Advocate Al Mustashim Nobi Niku

Directions

Advocate Al Mustashim Nobi Niku Dreams have no boundaries

ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধে প্রতারণার মামলা চলবে কি?আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তIslam Ali Mia alias Md. Islam vs. A...
24/09/2026

ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধে প্রতারণার মামলা চলবে কি?

আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

Islam Ali Mia alias Md. Islam vs. Amal Chandra Mondal and others

Criminal Appeal No. 3 of 1992

ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে সৃষ্ট বকেয়া পাওনা, হিসাব-নিকাশের বিরোধ কিংবা চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাকে অনেক সময় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার ফৌজদারি মামলার রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো লেনদেনের সূত্রপাত যদি বৈধ ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে হয় এবং শুরুতেই প্রতারণার অসৎ উদ্দেশ্য (dishonest intention) না থাকে, তাহলে পরবর্তীতে পাওনা টাকা পরিশোধ না করার ঘটনাকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, সে বিষয়ে আপিল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘Islam Ali Mia alias Md. Islam vs. Amal Chandra Mondal and others’, Criminal Appeal No. 3 of 1992 মামলাটি এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

১. মামলার পটভূমি ও ঘটনা

মামলার আপিলকারী মো. ইসলাম আলী মিয়া চুয়াডাঙ্গার একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং ১ নং রেসপন্ডেন্ট আমল চন্দ্র মণ্ডল পটুয়াখালীর একজন মাছের আড়তদার ছিলেন। উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।

২০ আগস্ট ১৯৮৮ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত সময়কালে রেসপন্ডেন্ট আপিলকারীকে বাকিতে মোট ২৭,১৩,৮৬১.৫৯ টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ সরবরাহ করেন।

পরবর্তীতে আপিলকারী মোট ২৩,৮৮,৩৭৮.৬২ টাকা পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৪,০৫,৪৮২.৯৭ টাকা সঠিক হিসাব-নিকাশ (proper accounting) সম্পন্ন করার পর পরিশোধ করার কথা ছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে উক্ত বকেয়া টাকা নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং আপিলকারী অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর রেসপন্ডেন্ট পটুয়াখালীর উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা (criminal breach of trust) এবং ৪২০ ধারা (cheating)-এর অধীনে CR Case No. 39 of 1991 দায়ের করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে প্রসেস ইস্যু করেন।

২. হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বাতিলের আবেদন

আপিলকারী ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করে অভিযোগের ভিত্তিতে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল (quash) করার প্রার্থনা করেন।

তার মূল বক্তব্য ছিল, পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত একটি ব্যবসায়িক ও দেওয়ানি বিরোধ। এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিষয় নয়।

তবে হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনটি খারিজ করেন। আদালতের দৃষ্টিতে, লেনদেন অস্বীকার করা বা চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিষয়টি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারণযোগ্য এবং সে কারণে ফৌজদারি কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল করা সমীচীন নয়।

এরপর হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকারী আপিল বিভাগে আপিল করেন।

৩. আপিল বিভাগের বিবেচ্য আইনি প্রশ্ন

আপিল বিভাগের সামনে মূলত যে প্রশ্নটি উঠে আসে তা হলো:

বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য গ্রহণ করার পর বকেয়া মূল্য পরিশোধ না করা বা হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া কি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার প্রতারণা বা ৪০৬ ধারার criminal breach of trust-এর অপরাধ সৃষ্টি করে?

আপিল বিভাগ মামলার সামগ্রিক ঘটনা, পক্ষদ্বয়ের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং লেনদেনের প্রকৃতি বিবেচনা করে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন।

৪. দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার প্রশ্ন

দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অপরাধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেনদেনের সময় থেকেই প্রতারণামূলক বা অসৎ উদ্দেশ্যের অস্তিত্ব।

অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি শুরু থেকেই অসৎ উদ্দেশ্যে অপর পক্ষকে প্রতারিত করার জন্য কোনো সম্পত্তি, পণ্য বা অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী তা cheating-এর অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।

কিন্তু কোনো বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় এমন অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে এবং পরবর্তীতে কোনো কারণে টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে, শুধু সেই পরবর্তী ঘটনা দিয়ে শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল বলে ধরে নেওয়া যায় না।

এই মামলায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, আপিলকারী মোট ২৭,১৩,৮৬১.৫৯ টাকার মধ্যে ২৩,৮৮,৩৭৮.৬২ টাকা পরিশোধ করেছিলেন।

অর্থাৎ, লেনদেনের একটি বড় অংশের মূল্য তিনি পরিশোধ করেছেন। ফলে লেনদেনের শুরু থেকেই তার উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণা করে পণ্য গ্রহণ করা, এমন অভিযোগের সঙ্গে মামলার বিদ্যমান ঘটনাপ্রবাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

এছাড়া অবশিষ্ট অর্থের বিষয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সঠিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হয়নি বলেও বিষয়টি উঠে আসে।

সুতরাং, পরবর্তীকালে বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়াকে লেনদেনের শুরু থেকেই বিদ্যমান dishonest intention-এর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

৫. দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় Criminal Breach of Trust-এর প্রশ্ন

দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারার ক্ষেত্রে মূল উপাদানগুলোর একটি হলো entrustment, অর্থাৎ কোনো সম্পত্তি বা তার ওপর নিয়ন্ত্রণ অন্য ব্যক্তির কাছে বিশ্বাসের ভিত্তিতে অর্পণ করা।

কিন্তু এখানে মাছ সরবরাহ করা হয়েছিল একটি বিক্রয় লেনদেনের অংশ হিসেবে।

বাকিতে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা পণ্যের মূল্য পরবর্তীতে পরিশোধ করার দায় গ্রহণ করেন। এটি সাধারণভাবে কোনো সম্পত্তি ‘গচ্ছিত রাখা’ বা entrustment-এর সমতুল্য নয়।

বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর পণ্যের মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে যায়। ফলে পরবর্তীতে পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করার বিষয়টি, পরিস্থিতি অনুযায়ী, পাওনা আদায়ের দেওয়ানি দাবির বিষয় হতে পারে; কিন্তু শুধু এ কারণে ৪০৬ ধারার criminal breach of trust-এর অপরাধ সৃষ্টি হয় না।

৬. দেওয়ানি দায় ও ফৌজদারি দায়ের মধ্যে পার্থক্য

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, প্রত্যেক চুক্তিভঙ্গ বা ব্যবসায়িক বিরোধ ফৌজদারি অপরাধ নয়।

একটি বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে পাওনা সৃষ্টি হলে এবং পরবর্তীতে সেই পাওনা পরিশোধ না করা, হিসাব-নিকাশ নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়া কিংবা চুক্তির কোনো শর্ত পূরণ না হওয়ার ঘটনা সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি প্রতিকারের প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

তবে একই ঘটনায় যদি প্রমাণিত হয় যে লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল, অথবা অপরাধের অন্যান্য আইনগত উপাদান বিদ্যমান ছিল, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

অতএব, শুধু একটি ব্যবসায়িক লেনদেনের অস্তিত্বই কোনো ফৌজদারি মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের কারণ নয়; বরং অভিযোগে অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান বাস্তবভাবে বিদ্যমান কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

৭. পূর্ববর্তী নজিরের সঙ্গে পার্থক্য

রেসপন্ডেন্ট পক্ষ প্রতারণার অভিযোগ সমর্থনের জন্য পূর্ববর্তী একটি নজিরের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করে।

কিন্তু আপিল বিভাগ উক্ত নজিরের সঙ্গে বর্তমান মামলার বাস্তব ঘটনা ও পরিস্থিতির পার্থক্য তুলে ধরেন।

পূর্ববর্তী মামলায় লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যের বিষয়টি বিদ্যমান ছিল। অন্যদিকে বর্তমান মামলায় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল এবং বিপুল পরিমাণ পণ্যের মূল্য পরিশোধও করা হয়েছিল।

ফলে দুই মামলার factual matrix এক ছিল না।

এখানে আপিল বিভাগের বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোনো নজির প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু আইনের সাধারণ নীতি নয়, বরং সংশ্লিষ্ট মামলার factual circumstances-ও বিবেচনা করতে হবে।

৮. আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত

আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে হস্তক্ষেপ করেন এবং আপিলটি মঞ্জুর করেন।

ফলস্বরূপ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান CR Case No. 39 of 1991-এর ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল (quashed) করা হয়।

অর্থাৎ, আদালতের দৃষ্টিতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল তা বিদ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধের ভিত্তি সৃষ্টি করেনি।

৯. রায়ের মূল নীতিসমূহ

এই মামলাটি থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত নীতি পাওয়া যায়:

প্রথমত, কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনে পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করা মাত্রই ৪২০ ধারার cheating প্রতিষ্ঠিত হয় না।

দ্বিতীয়ত, cheating-এর ক্ষেত্রে লেনদেনের শুরুতেই প্রতারণামূলক বা অসৎ উদ্দেশ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্য ক্রেতার কাছে হস্তান্তর হওয়া সাধারণত ৪০৬ ধারার জন্য প্রয়োজনীয় entrustment সৃষ্টি করে না।

চতুর্থত, ব্যবসায়িক পাওনা বা চুক্তিভঙ্গের বিরোধকে সবসময় ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া যায় না।

পঞ্চমত, কোনো অভিযোগে ফৌজদারি অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত ক্ষেত্রে সেই কার্যক্রম বাতিল করতে পারেন।

১০. ব্যবহারিক আইনগত গুরুত্ব

ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িকভাবে পণ্য গ্রহণ করে, বাকিতে লেনদেন করে অথবা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে হিসাব-নিকাশ, পণ্যের মূল্য, চুক্তির শর্ত বা পাওনা অর্থ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে পাওনা আদায়ের জন্য ফৌজদারি মামলা করার প্রবণতা দেখা যায়।

এই রায় থেকে স্পষ্ট যে, দেওয়ানি পাওনা আদায়ের দাবিকে ফৌজদারি অভিযোগের রূপ দেওয়ার আগে অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনগত উপাদান রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।

বিশেষ করে ৪২০ ধারার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, অভিযুক্ত ব্যক্তি লেনদেনের শুরুতেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে অপর পক্ষকে প্রলুব্ধ বা প্ররোচিত করেছিলেন কি না।

একইভাবে ৪০৬ ধারার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে entrust করা হয়েছিল কি না এবং সেই entrustment-এর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধমূলক আত্মসাতের উপাদান রয়েছে কি না।

১১. একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

তবে এই রায়কে এমন কোনো সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয় যে, “ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলেই ৪২০ ধারার মামলা হতে পারে না।”

আইনের সঠিক অবস্থান হলো, ব্যবসায়িক লেনদেনের আড়ালেও যদি লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকে এবং ৪২০ ধারার প্রয়োজনীয় উপাদান অভিযোগ ও প্রাথমিক উপকরণে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ফৌজদারি দায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।

অতএব, আদালতকে প্রতিটি মামলার চুক্তির প্রকৃতি, লেনদেনের সময়কার আচরণ, প্রতিশ্রুতি, অর্থ প্রদান, পণ্য গ্রহণ, প্রতারণার অভিযোগ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য বিবেচনা করতে হবে।

১২. উপসংহার

Islam Ali Mia alias Md. Islam vs. Amal Chandra Mondal and others, Criminal Appeal No. 3 of 1992 মামলাটি ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে উদ্ভূত দেওয়ানি দায় এবং প্রকৃত ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

রায়ের মূল শিক্ষা হলো, পরবর্তীকালে সৃষ্ট ব্যবসায়িক বিরোধ বা বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতা নিজে থেকেই প্রতারণার অপরাধে পরিণত হয় না। ৪২০ ধারার জন্য লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য উপাদান থাকতে হবে। একইভাবে ৪০৬ ধারার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় entrustment ও criminal breach of trust-এর উপাদান প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

ফলে কোনো ব্যবসায়িক বা চুক্তিগত বিরোধকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের essential ingredients অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এই কারণেই মামলাটি ব্যবসায়িক লেনদেন, দেওয়ানি দায়, cheating, criminal breach of trust এবং ফৌজদারি কার্যক্রম quash করার আইনগত নীতির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

চেকের মামলায় Consideration (প্রতিদান) অনুপস্থিত বা ব্যর্থ হলে NI Act-এর ১৩৮ ধারায় আসামী খালাস পেতে পারেন: আপিল বিভাগের ঐ...
22/09/2026

চেকের মামলায় Consideration (প্রতিদান) অনুপস্থিত বা ব্যর্থ হলে NI Act-এর ১৩৮ ধারায় আসামী খালাস পেতে পারেন: আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায়

Advocate Al Mustashim Nobi Niku

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারার মামলায় শুধু চেক ইস্যু ও ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না; চেকের বিপরীতে প্রকৃত consideration (প্রতিদান) ছিল কি না এবং সেই প্রতিদান পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তাও আদালত পরীক্ষা করতে পারেন। প্রতিদানের অনুপস্থিতি বা ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে এবং আইনগত অনুমান খণ্ডিত হলে আসামী ১৩৮ ধারার অভিযোগ থেকে খালাস পেতে পারেন।

১. মামলার নাম

আবুল কাহের শাহীন (মোঃ) বনাম ইমরান রশীদ এবং অন্যান্য
Abul Kaher Shahin (Md) vs Emran Rashid and another

২. আদালত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

৩. রায়ের তারিখ

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।

৪. পক্ষসমূহ

আপিলকারী: মোঃ আবুল কাহের শাহীন।

রেসপনডেন্ট/আসামী নং ১: ইমরান রশীদ।

রেসপনডেন্ট নং ২: রাষ্ট্র/অন্যান্য।

বিচারপতিবৃন্দ

- প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
- বিচারপতি জীনাত আরা
- বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান

আইনজীবীগণ

আপিলকারীর পক্ষে:
সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী।

রেসপনডেন্ট নং ১-এর পক্ষে:
সিনিয়র অ্যাডভোকেট মওদুদ আহমদ।

রেসপনডেন্ট নং ২-এর পক্ষে:
অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড শিরিন আফরোজ।

৫. মামলার ঘটনা

২০১২ সালের ১৩ মার্চ গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত ১৮৯৭/১৮৯৮ নম্বর Memo of Agreement-এর ভিত্তিতে আসামী ইমরান রশীদ বাদী আবুল কাহের শাহীনকে ১ জুলাই ২০১৩ তারিখে মোট ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের চারটি চেক প্রদান করেন। চেকগুলোর মধ্যে তিনটির প্রতিটির মূল্য ছিল ১ কোটি টাকা এবং অপর চেকটির মূল্য ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বাদী চেকগুলো ব্যাংকে নগদায়নের জন্য উপস্থাপন করলে ব্যাংক “Payment stopped by drawer” এনডোর্সমেন্টসহ চেকগুলো ফেরত দেয়।

পরবর্তীতে বাদী আইনগত নোটিশ প্রদান করেও টাকা না পাওয়ায় Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় সিলেটের মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতে চারটি পৃথক নালিশি মামলা দায়ের করেন।

বিচারিক আদালত আসামীকে ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটি মামলায় এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ৯ কোটি টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আসামী হাইকোর্ট বিভাগে চারটি ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগ আপিলগুলো একত্রে শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে আসামীকে খালাস প্রদান করেন।

পরবর্তীতে বাদী হাইকোর্ট বিভাগের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে Criminal Appeal Nos. 63-66 of 2017 দায়ের করেন।

৬. আপিল বিভাগের সামনে মূল আইনি প্রশ্ন

মামলাটিতে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের উদ্ভব হয়:

প্রথমত, Negotiable Instruments Act-এর ১৩৮ ধারার মামলায় আদালত কি কেবল চেকের সত্যতা, ইস্যু এবং ডিজঅনারের বিষয় পরীক্ষা করবেন, নাকি আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং চেকের বিপরীতে প্রকৃত consideration বা প্রতিদানের অস্তিত্বও পরীক্ষা করতে পারবেন?

দ্বিতীয়ত, ২০০২ সালের সংশোধনের মাধ্যমে ১৩৮ ধারায় থাকা “for the discharge in whole or in part of any debt or other liability” শব্দগুচ্ছ বাদ দেওয়ার পরও কি ১৩৮ ধারাকে আইনের অন্যান্য বিধানের সঙ্গে সমন্বয় করে পড়তে হবে?

তৃতীয়ত, Negotiable Instruments Act-এর ১১৮(ক) ধারায় consideration-এর বিষয়ে যে আইনগত অনুমান রয়েছে, তা আসামী কীভাবে খণ্ডন করতে পারেন এবং সেই ক্ষেত্রে আসামীর প্রমাণের ভার কতটুকু?

৭. পক্ষসমূহের যুক্তি

আপিলকারীর বক্তব্য

আপিলকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, ২০০২ সালের ১৭ নং আইন দ্বারা ১৩৮ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে “ঋণ বা দায় পরিশোধের জন্য” সম্পর্কিত শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে আদালতের বিবেচনা কেবল চেকের লিখিত বিষয়বস্তু ও তার ডিজঅনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

তাদের বক্তব্য ছিল, চেকটি কোনো বৈধ ঋণ বা দায়ের বিপরীতে ইস্যু করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে আদালতের অনুসন্ধানের সুযোগ নেই।

এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগ রেজিস্টার্ড চুক্তির পরিধির বাইরে গিয়ে আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য বিবেচনা করে খালাস প্রদান করে ভুল করেছেন বলেও যুক্তি দেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে Alauddin (Md) vs State, 24 BLC (AD) 139 মামলার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা হয়।

আসামীর বক্তব্য

আসামীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, ১৩৮ ধারা কোনো বিচ্ছিন্ন বা স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধান নয়। বরং ধারাটিতে ব্যবহৃত “without prejudice to any other provisions of this Act” শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে আইনটির অন্যান্য বিধান কার্যকর থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

তাই ১৩৮ ধারার মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে Negotiable Instruments Act-এর ৪, ৬, ৮, ৯, ৪৩, ৫৮, ১১৮ এবং ১৩৮ ধারা সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

আসামীর বক্তব্য ছিল, Exhibit-5 চুক্তি অনুযায়ী চেকগুলো বাদীর মাধ্যমে আসামীর জমি বিক্রির কমিশন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু বাদী চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জমি বিক্রির জন্য কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। ফলে চেকের বিপরীতে নির্ধারিত consideration ব্যর্থ হয়েছে।

এক্ষেত্রে Shahidul Islam vs Bangladesh, 2 SCOB (2015) HCD 1 মামলার ওপর নির্ভর করা হয়।

৮. মামলার গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল Exhibit-5 চুক্তিপত্র এবং বাদীর নিজস্ব সাক্ষ্য (PW-1)।

এসব প্রমাণ থেকে আদালতের সামনে প্রতীয়মান হয় যে, চেকগুলো আসামীর সম্পত্তি নির্দিষ্ট বাজারমূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

কিন্তু প্রমাণে উঠে আসে যে, বাদী উক্ত সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং আসামী ও তাঁর ভাই-বোন নিজেরাই মার্কিন দূতাবাসের কাছে সম্পত্তিটি বিক্রি করেন।

ফলে চেক প্রদানের পেছনে যে consideration বা প্রতিদান নির্ধারিত ছিল, তা বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি।

৯. Consideration এবং Negotiable Instruments Act-এর ৪৩ ধারা

আপিল বিভাগ Negotiable Instruments Act-এর ৪৩ ধারার বিধানও বিবেচনা করেন।

ধারাটির মূলনীতির আলোকে, কোনো negotiable instrument যদি without consideration প্রদান করা হয় অথবা যে consideration-এর ভিত্তিতে instrument প্রদান করা হয়েছিল তা পরবর্তীতে fails করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে সেই instrument-এর ভিত্তিতে অর্থ প্রদানের আইনগত দায় সৃষ্টি নাও হতে পারে।

এই মামলায় আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, চেকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত consideration বা প্রতিদান কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়নি।

১০. রায় ও সিদ্ধান্ত

আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে হাইকোর্ট বিভাগের খালাসের রায় বহাল রাখেন এবং বাদীর দায়ের করা ফৌজদারি আপিলগুলো খারিজ করে দেন।

ফলে আসামী ইমরান রশীদ Negotiable Instruments Act-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা অভিযোগসমূহ থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস বহাল রাখেন।

১১. আপিল বিভাগের আইনি ব্যাখ্যা

আপিল বিভাগ ১৩৮ ধারায় ব্যবহৃত “without prejudice to any other provisions of this Act” বাক্যাংশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর অর্থ হলো, ১৩৮ ধারার প্রয়োগের সময় Negotiable Instruments Act-এর অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধান উপেক্ষা করা যাবে না।

বিশেষ করে ১১৮(ক) ধারায় consideration-এর বিষয়ে যে আইনগত অনুমান রয়েছে, সেটি একটি rebuttable presumption, অর্থাৎ খণ্ডনযোগ্য অনুমান।

আসামীকে প্রতিদানের অনুপস্থিতি বা ব্যর্থতা সন্দেহাতীতভাবে (beyond reasonable doubt) প্রমাণ করতে হবে না। বরং প্রমাণের প্রাবল্য বা preponderance of probabilities এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে আসামী এমন একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, যার ফলে consideration-এর আইনগত অনুমান খণ্ডিত হয়।

আসামী যখন সেই প্রাথমিক প্রমাণের ভার অতিক্রম করে consideration-এর অনুপস্থিতি বা ব্যর্থতার বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন, তখন বিষয়টি পুনরায় বাদীর প্রমাণের দায়িত্বের মধ্যে চলে আসে।

১২. রায়ের মূলনীতি বা Ratio Decidendi

এই রায়ের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত নীতি হলো:

Negotiable Instruments Act-এর ১৩৮ ধারার মামলায় আদালত কেবল চেকের কারিগরি সত্যতা, স্বাক্ষর বা ডিজঅনারের বিষয় দেখেই সিদ্ধান্ত দেবেন না। চেকের বিপরীতে প্রকৃত consideration ছিল কি না, সেই consideration বৈধ ছিল কি না এবং তা সম্পন্ন হয়েছে কি না, আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের আলোকে আদালত তা পরীক্ষা করতে পারেন।

এছাড়া ১১৮(ক) ধারার consideration-এর অনুমান একটি খণ্ডনযোগ্য আইনগত অনুমান। আসামী যদি preponderance of probabilities-এর ভিত্তিতে consideration-এর অনুপস্থিতি বা ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে সেই অনুমান খণ্ডিত হতে পারে।

আর consideration ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে ৪৩ ধারার বিধান প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ফলে কেবল চেক ডিজঅনার হয়েছে বলেই ১৩৮ ধারায় আসামীর অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

১৩. রায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

এই সিদ্ধান্ত Negotiable Instruments Act-এর ১৩৮ ধারার মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

রায়টি বিশেষভাবে দেখিয়ে দেয় যে, চেক ডিজঅনার মামলা কেবল যান্ত্রিকভাবে চেকের অস্তিত্ব ও ডিজঅনারের ওপর নির্ভরশীল নয়। চেকের পেছনে থাকা লেনদেন, consideration এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির বাস্তবতা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালত পরীক্ষা করতে পারেন।

বিশেষ করে, কোনো চেক যদি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের বিনিময়ে প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে সেই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে আসামী ১১৮(ক) ধারার আইনগত অনুমান খণ্ডনের জন্য সেই বিষয়কে প্রতিরক্ষা হিসেবে উত্থাপন করতে পারেন।

এই সিদ্ধান্ত একই সঙ্গে ১৩৮ ধারাকে Negotiable Instruments Act-এর অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বও তুলে ধরে।

১৪. রায়ে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহ

- Alauddin (Md) vs State, 24 BLC (AD) 139
- Shahidul Islam vs Bangladesh, 2 SCOB (2015) HCD 1
- Dalmia Cement (Bharat) Ltd. vs Galaxy Traders and Agencies Ltd., AIR 2001 SC 676
- Bharat Barrel and Drum Manufacturer Co. vs Amin Chand Payrelal, AIR 1999 SC 1008
- Mallavarapu Kasivisweswara Rao vs Thandikonda Ramulu Firm, AIR 2008 SC 2898
- Kundan Lal Rallaaram vs Custodian Evacuee Property, Bombay, AIR 1961 SC 1316
- Rameshwar Singh vs Bajit Lal, AIR 1929 PC 95
- Hiralal vs Badkulal, AIR 1953 SC 225

১৫. Reported Journal

25 BLC (AD) 115

সংক্ষেপে আইনি শিক্ষা

NI Act-এর ১৩৮ ধারার মামলায় চেক ডিজঅনার হওয়াই সবকিছু নয়।

চেকের বিপরীতে consideration-এর আইনগত অনুমান থাকলেও তা চূড়ান্ত নয়। আসামী যদি প্রমাণের প্রাবল্যের ভিত্তিতে দেখাতে পারেন যে চেকটি কোনো consideration ছাড়া দেওয়া হয়েছিল অথবা নির্ধারিত consideration পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়েছে, তাহলে ১১৮(ক) ধারার অনুমান খণ্ডিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৪৩ ধারার বিধান বিবেচনায় নিয়ে ১৩৮ ধারার অভিযোগের আইনগত ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

সুতরাং, চেকের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু চেক ও ব্যাংকের dishonour memo নয়, বরং চেক প্রদানের পেছনের মূল চুক্তি, consideration, লেনদেনের প্রকৃতি এবং আসামীর প্রতিরক্ষাও যথাযথভাবে পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Case Citation: Abul Kaher Shahin (Md) vs Emran Rashid and another, 25 BLC (AD) 115.

Advocate Al Mustashim Nobi Niku

" সম্পত্তি দান করলেও আজীবন (মৃত্যুর আগে পর্যন্ত) ভোগ করতে পারবেন মা-বাবা।"এ বিষয়ক আইন Transfer of Property (Amendment) A...
10/09/2026

" সম্পত্তি দান করলেও আজীবন (মৃত্যুর আগে পর্যন্ত) ভোগ করতে পারবেন মা-বাবা।"

এ বিষয়ক আইন Transfer of Property (Amendment) Act, 2026

80's
09/09/2026

80's

সম্পত্তি দান করেও দাতা রাখতে পারবেন আজীবন ভোগদখলের অধিকারসম্পত্তি দান করার পর দাতা কি জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তিতে বসবাস করত...
03/09/2026

সম্পত্তি দান করেও দাতা রাখতে পারবেন আজীবন ভোগদখলের অধিকার

সম্পত্তি দান করার পর দাতা কি জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তিতে বসবাস করতে পারবেন? সম্পত্তি থেকে আয় বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন? দান করার পরও কি নিজের ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করা সম্ভব?
বাংলাদেশের সম্পত্তি আইনে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে।
Transfer of Property Act, 1882 সংশোধনের মাধ্যমে নতুন Section 122A এবং Section 122B সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি/নানা-নানি সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করার সময় নিজেদের জন্য জীবদ্দশার ভোগদখল ও সম্পত্তির সুবিধা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।
সহজ ভাষায় বিষয়টি হলো, একজন বাবা তাঁর কোনো সন্তানকে একটি বাড়ি বা জমি দান করলেন। কিন্তু দলিলে তিনি যদি নিজের lifetime right of possession and enjoyment সংরক্ষণ করেন, তাহলে দানের পরও তাঁর জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তিতে বসবাস, ব্যবহার বা সম্পত্তি থেকে নির্ধারিত সুবিধা গ্রহণের অধিকার থাকতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন।
দানগ্রহীতার কাছে মালিকানা হস্তান্তর এবং দাতার ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ এক বিষয় নয়।
অর্থাৎ, সম্পত্তির ownership বা title দানগ্রহীতার কাছে যেতে পারে, কিন্তু দাতা তাঁর জীবদ্দশার জন্য possession, use and enjoyment-এর অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন। ফলে ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে দানপত্রের ভাষা অত্যন্ত সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
দান করার পর কি দাতা ইচ্ছামতো দান বাতিল করতে পারবেন?
প্রস্তাবিত Section 122B-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দানের পরবর্তী পরিবর্তন বা বাতিলের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা।
সাধারণভাবে নিবন্ধনের পর এ ধরনের দান অপরিবর্তনীয় হিসেবে গণ্য হবে। তবে আইন নির্ধারিত পরিস্থিতিতে দাতা ও দানগ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ আইনগতভাবে অক্ষম হলে District Judge-এর অনুমতির বিষয়টিও প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু মুখের কথায় বা পারিবারিক সমঝোতার ওপর নির্ভর না করে দলিলে দাতার অধিকারগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।
বিশেষ করে দলিলে প্রয়োজন অনুযায়ী উল্লেখ করা উচিত:
• দাতার জীবদ্দশায় বসবাসের অধিকার
• সম্পত্তির দখল ও ব্যবহার করার অধিকার
• ভাড়া বা অন্যান্য আয় গ্রহণের অধিকার
• সম্পত্তি থেকে উৎপন্ন সুবিধা ভোগের অধিকার
• দাতার মৃত্যুর পর এসব অধিকার কীভাবে শেষ হবে
• দানগ্রহীতার সম্পত্তি ব্যবহারের সীমা
• আইনসম্মতভাবে দান পরিবর্তন বা বাতিলের পরিস্থিতি
সতর্কতা
অনেক সময় পরিবারের মধ্যে বিশ্বাসের কারণে দানপত্রে প্রয়োজনীয় শর্ত স্পষ্টভাবে লেখা হয় না। পরবর্তীতে দাতা ও দানগ্রহীতার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে সেই অস্পষ্টতাই বড় আইনি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই সম্পত্তি দান মানেই শুধু মালিকানা হস্তান্তর নয়; দাতার ভবিষ্যৎ অধিকারও দলিলের মাধ্যমে সঠিকভাবে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।
আর একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি: Section 122A ও 122B-এর বিষয়টি সংশোধনী প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কার্যকর হওয়ার আগে এটিকে বর্তমান কার্যকর আইন হিসেবে প্রয়োগ করা উচিত নয়। সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পর এর চূড়ান্ত ভাষা, শর্ত ও প্রয়োগের ক্ষেত্র দেখে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সম্পত্তি জীবদ্দশায় সন্তান বা নাতি-নাতনিকে দিতে চান, কিন্তু নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সেই সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের অধিকারও রাখতে চান, তাহলে দানপত্র প্রস্তুতের সময় একজন অভিজ্ঞ সম্পত্তি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

30/08/2026
টাকা দিয়েছেন, চুক্তি করেছেন—তারপরই কি ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা হতে পারে?কারও সঙ্গে জমি উন্নয়ন, ব্যবসা, ফ্ল্যাট, বিনিয়োগ বা অন...
25/08/2026

টাকা দিয়েছেন, চুক্তি করেছেন—তারপরই কি ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা হতে পারে?

কারও সঙ্গে জমি উন্নয়ন, ব্যবসা, ফ্ল্যাট, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো চুক্তি করলেন। টাকা দিলেন। পরে চুক্তি বাস্তবায়িত হলো না, টাকা ফেরত পেলেন না, এমনকি সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি হয়ে গেল।

তাহলেই কি ৪০৬ বা ৪২০ ধারার ফৌজদারি মামলা হবে?

উত্তর: শুধু টাকা দেওয়া, চুক্তি ভঙ্গ হওয়া বা টাকা ফেরত না দেওয়াই যথেষ্ট নয়।

ধারা ৪২০-এর ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, টাকা নেওয়ার সময় থেকেই অপর পক্ষের প্রতারণামূলক বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না। অর্থাৎ শুরুতেই প্রতারণার উদ্দেশ্য না থাকলে পরবর্তীতে চুক্তি ব্যর্থ হওয়া বা প্রতিশ্রুতি পালন না করাই সাধারণত ৪২০ ধারার অপরাধ প্রমাণ করে না।

ধারা ৪০৬-এর ক্ষেত্রে দেখতে হবে, আপনার কোনো অর্থ বা সম্পত্তি অপর পক্ষের কাছে আইনগতভাবে entrusted হয়েছিল কি না এবং পরে সে তা অসাধুভাবে আত্মসাৎ বা নিজের ব্যবহারে নিয়েছে কি না। শুধু “আমার টাকা ফেরত দেয়নি” বললেই criminal breach of trust হয়ে যায় না।

সহজভাবে মনে রাখুন:

৪২০: টাকা নেওয়ার সময় থেকেই কি প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল?

৪০৬: অর্পিত অর্থ বা সম্পত্তি কি পরে অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে?

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের G. Saminathan & Another v. The State & Another, 2026 INSC 772, সিদ্ধান্তে বিষয়টি আবারও গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। মামলাটিতে একটি Joint Development Agreement-এর অধীনে ₹৩ কোটি refundable security deposit দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া, টাকা ফেরত না দেওয়া এবং সম্পত্তি বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট FIR ও chargesheet-এর অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে প্রয়োজনীয় ফৌজদারি উপাদান prima facie প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং বিরোধটি মূলত contractual/civil nature-এর। ফলে ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করা হয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে চুক্তির মাধ্যমে টাকা নেওয়া হলে কখনোই ৪০৬/৪২০ হতে পারে না। যদি প্রমাণ থাকে যে শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল, অথবা আইনগতভাবে অর্পিত সম্পত্তি পরে অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে, তাহলে ফৌজদারি দায় সৃষ্টি হতে পারে।

আবার উল্টো দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার বিরুদ্ধে ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে মানেই আপনি অপরাধী নন। অভিযোগে শুধু “প্রতারণা”, “আত্মসাৎ” বা “বিশ্বাসভঙ্গ” শব্দ থাকলেই হবে না। সেই শব্দগুলোর পেছনে প্রয়োজনীয় আইনগত উপাদান ও নির্দিষ্ট factual foundation থাকতে হবে।

তাই কোনো মামলায় শুধু ধারার নম্বর দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দেখতে হবে:

• টাকা কেন দেওয়া হয়েছিল?
• চুক্তির শর্ত কী ছিল?
• টাকা নেওয়ার সময় অপর পক্ষের উদ্দেশ্য কী ছিল?
• কোনো সম্পত্তি বা অর্থ কি entrust করা হয়েছিল?
• পরবর্তীতে ঠিক কী ঘটেছে?
• প্রতারণা বা আত্মসাতের নির্দিষ্ট ঘটনা কোথায়?
• বিরোধটি প্রকৃতপক্ষে criminal, নাকি contractual/civil?

কারণ চুক্তি ভঙ্গ এবং ফৌজদারি প্রতারণা এক বিষয় নয়।

একই ঘটনার ক্ষেত্রে দেওয়ানি দায় থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিটি দেওয়ানি বিরোধকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া যায় না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুক্তির আড়ালেই প্রকৃত প্রতারণা বা আত্মসাৎ থাকতে পারে।

সুতরাং, মামলায় কোন ধারা দেওয়া হয়েছে সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়; সেই ধারার প্রতিটি আইনগত উপাদান ঘটনার সঙ্গে বাস্তবে মেলে কি না, সেটিই আসল প্রশ্ন।

Case: G. Saminathan & Another v. The State, Represented by the Sub-Inspector of Police & Another
Citation: 2026 INSC 772
Date: 31 July 2026
Supreme Court of India

আইনের ভাষায় একটি ধারা শুধু একটি অভিযোগ। কিন্তু একজন মানুষের জন্য সেই অভিযোগ হতে পারে স্বাধীনতা, সম্পত্তি ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাই ধারার নাম নয়, ঘটনার প্রকৃত আইনগত চরিত্র বুঝেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

[অ্যাডভোকেট আল মুস্তাসিম নবী নিকু]

যথাযথ সমন জারির প্রমান থাকলে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্টের রায়________________________________Ci...
20/08/2026

যথাযথ সমন জারির প্রমান থাকলে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্টের রায়
________________________________
Civil Revision No. 72 of 2012
Judgement Date: 21.07.2026

09/08/2026

ফাঁকা চেকে ইচ্ছেমতো টাকা বসিয়ে মামলা? আইনি লড়াইয়ের সুযোগ আছে

ঋণ বা আর্থিক লেনদেনের সময় অনেক ক্ষেত্রে জামানত হিসেবে স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই চেকে ইচ্ছেমতো অঙ্ক বসিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা এবং Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করার অভিযোগও দেখা যায়।
তবে কোনো চেকে শুধু স্বাক্ষর রয়েছে বলেই তার ধারক যে দাবি করেছেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য প্রমাণিত হয় না। বিশেষ করে চেকটি কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, চেকে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, দাবিকৃত অর্থের প্রকৃত ভিত্তি কী এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেন আদৌ সংঘটিত হয়েছিল কি না, এসব বিষয় আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে চেকের লেখার ধরন, কালি, স্বাক্ষর ও অন্যান্য অংশের মধ্যে অসামঞ্জস্য এবং পরবর্তীতে চেক পূরণের অভিযোগকে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ক্ষেত্রে ৫৬ DLR, ৭১ DLR ও ৭৫ DLR-এ প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো মামলার প্রকৃতি ও নির্দিষ্ট তথ্যের আলোকে বিবেচনা করা যেতে পারে।
এ ছাড়া সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৫ বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণের সুযোগ প্রদান করে। তাই কোনো পক্ষ যদি দাবি করে যে চেকের স্বাক্ষর তার হলেও চেকের অন্যান্য অংশ পরবর্তীতে অন্য কেউ পূরণ করেছে, তাহলে মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী হাতের লেখা, কালি বা স্বাক্ষর সংক্রান্ত ফরেনসিক/বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার আবেদন করার বিষয়টি আইনজীবীর পরামর্শে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি একাই কোনো মামলার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না, আবার ভিন্ন কালি বা হাতের লেখা দেখালেই চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। আদালত মামলার সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, লেনদেনের প্রকৃতি, চেক প্রদানের উদ্দেশ্য এবং পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সুতরাং, ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করে দেওয়ার পর সেটির অপব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে কেউ মনে করলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। চেকের মূল কপি, ব্যাংক রেকর্ড, লেনদেনের প্রমাণ, চেক দেওয়ার সময়কার যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করে আইনসম্মত উপায়ে যথাযথ প্রতিরক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

অভিনন্দনসুপ্রিম কোর্টে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ।
30/07/2026

অভিনন্দন
সুপ্রিম কোর্টে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Al Mustashim Nobi Niku posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category