24/08/2026
নিরাময়-অযোগ্য রোগীদের জন্য ফ্রান্সে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো ‘মৃত্যু সহায়তা’ আইন!
ফ্রান্সে অনিরাময়যোগ্য ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের নির্দিষ্ট শর্তে ‘মৃত্যুতে সহায়তা’ পাওয়ার অধিকার দিয়ে নতুন আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ আইনটি বহাল রাখার পর এটি সরকারি গ্যাজেটে প্রকাশিত হয়।
আইন অনুযায়ী, যোগ্য রোগীর ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসক প্রথমে তার যোগ্যতা যাচাই করবেন। অনুমোদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু করার আগে রোগীকে কমপক্ষে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং নির্ধারিত দিনে তাকে আবার নিজের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোগী যেকোনো সময় সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন। সাধারণভাবে রোগীকেই প্রাণঘাতী উপাদানটি নিজ হাতে গ্রহণ করতে হবে। তবে শারীরিকভাবে তা করতে অক্ষম হলে একজন স্বাস্থ্যকর্মী তাকে সহায়তা করতে পারবেন।
এর আগে ফ্রান্সে লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার এবং মৃত্যুর আগে গভীর চেতনানাশকের মতো চিকিৎসা পদ্ধতি বৈধ ছিল, কিন্তু সক্রিয়ভাবে মৃত্যুর প্রক্রিয়ায় সহায়তার সুযোগ ছিল না। নতুন আইনের ফলে ফ্রান্স এখন নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হলো, যেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা কোনো না কোনোভাবে বৈধ।
তবে আইনটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা জারোম লেজুন ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আইনটি সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সমালোচকদের আরও দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্ধারিত দুই দিনের ন্যূনতম সময় খুবই কম।
ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ আইনটি বাতিল না করলেও কয়েকটি বিধান স্পষ্ট করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘বিবেক সংক্রান্ত ধারা’, যার মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা ব্যক্তিগত বা নৈতিক কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
এমনকি বেসরকারি ও ধর্মভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এ প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। তবে কোনো এলাকায় যদি সেটিই স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান হয়, তাহলে এই অধিকার প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা থাকবে।
মূল বক্তব্য: ফ্রান্স দীর্ঘ বিতর্কের পর নির্দিষ্ট কঠোর শর্তে অনিরাময়যোগ্য ও অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগা রোগীদের ‘মৃত্যুতে সহায়তা’র আইনি অধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর সম্মতি, চিকিৎসকের যাচাই এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিবেকগত আপত্তির অধিকারও আইনে রাখা হয়েছে।