11/04/2026
#শুধুমাত্র #আইনজীদের জন্য
জাতীয় সংসদে 'কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (সংশোধন) আইন-২০২৬' কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে । এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে ।
ফৌজদারি কার্যবিধি বা ক্রিমিনাল প্রসিডিউর বিষয়ে পাস হওয়া মূল পরিবর্তনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সুরক্ষা (৪৬এ-৪৬ই ধারা)
#পরিবারকে অবহিতকরণ: কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীকে বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ।
#পরিচয়পত্র প্রদর্শন: গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই তার দৃশ্যমান পরিচয়পত্র (ID card) সাথে রাখতে হবে এবং গ্রেপ্তারের সময় তা প্রদর্শন করতে হবে ।
#আইনি পরামর্শ: গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে তার আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে ।
২. নথিবদ্ধকরণ ও স্বচ্ছতা
#জিডিতে অন্তর্ভুক্তি: গ্রেপ্তারের কারণ, সময় এবং কাকে তথ্য জানানো হয়েছে—এসব বিস্তারিত তথ্য অবিলম্বে স্থানীয় থানার জেনারেল ডায়েরিতে (জিডি) লিপিবদ্ধ করতে হবে ।
#গ্রেপ্তার মেমোরেন্ডাম: গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তা যদি ওই থানার না হন, তবে তাকে গ্রেপ্তারের একটি অনুলিপি (Memorandum) সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে পাঠাতে হবে ।
#সাক্ষীর উপস্থিতি: গ্রেপ্তারের সময় অন্তত একজন সাক্ষীর (পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি) উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষী না পাওয়া গেলে তার কারণ নথিবদ্ধ করতে হবে।
৩. বিচারিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন
#জরিমানার ক্ষমতা বৃদ্ধি (৩২ ধারা): ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা করার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এখন সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন ।
#স্বাস্থ্য পরীক্ষা (১৬৭ ধারা): পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আগে এবং পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।
#তদন্ত তদারকি (১৭৩এ ধারা): চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন (Interim report) চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
MIR Lawyers & Associates
01911-244701