14/08/2026
২২ জুলাই ২০২৬ বিদ্যুৎমন্ত্রী ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে পরিচালনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যুতের tariff এখনও BERC-এর regulatory framework-এর অধীন।
বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে: প্রশ্নটা “বেসরকারি” নয়, প্রশ্নটা “নিয়ন্ত্রণ” নিয়ে
সরকার ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম বেসরকারি খাতে পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সরকারের যুক্তি—এতে জবাবদিহিতা, সেবার মান ও বিল আদায়ের দক্ষতা বাড়বে।
বেসরকারি খাত মানেই খারাপ—এ কথা বলা যায় না। বরং দক্ষ private management অনেক ক্ষেত্রে সেবার মান বাড়াতে পারে।
কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ একটি সাধারণ ব্যবসা নয়। এটি একটি essential service এবং distribution network অনেকাংশেই natural monopoly-এর বৈশিষ্ট্য বহন করে।
চাল-ডালের দোকানে দাম বেশি হলে আপনি পাশের দোকানে যেতে পারেন। কিন্তু আপনার এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর network যদি একটি নির্দিষ্ট operator-এর হাতে থাকে, তাহলে আপনি ইচ্ছামতো অন্য কোম্পানির খুঁটি-তার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ নিতে পারবেন না।
তাই মূল প্রশ্ন হলো—
Private company কে বিদ্যুৎ বিতরণ করবে—এটা একমাত্র প্রশ্ন নয়।
মূল প্রশ্ন হলো:
সেই private operator-কে নিয়ন্ত্রণ করবে কে?
তার tariff কে নিয়ন্ত্রণ করবে?
অতিরিক্ত বিল হলে ভোক্তার প্রতিকার কী?
বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে compensation থাকবে কি?
নির্ধারিত service standard পূরণ না করলে কোম্পানির বিরুদ্ধে কী শাস্তি হবে?
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কি সত্যিই স্বাধীনভাবে সেই private operator-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে?
যুক্তরাজ্যের উদাহরণটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বিদ্যুৎ distribution network private operators-এর মাধ্যমে পরিচালিত হলেও Ofgem-এর মতো শক্তিশালী regulator রয়েছে। নির্দিষ্ট service standard পূরণ না হলে consumers-এর জন্য compensation-এর ব্যবস্থাও আছে। ২০২৬–২৭ regulatory year-এর জন্য Ofgem Guaranteed Standards of Performance-এর payment amounts-ও নির্ধারণ করেছে।
অর্থাৎ—
Private ownership + strong regulation = কাজ করতে পারে।
কিন্তু—
Private monopoly + দুর্বল regulation = ভোক্তার জন্য বড় ঝুঁকি।
বাংলাদেশেও বিদ্যুতের tariff নির্ধারণে BERC-এর regulatory ভূমিকা রয়েছে। ২০২৬ সালে BERC public hearing-এর মাধ্যমে distribution companies-এর retail electricity tariff পুনর্নির্ধারণ করেছে।
সুতরাং বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ বিতরণ দেওয়ার আগে আমাদের দাবি হওয়া উচিত—
১. স্বাধীন ও শক্তিশালী regulator নিশ্চিত করতে হবে।
২. Tariff নির্ধারণের পদ্ধতি স্বচ্ছ করতে হবে।
৩. অস্বাভাবিক বিলের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর consumer remedy থাকতে হবে।
৪. দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে বাধ্যতামূলক compensation-এর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৫. Service quality-এর measurable standard নির্ধারণ করতে হবে।
৬. সেই standard ভঙ্গ করলে private operator-এর ওপর কার্যকর financial penalty আরোপ করতে হবে।
৭. দীর্ঘমেয়াদি concession বা distribution agreement হলে তার শর্ত জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে।
বিদ্যুৎ কোনো বিলাসপণ্য নয়। মানুষের জীবন, ব্যবসা, শিক্ষা, হাসপাতাল—সবকিছু এর সঙ্গে জড়িত।
তাই প্রশ্নটা “সরকারি না বেসরকারি?”—এখানেই শেষ হওয়া উচিত নয়।
আসল প্রশ্ন:
“যে-ই বিদ্যুৎ বিতরণ করুক, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার মতো স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কি আমরা নিশ্চিত করতে পারছি?”
বেসরকারিকরণ করা হলে ব্যবসায়িক দক্ষতা যেন আসে, কিন্তু জনগণের জবাবদিহিতা যেন হারিয়ে না যায়।
#বিদ্যুৎ #বিদ্যুৎবিতরণ