায়ে পড়ে, তবে এই আইনের অধীনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
৩. জরুরি পদক্ষেপ (দ্রুত অ্যাকশন)
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯: যে কোনো সময় উত্ত্যক্তের শিকার হলে বা তাৎক্ষণিক বিপদে পড়লে ৯৯৯-এ কল করুন।
জিডি (GD): যদি বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তবে থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখুন। এটি ভবিষ্যতে মামলা করার শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
৪. ভুক্তভোগীদের জন্য আইনজীবী হিসাবে আমার পরামর্শ
প্রমাণ তৈরি: ঘটনার দিন, তারিখ, সময় এবং মেসেজ বা মন্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ লিখে রাখুন। ডিজিটাল প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক সাহায্য লাগতে পারে, তাই থানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত রাখুন।
ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে: কোনো অবস্থাতেই ব্ল্যাকমেইলারের সাথে আপোষ করতে গিয়ে গোপন তথ্য দেবেন না বা টাকা দেবেন না। এটি অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করে।
মানসিক সহায়তা: হয়রানির শিকার ব্যক্তি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকতে পারেন, তাই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও গুরুত্ব দিন।
অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান
আইনজীবী ও লেখক।
ঢাকা জজ কোর্ট চেম্বারঃ ২০/এ রাজার দেউরি, রুম নং ৩০২, কোতয়ালী ঢাকা।
হাইকোর্ট চেম্বার : ২১৬ এনেক্স হল রুম, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বিল্ডিং, ঢাকা-১০০০।
করপোরেট চেম্বার : ১৪ পুরানা পলটন, দার- উস- সালাম আরকেড, ৮ম তলা, রুম নং ২/১, ঢাকা ১০০০।
হোয়াটসঅ্যাপ ০১৮৩৪৫৩৩৮৮৯