Smart Tax and Legal Care

Smart Tax and Legal Care আমরা ইনকাম ট্যাক্স ও ই-টিন সংক্রান্ত সকল সেবা দিয়ে থাকি।দেওয়ানী-ফৌজদারি ও আইনগত পরামর্শ দেয়া হয় । ফোন নং: 01711261424 Legal and Tax Service provider.

পাঁচ লক্ষ-(৫,০০ ০০০/-) টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্র...
16/02/2026

পাঁচ লক্ষ-(৫,০০ ০০০/-) টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026


প্রেম করে বিয়ের অপরাধে অপহরণের মামলা ও তার আইনী ফলাফলএডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:আপনি ভালবেসে বিয়ে করেছেন। কিন্তু আপনার শশুড়...
05/02/2026

প্রেম করে বিয়ের অপরাধে অপহরণের মামলা ও তার আইনী ফলাফল
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:

আপনি ভালবেসে বিয়ে করেছেন। কিন্তু আপনার শশুড় শাশুড়ী ও তাদের আত্মীয় স্বজন এ বিয়েতে রাজী নন। তারা আপনার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছেন। আপনি নাকি ফুসলিয়ে মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন। কন্যার পরিবারের পিতা, মাতা বা আত্মীয় স্বজন যে কেউ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা করেছেন। কন্যার ভালবাসাকে তারা মূল্যায়ন করছেন না। এ জাতীয় মামলার শিকার হলে আপনার চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এ মামলায় আপনি লড়ে গেলে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

একটি কেস স্টাডি দিয়েই লেখাটি শুরু করতে চাই। গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের পরিপাটি চেহারার ভদ্রলোক মামলা করেছেন থানায়। আসামী একজন তরুণ স্কুল শিক্ষক। ভদ্রলোকের অভিযোগ, শিক্ষক বেচারা ভদ্রলোকের স্কুল পড়ুয়া নাবালিকা মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। অপরাধ খুবই গুরুতর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যুবক শিক্ষক অপরাধ করেছে বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়লে সহসা জামিনের আশা নেই। কারণ, প্রথমত জামিন অযোগ্য ধারার অপরাধ, দ্বিতীয়ত এ মামলায় জামিন দেয়ার এখতিয়ার সাধারণত নিম্ন আদালতের নেই। সে কারণে অভিযোগকারী ভদ্রলোক মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন আসামীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে শিক্ষক বেচারা গা-ঢাকা দিয়েছে। বাড়িতে আছেন কেবল যুবক স্কুল শিক্ষকের মা-বাবা এবং কথিত অপহরণ করা কিশোরী মেয়েটি। পুলিশ আসামীর বাড়ি থেকে মেয়েটি অর্থাৎ ভিকটিমকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করে। ভিকটিম মেয়েটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দিতে স্বীকার করে যে, সে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, অন্যের বিনা প্ররোচনায়, সুস্থ মস্তিষ্কে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ে করে সংসার করছেন। অন্যদিকে পুলিশ এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় নারী ও শিশু অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো নারী বা শিশুকে অপহরণ করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা অন্যূন ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবে।

বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ৩৬১ ধারায় পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পুরুষের ক্ষেত্রে ১৪ বছরের কম বয়স্ক অথবা নারীর ক্ষেত্রে ১৬ বছরের কম বয়স্ক কোনো নাবালিকাকে আইনানুগ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নিয়ে যায়, সেই ব্যক্তি অনুরূপ নাবালক বা নাবালিকাকে অপহরণ করেছে বলে গণ্য হবে।' এখানে উল্লেখ্য, দন্ডবিধির এ ধারায়' স্বেচ্ছায়', 'স্বজ্ঞান', 'অসাধুভাবে', 'অন্যের বিনা প্ররোচনায়', 'সুস্থ মস্তিষ্ক' ইত্যাদি শব্দের কোনো রকম ব্যবহার করা হয়নি। তবে বয়সের সীমারেখা বেঁধে দেয়া রয়েছে। যেমন মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর। তাহলে ১৬ বছর বয়সের নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যৌন মিলনকে এ আইন স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আমাদের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট হানিফ সেখ বনাম আছিয়া বেগম মামলা, যা ৫১ ডিএলআরের ১২৯ পৃষ্ঠায় এবং অন্য একটি মামলায়, যা ১৭ বিএলটিএর ২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, ১৬ বছরের অধিক কোনো মেয়েকে যদি কোনো পুরুষ বিয়ের প্রলোভন দিয়ে যৌনকর্ম করে তা হলে তা ধর্ষণের নামান্তর হবে না।

কোনও পুরুষ যদি ১৪ বছর কিংবা ১৪’র অধিক বয়সের কোনও নারীর সাথে (পারস্পরিক সম্মতিতে) যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তাকে দ-বিধি অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে না। তবে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তাকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে। কারণ ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও নারী যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দিতে পারে না। দ-বিধির ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী স্ত্রী ব্যতিত ১৪ বৎসরের কম বয়স্ক কোনও নারীর সাথে তার সন্মতিক্রমেও যৌনকর্ম করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হয়।

উপরের দুটি আইন বিশ্লেষণে আমরা যা পাই তাহলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দেবার বয়স ১৬ বছর। আর দ-বিধি অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স পূর্ণ হলে একটি মেয়ে কোনও পুরুষকে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য সম্মতি দিতে পারে। অথচ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী নারীর ১৮ বছরের আগে বিয়ে করার অধিকার নেই।

যেহেতু এজাহারটি হয়েছে অপহরণের এবং পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে, অন্যদিকে মেয়েটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারার বিধান মতে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে যে, সে স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং অন্যের বিনা প্ররোচনায় স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে চলে গিয়ে বিয়ে করেছে। তাই আইনের বিধান অনুযায়ী এ মামলায় চার্জ শুনানির মাধ্যমে মামলা থেকে ছেলেটির অব্যাহতি লাভের সুযোগ রয়েছে এটা পরিষ্কার।
কেননা ভিকটিম মেয়েটির বয়স ১৯ বছর, আইন মতে সে সাবালিকা। আইনের বিধান মতে, ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোনো মেয়ে তার নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। পাশাপাশি পুলিশ যেসব সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দিয়েছে তা আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না। কারণ এখানে মূল সাক্ষী ভিকটিম মেয়েটি নিজে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে সেটিই প্রাধান্য পাবে এ মামলায় এবং সেটাই বিবেচ্য বিষয়। আর মেয়েটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে স্বেচ্ছায় স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে চলে গেছে। মামলাটির চার্জ শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য হলো। আসামীর আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ (গ) ধারার বিধান মতে এ মামলা থেকে আসামীকে অব্যাহতি লাভের আবেদন জানালেন এবং আদালতে যে যুক্তি উপস্থাপন করলেন, সেটা এরকম যেঃ
১. ভিকটিম স্বেচ্ছায় আসামীর সঙ্গে গেছে। সে মতে এটা কখনোই অপহরণ হতে পারে না।
২. ভিকটিমের বয়স ১৯ বছর, সে নিজেই নিজের ভালো-মন্দ বুঝে ও জানে। সুতরাং তাকে ভুল বুঝিয়ে নেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অবান্তর।
৩. ভিকটিম নিজে ২২ ধারার জবানবন্দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বেচ্ছায় যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সে কারণে পুলিশের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক চার্জশিট ভিত্তিহীন এবং অকার্যকর।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ (গ) ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘মোকদ্দমার নথি ও তৎসহ দাখিলি দলিলাদি বিবেচনা এবং তৎসম্পর্কে আসামি ও অভিযোগকারীর পক্ষের বক্তব্য শ্রবণের পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামির বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চালাইবার কোনো পর্যাপ্ত হেতু নাই, তাহলে আদালত আসামিকে অব্যাহতি দেবেন ও তদ্রুপ করিবার কারণ লিপিবদ্ধ করিবেন।’

অবশেষে বিচারক মহোদয় এই মর্মে আদেশ দেন যে, আসামি উল্লেখিত ধারায় কোনো প্রকার অপরাধ সংঘটন করেনি। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের বিধান মতে, অপহরণ মামলার কোনো উপাদান এখানে বিদ্যমান নেই। তাই আসামির বিরুদ্ধে ওই মামলা চলতে পারে না এবং সে মতে আসামীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ (গ) ধারা মতে অত্র মামলা দায় হতে অব্যহতি প্রদান করা হলো।

কাজেই কোন প্রেমিক পুরুষ যদি এ ধরণের মামলার শিকার হন, ভয় না পেয়ে মামলায় লড়ে যান, জয় আপনার অবশ্যম্ভাবী।

প্রাসঙ্গিক আইন ও বিশ্লেষণঃ
একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগ্রন্থ সে দেশের সংবিধান। আমাদের সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। আবার ২৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্র বৈষম্যমূলক বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারে। এদিকে ১৮ বছর বয়সী যে কোন নারী পুরুষ সাবালক-সাবলিকা হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম উঠছে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন, নিজের মতামত প্রকাশ করছেন। অথচ জীবন সঙ্গী নির্বাচনে পুরুষের বয়স হতে হচ্ছে ২১ বৎসর।

দ-বিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের মধ্যে বিয়ের বয়স নিয়ে বিরোধ আছে। এ বিরোধের ফলে একটি মেয়েকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন, প্রেমঘটিত কারণে কোনও কিশোরী যদি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তার প্রেমিককে বিয়ে করে তবে মেয়ের অভিভাবক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উক্ত প্রেমিক এবং তার অভিভাবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ বা ধর্ষণ অথবা উভয় ধরণের মামলা করে এ অজুহাতে যে, তাদের মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক। মামলা হবার পর মেয়েটিকে নিয়ে তার অভিভাবক, পুলিশ এবং তার প্রেমিক পক্ষের লোকজনদের মধ্যে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। এর পরিণতিতে মেয়েটিকে প্রায়শঃ নিরাপদ হেফাজতের নামে জেলখানায় যেতে হয়।

স্বেচ্ছায় বাল্যবিবাহকারী কিংবা বাল্যবিবাহের শিকার একটি মেয়ে যতকাল প্রাপ্তবয়স্কা না হবে তত কাল তাকে নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য জেলে রাখার আদেশ দিতে পারে আদালত। এর ফলে হাজার হাজার মেয়ে দিনের পর দিন জেল খাটছে। আবার পুরুষের বিয়ে করার অধিকার তৈরি হয় ২১ বছরে। তবে কম বয়সে বিয়ে করলেও ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরুষকে জেলে থাকতে হয় না। অথচ অল্প বয়সে কোনও মেয়ের বিয়ে হলে যতদিন না তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয় ততদিন সেই মেয়েটিকে জেলে থাকতে হয়। অথচ ধর্মীয় বিশ্বাস বলছে, তুমি যদি যৌনতা চাও তবে বিয়ে কর। বয়স কোনও বিষয় নয়। সুরা নিসা বলছে ‘শিশুরা যখন স্বপ্নে বীর্যপাত করে তখন তাদের শৈশব অতিক্রম করে সাবালকের সীমায় পৌছে যায়।’

আমাদের আইন, রাষ্ট্র, সংবিধান ও সামাজিক আচরণে আজব সব বৈপরীত্য! পৃথিবীর তাবৎ সহানুভূতি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতি; সাহিত্যে, কলায়, রসবোধে, জীবনের সর্বত্র কিশোর প্রেমকে উপজীব্য করা হচ্ছে; তরুণ মনস্তত্ব ও মূল্যবোধকে প্রেমের প্রতি সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অথচ নরনারীর প্রেমবোধের বিজ্ঞানকেই অস্বীকার করা হচ্ছে। অবৈজ্ঞানিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আইনে মানুষকে বেধে ফেলার উপকার ও অপকারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য আইনজ্ঞ, বিজ্ঞজনদের প্রতি অনুরোধ রইল।

একুশ শতকের দোরগোড়ায় যেখানে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে মহাকাশেও পা বাড়িয়েছি, সেখানে আজও নারী-পুরুষের অধিকার, তাদের ইচ্ছাকে বেধে রেখে দিয়েছি। যৌনতাকে এখনও আমরা মানবিকতার চোখে দেখি না, এটা খুবই কঠোর বাস্তব।

লেখকঃ সিরাজ প্রামাণিক ,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইনগবেষক।

🔴 বাংলাদেশ যেভাবে জিতেও হেরে গেলো আন্তর্জাতিক আদালতে:নাইকো কানাডা বনাম বাংলাদেশকিছু পরাজয় থাকে যেখানে হারটা চোখে পড়ে ন...
01/02/2026

🔴 বাংলাদেশ যেভাবে জিতেও হেরে গেলো আন্তর্জাতিক আদালতে:
নাইকো কানাডা বনাম বাংলাদেশ

কিছু পরাজয় থাকে যেখানে হারটা চোখে পড়ে না।
কাগজে-কলমে বিজয় লেখা থাকলেও লং টার্ম ইম্প্যাক্ট হয় পরাজয়।
নাইকো কানাডা বনাম বাংলাদেশ মামলাটা ঠিক তেমনই এক পরাজয়ের নাম।

দীর্ঘ ২০ বছর লড়াই করার পর গত ডিসেম্বর মাসে International Centre for Settlement of Investment Disputes (ICSID) নাইকো কানাডাকে ৫১২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়। যেখানে বাংলাদেশের দাবি ছিল ১২,৩৭১ কোটি টাকা। এটি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার এক দীর্ঘ দলিল।

নাইকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ ছিল।
দোষ স্বীকার ছিল।
বিদেশি আদালতের রায় ছিল।
তবুও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কাঙ্খিত রেজাল্ট পেতে ব্যর্থ হলো।

🔹 শুরুটা যেভাবে হয়েছিল
২০০৩ সাল। বাপেক্স আর কানাডার নাইকো রিসোর্সেসের বাংলাদেশি সাবসিডিয়ারির মধ্যে একটি Joint Venture Agreement স্বাক্ষর হয়। লক্ষ্য—ফেনী আর ছাতক গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন। দুই বছর পর, ২০০৫ সালে, ছাতকে ঘটে যায় ভয়াবহ ব্লো-আউট।
নাইকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তদন্ত শুরু হয়—
বাংলাদেশে দুদক,
কানাডায় RCMP,
আর যুক্তরাষ্ট্রে FBI।
এটা তখন আর শুধু গ্যাস উত্তোলন আর বাণিজ্যিক ছিল না।
এটা হয়ে ওঠে টাকা, ডিপ্লোম্যাসি আর আইনের লড়াই।

🔹 বাংলাদেশের পরাজয়ের ক্ষতিয়ান
নাইকো ICSID আদালতে মামলা করল দুইটি দাবিতে—
১️ “আমরা গ্যাস দিয়েছি, টাকা দাও।”
২️ “ব্লো-আউট আমাদের দোষ না, ক্ষতিপূরণ দেব না।”

১ম পরাজয় ২০১৩ সালে, যখন বাংলাদেশ ICSID-এর এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে বলল—এই মামলা শুনানির এখতিয়ার নাই। ট্রাইব্যুনাল বললো—আছে।

২য় পরাজয় ২০১৪ সালে। ট্রাইব্যুনাল রায় দিলো—নাইকো তাদের সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম পাবে। প্রায় ২৫.৩ মিলিয়ন ডলার, সঙ্গে বাংলাদেশি টাকাও। বাংলাদেশের আইনজীবী দুর্নীতির প্রশ্ন তুলল। ট্রাইব্যুনাল বললো—এটা আলাদা করে দেখা হবে। এই ‘আলাদা করে দেখা’-ই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ফাঁদে পা দেওয়া।

৩য় পরাজয় ২০১৫ সালে। বাংলাদেশ চাইল—দুর্নীতির রায় না হওয়া পর্যন্ত নাইকোর চুক্তিবদ্ধ পাওনা টাকা স্থগিত থাকবে। ট্রাইব্যুনাল সাথে সাথে নাকচ করে দিল।

৪র্থ পরাজয় ২০১৭ সালে। নাইকো Deloitte & Touche তদন্ত সংস্থাকে দিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছিল তাদের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে। বাংলাদেশ নাইকোকে সেই তদন্ত রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলল। কারণ ওটাই হতে পারতো দুর্নীতির সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ।

কিন্তু নাইকোর আইনজীবী ডকট্রিন অব ওয়ার্ক প্রোডাক্ট (আইনজীবী তার মক্কেলের জন্য যে দলিলাদি তৈরি করে তা আদালতে উপস্থাপন করতে বাধ্য করা যাবে না) ব্যবহার করে ট্রাইব্যুনালকে কনভিন্স করে ফেলল।

৫ম পরাজয় ২০১৯ সালে, যখন দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরেও ICSID বললো—কেবল দুর্নীতি চুক্তি বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়। অতএব, নাইকোর চুক্তিবদ্ধ পেমেন্ট বন্ধ করা যাবে না।
🔴 শেষ পরাজয়
শেষ পরাজয় ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর মাসে। নাইকোকে ৫১২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দেওয়া হয়। যেখানে বাংলাদেশের দাবি ছিল ১২,৩৭১ কোটি টাকা।
দীর্ঘ ২০ বছরের আইনি লড়াই, গ্যাসফিল্ডের স্থায়ী ক্ষতি, আন্তর্জাতিক লেভেলে লবিস্ট নিয়োগ থেকে শুরু করে রায় হওয়া অবধি যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা ৫১২ কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি।

লেখক:
ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি ও এআই ল’য়ার

কতো হবে?
31/01/2026

কতো হবে?

ইন্টারভিউ চলছে......পিয়ন লিস্ট অনুযায়ী এক এক করে নাম ডাকছে।এবার গলা হেঁকে ডাকলো: টিয়া বারিক।আরও একবার ডাকলো: টিয়া বার...
31/01/2026

ইন্টারভিউ চলছে......
পিয়ন লিস্ট অনুযায়ী এক এক করে নাম ডাকছে।
এবার গলা হেঁকে ডাকলো: টিয়া বারিক।
আরও একবার ডাকলো: টিয়া বারিক।
কিন্তু, কারোর কোনো পাত্তা নেই।
বারেবারে টিয়া বারিক, কিন্তু না, খবর নাই।
বস'কে জানালে...
বস বললেন: হয়তো পরে আসতে পারে, কিছুক্ষণ পরে আবার ডাক দিও।
একঘন্টা পরে পিয়ন মহাশয় আবার: টিয়া বারিক।
ইন্টারভিউ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আবারও পিয়ন ডাকলেন: টিয়া বারিক। কারো সারা নাই।
বস এবার স্বয়ং বেরিয়ে এসে ডাকতে শুরু করলেন: টিয়া বারিক। কারো সারা শব্দ নেই।
বাধ্য হয়ে বস এবার নামটি কাটবার জন্য পিয়নের হাত থেকে লিস্টটি নিয়ে টিয়া বারিকের সিরিয়াল নম্বর দেখিয়ে দিতে বললেন।
পিয়ন মহাশয় সিরিয়াল দেখালেন।
নামটি দেখে বসের চক্ষু চড়কগাছ,
লিস্টের মাঝ বরাবর লেখা রয়েছে....
TEA BREAK 🤯🤯🤯🙉

♥- - - - - - - সমাপ্ত - - - - - - - -♥

আবার ও আয়কর রিটার্ন দাখিল এর সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি 2026 পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
29/01/2026

আবার ও আয়কর রিটার্ন দাখিল এর সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি 2026 পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি আদেশ।
26/01/2026

নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি আদেশ।

ষষ্ঠ তফসিল
25/01/2026

ষষ্ঠ তফসিল

কাউকে দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিতে চান কিংবা কেউ মিথ্যা বলছে কিনা ধরতে চান? এর জন্য সাইকোলজিস্ট হওয়ার দরকার নেই। এই ১০টি ডা...
21/01/2026

কাউকে দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিতে চান কিংবা কেউ মিথ্যা বলছে কিনা ধরতে চান? এর জন্য সাইকোলজিস্ট হওয়ার দরকার নেই। এই ১০টি ডার্ক হ্যাক জানলে আপনি মানুষের ব্রেইন হ্যাক করতে পারবেন।

সাইকোলজি বা মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝাটা একটা সুপারপাওয়ারের চেয়ে কম কিছু না। আমরা অজান্তেই প্রতিদিন ম্যানিপুলেশনের শিকার হই। তাই গেমের রুলসগুলো জেনে রাখা ভালো হয়তো আপনি জিতবেন, নয়তো অন্তত কেউ আপনাকে ঠকাতে পারবে না।

দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে এমন ১০টি সাইকোলজিকাল হ্যাক এখানে দিলাম।

- The Power of Silence
কারও কথা শুনে যদি মনে হয় সে মিথ্যা বলছে বা পুরো সত্যটা বলছে না, তবে পাল্টা প্রশ্ন করবেন না। শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকুন (Make eye contact and stay silent)। এই নীরবতা তাকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলবে এবং সে সেই অকওয়ার্ড সাইলেন্স ভাঙার জন্য গড়গড় করে বাকি সত্যটাও বলে দেবে।

- The Benjamin Franklin Effect
কাউকে দিয়ে নিজেকে পছন্দ করাতে চান? তার জন্য বড় কিছু করার দরকার নেই। উল্টো তার কাছেই খুব ছোট একটা ফেভার বা সাহায্য চান (যেমন: ভাই, আপনার কলমটা একটু দেবেন? বা বইটা একটু ধার দেবেন?)। সাইকোলজি বলে, আমরা যখন কারও উপকার করি, তখন সাবকনশাসলি আমরা তাকে পছন্দ করতে শুরু করি যাতে আমাদের ব্রেইন জাস্টিফাই করতে পারে কেন আমরা তাকে সাহায্য করলাম।

- Calmness is the Best Revenge
কেউ যদি আপনার ওপর রেগে চিৎকার করে, আপনি পাল্টা চিৎকার করবেন না। একদম শান্ত থাকুন এবং নরমাল টোনে কথা বলুন। আপনার এই অস্বাভাবিক শান্ত আচরণ তার রাগ আরও বাড়িয়ে দেবে প্রথমে, কিন্তু পরে সে নিজেই গিল্টি ফিল করবে। তর্ক না করেও জেতার এটাই সেরা উপায়।

- The Illusion of Choice for Kids or Colleagues
কাউকে কোনো কাজ করতে বললে তারা 'না' করতে পারে। তাই তাদের অর্ডার না দিয়ে অপশন দিন। যেমন বাচ্চাকে দুধ খাবে? না বলে বলুন, তুমি কি লাল মগে দুধ খাবে নাকি নীল মগে? এমপ্লয়িকে বলুন, রিপোর্টটা কি দুপুরে দেবেন নাকি বিকেলে? এতে তারা মনে করে সিদ্ধান্তটা তারাই নিচ্ছে, কিন্তু আসলে আপনি যা চাচ্ছেন সেটাই হচ্ছে।

- Chewing Gum to Kill Nervousness
ইন্টারভিউ বা প্রেজেন্টেশনের আগে খুব টেনশন হচ্ছে? চুইংগাম চিবুতে শুরু করুন। আমাদের ব্রেইন এমনভাবে ওয়্যারড যে, আমরা যখন খাই তখন ব্রেইন সিগন্যাল পায় আমি নিরাপদ আছি, কারণ বিপদে থাকলে আমি খেতাম না। এটা নার্ভাসনেস কাটানোর অন্যতম সেরা বায়োলজিকাল হ্যাক।

- The Mirroring Technique
কারও সাথে ভালো সম্পর্ক গড়তে চাইলে কথা বলার সময় তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভঙ্গি হালকাভাবে কপি করুন। সে যদি টেবিলে হাত রাখে, আপনিও রাখুন। সে হাসলে আপনিও হাসুন। মানুষ নিজের প্রতিচ্ছবি পছন্দ করে, তাই মিররিং করলে সে অজান্তেই আপনার প্রতি ট্রাস্ট ফিল করবে।

- Asking for More to Get What You Want
এটাকে বলে Door-in-the-Face টেকনিক। আপনি যদি কারও কাছে ছোট কিছু চান, আগে তার চেয়ে অনেক বড় বা কঠিন কিছু চান যা সে রিজেক্ট করবে। এরপর আপনার আসল (ছোট) দাবিটা পেশ করুন। আগের বড় দাবির তুলনায় এটা তার কাছে নগণ্য মনে হবে এবং সে রাজি হয়ে যাবে।

- Use People’s Names
কথা বলার সময় মাঝে মাঝে সামনের জনের নাম ধরে ডাকুন। মানুষের কাছে নিজের নামটা পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ। যখন আপনি কনভারসেশনে নাম ব্যবহার করেন, তখন সামনের জন স্পেশাল ফিল করে এবং আপনার কথার প্রতি তার মনোযোগ ও বিশ্বাস বেড়ে যায়।

- The Talk and Carry Trick
আপনি যদি কথা বলতে বলতে কারও হাতে আপনার ব্যাগ বা কিছু ধরিয়ে দেন, তবে বেশিরভাগ মানুষই কোনো প্রশ্ন ছাড়াই সেটা ধরে ফেলবে। আমাদের ব্রেইন একসাথে মাল্টিটাস্কিং বা জটিল কনভারসেশনে ফোকাস করলে হাতের কাজটা অটো-পাইলট মোডে করে ফেলে। ট্রাই করে দেখতে পারেন, জাস্ট ফর ফান!

- Check the Feet
কেউ আপনার সাথে কথা বলতে ইন্টারেস্টেড কি না বুঝবেন কীভাবে? তার পায়ের দিকে তাকান। যদি তার শরীর আপনার দিকে থাকে কিন্তু পায়ের পাতা দরজার দিকে বা অন্যদিকে ঘোরানো থাকে, তবে বুঝবেন সে এই কনভারসেশন শেষ করে পালাতে চাইছে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মানুষ মিথ্যা বলতে পারে, কিন্তু পা সাধারণত মিথ্যা বলে না।

এই ট্রিকসগুলো জেনে রাখা ভালো, তবে এগুলো ব্যবহার করবেন পজিটিভলি। মনে রাখবেন, Knowledge is power, but character is respect.

Save and Share

বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (ACR) লিখন বিষয়ে কতিপয় জিজ্ঞাসা ও উত্তরঃ ১) CR বা গোপনীয় অনুবেদন কি? উত্তর: CR (Confidential Repo...
20/01/2026

বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (ACR) লিখন বিষয়ে কতিপয় জিজ্ঞাসা ও উত্তরঃ

১) CR বা গোপনীয় অনুবেদন কি?

উত্তর: CR (Confidential Report) বা গোপনীয় অনুবেদন কোনো পঞ্জিকাবর্ষে কোনো কর্মস্থলে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদে একজন অনুবেদনকারী (RIO) এর অধীনে অনুবেদনাধীন (ORU) কর্মচারীর কর্মকালীন সার্বিক কর্মমূল্যায়নের নামই গোপনীয় অনুবেদন।

২) এসিআর কেন প্রয়োজন?
উত্তর: চাকরি স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি, পদায়ন, বৈদেশিক নিয়োগ, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, প্রেষণ, ফিট লিস্ট ইত্যাদির জন্য।

৩) পদোন্নতির জন্য এসিআর এ কত নম্বর থাকতে হবে?
উত্তর: শেষ ৫ বছরের গড় নম্বর নূন্যতম ৮০ হতে হবে।

৪) ডিএস বা তদুর্ধ্ব পর্যায়ে প্রমোশনের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন কিভাবে করা হয়?
উত্তর: মোট ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হয় (Academic Records-25+ Discipline-10+ACR-65) 1
ACR 65 (Last 5 year ACR-30 + Rest of Service - 25 + No adverse Comment - 10)

৫) অনুবেদনাধীন কর্মচারী বা ORU কে?
উত্তর: যে কর্মচারীর কাজের মূল্যায়ন করা হয় তিনিই হচ্ছেন অনুবেদনাধীন কর্মচারী বা ORU Officer Reported Upon

(* ১.৪.১২)। অনুবেদনাধীন কর্মচারীকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফর্মে (বাংলাদেশ ফর্ম নং ২৯০-ঘ) তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করে স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ধারিত সময়ে অনুবেদনকারীর নিকট ০২ (দুই) প্রস্থ গোপনীয় অনুবেদন দাখিল করতে হয় (*২.১)।

৬) অনুবেদনকারী কর্মচারী বা RIO কে?
উত্তর: অনুবেদনাধীন কর্মচারীর উর্ধ্বতন সরাসরি নিয়ন্ত্রণকারী বা তত্বাবধানকারী কর্মচারী (RIO- Report Initiating Officer)। অর্থাৎ যিনি অনুবেদনাধীন কর্মচারীকে মূল্যায়ন করবেন।

৭) প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মচারী বা CSO কে?
উত্তর: অনুবেদনকারী কর্মচারীর ঊর্ধ্বতন সরাসরি নিয়ন্ত্রণকারী বা তত্বাবধানকারী কর্মচারী (CSO- Counter Signing Officer) । অর্থাৎ যিনি অনুবেদনকারী কর্মচারীকে মূল্যায়ন পূর্বক নম্বর প্রদান করবেন।

৮) কখন গোপনীয় অনুবেদন (CR-Confidential Report) দাখিল করতে হবে? কোন বছর/সময়ে অনুবেদনকারী বা প্রতিস্বাক্ষরকারী কারো অধীনেই ৩ মাস পূর্ন না হলে গোপনীয় অনুবেদন লাগবে কিনা?

উত্তর: কোন পঞ্জিকাবর্ষে কোন অনুবেদনকারীর অধীনে একটানা নূন্যতম ৩ মাস চাকরি করার পরে যদি ORU কিংবা RIO বদলি হন তবে ORU কে RIO এর নিকট হতে অবশ্যই আংশিক গোপনীয অনুবেদন নিতে হবে। তবে যদি কোন কর্মস্থলে ORU ৩ মাস বা ততোধিক সময় চাকরি করে বদলি হন কিন্তু কোন RIO এর অধীনে একাধিক্রমে ৩ মাস না হয় কিন্তু CSO এর অধীনে হয় তবে ORU সরাসরি তাঁর নিকট CR দাখিল করবেন। CSO নিজেই এটি অনুস্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষর করবেন এবং ৬ষ্ঠ অংশের (গ) এ কারন লিখবেন (উত্তর ১৩, ১৪ দ্রষ্টব্য)।

অপরদিকে কোন RIO/CSO এর অধীনেই মেয়াদপূর্ণ না হয় তবে একটি ACR ফর্ম পূরন করে ২ অংশের ৩ নং ক্রমিকে কারন লিখে তথ্য প্রমাণসহ ডোসিয়ার সংরক্ষনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। ৩ মাসের কম সময়ের চাকরির জন্য কোন CR কিংবা ব্যাখ্যাও প্রযোজন নেই।

৯) একজন অনুবেদনাধীন কর্মচারী তার অনুবেদনকারী বা প্রতিস্বাক্ষরকারী এর অধীনে ১ মার্চ হতে ২৯ মে পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এখানে ৩ মাস পূর্ণ হয় নাই কিন্তু ৯০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ঐ সময়কালের গোপনীয় অনুবেদন লাগবে কিনা?

উত্তর: না। ৩ মাস পূর্ণ হতে হবে। যদি কোন মাসের ১ তারিখে যোগদান করেন তবে ৩ য় মাসের ৩০/৩১ তারিখ পর্যন্ত কর্মকাল হবে। আর মাসের মাঝে যে কোন দিন যেমন ১১ তারিখে যোগদান করা হলে ৪র্থ মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত কর্মরত থাকলে গোপনীয় অনুবেদন প্রযোজ্য হবে।

১০) কোন বছর/সময়ে প্রতিস্বাক্ষরকারী একাধিক হলে করণীয় কি?

উত্তর: যাঁর তত্বাবধানে কর্মকাল বেশী তিনি প্রতিস্বাক্ষর করবেন। যদি একাধিক প্রতিস্বাক্ষরকারীর অধীনে কর্মকাল সমান হয় তবে কর্মকালের শেষাংশে যার অধীনে কর্মরত ছিলেন তিনি প্রতিস্বাক্ষর করবেন।

১১) একজন কর্মচারীর একই বছরে যদি ৩ জন RIO থাকেন এবং তিনি "ক" এর অধীনে ৪ মাস, "খ" এর অধীনে ২ মাস ২০ দিন, "গ" এর অধীনে ৩ মাস এবং পুনরায় "খ" এর অধীনে ২ মাস ১০ দিন কর্মরত ছিলেন। এখানে দেখা যাচ্ছে "খ" এর তত্বাবধানে দুইবারে মোট ৫ মাস কর্মরত ছিলেন যা অন্যদের তুলনায় বেশী কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন কর্মকাল নয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিস্বাক্ষরকারী কে হবেন?

উত্তর: "খ"। যার তত্বাবধানে সমগ্র বছরে বেশী দিন কর্মরত ছিলেন তিনিই প্রতিস্বাক্ষরকারী হবেন।

১২) অনুবেদনকারী বা প্রতিস্বাক্ষরকারীর অবর্তমানে করণীয় কি?

উত্তর: অনুশাসনমালা এর ২.৫.১ ধারা অনুসারে অনুবেদনকারী অনুপস্থিত বা তার পদ শূন্য থাকলে প্রতিস্বাক্ষরকারী অনুবেদনাধীন কর্মচারীর সিআর অনুস্বাক্ষর করবেন এবং 'প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন নেই' উল্লেখ করে প্রতিস্বাক্ষরের অংশে (ফর্মের ৬ ষ্ঠ অংশের 'গ' তে) কারণটি অবশ্যই লিপিবদ্ধ করবেন। একইভাবে কারণগুলো প্রতিস্বাক্ষরকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে অনুবেদনকারী কর্মচারী যথারীতি অনুস্বাক্ষর করবেন এবং 'প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন নেই' উল্লেখ করে প্রতিস্বাক্ষরের অংশে (ফর্মের ৬ ষ্ঠ অংশের 'গ' তে) কারণটি লিপিবদ্ধ করবেন। বিষয়টি তথ্যপ্রমানসহ উপস্থাপন করতে হবে।

১৩) অনুবেদনকারী কর্মচারীর পদ (৬ ষ্ঠ গ্রেড) যদি শূন্য থাকে এবং অনুবেদনাধীন কর্মচারী (৯ম গ্রেড) ভারপ্রাপ্ত হিসেবে উক্ত পদে দায়িত্বরত থাকেন সেক্ষেত্রে অনুবেদনকারী এবং প্রতিস্বাক্ষরকারী কে হবেন?

উত্তর: প্রশ্ন ১২ এর উত্তর প্রযোজ্য হবে। প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মচারি অনুবেদনকারী হিসেবে মূল্যায়ন করবেন এবং "প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন নেই" মর্মে (ফর্মের ৬ ষ্ঠ অংশের 'গ' তে) কারণসহ উল্লেখ করবেন। উদাহরণ: "গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা ২০২০" এর ২.৫.১ (ঝ) অনুচ্ছেদ অনুসারে অনুবেদনকারীর পদ শূন্য থাকায় প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্তৃক অনুস্বাক্ষর করা হয়েছে এবং "প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন নেই"।

১৪) অনুবেদনাধীন বা অনুবেদনকারী কর্মচারী বদলী হলে খন্ডকালীন সিআর কি ঐ সময়েই দাখিল করতে হবে নাকি বছর শেষে প্রতিটি খন্ড একত্রিত ভাবে প্রতিস্বাক্ষরকারীর দপ্তরে জমা দিতে হবে? প্রতিস্বাক্ষরকারী কি সেটা বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজ দপ্তরে জমা রাখবেন নাকি ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবেন?

উত্তর: আংশিক গোপনীয় অনুবেদন প্রাপ্য হওয়ার সাথে সাথে জমা দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একইভাবে RIO সাথে সাথে মূল্যায়ন করার পর CSO এর কাছে পাঠাবেন এবং CSO নিজ কাজ শেষ করে Dossier সংরক্ষণকারীর নিকট পাঠিয়ে দিবেন। তবে ৩ জনই বছর শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে পারেন যদিও এটি মোটেও ভাল প্র্যাকটিস নয়।

১৫) খন্ডকালীন এসিআর এর ক্ষেত্রে অনুবেদনকারী ১ম জন ৫ মাস এবং ২ য় জন পরের ৩ মাস দায়িত্বে ছিলেন। ঐ একই সময়ে প্রতিস্বাক্ষরকারী ছিলেন ১ ম জন প্রথম ৩ মাস ২য় জন পরবর্তী ৮ মাস। বছর শেষে সিআর সাবমিট করা হলে খন্ডকালীন এসিআর এ প্রতিস্বাক্ষরকারী কি তাহলে ২ জন হবেন নাকি ১ জন হবেন যিনি শেষ সময় ছিলেন?

উত্তর: অবশ্যই ২ জন হবেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ১৪ এর উত্তর অনুসরণ যথার্থ হবে।

১৬) এসিআর ফর্ম ছাপানো ফরমেটে দাখিল করা যাবে কিনা?

উত্তর: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হতে গোপনীয় অনুবেদন ফর্ম (PDF) A4 সাইজ কাগজে উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করাই যুক্তিযুক্ত। একই সাইজে (A4) ছাপানো ফরমেটে দিলেও দোষণীয় নয় তবে অপ্রয়োজনীয়।

১৭) এসিআর ফর্ম এর পৃষ্ঠা সমূহ স্টেপলিং বা সেলাই বা বাধাই কিভাবে জমা দিতে হবে?

উত্তর: পৃষ্ঠাগুলো যেনো খুলে না যায় এমনভাবে দিলেই চলবে। তবে নান্দনিক হলে ক্ষতি নেই।

১৮) গোপনীয় অনুবেদন অনুবেদনকারী কর্মচারী বা RIO এর নিকট কিভাবে প্রেরণ বা দাখিল করতে হবে?

উত্তর: গোপনীয় অনুবেদন প্রতিটি কর্মচারির জন্য তার কর্মকালের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ দলিল। যাতে তার সমগ্র চাকরিকালের মূল্যায়ন লিপিবদ্ধ থাকে। যেহেতু RIO হচ্ছেন ORU এর সরাসরি তত্বাবধানকারী সেহেতু অনুবেদনে RIO এর মূল্যায়নকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে CSO গণ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কাজেই কর্মজীবনে যেমন RIO এর আইনসংগত নির্দেশনা প্রতিপালন করা গুরুত্বপূর্ণ তেমনি তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও অতীব জরুরী। সম্পর্কের অবনতি ঘটে এমন কোন কাজ না করাই সমীচিন।

গোপনীয় অনুবেদন ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে নির্ধারিত সময়ে সীলগালা খামে ০২ প্রস্থ ফরোয়ার্ডিং লেটারসহ (ফরোয়ার্ডিং লেটার ১ টি খামের ভিতরে এবং একটি খামের বাহিরে থাকবে) নিজ হস্তে RIO এর সামনে বিনয়ের সাথে দাখিল করতে হবে। কখনোই অফিস সহকারী বা অন্য কারো মাধ্যমে প্রেরণ করা উচিত নয়। দাখিলের পর অবশ্যই রিসিভ কপি সংগ্রহ করতে হবে এবং নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে। কেননা পরবর্তীতে গোপনীয় অনুবেদন হারিয়ে গেলে বা যথাসময়ে কর্তৃপক্ষের নিকট না পৌছুলে উক্ত রিসিভ কপিই হবে অনুবেদনকারীর প্রমাণক বা রক্ষাকবচ।

১৯) নির্ধারিত সময়ের পর গোপনীয় অনুবেদন জমা প্রদান করা যাবে কিনা?

উত্তর: বিগত বছরের এসিআর বা নির্ধারিত সময়ের পর প্রেরিত কোন গোপনীয় অনুবেদনই গ্রহণযোগ্য নয়।

গোপনীয় অনুবেদন ফর্ম (বাংলাদেশ ফর্ম নং-২৯০ ঘ) পূরণ সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্তর:

১ম পৃষ্ঠা

২০) উপরের অংশে বৎসর/সময় কিভাবে লিখতে হবে?

উত্তর: বার্ষিক > ২০২২ খ্রি.। আংশিক > ১ জানুযারী ১৬ এপ্রিল, ২০২২ খ্রি.।

২১) আইডি নম্বর সুনির্দিষ্ট না থাকলে স্ব স্ব অধিদপ্তরের গ্রেডেশন নম্বর দেয়া যাবে কিনা?
উত্তর: ডিপার্টমেন্ট এর যদি আইডি নম্বর থাকে সেটা হবে। না থাকলে ঘর ফাকা থাকবে। এনআইডি দিলেই হবে।

২২) ব্যাচ বলতে কি বিসিএস ব্যাচ হবে? নন-ক্যাডার কর্মচারী হলে ব্যাচ কি লিখবে?
উত্তর: হ্যাঁ বিসিএস ব্যাচ হবে। নন-ক্যাডার কর্মচারী হলে লিখবে 'প্রযোজ্য নয়'।

২৩) অনুবেদনে বিবেচ্য সময়ের পদবী এবং কর্মরত পদের নাম কি হবে?
উত্তর: যেমন বিবেচ্য সময়ের পদবী: সিনিয়র সহকারী সচিব, কর্মরত পদ: উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

২৪) পদবি বা পদ সংক্ষিপ্ত আকারে লিখা যাবে কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ। স্ব স্ব দপ্তরের স্বীকৃত সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা যাবে। যেমন- ইউএনও, ভিএস, ইউএলও ইত্যাদি।

২৫) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমান পদবি কি হবে?
উত্তর: আংশিক গোপনীয় অনুবেদনে বিবেচ্য সময়ের পদবী এবং বছরের শেষ সময়ের পদবী যদি ভিন্ন হয় তাহলে বর্তমান পদবী হিসেবে সেটা লিপিবদ্ধ করতে হবে। পদবী পরিবর্তন না হয়ে থাকলে "প্রযোজ্য নয়" লিখতে হবে।

৩য় পৃষ্ঠা (১ম অংশ)
২৬) আংশিক গোপনীয় অনুবেদন বছর শেষে জমা দেয়া হলে সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিবেদন কি প্রতিটি খন্ডে পৃথকভাবে খন্ডকালীন তারিখ অনুসারে নিতে হবে নাকি শেষ অংশে নিলেই চলবে?
উত্তর: কেবল শেষ অংশে নিলেই চলবে। তবে আংশিক গোপনীয় অনুবেদন প্রাপ্য হওয়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) জমা দেয়াই শ্রেয়।

২৭) স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিবেদন যে কোন সরকারি চিকিৎসক এর কাছ থেকে নেয়া যাবে নাকি নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান এর চিকিৎসক এর কাছ থেকে নিতে হবে?
উত্তর: অনুশাসনমালা- ২০২০ অনুসারে যে কোন সরকারি চিকিৎসক এর কাছ থেকে নেয়া যাবে।

২৮) স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিবেদন যদি না নেয়া হয় সেক্ষেত্রে গোপনীয় অনুবেদন কি বাতিল বলে গণ্য হবে?
উত্তর: হ্যাঁ বাতিল যোগ্য।

পৃষ (২য় অংশ):
২৯) অনুবেদনকারী/প্রতিস্বাক্ষরকারীর অধীনে প্রকৃত কর্মকাল কি শুধুমাত্র বিবেচ্য বছরের সময়কাল (১ জানুযারী হতে) হবে নাকি বিগত বছর হতে প্রকৃতপক্ষে যেদিন থেকে তার অধীনে কর্মরত ছিলেন সেদিন থেকে হবে?
উত্তর: বিগত বছর হতে প্রকৃতপক্ষে যেদিন থেকে তার অধীনে কর্মরত ছিলেন সেদিন থেকে হবে। যদি গোপনীয় অনুবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত অনুবেদনকারী/প্রতিস্বাক্ষরকারী স্বপদে কর্মরত থাকেন তবে........ হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত লিখতে হবে।

৩০) একই বছরে অনুবেদনকারীর অধীনে কর্মকাল একাধিকবার হলে কি দুবারের মেয়াদকালই লিখতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ।

৩১) ক্রমিক ৩ অনুসারে প্রমাণক হিসেবে অনুবেদনকারী/প্রতিস্বাক্ষরকারী এর আর্টিকেল ৪৭ সংযুক্ত করলেই হবে? কারণ ব্যাখ্যা পৃথক কাগজ ব্যবহার করা যাবে কিনা?
উত্তর: আর্টিকেল ৪৭ এর কপি বা অনার বোর্ড এর ছবি সংযুক্ত করা যাবে। প্রয়োজনে পৃথক কাগজ ব্যবহার করা যাবে।

৩২) অনুবেদনাধীন কর্মচারীর বর্তমান পদবী ও বিবেচ্য সময়ের পদবী ভিন্ন হলে কোন পদের সিল ব্যবহার করবেন এবং কিভাবে লিখবেন?
উত্তর: বর্তমান পদবীর সিল ব্যবহার করবেন এবং তার নিচে প্রাক্তন পদবী হাতে লিখে দিতে হবে।

৩৩) কর্মরত অফিসের নাম এর ক্ষেত্রে শুধু নিজ দপ্তর নাকি অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় এর নামসহ লিখতে হবে?
উত্তর: নিজ দপ্তরের নাম, উপজেলা ও জেলার নাম লিখাই যথেষ্ট।

৩৪) বার্ষিক সিআর এর ক্ষেত্রে সময়কাল ১/১/২০২২ হতে ৩১/১২/২০২২ পর্যন্ত হবে নাকি অনুবেদনকারীর অধীনে ঐ বছরের প্রকৃত কর্মকাল ( মনে করি ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ হতে ৩০ নভেম্বর, ২০২২ পর্যন্ত) হবে?
উত্তর: উপরের অংশে ১/১/২০২২ হতে ৩১/১২/২০২২ পর্যন্ত হবে যদি না আর কোন আংশিক গোপনীয় অনুবেদন প্রযোজ্য হয়।।

৩৫) আংশিক গোপনীয় অনুবেদন এর ক্ষেত্রে দুইজন অনুবেদনকারী কর্মকর্তার মাঝের সময়কাল (৭ দিন বা ৩ মাসের কম হলে) উক্ত সময়কাল সিআর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে কিনা?

উত্তর: ২ য় অংশের ৩ নং ক্রমিকে কারণসহ ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।

৩৬) ক্রমিক ১০ এ যোগদানের তারিখ ঐ পদে প্রথম যোগদানের তারিখ নাকি বিবেচ্য সময়ের কর্মস্থলে ঐ পদে যোগদানের তারিখ হবে?

উত্তর: বিবেচ্য সময়ের কর্মস্থলে ঐ পদে প্রথম যেদিন যোগদান করেছেন সেই তারিখ হবে।

৩৭) ক্রমিক ১১ এ অনুবেদনকারীর অধীনে চাকরির পূর্ণ মেয়াদ এবং ২ য় অংশের অনুবেদনকারীর অধীনে প্রকৃত কর্মকাল একই হবে নাকি বিবেচ্য বছরের সময়কাল হবে?

উত্তর: একই হবে। যদি গোপনীয় অনুবেদন জমা দানের সময় উক্ত অনুবেদনকারী কর্মরত থাকেন তাহলে পূর্ণ মেয়াদ লিখতে অদ্যাবধি পর্যন্ত লিখতে হবে। হতে

৩৮) ক্রমিক ১২ অনুসারে বিবেচ্য সময়ের কাজের সংক্ষিপ্ত বিবরণে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য দিতে হবে?

উত্তর: কাজের বিবরণ সংক্ষিপ্ত হওয়াই বাঞ্জনীয়। কেননা RIO/CSO তার ORU এর কাজের পরিধি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এখানে শুধুমাত্র বিবেচ্য বছরের উল্লেখযোগ্য কাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিতে হবে, বিগত বছরের কোন কাজ উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন। পৃথক পৃষ্ঠা ব্যবহার করে কাজের বিস্তারিত বিবরণ দেয়ারও দরকার নেই। উদাহরণ-

ক) APA এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, সহকর্মীদের কার্যক্রম তদারকি, দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান।

খ) সিটিজেন চার্টার অনুসারে নাগরিক সেবা, দাপ্তরিক সেবা ও অভ্যন্তরীন সেবাসমূহ নিশ্চিতকরণ।

গ) বিভাগীয় সম্প্রসারণ কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতে নিয়মিত পরিদর্শন এবং সমন্বয়কের ভূমিকা পালন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।

ঘ) জেলা/উপজেলা প্রশাসন, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় সাধনপূর্বক জাতীয় ও স্থানীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় অর্পিত দায়িত্ব পালন।

৬) সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ নির্দেশনা প্রতিপালন এবং সহকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।

৩৯) ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য এর যে কোন ক্ষেত্রে নম্বর ১ দেয়া হলে কিছু মোট প্রদত্ত নম্বর ৬৯ এর নিচে না হলে তাহলে সেটাকে বিরুপ হিসেবে গণ্য করা হবে কি?

উত্তর: না, বিরুপ হবে না যদি না মোট নম্বর ৭০ এর কম হয়। বিরুপ দিতে হলে RIO/CSO কে অনুশাসনমালা এর ৪.৩ অনুসরন করতে হবে।

৪০) মূল্যায়ন অসাধারণ হলে (৯৫-১০০) সেক্ষেত্রে ৫ ম অংশে আবশ্যিকভাবে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে হবে কিনা?

উত্তর: বাধ্যবাধকতা নেই।

৪১) অনুবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত নম্বরের যোগফলে ভুল পরিলক্ষিত হলে সেটা সংশোধনের জন্য সিআর ফর্ম অনুবেদনকারীর নিকট ফেরত পাঠাতে হবে নাকি প্রতিস্বাক্ষরকারী সেটা সংশোধন করে দিতে পারবেন?

উত্তর: অনুবেদনকারীর নিকট ফেরত পাঠানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে CSO কর্তৃক প্রদত্ত নম্বর চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

৪২) পৃষ্ঠার নিচে অনুবেদনকারীর অনুস্বাক্ষর এ পদবির সিল দেয়া যাবে কিনা?

উত্তর: প্রয়োজন নেই।

৪৩) ৪ র্থ অংশে বর্ণিত হয়নি এমন কি ধরনের মন্তব্য লিপিবদ্ধ করা যেতে পারে?

উত্তর: এমন কোন মন্তব্য/পরামর্শ/উপদেশ যা ORU কে সরাসরি দেয়া যেত তা এখানে লেখা যাবে না। কেননা ORU উক্ত মন্তব্য নিজে কখনোই দেখতে পাবেন না।

যদি প্রশংসামূলক মন্তব্য হয় তবে এমনটি লিখা যেতে পারে-

"জনাব 'ক' এর কার্যক্রম/সেবা প্রদান এতটাই আন্তরিক যে তাকে নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।"

অথবা জনাব 'ক' সাহেবের উপর যে কোন দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। তার মত সহকর্মী পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।"

অথবা "জনাব 'ক' কোন কাজকেই ছোট করে দেখেন না। কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিয়ে তাঁদের হাসি দেখাটাই যেন তার প্রশান্তি।"

আর যদি বিরুপ মন্তব্য হয় তবে এমনটি লিখা যেতে পারে জনাব 'খ' তার কাজে আন্তরিক এবং সৎ নন। তাকে এ বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছিল (কপি সংযুক্ত)। কিন্তু তার আচরনের পরিবর্তন হয়নি। তার মত সহকর্মী পাওয়া চাকরি জীবনে দুর্ভাগ্যের বিষয়।"

৪৪) কার্যসম্পাদনে আরো মনোযোগী হতে হবে, অধিকতর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ এর সুপারিশ করা যাচ্ছে, সেবাগ্রহীতার প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে ইত্যাদি মন্তব্য বিরুপ হিসেবে গণ্য হবে কিনা?

উত্তর: প্রশংসামূলক/বিরুপ তা অনুবেদনকারীকেই টিকচিহ্ন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

৪৫) অনুবেদনকারীর স্বাক্ষর এর নিচে এবং প্রাক্তন পদবি ও কর্মস্থল উভয় ক্ষেত্রে সিল ব্যবহার করা যাবে কিনা?

উত্তর: বর্তমান পদবীর সিল হবে এবং প্রাক্তন পদবী হাতে লিখে দিতে হবে।

৪৬) অনুবেদনকারী বা প্রতিস্বাক্ষরকারী একই ব্যক্তি এবং "প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন নেই" মর্মে উল্লেখ করা হলে পৃষ্ঠার নিচে প্রতিস্বাক্ষরকারীর স্বাক্ষর ও সিল লাগবে কিনা?

উত্তর: হ্যাঁ অবশ্যই লাগবে।

৪৭) অনুবেদনকারী কর্তৃক বিরুপ মন্তব্য প্রদান করা হলে এবং অনুশাসনমালার ৪.৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে দালিলিক তথ্যপ্রমান সংযুক্ত করা থাকলে প্রতিস্বাক্ষরকারী বিরুপ মন্তব্য রহিত বা উপেক্ষা করতে পারেন কিনা? এ ক্ষেত্রে প্রতিস্বাক্ষরকারীকে তার মন্তব্যের স্বপক্ষে দালিলিক তথ্যপ্রমান দাখিল করতে হবে কিনা?

উত্তর: হ্যাঁ পারেন। প্রতিস্বাক্ষরকারীকে তার মন্তব্যের স্বপক্ষে উপযুক্ত যুক্তি দিলেই চলবে। প্রমাণক দিতেই হবে এমন নয়।

(সংগৃহীত)

Address

The Legal Associates, 11 Industrial Plot, Tajmahal Road, Mohammadpur
Dhaka
1212

Opening Hours

Monday 16:30 - 20:00
Tuesday 16:30 - 20:00
Wednesday 16:30 - 20:00
Thursday 16:30 - 21:00
Saturday 16:00 - 22:00
Sunday 16:30 - 20:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Smart Tax and Legal Care posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category