Lexes & Legists

Lexes & Legists We offer specific support to our clients in critical solutions by harnessing the skill and experience within the group.

A corporate law firm providing legal services (Litigation and Documentation) and dealing with Bank, Financial Institution, Company, Industry, Government, Semi-Government, Non-Government, Institutional and Individual matters in Bangladesh.
----X---- ABOUT US:

Lexes & Legists is a corporate law firm based in Dhaka, Bangladesh continues the tradition of providing prompt and sound legal services si

nce the first law office bearing the name and style “Lexes & Legists” which has developed a high specialization in the field of corporate law. Our corporate law firm is a team of highly qualified and experienced lawyers, who offer effective services to our clients by combining broad knowledge of corporate law matters with experience in key sub disciplines. With the ability to identify potential issues and develop real-time, practical solutions to a wide variety of client concerns, we ensure complete customer satisfaction. Lexes & Legists strives to enable our customers to successful meet ongoing challenges and upcoming opportunities with our comprehensive understanding of various business challenges and the associated legal practices. Through every phase of growth of our client's business, we help business owners, management teams and shareholders involved in making the key decisions that help determine long term success. Working in co-operation with our clients, we offer result oriented services and efficient implementation of corporate dealings. Lexes & Legists is committed to the public good by providing our clients with a means of protecting their rights and promoting their interests based upon truth, honesty, and fairness. We serve our purpose each time that our clients' confidence is raised that the legal system can be used, at a reasonable cost and in a timely manner, to address the wrongs which have been realized by our clients. Lexes & Legists focuses on providing practical and innovative legal solutions. We observe the highest level of professional ethics with an excellent, responsive and timely legal service to our clients. We are known for our integrity, efficiency, mutual trust and personal responsibility towards our clients.

09/06/2026

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট ও ৫৬১এ ধারার অপপ্রয়োগ: একটি রূঢ় বাস্তবতা!

আদালতের মামলার জট কমানো কি শুধু বিচার বিভাগের একার দায়িত্ব? একদমই নয়। বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে আইনজীবী—আইনি ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রত্যেকেরই এখানে সমান দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা রয়েছে

মামলার জটের মূল কারণ:আদালতে মামলার জট (Case Backlog) কেবল বিচার বিভাগের একক দায় নয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, অপ্রয়োজনীয় ও ভিত্তিহীন মামলা বা আবেদন দায়েরের সংস্কৃতি (Frivolous Litigation) মামলার জট সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। এর দায়ভার বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে আইনজীবী এবং তদন্তকারী সংস্থা—আইনি ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রত্যেকেরই এখানে সমান দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা রয়েছে।

৫৬১এ ধারার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা ও উদ্দেশ্য: ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১-এ ধারা (Section 561A CrPC) অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে। মূলত আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার (Abuse of the process of the Court) রোধ করা এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার (Securing the ends of justice) স্বার্থেই ফৌজদারি কার্যধারা বাতিলের (Quashment / Quashing) এই আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

কোয়াশমেন্টের অপরিহার্য শর্ত: কমন ল (Common Law) এখতিয়ারভুক্ত দেশসমূহের সুপ্রতিষ্ঠিত বিচারিক নজির ও নীতি অনুযায়ী, এরূপ আবেদন মঞ্জুরের জন্য সুনির্দিষ্ট ও সঠিক 'Law Point' বা আইনগত ভিত্তি থাকা বাধ্যতামূলক। যেমন—

১. এফআইআর, সিআর পিটিশন বা চার্জশিটের অভিযোগগুলো সত্য ধরে নিলেও সেখানে অপরাধের প্রাথমিক উপাদান (Ingredients of the offence) অনুপস্থিত থাকা।

২. মামলা দায়ের বা আদালতের অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনগত বাধা (Statutory Bar/Limitation) থাকা।

৩. ফৌজদারি মামলার আড়ালে বা মোড়কে সম্পূর্ণ দেওয়ানি (Civil Nature) বিরোধ উপস্থাপন করা।

উচ্চ আদালতের হতাশাজনক বাস্তবতা ও বাস্তব চিত্র: সেদিন উচ্চ আদালতে সরাসরি উপস্থিত থেকে এই ধারায় দায়েরকৃত বেশ কয়েকটি ফৌজদারি কোয়াশমেন্ট অ্যাপ্লিকেশনের (Quashment Applications) শুনানি শোনার সুযোগ হয়েছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, সম্প্রতি উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত অনেক কোয়াশমেন্ট আবেদনেরই ন্যূনতম আইনগত ভিত্তি থাকে না। বিচারিক আদালতে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, সুনির্দিষ্ট আইনি যুক্তির বদলে অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল ও ভ্রান্ত আইনি পয়েন্ট (Wrong or Misconceived Law Points) উপস্থাপন করে সরাসরি উচ্চ আদালতে চলে আসা হয়।

ফ্যাক্টস বনাম ল 'পয়েন্ট:অধিকাংশ আবেদনের মূল ভিত্তি থাকে কেবলই 'Factual Matter' বা ঘটনার সত্য-মিথ্যা সংক্রান্ত বিতর্ক। অথচ আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, ঘটনার সত্য-মিথ্যা বা ফ্যাক্টস নির্ধারণ উচ্চ আদালতের কাজ নয়, বরং তা বিচারিক আদালতের (Trial Court) ট্রায়াল ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে মীমাংসাযোগ্য বিষয়।

আদালতের চিরাচরিত আদেশ:স্বাভাবিকভাবেই, আপাতদৃষ্টে (Prima facie) কোয়াশমেন্টের আইনি শর্ত পূরণ না করায় এবং ভুল আইনগত পয়েন্ট উপস্থাপনের কারণে মাননীয় আদালত আবেদনগুলোর প্রায় সবকটিই "Dismissed as not pressed", "Rejected" অথবা সরাসরি "Dismissed"করে আদেশ প্রদান করেন।

এই বাস্তবতায় আমাদের কিছু বিষয় গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন:

তদন্ত ও বিচারিক পর্যায়ে সতর্কতা:
ফৌজদারি মামলার সূচনালগ্নে অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক তদন্তের সময়েই (Investigation Stage) যদি তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রভাবমুক্ত হয়ে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলাগুলো চিহ্নিত করে 'চূড়ান্ত প্রতিবেদন' (Final Report) দাখিল করত, এবং বিজ্ঞ আদালতও অপরাধ আমলে নেওয়ার (Cognizance) ক্ষেত্রে আরও প্রখর আইনি সতর্কতা অবলম্বন করতেন, তবে শুরুতেই ভিত্তিহীন মামলার বিশাল চাপ রোধ করা সম্ভব হতো।

ভিত্তিহীন আবেদন দায়েরের সংস্কৃতি (Bad Practice):
কোনো 'Legal Merit' নেই জেনেও অথবা ভ্রান্ত আইনি ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে উচ্চ আদালতে কার্যধারা বাতিলের আবেদন করা মূলত আদালতের প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট অপব্যবহার (Abuse of Process) Bad Practice। এর ফলে বিচারপ্রার্থীর অর্থ ও সময়ের অপচয় ঘটে, তারা মানসিকভাবে বিভ্রান্ত ও বিপর্যস্ত হন এবং সর্বোপরি আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে মামলার জট জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

পেশাগত সততা ও উত্তরণের উপায়:
বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রকৃত বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেই এই অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা সৃষ্টির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

একটি মামলা আপাতদৃষ্টে আইনগতভাবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য বা টিকবে কি টিকবে না, তা শুরুতেই মক্কেলের নিকট সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা আমাদের আইনজীবীদের পেশাগত সততা (Professional Ethics) ও দায়বদ্ধতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিখ্যাত আইনী প্রবাদ"Justice Delayed is Justice Denied;Justice Hurried is justice Buried."বিলম্বে বিচার বনাম তড়িঘড়ি রায়: ...
09/06/2026

বিখ্যাত আইনী প্রবাদ
"Justice Delayed is Justice Denied;
Justice Hurried is justice Buried."

বিলম্বে বিচার বনাম তড়িঘড়ি রায়: ন্যায়বিচারের দুই অদৃশ্য ফাঁদ

​আইন অঙ্গনে দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং চিরন্তন প্রবাদ, যা যেকোনো দেশের বিচার ব্যবস্থার আসল আয়না:

১. "Justice Delayed is Justice Denied" (বিলম্বিত বিচার মানেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া)

২. "Justice Hurried, Justice Buried" (তড়িঘড়ি করা বিচার ন্যায়বিচারকে কবর দেয়)

​আপাতদৃষ্টিতে কথা দুটিকে পরস্পরবিরোধী মনে হলেও, আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুটি তত্ত্বই সমানভাবে বাস্তব এবং চিন্তার খোরাক জোগায়।

১. যখন বিলম্ব কেড়ে নেয় ন্যায়বিচার (Justice Delayed)

​আমাদের দেশে একটি দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি হতে ১৫ থেকে ২০ বছর লেগে যাওয়া যেন এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। একজন বিচারপ্রার্থী যখন বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘোরেন, তখন শুধু তার সময় নষ্ট হয় না; বরং তিনি মানসিকভাবে পঙ্গু এবং অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

প্রভাব: সময় যত বাড়ে, মামলার প্রকৃত আলামত নষ্ট হয়, সাক্ষীরা দুনিয়া ছেড়ে চলে যান কিংবা স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন। ফলে অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাস্তবতা: অনেক সময় দেখা যায়, ২০ বছর পর আদালত যার পক্ষে রায় দিয়েছেন, তিনি হয়তো সেই রায় দেখে যাওয়ার জন্য জীবিতই নেই! এই দীর্ঘসূত্রিতা আসলে এক ধরনের নীরব অবিচার। একেই বলা হয়— Delay Defeat Equity বা বিলম্ব সাম্যকে পরাজিত করে।

২. গতি যখন গিলে খায় সত্যকে (Justice Hurried)
​বিলম্ব যেমন অভিশাপ, তেমনি 'দ্রুত বিচার' নিশ্চিত করার নামে অন্ধের মতো তাড়াহুড়ো করাও আরেকটি বড় বিপর্যয়। জনমতের চাপ কিংবা আবেগের বশে যদি আইনি প্রক্রিয়াকে বাইপাস করে দ্রুত রায় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তাকে বিচার বলা চলে না।

প্রভাব: তড়িঘড়ি করতে গেলে তদন্ত সংস্থা নিখুঁতভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না, আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ পান না এবং বিচারকের পক্ষেও গভীর বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয় না।

ফলাফল: এর চূড়ান্ত পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ— একজন প্রকৃত অপরাধী হয়তো আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, আর কোনো একজন সম্পূর্ণ নিরপরাধ মানুষ বলির পাঁঠা হয়ে সাজা ভোগ করে। অর্থাৎ, গতি বাড়াতে গিয়ে ন্যায়বিচারকেই জীবন্ত কবর দেওয়া হয়।

আমাদের করণীয়: গতি ও নিখুঁততার ভারসাম্য
​একটি আদর্শ ও সুস্থ বিচার ব্যবস্থার মূল মন্ত্র হলো—

"বিচার হবে সময়োপযোগী, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে নয়।"

রোমান আইনের সেই বিখ্যাত নীতিটি আমাদের
সবসময় মনে রাখতে হবে: "শত অপরাধী পার পেয়ে যাক, কিন্তু একজন নিরপরাধ মানুষও যেন অন্যায্যভাবে শাস্তি না পায়।"

​তাই বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে মামলার জট যেমন কমাতে হবে, তেমনি তদন্ত ও শুনানির গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। অন্ধ গতি নয়, বরং স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভারসাম্যই পারে সাধারণ মানুষের মনে আদালতের প্রতি আস্থা টিকিয়ে রাখতে।

বাংলাদেশের Negotiable Instruments Act, 1881-এর 138 ধারার অধীনে চেক ডিজঅনারের মামলার পূর্বে প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশের জবাব ...
09/06/2026

বাংলাদেশের Negotiable Instruments Act, 1881-এর 138 ধারার অধীনে চেক ডিজঅনারের মামলার পূর্বে প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশের জবাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত জবাব পরবর্তী মামলায় প্রতিরক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।

লিগ্যাল নোটিশের জবাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই থাকা উচিতঃ

১. নোটিশ প্রাপ্তির স্বীকারোক্তি
কখন এবং কীভাবে নোটিশটি প্রাপ্ত হয়েছেন তা উল্লেখ করতে হবে।

২. অভিযোগের সুস্পষ্ট জবাব
নোটিশে উল্লিখিত প্রতিটি অভিযোগের পৃথক ও সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে হবে।
শুধু "অভিযোগ মিথ্যা" বললে হবে না; কারণসহ অস্বীকার করতে হবে।

৩. চেক ইস্যুর প্রকৃত উদ্দেশ্য
চেকটি কেন দেওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট করতে হবে।
যেমন:
নিরাপত্তা (Security Cheque) হিসেবে,
বিনিয়োগের জন্য,
ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে,
অথবা আদৌ ইস্যু করা হয়নি।

৪. আইনগত দায় (Legally Enforceable Debt) ছিল কি না
চেক প্রদানের সময় প্রকৃত কোনো দেনা বা দায় ছিল না—এমন হলে তা বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে।

৫. চেক অপব্যবহারের অভিযোগ (যদি থাকে)
চেক হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা অপব্যবহার করা হলে সেই তথ্য ও প্রাসঙ্গিক দলিল উল্লেখ করতে হবে।

৬. পূর্ববর্তী যোগাযোগ বা সমঝোতা
পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা, হিসাব নিষ্পত্তি বা চুক্তি থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে।

৭. প্রাসঙ্গিক দলিলের উল্লেখ
ব্যাংক স্টেটমেন্ট
চুক্তিপত্র
মানি রিসিট
হিসাব বিবরণী
জিডি বা অন্যান্য নথি

৮. আইনগত অবস্থান পরিষ্কার করা
কেন দাবিকৃত অর্থ পরিশোধযোগ্য নয় বা কেন নোটিশটি আইনগতভাবে টেকসই নয়, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।

৯. ভবিষ্যৎ আইনগত পদক্ষেপের সতর্কতা
মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সবচেয়ে বড় ভুল হলো নোটিশের জবাবে এমন কোনো স্বীকারোক্তি দেওয়া, যা পরে ১৩৮ ধারার মামলায় আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই জবাব দেওয়ার আগে মামলার সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা (defence) বিবেচনা করে উত্তর প্রস্তুত করা উচিত।

প্র্যাকটিস টিপ: চেক মামলায় লিগ্যাল নোটিশের জবাব অনেক সময় মামলার Written Defence-এর ভিত্তি হয়ে যায়। তাই আবেগপ্রসূত নয়, বরং আইনগতভাবে চিন্তা করে জবাব দেওয়া উচিত।

📢 নোট: এটি সাধারণ আইনি ধারণা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরাসরি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

“আইন সহজে জানুন, সচেতন থাকুন।”

#নোটিশেরজবাব #লিগ্যালনোটিশ #চেকেরনোটিশ

বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা। আপনি দেশ ছাড়তে পারবেন না! অথচ আপনার নামে কোনো মামলা নেই, কোনো ওয়ারেন্টও নেই। স্রেফ একটা চিঠির জোর...
08/06/2026

বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা। আপনি দেশ ছাড়তে পারবেন না! অথচ আপনার নামে কোনো মামলা নেই, কোনো ওয়ারেন্টও নেই। স্রেফ একটা চিঠির জোরে কি আপনাকে এভাবে আটকে দেওয়া সম্ভব? তাফসির মোহাম্মদ আউয়াল বনাম বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার এবং অন্যান্য মামলার রায় আজ আলোচনা করবো। আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈রায়ের তারিখ: ২৪/০২/২০২২
♈মাননীয় বিচারপতি ​মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং মাননীয় বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

মামলার প্রেক্ষাপট (Fact of the Case):
Writ petitioner তাফসির মোহাম্মদ আউয়াল বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন দ্বৈত নাগরিক (Dual Citizen) এবং দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ 'মাল্টিমোড গ্রুপ'-এর অন্যতম পরিচালক।

✅তিনি নিয়মিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশে যাতায়াত করেন। ২৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে তিনি তাঁর যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মেয়ের জন্মদিনে যোগদানের উদ্দেশ্যে লন্ডন যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান।

✅বিমানের চেকিং সম্পন্ন করে বোর্ডিং পাস (Boarding Pass) নেওয়ার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রায় ২ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনার অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে অফলোড (Off-loaded) করে অর্থাৎ দেশ ত্যাগে বাধা দেয়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই স্রেফ একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকের (Memo) মাধ্যমে তাঁর ওপর এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা (Travel Ban) জারি করেছে।

✅যদিও আবেদনকারী ইতিপূর্বেই দুদকের তলব অনুযায়ী হাজির হয়ে সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেন্ডিং ছিল না।

✅মামলার কারণ (Cause of Action)
কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা (Specific Criminal Case) কিংবা আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) ছাড়াই, স্রেফ প্রশাসনিক চিঠির বা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে একজন নাগরিকের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং বিমানবন্দরে তাঁকে হয়রানি করার মাধ্যমেই এই মামলার ‘Cause of Action’ বা মামলার কারণ উদ্ভূত হয়েছে। এটি সরাসরি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ।

✅রিট পিটিশন দায়ের (Filing of Writ Petition)
দুদকের এই স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে writ petitioner has challenged under Article 102 of Constitution and challenged the travel ban memo issued by the ACC.

✅রুল ইস্যু (Rule Nisi)
আবেদনটি প্রাথমিক শুনানির পর মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ প্রতিপক্ষ তথা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর একটি 'Rule Nisi' (রুল নিশি) জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়— কেন আবেদনকারীকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়ার এই পদক্ষেপ এবং দুদকের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার স্মারকটিকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না।

✅Issuance of Interim Order:
রুল জারির পাশাপাশি আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা প্রাথমিক আদেশ (Interim Order) প্রদান করেন। এই আদেশে বলা হয়, যদি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আদালতে কোনো সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেন্ডিং না থাকে, তবে তাঁকে আগামী ৩ (তিন) মাসের জন্য বিদেশে যাওয়ার এবং পুনরায় দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

✅আবেদনকারীর আইনজীবীর বক্তব্য (Submissions of the Petitioner’s Advocate): আবেদনকারীর পক্ষে বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী অত্যন্ত জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন:

🔴তিনি সাবমিট করেন যে, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা নেই, কোনো এফআইআর (FIR) নেই এবং আদালত থেকেও কোনো ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়নি।

🔴সংবিধানের Article 36 অনুযায়ী, একজন নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা (Freedom of Movement) এবং দেশ ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের অধিকার একটি ইনালিয়েনেবল (Inalienable) বা অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার।

🔴দুদক আইন, ২০০৪ বা দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর কোথাও কমিশনকে স্রেফ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট বা পরোক্ষ ক্ষমতা (Express or Implied Power) দেওয়া হয়নি।

🔴UDHRএর ১৩ অনুচ্ছেদ এবং আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী নজিরসমূহ (Precedents) উল্লেখ করে বলেন, কোনো নাগরিককে আটকাতে হলে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট মামলা করে আদালতের ‘Custodial Order’ বা হেফাজতের আদেশ নিতে হবে।

🔴 the learned Advocate has has referred to legal decisions taken in the cases of H.M. Ershad vs. Bangladesh reported in 7 BLC(AD)67, Bangladesh vs. Allama Delwar Hossain Sayeedi reported in 16 BLC(AD)51, Mohammad Tajul Islam vs. Bangladesh and others reported in 25 BLT(HC)195 and Arif Hossen vs. Bangladesh reported in 25 BLC(HC)337.

✅দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারের বক্তব্য (Submissions on behalf of the ACC & Government): দুদকের পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী এই রিটের বিরোধিতা করে যুক্তি দেখান:

🔴Writ petitioner একজন দ্বৈত নাগরিক এবং আদালতের প্রাথমিক আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি বিদেশে চলে গেছেন এবং বর্তমানে তাঁর 'Whereabouts' বা অবস্থান আদালত বা দুদকের কাছে অজ্ঞাত।

🔴তিনি আপিল বিভাগের একটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত Durnity Daman Commission vs. GB Hossain and others reported in 74 DLR (AD) (2022),1 উল্লেখ করে বলেন, সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত চলাচলের অধিকারটি কোনো পরম বা অসীম অধিকার (Non-absolute Right) নয়।

🔴আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধের তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি যেন আইনগত প্রক্রিয়া এড়াতে দ্রুত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য ভ্রমণের ওপর যৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করার এখতিয়ার রাষ্ট্রের রয়েছে। তাই রুলটি খারিজ (Discharge) করার আবেদন জানান।

✅আদালতের পর্যবেক্ষণ (Observations of the Court)
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আইন পর্যালোচনার পর মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ (Observations) প্রদান করেন:

🔴আদালত স্পষ্ট করে বলেন, দুদক আইন বা বিধিমালার কোথাও দুদককে নিজে থেকে কোনো নাগরিকের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা (Embargo) দেওয়ার একক বা চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

🔴চলাচলের স্বাধীনতা একটি সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। আইন প্রণয়ন ছাড়া স্রেফ প্রশাসনিক বা নির্বাহী আদেশের (Executive Order) মাধ্যমে এই অধিকার খর্ব করা যায় না। বিধিনিষেধের যৌক্তিকতা বিচারের চূড়ান্ত এখতিয়ার বিচার বিভাগের।

🔴আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে যদি জরুরি ভিত্তিতে কারও বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিতেও হয়, তবে তা জারির ৩ কার্যদিবসের (3 Working Days) মধ্যে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের (Court of Jurisdiction) মাধ্যমে অনুমোদন বা নিশ্চিত করিয়ে নিতে হবে। আদালতের সিল বা অনুমোদন ছাড়া দুদকের এমন স্মারকের কোনো আইনি কার্যকারিতা (Legal Efficacy) নেই।

🔴আদালত আবেদনকারীর আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতকে না জানিয়ে বিদেশে অবস্থান করা অনুচিত। নাগরিক হিসেবে আদালতের প্রতি আরও যত্নশীল ও শ্রদ্ধাশীল (Respectful to the Law) হওয়া আবশ্যক।

✅রায় (Final Judgement):
মাননীয় আদালত সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে রিট পিটিশনটি (Rule Nisi) আপিল বিভাগের ‘Durnity Daman Commission vs. GB Hossain and others reported in 74 DLR (AD) (2022),1’ মামলার সিদ্ধান্তের আলোকে নিষ্পত্তি (Disposed of) ঘোষণা করেন।

🔴আদালতের অনুমোদন ব্যতীত আবেদনকারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দুদকের বিতর্কিত স্মারকটির
declared illegal and without lawful authority :

🔴তবে, দুদকের যদি পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে, তবে তারা আবেদনকারীর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের কাছে আবেদন করার স্বাধীনতা (Liberty) পাবে।

🔴আবেদনকারীকে আদালতের আদেশের প্রতি ভবিষ্যতে আরও সতর্ক এবং শ্রদ্ধাশীল থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।

Collected

⚖️ চেক বাউন্স মামলা মানেই কি নিশ্চিত সাজা? আইনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তিশালী অভিযুক্তের আত্মপক্ষ জানেন কি?  ধারা ১৩৮-এর ...
06/06/2026

⚖️ চেক বাউন্স মামলা মানেই কি নিশ্চিত সাজা?

আইনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তিশালী অভিযুক্তের আত্মপক্ষ জানেন কি? ধারা ১৩৮-এর মামলা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—চেক ডিজঅনার হওয়া আর অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক জিনিস নয়।

অনেক সময় অভিযোগকারী পক্ষ এমন ধারণা সৃষ্টি করেন যেন একটি চেক হাতে থাকা এবং সেটি বাউন্স হওয়াই দণ্ডাদেশের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আইন ও বিচারিক নজির সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে।

একজন দক্ষ প্রতিরক্ষা আইনজীবীর প্রথম প্রশ্ন হবে—

🔹 চেকটি কীভাবে অভিযোগকারীর হাতে এলো?

🔹 চেকটি কি প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ দায় (legally enforceable liability) পূরণের জন্য দেওয়া হয়েছিল?

🔹 চেকটি কি নিরাপত্তা (Security Cheque) হিসেবে দেওয়া হয়েছিল?

🔹 চেকটি কি জোরপূর্বক, প্রতারণার মাধ্যমে অথবা বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল?

🔹 অভিযোগকারী কি প্রকৃতপক্ষে "Holder in Due Course"?

আইন স্বীকার করে যে, সব চেক সমান নয়।

যদি কোনো চেক—

✔️ চুরি হয়ে যায়,

✔️ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়,

✔️ জবরদস্তি করে নেওয়া হয়,

✔️ কোনো বৈধ consideration ছাড়া হস্তান্তরিত হয়,

তাহলে সেই চেককে কেন্দ্র করে দায়-দেনার প্রশ্ন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

এ কারণেই অনেক ধারা ১৩৮-এর মামলা বিচার শেষে ব্যর্থ হয়, কারণ আদালত শুধু চেক নয়, চেকের পেছনের গল্পও শুনতে চান।

একটি চেক কেবল একটি কাগজ।

কিন্তু সেই কাগজের পেছনে যদি বৈধ লেনদেন, আইনগত অধিকার এবং গ্রহণযোগ্য consideration না থাকে, তাহলে অভিযোগকারীকে আদালতে আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

📚 প্রাসঙ্গিক নজির:

Shafiqul Islam and others Vs. Bangladesh and others, 2 SCOB [2015] HCD 1 at pp. 14-15 (Mirza Hussain Haider, J.)

মামলার ঘটনা

আবেদনকারীদের অন্যতম যুক্তি ছিল যে, সব ধরনের চেককে যান্ত্রিকভাবে ধারা ১৩৮-এর আওতায় আনা যায় না। বিশেষ করে চুরি, প্রতারণা, জোরপূর্বক সংগ্রহ অথবা বৈধ লেনদেনবিহীন চেকের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত (Ratio)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, ধারা ১৩৮-এর পরিধি বিস্তৃত হলেও Negotiable Instruments Act-এর ধারা 43, 58 এবং 118 অনুযায়ী অভিযুক্তের প্রতিরক্ষা গ্রহণের অধিকার বহাল রয়েছে।

আদালত বলেন—

✔️ Fraudulently obtained cheque, stolen cheque বা unlawfully obtained cheque নিয়ে প্রতিরক্ষা তোলা যাবে;

✔️ Consideration ছাড়া ইস্যুকৃত চেক নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে;

✔️ অভিযোগকারী প্রকৃত Holder in Due Course কি না, তা বিচারযোগ্য বিষয়;

✔️ ধারা ১৩৮ কোনো ব্যক্তিকে প্রতিরক্ষাহীন করে না।

অর্থাৎ, আদালতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—চেকটি কেন, কীভাবে এবং কোন আইনি সম্পর্কের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছিল।

একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী জানেন, অনেক সময় মামলার ভাগ্য নির্ধারণ করে চেকটি নয়—চেকের উৎস।

প্রতারণার মাধ্যমে বিনিময় দলিল ও শর্ত ভঙ্গের মাধ্যমে দলিল।  ​বিচারিক ও আপিল আদালতের রায় বহাল রেখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ...
06/06/2026

প্রতারণার মাধ্যমে বিনিময় দলিল ও শর্ত ভঙ্গের মাধ্যমে দলিল। ​বিচারিক ও আপিল আদালতের রায় বহাল রেখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতারণামূলকভাবে তৈরি কোনো বিনিময় দলিল আইনগতভাবে টিকবে না। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সম্প্রতি একটি রায় প্রদান করেছেন।

শামোলা খাতুন এবং অন্যান্য​-বনাম-​মোঃ মনজিল মিয়া এবং অন্যান্য মামলার রায় আজ আলোচনা করবো। আইনের শিক্ষার্থী, গবেষণা, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে আলোচনা করবো।

♈রায়ের তারিখ: ০৫/০৩/২০২৬
♈মাননীয় বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান

✅মালার ঘটনা (Facts of the Case):
মামলার মূল বাদী মনজিল মিয়া এবং বিবাদী শামোলা খাতুন ও অন্যান্যদের পূর্বসূরি আব্দুস সোবহান একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বাদী পূর্বে বিবাদীদের পূর্বসূরির কাছ থেকে ৫৬৯ নং দাগের ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে, ২০০৫ সালের ২৬শে এপ্রিল বাদী পক্ষ তার নিজ বসতবাড়ি (যা পূর্ববর্তী ৫৬৫ এবং বর্তমান ৭৯১ নং দাগের অংশ) বিবাদীদের ৫৬৯ নং দাগের অন্য একটি সংলগ্ন ১২ শতাংশ জমির সাথে বিনিময় করতে সম্মত হন এবং এই মর্মে একটি বিনিময় দলিল (দলিল নং ৭৫৬৭) সম্পাদিত ও রেজিস্ট্রি হয়।

🔴দলিল সম্পাদনের পর উভয় পক্ষ দখল হস্তান্তর করে এবং বাদী উক্ত জমিতে আখ চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারী খালেক ও মালেকের সাথে বাদীর সম্পর্ক তিক্ত হলে বাদীর মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তিনি দলিলের জাবেদা নকল (Certified Copy) উত্তোলন করে দেখেন যে, দলিলে ৫ম তফসিলে বর্ণিত ১২ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৩য় তফসিলে জালিয়াতি ও প্রতারণামূলকভাবে মাত্র ৬.৫০ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২০০৮ সালের ৫ই নভেম্বর বিবাদী পক্ষ বাদীকে উক্ত ১২ শতাংশ জমি থেকে জোরপূর্বক বেদখল করে।

🔴রেজিস্ট্রিকৃত বিনিময় দলিলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ১২ শতাংশ জমি হস্তান্তরের কথা থাকলেও, বিবাদী পক্ষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দলিলে জমির পরিমাণ কম লেখে (৬.৫০ শতাংশ)।

✅ Cause Action: চুক্তি মোতাবেক প্রাপ্ত জমি থেকে বাদীকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ বা বেদখল করা। মূলত এই স্বত্বহীনতা ও বেদখলই মামলার মূল কারণ।

✅মামলা দায়ের:
বাদী মনজিল মিয়া ১৩/০৫/২০০৮ তারিখে কুমিল্লার চান্দিনা সহকারী জজ আদালতে টাইটেল স্যুট নং ৭০০/২০০৮ দায়ের করেন (যা পরবর্তীতে স্থানান্তর হয়ে টাইটেল স্যুট নং ১৩০/২০০৯ হিসেবে রুজু হয়)। আরজিতে তিনি বিনিময় দলিলটি জালিয়াতিপূর্ণ ও অকার্যকর ঘোষণা এবং ২ নং তফসিলে বর্ণিত জমির খাস দখল পুনরুদ্ধারের প্রতিকার প্রার্থনা করেন।

🔴অপরদিকে বিবাদী পক্ষ (আব্দুস সালাম ও আব্দুল খায়ের) গত০৮.১০.২০০৮ তারিখে কুমিল্লার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে টাইটেল স্যুট নং ১৪০৪/২০০৮ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। তারা ঘোষণা চান যে, এই লেনদেনটি কোনো বিনিময় ছিল না, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি 'বিক্রয় দলিল' এবং তারা ক্রয়সূত্রে মালিক।

🔴বিবাদী পক্ষের (মূল মামলার) লিখিত জবাব ও বক্তব্য: বিবাদী পক্ষ মূল মামলায় যৌথ লিখিত জবাব দাখিল করে দাবি করে যে, এটি আদতে কোনো বিনিময় দলিল ছিল না, বরং ৩,২০,০০০/= টাকা প্রতিপণ মূল্যে একটি খাঁটি বিক্রয় দলিল ছিল।

🔴অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বাদীর বন্ধু খালেক ও মালেকের পরামর্শে বিক্রয় দলিলের পরিবর্তে বিনিময় দলিল করা হয়েছিল। তারা বাদীর পরিত্যক্ত ভিটায় ১,৫০,০০০/- টাকা ব্যয়ে দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন এবং তারা খরচসহ বাদীর মামলা খারিজের আবেদন জানান।

✅বিচারিক আদালতের (Trial Court) রায়: কুমিল্লার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত উভয় মামলার আরজি-জবাব ও সাক্ষ্য-প্রমাণ (মৌখিক ও দালিলিক) যৌথভাবে (Analogously) পর্যালোচনা করেন।

🔴আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বিবাদী পক্ষের কথিত 'বিক্রয় দলিল'-এর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপ্রমাণিত। আদালত বাদীর পক্ষে টাইটেল স্যুট নং ১৩০/২০০৯ ডিক্রি করেন এবং বিবাদীদের দায়েরকৃত টাইটেল স্যুট নং ১৪০৪/২০০৮ খারিজ করে দেন।

✅আপিল দায়ের (Filing of Title Appeal): বিচারিক আদালতের ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদী পক্ষ (বর্তমান দরখাস্তকারীগণ) কুমিল্লার জেলা জজ আদালতে টাইটেল আপিল নং ১৮৬/২০১২ দায়ের করেন।

✅আপিল আদালতের রায় (Judgment of the Appellate Court): কুমিল্লার ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত আপিল শুনানিতে নথিপত্র এবং PW ও DW-দের জবানবন্দি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করেন। আপিল আদালত বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে গত ০৪.০৫.২০১৫ তারিখে আপিলটি খারিজ করে দেন এবং নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

✅Civil Revision in High Court: অধস্তন উভয় আদালতের সমবর্তী রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদী-আপিলকারী পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারা মোতাবেক এই দেওয়ানি রিভিশন নং ১৫৮১/২০১৫দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল ইস্যু করেন এবং নিম্ন আদালতের ডিক্রি জারির জারি মামলা স্থগিত করেন।

🔴রিভিশন শুনানিতে দরখাস্তকারীর (বিবাদী) আইনজীবীর বক্তব্য**বিজ্ঞ আইনজীবী যুক্তি দেন যে, বাদী নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি ৫৬৯ দাগের ১২ শতাংশ জমির দখল পেয়েছিলেন এবং বিবাদী পক্ষ ওই জমির মালিক। সুতরাং বিবাদীদের স্বত্বে কোনো ত্রুটি নেই।

🔴যদি দলিলে কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে বাদীর উচিত ছিল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে 'দলিল সংশোধনের' (Rectification of deed) মামলা করা, 'দলিল বাতিলের' মামলা নয়।

🔴সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৯ ধারা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন কোনো পক্ষের স্বত্বে ত্রুটি থাকে। যেহেতু বিবাদীদের স্বত্বে ত্রুটি ছিল না, তাই ১১৯ ধারা এখানে অচল। তদুপরি, বিবাদীদের উচ্ছেদ করা হলে তারা গৃহহীন হয়ে রাস্তায় দাঁড়াবেন।

✅প্রতিপক্ষের (বাদী/Plaintiff in suit) আইনজীবীর বক্তব্য বিজ্ঞ আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, অধস্তন উভয় আদালতই বিস্তারিত পর্যালোচনায় পেয়েছেন যে, বিতর্কিত ৩য় তফসিলের জমি বিনিময় করার কোনো সাধারণ ইচ্ছাই পক্ষগণের ছিল না।

🔴বিনিময় দলিল সম্পাদনের পর বাদীকে বেআইনিভাবে দখলচ্যুত করা হয়েছে। যেহেতু বিনিময় দলিলের মাধ্যমে বাদীর অনুকূলে কোনো বৈধ স্বত্ব হস্তান্তর করা হয়নি (১২ শতাংশের বদলে জালিয়াতি করে ৬.৫০ শতাংশ লেখা হয়েছে), সেহেতু সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৯ ধারাটি এই মামলায় সর্বাংশে এবং নিখুঁতভাবে প্রযোজ্য।

✅মহামান্য আদালতের পর্যবেক্ষণ (Observations of the Court): আইনের ব্যাখ্যা (Section 118 & 119 of T.P. Act) আদালত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৮ ও ১১৯ ধারা ব্যাখ্যা করে বলেন, বিনিময়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পক্ষেরই 'স্বত্বের নিশ্চয়তা' (Warranty of title) থাকে।

🔴যদি কোনো পক্ষ স্বত্বের ত্রুটির কারণে বিনিময়ে প্রাপ্ত সম্পত্তি বা তার অংশ থেকে বঞ্চিত হন, তবে তিনি ক্ষতিপূরণ অথবা নিজের হস্তান্তরিত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার অধিকারী। referred citation: 44 DLR (AD) 86, Sahera Khatun VS Anowara Khatun

🔴নথির আলোকে প্রমাণিত যে, বাদীকে ১২ শতাংশের পরিবর্তে জালিয়াতি করে মাত্র ৬.৫০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যা বিবাদী পক্ষ অস্বীকার করতে পারেনি। আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, যদিও বাদী দলিল সংশোধনের মামলা করতে পারতেন, তবে তার মানে এই নয় যে বর্তমান আকারে দলিল বাতিল ও দখল পুনরুদ্ধারের মামলাটি আইনত বারিত। প্রচলিত আইনের সীমার মধ্যে কোন ফোরামে বা কোন প্রতিকারের জন্য মামলা করা হবে, সেই স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত পক্ষের। সুতরাং, মামলাটি বর্তমান আকারেই আইনত রক্ষণীয়।

🔴আপিল আদালত হলো ঘটনার চূড়ান্ত আদালত (Final court of facts)। অধস্তন উভয় আদালত যখন সাক্ষ্য-প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের মাধ্যমে সমবর্তীভাবে (Concurrent findings) বাদীর মামলা ডিক্রি করেছেন এবং বিবাদীর বিক্রয় দলিলের দাবি খারিজ করেছেন, তখন আইনগত বড় কোনো ভুল বা সাক্ষ্যের গুরুতর অপব্যাখ্যা (Misreading/Non-consideration of evidence) ছাড়া রিভিশনাল আদালতে এই সিদ্ধান্তের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

✅আদালতের চূড়ান্ত রায় (Final Judgment:
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিবাদী-দরখাস্তকারীগণের দায়েরকৃত দেওয়ানি রিভিশন মামলার আইনি মেরিট না থাকায় রুলটি খরচসহ খারিজ (Discharged) করে দেন।

হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত স্থগিতাদেশের আদেশটি রহিত করা হয় এবং নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রেখে অবিলম্বে নথি প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

#আইনি_পরামর্শ, ালত, ,

মিথ্যা মামলা দিলে ঘাবড়াবেন না: জানুন আপনার আইনি অধিকার- #হয়রানি করার উদ্দেশ্যে কেউ মিথ্যা মামলা করলে আতঙ্কিত না হয়ে আইনি...
06/06/2026

মিথ্যা মামলা দিলে ঘাবড়াবেন না: জানুন আপনার আইনি অধিকার-

#হয়রানি করার উদ্দেশ্যে কেউ মিথ্যা মামলা করলে আতঙ্কিত না হয়ে আইনিভাবে মোকাবিলা করুন। মনে রাখবেন, আইন সত্যের পক্ষেই থাকে।
করণীয় পদক্ষেপ:

• #আগাম জামিন: গ্রেফতার এড়াতে দ্রুত উচ্চ আদালত বা সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে আগাম জামিন নিন।

• #তদন্তে সহায়তা: আপনার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ (সিসিটিভি ফুটেজ, লোকেশন বা সাক্ষী) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জমা দিন।

• #মামলা বাতিল: মামলা ভিত্তিহীন হলে হাইকোর্টে ৫৬১-এ ধারা অনুযায়ী মামলা বাতিলের (Quashment) আবেদন করুন।

• #পাল্টা ব্যবস্থা: নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলা এবং মানহানির মামলা করা যায়।

সতর্কতা: মামলার কপি ও প্রয়োজনীয় নথি সবসময় সংগ্রহে রাখুন এবং একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।।।

BEFTN, RTGS নাকি NPSB — কোনটি কখন ব্যবহার করবেন?বর্তমান ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা লেনদেনের জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে ব...
06/06/2026

BEFTN, RTGS নাকি NPSB — কোনটি কখন ব্যবহার করবেন?

বর্তমান ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা লেনদেনের জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তিনটি পদ্ধতি হলো BEFTN, RTGS এবং NPSB। অনেকেই এই তিনটির নাম শুনলেও পার্থক্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। তাই সহজ ভাষায় জেনে নিন কোন সেবাটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

🔹 BEFTN (Bangladesh Electronic Funds Transfer Network)

BEFTN হলো এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তরের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। সাধারণত বেতন প্রদান, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সাধারণ ফান্ড ট্রান্সফার ইত্যাদির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

✅ চার্জ তুলনামূলক কম
✅ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য
✅ মাঝারি অঙ্কের লেনদেনের জন্য উপযোগী

⚠️ টাকা পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা থেকে ১ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে।

━━━━━━━━━━━━━━

🔹 RTGS (Real Time Gross Settlement)

বড় অঙ্কের অর্থ দ্রুত ও নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য RTGS সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। কর্পোরেট পেমেন্ট, ব্যবসায়িক লেনদেন, জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা সরকারি বড় অঙ্কের পেমেন্টে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

✅ রিয়েল টাইমে টাকা পৌঁছে যায়
✅ খুব উচ্চ নিরাপত্তা
✅ বড় অঙ্কের লেনদেনের জন্য আদর্শ

⚠️ চার্জ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

━━━━━━━━━━━━━━

🔹 NPSB (National Payment Switch Bangladesh)

NPSB মূলত তাৎক্ষণিক লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, POS পেমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইনস্ট্যান্ট ফান্ড ট্রান্সফারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

✅ প্রায় ২৪/৭ সেবা
✅ তাৎক্ষণিক লেনদেন
✅ চার্জ খুব কম বা অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি
✅ ছোট ও মাঝারি অঙ্কের লেনদেনে সুবিধাজনক

━━━━━━━━━━━━━━

📌 সংক্ষেপে মনে রাখুন—

💰 সাধারণ ব্যাংক ট্রান্সফার ➜ BEFTN
⚡ বড় অঙ্কের জরুরি ট্রান্সফার ➜ RTGS
📱 তাৎক্ষণিক ও দৈনন্দিন লেনদেন ➜ NPSB

সঠিক লেনদেন পদ্ধতি নির্বাচন করলে সময়, খরচ এবং ঝুঁকি—সবই কমানো সম্ভব। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সেবা ব্যবহার করুন এবং নিরাপদ ব্যাংকিং নিশ্চিত করুন।

আপনার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের জানাতে পোস্টটি শেয়ার করুন। 🤝

To Whom It May Concernঅতএব, আত্মীয়কে তার পাওনা দিয়ে দাও; মিসকীন ও পথিককেও। এটা তাদের জন্য ভাল যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়...
06/06/2026

To Whom It May Concern

অতএব, আত্মীয়কে তার পাওনা দিয়ে দাও; মিসকীন ও পথিককেও। এটা তাদের জন্য ভাল যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, আর তারাই সফলকাম।

Bangla - Tafsir Ahsanul Bayaan

অতএব আত্মীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরকে তাদের প্রাপ্য দান কর। [১] এ যারা আল্লাহর মুখমন্ডল (দর্শন[২] বা সন্তুষ্টি) কামনা করে, তাদের জন্য শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।

[১] রুযীর ব্যাপারটা যখন সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে এবং তিনি যার জন্য ইচ্ছা রুযী বর্ধিত করেন, তখন ধনীদের উচিত, আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ থেকে ঐ সকল হক আদায় করবে, যা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য রাখা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের অধিকার বেশি থাকার কারণে তাদের উল্লেখ প্রথমে করা হয়েছে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, "গরীব আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে দ্বিগুণ নেকী পাওয়া যায়; এক তো দানের নেকী, দ্বিতীয় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার নেকী।" এ ছাড়া 'হক, অধিকার বা প্রাপ্য' বলে এ কথা বুঝানো হয়েছে যে, দান করে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করছ না; বরং প্রাপকের প্রাপ্য অধিকার আদায় করছ মাত্র।

[২] অর্থাৎ, জান্নাতে আল্লাহর চেহারা দর্শন কামনা করে।

📢 পর্দার পেছনের গল্প: কীভাবে এবং কাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘ইসলামী ব্যাংক’? 🏦🎯😱আজ থেকে ৪৩ বছর আগে, ১৯৮৩ সালে যখন দ...
06/06/2026

📢 পর্দার পেছনের গল্প: কীভাবে এবং কাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘ইসলামী ব্যাংক’? 🏦🎯😱

আজ থেকে ৪৩ বছর আগে, ১৯৮৩ সালে যখন দক্ষিণ এশিয়ার বুকে প্রথম সম্পূর্ণ সুদমুক্ত কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা হচ্ছিল, তখন অনেকেই একে বলেছিলেন "অসম্ভব এক স্বপ্ন!" কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল দেশি-বিদেশি কিছু দূরদর্শী মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের এক অবিশ্বাস্য যৌথ প্রয়াস।
অনেকেই হয়তো জানেন না, এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পেছনে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান ভূমিকা কার ছিল? চলুন জেনে নেওয়া যাক ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সেই চমকপ্রদ ইতিহাস এবং এর পেছনের মূল কারিগরদের গল্প! 👇

🎯 ৭০% মূলধনই এসেছিল মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে! : ব্যাংকটি গঠনের পেছনে সবচেয়ে প্রধান উদ্যোগী, চালিকাশক্তি এবং অন্যতম বড় অংশীদার ছিল ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। তাদের হাত ধরেই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ১১টি শীর্ষ সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং সৌদি আরবের দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি একজোটে এগিয়ে আসেন। তারা মোট পরিশোধিত মূলধনের সিংহভাগ - অর্থাৎ ৭০% জোগান দিয়েছিলেন!

👉কারা ছিলেন সেই বিদেশি ত্রাতা?

🇸🇦 সৌদি আরব থেকে: আইডিবি, আল-রাজি কোম্পানি, আরবসাস ট্রাভেল এবং দুই বিশিষ্ট দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব - শেখ আহমেদ সালাহ জমজুম ও ফুয়াদ আব্দুলহামিদ আল-খতিব।

🇦🇪 সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে: বিখ্যাত দুবাই ইসলামিক ব্যাংক।

🇰🇼 কুয়েত থেকে: কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস (KFH), কুয়েতের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি।

🇧🇭 বাহরাইন থেকে: বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক এবং ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি অব দ্য গালফ।

🇯🇴 জর্ডান থেকে: জর্ডান ইসলামিক ব্যাংক।

🇱🇺 ইউরোপের লুক্সেমবার্গ থেকে: ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং এস.এ।

🇧🇩 দেশীয় উদ্যোক্তাদের ১৫% এবং ৪টি অনন্য প্রতিষ্ঠান: বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশের মাটিতে এই ব্যাংকের ভিত্তি শক্ত করতে এগিয়ে আসেন ১৯ জন বাংলাদেশি দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব এবং ৪টি সুপরিচিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তারা জোগান দেন মূলধনের ১৫%।

👉সেই ৪টি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান:

১. বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
২. ইসলামিক ইকোনোমিক্স রিসার্চ ব্যুরো (IERB)
৩. ইবনে সিনা ট্রাস্ট
৪. বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড

👉নেপথ্যের মূল চালিকা শক্তি (বাংলাদেশি পর্ষদ):
প্রতিষ্ঠাকালীন পর্ষদে ২২ জন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নিরলস কাজ করেছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ছিলেন:

🕹️শাহ আব্দুল হান্নান (প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান - যার দূরদর্শী নেতৃত্ব ব্যাংকের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দেয়)।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক শীর্ষ আমলা।

🕹️মীর কাসেম আলী (প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান)।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা, মিডিয়া টাইকুন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা।

🕹️এম. আজিজুল হক (ব্যাংকের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক - যার ব্যাংকিং মেধা এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেয়)। দীর্ঘ ৬২ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের কারণে তাঁকে বাংলাদেশে "ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনক" হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

🕹️এছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশে আধুনিক ছাপাখানার স্থপতি, ইস্টার্ন রিগাল ইন্ডাস্ট্রিজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জাতীয় ফুটবল দলের এক সময়ের নামি ক্রীড়াবিদ আবদুর রাজ্জাক লস্কর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মফিজুর রহমান, জামিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হাজি বশিরউদ্দিন, চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ ফাউন্ডেশন লিমিটেড-এর পীর সাহেব সমাজ সংস্কারক মাওলানা আবদুল জব্বার নতুন ধারার এই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভুমিকা রাখেন।

তাদের আহ্বানে এগিয়ে আসেন রেদওয়ান ইন্টারন্যাশনালের মুহাম্মদ ইউনুছ, দেওয়ান টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড-এর মোহাম্মদ শফিউদ্দীন দেওয়ান, কক্সবাজারের আল্লাহওয়ালা সল্ট ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ-এর আবুল কাশেম, যশোর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড-এর মোহাম্মদ হোসেন, জাকি-মোশাররফ গ্রুপের জাকিউদ্দীন আহমদ ও মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ প্যাকিং প্রেস লিমিটেড-এর এম এ রশীদ চৌধুরী, মিনার ইনসেক্টিসাইড এন্টারপ্রাইজেস - এর মুহাম্মদ মালেক মিনার, সিভিল এন্ড জেনারেল কস্ট্রাকশনস লিমিটেড - এর ইঞ্জিনীয়ার মুস্তাফা আনোয়ার, রিয়াদ প্রবাসি চট্টগ্রামের ইঞ্জিনীয়ার দাউদ খান ও মোমেনশাহীর এ কে এম ফজলুল হক, চাঁদপুরের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, দুবাই প্রবাসি সিলেটের মোহাম্মদ নূরুয্যামান, মোহাম্মদী হাউজিং লিমিটেড-এর সিরাজউদ্দৌলাহ, হক বিস্কুট ও ব্রেড ফ্যাক্টরিজ লিমিটেড-এর ব্যারিস্টার তমিজুল হক, পার্ক ইন্ডাস্ট্রিজ এন্টারপ্রাইজেস-এর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন আহমদ।

👉বাকি ১৫% এলো কোথা থেকে?

বাকি মূলধনের ৫% জোগান দিয়ে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের অংশীদার হয়েছিল স্বয়ং বাংলাদেশ সরকার। আর অবশিষ্টাংশ ১০% সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল পাবলিক শেয়ার হিসেবে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণ শুরু থেকেই এই ব্যাংকের ডিএনএ-তে মিশে ছিল।

🔥 মূল ভূমিকা কার ছিল সবচেয়ে বেশি?
যদি এককভাবে বলা হয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ব্যাংকের মূল ভিত্তি ও সবচেয়ে বড় অভিভাবক ছিল ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীরা। আর বাংলাদেশের মাটিতে আইনি কাঠামো তৈরি করে একে সফলভাবে দাঁড় করানোর মূল কৃতিত্ব শাহ আব্দুল হান্নান এবং প্রথম এমডি এম. আজিজুল হক সহ দেশীয় উদ্যোক্তাদের।

একটি শূন্য থেকে শুরু হওয়া আইডিয়া কীভাবে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে পরিণত হলো, তা সত্যি ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়!

আপনার কী মনে হয়? এই ইতিহাসটি কি আপনি আগে জানতেন? কমেন্টে জানান! 👇


Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 10:00 - 18:00
Tuesday 10:00 - 18:00
Wednesday 10:00 - 18:00
Thursday 10:00 - 18:00
Sunday 10:00 - 18:00

Telephone

+8801311203607

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lexes & Legists posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Lexes & Legists:

Share