আইনের জগত

আইনের জগত একটি অনলাইন ভিত্তিক আইনী সেবা ও সংবাদ সংস্থা

01/09/2019

বদলী বানিজ্য! তাও আবার জেলা প্রশাসক, বরিশাল এর নাম দিয়ে!!!

07/12/2017

রেজিষ্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪

(১) কোন সম্পত্তির মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন (সংশোধন) আইনের ১৭(১) ধারার বিধান অনুসারে বাটোয়ারা বা আপোস-বন্টননামা রেজিস্ট্রি করতে হবে।

(২) স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশন (সংশোধণ) আইনের ১৭এ (১) ধারার বিধান অনুসারে অবশ্যই লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।

(৩) বিক্রয় চুক্তি/বায়না চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে চুক্তিপত্রটি রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে হবে {ধারা ১৭এ (২)।

(৪) প্রতিটি হস্তান্তর দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে, রেজিস্ট্রি দলিলে বিক্রীত সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ এবং বিক্রয়ের প্রকৃতি বর্ণনা করতে হবে। {ধারা ২২এ(১)।}

(৫) প্রতিটি দলিলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের ছবি পেষ্ট করে সংযুক্ত করতে হবে, উক্ত ছবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর/বাম বৃদ্ধাঙ্গুলীর টিপসইযুক্ত হবে {ধারা ২২এ(২)।

(৬) সরকার এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে (দলিলের/চুক্তিপত্রের) নির্ধারিত ফরমেট জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবেন {ধারা ২২এ (৩)।

(৭) দলিল সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে তা রেজিষ্ট্রির জন্য দলিল করতে হবে (যা পূর্বে ছিল ৪ মাস (ধারা ২৩)।

বিক্রয়ের বায়না চুক্তি, দান দলিল ও বন্ধক দলিল রেজিস্ট্রি ফিঃ

রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এ নতুন সংযোজিত ৭৮এ ধারা অনুসারে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির বায়না চুক্তি, দান দলিল ও বন্ধক দলিল রেজিস্ট্রি ফি হবে নিম্নরূপঃ

(এ) স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির বায়না চুক্তি রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফি হবেঃ

(i) সম্পত্তি বিক্রয়ের বায়না/চুক্তিপত্রের জন্য ষ্ট্যাম্প শুল্ক মাত্র ১৫০ টাকা।
(ii) বিক্রয়তব্য সম্পত্তির বিক্রয় মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশী না হলে ফি ৫০০ টাকা।
(iii) সম্পত্তির বিক্রয় মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি কিন্তু পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশী না হলে ফি ১০০০ টাকা।
(iv) সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশী হলে ফি ২০০০ টাকা।

(বি) দান দলিল রেজিস্ট্রি ফিঃ

মুসলিম পারসোনাল ল’ (শরীয়ত) অনুসারে স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী ও নাতি-নাতনী, সহোদর ভাই-ভাই, সহোদর বোন-বোন এবং সহোদর ভাই ও সহোদর বোনের মধ্যে যে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দান দলিল বা দান চুক্তি রেজিস্ট্রি ফি মাত্র ১০০ টাকা।

(সি) বন্ধক (Mortgage)চুক্তি রেজিস্ট্রি ফিঃ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ এর ৫৯ ধারার বিধান অনুসারে-

(i) বন্ধকী অর্থের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে না হলে ফি বন্ধকী অর্থের ১% তবে ২০০ টাকার নিম্নে নয় এবং ৫০০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।

(ii) বন্ধকী অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার উপরে কিন্তু বিশ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে না হলে ফি বন্ধকী অর্থের ০.২৫% (শূন্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ) টাকা হারে তবে ৩০০০ টাকার কম নয় এবং ৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।

(iii) বন্ধকী অর্থের পরিমাণ বিশ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হলে সে চুক্তি রেজিস্ট্রি ফি লাগবে বন্ধকী অর্থের ০.১০% (শূন্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ) টাকা হারে তবে ৩০০০ টাকার কম নয় এবং ৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০০৪-এ নতুন সংযোজিত ধারাসমূহ হলোঃ

বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে নাঃ

এ আইনের ৫৩ডি ধারার বিধান অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত বন্ধকভূক্ত সম্পত্তি বন্ধক গ্রহীতার লিখিত সম্মতি ব্যতীত পুনঃবন্ধক দেয়া যাবে না এবং বিক্রি করা যাবে না। এরূপ করা হরে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

বিক্রয় চুক্তি অবশ্যই রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবেঃ

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০০৪ এর ৫৪এ ধারা অনুসারে অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি হবে লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (সংশোধন) আইন ২০০৪ এর ২১এ ধারার বিধান অনুসারে আদালতের মাধ্যমে চুক্তি বলবতের দুই শর্ত হলোঃ

(১) লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত বায়না ব্যতীত চুক্তি প্রবলের মামলা আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যাবে না।

(২) বায়নার অবশিষ্ট টাকা আদালতে জমা না করলে মামলা দায়ের করা যাবে না।

রেজিস্ট্রিকারে যে সকল বিষয় সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট পেশ করতে হবেঃ
দলিল রেজিস্ট্রারিং অফিসার এ আইনে নতুন সংযোজিত ৫২এ ধারার বিধান অনুসারে বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপিত কোন দলিল রেজিস্ট্রি করবেন না যদি দলিলের সাথে নিন্মুক্ত তথ্যাদি সংযুক্ত না থাকেঃ

(এ) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর বিধান অনুসারে প্রস্তুতকৃত সম্পত্তির সর্বশেষ খতিয়ান,খতিয়ানে বিক্রেতার নাম যদি তিনি উত্তরাধিকারসূত্র ব্যতীত অন্যভাবে সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন।

(বি) প্রজাস্বত্ব আইনের বিধান অনুসারে প্রস্ততকৃত সর্বশেষ খতিয়ান, বিক্রেতার নাম বা বিক্রেতার পূর্বসূরীর নাম যদি তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে ঐ সম্পত্তি পেয়ে থাকেন।

(সি) সম্পত্তির প্রকৃতি।

(ডি) সম্পত্তির মূল্য।

(ই) চতুর্সীমা সহ সম্পত্তির নকশা।

(এফ) বিগত ২৫ বৎসরের মালিকানা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

(জি) দাতা কর্তৃক এ মর্মে একটি হলফনামা (Affidavit) সম্পাদন করতে হবে যে তিনি উক্ত সম্পত্তি ইতোপূর্বে কারো নিকট বিক্রি করেননি এবং তিনিই দলিলে উল্লেখিত
সম্পত্তির মালিক (He has Lawful Title)।

তামাদি (সংশোধন) আইন ২০০৪ঃ

তামাদি (সংশোধন) আইন ২০০৪ এর বিধান অনুসারে এ আইনের প্রথম সিডিউল ১ মোতাবেক বায়না চুক্তি বলবৎ হওয়ার পর তা ১ বৎসর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে অর্থাৎ পূর্বে যেখানে বায়না চুক্তি আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করার জন্য ৩ বৎসর পর্যন্ত সময় পাওয়া
যেত এখন সেখানে ১ বৎসর সময় পাওয়া যাবে। ১ বৎসর পর এরূপ চুক্তি আদালতের মাধ্যমে আর বলবৎ করা যাবে না।

দান এবং দান করার বিধানঃ

দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলে। কারো নিকট হতে প্রতিদান ব্যতীত অর্থাৎ বিনিময় ছাড়া কোন কিছু গ্রহণ করাই হলো দান। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ (টিপি এ্যাক্ট) এর ১২২ ধারা অনুসারে সম্পত্তি দাতা কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করলে এবং গ্রহীতা বা গ্রহীতার পক্ষে কোন ব্যক্তি ঐ সম্পত্তি গ্রহণ করলে তাকে দান বলে।

দান বৈধ হওয়ার ৩ শর্তঃ

(১) দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
(২) গ্রহীতা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ করা বা স্বীকার করা।
(৩) দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান।
দানের উপাদান সমূহঃ
(১) দাতাকে সুস্থ মস্তিষ্কের সাবালক ব্যক্তি হতে হবে।
(২) দাতার জীবনকালের মধ্যে দান কার্য সম্পাদন হতে হবে।
(৩) দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল বলে গণ্য হবে।
(৪) দানের সময় সম্পত্তিতে দাতার মারিকানা ও দখল থাকতে হবে।
(৫) দান স্বেচ্ছায় এবং পণবিহীন হতে হবে।
(৬) দান গ্রহীতা মানসিক ভারসাম্যহীন বা নাবালক হরে তার পক্ষে অভিভাবক দান গ্রহণ করতে পারবেন। দান যে কেউ গ্রহণ করতে পারেন।
(৭) মুসলিম আইন অনুযায়ী দাতা তার সমুদয় সম্পত্তি যে কাউকে দান করতে পারেন। দায়ভাগ মতে একজন হিন্দু যাদের ভরণপোষণে আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখার পর বাকী সম্পত্তি দান করতে পারেন।
(৮) দখল হস্তান্তরের পূর্বে দান প্রত্যাহার করা যায়। দখল হস্তান্তরের পরে দান প্রত্যাহারের জন্য আদালতের ডিক্রি লাগবে।
(৯) দানকারী ঋণের দায় এড়ানোর বা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে দান করলে, পাওনাদারের আবেদনে ঐ দান বাতিলযোগ্য হতে পারে।
(১০) মৃত্যুশয্যাকালীন দান উইলের ন্যায় কার্যকরী হবে অর্থাৎ ঐ দান অনাত্মীয়ের অনুকূলে করা যাবে কিন্তু মোট সম্পত্তির ১/৩ ভাগের বেশী দান করা যাবে না। তবে উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি থাকলে অআত্মীয়কে ১/৩ ভাগের অধিক সম্পত্তি দান করা যাবে। এ অবস্থায় কোন উত্তরাধিকারীকে দান করা যাবে না।
(১১) রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এর ৭৮এ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২৩ ধারা অনুযায়ী দান লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
(১২) অজাত ব্যক্তি বরাবরে দান করলে দানের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে সে জন্ম গ্রহণ কররে সে দান বৈধ হবে।

দান দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলকঃ

রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এ নতুন সংযোজিত ৭৮এ ধারা অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। দান দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি হবে নিম্নরূপঃ

স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা-সন্তান, দাদা-দাদী ও নাতি-নাতনী, সহোদর ভাই-ভাই, সহোদর বো-বোন এবং সহোদর ভাই ও সহোদর বোনের মধ্যে যে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি ফি দিতে হবে মাত্র ১০০ টাকা। তবে উলিলখিত সম্পর্কের বাইরের
ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সম্পাদিত দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রির ফি হবে কবলা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য প্রযোজ্য ফি’র অনুরূপ।

জীবন স্বত্ত্বে দান দলিল রেজিস্ট্রেশন ফিঃ

স্প্যাম্প এ্যাক্ট ১৯০৮ এর ৫৮ নং আর্টিক্যাল অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান (মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান) এর জন্য জীবন স্বত্ত্বে দানের বিধান হলো-যে প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি দান করা হবে সে প্রতিষ্ঠান ঐ সম্পত্তি শুধু ভোগ-দখল করতে পারবে, সম্পত্তি কোনরূপ হস্তান্তর করতে পারবে না। এরূপ জমির ভূমি উনড়বয়ন কর পরিশোধ করতে হবে দানকারীর নামে। কোন কারণে ঐ প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর না থাকলে সম্পত্তি দানকারীর মালিকানায় চলে যাবে এবং দান দলিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। জীবন স্বত্ত্বের দান দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে ২% স্ট্যাম্প ফি, ২.৫% রেজিস্ট্রেশন ফি এবং ই ফিস লাগবে।

হেবা-বিল এওয়াজঃ

মুসলিম আইন অনুসারে কোন কিছু বিনিময় নিয়ে দান করাকে বলে এওয়াজ বা হেবাবিল-এওয়াজ। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ এর ১১৮ ধারা অনুসারে দু’জন ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে পরস্পর নিজেদের মালিকানাধীন কোন জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর করে সেক্ষেত্রে
কোন একটি জিনিস টাকা না হলে সে আদান-প্রদানকে বলে এওয়াজ বা বিনিময়। এতে বিক্রয় চুক্তির উপাদান বিদ্যমান থাকায় এটি মূলত এক ধরনের বিক্রয়। এওয়াজ দলিলে বর্ণিত সম্পত্তির একজন দাতা তার নিজের সম্পত্তি অপরজনকে দেওয়ার পর তার প্রাপ্য সম্পত্তি তিনি না পেলে তিনি তার প্রদত্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার অধিকারী হবেন। হেবা বিল এওয়াজ অগ্রক্রয়যোগ্য নয়।

হেবা-বিল-এওয়াজ এর উপাদানসমূহঃ

(১) গ্রহীতাকে হেবা গ্রহণের বিনিময়ে দাতাকে অবশ্যই কিছু দিতে হবে।
(২) দানের মাধ্যমে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিঃস্বত্বে পরিণত করতে হবে।
(৩) হেবা-বির এওয়াজের ক্ষেত্রে দখল দান আবশ্যক নয়।
(৪) হেবা-বিল-এওয়াজ প্রত্যাহারযোগ্য নয়।
উইল বা অছিয়তের বিধানঃ উইল হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।

উইলের শর্তঃ

(ক) মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান এ তিন সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকার আইনেরই বিধান হলো যে, সুস্থা মস্কিষ্কসম্পনড়ব যে কোন সাবালক ব্যক্তি উইল করতে পারবেন।
(খ) উইলকারীর ইচ্ছা সুস্পষ্ট ও সঠিকভাবে নির্ণয়যোগ্য হতে হবে।
(গ) উইল, উইল দাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হবে।
(ঘ) উইল যে কেউ গ্রহণ করতে পারেন।
উইলের উদ্দেশ্যঃ উইল করা যায় (ক) ব্যক্তির উদ্দেশ্যে এবং (খ) ধর্মীয় উদ্দেশ্যে। ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উইল আবার দু’প্রকার (১) ওয়ারিশের বরাবরে উইল এবং (২) ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তির বরাবরে উইল।

ওয়ারিশের বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধানঃ

(ক) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল বাতিল বলে গণ্য হবে।
(খ) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(গ) ওয়ারিশদের সম্মতি কার্যকর হবে উইল দাতার মৃত্যুর পর।

ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তি বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধানঃ

(ক) ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(খ) ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল দাতার নিট সম্পত্তির ১/৩ এর উপর উইল কার্যকরী হবে।
নিট সম্পত্তিঃ উইলদাতার মোট সম্পত্তি হতে নিম্নরূপ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি নিট সম্পত্তি বলে গণ্য হবে, উইল সর্বদা নিট সম্পত্তির উপর প্রযোজ্য হবেঃ

(ক) উইল দাতার মৃত্যুর অব্যবহিত ৩ মাস পূর্বের ভৃত্য বা চাকরের পাওয়ানাদি।
(খ) মৃত্যু শয্যাকালীন খরচাদি।
(গ) মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের খরচ।
(ঘ) স্ত্রীর দেন-মোহরের পাওয়ানা পরিশোধ ব্যয়।
(ঙ) উইল প্রবেট এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট ব্যয়।
(চ) ঋণ পরিশোধ (আগের ঋণ আগে পরিশোধ ভিত্তিতে)।
(ছ) ঋণ পরিশোধের আগে স্ত্রীর দেন-মোহর পরিশোধ করতে হবে।

ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইলঃ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইল করা হলে তাতে ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে সে উইল সম্পূর্ণ কার্যকর হবে, আর ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে অছিতকারীর নিট সম্পত্তির ১/৩ অংশের উপর উইল কার্যকরী হবে।
ধর্মীয় উইল ৩ প্রকার, যথা-

(১) ফরজ কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- হজ্জ্ব পালন, যাকাত প্রদান ইত্যাদি।
(২) ওয়াজিব কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- ফিতরা প্রদান, কোরবানী করা ইত্যাদি।
(৩) নফল কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- সরাইখানা, রাস্তা-পুল, এতিমখানা নির্মাণ ইত্যাদি।

উইলের উপাদানঃ

(১) একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক উইল করা হলে সর্বশেষ উইলটি সর্বপ্রথম কার্যকরী হবে এবং সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী উইলগুলো কার্যকরী হবে।
(২) অজাত ব্যক্তি উইলের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করলে তার বরাবরে করা উইল বৈধ হবে।
(৩) উইল মৌখিক ও লিখিত দু’ভাবেই করা যায়। এমনকি অসামর্থ্যের কারণে ইঙ্গিতেও করা যায়। তবে মৌখিক উইলের ক্ষেত্রে ২ জন পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।
(৪) নাবালক উত্তরাধিকারী সাবলকত্ব লাভের পর উইলে সম্মতি দিতে পারবেন।
(৫) উইল দাতা মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় উইল বাতিল করতে পারেন। সম্পত্তি একবার উইল করার পর পুনরায় তা অন্য কারো অনুকূলে উইল করলে পূর্বের উইলটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। উইল বাতিলের জন্য মামলার প্রয়োজন হয় না।
(৬) ১৮৭০ সনের হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু তার সকল সম্পত্তি উইল করতে পারেন, তবে যাদের ভরণপোষনের জন্য তিনি আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখে বাকী সম্পত্তি উইল করতে হবে।
(৭) উইলকারীর কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে উইল করে দিতে পারেন।
(৮) উইল গ্রহণকারীকে দাতার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকতে হবে।
(৯) উইলকারী মৃত্যুর মুহূর্ত হতে উইল কার্যকর হবে।

উইল বিলুপ্তিঃ নিন্মোক্ত কারণে উইল বাতিল বলে গণ্য হবেঃ

(১) উইলের পর উইলদাতা বিকৃত মস্তিষ্ক হলে, মৃত্যুর পূর্বে তিনি সুস্থ হলেও।
(২) উইল গ্রহীতা দাতার আগে মারা গেলে।
(৩) উইল দাতা বা গ্রহীতা ধর্ম ত্যাগ করলে
(৪) উইল গ্রহীতা দাতাকে হত্যা করলে।
(৫) উইলকৃত সম্পত্তির উপর অন্য কারো অধিকার সাব্যস্ত হলে।
(৬) উইলকারী উইলকৃত সম্পত্তি বিক্রি বা দান করলে বা তাতে বাড়ি তৈরি করলে।

উইল প্রবেটঃ

উইল বা অছিয়তের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে তার সম্পত্তি উইল করে গেলে উইলটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারবান দেওয়ানি আদালতের অনুমোদন লাগবে, এরূপ অনুমোদন নেয়াকেই বরে উইল প্রবেট। প্রবেট মুসলিম উইলে আবশ্যকীয় নয়। প্রবেটের জন্য আদালতে আবেদন করা হলে অপরাপর ওযারিশদের মতামত জানার জন্য আদালত হতে নোটিশ দেয়া হয়, এ সময় ওয়ারিশগণ উইলের বিরুদ্ধে অসম্মতি জানাতে পারেন। এছাড়া আদালত কালেক্টরের নিকট সম্পত্তির কোর্ট ফি সঠিক আছে কিনা, সম্পত্তিটি সরকারের কিনা, সম্পত্তিটি উইলদাতার কিনা এতে আর কারো স্বার্থ আছে কিনা ইত্যাদি জানতে চেয়ে থাকেন।

দান ও উইলের পার্থক্যঃ

(১) দান সাথে সাথে কার্যকর হয়, উইল কার্যকর হয় অছিয়তকারীর মৃত্যুর পর।
(২) দান সম্পাদন হওয়ার পর আদালতের রায় ব্যতীত তা আর প্রত্যাহার করা যায় না। কিন্তু উইল ইচ্ছেমত বাতিল করা যায়।
(৩) দান করার সময় দানের সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা ও দখল থাকতে হবে অন্যদিকে মৃত্যুর পূর্বে পাওয়া যাবে এরূপ যে কোন সম্পত্তি উইল করা যাবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পূর্ণ হবেঃ

১। সম্পত্তি যখন কোন জীবিত ব্যক্তির বরাবরে হস্তান্তর হবে;
২। হস্তান্তর যখন টাকা বা কোন কিছুর বিনিময়ে হবে;
৩। দান চুক্তির হস্তান্তর বিনিময় ছাড়াও বৈধ হবে;
৪। সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি যখন রেজিস্ট্রি করা হবে;
৫। চুক্তি রেজিস্ট্রির পরপরই হস্তান্তর কার্যকর হবে।

হস্তান্তরের যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিঃ

১। চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি হস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তির স্বাত্ত্বাধিকারী হবে তিনি সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন;
২। সম্পত্তিটি হস্তান্তরকারীর নিজের না হলে উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করার অধিকার তার থাকতে হবে;
৩। হস্তান্তরের যোগ্যতা বলতে হস্তান্তরকারী সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পনড়ব ব্যক্তি হবেন;
হস্তান্তর বলবৎঃ সম্পত্তি হস্তান্তরের সাথে সাথে ঐ সম্পত্তির দাতার সকল হস্তান্তরযোগ্য স্বার্থ গ্রহীতার উপর বর্তাবে।
বিক্রয় চুক্তি ও বিক্রয়ঃ বিক্রয়ের চুক্তি ও বিক্রয় এক বিষয় নয়, বিক্রয়ের চুক্তি হচ্ছে

ক্রেতা ও বিক্রেতার মথ্যে একটি সমঝোতা। বিক্রয় ব্যতীত শুধু বিক্রয়ের চুক্তি দ্বারা কোন স্বত্ত্বের সৃষ্টি হয় না।
◊ নাবালক ব্যক্তি সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে না কিন্তু সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নাবালকের কোন বাধা নেই।
◊ কোন হস্তান্তরের চুক্তির ফলে চুক্তির পক্ষসমূহ বা দাতা ও হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যতীত অন্য কারো স্বার্থ ক্ষুনড়ব হলে উক্ত হস্তান্তর বাতিল বলে গণ্য হবে।
◊ কোন বিক্রেতা একই সম্পত্তি একাধিক ব্যক্তির নিকট বৈধ দলিল রেজিস্ট্রিমূলে বিক্রি করলেও দু’টি দলিলের মধ্যে প্রথম সম্পাদিত দলিলটি আইনত বলবৎ হবে।

03/02/2017

অনেক উঠতি বয়সী প্রেমিক-প্রেমিকা পরিবারের অমতে কোর্টে গিয়ে কিছু কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ভাবেন আইনগতভাবে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা এখন স্বামী-স্ত্রী এবং একসাথে বসবাস করতে পারবে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি – কোর্ট ম্যারেজ বলে কোন কিছু আইনে নেই। যুবক-যুবতি বা নারী-পুরুষ স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একত্রে বসবাস করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে হলফনামা সম্পাদন করে থাকে, তাই কোর্ট ম্যারেজ নামে পরিচিত। এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এই রুপ কোন বিয়ে যদি কাজী অফিসে রেজিষ্ট্রী না করা হয় তাহলে আইনগত কোন ভিত্তি থাকবেনা। কোন এক সময় যদি এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ত্যাগ করে তাহলে আইনগত কোন প্রতিকার পাবেনা।

29/07/2016

বার কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া এলএলবি কোর্স নয়এইচএসসিতে জিপিএ-৫ ও ইংরেজিতে ৭০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবেপ্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো এখন থেকে নিজেরা সরাসরিএলএলবি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল (বিবিসি) ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ইউনিভার্সিটির জন্য মেধাতালিকা করে দেবে। সেখান থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। বিবিসির ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ ছাড়া কোনো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আইন বিষয়ে অনার্স প্রোগ্রাম চালাতে পারবে না। বিদ্যমান প্রত্যেক ইউনিভার্সিটিকে এ সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ইউনিভার্সিটি এলএলবি কোর্স চালু করতে চাইলে আগেই ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ নিতে হবে। এই সার্টিফিকেট ছাড়া ইউজিসি আইন কোর্স চালানোর অনুমতি দিতে পারবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরদুই বছর মেয়াদি এলএলবি প্রোগ্রাম ২০২০ সাল পর্যন্ত চালানো যাবে। দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য ইউনিভার্সিটির আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে দেয়ারায়ে এসব নির্দেশনা ও আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।সূত্র জানায়, আদালতের রায়ের প্রতিলিপি গ্রহণের তিন দিনের মধ্যে বিবিসি থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ নেয়ার বিষয়ে নোটিশ করে সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কেজানাতে হবে ইউজিসিকে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন)। পাশাপাশি আগামী ১ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ আদালতকে জানাতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান যুগান্তরকে জানান, ‘রায় অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতিমধ্যে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়েরউদ্দেশে নোটিশ জারি করেছি। এছাড়া ইউজিসির প্রতি অন্য যে নির্দেশনা আছে, সেসব পালনের কার্যক্রম চলছে।’দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি নিয়ে ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩টি রিট পিটিশন হাইকোর্টে দায়ের করা হয়। ওইসব মামলা একটি বেঞ্চে এনেশুনানি করা হয়েছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে বিভিন্নকর্মদিবসে শুনানি শেষে ১৩ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। সম্প্রতি এ রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। এরপর মঙ্গলবার রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সব বিশ্ববিদ্যালয়েরআউটার ক্যাম্পাসও বন্ধ ঘোষণা করেছে।বুধবার সরেজমিন দারুলের ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, সাইনবোর্ড কালো কালিতে ঢেকে দেয়া হয়েছে। মিরপুর ক্যাম্পাসে গিয়ে সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি।১২৬ পৃষ্ঠার রায়ের কপিতে মূল আদেশসহ দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসির জন্য আলাদা নির্দেশনা ও আদেশ প্রদান করা হয়। এতে সরকারের জন্য এবং আইন ডিগ্রি নিয়েও আলাদা নির্দেশনা ও আদেশ দেয়া হয়।এ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এলএলবি প্রোগ্রামের বিষয়ে বার কাউন্সিলের চাহিদা ও নির্দেশনার জন্য আমরা একটি যৌথ সভা করছি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি, আদালতের নির্দেশনা ও আদেশের আলোকে সেখানে ভালো কিছু সিদ্ধান্ত হবে।দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি সম্পর্কিত : রায়ে এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি আইনের চোখে ইউনিভার্সিটি নয়। তবে এই আদালত বিশ্ববিদ্যালয়টির সনদের বৈধতা বা অবৈধতা সম্পর্কে কোনো ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছে না। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পেশা এবং সরকারি-বেসরকারিবিভিন্ন খাতের চাকরিদাতার ওপর নির্ভর করবে। তারা এটা গ্রহণ করতে পারেন অথবা ‘ডিজঅনার’ করতে পারেন।তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী দাবি করেন যে, তিনি দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি থেকে কোনো কোর্স সম্পন্ন করে ভোগান্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে তিনি ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী যে ব্যক্তি বা ক্যাম্পাস থেকে সনদ নিয়েছেন, সেখানে এই ক্ষতিপূরণ চাইবেন।আইন ডিগ্রি সম্পর্কিত আদেশ : রায়ে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে- পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানের আইন (সম্মান) ডিগ্রিগ্রহণযোগ্য হবে। সেগুলো হচ্ছে : বাংলাদেশের যে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরএলএলবি (অনার্স), বার কাউন্সিল থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ নিয়ে যেসব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি এলএলবি (অনার্স) কোর্স পরিচালনা করবে, বার কাউন্সিল স্বীকৃত যে কোনো বিদেশীবিশ্ববিদ্যালয়েরএলএলবি (অনার্স) কোর্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরঅধীন এলএলবি (পাস) কোর্স যা ২০২০ সাল পর্যন্ত বৈধ থাকবে এবং বিদেশী এলএলবি কোর্স বা ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য অন্য যে কোনো আইনের কোর্স। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে করা দু’বছর মেয়াদি এলএলবি (পাস) কোর্স আইনের কোনো ডিগ্রি নয়।সরকারের প্রতি নির্দেশনা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, রায়ে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির নামে দেশে যাতে আর কোনো ইউনিভার্সিটিনা থাকে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি এ নামে আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরঅনুমোদন না দিতে বলা হয়েছে। তবে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বা বিভিন্ন গ্র“প মিলে ভিন্ন নামেযদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চায়, সেটির অনুমোদন সরকার দেবে কিনা সে ব্যাপারেও সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখা আছে।ইউজিসির প্রতি নির্দেশনা : এতে ইউজিসিকে কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে- বার কাউন্সিলের কাছ থেকে আগেভাগে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ না নিলেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেএলএলবি (অনার্স) কোর্সের অনুমোদন দেয়া যাবে না। এ আদেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য ইউজিসি সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কেনোটিশ জারি করবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি ১ আগস্টের আগে এইআদালতে এফিডেভিট আকারে জানাতে হবে।বার কাউন্সিলের প্রতি নির্দেশনা : রায়ে বিবিসির জন্যও আলাদা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে- ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরতালিকা বিবিসি প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদনের সঙ্গে বিবিসির ব্যাংক হিসাবে অফেরতযোগ্য ১০ লাখ টাকা জমা দেবে। আবেদনের সঙ্গে বিবিসির তালিকার বাইরে আইন কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে না বলে অঙ্গীকারনামা দেবে। আবেদনের ৩ মাসের মধ্যে বিবিসি ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেবে। ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যুর আগে বিবিসি সুপ্রিমকোর্টের দু’জন মাননীয় বিচারপতিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিভার্সিটি দেখার অনুরোধ করবে। তারা পরিদর্শনকালে ইউনিভার্সিটির কমপক্ষে ৫টি উপযুক্ত ক্লাসরুম, ১০ জন স্থায়ী পূর্ণকালীন দক্ষ শিক্ষক, সার্বিক পরিবেশ আইন শিক্ষার্থী তৈরির জন্য আদর্শ কিনা ইত্যাদি দেখবেন। যদি মাননীয় বিচারপতিরা ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেন তাহলে বিবিসি ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। রায়ে একটি নমুনা ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটও দেয়া আছে।প্রতিবছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিবিসি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করবে। বিবিসি দুই বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ফরমে দুটি ছবিসহ নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আবেদন করবেন। আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষার মতো লিখিত ও এমসিকিউ পরীক্ষা নেবে বিবিসি। ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো সুনামধারী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সহায়তা নিতে পারবে বিবিসি। এইচএসসি বা সমমান পাস করার দু’বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীকে ইংরেজিতে ৭০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হতে হবে। তবে ৭০ শতাংশের কম নম্বরপ্রাপ্তরা আইইএলটিএসে ব্যান্ড-৬ পেলে আবেদন করতে পারবে। ইংরেজি মাধ্যমের এ-লেভেল পাস করা শিক্ষার্থীরা ‘বি’ গ্রেড পেলে আবেদন করতে পারবে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরপ্রতি নির্দেশনা : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেনির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২ বছরমেয়াদি আইন কোর্সের পরিবর্তে ৪ বছরমেয়াদি এলএলবি (অনার্স) কোর্স চালু করবে। প্রত্যেক আইন কলেজে কমপক্ষে ১০ জন পূর্ণকালীন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করবে। যেসব কলেজে ২ বছরমেয়াদি কোর্স চালু আছে, সেগুলোর স্থায়ী শিক্ষকের সনদসহ সিভি (জীবনবৃত্তান্ত)তলব করবে। অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোনো কলেজ বছরে ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নির্দেশনার বিষয়টি এক মাসের মধ্যেবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানাবে। পাশাপাশি ৩১ আগস্টের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ এ আদালতকে জানাবে।প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির প্রতি নির্দেশনা : রায়ে বলা হয়, কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিবিসির দেয়া তালিকার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে না। প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জনের বেশি ভর্তি করবে না। দুই বছরমেয়াদি কোর্স চালাবে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি কোর্স আছে এবং যারা এ কোর্স চালু করতে চায়, তারা ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য বিবিসির ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকা ফি জমা দিয়ে আবেদন করবে। আবেদনের সঙ্গে ১০ জন পূর্ণকালীন স্থায়ী শিক্ষকের সিভি জমা দিতে হবে। বিবিসির দেয়া তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির পর তালিকা এবং পরবর্তী ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেক বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পাঠাতে হবে। এছাড়া আরও কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইন কোর্স পরিচালনায় আগ্রহী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোকে। রায়ে প্রাপ্ত ইউজিসি সচিব ড. মোহাম্মদ খালেদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব আসমা তামকিনকে আগামী ১ আগস্টের মধ্যে জরিমানার ৫ লাখ টাকাসরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তা আদালতে এফিডেভিট দাখিল করতে বলা হয়েছে।সূত্র : দৈনিক যুগান্তর

06/07/2016
24/05/2016

সকল নাগরিকের জানা জরুরী।হাইকোর্টের নির্দেশনাসূমহক. আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না।খ. কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।গ. গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতকে এর কারণ জানাতে হবে।ঘ. বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তারকৃতর নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে।ঙ. গ্রেপ্তারকৃতকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়র সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে।চ. গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটেরআদেশক্রমে কারাগারের অভ্যন্তরে কাঁচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে তাকেজিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন।ছ. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে।ট. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

22/05/2016

সিকস্তি শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো ভাঙ্গা৷ যদি কোনো জমি/ভূমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়তবে তাকে সিকস্তি বলে৷ পয়োস্তি শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো সংযুক্তবা একত্রিভূত হওয়া যাকে আইনী ভাষায় পয়োস্তি বলে৷ কোনো জমি সাগর বা নদীর গতিপথের পরিবর্তনের কারণে কিংবা নদীর পানি সরে যাওয়ার ফলে জেগে উঠলে অথবা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া জমি পুনরায় ভেসে উঠলে তাকে পয়োস্তি বলা হয়৷ {১৮২৫ সালের বেঙ্গল এলুভিয়ন ওডিলুভিয়ন রেগুলেশন এর (৪ ধারা)}৷তবে এই পয়োস্তি বা জেগে ওঠা জমি দুই ধরনের হতে পারে ৷(ক) ভেঙ্গে যাওয়া জমি পুনরায় জেগে ওঠা এবং (খ) নতুন কোনো জমি জেগে ওঠা৷সিকস্তি ও পয়োস্তি সংক্রান্ত অধিকারনদী গর্ভ থেকে জমি জেগে ওঠার পর অতিরিক্ত খাজনাপ্রদান করে ঐ জমি ফেরত পাবার অধিকার ৷জমি নদী গর্ভে বিলীন হলে কর মওকুফের জন্য রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট দরখাস্ত দাখিলের অধিকার ৷নদী ভাঙ্গার ফলে পরবর্তীতে জমি/চর জেগে উঠলে তার নকশা সম্বন্ধেনোটিশের মাধ্যমে জানার অধিকার ৷ নদী গর্ভ থেকে জমি জেগে উঠলে পূর্বের মালিকের জমি ফেরত পাবারঅধিকার ৷ পয়োস্তি জমির জন্য খাজনা প্রদানের পররশিদ পাবার অধিকার ৷ অন্য কাগজ পত্র হারিয়ে গেলে খাজনার রশিদের মাধ্যমে মালিকানা দাবীর অধিকার ৷ (১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট এর ৮৬ ধারা)সিকস্তি ও পয়োস্তি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য “উপজেলা ভুমি রাজস্ব অফিসারেরনিকট লিখিত দরখাস্ত দাখিল করতে হবে৷”সংগৃহীত

22/05/2016

আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এবং আইনজীবীদের কোট বা গাউন কালো কেন? তাদের শার্টইবা সাদা কেন? কালো টুপি পরে বিজ্ঞ বিচারক কেন অপরাধীর মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন? এসব নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে। তন্মোধ্যে স্বীকৃত বিষয়টি হলো, রোমান আইনের কার্যক্রমে কালো কোটের ব্যবহার হয়েছে, যা ইংরেজদের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক রহস্যেরসারথি ধরে উপকথা হিসেবেহাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে।বেঞ্চ ও বারের পোশাকের বিষয়ে বিশেষ করে কালো কোট, কালো গাউন, সাদা বো বা ব্যান্ড ইত্যাদি প্রাচীন পন্থিদের মতাদর্শের আলোকেও প্রচলিত দু’টি পদ্ধতি। এটি আইন-বিজ্ঞানে আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখনা থাকলেও আইনপাড়ায় বিশেষ রেওয়াজ ও আচারভিত্তিক রীতি হিসেবে প্রচলিত।রাজা তার পোশাকবিহীন সিংহাসনে বসলে যে অবস্থা হবে, এজলাসে কালোকোট বা গাউন ছাড়া একই অবস্থার সৃষ্টি হবে। সেখানে কোনো বার ও বেঞ্চের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য হবে না। তবেপোশাক-আশাকের ব্যাপারে আসামি ও ফরিয়াদির কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী যেবিষয়টি প্রবহমান তা হলো,কালো কোট বা গাউন আইনপাড়ায় হাজার বছর ধরেচলে আসছে। এসব পোশাকে প্রতীয়মান হয় যে, আইন অন্ধ। অর্থাৎ একজন অন্ধের কাছে সবকিছুই সমান। সাদা ও কালোর কোনো ভেদাভেদ নেই। এ ছাড়া সাবুদ ও আলামতসহ (Clue) বাদী ও বিবাদী পক্ষের সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে বস্তুনিষ্ঠ জেরাকরণ (Crossing) এবং সর্বোপরি যে রায় দেওয়াহয়, তার বাইরে কোনো আইনজীবী ও বিচারকের যাওয়ার ক্ষমতা নেই।এক্ষেত্রে বিশাল ক্ষমতা ও জ্ঞানের অধিকারী হলেও কোনো ব্যক্তিগত মতামত প্রয়োগ বা চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না।তাই আইনের দর্শনের আওতায় সীমাবদ্ধ গন্ডির মধ্যেই সাদা লাঠি নিয়ে ভেবে চিন্তে এগোতে হয়। এর গুরুত্ব এত বেশি যে, (কথিত আছে) তৎকালীন কাজির এজলাসে অন্য সাধারণ প্রজার মতো স্বয়ং বাদশাহ নামদার ফরিয়াদি বা আসামি হিসেবে বিবেচিত হত। সংক্ষেপে এ কথার অর্থ হচ্ছে, আইনজীবী মামলার মেরিটের ওপর ভিত্তি করেসীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে গ্রহণযোগ্য যুক্তিতর্কসংবলিত বক্তব্য রাখবেন এবং এর মধ্যে আইনের ধারা, উপধারা, বিধি, প্রবিধি, নজির ইত্যাদি টেনে আনতে পারবেন। তেমনি বিজ্ঞ বিচারকও সবদিক বিবেচনা করে অন্যদিকে না তাকিয়ে বা আইনের স্বচ্ছতার রূপ পরিগ্রহ করে অন্ধত্বের প্রেক্ষাপটে সুবিবেচক ও বস্তুনিষ্ঠ রায় দেবেন।তবে বিকল্প তত্ত্বে মনেকরা হয়, কালো কোট বা গাউনের অর্থ নিজের পরিচয় গোপন রাখা। এ ছাড়া কালো কোট বা গাউনের মধ্যে গলায় সাদাবো বা ব্যান্ড ব্যবহারের প্রধান হেতু হলো তিমিরাচ্ছন্ন থেকে সাদা তথা আসল সত্যকে খুঁজে বের করা (As the Bow & Band being the symbol of keying or searching out hidden real truth of incidence).ইতোপূর্বে বাংলাদেশসহ ব্রিটিশ কলোনিগুলোর বেঞ্চে, বিচারকদের পরিধানকৃত কালো কোট বা গাউনের হাতা তার হাতের চেয়ে লম্বা রাখার রেওয়াজ ছিল। এখন আর সে রীতির প্রচলন নেই। তবে যুক্তরাজ্যে এই বিধি এখনো মেনে চলা হচ্ছে। লম্বা হাতার ব্যাখ্যা হলো, আইনের হাত এত দীর্ঘ যে আসামি যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, এ হাত তাকে খুঁজে বের করবেই। অন্যভাবে বলা হয়ে থাকে, অপরাধী যত জ্ঞান বা ক্ষমতার অধিকারী হোক না কেন, আইনের হাত লম্বা বিধায় সংশ্লিষ্ট সাজাপ্রাপ্তআসামি বেঞ্চের রায় মানতে বাধ্য। এদিকে বিচারকের সাদা লম্বা পরচুলা পরার রেওয়াজ আমাদের দেশে উঠে গেছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এখনো পরচুলা পরে থাকেন। বিচারকের পরচুলা পরিধান ছাড়া যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কোনো বিচারকাজ সম্পন্ন হয় না। তারা এখনো এর গুরুত্ব এবং নিগূঢ় দর্শন আঁকড়ে আছেন।সাদা পরচুলার পেছনের রহস্য হলো, বৃদ্ধ মা-জননী সন্তানের প্রতিযেমন স্নেহপরায়ণ, তার কাছে সব সন্তান একই এবং সমান। কারও প্রতি অবিচার করার মানসিকতা থাকে না। সে আলোকেই দু’পক্ষই (বাদী ও বিবাদী) তার সন্তান বলে বিবেচ্য। তাই বিচার কার্যে সঠিক বিচারের পথসমুন্নত থাকে এবং কোনো পক্ষপাতিত্বের অবকাশ থাকে না। এজলাসে দুই পক্ষের কথা ও আবেদন আন্তরিকভাবে শুনে, বিচারক ঠান্ডা মাথায় রায় দিয়ে থাকেন। যাতে বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন, মৌলিক অধিকার ও ন্যায়পরায়ণতার বরখেলাপের কোনো সুযোগ না পায়।

03/04/2016

hsan Ullahমৃত ব্যক্তির ব্যাংকে থাকা টাকা নমিনি নয়, উত্তরাধিকারীরা পাবেন বলেন রায় দিয়েছেন, হাইকোর্ট।বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত এক মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। মামলার বিবরণীতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর শহিদুল হক চৌধুরী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নমিনি করে ৩০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র রাখে।পরে শহিদুল হক মারা গেলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী পুরো টাকা একাই ভোগ করতে চাইলে মৃত শহীদুলের প্রথম পক্ষেরসন্তানরা টাকা দাবি করে মামলা করে। তবে নিম্ন আদালত রায় দেন, নমিনি যে সেই টাকা পাবে।এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে, রোববার মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে থাকা টাকা নমিনি নয়, উত্তরাধিকারীরা পাবেন বলেন রায় দিলেন আদালত

29/02/2016

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিমকোর্ট বার) ২০১৬-১৭ ইং বর্ষের দুই দিনব্যাপি নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।সুপ্রিমকোর্ট বার এর সুপারিনটেনডেন্ট (তত্ত্বাবধায়ক) নিমেষ চন্দ্র দাস আজ সোমবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বলেন, সুপ্রিমকোর্ট বারের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় নির্বাচন সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত গতকাল রোববার গ্রহণ করা হয়েছে।সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচন সংক্রান্ত সাব-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ। নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ হাজার ২৮ জন আইনজীবী। ২৩ ও ২৪ মার্চ সকাল ১০টা থেকেমাঝে ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।সুপ্রিমকোর্ট বার এর কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে৭টি সম্পাদকীয় ও ৭টি নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে। ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ ও দাখিল এবং ১৩ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

19/02/2016

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীনে স্ত্রী নিম্নোক্ত ৯টি কারণের যে কোনো এক বা একাধিকেরভিত্তিতে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রার্থনা করতে পারেন:(১) স্বামী ৪ বছরের অধিক সময় নিরুদ্দেশ থাকলে;(২) দুই বছর যাবত্ স্ত্রীর খোরপোষ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে;(৩) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানলঙঘন করে অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;(৪) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে দণ্ডিতহলে;(৫) কোনো যুক্তি-সঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে স্বামী তাঁর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;(৬) স্বামী বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করার সময়পর্যন্ত বজায় থাকলে;(৭) স্বামী দুই বছর ধরে পাগল থাকলে অথবা মারাত্বক যৌনব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;(৮) নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে থাকলে অথবা সাবালকত্বলাভের পর অর্থাত্ ১৮ বছর পূর্ণ হবার পর স্ত্রীর বিয়ে অস্বীকার করলে (কিন্তু এক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকলে এরকম মামলা দায়ের করা যাবে না)(৯) নিম্নলিখিত যে কোনো অর্থে স্ত্রীর সাথে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে:(ক) যদি স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা;(খ) কুখ্যাত মহিলাদের (women of ill reputation) সঙ্গে স্বামীর মেলামেশা করা কিংবা নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপন করা।(গ) নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্যকরা;(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করা, কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া;(ঙ) স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া;(চ ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে পবিত্র কোরানের নির্দেশে তাদের সাথে সমান ব্যবহার না করা;তবে উপরোক্ত কারণগুলির ভিত্তিতে মামলা দায়ের করতে হলে স্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকতে হবে।

Address

খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ ১
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আইনের জগত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share