আইন ও বিচার প্রক্রিয়া,বাংলাদেশ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • আইন ও বিচার প্রক্রিয়া,বাংলাদেশ

আইন ও বিচার প্রক্রিয়া,বাংলাদেশ Law and Justice Procedure in Bangladesh

14/04/2025

শুভ নববর্ষ 🎉১৪৩২

08/11/2023

"' রীট-Writ ""
উৎপত্তির ইতিহাস:
রীট (Writ) শব্দের অর্থ হল আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বিধান বা আদেশ। রীটের উৎপত্তি ও বিকাশ ইংল্যান্ডে। প্রথমে রীট ছিল রাজকীয় বিশেষাধিকার(royal prerogative)। রাজা বা রানী বিচারের নির্ধারক হিসাবে(fountain of justice) রীট জারী করতে পারত। একমাত্র রাজা বা রানীর রীট জারী করার অধিকার ছিল বলে একে প্রথমে বিশেষাধিকার রীট বলা হত।

রাজা বা রানী তাদের কর্মচারী বা অফিসারদের কার্যবালি পালনে বাধ্য করার জন্য বা কোনো অবৈধ কাজ হতে বিরত রাখার জন্য রীট জারী করতেন। পরবর্তীকালে রাজা বা রানীর এই বিশেষাধিকার নাগরিকদের অধিকারে চলে আসে। নাগরিকগণ সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণ ও কাজে ক্ষুদ্ধ হয়ে রাজার কাছে আসত এবং রাজা বা রানী তাদের বিশেষ অধিকার বলে রীট জারী করত। পরবর্তীকালে রাজা বা রানীর প্রতিনিধি হিসাবে ইংল্যান্ডে দুধরনের আদলত গটিত হয় যেমন, চ্যান্সারী আদালত এবং কিংস বেঞ্চ (kings bench) এসব আদালত নাগরিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রীট জারী করত।

বাংলাদেশের সংবিধান হাইকোর্ট বিভাগকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। সেটি হল রীট জারীর এখতিয়ার। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগের এই এখতিয়ার কে রীট জারীর এখতিয়ার বলে। অর্থাৎ রীট শুধু মাত্র হাইকোর্ট বিভাগ জারী করতে পারে। কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত অধিকারবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য রীট পিটিশন দায়ের করতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য কতিপয় আদেশ নির্দেশ জারী করতে পারে।

"রীটের প্রকারভেদ"
সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদে রিট সম্পর্কে আলোচনা থাকলেও রিট যে পাঁচ প্রকার তা উল্লেখ নেই ।তবে উক্ত অনুচ্ছেদে প্রতিটি রিটের যে উপাদান বর্ণীত হয়েছে তার বিশ্লেষণ থেকে পাঁচ প্রকার রিটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় ,যার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হল পাঁচ প্রকার রীট (Writ)

১/ বন্দী প্রদর্শন (Writ Of Habeas Corpus)
Habeas কথাটির শাব্দিক অর্থ হলো"Have his body" অর্থ্যাৎ"To have the body before the court "অর্থ্যাৎ বন্দী ব্যক্তিকে স্বশরীরে হাজির করা ।
কোন ব্যক্তিকে সরকার বা অন্য কেউ আটক করলে কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানার জন্য বন্দীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে উচ্চতর আদালত আটককারীকে যে আদেশ দিয়ে থাকেন তাকে বন্দী প্রদর্শন রিট বলে।

২/পরমাদেশ বা হুকুমজারি রীট (Writ Of Mandamus) Mandamus একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ হলো "We command" অর্থ্যাৎ আমরা আদেশ বা হুকুম করছি।
কোন অধঃস্তন আদালত, ট্রাইবুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার আইনগত দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করে কিংবা ব্যর্থ হয় তাহলে উচ্চতর আদালত যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত আইনগত দায়িত্ব পালন করতে উক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে বাধ্য করে তাকে হুকুমজারি রীট বা পরমাদেশ বলে।

৩/উৎপ্রেষণ রীট (Writ Of certiorari): সুপ্রিম কোর্টের নিম্ন আদালত থেকে আসা আপীল শুনানী করার সিদ্ধান্ত। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা কত্রিপক্ষ বা কোন অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল এর আদেশ বা কার্য ধারা আইনানুগ না হয়ে থাকলে সেই আদেশকে অকার্যকর ঘোষণা করে যে আদেশ দিতে পারেন তাই হল উতপ্রেষণ রিট বা Writ of certiorari ।

৪/কারণ দর্শাও রীট (Writ of Quo Warranto):
কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোন সরকারি পদ দাবী করে যে পদের যোগ্যতা তার নেই অথবা অবৈধভাবে যদি কোনো সরকারি পদ দখল করে বসে থাকে, তাহলে উচ্চতর আদালত যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে তার পদ দখলের বা দাবীর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে থাকে তাকে কারণ দর্শাও রীট বলে। এই রীটের মাধ্যমে উচ্চতর আদালত উক্তরূপ দাবীর বৈধতা অনুসন্ধান করে এবং দাবী বা দখল যদি অবৈধ প্রমাণিত হয় তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদচ্যুত করার নির্দেশ দিতে পারে।

৫/ প্রতিষেধক বা নিষেধাজ্ঞামূলক রীট (Writ of Prohibition): উচ্চ আদালত (সাধারণতঃ সুপ্রিম কোর্ট) থেকে নিম্ন আদালতের উপর হুকুম যে, মামলার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া - কারণ সেই মামলা নিম্ন আদালতের এক্তিয়ার বহির্ভূত।

*রীট মামলা সংক্রান্ত আলোচনা।
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদঅনুযায়ী কারো মৌলিক লঙ্গিত হলে হাইকোর্ট তা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে যা হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার নামে পরিচিত ।
বাংলাদেশের সংবিধান হাইকোর্ট বিভাগকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। সেটি হল রীট জারীর এখতিয়ার। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে।
হাইকোর্ট বিভাগের এই এখতিয়ারকে রীট জারীর এখতিয়ার বলে।

অর্থাৎ রীট শুধু মাত্র হাইকোর্ট বিভাগ জারী করতে পারে। কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত অধিকারবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য রীট পিটিশন দায়ের করতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য কতিপয় আদেশ নির্দেশ জারী করতে পারে।

আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমুহ বলবৎ করার জন্যে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচটি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তারমানে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে কতিপয় মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণ বা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা নাগরিক হিসেবে আমি আপনি সবাই সমানভাবে ভোগ করার অধিকার রাখি।

"কি আছে সেসব মৌলিক অধিকারের তালিকায়? মৌলিক অধিকারগুলো জেনে নেয়া যাক।

অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং সবাই সমান আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। অর্থাৎ এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের মধ্যে আইনের সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যখনই কেউ আইনের সাম্য নষ্ট করেন তার বিরুদ্ধে এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।,
অনুচ্ছেদ ২৮, সকল ধর্ম, বর্ণ, নারী পুরুষ ও জন্মস্থান ভেদে রাষ্ট্র যেন বৈষম্য না করতে পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ২৯, সরকারী পদে নিয়োগ লাভে সকল নাগরিকের সাম্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩১, সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনী প্রক্রিয়া ব্যতীত কোন নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটানো যাবে না। অর্থাৎ পুলিশ চাইলেই যে কাউকে তুলে নিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনী প্রক্রিয়া শুরু না করে কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারবে না।
অনুচ্ছেদ ৩২, যথাযথ আইনই প্রক্রিয়া ছাড়া কোন নাগরিকের ব্যক্তি ও জীবনের স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।

অনুচ্ছেদ ৩৩, এখানে ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে রক্ষাকবচ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের কারণ যথাশীঘ্র উল্লেখ না করে আটক রাখতে পারবে না এবং তাকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। তাছাড়া, আটকের পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করবে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য। তবে যদি তাকে কোন নিবর্তন মূলক আইনে আটক করা হয় বা সেই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের শত্রু হয় তবে তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। এটি সংবিধানের মূল ধারার সাথে সাংঘর্ষিক হলেও নিবর্তন মূলক আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

কেনইবা এই স্ববিরোধীতা?
অনুচ্ছেদ ৩৪, এর মাধ্যমে বাধ্যতামুলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ জোর করে কাউকে দিয়ে শ্রম আদায় করতে পারবে না। এই অনুচ্ছেদে দুটি ব্যতিক্রম আছে- যেমন শ্রম যদি কারাভোগের অংশ হয় তাহলে বাধ্যতামূলক শ্রম আদায় করা যাবে আর দ্বিতীয়টি হল যদি জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তা আবশ্যক মনে হয়। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মনে করবে বাধ্যতামুলক শ্রম জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রয়োজন তা কোথাও উল্লেখ নেই। এখানে আইনের অস্পষ্টতা রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৫, এর মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধের বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে যদি কোন কাজ অপরাধের পর্যায়ে না পড়ে তাহলে পরবর্তীতে নতুন আইন করে সেই কাজকে অপরাধ হিসেবে সজ্ঞায়িত করে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না। একে আমরা ইংরেজিতে বলি “রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট”, এই নিয়ম পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আছে। একই অনুচ্ছেদের ২ নং উপ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিকবার অভিযোগের মাধ্যমে বিচার ও দণ্ড দেয়া যাবে না। অর্থাৎ কোন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির একবারই বিচার হবে। এই অনুচ্ছেদের ৪ নং উপ-অনুচ্ছেদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এতে বলা হয়েছে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশ “রিমান্ড” নামক ভয়ানক পদ্ধতির মাধ্যমে যেসব স্বীকারোক্তি আদায় করেন এবং সেসব স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?
আইনের এই সাংঘর্ষিক অবস্থান বজায় রেখেই চলছে আমাদের ফৌজদারি শাসন ব্যবস্থা।

অনুচ্ছেদ ৩৬, এতে নাগরিকের আইনসংগত ভাবে বসবাস ও চলাফেরার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৭, এতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সভা সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৮, এর মাধ্যমে আইনসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সংগঠন করার অধিকার দেয়া হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৯, এর মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪০, এর মাধ্যমে পেশা বা বৃত্তি নির্বাচনের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৪১, এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিধান করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪২, এর মাধ্যমে সম্পত্তির উপর নাগরিকের অধিকার এবং সেই সম্পত্তি রাষ্ট্র যেন বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ ও দখল করতে না পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪৩, এর মাধ্যমে আইনগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকের গৃহে প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিরাপত্তাসহ চিঠিপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার দেয়া হয়েছে।
চলমান....

"তথ্যসূত্র"
*বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থা।
*সংবিধান,সাংবিধানিক আইন ও রাজনীতি, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।
*গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
*ক্লাসের শ্রুতি লিখন।
ও বিভিন্ন ব্লগ।
ইমরান হোসেন
আইন বিভাগ
(আইআইইউবি)

যে সকল নারী স্বামীর বাড়ি বসবাসের গৃহ থাকা স্বত্বেও বাবার গৃহ (ভিটে বাড়ি) থেকেও ভাগের অংশ চাচ্ছেন, তাদের জন‍্য :বিবাহ জনি...
22/06/2022

যে সকল নারী স্বামীর বাড়ি বসবাসের গৃহ থাকা স্বত্বেও বাবার গৃহ (ভিটে বাড়ি) থেকেও ভাগের অংশ চাচ্ছেন, তাদের জন‍্য :
বিবাহ জনিত কারনে পৈত্রিক ভিটায় বোনের দখল:
একজন উত্তরাধিকারিনী পৈত্রিক ভিটায় অবস্থিত কোন বসতগৃহ বা কুটিরে বিবাহ পযর্ন্ত সহ-অংশীদার হিসেবে বিবেচ্য হবেন। পরবর্তীতে উত্তরাধিকারিনীর (কন্যা সন্তান) অন্যত্র বিবাহ হলে, তিনি আগন্তুক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাই তিনি উক্ত পৈত্রিক ভিটায় অবস্থিত বসতগৃহ বা কুটিরের কোন একচ্ছত্র অংশ দাবী করতে পারেন না। এ কারনে বাটোয়ারা মামলায় উত্তরাধিকারিনীর (কন্যা সন্তান) বসতগৃহ বা কুটিরের অংশ বিশেষ প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচিত হয় না। কারন উক্ত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী (পূত্র সন্তান) গণের মধ্যে বিবাদ বা বিরোধ বৃদ্ধি পাবে (১৯৬১-১৩ ডি.এল.আর-২৩০)
বিস্তারিত : সাধারণত বোনেরা পৈতৃক সম্পত্তির সব জায়গা জমিরই 2:1 অনুপাতে অংশীদার। যেহেতু মেয়েদের ঠিকানা হয় শশুর বাড়ি তাই বাপের বাড়ির গৃহের অংশ তাদের ব‍‍্যবহার করার দরকার পড়েনা। এছাড়াও একটা পর্যায় বোনেরা বাপের বাড়ির জমি পেলেই জমি অন‍্যের কাছে বেচে চলে যায়।অন‍্যদিকে ছেলেদের বাপের গৃহই সম্বল তাই সামাজিক আর পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় পিতৃ গৃহের বা ভিটে বাড়ির জমির দেয়া যায় না। বোনেদের ভিটে থেকে জমি নিতেই হবে এটা অমানবিক দাবী। কোন মেয়ে যদি এইসব বুঝেও বাবার গৃহ বা বসতবাড়ি থেকেই জমি নিতেই হবে অন‍্য জায়গায় নেবো না এমন আচারন করে তাহলে বুঝতে হবে সে তার ভাইকে কষ্ট দেয়ার জ‍ন‍্য অথবা অতিরিক্ত লোভের বর্শবর্তী হয়েই এইসব ঝামেলা করতে চাচ্ছে । ধর্মীয় নির্দেশ অনুযায়ী নিজের ভাইদের কষ্ট দেয়া নিশ্চয় জায়েয কাজ হয় না। ভাইদের বাবার গৃহটাই যখন শেষ সম্বল তখন এই দিকে নজর না দেওয়াই ভালো। তাই ভাইদের উচিত সমানুপাতিক ভাবে অর্থাৎ যাতে বোনের হক কোনো ভাবেই বিনষ্ট না হয় এমন জমি থেকে তার অংশ বুঝিয়ে দেওয়া। কিন্তু বোন যদি অবিবাহিত / বিধবা / তালাকপ্রাপ্তা হয়ে থাকে তবে বাবার বসত বাড়ির অংশ দাবী করলে অবশ্যই দিতে হবে।

Collected

15/08/2021

#সংবিধানে আপীল বিভাগের এখতিয়ারঃ (প্রাসঙ্গিক আলােচনা):
ক ) সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
১. হাইকোর্ট বিভাগে রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শােনানীর এবং তা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের থাকবে।
২. হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগের নিকট সেক্ষেত্রে অধিকারবলে আপীল করা যাবে, যে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ-
ক) এই মর্মে সার্টিফিকেট দান করবেন যে, মামলাটির সাথে সংবিধান-ব্যাখ্যার বিষয়ে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত রয়েছে; অথবা
(খ) কোন মৃত্যুদণ্ড বহাল করেছেন কিংবা কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন; অথবা;
(গ) উক্ত বিভাগের অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তিকে দণ্ডদান করেছেন এবং সংসদে আইন-দ্বারা যেরূপ বিধান করা হবে, সেরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রে।
৩. হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে যে মামলায় এই অনুচ্ছেদের (২) দফা প্রযােজ্য নয় কেবল আপীল বিভাগ আপীলের অনুমতিদান করলে সে মামলায় আপীল চলবে।
৪. সংসদ আইনের দ্বারা ঘােষণা করতে পারবে যে, এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ হাইকোর্ট বিভাগের প্রসঙ্গে যেরূপ প্রযােজ্য অন্য কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে তা সেরূপ প্রযােজ্য হবে ।

(খ) পরােয়ানা জারি ও নির্বাহের এখতিয়ারঃ
সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির হাজিরা কিংবা কোন দলিলপত্র উদ্ঘাটন বা দাখিল করার আদেশসহ আপীল বিভাগের নিকট বিচারাধীন যে কোন মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়ােজনীয় হতে পারে, উক্ত বিভাগ সেরূপ নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারী করতে পারবেন।

(গ) রায় বা আদেশের পুনর্বিবেচনার ক্ষমতাঃ
পদের যে কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে এবং আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যে কোন বিধিসাপেক্ষে আপীল বিভাগের কোন ঘােষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকবে।

(ঘ) উপদেশমূলক এখতিয়ারঃ
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে আইনের এরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত সম্পন্ন যে , সে সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়ােজন, তা হলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরেন করতে পারবেন এবং উক্ত স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শােনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
#সৌজন্যে: আইন-কানুন বাংলায়

"সর্বোচ্চ আদালতসহ দেশের অধস্তন আদালতগুলোকে ফের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ...
17/06/2020

"সর্বোচ্চ আদালতসহ দেশের অধস্তন আদালতগুলোকে ফের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্পের আওতায় এনে সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার এজলাসকে ই-আদালত কক্ষে রূপান্তর করা হবে। বিচারাঙ্গনে ই-জুডিশিয়ারি পদ্ধতি চালু হলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং দুর্নীতি অনেকটা কমে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।"

14/02/2020

রিমান্ডের আবেদন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।(Application for Remand and the Abuse of Power.)
একজন পুলিশ অফিসার রিমান্ডের আবেদন করেন এই মর্মে যে, আসামী আমলযোগ্য অপরাধের সাথে যুক্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন। ধারা ১৬৭ এর উপ-ধারা (২) এ যদিও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের কথা উল্লেখ নাই, তবুও এটা এখন একটা প্রথায় পরিণত হয়েছে এবং আসামীকে রিমান্ডে দেয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তথ্য উদঘাটন করার জন্য।

ম্যাজিস্ট্রেট কখন রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করবেন বা কখন তা নাকচ করবেন, তার নির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা নাই। এবং আইনের এই দূর্বলতা পুলিশ অফিসার এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ দেয়।

পুলিশ অফিসার ধারা ১৬৭ এর আওতায় যুক্তিহীন রিমান্ডের আবেদন করে কখনও শাসন বিভাগের দ্বারা প্রভাবিত বা নির্দেশিত হয়ে, আবার কখনও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ হয়ে।

যথাযথ নির্দেশনার অনুপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেটগণও হয় শাসন বিভাগ দ্বারা নির্দেশিত হয়ে অথবা তোতা পাখির মত পুলিশ অফিসারের বিবরণপত্র অনুসরণ করে আসামীকে পুলিশ হেফাজতে বা জেলে আটক রাখার নির্দেশ দেয়।
আসামীকে রিমান্ডে নেয়ার পক্ষে যুক্তি হলো এই যে, সামাজিক প্রয়োজনে যদি বল প্রয়োগ করা না হয় তবে, শক্ত খোলের অপরাধীর নিকট হতে কোন তথ্য বা ইঙ্গিত পাওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, রিমান্ডের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করা হলে আইনগতভাবে উক্ত স্বীকারোক্তি স্বেচ্চাপ্রণোদিত হয় না। আর এরুপ স্বীকারোক্তি যা বল প্রয়োগের মাধ্যমে আদায় করা হয় তা পরবর্তীতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদ এ বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যাবে না।
তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা (রিমান্ডের বিধান) সংবিধানের পরিপন্থী। এই ফৌজদারি কার্যবিধি বৃটিশ সরকার কর্তৃক পাশ করা হয়েছিল ১৮৯৮ সালে যখন মৌলিক অধিকার বিষয়ক কোন অধিকার ছিল না, যা এখন আমাদের সংবিধানে আছে।

পুলিশ রিমান্ডের বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ এর বিধানানুযায়ী অবৈধ মনে হয় এবং ইহাই ব্যাপকভাবে BLAST মামলায় আলোচিত হয়েছে যদিও পুলিশ রিমান্ডের বিধান যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় সব দেশেই আছে।

সুতরাং এ বিষয়ে সঠিক কি তা পরিস্কার থাকা অত্যাবশ্যক। BLAST মামলায় আপীল বিভাগের রায় কি হয় তার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।

24/12/2019

এক নজরে পারিবারিক আইনগুলো :

👨‍👩‍👧 🏡 👨‍👩‍👧‍👦 ⛺

মুসলিম পারিবারিক আইন:

☪☪☪☪☪☪☪☪☪

মুসলিম পারিবারিক আইনে তালাক ঘোষণার নোটিশ কাজীর মাধ্যমে দিতে হয়, আইনজীবীর মাধ্যমে না।

তবে কাজীর নোটিশের মাধ্যমে তালাক দেওয়ার এই নিয়মের একটি ব্যতিক্রম আছে যা এই লেখার শেষ অংশে ব্যাখ্যা করা হবে। সেটি হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রদানের বিষয়।

আইনজীবী তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে যেমন দেনমোহর বা এরকম বিভিন্ন বিষয়ে আইনি নোটিশ দিতে পারেন, কিন্তু তালাকের মূল নোটিশ দিতে কাজী বা সহকারী কাজীকে লাগবেই।

তালাকের নোটিশের একটা ফটোকপি তালাকদাতা ঐ সময়েই নিয়ে রেখে দেওয়া উচিত, কারণ এটি পরে মামলা মোকদ্দমার সময় দরকার হয়।

আর তালাকের নোটিশ কাজী অফিস থেকে রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠানো হয় যেটাকে ইংরেজিতে আমরা Registered with AD ( AD = Acknowledgement due) চিঠি বলি।

গ্রহীতা পক্ষ সেই নোটিশটি পাওয়ার ঠিক তিন মাস বা ৯০ দিন পরে তালাক কার্যকর হবে যদি এর মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আনুষ্ঠানিক মিটিং করে আপোষ মীমাংসা ও মিটমাট করে না ফেলা হয়।

বাই দা ওয়ে, নোটিশ গ্রহীতা যদি গর্ভবতী স্ত্রী হন তবে সন্তান জন্ম না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

কারণ হচ্ছে তালাক হবার পর কোনো মহিলা অবিবাহিত থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দিলে সেই সন্তানের উপর কেউ জারজ বলে অপবাদ দিয়ে বসতে পারে, এজন্যই গর্ভবতী স্ত্রী সন্তান জন্ম না দেওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর না হবার নিয়মটি তৈরী হয়েছে।

যেকোনো আইন পুরোপুরি বুঝতে হলে আইন হবার কারণটাও একটু চিন্তা করা এবং বোঝা জরুরী।

যে কাজী অফিসে বিয়ে হয়েছিল সেই কাজী অফিস থেকেই তালাক দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই।

আপনি বিয়ে করেছেন ঠাকুরগাঁও, এখন খাগড়াছড়ি গিয়ে সেখানকার কাজী অফিস থেকে তালাক নোটিশ দিতে চান।

দিতে পারবেন।

এতে কোনো আইনগত বাধা নেই।

তালাক দেওয়ার পরপরই দেনমোহরের বাকী টাকা শোধ করে দিলে উভয়পক্ষেরই সুবিধা। যিনি অর্থাৎ যে স্ত্রী টাকা পাবেন তার জন্য যেমন ভালো তেমনি যে স্বামী টাকা দেবেন তার জন্যেও ভালো।

স্বামীর জন্য কেনো ভালো ?

কারণ হচ্ছে তালাক দেওয়ার পরপরই অনেক মহিলা প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে মিথ্যা যৌতুক বা নারী নির্যাতন মামলা করে থাকেন।

এটা আদালতগুলিও জানে।

এজন্যই তালাক দেওয়ার পরপরই এসব মামলা করলে সেগুলোর ভিত্তি দুর্বল থাকে।

স্ত্রীকে নির্যাতন করতে হলে বিবাহ বিদ্যমান থাকা দরকার।

কেউ তালাক দিলে এবং তার স্ত্রী চলে গেলে সেই স্ত্রীকে নির্যাতন করার আর সুযোগ থাকেনা।

একইভাবে তালাক হবার পর আর যৌতুক চাইবার সুযোগও থাকেনা।

এজন্যই তালাক হয়ে যাবার পর আর এসব মামলার তেমন কোনো শক্তি থাকে না।

এরকম হলে স্বামীপক্ষ যৌতুক মামলার সময় যদি আদালতকে যদি প্রমাণ দেখান যে, তালাক দেবার সাথে সাথেই তিনি দেনমোহরের বাকি সব টাকা, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে না চাইতেই অনতিবিলম্বে শোধ করে দিয়েছেন সেই ক্ষেত্রে তার জামিন পেতে সুবিধা হবে।

কারণ তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা যাবে যে, উনি যৌতুক চাইবার মতো অর্থলোভী হলে তো দেনমোহরের টাকা না দিয়ে ছ্যাচড়ামি করতেন।

অনেকে বলে থাকেন যে, স্ত্রী তালাক দিলে দেনমোহর দেওয়া লাগবে না।

এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা।

তালাক স্বামী বা স্ত্রী যেই দিক, এক্ষেত্রে দেনমোহর না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

দেনমোহর দিতেই হবে।

তবে দেনমোহরের বাকী টাকা দেওয়ার সময় অবশ্যই এর প্রমাণ রাখতে হবে।

টাকাটা স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে ডিপোজিট স্লিপ যত্ন করে সংরক্ষণ করে রেখে দিতে হবে। এটি আদালতে জামিনের দরখাস্তের সময় প্রদর্শন করতে হবে।

আর স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্ট নম্বর যদি না থাকে তবে আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে দেনমোহর প্রদানের জন্য ব্যাংক একাউন্ট নম্বর চাওয়া যেতে পারে।

যদি সেটা তারা না দেয় তবে সেই নোটিশের কপিটি আদালতে মামলা এবং জামিন শুনানির সময় আদালতে দেখালে জামিন পেতে সুবিধা হবে।

কোনো বিবাহিত মুসলিম পুরুষ কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে পারলেও বিবাহিতা মহিলারা সবসময় তা পারেন না।

বিয়ের সময় কাবিনে যদি কোনো মহিলাকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয় শুধু তাহলেই সেই বিবাহিতা মহিলা কাজীর মাধ্যমে সরাসরি তালাক দিতে পারবেন ।

তালাক দেওয়ার ক্ষমতা স্ত্রীকে প্রদান করা হয়েছে কিনা এটি কাবিনেই লেখা থাকে।

যদি সেটি প্রদান করা হয়ে না থাকে তাহলে উক্ত স্ত্রীকে আদালতে Dissolution of Muslim Marriage Act 1939 এর মামলা করে আদালতের নিকট তালাকের কারণ উপস্থাপন করে আদালতের মাধ্যমে তালাক নিতে হবে।

উপরের আলোচনা মুসলিম পারিবারিক আইনের আওতায় বিবাহ বিচ্ছেদের আলোচনা।

হিন্দু আইন: -
🕉🕉🕉🕉🕉

বাংলাদেশের হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো ব্যবস্থা নেই।

তবে Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act 1946 অনুযায়ী বিভিন্ন বিশেষ কারণে আদালতের কাছে পৃথক বসবাসের আদেশ চেয়ে মামলা করা যায় যেখানে আদালত স্বামীকে খোরপোষ দেওয়ার আদেশ দেবেন।

কারণগুলো হচ্ছে - স্বামী ঘৃণ্য রোগ যেমন কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হলে, ধর্মান্তরিত হলে, খেতে না দিলে, বহুবিবাহ করলে, উপপত্নী রাখলে, অত্যাচার মারপিট করলে ইত্যাদি।

ভারতের হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টিকে Hindu Marriage Act 1955 এর মধ্যেই পাওয়া যাবে।

ভারতে হিন্দু আইন ব্যাপকভাবে সংস্কার করে নারীদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের অংশ যেমন বাড়ানো হয়েছে তেমনিভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টিকেও আইনগতভাবে বৈধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান হিন্দু আইন অনুযায়ী পিতা-মাতার সম্পত্তিতে পুত্র সন্তানের উপস্থিতিতে কন্যা সন্তানের বিন্দুমাত্র অধিকার নেই।

কেবলমাত্র পুত্র সন্তান না থাকলেই কন্যা সন্তানরা প্রয়াত পিতার সম্পত্তি ভোগ-দখল করতে পারে মাত্র। কিন্তু নিরঙ্কুশ মালিকানা (অর্থাৎ বিক্রয়, দান কিংবা হস্তান্তরের অধিকার) পায় না।

সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা চলে যায় প্রয়াত ব্যক্তির পৌত্র, প্রপৌত্র, ভাই, ভাস্তে কিংবা অন্য কোন পুরুষ উত্তরাধিকারীর কাছে। শুধু পিতার কেন, স্বামীর সম্পত্তিতেও নিরঙ্কুশ উত্তরাধিকার নেই স্ত্রীর। তাদের অধিকার কেবল ভরণ-পোষণ লাভ কিংবা সম্পত্তি ভোগ-দখল করার মধ্যে সীমিত।

তাদের শুধুমাত্র জীবদ্দশায় এসব সম্পত্তি ভোগ করার অধিকারকে জীবন সত্ব বলা হয়।

হিন্দু নারীরা শুধুমাত্র নিজেদের আয় বা অর্জিত সম্পত্তিই নিরঙ্কুশভাবে ভোগ দখল করতে বা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যেতে পারে যে সম্পত্তিকে স্ত্রীধন বলা হয়।

বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য জীবিত থাকার সময় বাংলাদেশের হিন্দু আইন বিশেষত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের জন্য সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রক্ষণশীল হিন্দু নেতাদের বাধার মুখে তিনি এই বিষয়ে পরিবর্তন আনতে কোনো সফলতা লাভ করেননি।

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে হিন্দু আইনের বিধান হচ্ছে, একবার কোন ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হলে এরপর সে তার নতুন ধর্মের পারিবারিক আইনের দ্বারা পরিচালিত হবে।

১৮৫০ সালে বৃটিশরা The Caste Disabilities Removal Act নামে একটি আইন পাস করেছিলো। এই আইন পাস হওয়ার পর এবং এই আইন রদ হওয়ার পূর্বকাল পর্যন্ত কেউ ধর্মান্তরিত বা জাতিচ্যুত হওয়ার কারণে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতো না। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে গভর্ণর জেনারেল লর্ড ডালহৌসীর উদ্যোগে এটি পাস হয়।

এই বিতর্কিত আইনকে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনও বলে অনেকেই আখ্যায়িত করতেন। সমালোচনা আছে যে ধর্মান্তর উৎসাহিত করার জন্য এই আইন করা হয়েছিল।

এই আইনটি ১৯৭৩ সালের ৮ নং আইন THE BANGLADESH LAWS (REVISION AND DECLARATION) ACT 1973 দ্বারা বাতিল করা হয়েছে এবং পাশাপাশি ১৯৭৩ সালের এই আইনটির ১ নং ধারার মাধ্যমে Retrospective effect দিয়ে ১৮৫০ সালের আইনটির রদ ও রহিতকরণ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকেই কার্যকরী হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের 🇧🇩 জন্মলগ্ন থেকেই ধর্মান্তর দ্বারা উত্তরাধিকারের উপর প্রাচীন হিন্দু আইনের প্রতিক্রিয়া বলবত হয়েছে।

ধর্মান্তরিত হলে এখন আর কেউ উত্তরাধিকার লাভ করে না।

এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক ও উল্লেখ্য যে বিদ্যমান মুসলিম আইনেও ধর্মান্তরিত হলে কেউ উত্তরাধিকার লাভ করেনা।

পৃথিবীর হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ দুইটি।

একটি ভারত 🇮🇳

আর অপরটি নেপাল🇳🇵

উভয় দেশেই জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

নেপালেও হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ বৈধ।

সেখানকার জাতীয় civil code 2018 এর ৯৪ ও ৯৫ ধারায় এই বিষয়ে বলা আছে।

হিন্দুদের প্রাচীন ধর্ম শাস্ত্রীয় নীতিমালায় বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশেও এই বিষয়ে সংস্কার আনা হয়নি।

২০১৫ সালের ২০শে জানুয়ারি হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এলিনা খান এই বিষয়ে একটি রীট দায়ের করেন।

তিনি রীটে উল্লেখ করেন অত্যাচারীত হিন্দু মহিলাদের বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি না দেয়া সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও মানবাধিকারের লংঘন।

সেই রীটে বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি জনাব মোস্তফা জামানের ডিভিশন বেঞ্চ একটি রুল জারি করে সরকারের কাছে জানতে চান কেনো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে কোনো আইন তৈরী হবেনা।

পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রক্ষণশীল অংশ এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও তীব্র বিরোধিতা করার খবর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়।

ঐ রীটের শেষ পরিণতি কি ঘটলো সেটাও আর জানতে পারিনি। তবে বিবাহ বিচ্ছেদ না থাকার আইনটা যে এখনো বদলায়নি সেটা দেখতেই পাচ্ছি।

হিন্দু মহিলারা মাত্র একটি বিশেষ ক্ষেত্রে পুনরায় বিবাহ করতে পারেন।

সেটি হচ্ছে স্বামী মারা গেলে।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে গভর্ণর জেনারেল লর্ড ডালহৌসী The Hindu Widow's Remarriage Act 1856 সিপাহী বিপ্লবের ঠিক আগে আগে পাস করেন যার ফলে এই সংস্কার সাধিত হয়।

উল্লেখ্য যে একটানা সাত (৭) বছর স্বামী নিখোঁজ এবং নিরুদ্দেশ থাকলে সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী তাকে মৃত ধরে নিয়েও স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করতে পারবেন।

এর আগে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক Bangal Sati Regulation 1829 এর মাধ্যমে হিন্দু বিধবা মহিলাদের সতীদাহ প্রথার মাধ্যমে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারার ভয়ঙ্কর নিয়মটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রক্ষণশীল অংশের তীব্র বিরোধিতা সত্বেও বাতিল ও নিষিদ্ধ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সফল হন।

🍁🍀☘🌿🌾🌵🌴🌳🌲🌱⚘🌼🌻🌹💐🍃🍂

পরবর্তী লেখা -

✝✝✝✝✝

খ্রিষ্টান পারিবারিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল কিছু কথা।
-------------------------------------------------------------------
- ব্যারিস্টার মুসতাসীম তানজীর, এডভোকেট সুপ্রিম কোর্ট।

08/05/2019

#খোরপোষ আদায়ের মামলা:-
খোরপোষ আদায়ের জন্য একজন স্ত্রী মামলা করতে পারেন পারিবারিক আদালতে। দেশের প্রতিটি সহকারী জজ আদালত একই সাথে পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। খোরপোষ আদায়ের মামলায় অন্তর্বতী কালীন খোরপোষের আদেশ দেওয়া যায়না। স্ত্রী বকেয়া খোরপোষ পেতে হকদার। তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে খোরপোষ দিতে অস্বীকার করার দিন থেকে ৬ বছরের মধ্যে।
এছাড়া ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৯ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী খোরপোষের জন্য সালিশ পরিষদেও লিখিত দরখাস্ত করতে পারেন। সালিশ পরিষদের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে তা রিভিউ এর আবেদন করা যাবে সেই এলাকার সহকারী জজ আদালতে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

√√মুসলমান স্ত্রীর খোরপোষের অধিকার:-
খোরপোষ বলতে স্ত্রীর থাকা, খাওয়া, পরা ইত্যাদি ব্যাক্তিগত জীবনের সব অপরিহার্যতা পূরণ করাকে বুঝায় এবং এই পূরণ হতে হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সামাজিক অবস্থানুসারে। যেমন- স্বামী যদি যথেষ্ট স্বচ্চল হন আর স্ত্রী যদি সম্ভ্রান্ত বংশীয়া হন তাহলে ব্যাক্তিগত ভৃত্যও তার একটি অপরিহার্যতা এবং তা পূরণ করা স্বামীর দায়িত্ব। তাই ভৃত্যের খরচও ঐ স্ত্রীর খোরপোষের অন্তর্ভুক্ত হবে। স্ত্রীর খোরপোষের পুর্ণ দায়িত্ব স্বামীর। মুসলিম আইনে বিয়ে হল একটি দেওয়ানী চুক্তি। এর অনুমিত শর্তই হল স্ত্রী স্বামীর বাধ্যনুগত থেকে দাম্পত্য কর্তব্য প্রতিপালন করবেন, আর স্বামী স্ত্রীকে খোরপোষ দিবেন।
বৈধ বিয়ের একটি ফল হল স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীর খোরপোষ পাবার অধিকার। স্ত্রীর নিজেরই যথেষ্ট আর্থিক সঙ্গতি থাকলেও বা স্ত্রীর নিজের আয় থাকলেও কিংবা তার ভরণপোষণ করার মত আত্নীয় স্বজন থাকলেও স্ত্রীর খোরপোষ প্রদানের দায়িত্ব থেকে স্বামীর রেহাই নেই। স্বামী সুস্থ বা অসুস্থ হন, যুদ্ধে বন্দী হন বা জেলে থাকেন, ব্যবসা বা ভ্রমণ বা হজ্ব পালন যেই কারনেই দেশের বাইরে থাকুন, ধনী বা গরীব, নিরুদ্দেশ যা ই হোন না কেন স্ত্রীর খোরপোষ দিতে তিনি বাধ্য। স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পেতে হলে স্ত্রীকেও হতে হবে স্বামীর বাধ্যানুগত, দাম্পত্য নিবাসে স্বামীর সাথে একত্রে বাস করে সংসার করতে হবে। অবশ্য স্ত্রী যদি যুক্তি সঙ্গত কারনে পৃথক বাস করেন তবুও খোরপোষ পাবার অধিকারিণী। এটাই হল মুসলিম আইনের বিধান।

তলবী দেনমোহর পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্ত্রী স্বামীর সাথে বসবাস করতে বা সহবাস করতে অস্বীকার করতে পারেন এবং সে অবস্থায় স্ত্রী পৃথক স্থানে বাস করেও স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পেতে হকদার। তা সে সহবাসের আগেই হউক বা পরেই হউক।
স্বামীর নিষ্ঠুর আচরণের কারনে স্ত্রী তার সাথে একত্রে বাস করতে অস্বীকার করতে পারেন এবং সে অবস্থায় পৃথক থেকেও স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পেতে হকদার। স্বামীর কোন বিশেষ আচরণ স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসাবে গণ্য হবে কিনা তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে আদালত বিবেচনা করতে পারেন।
স্বামী যদি স্ত্রীর সঙ্গে অভ্যাসগতভাবে খারাপ ব্যবার করেন অথবা যদি তিনি দীর্ঘকাল যাবত স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকেন অথবা যদি তিনি স্ত্রীকে তার বাড়ি ত্যাগ করার নির্দেশন দেন, এমনকি যদি তিনি স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করে থাকেন অথবা যদি দেখা যায় যে, স্বামী স্ত্রীকে বের করে দিয়েছে অথবা তাদের মধ্যে আচার-আচরণ কিংবা খারাপ ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, তা নিরসন করা সম্ভব নয় এবং স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর প্রত্যাবর্তন আরো নতুন সমস্যা ও বিবাদের জন্ম দেবে, সেক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে বাস না করেও খোরপোষ দাবি করতে পারেন।
স্বামীর পুনরায় বিবাহ বা একাধিক স্ত্রী থাকার কারনে স্ত্রী পৃথক বাস করতে পারেন অথবা বিবাহের সময় চুক্তির শর্তানুযায়ী পিতার বাড়ীতে বসবাস করলেও স্ত্রী খোরপোষ পাবার অধিকারী।
অর্থাৎ একজন মুসলিম অনুগত স্ত্রী সর্বদা তার স্বামীর নিকট থেকে খোরপোষ পেয়ে যাবেন যতদিন না তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছিন্ন না হয়।
©©©

24/04/2019

-emption বা অগ্রক্রয়ঃ
~~কৃষি জমির অগ্রক্রয় অধিকার সম্পর্কে ১৯৫০ সনের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারায় বলা হয়েছে।

কোনো হোল্ডিং বা জোতের শরীক, বা সহ-শরীকগন যদি ঐ হোল্ডিং বা জোতে অবস্থিত তার কোনো অংশ বা অংশ-বিশেষ ঐ জোতের কোনো শরিক বা সহ-শরিক ব্যতিত অথবা ঐ জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিকের নিকট ব্যতিত অপর কোনো ব্যক্তির (আগন্তুক) নিকট বিক্রি করে, তখন ঐ জোতের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির অপর কোনো শরিক বা সহ-শরিক বা ঐ জোতের অন্য কোনো অংশের ক্রয়সূত্রে মালিক অথবা এদের কোনো প্রার্থী না হলে সংলগ্ন ভূমির মালিক উক্ত সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ও তত্সহ নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরন প্রদান করে আদালতের মাধ্যমে ঐ জোতের বিক্রয়কৃত জমিটি পূনরায় ক্রয় অধিকার অর্জন করাকে অগ্রক্রয় বা Pre- emption বলে।

প্রার্থী হওয়ার সময়সীমা: অগ্রক্রয় মামলায় ১৯৫০ সলের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট এর ৮৯ ধারা অনুযায়ী নোটিশ জারির তারিখ হতে ২ মাস সময়ের মধ্যে পক্ষ হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে । (১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারার ৪ উপধারা)

যে ক্ষেত্রে হস্তান্তর অগ্রক্রয়যোগ্য নয়:
মূল শরিকের নিকট জমি বিক্রির ক্ষেত্রে বিনিময়, বন্টনের মাধ্যমে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উইল বা দান মূলে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ওয়াকফ্ এর মাধ্যমে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ধর্মীয়, দাতব্য বা কোন ব্যক্তি বিশেষের উপকারার্থে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে খাই-খালাসি বন্ধকের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ।

অকৃষি জমির অগ্রক্রয় অধিকার:
সংলগ্ন জমির মালিক এ আইনের অধীনে অগ্রক্রয়ের অধিকারী নন । অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের সময়সীমা হস্তান্তর সম্পর্কে জানার তারিখ হতে ৩০ দিন । কবলায় বর্ণিত টাকার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত জমা দিতে হবে ৫% অর্থ ক্রেতা জমিতে উন্নয়ন মূলক কোনো কাজ করলে ব্যয়িত অর্থের উপর অতিরিক্ত ৬.৫% সুদ দিতে হবে।

অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত:
রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর অগ্রক্রয় (Pre- Emption) এর অধিকার উদ্ভব হয়। তবে যেক্ষেত্রে দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল সম্পাদনের তারিখ বা অন্য কোনো তারিখে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেই তারিখে যদি দলিলটি রেজিস্ট্রি না হয় তাহলে ঐ তারিখটি অগ্রক্রয়ের মামলার জন্য কারণ হিসাবে গণনা করা যাবে না বরং যে তারিখে বিক্রয় দলিলটি রেজিস্ট্রি হয়েছে এবং স্বত্ব (Title) কার্যকরী ভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে সেই তারিখ থেকেই অগ্রক্রয়ের মামলার কারণ সৃষ্টি হবে। সুতরাং যেক্ষেত্রে কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক যেক্ষেত্রে কবলা দলিলটি রেজিস্ট্রির তারিখ থেকেই অগ্রক্রয় মামলা করার কারণ(Cause of Action) শুরু হবে।

যদি কোনো দলিল হন্তান্তরের মাধ্যমে কার্যকরী হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সেই দলিলটি রেজিস্ট্রির তারিখই হলো অগ্রক্রয় বা Pre- Emption মামলা দায়ের করার অধিকার সৃস্টির তারিখ। যদি কোনো দলিল ২/১২/১৯৭৫ইং তারিখে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করা হয় এবং ঐ দলিলটি যদি ২৪/১০১৯৭৯ তারিখে রেজিস্ট্রি হয় এবং অগ্রক্রয় মামলাটি যদি ১৩/২/১৯৮০ইং তারিখে দায়ের করা হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত ঐ মামলাটি তামাদি বলে বারিত করতে পারবে না।

{31DLR (AD) (111)} হোল্ডিং তথা কোনো জমির খন্ড বা খন্ড সমূহের কোনো আংশিক অংশের জন্য অগ্রক্রয় মামলা করার অনুমোদন এর বিধান নাই।

{28DLR 400} যদি কোনো ক্রেতা কোনো জমি ক্রয় করার পর ঐ জমিটি অগ্রক্রয়কারীর সামনে চাষাবাদ করে থাকে সেক্ষেত্রে ঐ জমি বিক্রয় সম্পর্কে অজ্ঞতা বা অজানার অজুহাতে ১২ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায় না।

{33DLR 39} অগ্রক্রয় অধিকারটি উত্তরাধিকার সূত্রে অধিকার অর্থাত্ কোনো ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের মামলা করে যদি মারা যান সেক্ষেত্রে ঐ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারিগণও ঐ অগ্র্রক্রয় মামলার স্থলাবর্তী হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন।

{45DLR(AD) 118} অগ্রক্রয়ের মামলা চালু থাকায় যদি কোনো সহ অংশীদার তার কোনো জমি ফেরত পায় তাহলেও অংশীদারদের অগ্রক্রয়ের মামলার অধিকারের কোনো ক্ষতি হয় না।

{47DLR 607} যদি একই দলিলে কয়েকটি হোল্ডিং বা জমির খন্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকে তাহলে এরূপ জমি খন্ডের সহ অংশীদার ঐ জমি খন্ডের প্রিএমশন মামলা করার জন্য দরখাস্ত করতে পারবেন। ২টি পৃথক জমি খন্ডের জন্য একই দরখাস্তে অগ্রক্রয় মামল করা যেতে পারে।

{23DLR 68} ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারা অনুযায়ী একজন ঘোষিত (Notified) বা অঘোষিত (Non Notified) সহ অংশীদার নোটিশ জারীর পর থেকে ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় মামলা করতে পারবে এবং হস্তান্তরিত জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিক ও জমিটি হস্তান্তরের বিষয় জানার ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় মামলার জন্য দরখাস্ত করতে পারবেন ।

{21DLR 463} ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ১১৭ ধারার বিধান অনুযায়ী কোনো জমির সকল সহ অংশীদারগণের উপর নোটিশ জারীর পর জমাভাগ করা হয়েছে তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মূল জমা অক্ষত বা অখন্ড থাকবে এবং কোনো জমির (হোল্ডিং) সহ অংশীদার ঐ জমির সহ অংশীদার হিসাবে বিদ্যমান থাকবেন এবং তার অগ্রক্রয় মামলা করার অধিকার বলবত্ থাকবে।

{52DLR 223} অগ্রক্রয় মামলা করতে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা দরখাস্তকারী ব্যক্তি যদি ১৯৫০ সালের স্টেট একুই জিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ৯০ ধারা অনুযায়ী জোত জমি দখলে রাখার সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে যা প্রয়োজনীয় যেরূপ কোনো তথ্য উল্লেখ করতে কিংবা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। যেক্ষেত্রে দরখাস্ত কারীর দরখাস্ত খারিজ হয়ে যাবে।

{33DLR 318} দীর্ঘদিন অতিবাহিত পর যদি কোনো ব্যক্তি ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজশন এন্ড টেনসি এক্টের ৯৬(১) ধারা অনুযায়ী তার (প্রি এমটর) অগ্রক্রয় অধিকার প্রয়োগ করতে চায় তাহলে ঐ ব্যক্তিকে বিতর্কিত জমিটির হস্তান্তরের বিষয়ে দেরীতে অবগত হওয়া বা জানার ব্যাপারটি তাকেই বিশ্বাসযোগ্য স্বাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

{50DLR-193} কোনো অগ্রক্রয় মামলার দরখাস্তকারী যদি সহ অংশীদার হয়ে থাকেন তাহলে তিনি অবশিষ্ট সকল সহ- অংশীদারকে এবং দরখাস্তকারী যদি হস্তান্তরিত জমির সংযুক্ত বা পাশ্ববর্তী জমির মালিক হন তাহলে হস্তান্তরিত জমির সংযুক্ত বা পাশ্ববর্তী জমির মালিক হন তাহলে হস্তান্তরিত জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিকগণকে এবং হস্তান্তর গ্রহীতাকে পক্ষ করে প্রি এমশন মামলা দায়ের করতে হবে।

{33DLR(AD) 113} উত্তরাধিকার সূত্রে রেকর্ডকৃত বা অ- রেকর্ডকৃত সকল সহ অংশীদারকে অগ্রক্রয় মামলায় আবশ্যকীয় পক্ষ করতে হবে অন্যথায় ঐ মামলার প্রয়োজনীয় বিষয় ব্যর্থ হয়ে যাবে।

{28DLR (AD) 5, 33DLR(AD) 113} অগ্রক্রয় মামলার জন্য দরখাস্ত কারী ব্যক্তিকে মামলা করার সময় পনের টাকা এবং ক্ষতিপূরণর টাকা জমা না দিলেও মামলা করা যাবে কিন্তু আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সময় সীমার মধ্যে পনের টাকা এবং ক্ষতিপূরণের টাকা দাখিল করতে হবে।

{IBLD(HCD) 328. } সহ অংশীদার তার উপর নোটিশ জারীর পর মূল অগ্রক্রয় মামলায় যোগ দিতে পারবেন অথবা সময় সীমার মধ্যে স্বতন্ত্রভাবেও মামলা দায়ের করতে পারবেন তবে তাকে যে নন জয়ন্ডার অফ পার্টিজ করা হয়েছে তাকে সেই সুযোগটি প্রথমেই নিতে হবে নইলে ঐ আপত্তি গ্রহণ যোগ্য হবে না।

(20DLR 480) যদি কখনও ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এক্টের ৯৬(১) ধারা অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দরখাস্তটি রক্ষনীয় নয় বলে খারিজ (ডিসমিস) হয়ে যায় তাহলে তার অর্থ এই নয় যে, যারা এই আইনের ৮৯ ধারা মতে নোটিশ জারীর পর মামলায় শরিক হন বা যোগদান করেন তাদের প্রি-এমশনের অধিকার বাতিল হয়ে যাবে।তাদের ও পরিস্কার যে, সহ দরখাস্তকারীগণের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের বিষয়টি অবগত হওয়ার তারিখ নোটিশ জারীর তারিখ হতে হিসাব করতে হবে।

{36DLR 250} ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ (৫) ধারা অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে অংশীদারদের অগ্রক্রয় মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে তারপর ক্রয়সূত্রে সহ অংশীদারের এবং তারপর পাশ্ববর্তী জমির মালিকের অধিকার আসবে। যদি কোনো জমির হস্তান্তর হেবা বিল এওয়াজের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং হস্তান্তর গ্রহীতাগণ রক্তের সম্পর্কের ৩ তিন ডিগ্রীর মধ্যে না হন তাহলে অগ্রকয় বা প্রি এমশনের মামলার দরখাস্ত মঞ্জুর করা যাবে।

{49DLR 477} ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ৯৬(১০) ধারা অনুযায়ী উইল বা ইচ্ছাপত্র বা দান কিংবা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে কোন জমি হস্তান্তরিত হলে সেই হস্তান্তরের অগ্রক্রয় বা প্রি- এমশন মামলা হতে মুক্ত বা বহির্গত বলে গণ্য হবে ।

{48DLR 170} কোনো ব্যক্তির পিতা যদি মূল মালিকের নিকট হতে প্রি-এমশনভুক্ত জমিটির মালিক হয়ে থাকেন এবং পিতার মৃত্যুর পর পূত্রগণ/ উত্তরাধিকারী গণ ঐ জমির মালিক বলে গণ্য হবেন এবং পূত্রগণ উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মূল মালিকের সহ-অংশীদার বলে গন্য হবেন।

{35DLR(AD) 54} ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারার ১০ উপধারায় উল্লেখিত ব্যতিক্রম অনুযায়ী যদি কোনো জমির হস্তান্তর আর্থিক বিবেচনা ব্যতীত হেবা বিল এওয়াজ কোন জমির হস্তান্তর আর্থিক বিবেচনা ব্যতীত হেবা বিল এওয়াজের মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয় তাহলে হস্তান্তরিত জমিটির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় বা প্রি-এমশন মামলা করা যাবে না ।যদিও হস্তান্তরটি হস্তান্তর গ্রহীতা ও দাতার মধ্যে রক্ত সম্পর্কীয় ৩ (তিন) ডিগ্রীর মধ্যে না হয়।

{50DLR544.} অধিকার: কোনো জমি কোনো ব্যক্তির নিকট বিক্রি হলে তা জানার আধিকার ৷ অগ্রক্রয়ের মামলা করার মাধ্যমে পুনরায় ঐ জমিটি ক্রয়ের অধিকার ৷ অগ্রক্রয়ের মামলা করার জন্য বিক্রয়ের বিষয়টি জানার পর সময় পাবার অধিকার ৷ অগ্রক্রয় মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার অধিকার ৷ উত্তরাধিকার সূত্রে সহ শরীক হলে জমিটি অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে সবার আগে সুযোগ পাবার অধিকার ৷ অগ্রক্রয়ের মামলা হওয়ার পর নোটিশ জারীর পর অগ্রক্রয় মামলায় পক্ষভুক্ত হবার জন্য সময় পাবার অধিকার ৷ ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকার ৷ অগ্রক্রয়ের মামলার মাধ্যমে ক্রয়কৃত জমিতে দখল পাবার এবং ভোগ করার অধিকার ৷

লঙ্ঘন:
কোনো জমি বিক্রি হবার পর বিক্রয়ের বিষয়ে তথ্য গোপন করা বা না জানানো । পুনরায় জমিটি ক্রয় করার জন্য অথবা অগ্রক্রয়ের মামলা করতে বাধা দেওয়া । অগ্রক্রয়ের মামলা করার জন্য সময় না পাওয়া । অগ্রক্রয়ের মামলা হওয়ার পর নোটিশ পাবার সময় না দেওয়া । নোটিশ পাবার পর অগ্রক্রয় মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য সুযোগ না দেওয়া । মামলাকারী যদি উত্তরাধিকারী সূত্রে সহ- শরীক হয়ে থাকেন তাহলে তা বিবেচনা না করা । অগ্রক্রয়ের মামলার ফলে জমিটি যদি মামলাকারীর অনুকুলে ক্রয়ের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয় তাহলে ১ম ক্রয়কারী ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা । অগ্রক্রয় মামলা করার ফলে যদি অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তি যদি পুনরায় ঐ জমিটি ক্রয়ের সুযোগ পায় তাহলে জমিটি ক্রয়ের পর দখল উক্ত জমিতে দখল না পাওয়া ।

প্রতিকার:
অগ্রক্রয়ের মামলা করার জন্য আর্থিক এখতিয়ার সম্পন্ন দেওয়ানী আদালতে লিখিত আরজির সাথে উপযুক্ত কোর্ট ফি সংযুক্ত করে মামলা দায়ের করা যাবে । দেওয়ানী আদালত (যেমন সহকারী জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত) এর রায়ের ফলে কোনো ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হলে তিনি জেলা জজের আদালতে আপিল করতে পারবেন ।

সময়সীমা:
১৯৫০ সনের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারায় বলা হয়েছে কবলা দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ হতে টেন্যান্টের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর একারনেই দলিল রেজিষ্ট্রির পর প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৯ ধারার বিধান অনুসারে অন্যান্য শরিক বা সহ- শরিককে নোটিশ দেওয়া হয়। এ নোটিশ পাবার পর বা নোটিশ না পেলে হস্তান্তর সম্পর্কে জানার পর পরই অগ্রক্রয় অধিকারের উদ্ভব ঘটে এবং তা পরবর্তী ৪ মাস বা ১২০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকে, উক্ত সময়ের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে অগ্রক্রয়ের মামলা করা যায়।

অগ্রক্রয়ের জন্য কারা মামলা করতে পারেন?
সংশ্লিষ্ট জোতের কোন শরিক বা সহ- শরিক সংশ্লিষ্ট ভুমির মালিক বা মালিকগণ উত্তারাধিকার সূত্রের সহ-শরিকগণ খরিদ সূত্রের সহ-শরিকগণ সংলগ্ন ভূমির মালিকগণ

অগ্রক্রয় প্রার্থীর অগ্রগণ্যতা নির্ণয়: অগ্রক্রয় প্রার্থী একাধিক হলে সে ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনার ভিত্তিতে পর্যায় ক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । প্রার্থীর দখলভুক্ত মোট জমির পরিমাণ সংলগ্ন ভূমিতে কোনো প্রার্থীর বসত বাড়ী আছে কিনা সংলগ্নতার ব্যাপ্তি সংলগ্ন মালিকের প্রয়োজনীয়তা সংলগ্ন জমিতে প্রার্থীর কোন ইজমেন্ট অধিকার আছে কিনা

অগ্রক্রয় মামলায় আব্যশকীয় পক্ষ: অগ্রক্রয়ের মামলাটি যদি একজন উত্তারাধীকার সূত্রের সহ-শরিক দায়ের করে তবে উত্তারাধিকার সূত্রের অন্যান্য সকল সহ-শরিক মামলায় পক্ষ হতে পারবেন । যদি অগ্রক্রয়ের মামলাটি খরিদ সূত্রের কোনো সহ-শরিক দায়ের করে থাকেন তবে জোতের সকল সহ-শরিকগণ মামলার পক্ষ হতে পারবেন ।
অগ্রক্রয়ের মামলাটি সংলগ্ন জোতের কোনো মালিক করে থাকলে ঐ জোতের সকল উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির সহ-শারিকগণ, খরিদ সূত্রের সহ-শরিকগণ, সংলগ্ন ভূমির মালিকগণ এবং হস্তান্তর গ্রহীতাগণ (ক্রেতা) মামলার পক্ষভুক্ত করতে হবে । প্রয়োজনীয় পক্ষকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা বাধ্যতামূলক, প্রয়োজনীয় পক্ষকে মামলায় পক্ষ করা না হলে মামলা পক্ষ ভাব দোষে দুষ্ট হবে এবং মামলাটি খারিজ হয়ে যাবে ।

ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ: আদালতে আবেদনকারীর আবেদন মঞ্জুর হলে আদালত প্রতিপক্ষকে আদালতে জমা অর্থ হতে নিম্নরূপ অর্থ পরিশোধের আদেশ দিতে পারেন: কবলার প্রকৃত বিক্রয় মূল্য বিক্রয় মূল্যের ১০% টাকা ক্ষতিপূরণ কবলার তারিখ হতে ক্রেতা কর্তৃক পরিশোধিত খাজনা জমি কোথাও দায়বদ্ধ থেকে থাকলে তা মুক্তির জন্য ব্যয়িত অর্থ জমির উন্নয়ন বা উত্কর্ষ সাধনের জন্য কোনো টাকা ব্যয় হয়ে থাকলে সে টাকা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল: অগ্রক্রয় মামলার রায়ে কোনো পক্ষ সংক্ষুদ্ধ হলে ১৯৫০ সলের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট এর ৯৬ (১২) ধারার বিধান অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপিল করতে পারবেন। আপিলে প্রদত্ত আদেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে অর্থাত্
অগ্রক্রয় মামলায় দ্বিতীয় আপিল নেই । ক) অগ্রক্রয় মামলায় রায়ের পর সিদ্ধান্ত লাভকারী পক্ষের উপর সম্পত্তির সকল স্বত্ব, স্বার্থ ও অধিকার বার্তাবে । খ) অগ্রক্রয়ের আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট জমিতে আদালতের মাধ্যমে দখল পাবার অধিকারী হবেন । যে সকল অবস্থায় অগ্রক্রয় অধিকার প্রয়োগ করা যায় না: অগ্রক্রয়ের অধিকার কোনো অখন্ডনীয় অধিকার নয়। কার্যক্রম রুজু অবস্থায় কেউ সহ-শরিকের মর্যাদা হারালে তাঁর আর এ অধিকার প্রয়োগের অধিকার থাকে না ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল করতে ব্যর্থ হলে এ অধিকার থাকে না । আপোষ ডিক্রীর মাধ্যমে কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরে সম্মতি দান করলে সেক্ষেত্রে সম্মতি দানকারী ব্যক্তির আর অগ্রক্রয়ের অধিকার থাকে না । কোনো না-দাবীনামা হস্তান্তর দলিল হিসেবে গণ্য হয় না । তাই এরূপ না- দাবীনামা রেজিস্ট্রি করা হলেও এর ভিত্তিতে অগ্রক্রয় অধিকার চলবে না । দান বা হেবা বিল-এওয়াজ এর ক্ষেত্রে এ অধিকার চলবে না ।
পৌর এলাকার অন্তর্গত এলাকায় ১৯৫০ সলের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট এর ৯৬ ধারার বিধান অনুসারে অগ্রক্রয় যোগ্য নয় । বিক্রেতার নিকট বিক্রিত ভূমি পুনহস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ অধিকার চলবে না । অগ্রক্রয়ের অধিকারী পক্ষগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকার প্রয়োগে ব্যর্থ হলে তাদের অধিকার নষ্ট হয়ে যাবে।
©©©

Address

Paltan
Dhaka

Telephone

+8801400808035

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আইন ও বিচার প্রক্রিয়া,বাংলাদেশ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to আইন ও বিচার প্রক্রিয়া,বাংলাদেশ:

Share

Category