30/07/2021
#বিগত ২৯/০৭/২০২১ তারিখের ভূল রেকর্ড সংশোধনের জন্য এসিল্যান্ড দের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি নিয়ে মতামতঃ
--------------------------------------------------------------------------
ভূমি আইনের খসড়া পাশ করতে না পেরে এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল সরাসরি বিলুপ্ত করতে না পেরে করনিক, গানিতিক ভ্রম সংশোধন এর নামে এসি ল্যান্ড সাহেব মিস কেস নথি খুলে রেকর্ড সংশোধন এর বিচার, রায় এবং এসি ল্যান্ড এর রায়ের পর রিভিউ এর পর সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি কালেক্টরের (ডিসি) নিকট রিভিশন দায়ের, কালেক্টর এর রায়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার এবং বিভাগীয় কমিশনার এর রায়ের বিরুদ্ধে ভূমি আপীল বোর্ড রেকর্ড সংশোধন এর বিচার করতে পারবে এমন বিধান চালু করা হল। আবার এসি (ল্যান্ড) তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার এর মতামত গ্রহণ করবেন মর্মে এই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। এটা কেমন বিচার হবে? প্রচলিত নিয়মে খসড়া খতিয়ান (ডিপি-ড্রাফট পাবলিকেশন) সংশোধন এর জন্য ৩০ ধারায় সেটেলমেন্ট অফিসার এর নিকট এবং ৩০ ধারার রায়ের বিরুদ্ধে ৩১ ধারায় জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব যিনি কালেক্টর বা, জেলা প্রশাসক এর সমপদস্থ) এর নিকট আপীল আপত্তি দাখিল ও নিস্পত্তির বিধান চালু আছে। ৩১ ধারার আপীল নিস্পত্তির পর রেকর্ড চুড়ান্ত প্রকাশনায় যায়। চুড়ান্ত প্রকাশনার পরে রেকর্ডের ভুল, ভ্রান্ত্রি, প্রতারণা বা, জালিয়াতির বিচার চুড়ান্ত প্রকাশনার তারিখ থেকে ০১ বছরের মধ্যে বা, ল্যান্ড সারভে ট্রাইবুনাল এর নিকট অতিরিক্ত ০১বছর বিলম্ব মার্জনার যুক্তিসঙ্গত কারণসহ হলফনামা দাখিল সাপেক্ষে বিজ্ঞ ল্যান্ড সারভে ট্রাইবুনাল (যুগ্ম জেলা জজ) এর নিকট রেকর্ড সংশোধন এর জন্য মামলা করার সুযোগ ছিল। জনগণের বিচার পাওয়ার সেই সুযোগ বাধাগ্রস্ত করাসহ জনগণের ভূমি সেবার নামে অতিরিক্ত তিন/চারটি বিচারিক স্তর বিশিষ্ট (এসি ল্যান্ড এর মিস কেস রায়, রিভিউ, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার এর মতামত গ্রহণ এবং কালেক্টর এর নিকট রিভিশন দায়ের, বিভাগীয় কমিশনার এর নিকট এবং সবশেষে ভূমি আপীল বোর্ড) দেওয়ানী বিচার আচার মুন্সিগিরি চালু হলে ভূমির রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত সেবা পেতে জনগণকে কমপক্ষে তিনটি/চারটি ধাপে অতিরিক্ত খরচ করার ন্যায় জনহয়রানির নতুন দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়েছে প্রতীয়মান হচ্ছে। সত্যিকারেই যদি জনগণের জন্য প্রশাসন অধিকতর ও দ্রুত ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা ও সেবা নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকে তাহলে ৩০ ধারার আপত্তি স্টেজে ডিপি খতিয়ান এর সংশোধন সংক্রান্ত মিস কেস সেটেলমেন্ট অফিসার এর পরিবর্তে এসি ল্যান্ড দিয়ে প্রথমেই শুনানি গ্রহণ করে নিস্পত্তি করা যেত এবং ৩০ ধারায় এসি ল্যান্ড এর রায়ের বিরুদ্ধে ৩১ রারার বিধান অনুসারে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) দিয়ে আপীল আপত্তি শুনানি ও নিস্পত্তির চলমান বিধান চালু রেখে বিজ্ঞ ল্যান্ড সারভে ট্রাইবুনাল এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে আইন অনুযায়ী ল্যান্ড সারভে আপীল ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগণকে ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য সত্যিকারের সেবা দেওয়া যেত বলিয়া মনে করি।
এড. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া(জাদু)
সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য
ঢাকা আইনজীবী সমিতি