Lali's Legal Solutions

Lali's Legal Solutions Gazi Abdullah Al Lali
Advocate
LL.B Hon's (NUB)
LL.M (RU)
Khulna & Dhaka Judge Court. contract no- 01742380507.

18/08/2026
আলহামদুলিল্লাহ সফল জামিন শুনানিতে আসামি মিথ্যা মামলা থেকে জামিন পাইলো।
29/07/2026

আলহামদুলিল্লাহ সফল জামিন শুনানিতে আসামি মিথ্যা মামলা থেকে জামিন পাইলো।

বাংলাদেশের আইনে স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হলেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার বা মায়ের কাছে থাকবে—এমন সরল নিয়ম নেই। সন্তানের হ...
28/07/2026

বাংলাদেশের আইনে স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হলেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার বা মায়ের কাছে থাকবে—এমন সরল নিয়ম নেই। সন্তানের হেফাজত (custody/হিযানত) এবং অভিভাবকত্ব (guardianship) দুটি পৃথক বিষয়। আদালতের মূল বিবেচনা হলো সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ (welfare of the minor)।

১. ডিভোর্সের পর সন্তান কার কাছে থাকবে?
সাধারণভাবে মুসলিম পারিবারিক আইনে ছোট সন্তানের দৈহিক হেফাজতের (custody) ক্ষেত্রে মায়ের অগ্রাধিকার স্বীকৃত হলেও, এটি অবিচ্ছেদ্য বা চূড়ান্ত অধিকার নয়। সন্তানের বয়স, লিঙ্গ, পারিবারিক পরিস্থিতি, মা-বাবার চরিত্র ও সক্ষমতা এবং সর্বোপরি সন্তানের কল্যাণ বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
অর্থাৎ, "ডিভোর্স হয়েছে, তাই ছেলে বাবার কাছে এবং মেয়ে মায়ের কাছে"—এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনগত নিয়ম নেই।

২. মুসলিম আইনে মায়ের হেফাজতের প্রচলিত নীতি
মুসলিম আইনে প্রচলিত হিযানত নীতিতে সাধারণত—
ছেলে সন্তান—প্রচলিত সুন্নি হানাফি মত অনুযায়ী, সাধারণভাবে মায়ের হেফাজতের বয়সসীমা ৭ বছর পর্যন্ত ধরা হয়।
মেয়ে সন্তান—সাধারণভাবে বয়ঃসন্ধি (puberty) পর্যন্ত মায়ের হেফাজতের কথা বলা হয়।
তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বয়সসীমা পূর্ণ হলেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার কাছে চলে যাবে না।
আদালত সন্তানের welfare বা কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে পারে। ফলে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তান মায়ের কাছেই থাকতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে বাবার কাছেও থাকতে পারে।

৩. Guardians and Wards Act, 1890-এর ভূমিকা
সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো The Guardians and Wards Act, 1890।
ধারা ৭ — Guardian নিয়োগ বা ঘোষণা
ধারা ৭ অনুযায়ী, আদালত যদি সন্তানের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় মনে করে, তাহলে কোনো ব্যক্তিকে সন্তানের guardian হিসেবে নিয়োগ বা ঘোষণা করতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—guardian হওয়া এবং custody পাওয়া এক জিনিস নয়।
একজন পিতা সন্তানের আইনগত guardian হতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে সন্তান মায়ের কাছে থেকে তার দৈনন্দিন যত্ন, শিক্ষা ও লালন-পালন পেতে পারে।

৪. ধারা ১৭ — সন্তানের Welfare সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
Guardians and Wards Act, 1890-এর ধারা ১৭ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ধারার অধীনে guardian নির্ধারণের সময় আদালত সন্তানের—
বয়স,
লিঙ্গ,
ধর্ম,
সম্ভাব্য guardian-এর চরিত্র,
তার সক্ষমতা,
সন্তানের সঙ্গে আত্মীয়তার নৈকট্য,
সন্তানের সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পর্ক,
এবং সন্তান যথেষ্ট বুদ্ধিমান হলে তার নিজের পছন্দ
বিবেচনা করতে পারে।
অতএব, মা বা বাবা—কে বেশি উপযুক্ত, সেটি শুধু সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়; সন্তানের সার্বিক কল্যাণের ভিত্তিতে বিচার করা হয়।

সহজ সূত্র:
Child Custody = শুধু মা বা বাবার অধিকার নয়; মূল প্রশ্ন হলো সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ কোথায়।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তেও minor-এর welfare-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. মা-বাবা দুজনেরই কি সন্তানের কাছে যাওয়ার অধিকার আছে?
ডিভোর্সের পর সন্তান একজনের custody-তে থাকলেও, অপর পক্ষের সঙ্গে সন্তানের দেখা-সাক্ষাৎ বা visitation-এর ব্যবস্থা আদালত করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ—
সন্তান মায়ের কাছে থাকবে;
বাবা নির্দিষ্ট দিনে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন;
ছুটির দিনে সন্তান বাবার সঙ্গে থাকতে পারে;
ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে;
আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী সাক্ষাতের সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারে।
তবে visitation বা custody জোর করে আদায় করার বিষয় নয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, minor-এর custody বা visitation-এর দাবি জোর প্রয়োগ করে বাস্তবায়ন করা যায় না; বিষয়টি মূলত minor-এর welfare-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

৬. Family Court কোন আইনে সিদ্ধান্ত দেয়?
বাংলাদেশে বর্তমানে Family Courts Act, 2023 প্রাসঙ্গিক। এর ধারা ৫ অনুযায়ী Family Court-এর একচেটিয়া এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে—
A.বিবাহ বিচ্ছেদ,
B.দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা,
C.দেনমোহর,
D.ভরণপোষণ,
E.সন্তানের guardianship ও custody।
অর্থাৎ, ডিভোর্সের পর সন্তান কার custody-তে থাকবে—এ নিয়ে বিরোধ হলে Family Court-এ প্রতিকার চাওয়া যায়।

৭. বাবা-মায়ের মধ্যে কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে।
Custody বা হেফাজত
সন্তান বাস্তবে কার কাছে থাকবে এবং কে তার দৈনন্দিন যত্ন নেবে।
Guardianship বা আইনগত অভিভাবকত্ব
সন্তানের আইনগত বিষয়ে কে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবে।
অনেক ক্ষেত্রে মা সন্তানের custody-তে থাকলেও বাবা আইনগত guardian হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তাই "সন্তান মায়ের কাছে থাকছে" মানেই "বাবার সব আইনগত অধিকার শেষ"—এটি সঠিক নয়।

৮. কোন কোন কারণে মা custody হারাতে পারেন?
মায়ের custody কোনো absolute right নয়। যদি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে মায়ের কাছে থাকলে সন্তানের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহলে আদালত custody পরিবর্তন করতে পারে।
যেমন—
সন্তানের প্রতি গুরুতর অবহেলা;
নির্যাতন বা abuse;
অনৈতিক বা ক্ষতিকর পরিবেশ;
সন্তানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা;
সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ অবহেলা;
এমন জীবনযাপন যা সন্তানের welfare-এর পরিপন্থী;
আদালতের আদেশ অমান্য করা;
অন্য কোনো গুরুতর কারণে সন্তানের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
Guardians and Wards Act-এর ধারা ৩৯-এ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত কর্তৃক guardian অপসারণের কারণগুলো উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে abuse, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, ill-treatment বা proper care না নেওয়া ইত্যাদি রয়েছে।

৯. বাবা কি শুধু বাবা হওয়ার কারণে custody পাবেন?
না।
বাবা সন্তানের পিতা—এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু custody-এর ক্ষেত্রে আদালত শুধু পিতৃত্বের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে না। আদালত দেখবে—
সন্তানের জন্য কোন custody arrangement সবচেয়ে ভালো?
যদি মা সন্তানের যথাযথ যত্ন নেন এবং সন্তানের welfare মায়ের কাছে ভালোভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে বাবা guardian হওয়ার দাবি রাখলেও সন্তান মায়ের custody-তে থাকতে পারে।
আবার মা যদি সন্তানের জন্য অনুপযুক্ত হন এবং বাবার কাছে সন্তানের welfare বেশি নিশ্চিত হয়, তাহলে সন্তান বাবার custody-তেও যেতে পারে।

১০. সন্তান যদি বড় হয়, তার মতামত কি বিবেচনা করা হবে?
হ্যাঁ।
Guardians and Wards Act, 1890-এর ধারা ১৭(৩) অনুযায়ী, সন্তান যদি এমন বয়সে পৌঁছে যে সে বুদ্ধিসম্পন্ন ও যুক্তিসঙ্গত পছন্দ প্রকাশ করতে সক্ষম, আদালত তার পছন্দ বিবেচনা করতে পারে। তবে সন্তানের মতামতই একমাত্র সিদ্ধান্তকারী বিষয় নয়; আদালত সামগ্রিক welfare বিবেচনা করবে।

১১. বাবা-মা দুজনই যদি custody দাবি করেন তাহলে কী হবে?
ধরা যাক—
মা বলেন:
"সন্তান ছোট, এতদিন আমি লালন-পালন করেছি। তাই সন্তান আমার কাছে থাকবে।"
বাবা বলেন:
"আমি সন্তানের পিতা, আমার আর্থিক সক্ষমতা বেশি, তাই সন্তান আমার কাছে থাকবে।"
এক্ষেত্রে আদালত শুধু কার আর্থিক সামর্থ্য বেশি তা দেখবে না। বরং বিবেচনা করতে পারে—
সন্তান বর্তমানে কার কাছে আছে;
কে এতদিন যত্ন নিয়েছে;
সন্তানের বয়স;
সন্তানের শিক্ষা;
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা;
বাবা-মায়ের চরিত্র ও আচরণ;
সন্তানের সঙ্গে কার সম্পর্ক কেমন;
সন্তানের নিজের পছন্দ;
সন্তানের মানসিক স্থিতিশীলতা;
বাবা বা মায়ের নতুন বিবাহের প্রভাব;
সন্তানের ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক;
সামগ্রিকভাবে কোন পরিবেশ সন্তানের জন্য ভালো।
সুতরাং, custody মামলা মূলত বাবা-মায়ের "অধিকার" নিয়ে নয়; সন্তানের "কল্যাণ" নিয়ে।

১২. সন্তানকে জোর করে নিয়ে গেলে কী হবে?
যদি কোনো পক্ষ আদালতের custody order অমান্য করে বা শিশুকে অন্য পক্ষের custody থেকে সরিয়ে নেয়, তাহলে উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার চাওয়া যায়।
Guardians and Wards Act, 1890-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী, কোনো ward guardian-এর custody থেকে চলে গেলে বা সরিয়ে নেওয়া হলে, আদালত যদি মনে করে যে guardian-এর কাছে ফেরত দেওয়া শিশুর welfare-এর জন্য উপকারী হবে, তাহলে আদালত ফেরত দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।

তবে বাস্তবে শিশুকে নিজে গিয়ে জোরপূর্বক উদ্ধার করার পরিবর্তে আদালতের আদেশের মাধ্যমে প্রতিকার নেওয়াই আইনসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি।

১৩. ডিভোর্সের পর বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব কি শেষ?
না।
ডিভোর্সের কারণে বাবা সন্তানের প্রতি তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যান না। সন্তানের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ে আইনগত দাবি থাকতে পারে। Custody মায়ের কাছে থাকলেও সন্তানের প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের বিষয়ে বাবার দায়িত্বের প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে।

১৪. একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, রহিম ও করিমার ডিভোর্স হয়েছে। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে।
সন্তান জন্মের পর থেকেই করিমার কাছে আছে এবং করিমা সন্তানের ভালোভাবে যত্ন নিচ্ছেন। রহিম সন্তানের বাবা এবং আইনগত অভিভাবকত্বের দাবি রাখেন।
এক্ষেত্রে—
সন্তান ছোট হওয়ায় মায়ের custody-এর দাবি শক্তিশালী হতে পারে;
কিন্তু আদালত শুধু বয়সের নিয়মে সিদ্ধান্ত নেবে না;
সন্তানের welfare বিবেচনা করবে;
রহিমকে সন্তানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে;
রহিমকে সন্তানের ভরণপোষণে অংশ নিতে হতে পারে;
যদি প্রমাণ হয় যে করিমার কাছে থাকা সন্তানের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে custody পরিবর্তনও হতে পারে।

১৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি কথা
১. ডিভোর্স হলেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার কাছে চলে যায় না।
২. ডিভোর্স হলেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মায়ের কাছেও স্থায়ীভাবে থেকে যায় না।
৩. ছোট সন্তানের ক্ষেত্রে প্রচলিত মুসলিম আইনে মায়ের হেফাজতের অগ্রাধিকার থাকতে পারে।
৪. কিন্তু Guardians and Wards Act, 1890-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী সন্তানের welfare অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. Custody এবং guardianship এক বিষয় নয়।
৬. অপর পক্ষের visitation/সাক্ষাতের অধিকার আদালত নির্ধারণ করতে পারে।
৭. বাংলাদেশে custody ও guardianship সংক্রান্ত বিরোধে Family Courts Act, 2023-এর ধারা ৫ এবং Guardians and Wards Act, 1890 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন

সারকথা
"ডিভোর্সের পর সন্তান কার কাছে থাকবে?"—এর সবচেয়ে সঠিক আইনগত উত্তর হলো: সন্তান যার কাছে থাকলে তার সর্বোত্তম কল্যাণ নিশ্চিত হবে, আদালত মূলত সেই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেবে। মায়ের প্রচলিত হেফাজতের অধিকার বা বাবার প্রাকৃতিক/আইনগত অভিভাবকত্ব—কোনোটিই সন্তানের welfare-এর ঊর্ধ্বে নয়।

নোট: মুসলিম, হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী পরিবারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন ও custody-এর নীতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। উপরের আলোচনা মূলত বাংলাদেশের Family Court কাঠামো, Guardians and Wards Act, 1890 এবং মুসলিম পারিবারিক আইনের সাধারণ নীতির আলোকে করা হয়েছে।

বিঃ দ্রঃ- নিজে জানুন এবং অন্য কে জানতে সাহায্য করুন।

Adv Abdullah Al Lali
Khulna & Dhaka Judge court.

🚨 ১০৭/১১৭ ধারার নোটিশ পেয়েছেন? আতঙ্কিত না হয়ে জানুন করণীয়!​অনেক সময় তুচ্ছ ঘটনা বা বিরোধের জেরে থানায় অভিযোগ হলে নির্বাহী...
20/07/2026

🚨 ১০৭/১১৭ ধারার নোটিশ পেয়েছেন? আতঙ্কিত না হয়ে জানুন করণীয়!
​অনেক সময় তুচ্ছ ঘটনা বা বিরোধের জেরে থানায় অভিযোগ হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১০৭/১১৭ ধারায় নোটিশ জারি করে থাকেন। অনেকে এই নোটিশ পেয়ে ভয় পান, কিন্তু এটি মূলত শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি আইনি প্রক্রিয়া।
​💡 আপনার প্রাথমিক করণীয়:
​✅ আতঙ্কিত হবেন না: এটি কোনো দণ্ডনীয় অপরাধের মামলা নয়, বরং একটি প্রিভেন্টিভ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
✅ আইনজীবী নিয়োগ করুন: নোটিশ পাওয়ার সাথে সাথে একজন আইনজীবী বা আইনি পরামর্শকের সাথে কথা বলুন।
✅ নির্ধারিত তারিখে হাজিরা: নোটিশে দেওয়া তারিখে অবশ্যই আদালতে হাজির হতে হবে। অনুপস্থিত থাকলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।
✅ জামিন বা বন্ড: আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন বা বন্ডের আবেদন করুন।

​আইন সম্পর্কে সচেতন হন, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিন।

Abdullah Al Lali
LL.B Hon's (NUB)
LL.M (R.U)
Advocate
Khulna & Dhaka Judge court.

​ #আইনিপরামর্শ #সচেতনতা

মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস। অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা লেনদেনে সর...
13/07/2026

মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস।

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা লেনদেনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে সংসদে সেটি পাস হয়।
নিয়ম অনুযায়ী এখন বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

10/07/2026

একই জমি একাধিক বার বিক্রি হলে কী করবেন?
বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত বিরোধের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমে যা করবেন

১. সব দলিল সংগ্রহ করুন

- আপনার ক্রয় দলিল (Sale Deed)
- পূর্ববর্তী দলিল (Chain Deed)
- খতিয়ান (CS, SA, RS, BS/সিটি জরিপ)
- নামজারির কাগজ
- ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রসিদ
- জমির নকশা ও দাগের তথ্য

২. সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিন
একই দাগ ও খতিয়ানের বিপরীতে আর কোনো দলিল নিবন্ধিত হয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করুন।

৩. জমির দখল কার কাছে আছে তা যাচাই করুন
বাংলাদেশে জমির বিরোধে প্রকৃত দখল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শুধু দখল থাকলেই মালিকানা প্রমাণ হয় না; বৈধ কাগজপত্রও গুরুত্বপূর্ণ।

যদি একই জমির একাধিক দলিল পাওয়া যায়

- কোন দলিলটি আগে সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে তা যাচাই করুন।
- বিক্রেতা বিক্রির সময় প্রকৃত মালিক ছিলেন কি না তা নিশ্চিত করুন।
- বিক্রেতা একবার মালিকানা হস্তান্তরের পর একই জমি আবার বিক্রি করলে পরবর্তী বিক্রয় আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে।
- প্রতিটি দলিলের বৈধতা ও মালিকানার ধারাবাহিকতা (Chain of Title) পরীক্ষা করা জরুরি।

আইনি করণীয়

- একজন অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
- প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতে মালিকানা ঘোষণা, দলিল বাতিল এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করা যেতে পারে।
- প্রতারণার প্রমাণ থাকলে ফৌজদারি আইনের অধীনেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে

- জমি কেনার আগে অন্তত ২৫ বছরের মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করুন।
- অনলাইন বা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে দলিল ও খতিয়ান যাচাই করুন।
- নামজারি, খাজনা ও দখলের অবস্থা নিশ্চিত করুন।
- প্রয়োজনে জমি জরিপ করে সীমানা মিলিয়ে নিন।
- আইনজীবীর মাধ্যমে টাইটেল ভেরিফিকেশন করিয়ে নিন।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

একই জমির একাধিক দলিল থাকলেই কোনো একটি দলিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ বা অবৈধ হয়ে যায় না। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলিলের তারিখ, মালিকানার ধারাবাহিকতা, বিক্রেতার অধিকার, নিবন্ধন, দখল এবং অন্যান্য প্রমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন।

সচেতন থাকুন, কাগজপত্র যাচাই করুন, এবং প্রয়োজনে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিন।

বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্যদের জানাতে পোস্টটি শেয়ার করুন।

Abdullah Al Lali
Advocate
Khulna and Dhaka Judge court.

 #মৃত্যুদন্ডের রায়ের পর করনীয় -⚖️বাংলাদেশে কোনো শিশু ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন...
10/07/2026

#মৃত্যুদন্ডের রায়ের পর করনীয় -

⚖️বাংলাদেশে কোনো শিশু ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) যদি আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তাহলে রায়ের পর আসামিপক্ষ ও বাদীপক্ষ উভয়েরই কিছু আইনি করণীয় থাকে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্যভেদে প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য হতে পারে।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর কী হয়-
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Death Reference) High Court Division-এ অনুমোদনের জন্য যায়।
অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয় না।

#আসামিপক্ষের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
🔹১. আপিল
আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে।
🔹২. ডেথ রেফারেন্স শুনানি
হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।
সম্ভাব্য ফলাফল:
মৃত্যুদণ্ড বহাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর।
পুনর্বিচারের নির্দেশ।
খালাস।
🔹৩. আপিল বিভাগে আপিল
হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে আসামি Appellate Division-এ আপিল করতে পারে।
🔹৪. রিভিউ আবেদন
আপিল বিভাগে পরাজিত হলে রিভিউ আবেদন করতে পারে।
🔹৫. রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশন (Mercy Petition) করা যেতে পারে।

#বাদীপক্ষের করণীয়
🔸১. রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা
হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিতে পারে।
🔸২. মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান
আসামির আপিলের বিরোধিতা করতে পারে।
🔸৩. খালাস বা সাজা কমে গেলে
যদি কোনো আসামি খালাস পায় বা সাজা কমে যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতে প্রতিকার চাওয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

❎ কখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়-
সাধারণত নিম্নোক্ত সব ধাপ শেষ হওয়ার পর:
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি।
আপিল নিষ্পত্তি।
রিভিউ নিষ্পত্তি।
প্রাণভিক্ষার আবেদন নিষ্পত্তি (যদি করা হয়)।
এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি পথ সম্পূর্ণ হয়।

👉 বাস্তবে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর থেকে সব আপিল ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক বছরও লাগতে পারে। তাই রায় ঘোষণার দিন থেকেই আসামিপক্ষের প্রধান লক্ষ্য থাকে সাজা বাতিল বা কমানোর চেষ্টা করা, আর বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের লক্ষ্য থাকে রায় বহাল রাখা।

বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্য কে জানতে সাহায্য করুন।

Adv Abdullah Al Lali
Khulna and Dhaka judge court.

🚨 দলিল হারিয়ে গেছে? ৯০% মানুষ জানেন না কী করতে হয়!জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু মনে রাখবেন, ...
08/07/2026

🚨 দলিল হারিয়ে গেছে? ৯০% মানুষ জানেন না কী করতে হয়!

জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু মনে রাখবেন, দলিল হারিয়ে গেলেই জমির মালিকানা হারিয়ে যায় না। সঠিক নিয়মে পদক্ষেপ নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

✅ যা করবেন:

• নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন।

• সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দলিলের সত্যায়িত নকল (Certified Copy) সংগ্রহ করুন।

• প্রয়োজন হলে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় হারানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করুন।

• দলিলের সঙ্গে সম্পর্কিত খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদসহ অন্যান্য কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।

• জটিলতা থাকলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

⚠️ মনে রাখবেন, জমির মালিকানা প্রমাণে শুধু দলিলই নয়, দখল, রেকর্ড, নামজারি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

📌 এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি শেয়ার করুন, যাতে অন্যরাও প্রয়োজনের সময় সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

Abdullah Al Lali
Advocate
Khulna and Dhaka judge court.





#দলিল

Address

Mohammadpur
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lali's Legal Solutions posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share