10/08/2026
যেসব মামলায় আগে লিগ্যাল এইডে যেতে হবে
প্রচারিত নির্দেশনা অনুযায়ী, নিম্নোক্ত সাত ধরনের বিরোধে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না—
১. পারিবারিক আদালতের মামলা।
২. যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারার মামলা।
৩. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ১১(গ)-এ বর্ণিত যৌতুক-সংক্রান্ত অভিযোগ।
৪. অগ্রক্রয়ের (Pre-emption) মামলা।
৫. বাড়ি-ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ।
৬. সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন (Partition) সংক্রান্ত বিরোধ।
৭. পিতা-মাতার ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ।
#কী_হবে_প্রক্রিয়া?
নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রথমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করবেন। সেখানে উভয় পক্ষকে নিয়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
যদি মধ্যস্থতা সফল হয়, তাহলে আদালতে মামলা করার প্রয়োজন হবে না। আর মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে লিগ্যাল এইড অফিস প্রয়োজনীয় সনদ বা প্রত্যয়ন দেওয়ার পর আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
#যেসব_জেলায়_কার্যকর
বর্তমানে দেশের ৩০টি জেলায় এই বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো—
সিলেট
মৌলভীবাজার
সুনামগঞ্জ
ফরিদপুর
ময়মনসিংহ
রংপুর
দিনাজপুর
সাতক্ষীরা
কুষ্টিয়া
কুমিল্লা
নোয়াখালী
রাঙামাটি
মুন্সীগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জয়পুরহাট
কুড়িগ্রাম
নরসিংদী
ঝিনাইদহ
মাগুরা
লক্ষ্মীপুর
বগুড়া
ঠাকুরগাঁও
পটুয়াখালী
ভোলা
নাটোর
যশোর
শরীয়তপুর
কক্সবাজার
পঞ্চগড়
টাঙ্গাইল।
#কেন_নেওয়া_হয়েছে_এই_উদ্যোগ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করলে সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হয়। একই সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার সুযোগ তৈরি হয়। আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও কমে আসে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
#সাধারণ_মানুষের_জন্য_পরামর্শ
যেসব জেলার বাসিন্দাদের বিরোধ ওপরের সাতটি বিষয়ের আওতায় পড়ে, তারা মামলা দায়েরের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করবেন। কারণ বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার ধাপ সম্পন্ন না করে সরাসরি আদালতে মামলা করলে আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই মামলা দায়েরের পূর্বে লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই হবে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ।