06/06/2026
হাকান ফিদান। তুরস্কের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান। মুসলিম দেশগুলোতে রেজিম চেঞ্জের যে খেলা বহু যুগ ধরে পশ্চিমারা চালিয়ে আসছিল, সেই খেলার রাশ টেনে ধরার অন্যতম নেপথ্য নায়ক। ২০১৬ সালে এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেওয়ার পেছনে তাকে অন্যতম কারিগর হিসাবে ধরা হয়। ইসরাইলের দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে নাকানি-চুবানি খাওয়ানোর অনেক কৃতিত্বও তাঁর ঝুলিতে আছে।
অত্যন্ত কৌশলী আর বুদ্ধিদীপ্ত হাকান ফিদানকে এরদোয়ান আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজে লাগাতে তুরস্কের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেন। তার তৎপরতার ফলেই লিবিয়া ইস্যুতে সম্পর্ক বিষিয়ে উঠা মিসরের সাথে সাথে তুরস্কের নতুন করে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জামাল খাসোগী হত্যার জেরে সৌদির সাথে তলানীতে ঠেকা সম্পর্ককেও তিনি পুণস্থাপন করেন। বিশেষত তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্র সৌদি ও মিসরকে তিনি আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন। শুধু তাই নয়, তাঁর তৎপরতায় সৌদি, মিসর , পাকিস্তানকে নিয়ে সামরিক জোট তৈরির গুঞ্জনও এখন সামনে আসছে।
হাকান ফিদানের অন্যতম অর্জনটি মনে হয় সিরিয়ায়। অনেকের মতে হাকানই তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় আহমাদ শারাকে সিরিয়ার জন্য নতুনরূপে প্রস্তুত করেছেন। প্রথমত, তিনি বাশার-আসাদকে তুরস্কের সঙ্গে মিটমাট করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিলেন আবার বিকল্প হিসাবে শা’রাদেরকেও প্রস্তুত করছিলেন। কারণ, সিরিয়ার বিষয়টি তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া শুধু ৪০ লক্ষ শরাণার্থীর বিষয়ই ছিল না, বরং এটি একই সঙ্গে কুর্দিদের সাথে চলতে থাকা তুরস্কের দীর্ঘ সংঘাতের সাথেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। শা’রার যোদ্ধাদের দ্রুত গতিতে সিরিয়া দখল, পুরো দেশে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সবশেষ কুর্দিদের সঙ্গে তুরস্ক ও সিরিয়া উভয় পক্ষেরই সমঝোতা এ সবের পেছনে কলকাঠি নাড়ানো ব্যক্তিটিই হল হাকান ফিদান।
হাকান ফিদান বাংলাদেশে এসেছেন, কিন্তু ঠিক এর আগে তার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন যে কূটনৈতিক চালটি তিনি চেলেছেন, সেটি হল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে জয়ী করতে তুরস্কের হয়ে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
সুতরাং তাঁর বাংলাদেশে আগমণ শুধুমাত্র একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন নয়, বরং এরদোয়ার সরকারের অন্যতম বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী সদস্য, আশপাশের অঞ্চলগুলোতে তুরস্কের ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া প্রভাবের অন্যতম নেপথ্য নায়ক, সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা একজন ব্যক্তির আগমন।
আমাদের পক্ষ থেকে আমরা তাঁকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। তাঁর এই আগমন ফলপ্রসূ হোক, এ কামনা করি।
(Copied)