20/09/2026
অনলাইন হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইলিং বা যেকোনো সাইবার অপরাধের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করবেন? জেনে নিন সিআইডি সাইবার পুলিশ উইংয়ের হটলাইন নম্বর ও অভিযোগ করার প্রক্রিয়া।
বর্ত্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধ বা অনলাইনভিত্তিক হয়রানি একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি হ্যাক, ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার, অনলাইন বুলিং, ব্ল্যাকমেইলিং, কিংবা আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (Cyber Police Center - CPC) এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও অভিযোগ করার প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:
১। সাইবার পুলিশ সেন্টারে কী ধরনের অভিযোগ করা যায়?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিয়াকিং ও অপব্যবহার: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইমেইল আইডি বা হ্যাক হওয়া কিংবা ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর তথ্য বা ছবি ছড়ানোর বিরুদ্ধে।
ব্ল্যাকমেইলিং ও সাইবার বুলিং: অনলাইনে হুমকি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বা ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করা হলে।
অনলাইন আর্থিক প্রতারণা: ই-কমার্স জালিয়াতি, ভুয়া অনলাইন শপ, অনলাইন লোন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রতারণা কিংবা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিলে।
ডিজিটাল হ্যারেসমেন্ট: যেকোনো ধরনের ডিজিটাল বা অনলাইন হয়রানির শিকার হলে।
২। অভিযোগ দায়ের করার মাধ্যম ও যোগাযোগের ঠিকানা
সাইবার অপরাধের শিকার হলে আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে অথবা সরাসরি সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন:
হটলাইন ও যোগাযোগের নম্বর:
হটলাইন নম্বর: ০১৭৩০-৩৩৬৪৩১ (01730-336431)
হেল্পলাইন নম্বর: ০১৩২০-০০১১৯৯ (01320-001199)
অনলাইন অভিযোগ বা ফেসবুক পেজ:
সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ (Cyber Police Center - CID, Bangladesh) এর ইনবক্সে ম্যাসেজ পাঠিয়ে কিংবা তাদের অফিসিয়াল পোর্টালে তথ্য দিয়ে অভিযোগ করা যায়।
জরুরি সেবা: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ (999)-এ কল করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা নেওয়া সম্ভব।
সরাসরি অভিযোগ: মালিবাগ, ঢাকায় অবস্থিত সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের সাইবার পুলিশ উইংয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা যায়।
৩। অভিযোগ করার সময় যা যা সাথে রাখা প্রয়োজন
অপরাধের শিকার হলে প্রমাণ হিসেবে স্কিনশট (Screenshots), চ্যাটের ইতিহাস, ফেইক আইডি বা পেজের লিংক সংরক্ষণ করুন।
লেনদেনসংক্রান্ত প্রতারণা হলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা বিকাশ/নগদ ট্রানজেকশন আইডি বা রসিদ সংগ্রহে রাখুন।
আপনার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও যোগাযোগের সচল মোবাইল নম্বর।
বিশেষ নোট: সাইবার অপরাধের শিকার হলে সামাজিক লজ্জার ভয়ে চুপ করে না থেকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার পুলিশ সর্বদা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রয়োজনে,
অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান
ঢাকা জজ কোর্ট চেম্বারঃ রুম নং ৩০২, তৃতীয় তলা, ২০/এ রাজার দেউরি, কোতয়ালী ঢাকা।