23/06/2020
#বিচারব্যবস্থা এবং বঙ্গবন্ধু #
পাকিস্তান জন্ম হয়েছে ১৯৪৭ সালে। পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয় ১৯৫৬ সালে। স্বাধীনতা লাভের ৯ বছর পর। বাংলাদেশ জন্ম হয়েছে ১৬ ই ডিসেম্বর, ১৯৭১। বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় সুংসদে পাস হয় ৪ ঠা নভেম্বর, ১৯৭২। মাত্র ১১ মাসের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু চাইলে একটা বিপ্লবী সরকার দিয়ে অনেকদিন দেশ চালাতে পারতেন। তিনি তা করেননি। আইনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দেশ চালানোর এক অবিচল অঙ্গীকার ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই সংবিধানে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় এই সংবিধানকে একটি সেরা সংবিধানের মর্যাদা দিয়েছে। সেই সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।।
একজনের বক্তব্য থেকে জানতে পারি বঙ্গবন্ধু সংবিধানের খসড়া প্রস্তুতকারকদের বলেছিলেন সংবিধানে এমন একটা ব্যবস্থা রাখবে যাতে যে কোন একটা পর্যায়ে যেন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিস্পত্তি হয়। আবার যেন নতুন করে শুরু না হয়। সে জন্যই আমাদের সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে মহামান্য আপীল বিভাগকে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার( complete justice) করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।।
সেই সময় ছিল এক কঠিন বাস্তবতার সময়। সেই জটিলতা মোকাবেলা করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে অনেক আইন বানাতে হয়। তার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার তখন অনেক দূরদর্শি আইন তৈরী করেন। বিচার বিভাগে মাননীয় প্রধান বিচারপতি, অন্যান্য বিচারপতি, এটর্ণি জেনারেল, জিপি, পিপি সহ সকল নিয়োগে বঙ্গবন্ধু কেবলমাত্র মেধা এবং সততাকে মূল্য দিয়েছিলেন।।
সেই সময়ে একটি সাংবিধানিক পদে বসা একজনকে বঙ্গবন্ধু দাওয়াত দিলে তিনি মনে করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তার উপর রাগ করেছেন। তিনি পকেটে করে একটা পদত্যাগ পত্রও নিলেন। কথা প্রসংগে তিনি পকেটের দিকে হাত দিলে বঙ্গবন্ধু বললেন- পকেটে হাত দিতে হবেনা। আমি জানি ঐ পকেটে কি আছে।
*This was Sheikh Mujib.*
অনেক কিছু গুছিয়ে এনে বঙ্গবন্ধু বুঝলেন এই উপনিবেশিক আইন এবং ব্যবস্থা দিয়ে বিচারব্যবস্থা চলাবেনা। তখন তিনি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পঁচাত্তরে তাঁর একটি বক্তৃতার অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরলামঃ
" আর একটি কথা বলি।" এই কথা বলে বঙ্গবন্ধু আধামিনিট থামলেন। মাথা চুলকালেন। বিচার বিভাগ নিয়ে সাবধানে কথা বলতে হবে - তাই। তারপর বললেনঃ"বিচার বিচার। বাংলাদেশের বিচার। ইংরেজ আমলের বিচার। আল্লাহর মর্জি, যদি সিভিল কোর্টে কেস পড়ে, সে মামলা শেষ হতে লাগে ২০/২৫ বছর। আমি যদি উকিল হই, আমার জামাইকে উকিল বানাইয়া কেস দিয়ে যাই। মামলা ফয়সালা হয়না। যদি ক্রিমিনাল কেস হয়,তার ফয়সালা হতে লাগে ৪/৫ বছর। এই বিচার বিভাগকে নতুন করে সাজাতে হবে"।
আহা বঙ্গবন্ধু! কলিজায় ধারণ করেছিলেন উপনিবেশিক আইন এবং ব্যবস্থা দিয়ে স্বাধীন দেশের বিচার চলবেনা। বঙ্গবন্ধু বিচার বিভাগকে সাজিয়ে যাওয়ার সময় পাননি। সেই সময় দেয়নি কুলাঙ্গাররা।তারপর কত শাসন। কত শাসক। কারো মনে এ বিষয় উদ্রেকই হয় নাই। কত আইনমন্ত্রী! কত আইনের নেতা নেত্রী! কত নাম!কত দাম!কত অর্থ বিত্ত! রাখাল রাজার কলিজায় যে যন্ত্রনা, সেই যন্ত্রনা আর কারো কলিজায় জাগলোনা। তার কলিজায় জাগলো। কারন সে ছিল মানুষের নেতা। মানুষ ভাল থাকলে ভাল থাকে সে।।
স্বাধীনতার পর ৪৯ বছর। কোথায় মানুষের বিচার! কোথায় গরীবের আশ্রয়। সব সরকার ব্যর্থ। ধারাবাহিক ব্যর্থতা। কে দেবে এর জবাব। কতদিন আর বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে!!!!