12/05/2026
বৈবাহিক জীবনে স্ত্রীকে দেনমোহরের অর্থ আংশিক বা কিস্তিভিত্তিক পরিশোধ করলে, তা অবশ্যই লিখিতভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা উচিত।
আজ একটি যৌতুক মামলায় আসামিপক্ষের জামিন শুনানির সময় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়। আদালত জানতে চান, আসামি কি বাদিনীকে তালাক দেওয়ার পূর্বে দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ করেছিলেন কিনা। উক্ত বিবাহে কাবিননামা অনুযায়ী দেনমোহর নির্ধারিত ছিল ১০,০০,০০০/- টাকা।
আসামি তার বৈবাহিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে পারস্পরিক মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে কিস্তিতে দেনমোহরের একটি বড় অংশ পরিশোধ করেছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই অর্থ পরিশোধের কোনো লিখিত প্রমাণ সংরক্ষিত ছিল না।
আদালতে আমরা যখন উল্লেখ করি যে মূল দেনমোহরের অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬,০০,০০০/- টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, তখন আদালত তার লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কিন্তু যথাযথ দলিল বা প্রমাণের অভাবে আমরা তা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হই। ফলস্বরূপ, বিজ্ঞ আদালত কাবিননামায় উল্লিখিত সম্পূর্ণ দেনমোহরের অর্থ পরিশোধের শর্তে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মক্কেলকে সম্পূর্ণ ১০,০০,০০০/- টাকা পরিশোধ করতে হবে; অন্যথায় তার জামিন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যেহেতু দেনমোহরের অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য, তাই প্রতিটি কিস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, মানবজীবনের পরিস্থিতি সবসময় পরিবর্তনশীল। আপনি যদি দেনমোহরের অর্থ পরিশোধের উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে কিস্তিতে কোনো অর্থ প্রদান করেন (সাধারণ হাতখরচের বাইরে), তাহলে বিষয়টি যতই পারিবারিক বা অনানুষ্ঠানিক মনে হোক না কেন, তা যথাযথভাবে লিখিত ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আজ সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও, ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতি বজায় থাকবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।