19/05/2026
**ẞarrister Ashraf Rahman**
সচেতনতামূলক পোস্টঃ
গতকাল হাইকোর্টের এক কোটে দীর্ঘক্ষণ শুনানি করি, মামলার বিষয়বস্তু, আসামী বিদেশ যাওয়ার সময় তার বন্ধুকে দেয়ার জন্য বন্ধুর ছোটভাই ১টি কাঁধ ব্যাগ ধরিয়ে দেয়, মূলত যার ভিতর ছিল ৪৩০০ পিছ ইয়ারা। সাবমিশনে আমি আদালতকে বলি, এয়ারপোর্ট অত্যন্ত সেনসেটিভ জায়গা, সবাই জানে এখানে কয়েক ধাপে স্ক্যানিং হয়। যেখানে মানুষের ঘড়ি, বেল্ট খুলে ফুল বডি স্ক্যনিং হয়, সেখানে কারো দুঃসাহস নেই, ইয়াবা কাঁধে নিয়ে সারাসরি প্রবেশ করবে!!! না জেনে ও সরল বিশ্বাসে ব্যাগটি গ্রহণ করেছে বলেই, সে ব্যাগটি কাঁধে রেখেছিল। যদি জানতো ইয়াবা তবে সে ব্যক্তি অবশ্যই বিশেষ কায়দায় লুকাতো বা লাগেজে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখতো। সে পরিস্থিতির শিকার বলেই সে না জেনে ইয়াবা গুলোকে কাঁধে নিয়েছে, যা এজাহার ও ফরওয়ার্ডিং কিছুটা দৃশ্যমান।
বিচারপতিদ্বয় বলেন, আপনার কাস্টুডি মাত্র ২ মাসও হয়নি, আপনার কাছ থেকে পেয়েছে, জামিন বিবেচনার সুযোগ নেই এই মুহূর্তে। জজ সাহেব বলেন, না দেখে ও বুঝে কেন অন্যের পণ্য নিবে??
আমি বললাম, লর্ডশীপ এটি একটি আনকমন ও ইউনিক কেস। এই ধরনের ঘটনায় যে কেউ ভিকটিম হয়ে যেতে পারে। আমরাও যখন বিদেশ যাই বা আসি, আমাদেরও অনেক সময় অনেকে তার পরিবার বা বন্ধুর জন্য গিফট দেয়, যা আমরা বহন করি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রাম-বাংলার প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত গিফট আনা-নেওয়া করে। সুতরাং অপরাধের ধরণ থেকে বুঝা যাচ্ছে, অত্র আসামী ভিকটিম হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দীর্ঘক্ষণ সকল বক্তব্য শুনেও বিচারপতিদ্বয় বলেন, ২ মাস পরে আসেন, কাস্টুডি হোক। আমি অনুরোধে পরে ১ মাস করল ও আমি কোর্ট থেকে চলে গেলাম।
৫ মিনিট ঐ কোর্টের ডিএজি আমাকে ফোন দিয়ে বলে দ্রুত কোর্টে আসতে, জজ সাহেব আমাকে খুঁজতেছে। আমি দৌড়ে কোর্টে যাই এবং জজ সাহেব বলেন, পরক্ষণে উনাদের মনে হলো, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরণের ঘটনায় নিরাপরাধ মানুষেরও ভিকটিম বা পরিস্থিতির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত বদলে জামিন মন্জুর করলাম। কিন্তু সবাইকে সচেতন করবেন, কেউ যেন না দেখে বা জেনে কখনোই কোন পণ্য পরিবহন না করে।
আইনজীবীরা আমাদের মেধা-জ্ঞানে সবোর্চ্চ চেষ্টা করি প্রতিকার পেতে, কিন্তু ফলাফল নির্ভর করে ক্লায়েন্টের ভাগ্যের উপর। অনেক সময় ছোট মামলায়ও ফাঁক-ফোকর না থাকলে আসামীর সাজা হয়ে যায়, আবার অনেক ভয়ঙ্কর মামলায়ও সাক্ষী-প্রমাণে ফাঁকফোকর