10/04/2026
সরকার আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান সারচার্জ ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে সম্পদ কর পুনরায় চালু করার কথা বিবেচনা করছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন যে, এর ফলে শুধু কর ব্যবস্থার বিদ্যমান অসঙ্গতিগুলোই দূর হবে না, রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আয়কর আইন-২০২৩ এবং অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী তিন ধরনের সারচার্জ চালু রয়েছে - সম্পদ সারচার্জ, পরিবেশ সারচার্জ এবং বিশেষ সারচার্জ। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থায় অনেক অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পৈতৃক সূত্রে গুলশানে ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হতে পারেন কেউ।
কিন্তু তার মোট সম্পদ ৪ কোটি টাকার নিচে হলে তাকে সারচার্জ দিতে হয় না। ফলে কর ব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
এই ধরনের অসঙ্গতি দূর করতে সারচার্জ প্রত্যাহার এবং পূর্বের সম্পদ কর পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার মূল নীতি হলো, যাদের আয় ও সম্পদ বেশি, তারা যেন সমাজে বেশি অবদান রাখেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ধনী ব্যক্তি কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সারচার্জ নিয়ে নানা আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে, কখনও কখনও কাগজে-কলমে সম্পদের মূল্য বেশি থাকলেও বাস্তবে তা কমে যায়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন এবং পরে তা কমে ১০ লক্ষ টাকা হয়ে যায়, তাহলে তাকে আগের হিসাব অনুযায়ী সারচার্জ দিতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে করদাতারা অযৌক্তিক চাপের মধ্যে পড়েন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মোট সম্পদ ৪ কোটি টাকার বেশি হলে তাকে আয়করের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে সারচার্জ দিতে হয়। মোট সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী সারচার্জের হার ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।
মোট সম্পদ ৪ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ১০ কোটি টাকার মধ্যে হলে আয়করের ওপর ১০% সারচার্জ আরোপ করা হয়। মূল্য ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ২০% সারচার্জ প্রযোজ্য, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ৩০% সারচার্জ প্রযোজ্য এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে একাধিক মোটরযান অথবা ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি আয়তনের আবাসিক সম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
একাধিক মোটরযানের ক্ষেত্রে পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। সর্বনিম্ন করযোগ্য যানটি ছাড়া প্রতিটি যানের জন্য এই সারচার্জ প্রদেয়। এর হার যানের ইঞ্জিন ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১৫০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য ২৫,০০০ টাকা, ২০০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য ৫০,০০০ টাকা এবং ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য ৭৫,০০০ টাকা পরিবেশ সারচার্জ প্রদেয়।
২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য এই হার ১.৫০ লক্ষ টাকা। ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং ৩৫০০ সিসির বেশি ক্ষমতার যানের জন্য ৩.৫০ লক্ষ টাকা সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে, এনবিআর চেয়ারম্যান এও বলেছেন যে, ২০২৭ অর্থবছর থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হবে না।