22/06/2025
অনেকে ভাবেন, মা যেহেতু নারী—তাই তার সম্পত্তিতে মেয়ের ভাগ বেশি থাকবে। কিন্তু এই ধারণা কি আইনসম্মত অনেকেই এই প্রশ্ন করে থাকেন।
আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটু ভুল ধারণা মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি থেকে ভাগে বেশি পায়।এটি পুরোপুরি একটি ভ্রান্ত ধারণা।পিতার সম্পত্তি থেকে একটি মেয়ে যতটুকু অংশ পায় মায়ের সম্পত্তি থেকেও ঠিক ততটুকুই অংশ পায়। মায়ের মৃত্যুর পর তার নামে থাকা যেকোনো জমি বা সম্পত্তি শরিয়া ও দেশের উত্তরাধিকার আইনের অধীনে বণ্টিত হয়। অনেকেই ভুল করে ভাবেন যে মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি ভাগ পায়। বাস্তবে এমন কোনো নিয়ম নেই। বাবার সম্পত্তির মতো মায়ের সম্পত্তিও একই নিয়মে ছেলেমেয়ের মধ্যে ভাগ হয়।অনেকে ভাবেন, মা যেহেতু নারী—তাই তার সম্পত্তিতে মেয়ের ভাগ বেশি থাকবে।
সূরা আন নিসাতে পিতা এবং মাতা দুজনের সম্পদের বন্টন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে।সূরা আন-নিসার ১১ নং আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা বিশেষভাবে সন্তান ও পিতা-মাতার অংশ বর্ণনা করেছেন। যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় এবং তার সন্তান থাকে, তাহলে তার ছেলে সন্তানেরা মেয়ে সন্তানের দ্বিগুণ অংশ পাবে। যদি মৃত ব্যক্তির শুধু কন্যা সন্তান থাকে, তাহলে সে সম্পত্তির অর্ধেক অংশ পাবে। যদি একাধিক কন্যা সন্তান থাকে তবে তারা সকলে মিলে মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর পিতা-মাতা উভয়ে থাকলে, তারা প্রত্যেকে মৃতের সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ করে পাবে।
সূরা আন-নিসার ১২ নং আয়াতে স্বামী ও স্ত্রীর অংশ বর্ণনা করা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তির স্ত্রী মারা যায় এবং তার কোন সন্তান না থাকে, তাহলে স্ত্রী তার স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ পাবে। যদি তার সন্তান থাকে, তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবে
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক একজন একজন নারী মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার কে কে হতে পারে-
· ছেলে ও মেয়ে
· স্বামী ( যদি জীবিত থাকেন)
· পিতা ও মাতা ( যদি জীবিত থাকে)
· ভাই বোন( যদি সন্তান না থাকে)
· নাতি নাতনি ( বিশেষ পরিস্থিতিতে)
ধরি, একজন মা মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি রেখে গেছেন ২ ছেলে ও ১ মেয়ে : শরিয়া অনুযায়ী বণ্টন হবে এমনভাবে:
প্রতিটি ছেলে পাবে ২ অংশ
মেয়ে পাবে ১ অংশ
অর্থাৎ মোট অংশ = ২ + ২ + ১ = ৫ অংশ
২ ছেলে পাবে ৪ অংশ, মেয়ে পাবে ১ অংশ।
এখান থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ে কমই পান, বেশি নয়।
স্বামী, বাবা-মা থাকলে কী হয়?
স্বামী জীবিত থাকলে
সন্তান থাকলে: স্বামী পাবেন ১/৪ (২৫%)
সন্তান না থাকলে: স্বামী পাবেন ১/২ (৫০%)
মায়ের বাবা-মা জীবিত থাকলে
সাধারণত প্রত্যেকে ১/৬ ভাগ করে পান।
জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান (হেবা)
মা যদি জীবিত অবস্থায় কাউকে কোনো সম্পত্তি লিখে দেন, সেটা হেবা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি উত্তরাধিকার আইনের আওতার বাইরে।
তবে হেবা সঠিক নিয়মে না হলে পরবর্তীতে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা।
জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান (হেবা) করে থাকলে:
মা যদি জীবিত অবস্থায় কাউকে কোনো সম্পত্তি লিখে দেন, সেটা হেবা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি উত্তরাধিকার আইনের আওতার বাইরে।
তবে হেবা সঠিক নিয়মে না হলে পরবর্তীতে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা:
মায়ের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের জন্য প্রয়োজন হবে:
ওয়ারিশ সনদ
উত্তরাধিকার সার্টিফিকেট
প্রয়োজনে আদালতের অনুমোদন ও দলিল নিবন্ধন
বিদেশে অবস্থানরত উত্তরাধিকারীরাও Power of Attorney বা অন্যান্য আইনি মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনে অংশ নিতে পারেন।
এরূপ যে কোন আইনি সমস্যায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।