29/04/2026
বিদ্যুৎখাতে বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বিএনপি সরকার।
বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ শুরুটা ১৯৬১ সালে। রূপপুরে জমি অধিগ্রহণের কয়েক বছর পর প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। ১৯৬৯-১৯৭০ : ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাতিল করে দেয়।স্বাধীন দেশে এ নিয়ে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে পরবর্তীতে যে সরকার আসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি সব সরকারের প্রচেষ্টা ছিলো। ১৯৬১ সালে প্রথম উদ্যোগটা না নিলে হাসিনা ২০১১ সালে এসে হুট করে চুক্তি করতে পারতো না। এবং বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র (রূপপুর) নির্মাণের মূল চুক্তি (General Contract) ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশিয়ার রোসাটমের অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৭২-১৯৭৫ স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান ২০০ মেগা-ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
১৯৭৭-১৯৮৬ মেসার্স সোফরাটম কর্তৃক পরিচালিত ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন যৌক্তিক বলে বিবেচিত হয়। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলো।
যত প্রকল্প তত দুর্নীতি, জি শেখ হাসিনার আমলে এমনটাই হয়েছে। বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
এই দুর্নীতিতে সহযোগিতা করেছে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহেনার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।
প্রথম আলোতে ১০ মার্চ প্রতিবেদনে বলা হয় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়সূচি থেকে ইতিমধ্যে তিন বছরেরও বেশি পিছিয়ে গেছে। এই বিলম্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাশিয়ার রোশাটমকে বাংলাদেশকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সময় মত যদি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা যেত তাহলে রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি হাসিনা সরকারের দুর্নীতির কারনে।
অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারের প্রচেষ্টা ছিলো,এটা একা হাসিনার কৃতিত্ব না।
বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ যদি ১৯৬১ সালে শুরু হয়, তাহলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কৃতিত্ব কীভাবে শুধু হাসিনার একার হয়? হুট করে এসে হাসিনা চুক্তি করেননি। স্বাধীনতার পর যদি প্রতিটি সরকারের প্রচেষ্টা না থাকত, তাহলে হাসিনা এই কাজ শুরু করতে পারতেন না। তাই বলতে চাই, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের সকল সরকারের অর্জন। তবে মাঝখানে হাসিনা সরকার দুর্নীতি করেছে।
সংগৃহীত **