24/09/2026
ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধে প্রতারণার মামলা চলবে কি?
আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
Islam Ali Mia alias Md. Islam vs. Amal Chandra Mondal and others
Criminal Appeal No. 3 of 1992
ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে সৃষ্ট বকেয়া পাওনা, হিসাব-নিকাশের বিরোধ কিংবা চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাকে অনেক সময় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার ফৌজদারি মামলার রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো লেনদেনের সূত্রপাত যদি বৈধ ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে হয় এবং শুরুতেই প্রতারণার অসৎ উদ্দেশ্য (dishonest intention) না থাকে, তাহলে পরবর্তীতে পাওনা টাকা পরিশোধ না করার ঘটনাকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, সে বিষয়ে আপিল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘Islam Ali Mia alias Md. Islam vs. Amal Chandra Mondal and others’, Criminal Appeal No. 3 of 1992 মামলাটি এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
১. মামলার পটভূমি ও ঘটনা
মামলার আপিলকারী মো. ইসলাম আলী মিয়া চুয়াডাঙ্গার একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং ১ নং রেসপন্ডেন্ট আমল চন্দ্র মণ্ডল পটুয়াখালীর একজন মাছের আড়তদার ছিলেন। উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।
২০ আগস্ট ১৯৮৮ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত সময়কালে রেসপন্ডেন্ট আপিলকারীকে বাকিতে মোট ২৭,১৩,৮৬১.৫৯ টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ সরবরাহ করেন।
পরবর্তীতে আপিলকারী মোট ২৩,৮৮,৩৭৮.৬২ টাকা পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৪,০৫,৪৮২.৯৭ টাকা সঠিক হিসাব-নিকাশ (proper accounting) সম্পন্ন করার পর পরিশোধ করার কথা ছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে উক্ত বকেয়া টাকা নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং আপিলকারী অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানান।
এরপর রেসপন্ডেন্ট পটুয়াখালীর উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা (criminal breach of trust) এবং ৪২০ ধারা (cheating)-এর অধীনে CR Case No. 39 of 1991 দায়ের করেন।
ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে প্রসেস ইস্যু করেন।
২. হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বাতিলের আবেদন
আপিলকারী ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করে অভিযোগের ভিত্তিতে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল (quash) করার প্রার্থনা করেন।
তার মূল বক্তব্য ছিল, পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত একটি ব্যবসায়িক ও দেওয়ানি বিরোধ। এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিষয় নয়।
তবে হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনটি খারিজ করেন। আদালতের দৃষ্টিতে, লেনদেন অস্বীকার করা বা চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিষয়টি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারণযোগ্য এবং সে কারণে ফৌজদারি কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল করা সমীচীন নয়।
এরপর হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকারী আপিল বিভাগে আপিল করেন।
৩. আপিল বিভাগের বিবেচ্য আইনি প্রশ্ন
আপিল বিভাগের সামনে মূলত যে প্রশ্নটি উঠে আসে তা হলো:
বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য গ্রহণ করার পর বকেয়া মূল্য পরিশোধ না করা বা হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া কি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার প্রতারণা বা ৪০৬ ধারার criminal breach of trust-এর অপরাধ সৃষ্টি করে?
আপিল বিভাগ মামলার সামগ্রিক ঘটনা, পক্ষদ্বয়ের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং লেনদেনের প্রকৃতি বিবেচনা করে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন।
৪. দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার প্রশ্ন
দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অপরাধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেনদেনের সময় থেকেই প্রতারণামূলক বা অসৎ উদ্দেশ্যের অস্তিত্ব।
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি শুরু থেকেই অসৎ উদ্দেশ্যে অপর পক্ষকে প্রতারিত করার জন্য কোনো সম্পত্তি, পণ্য বা অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী তা cheating-এর অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।
কিন্তু কোনো বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় এমন অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে এবং পরবর্তীতে কোনো কারণে টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে, শুধু সেই পরবর্তী ঘটনা দিয়ে শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল বলে ধরে নেওয়া যায় না।
এই মামলায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, আপিলকারী মোট ২৭,১৩,৮৬১.৫৯ টাকার মধ্যে ২৩,৮৮,৩৭৮.৬২ টাকা পরিশোধ করেছিলেন।
অর্থাৎ, লেনদেনের একটি বড় অংশের মূল্য তিনি পরিশোধ করেছেন। ফলে লেনদেনের শুরু থেকেই তার উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণা করে পণ্য গ্রহণ করা, এমন অভিযোগের সঙ্গে মামলার বিদ্যমান ঘটনাপ্রবাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এছাড়া অবশিষ্ট অর্থের বিষয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সঠিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হয়নি বলেও বিষয়টি উঠে আসে।
সুতরাং, পরবর্তীকালে বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়াকে লেনদেনের শুরু থেকেই বিদ্যমান dishonest intention-এর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
৫. দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় Criminal Breach of Trust-এর প্রশ্ন
দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারার ক্ষেত্রে মূল উপাদানগুলোর একটি হলো entrustment, অর্থাৎ কোনো সম্পত্তি বা তার ওপর নিয়ন্ত্রণ অন্য ব্যক্তির কাছে বিশ্বাসের ভিত্তিতে অর্পণ করা।
কিন্তু এখানে মাছ সরবরাহ করা হয়েছিল একটি বিক্রয় লেনদেনের অংশ হিসেবে।
বাকিতে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা পণ্যের মূল্য পরবর্তীতে পরিশোধ করার দায় গ্রহণ করেন। এটি সাধারণভাবে কোনো সম্পত্তি ‘গচ্ছিত রাখা’ বা entrustment-এর সমতুল্য নয়।
বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর পণ্যের মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে যায়। ফলে পরবর্তীতে পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করার বিষয়টি, পরিস্থিতি অনুযায়ী, পাওনা আদায়ের দেওয়ানি দাবির বিষয় হতে পারে; কিন্তু শুধু এ কারণে ৪০৬ ধারার criminal breach of trust-এর অপরাধ সৃষ্টি হয় না।
৬. দেওয়ানি দায় ও ফৌজদারি দায়ের মধ্যে পার্থক্য
এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, প্রত্যেক চুক্তিভঙ্গ বা ব্যবসায়িক বিরোধ ফৌজদারি অপরাধ নয়।
একটি বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে পাওনা সৃষ্টি হলে এবং পরবর্তীতে সেই পাওনা পরিশোধ না করা, হিসাব-নিকাশ নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়া কিংবা চুক্তির কোনো শর্ত পূরণ না হওয়ার ঘটনা সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি প্রতিকারের প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
তবে একই ঘটনায় যদি প্রমাণিত হয় যে লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল, অথবা অপরাধের অন্যান্য আইনগত উপাদান বিদ্যমান ছিল, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।
অতএব, শুধু একটি ব্যবসায়িক লেনদেনের অস্তিত্বই কোনো ফৌজদারি মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের কারণ নয়; বরং অভিযোগে অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান বাস্তবভাবে বিদ্যমান কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
৭. পূর্ববর্তী নজিরের সঙ্গে পার্থক্য
রেসপন্ডেন্ট পক্ষ প্রতারণার অভিযোগ সমর্থনের জন্য পূর্ববর্তী একটি নজিরের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করে।
কিন্তু আপিল বিভাগ উক্ত নজিরের সঙ্গে বর্তমান মামলার বাস্তব ঘটনা ও পরিস্থিতির পার্থক্য তুলে ধরেন।
পূর্ববর্তী মামলায় লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যের বিষয়টি বিদ্যমান ছিল। অন্যদিকে বর্তমান মামলায় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল এবং বিপুল পরিমাণ পণ্যের মূল্য পরিশোধও করা হয়েছিল।
ফলে দুই মামলার factual matrix এক ছিল না।
এখানে আপিল বিভাগের বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোনো নজির প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু আইনের সাধারণ নীতি নয়, বরং সংশ্লিষ্ট মামলার factual circumstances-ও বিবেচনা করতে হবে।
৮. আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত
আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে হস্তক্ষেপ করেন এবং আপিলটি মঞ্জুর করেন।
ফলস্বরূপ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান CR Case No. 39 of 1991-এর ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল (quashed) করা হয়।
অর্থাৎ, আদালতের দৃষ্টিতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল তা বিদ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধের ভিত্তি সৃষ্টি করেনি।
৯. রায়ের মূল নীতিসমূহ
এই মামলাটি থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত নীতি পাওয়া যায়:
প্রথমত, কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনে পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করা মাত্রই ৪২০ ধারার cheating প্রতিষ্ঠিত হয় না।
দ্বিতীয়ত, cheating-এর ক্ষেত্রে লেনদেনের শুরুতেই প্রতারণামূলক বা অসৎ উদ্দেশ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্য ক্রেতার কাছে হস্তান্তর হওয়া সাধারণত ৪০৬ ধারার জন্য প্রয়োজনীয় entrustment সৃষ্টি করে না।
চতুর্থত, ব্যবসায়িক পাওনা বা চুক্তিভঙ্গের বিরোধকে সবসময় ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া যায় না।
পঞ্চমত, কোনো অভিযোগে ফৌজদারি অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত ক্ষেত্রে সেই কার্যক্রম বাতিল করতে পারেন।
১০. ব্যবহারিক আইনগত গুরুত্ব
ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িকভাবে পণ্য গ্রহণ করে, বাকিতে লেনদেন করে অথবা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে হিসাব-নিকাশ, পণ্যের মূল্য, চুক্তির শর্ত বা পাওনা অর্থ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে পাওনা আদায়ের জন্য ফৌজদারি মামলা করার প্রবণতা দেখা যায়।
এই রায় থেকে স্পষ্ট যে, দেওয়ানি পাওনা আদায়ের দাবিকে ফৌজদারি অভিযোগের রূপ দেওয়ার আগে অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনগত উপাদান রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।
বিশেষ করে ৪২০ ধারার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, অভিযুক্ত ব্যক্তি লেনদেনের শুরুতেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে অপর পক্ষকে প্রলুব্ধ বা প্ররোচিত করেছিলেন কি না।
একইভাবে ৪০৬ ধারার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে entrust করা হয়েছিল কি না এবং সেই entrustment-এর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধমূলক আত্মসাতের উপাদান রয়েছে কি না।
১১. একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
তবে এই রায়কে এমন কোনো সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয় যে, “ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলেই ৪২০ ধারার মামলা হতে পারে না।”
আইনের সঠিক অবস্থান হলো, ব্যবসায়িক লেনদেনের আড়ালেও যদি লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকে এবং ৪২০ ধারার প্রয়োজনীয় উপাদান অভিযোগ ও প্রাথমিক উপকরণে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ফৌজদারি দায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।
অতএব, আদালতকে প্রতিটি মামলার চুক্তির প্রকৃতি, লেনদেনের সময়কার আচরণ, প্রতিশ্রুতি, অর্থ প্রদান, পণ্য গ্রহণ, প্রতারণার অভিযোগ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য বিবেচনা করতে হবে।
১২. উপসংহার
Islam Ali Mia alias Md. Islam vs. Amal Chandra Mondal and others, Criminal Appeal No. 3 of 1992 মামলাটি ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে উদ্ভূত দেওয়ানি দায় এবং প্রকৃত ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
রায়ের মূল শিক্ষা হলো, পরবর্তীকালে সৃষ্ট ব্যবসায়িক বিরোধ বা বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতা নিজে থেকেই প্রতারণার অপরাধে পরিণত হয় না। ৪২০ ধারার জন্য লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য উপাদান থাকতে হবে। একইভাবে ৪০৬ ধারার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় entrustment ও criminal breach of trust-এর উপাদান প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
ফলে কোনো ব্যবসায়িক বা চুক্তিগত বিরোধকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের essential ingredients অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এই কারণেই মামলাটি ব্যবসায়িক লেনদেন, দেওয়ানি দায়, cheating, criminal breach of trust এবং ফৌজদারি কার্যক্রম quash করার আইনগত নীতির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।