05/04/2026
জুলাই জাদুঘর আটকে দিচ্ছে জুলাই হত্যা মামলার আসামি!
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্র-জনতাকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরেও, যুগ্ম সচিব হিসেবে জ্যেষ্ঠ আমলা আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান এখনো বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন।
জুলাই গণহত্যার মামলার মতো সংবেদনশীল ঘটনার আসামি হয়েও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, এই ব্যক্তির কারণেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সাবেক গণভবনে নির্মিত জুলাই জাদুঘর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আলাউদ্দিন খান এখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “তিনি এখনো পূর্ণ ক্ষমতা হাতে নিয়ে কাজ করছেন। তার মাধ্যমেই ফাইল যাচ্ছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রকল্পগুলোর ওপর তার প্রভাব বজায় রয়েছে।”
তার হাত দিয়ে যেসব প্রকল্প যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে “জুলাই জাদুঘর”। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখার জন্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া একটি সরকারি উদ্যোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে, আলাউদ্দিন খান আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে জুলাই জাদুঘরকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করাসহ জাদুঘরের সামগ্রিক অগ্রগতিকে থামিয়ে রেখেছেন।
জুলাই জাদুঘর প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, “বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। কারণ ছাড়াই অনুমোদন আটকে রাখা হয়েছে, বারবার সিদ্ধান্ত পেছানো হচ্ছে। এতে ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।”
আলাউদ্দিন খানকে ঘিরে প্রশ্নগুলো শুধু সাম্প্রতিক ফৌজদারি মামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীন ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম (NSP)-এর পরিচালক হিসেবে তার দায়িত্বকালও আগে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
যুগান্তরে–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার ওই সময়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
এই প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে প্রকাশ্যে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি, তবে এটি ওই সময়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও তদারকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
কিছু সূত্রের মতে, তার দায়িত্বে বহাল থাকার পেছনে রাজনৈতিক সংযোগও ভূমিকা রাখতে পারে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আজমের সঙ্গে আলাউদ্দিন খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে পরিচিত।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ মামলাগুলো নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
#বাংলাদেশ